পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes৩১ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১ বিষয়: বাংলাদেশ বিষয়াবলী টপিক: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। iv) ভাষা আন্দোলন, v) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন, ৫৬ - এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন, পাকিস্তানে সামরিক শাসন ও শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। vi) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি vii) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস। উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
বর্তমান কুমিল্লার লালমাই পাহাড় এলাকা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. তাম্রলিপ্তি
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. সমতট
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
• সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
- বর্তমানে নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
৭ম শতাব্দীতে হিউয়েন সাং-এর দীক্ষাগুরু কে ছিলেন?
  1. অতীশ দীপঙ্কর
  2. শীলভদ্র
  3. কাহ্নপা
  4. মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
শীলভদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীলভদ্র
ব্যাখ্যা
• নালন্দা মহাবিহার:
-  নালন্দা মহাবিহার সাত শতকে প্রসিদ্ধি অর্জনকারী বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র।
- বিহারের পাটনা থেকে ৮৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে এবং আধুনিক রাজগিরের ১১ কিমি উত্তরে অবস্থিত বড়গাঁও গ্রামের কাছে নালন্দার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
- বাংলার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অবস্থিত হলেও নালন্দা মহাবিহারের সঙ্গে এতদঞ্চলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
- গুপ্ত সম্রাটগণই নালন্দা মহাবিহারের নির্মাতা এবং সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্তই সম্ভবত এক্ষেত্রে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। 
- ফা-হিয়েন এর ভ্রমণ বিবরণীতে নালন্দায় বৌদ্ধ স্থাপনার কোন উল্লেখ না থাকায় এ বিষয়ে কিছুটা নিশ্চিত হওয়া যায়।
- সাত শতকের দিকে নালন্দা একটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং পড়াশোনার জন্য এখানে কয়েক বছর অতিবাহিত করেন।
- তাঁর সময় থেকেই নালন্দা বিশিষ্ট পুরোহিতগণের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল।
- হিউয়েন-সাং-এর ভ্রমণের ৩০ বছরের মধ্যে ই-ৎসিঙ (৬৭৫ থেকে ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর এখানে শিক্ষাগ্রহণ করেন) সহ কমপক্ষে ১১ জন কোরীয় ও চৈনিক তীর্থযাত্রীসহ বিশিষ্টজনেরা নালন্দা ভ্রমণ করেন বলে জানা যায়। 
- নালন্দার পন্ডিতগণ ছিলেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত।
- হিউয়েন-সাং এবং ই-ৎসিঙ উভয়েই নালন্দার শিক্ষকগণের উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দায় ছিলেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন - এর অধ্যক্ষ।
- শীলভদ্র ছিলেন সর্বপ্রথম বাঙালি বৌদ্ধ শিক্ষক যিনি বাংলার বাইরে এরূপ দুর্লভ সম্মান অর্জন করেন।
- হিউয়েন-সাং নিজেও শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।
- পরবর্তী পাল রাজাদের দলিলপত্রেও বিভিন্ন প্রসঙ্গে নালন্দার উল্লেখ পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র ছিলো-
  1. সাপ্তাহিক সংবাদ
  2. দৈনিক আজাদ
  3. সাপ্তাহিক সৈনিক
  4. নও-বেলাল
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিস:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়।
- সংগঠনটি  ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিক প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'।
- যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

উৎস: একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া।
.
'বিক্রমশীল বিহার' কার আমলে নির্মিত হয়?
  1. আনন্দপাল
  2. চন্দ্রপাল
  3. ধর্মপাল
  4. রাজা আনন্দদেব
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
•  ধর্মপাল প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্ব করেন।
- ধর্মপাল ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- পালরাজাদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি পরমেশ্বর,পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন।
- ভাগলপুরের পূর্ব দিকে তিনি একটি বৌদ্ধ বিহার বা মঠ নির্মাণকরেন।
- ধর্মপালের দ্বিতীয় নাম বা উপাধি ছিল 'বিক্রমশীল'।
- এনামানুসারে বিহারটি 'বিক্রমশীল বিহার' নামে খ্যাত ছিল
- নালন্দার মতো বিক্রমশীল বিহার বাংলা ও ভারতবর্ষের সর্বত্র ও বাইরে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।
- নবম শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত এটি সমগ্র ভারতবর্ষের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- তিব্বতের অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু এখানে অধ্যয়ন করতে আসত এবং এখানকার অনেক প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ আচার্য তিব্বতে বিশুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেছিলেন।
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানেও ধর্মপাল এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটি সোমপুর মহাবিহার নামে পরিচিত। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয় কোন সালে?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৬০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৮ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন:
- ১৯৫৮ সালের ৭ইঅক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন এবং মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
- রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
- প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
কান্তিদেবের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. বর্ধমানপুর
  2. সমতট
  3. রোহিতগিরি
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
বর্ধমানপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমানপুর
ব্যাখ্যা
• কান্তিদেব:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় হরিকেল জনপদে নবম শতকে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- এ রাজ্যের রাজা ছিলেন কান্তিদেব।
- দেব রাজবংশের সঙ্গে কান্তিদেবের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা জানা যায় না।
- বর্তমান সিলেট কান্তিদেবের রাজভুক্ত ছিল।
- তার রাজধানীর নামছিল বর্ধমানপুর।
- বর্তমান এ নামে কোনো রাজ্যের অস্তিত্ব নেই।
- এ সময় দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় চন্দ্র বংশ বলে পরিচিত নতুন এক শক্তির উদয় হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখা প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন কে?
  1. আবুল হোসেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. আবদুল মতিন
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট (১৯৪৮–১৯৫০)
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সেই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
- বাংলা ভাষাকে বিকৃত করার এই চেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়, যা তথাকথিত ভাষা সংস্কারের নামে বাংলা ভাষার অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বিরোধিতা করে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।
- ভাষার অধিকার রক্ষায় নতুন করে আন্দোলনের সংগঠিত প্রয়াস শুরু হয়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতা আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- এই কমিটির নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় এবং জনগণের সচেতনতা ও প্রতিবাদের মাধ্যমে তা আরও বেগবান হয়ে ওঠে।
- এই ধারাবাহিকতা ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের দিকে ধাবিত করে, যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কোনটি?
  1. মহাস্থানগড়
  2. রোহিতগিরি
  3. সোমপুর বিহার
  4. কর্ণসুবর্ণ
সঠিক উত্তর:
রোহিতগিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোহিতগিরি
ব্যাখ্যা
• চন্দ্র বংশ:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি স্বাধীন রাজবংশ ছিল চন্দ্র বংশ দশম শতকের শুরু থেকে এগারো শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত দেড়শ' বছর এ বংশের রাজারা শাসন করেন।
- চন্দ্রবংশের প্রথম নৃপতি পূর্ণচন্দ্র ওতার পুত্র সুবর্ণচন্দ্র রোহিতগিরির ভূস্বামী ছিলেন।
- সুবর্ণচন্দ্রের পুত্র ত্রৈলোক্যচন্দ্রই এ বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার উপাধি ছিল 'মহারাজাধিরাজ'। ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা), বঙ্গ ও সমতট অর্থাৎ সমগ্র পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- লালমাইয়ের পাহাড়ি এলাকাছিল চন্দ্র রাজাদের শাসন কেন্দ্র।
- এ পাহাড় প্রাচীনকালে রোহিতগিরি নামে পরিচিত ছিল আনুমানিক ত্রিশ বছরকাল (৯০০-৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ)ত্রৈলোক্যচন্দ্র রাজত্ব করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ছাত্র সমাবেশ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. গণপরিষদ ভবনের সামনে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়
  3. পল্টন ময়দান
  4. প্রেস ক্লাবের সামনে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় (ফেব্রুয়ারি ১৯৫২):
-  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ সভা ও ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় ৩০ জানুয়ারি।
- মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ’ গঠিত হয় ৩১ জানুয়ারি।
- ৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়—হরতাল, জনসভা, ও বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
 - মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেন, যা ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
- ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
- সেখানে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী অংশ নেয়।
- কিছু নেতা ১৪৪ ধারা ভাঙতে নিষেধ করলেও ছাত্ররা সিদ্ধান্তে অটল থাকে।
- ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে মিছিল শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
- ছাত্ররাও প্রতিরোধ করে।
-  ছাত্রদের মিছিল গণপরিষদের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ গুলি চালায়।
- ঘটনাস্থলে নিহত হয় আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১০.
কৈবর্ত বিদ্রোহের নায়ক কে ছিলেন?
  1. ভারিয়ানকুন্নাথু
  2. জাতবর্মা
  3. আরাম শাহ
  4. দিব্যোক
সঠিক উত্তর:
দিব্যোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিব্যোক
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় মহীপালের সময় বাংলার উত্তরাংশের বরেন্দ্র এলাকার সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- ইতিহাসে এ বিদ্রোহ 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত।
- এ বিদ্রোহের নেতা ছিলেন কৈবর্ত বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের নেতা দিব্যোক বা দিব্য।
- বাংলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত এ বিদ্রোহে দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্র দখল করে নেয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১১.
মৌলিক গণতন্ত্র কী ধরনের শাসনব্যবস্থা?
  1. সরাসরি গণতন্ত্র
  2. সামরিক শাসন
  3. সীমিত গণতন্ত্র
  4. একদলীয় শাসন
সঠিক উত্তর:
সীমিত গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমিত গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র: 
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতাকুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোরআমুল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন।
- তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন।
- তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল 'মৌলিক গণতন্ত্র'।
- মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র, যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
- ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।

• প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।
- নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যন্ত স্তরগুলো ছিল:
- ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে),
- থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে),
- জেলা পরিষদ,
- বিভাগীয় পরিষদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২.
’ইলিয়াস শাহিবংশ’ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
• ইলিয়াস শাহিবংশ:
- সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ যখন স্বাধীন সুলতান তখন লখনৌতির সিংহাসন দখল করেছিলেন সেখানকার সেনাপতি আলি মুবারক।
- সিংহাসনে বসে তিনি 'আলাউদ্দিন আলি শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- লখনৌতিতে তিনিও স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন।
- পরেরাজধানী স্থানান্তর করেন পাণ্ডুয়ায় (ফিরোজাবাদ)।
- আলি শাহক্ষমতায় ছিলেন ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- তাঁর দুধভাই ছিলেন হাজি ইলিয়াস।
- তিনি আলি শাহকে পরাজিত ও নিহত করে 'শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ' নাম নিয়ে বাংলায় একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই রাজবংশের নাম ইলিয়াস শাহি বংশ।
- এরপর ইলিয়াস শাহের বংশধরগণ অনেক দিন বাংলা শাসন করেন।
- মাঝখানেকিছুদিনের জন্য রাজা গণেশের রাজত্বের উত্থান ঘটেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান স্মৃথি রক্ষার্থে নির্মিত হয়-
  1. অপরাজেয় বাংলা
  2. আসাদ গেট
  3. মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ
  4. শিখা চিরন্তন
সঠিক উত্তর:
আসাদ গেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাদ গেট
ব্যাখ্যা
• শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ (১৯৪২-১৯৬৯) উনিশশত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদ ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)-এর ঢাকা হল শাখার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক।
- আসাদের মৃত্যুতে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে 'আইয়ুব গেট' হয়ে যায় 'আসাদ গেট', 'আইয়ুব এভিনিউ' নামান্তরিত হয়ে হয় 'আসাদ এভিনিউ'।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪.
মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর এর প্রথম সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর শফিকুল ইসলাম
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান
  4. মেজর খালেদ মোশাররফ
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
• ১ নং সেক্টর:
- ১নং সেক্টর  চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে:
ঋষিমুখ (ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম);
শ্রীনগর (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান এবং পরে ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
মনুঘাট (ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
তবলছড়ি (সুবেদার আলী হোসেন); এবং ডিমাগিরী (জনৈক সুবেদার)।
এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

 উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারতি অনুষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. বজ্রকণ্ঠ
  2. চরম পত্র
  3. গানের কলি
  4. জল্লাদের দরবার
সঠিক উত্তর:
গানের কলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গানের কলি
ব্যাখ্যা
• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্ত্তত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।
- ফলে এটি অচল হয়ে যায়। কেন্দ্রটি ৩ এপ্রিল ১৯৭১ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাগাফায় একটি শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটারের সাহায্যে এর দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু করে। 
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’ বজ্রকণ্ঠ।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্থায়ী সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর স্বাধীন দেশের বেতার কেন্দ্র হিসেবে এর নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ বেতার’।
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসে এবং সেদিন থেকেই স্বাধীন দেশের রেডিও হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কাজ শুরু হয়। 

উৎস: একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি, ইতিহাস এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
বাংলা থেকে মারাঠি দস্যুদের বিতাড়িত করেন কে?
  1. আলিবর্দি খান
  2. মীর জুমলা
  3. ইব্রাহীম খান
  4. ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
আলিবর্দি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলিবর্দি খান
ব্যাখ্যা
• আলিবর্দি খান:
- মুঘল সম্রাটের অনুমোদনে নয়; বরং বাহুবলে বাংলার ক্ষমতা দখল করেন আলিবর্দি খান।
- আলিবর্দি খানের শাসনকালে (১৭৪০-১৭৫৬ সাল) বাংলায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অনেকদিন ধরেই বর্গি নামে পরিচিত মারাঠি দস্যুরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।
- আলিবর্দি খান ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত ১০ বছর প্রতিরোধ করে বর্গিদের দেশছাড়া করতে সক্ষম হন।
- তাঁর শাসনকালে আফগান সৈন্যরা বিদ্রোহ করলে তিনি শক্ত হাতে তা দমন করেন।
- আলিবর্দির সময়ে ইংরেজসহ অনেক ইউরোপীয় বণিকের বাণিজ্যিক তৎপরতা বাংলার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
- একই সাথে তারা সামরিক শক্তিও সঞ্চয় করতে থাকে।
- আলিবর্দি খান শক্ত হাতে বণিকদের তৎপরতা রোধ করেন।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ এপ্রিল আলিবর্দি খান মৃত্যুবরণ করেন। মুর্শিদাবাদের খুশবাগে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৭.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল-
  1. ১৯৯৬ সালের ৬ ডিসেম্বর
  2. ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর
  3. ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৮৯ সালের ৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক বাহিনীর প্রধান হোসাইন মোহাম্মাদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।
- ক্ষমতা দখল করেই সামরিক ফরমান 'এমএলআর ৮২' জারি করেন।
- এতে বলা হয়, যেকোনো ভাবে সামরিক শাসনের বিরোধিতা করলে ৭ বছরের জেল।
- তথাকথিত এই কালো আইনে হাজারো রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার হয়।
- ক্ষমতা দখল করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তিনি কথা রাখেননি।
- বরং বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেন।
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।

 উৎস: THE BUSINESS STANDARD বাংলা ।
১৮.
ঢাকা বাংলার রাজধানী হয়-
  1. স্বাধীন নবাবি আমলে
  2. সুলতানি আমলে
  3. মুগল আমলে
  4. ব্রিটিশ আমলে
সঠিক উত্তর:
মুগল আমলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুগল আমলে
ব্যাখ্যা
- বাংলার বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে এদেশে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ সালে)।
- শাসনভার গ্রহণ করেই তিনি বুঝতে পারেন যে, বারোভূঁইয়াদের নেতামুসা খানকে পরাজিত করতে পারলেই তাঁর পক্ষে অন্যান্য জমিদারকে বশীভূত করা সহজ হবে।
- সেজন্য তিনি রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- কারণ মুসা খানের ঘাঁটি সোনারগাঁ ঢাকার অদূরে ছিল।
- বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় আসার পথে ইসলাম খান কয়েকজন জমিদারের আনুগত্য লাভ করেছিলেন।
- বারোভূঁইয়াদের মোকাবিলা করার জন্য ইসলাম খান শক্তিশালী নৌবহর গড়ে তোলেন।
- মুসা খানের সাথে প্রথম সংঘর্ষ বাধে ১৬০৯ সালে করতোয়া নদীর পূর্বতীরে যাত্রাপুরে।
- সেখানে মুসা খানের দুর্গ ছিল। যুদ্ধে
- মুসা খান ও অন্যান্য জমিদার শেষ পর্যন্ত পিছু হটেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন।
- এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী।
- সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৯.
ছাত্র ও নাগরিকদের হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে ছাত্ররা ‘মার্চ ফর জাস্টিস' কত তারিখে পালন করা হয়?
  1. ২৬ জুলাই
  2. ৩১ জুলাই
  3. ২২ জুলাই
  4. ১৮ জুলাই
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই
ব্যাখ্যা
• ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের কালপঞ্জি:

• ৩১ জুলাই ২০২৪:
- হত্যা, গণগ্রেফতার, হামলা, মামলা, জোরপূর্বক গুম এবং ছাত্র ও নাগরিকদের হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে ছাত্ররা ‘মার্চ ফর জাস্টিস' নামে প্রতিবাদ করেছে।
- শিক্ষার্থীদের নয়টি সুনির্দিষ্ট দাবির পক্ষে দেশব্যাপী আদালত প্রাঙ্গণ, ক্যাম্পাস এবং রাস্তায় দুপুর ১২ টায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
- সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট থেকে কোর্ট পয়েন্টের দিকে মিছিল করে।
- দুপুর সোয়া ১টার দিকে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টের দিকে মিছিল করে। 
- সকাল ১১টা নাগাদ বিক্ষোভকারীরা চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে জড়ো হতে শুরু করে।
- পুলিশ ব্যারিকেড সত্ত্বেও, প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী চত্বরে প্রবেশ করে এবং অবস্থান নেয়।
- ৫০ থেকে ৬০ জন বিএনপিপন্থী আইনজীবী ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
- অন্যদিকে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা পাল্টা মিছিল করেন।

উৎস: বাসস।
২০.
কোন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নবাবি শাসনের ইতি ঘটে?
  1. বক্সার যুদ্ধ
  2. পানিপথের যুদ্ধ
  3. পলাশীর যুদ্ধ
  4. আলীনগর যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পলাশীর যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশীর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা:
- তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজ বণিকদের বাংলা থেকে অন্যায় সুবিধা গ্রহণের পথগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় তারা নবাবের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
- তাই তারা নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য দেশীয় চক্রান্তকারীদের সাথে হাত মেলান।
- অবশেষে ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ বাধে নবাবের।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির যুদ্ধে নবাবের সেনাপতি মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধে অংশগ্রহণে বিরত থাকেন।
- অসহায়ভাবে পরাজয় ঘটে সিরাজউদ্দৌলার।
- এভাবেই পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নবাবি শাসনের ইতি ঘটে এবং বাংলায় ইংরেজ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২১.
ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি কত তারিখে পালন কারা হয়?
  1. ৫ জুলাই
  2. ৩ জুলাই
  3. ৬ জুলাই
  4. ১২ জুলাই
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি কত তারিখে পালন কারা হয়?
সঠিক উত্তর: ৭ জুলাই। 
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল কফরা হলো। 
---------------------------- 

• ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের কালপঞ্জি:


• ৭ জুলাই ২০২৪:
- বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির প্রথম দিনে রাজধানীর শাহবাগ, নীলক্ষেত, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, সায়েন্স ল্যাব, বাংলামোটর মোড় এবং ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ প্রধান প্রধান সড়কগুলো কয়েক ঘন্টার জন্য অবরোধ করে রাখে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে, ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ করে।
- দিনের কর্মসূচি শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারি চাকুরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক কোটা বাতিলের ‘এক দফা’ দাবি নিয়ে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য,
- জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের বিগত সরকারের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।

উৎস: বাসস।

২২.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম বণিজ্য করার উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে প্রথম আগমন করে-
  1. পর্তুগিজ
  2. ওলন্দাজ
  3. ইংরেজ
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা। তিনি ১৪৯৮
- সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজরা ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এদেশে আসে কিন্তু ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে মনোনিবেশ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
- ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- ১৫৭৯ সালে হুগলী নামক স্থানে তারা উপনিবেশ গড়ে তোলে।
- এরপর তারা উড়িষ্যা এবং বাংলার কিছু অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়।
- বাংলাসহ ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন অংশে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা থাকলেও পর্তুগিজদের বিভিন্ন অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান তাদের
- চট্টগ্রাম ও সন্দীপের ঘাঁটি দখল করে বাংলা থেকে বিতাড়ন করেন। তাছাড়া পর্তুগিজরা বাংলায় আগত অন্যান্য
- ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গেও পরাজিত হয়। এরপর তারা দেশ ত্যাগ করে।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৩.
ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি কত টাকার বিনিময় বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন?
  1. ২৮ লক্ষ
  2. ৫২ লক্ষ
  3. ৩১ লক্ষ
  4. ২৬ লক্ষ
সঠিক উত্তর:
২৬ লক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬ লক্ষ
ব্যাখ্যা
• কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ সালে মীর জাফরের মৃত্যুর পর তার পুত্র নাজিম-উদ-দৌলাকে শর্তসাপেক্ষে বাংলার সিংহাসনে বসানো হয়।
- শর্ত থাকে যে, তিনি তার পিতার মতো ইংরেজদের নিজস্ব পুরাতন দস্তক অনুযায়ী বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে দেবেন এবং দেশীয় বণিকদের অবাধ বাণিজ্যের সুবিধা বাতিল করবেন।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব বা খাজনা ও কর আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ দেওয়ানি লাভ করে।
- ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ দ্বিতীয়বার ভারতবর্ষে এসে প্রথমেই পরাজিত অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লির সম্রাটের দিকে নজর দেন।
- তিনিঅযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন। বিনিময়ে আদায় করে নেন কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুইটি। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
- অপরদিকে তিনি দেওয়ানি শর্তসংবলিত দুইটি চুক্তি করেন।
- একটি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে।
- এতে কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- এর বিনিময়ে ছাব্বিশ লক্ষ টাকা নবাব প্রতিবছর সম্রাটকে পাঠাবেন।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠানোর জামিনদার হবে কোম্পানি।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৪.
পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটান কে??
  1. লিয়াকত আলী
  2. টিক্কা খান
  3. ইসকান্দর মির্জা
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
ইসকান্দর মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসকান্দর মির্জা
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৬ সালের সংবিধান:
- সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই একটি কার্যকর সংবিধান প্রণয়নের দাবি ওঠে।
- নতুন রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান শুরুতে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতো।
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান গণপরিষদ।
- এই গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল কেন্দ্রীয় আইনসভা হিসেবে কাজ করা এবং একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর অসহযোগিতা ও অনীহার কারণে গণপরিষদের কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে থাকে।
- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে গণপরিষদ একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করে।
- তবে এই কমিটিতে পূর্ব বাংলার প্রতিনিধিত্ব ছিল খুবই কম।
- দীর্ঘ ১৮ মাস পর কমিটি তাদের প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা পূর্ব বাংলার জনগণকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বঞ্চিত করে।
- ফলস্বরূপ, ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয় এবং জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে।
- পরবর্তী সময়ে মূলনীতি কমিটি ১৯৫২ সালে দ্বিতীয় ও ১৯৫৩ সালে তৃতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে, কিন্তু সংবিধান প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়নি।
- অবশেষে ১৯৫৫ সালের মার্চ মাসে গভর্নর জেনারেল নতুন করে সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেন।
- পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা এক চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং তারই ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচিত হয়। এই সংবিধানটি দুই বছর কার্যকর ছিল।
- তবে ১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইসকান্দর মির্জা সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত হয়ে যায়।
- এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশটি আবার সামরিক ও স্বৈরশাসনের পথে অগ্রসর হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৫.
'মালজামিনি' ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থাটি কে প্রবর্তিত করেন?
  1. সুজাউদ্দিন খান
  2. নবাব মুর্শিদ কুলি খান
  3. আলিবর্দি খান
  4. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা
• মুর্শিদ কুলি খান:
- মুর্শিদ কুলি খান দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রসারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।
- ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলায় একটি নতুন ভূমি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- তার প্রবর্তিত এ ব্যবস্থাটি 'মালজামিনি' প্রথা নামে পরিচিত।
- জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ইংরেজ, ফরাসি ও পারসিক ব্যবসায়ীদের তিনি উৎসাহ প্রদান করতেন।
- ব্যবসায়ীরা যাতে নির্দিষ্ট হারে প্রচলিত কর প্রদান করে এবং তাদের প্রতি যাতে কোনো অবিচার করানা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছিল।
- কলকাতা, চুঁচুড়া ও চন্দননগর বিভিন্ন বিদেশি বণিকদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান মৃত্যুবরণ করেন।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৬.
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে বামপন্থি গণতন্ত্রী দলের নেতৃত্ব কে ছিলেন?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. হাজী দানেশে
  3. মওলানা আতাহার আলী
  4. এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
হাজী দানেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী দানেশে
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল।
- এছাড়া পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ।
- ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

• যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি।

• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রণীত এই ২১ দফা কর্মসুচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৭.
কোন শতকে 'ফরায়েজি আন্দোলন'-এর সূত্রপাত ঘটে?
  1. বিশ শতকে
  2. উনিশ শতকে
  3. আঠারো শতকে
  4. সতেরো শতকে
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজি আন্দোলন:

- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮.
১৯৫৬ সালের সংবিধান কত বছর কার্যকর ছিল?
  1. ৩ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ২ বছর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৬ সালের সংবিধান:
- সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই একটি কার্যকর সংবিধান প্রণয়নের দাবি ওঠে।
- নতুন রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান শুরুতে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতো।
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান গণপরিষদ।
- এই গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল কেন্দ্রীয় আইনসভা হিসেবে কাজ করা এবং একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর অসহযোগিতা ও অনীহার কারণে গণপরিষদের কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে থাকে।
- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে গণপরিষদ একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করে।
- তবে এই কমিটিতে পূর্ব বাংলার প্রতিনিধিত্ব ছিল খুবই কম।
- দীর্ঘ ১৮ মাস পর কমিটি তাদের প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা পূর্ব বাংলার জনগণকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বঞ্চিত করে।
- ফলস্বরূপ, ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয় এবং জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে।
- পরবর্তী সময়ে মূলনীতি কমিটি ১৯৫২ সালে দ্বিতীয় ও ১৯৫৩ সালে তৃতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে, কিন্তু সংবিধান প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়নি।
- অবশেষে ১৯৫৫ সালের মার্চ মাসে গভর্নর জেনারেল নতুন করে সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেন।
- পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা এক চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং তারই ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচিত হয়। এই সংবিধানটি দুই বছর কার্যকর ছিল।
- তবে ১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইসকান্দর মির্জা সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত হয়ে যায়।
- এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশটি আবার সামরিক ও স্বৈরশাসনের পথে অগ্রসর হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৯.
বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন-
  1. খলজি মালিক
  2. শিহাবউদ্দিন ঘোরি
  3. বতিয়ার খিলজি
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
সঠিক উত্তর:
বতিয়ার খিলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বতিয়ার খিলজি
ব্যাখ্যা
• ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি:
- তেরোশতকের প্রথমদিকে তুর্কিসেনাপতি বতিয়ার খিলজি নদীয়া আক্রমণ করেন।
- লক্ষণ সেন পালিয়ে নদীপথে পূর্ববঙ্গের রাজধানী বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে অবস্থান গ্রহণ করেন।
- এরপর বখতিয়ার খিলজি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলা সহজেই দখল করে নেন।
- এরপর বখতিয়ার নদীয়া ত্যাগ করে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসর হন।
- তিনি লক্ষণাবতী জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন।
- লক্ষণাবতীই মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- গৌড়ের পর বখতিয়ার আরও পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায় নিজ অধিকার বিস্তার করেন।
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না। তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহবোদ্ধা খলজি মালিক, আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩০.
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার নির্বাচনে বিরোধী দলের জোট কোনটি?
  1. যুক্তপার্টি
  2. অ্যালায়েন্স ফর বাংলা
  3. যুক্তফ্রন্ট
  4. যুক্তমোর্চ
সঠিক উত্তর:
যুক্তফ্রন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তফ্রন্ট
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল।
- এছাড়া পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ।
- ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

• যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি।

• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রণীত এই ২১ দফা কর্মসুচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩১.
ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ৩২২ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ৩১০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ৩২৩ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
৩২০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি 'প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।
- মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩২.
অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব কবে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়?
  1. ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট
  2. ১৯৪৫ সালের ২৬ জানুয়ারি
  3. ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট
  4. ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ সালে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় পরিণত হয়।
- এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
- এমন এক সংকটময় সময়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী "যুক্ত বাংলা" গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এই প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন দেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাই শরৎচন্দ্র বসু।
- এই প্রস্তাবটি ইতিহাসে "বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব" নামে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সোহরাওয়ার্দী স্বাধীন ও সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলার একটি রাজনৈতিক রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- পরে শরৎচন্দ্র বসু একটি ‘সোস্যালিস্ট রিপাবলিক’ হিসেবে অখণ্ড বাংলাকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।