পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬১ বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. শব্দপ্রকরণ [সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ] ২. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ] ৩. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।] ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
'বিকালে ছেলেরা ক্রিকেট খেলে।' - এখানে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. বিকালে
  2. ছেলেরা
  3. ক্রিকেট
  4. খেলে
সঠিক উত্তর:
ক্রিকেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিকেট
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ক্রিকেট।
-------------------
• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:
- বিভক্তি, 
- নির্দেশক, 
- বচন, 
- বলক।

• গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের।
যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 -------------------  
• সলগ্নক পদ:
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'বিকালে ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'। 
- এ বাক্যে 'বিকালে', 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।
 
• অলগ্নক পদ:
যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'বিকালে ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'।
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
"সাত-সতের" কোন সমাস সাধিত?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন,
- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ, সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অধি
  2. অনা
  3. নিম
  4. অব
সঠিক উত্তর:
অনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনা
ব্যাখ্যা

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ - অনা।

-----------------
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
- অধি, অব - সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
- ফারসি উপসর্গ - নিম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
অনুসর্গ -
  1. বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে।
  2. কখনো স্বাধীন পদরূপে ব্যবহৃত হয়।
  3. কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা ‘কে’ এবং ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে: প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
গুণ- বিশেষ্য কোনটি?
  1. বৈশাখ
  2. ধৈর্য
  3. সাগর
  4. জনতা
সঠিক উত্তর:
ধৈর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধৈর্য
ব্যাখ্যা

• 'ধৈর্য'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ। 

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
"জীবনপ্রদীপ" এর সঠিক ব্যাসবাক্য?
  1. জীবনের প্রদীপ
  2. জীবন রূপ প্রদীপ
  3. জীবন থেকে প্রদীপ
  4. জীবন রক্ষার্থে প্রদীপ
সঠিক উত্তর:
জীবন রূপ প্রদীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন রূপ প্রদীপ
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। 

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু;
মনমাঝি = মন রূপ মাঝি;
প্রাণপাখি = প্রাণ রূপ পাখি;
আনন্দসাগর = আনন্দ রূপ সাগর'
জীবনপ্রদীপ = জীবন রূপ প্রদীপ;
জীবনস্রোত = জীবন রূপ স্রোত।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কি বলে?
  1. বিভক্তি
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উপগ্রহ
  2. বিজ্ঞান
  3. অবলা
  4. দাতব্য
সঠিক উত্তর:
দাতব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাতব্য
ব্যাখ্যা

• 'দাতব্য' - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- এটি প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

- 'দাতব্য' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় : দা  + তব্য।
- কিন্তু, এখানে 'দা' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।

অন্যদিকে,
- 'উপগ্রহ' - তৎসম উপসর্গ 'উপ' রয়েছে।
- 'অবজ্ঞা' - তৎসম উপসর্গ 'অব' রয়েছে।
- বিজ্ঞান - তৎসম উপসর্গ 'বি' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. অভিমুখে
  2. উপরে
  3. পিছনে
  4. অতএব
সঠিক উত্তর:
অতএব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতএব
ব্যাখ্যা

• উপরে, অভিমুখে, পিছনে → এগুলো অনুসর্গ।
• অতএব → এটি অব্যয় শব্দ, কিন্তু অনুসর্গ নয়। (যেমন: "সে পরিশ্রম করেছে, অতএব সফল হয়েছে")।

------------------
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

১০.
"কে, জন্য, নিমিত্ত" ইত্যাদি কোন তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে ব্যবহৃত হয়?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ= ছাত্রসমাজ।
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ সমাস: না বাচক নঞ্ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
৮. উপপদ তৎপুরুষ সমাস: যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১.
"মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! " - বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন,
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

অন্যদিকে,
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১২.
"রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।" - কোন ধরনের বাক্য? 
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১৩.
কোন বাক্যটিতে সাধারণ অনুসর্গের ব্যবহার হয়নি?
  1. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  2. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
  4. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
সঠিক উত্তর:
সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪.
'আমি ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আছি। - নিম্নরেখ অংশটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক 
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'আমি ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আছি।' - বাক্যের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছাতার নিচে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 

উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫.
'পাতি’ - উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়?
  1. বিপরীত
  2. বিশেষ
  3. ক্ষুদ্র
  4. ভিন্ন
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র
ব্যাখ্যা

'পাতি’ উপসর্গটি  ‘ক্ষুদ্র বা ছোট’ অর্থে ব্যবহার হয়।
---------------------------------------
- পাতি’ উপসর্গটি  ‘ক্ষুদ্র বা ছোট’ অর্থে ব্যবহার হয় এমন আরো শব্দ হলো:  
- পাতিহাঁস,
- পাতিশিয়াল,
- পাতিলেবু,
- পাতকুয়ো ইত্যাদি

উল্লেখ্য,
- পাতি একটি বাংলা উপসর্গ।
- বাংলা উপসর্গ মোট ২০ ‍টি।
-  বাংলা উপসর্গ:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

১৬.
কামাল বলল, “বাঃ ! পাখিটি তো চমৎকার” - এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. কামাল বলল যে, পাখিটি খুব চমৎকার’
  2. কামাল বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
  3. কামাল আনন্দের সাথে বলল, পাখিটি তো চমৎকার।
  4. কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
সঠিক উত্তর:
কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
ব্যাখ্যা

• কামাল বলল, “বাঃ ! পাখিটি তো চমৎকার” - এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি - কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো ব্যবহার করতে হয়।
যেমন- আনন্দের সাথে/ আক্ষেপের সাথে/ দুঃখের সাথে/বিরক্তিভরে/বিস্ময়ের সাথে + বলল/বললেন/ বললাম + যে।

• অতপর খণ্ড বাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ : কামাল বলল, “বাঃ! পাখিটি তো চমৎকার।”
পরোক্ষ : কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য হলে কোন বহুব্রীহি সমাস হয়?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  3. ব্যতিহার বহুব্রীহি
  4. নঞ্‌ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- হৃতসর্বস্ব = হৃত হয়েছে সর্বস্ব যার,
- খোশমেজাজ = খোশ মেজাজ যার,
- হতশ্রী = হত হয়েছে শ্রী যার,
- নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার,
- পক্বকেশ = পক্ব কেশ যার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
'বেদখল' শব্দের উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মন্দ অর্থে
  2. না অর্থে
  3. স্বল্প অর্থে
  4. হৃত অর্থে
সঠিক উত্তর:
হৃত অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃত অর্থে
ব্যাখ্যা

• 'বেদখল' শব্দের 'বে' উপসর্গটি 'হৃত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
এখানে, বে - ফারসি উপসর্গ। 

• আরো কিছু উপসর্গের ব্যবহার: 
- বে + দখল = বেদখল (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'হৃত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)।
- বে + আইন = বেআইন (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'বহির্ভূত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)। 
- বি + ভুঁই = বিভুঁই ('বি' উপসর্গটি 'ভিন্ন' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + জ্ঞান = বিজ্ঞান ('বি' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + বর্ণ = বিবর্ণ ('বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + চরণ = বিচরণ ('বি' উপসর্গটি 'গতি' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + কার = বিকার ('বি' উপসর্গটি 'অপ্রকৃতস্থ' অর্থে ব্যবহৃত)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১৯.
"টাকায় কি সব হয়?" - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. টাকায় কি না হয়।
  2. টাকায় সব হয় না। 
  3. টাকায় কখনো সব হয় না।
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
টাকায় সব হয় না। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাকায় সব হয় না। 
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নবোধক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- বাক্যের মূল অর্থ ঠিক রেখে প্রশ্নবাচক বাক্যে কি তুলে দিতে হবে। 
- না, নাই, নি, জানি না, বুঝি না ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
- প্রশ্ববোধক যতিচিহ্ন বাদ দিয়ে দাঁড়ি দিতে হবে।

সে অনুসারে,
"টাকায় কি সব হয়?" - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ - টাকায় সব হয় না।

উৎস : বাংলা একাডেমির প্রমিত ব্যাকরণ; ভাষা শিক্ষা- ডহায়াৎ মামুদ।