পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
শব্দ ও প্রত্যয়। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, যেকোনো একাডেমিক ব্যক্তির বই এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
নিম্নের কোনটি শব্দগঠন প্রক্রিয়া নয়?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) সমাস
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
 বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
এগুলাে হলাে :
- উপসর্গ যােগে,
- প্রত্যয় যােগে এবং
- যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

• মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়।
- সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়।
- অর্থাৎ, একটি শব্দ গঠনের পর যদি দেখা যায় যে, ওই শব্দে এমন কতগুলাে ধ্বনি পাশাপাশি বসেছে যাদের এক ধ্বনিতে পরিণত করা সম্ভব তাহলে সেখানে সন্ধি ঘটতে পারে।
- কিন্তু এটি যে বাধ্যতামূলক কোনাে বিষয়, তা কিন্তু নয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. ক) গাছ
  2. খ) পাখি
  3. গ) অনুজ
  4. ঘ) গোলাপ
ব্যাখ্যা
অনুজ = পশ্চাৎ অর্থে 'অনু' (সংস্কৃত) উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।

গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
মৌলিক শব্দ :
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনাে অংশ থাকে না, সেগুলােকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন – গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ :
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন – পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।
- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
বাংলা ব্যাকরণে (√) টি বসে-
  1. ক) ধাতুর পূর্বে
  2. খ) ধাতুর পরে
  3. গ) শব্দের পূর্বে
  4. ঘ) শব্দের পরে
ব্যাখ্যা
প্রকৃতি এবং প্রত্যয় যােগে বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ গঠিত হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে ধাতু চিহ্নিত করার জন্য নির্দিষ্ট ব্যাকরণিক চিহ্ন (√) ব্যবহৃত হয়।
- অর্থাৎ √বল্ মানে ‘বল্‌’ ধাতু। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি রুঢ়ি শব্দ নয়?
  1. ক) প্রভাত
  2. খ) বাবুয়ানা
  3. গ) প্রবীণ
  4. ঘ) বাঁশি
ব্যাখ্যা
রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।।উদাহরণ
প্রভাত = প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত (মূল অর্থ) - সকালবেলা (পরিবর্তিত অর্থ)।
প্রবীণ =  প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।
সন্দেশ = সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
চিকন  = চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)
জ্যাঠামি = জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)
এরূপ আরও শব্দ হলাে- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।

বাবুয়ানা একটি যৌগিক শব্দ। 
বাবুয়ানা = বাবু + আনা = বাবুর ভাব। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিম্নের কোনটি প্রকৃতি প্রত্যয়ের 'গুণ' সম্পর্কিত সূত্র?
  1. ক) অ-স্থলে আ
  2. খ) ই/ঈ-স্থলে ঐ
  3. গ) উ/ঊ-স্থলে ঔ
  4. ঘ) ঋ-স্থলে অর্‌
ব্যাখ্যা
কখনও কখনও লক্ষ করা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি অংশের আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে।
এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়মদ্বয়কেই যথাক্রমে গুণ ও বৃদ্ধি নামে অভিহিত করা হয়।
নিচে গুণ ও বৃদ্ধি ঘটার সূত্র উল্লেখ করা হলাে :

গুণ
ই/ঈ-স্থলে এ - √চিন্+আ= চেনা, নী+আ= নেওয়া
উ/ঊ-স্থলে ও - √ধু+আ= ধােয়া
ঋ-স্থলে অর্‌ -  √কৃ+তা = কর্‌তা > কর্তা >ক্রেতা   

বৃদ্ধি
অ-স্থলে আ - √পচ্+ণক(অক) = পাচক 
ই/ঈ-স্থলে ঐ - √শিশু+ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ - √যুব্‌+অন= যৌবন
ঋ-স্থলে আর - √কৃ+ঘ্যণ(য-ফলা)= কার্য

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
যােগরূঢ় শব্দ হচ্ছে-
  1. ক) সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ
  2. খ) সমাস নিষ্পন্ন শব্দ
  3. গ) প্রকৃতি প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
যােগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনাে অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যােগরূঢ় শব্দ।
যেমন, জলদ- যে জল দেয় (মূল অর্থ)- মেঘ (ব্যবহারিক অর্থ)
পঙ্কজ-  পঙ্কে জন্মে(মূল অর্থ) - পদ্ম (ব্যবহারিক অর্থ)।
এরূপ আরও উদাহরণ হলাে- মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরােজ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিম্নের কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) মাতাল
  2. খ) রসালো
  3. গ) চাষি
  4. ঘ) ছাত্রী
ব্যাখ্যা
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। 

মাত্‌+আল = মাতাল; কৃপ্রত্যয়। 

অন্যদিকে, বাকি শব্দগুলো তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। 
রসালো = রস+আলো 
চাষি = চাষ+ই
ছাত্রী = ছাত্র+ঈ  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
দেশি শব্দ কোনটি?
  1. ক) বুদ্‌বুদ
  2. খ) আকাশ
  3. গ) হালুয়া
  4. ঘ) পাখি
ব্যাখ্যা
দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়।

বুদ্‌বুদ (বিশেষ্য) 
- দেশি শব্দ।
অর্থ: জলের ভুড়ভুড়ি, জলবিম্ব। 

আকাশ = সংস্কৃত শব্দ 
হালুয়া = আরবি শব্দ 
পাখি = তদ্ভব শব্দ 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ) এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
.
কোন প্রত্যয়জাত শব্দটি ভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কানাই
  2. খ) জেঠামি
  3. গ) কানাই
  4. ঘ) ইতরামি
ব্যাখ্যা
ইতর+আমি = ইতরামি 
- তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। 
- ভাব অর্থে প্রকাশিত হয়েছে। 

প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 

অন্যদিকে, 
আদর অর্থে: কানু → কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১০.
'রাজা-বাদশা’ মিশ্র শব্দটি কোন দুটি শব্দ যোগে গঠিত?
  1. ক) তৎসম + ফারসি
  2. খ) আরবি + ফারসি
  3. গ) বাংলা + আরবি
  4. ঘ) বাংলা + ফারসি
ব্যাখ্যা
রাজা-বাদশা = তৎসম ও ফারসি ভাষার মিশ্রণ

কোন কোন সময় দেশী ও বিদেশী শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে মিশ্র শব্দ বলে।
শাকসবজি একটি মিশ্র।

বাংলা ভাষায় রাজা শব্দটি তৎসম(সংস্কৃত) শব্দ থেকে এসেছে এবং বাদশা শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে এসেছে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১১.
'গ্রাহক' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √গ্রহ্‌ + অক
  2. খ) গ্রহ্‌ + অক
  3. গ) √গ্রহন+ক
  4. ঘ) গ্রহন+ক
ব্যাখ্যা
গ্রাহক (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √গ্রহ্‌ + অক 
অর্থ: গ্রহণকারী 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২.
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল কোন নামে পরিচিত?
  1. ক) ধাতু
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) ধাতুমূল
  4. ঘ) প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি
- প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি।
- ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩.
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকে কী বলে?
  1. ক) পারিভাষিক শব্দ
  2. খ) তৎসম শব্দ
  3. গ) তদ্ভব শব্দ
  4. ঘ) বিদেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪.
'ফারসি' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) ছেলেপনা
  2. খ) গাড়োয়ান
  3. গ) নজরবন্দি
  4. ঘ) মাছওয়ালা
ব্যাখ্যা
'ফারসি' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ = নজরবন্দি = নজর+বন্দি
অন্যদিকে,
মাছওয়ালা, গাড়োয়ান, ছেলেপনা = 'হিন্দি' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
'জামদানি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) সংস্কৃত
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) দেশি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
জামদানি (বিশেষ্য) 
- ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: ঢাকা জেলার উপকণ্ঠে তাঁতে বোনা নকশা তোলা মিহি জমিনের উচ্চমানের সুতি শাড়ি।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।