পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩০ আইন বিষয়াবলী - ১২ Subject: The Penal Code,1860 Topic: Section 1-140 (Introduction, General Explanations, Punishments, General Exceptions, Abetment, Criminal Conspiracy, Offences Against the State, Offences Relating to the Army, Navy, and Air Force).
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
ভুটানের আকাশে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে নিবন্ধিত বিমান ভারতের নাগরিক যাত্রী ধর্ষণ করলে, অপরাধীকে বাংলাদেশে শাস্তি দেওয়া যাবে দণ্ডবিধির কোন ধারায়?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ৪(১)
  4. ধারা ৪(৪)
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪ ধারার বিধান বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের জন্য বিধিটির আওতার সম্প্রসারণ:
- নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ দ্বারা সংঘটিত কোন অপরাধের ক্ষেত্রেও এই বিধির বিধানগুলো প্রয়োগযোগ্য হবে;
(১) বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত কোন জায়গায় বাংলাদেশের নাগরিক;
(৪) বাংলাদেশে রেজিষ্ট্রিকৃত যে কোন জাহাজ বা বিমান পোতে আরোহী যে কোন ব্যক্তি উক্ত জাহাজ কিংবা বিমান পোতে যেখানেই থাকুক না কেন।
- ব্যাখ্যা:- এই ধারা মতে যে কার্য বাংলাদেশের মধ্যে সংঘটিত হলে এই বিধি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত তা বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত হলে তার 'অপরাধ' কথাটির আওতাভুক্ত হবে।

- অর্থাৎ বাংলাদেশে নিবন্ধিত যেকোনো জাহাজ বা বিমানের ভিতরে যে-কোনো ব্যক্তি (যে-কোনো দেশের নাগরিক হোক না কেন) যদি কোনো অপরাধ করে, তাহলে সেই অপরাধ যেখানেই হোক না কেন (ভুটানের আকাশে, সমুদ্রের ওপরে, যে-কোনো দেশের ওপর দিয়ে উড়ছে তাতে কিছু যায় আসে না), বাংলাদেশের দণ্ডবিধি প্রযোজ্য হবে এবং বাংলাদেশে তার বিচার ও শাস্তি হবে।

- সুতরাং, বাংলাদেশে নিবন্ধিত বিমানে সংঘটিত এই অপরাধের জন্য অপরাধীকে বাংলাদেশে শাস্তি দেওয়া যাবে ধারা ৪(৪)-এর অধীনে।

.
দণ্ডবিধির ধারা ৩৪ অনুযায়ী, যখন একাধিক ব্যক্তি একই অভিপ্রায়ে অপরাধ করে, তখন দায়ভার কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. আদালত নির্ধারণ করবে
  2. শুধু প্রধান অপরাধীর উপর দায় বর্তায়
  3. কেবলমাত্র সহযোগীর উপর দায় বর্তায়
  4. প্রত্যেক ব্যক্তি দায়ী, যেন সে একাই কাজ করেছে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪-এর মূল বিধান হলো — যখন একাধিক ব্যক্তি সাধারণ অভিপ্রায় (common intention) বাস্তবায়নের জন্য কোনো অপরাধমূলক কাজ করে, তখন প্রতিটি ব্যক্তি সেই কাজের জন্য যৌথ দায় বহন করে এবং তাকে এমনভাবে দায়ী করা হয় যেন সে একা ঐ অপরাধটি করেছে। অর্থাৎ, দণ্ডবিধির দৃষ্টিতে প্রত্যেকে মূল অপরাধীর সমান দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়।
- এই বিধানটির উদ্দেশ্য হলো যৌথ দায়িত্ব সৃষ্টি করা, যাতে সাধারণ অভিপ্রায়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ব্যক্তিকে আলাদাভাবে শাস্তি দেওয়া যায়, যদিও প্রকৃতপক্ষে কাজটি তারা সম্মিলিতভাবে করেছে।

- অর্থাৎ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪ অনুযায়ী, যখন একাধিক ব্যক্তি সাধারণ অভিপ্রায়ের (common intention) অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটিত করে, তখন প্রত্যেককে সেই অপরাধের জন্য দায়ী ধরা হয়, যেমন মনে করা হবে সে একাই ওই অপরাধটি করেছে।

Illustration:
A ও B মিলে Z-এর উপর হামলা চালায় অভিপ্রায় অনুযায়ী। Z আহত হলে, A ও B দুজনই আলাদাভাবে পূর্ণ দায়ী।

.
দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী “Fraudulently” শব্দটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
  1. ধারা ২৪
  2. ধারা ২৫
  3. ধারা ২৬
  4. ধারা ২৮
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধিতে “Fraudulently” (প্রতারণাপূর্বক) শব্দটির ব্যাখ্যা ধারা ২৫-এ দেওয়া আছে। ধারা ২৫-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি "প্রতারণাপূর্বক" কোনো কাজ করবে বলে গণ্য হবে, যখন সে সেই কাজটি প্রতারণার অভিপ্রায় (intent to defraud) সহকারে সম্পাদন করে। শুধুমাত্র ক্ষতি বা মিথ্যা বর্ণনা দেওয়া যথেষ্ট নয়; এর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকতে হবে।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ - ধারা ২৫: "প্রতারণাপূর্বক" (Fraudulently)-
যদি কোন ব্যক্তি কোন কাজ প্রতারণার অভিপ্রায়ে করে, তবে এবং কেবলমাত্র তখনই সেই ব্যক্তি উক্ত কাজটি ‘প্রতারণাপূর্বক’ করেছে বলে গণ্য হবে।
---------
⇒ The penal Code,1860: Section- 25. “Fraudulently":
A person is said to do a thing fraudulently if he does that thing with intent to defraud but not otherwise.

.
ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন কবে গঠন করা হয়?
  1. ১৮২৪ সালে
  2. ১৮৩৪ সালে
  3. ১৮৩৭ সালে
  4. ১৮৬০ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন (First Law Commission) গঠিত হয় ১৮৩৪ সালে।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের Charter Act of 1833-এর অধীনে এই কমিশন গঠন করা হয়।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় আইন ব্যবস্থাকে সংহত ও সংস্কার করা।

- এই কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন লর্ড থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Thomas Babington Macaulay)।
- কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন G.W. Anderson, F. Millet এবং J.M. Macleod।

উল্লেখ্য, 
- ১৮৩৪: প্রথম আইন কমিশন গঠন।
- ১৮৩৭: দণ্ডবিধির খসড়া (Penal Code draft) জমা দেওয়া হয়।
- ১৮৬০ (৬ অক্টোবর): দণ্ডবিধি আইন হিসেবে পাস হয়।
- ১৮৬২ (১ জানুয়ারি): দণ্ডবিধি কার্যকর হয়।

.
দণ্ডবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের প্ররোচনা দেওয়ার পর যদি সেই অপরাধ সংঘটিত না হয়, তবে প্ররোচনাদাতার শাস্তি কী?
  1. সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  4. সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১১৫ অনুযায়ী, যদি কেউ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে প্ররোচনা (abetment) দেয়, কিন্তু সেই অপরাধ সম্পূর্ণভাবে সংঘটিত না হয়, তখন প্ররোচনাদাতা সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড-এর আওতায় শাস্তি ভোগ করবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১১৫ ধারার বিধান- মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের উস্কানি দেওয়া - যদি অপরাধ সংঘটিত না হয়; যদি ক্ষতি সৃষ্টিকারী কার্য সম্পাদিত হয়:
যে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটিত করার জন্য উস্কানি দেয়, কিন্তু উস্কানির ফলে ওই অপরাধ সংঘটিত না হয় এবং এই দণ্ডবিধিতে উস্কানির শাস্তির জন্য কোনো বিশেষ বিধান না থাকে, তাকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হতে পারে;
এবং যদি কোনো এমন কার্য, যার জন্য উস্কানিদাতা দণ্ডনীয়, এবং যার কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সংঘটিত হয়, তাহলে উস্কানিদাতা ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 115.  Abetment of offence punishable with death or imprisonment for life- if offence be not committed; if act causing harm be done in consequence:
Whoever abets the commission of an offence punishable with death or [imprisonment] for life, shall, if that offence be not committed in consequence of the abetment, and no express provision is made by this Code for the punishment of such abetment, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
-and if any act for which the abettor is liable in consequence of the abetment, and which causes hurt to any person, is done, the abettor shall be liable to imprisonment of either description for a term which may extend to fourteen years, and shall also be liable to fine. 

Illustration
A instigates B to murder Z. The offence is not committed. If B had murdered Z, he would have been subject to the punishment of death or [imprisonment] for life. Therefore A is liable to imprisonment for a term which may extend to seven years and also to a fine; and, if any hurt be done to Z in consequence of the abetment, he will be liable to imprisonment for a term which may extend to fourteen years, and to fine.

.
দণ্ডবিধির ৮৩ ধারায় অপরাধ নির্ধারণের প্রধান শর্ত কোনটি?
  1. শিশুর লিঙ্গ
  2. শিশুর স্কুলশিক্ষা
  3. শিশুর বুদ্ধির পরিপক্কতা
  4. শিশুর পারিবারিক অবস্থা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৮৩-এ বলা হয়েছে যে, ৯ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না, যদি প্রমাণিত হয় যে কাজ করার সময় শিশুটি "তাহার কার্যের প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্বতা লাভ করে নাই"।
- অর্থাৎ, এই ধারার মূল ভিত্তি হলো বুদ্ধির পরিপক্বতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি — শিশুটি তার কাজের আইনগত ও ব্যবহারিক পরিণতি বুঝতে পেরেছে কিনা।

⇒ দণ্ডবিধির ৮৩ ধারার বিধান নয় বৎসরের অধিক কিন্তু বার বৎসরের কম বয়সের অপরিণত বুদ্ধিসম্পন্ন শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:- নয় বৎসর অপেক্ষা বেশি কিন্তু বার বৎসর অপেক্ষা কম বয়সের এমন কোন শিশুর কোন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যে শিশু সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় উহার প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা লাভ করে নাই।
--------
⇒ The Penal Code,1860, Section 83. Act of a child above nine and under twelve of immature understanding:
 Nothing is an offence which is done by a child above nine years of age and under twelve, who has not attained sufficient maturity of understanding to judge of the nature and consequences of his conduct on that occasion.

.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় "বছর" ও "মাস"-এর গণনা পদ্ধতি ব্রিটিশ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী করার বিধান রয়েছে?
  1. ৪৭ ধারায়
  2. ৪৯ ধারায়
  3. ৫১ ধারায়
  4. ৫৩ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৯-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, “year” বা “month” শব্দ ব্যবহৃত হলে তা ব্রিটিশ ক্যালেন্ডার (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার) অনুযায়ী গণনা করতে হবে।
- সুতরাং, "বছর" ও "মাস" এর গণনা পদ্ধতি সম্পর্কিত একমাত্র সুনির্দিষ্ট বিধান ধারা ৪৯-এ রয়েছে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Sections- 49.“Year” “Month”:
- Wherever the word "year" or the word "month" is used, it is to be understood that the year or the month is to be reckoned according to the British calendar.

.
বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধ কোন শর্তে বাংলাদেশে বিচারযোগ্য?
  1. যদি অপরাধ গুরুতর হয়
  2. যদি তা আন্তর্জাতিক আদালতে যায়
  3. যদি অপরাধী বাংলাদেশি নাগরিক হয়
  4. যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ৪ ধারা এবং ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৮ ধারার অনুযায়ী, বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধ বাংলাদেশে বিচারযোগ্য হয় যদি:
- অপরাধ বাংলাদেশী নাগরিকের দ্বারা সংঘটিত হয়, অথবা
- বাংলাদেশে নিবন্ধিত জাহাজ বা বিমানে যেকোনো ব্যক্তি অপরাধ সংঘটন করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪ ধারার বিধান বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের জন্য বিধিটির আওতার সম্প্রসারণ:
- নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ দ্বারা সংঘটিত কোন অপরাধের ক্ষেত্রেও এই বিধির বিধানগুলো প্রয়োগযোগ্য হবে;
(১) বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত কোন জায়গায় বাংলাদেশের নাগরিক;
(৪) বাংলাদেশে রেজিষ্ট্রিকৃত যে কোন জাহাজ বা বিমান পোতে আরোহী যে কোন ব্যক্তি উক্ত জাহাজ কিংবা বিমান পোতে যেখানেই থাকুক না কেন।
- ব্যাখ্যা:- এই ধারা মতে যে কার্য বাংলাদেশের মধ্যে সংঘটিত হলে এই বিধি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত তা বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত হলে তার 'অপরাধ' কথাটির আওতাভুক্ত হবে।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৮৮ ধারার বিধান বাংলাদেশের বাহিরে সংঘটিত অপরাধের দায়:
যখন বাংলাদেশের কোন নাগরিক বাংলাদেশের সীমার বাহিরে কোন স্থানে কোন অপরাধ করে; অথবা যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে নিবন্ধিকৃত কোন জাহাজ বা উড়োজাহাজে, তাহা যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, কোন অপরাধ করে;
তখন বাংলাদেশের যে স্থানেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে সে স্থানে অপরাধ সংঘটন করেছে মর্মে ধরে নিয়ে সে অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

.
দণ্ডবিধির ধারা ১০৩ অনুযায়ী কোন অপরাধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত প্রযোজ্য?
  1. প্রতারণা
  2. দস্যুতা
  3. মানহানি
  4. জালিয়াতি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১০৩ অনুযায়ী, সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার এমন পর্যায় পর্যন্ত প্রয়োগ করা যেতে পারে যে প্রয়োজনে অপরাধীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো সম্ভব হয়। তবে এই অধিকার কেবলমাত্র কিছু নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- ধারা ১০৩-এ উল্লেখিত অপরাধগুলোর মধ্যে একটি হলো দস্যুতা (Robbery)। দস্যুতা এমন একটি গুরুতর অপরাধ, যেখানে বলপ্রয়োগ বা ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্পত্তির মালিক বা রক্ষক যুক্তিসঙ্গতভাবে নিজের ও নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনবশত প্রাণঘাতী প্রতিরোধ করতে পারেন।
- সুতরাং, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে দস্যুতা একমাত্র সেই অপরাধ, যার ক্ষেত্রে সম্পত্তির রক্ষার্থে ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার মৃত্যু পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০৩: যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়:
সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-
প্রথমত (First): দস্যুতা;
দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা অপথে গৃহে প্রবেশ করা:
তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।

⇒ The Penal Code, 1860- Section-103. When the right of private defence of property extends to causing death:
The right of private defence of property extends, under the restrictions mentioned in section 99, to the voluntary causing of death or of any other harm to the wrong-doer, if the offence, the committing of which, or the attempting to commit which, occasions the exercise of the right, be an offence of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:-Firstly.-Robbery;
Secondly.-House-breaking by night;
Thirdly.-Mischief by fire committed on any building, tent or vessel, which building, tent or vessel is used as a human dwelling or as a place for the custody of property;
Fourthly.-Theft, mischief or house-trespass, under such circumstances as may reasonably cause apprehension that death or grievous hurt will be the consequence, if such right of private defence is not exercised;

১০.
দণ্ডবিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী, সাধারণত অর্থদণ্ড আদায় করা যাবে দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী কত বছরের মধ্যে?
  1. তিন বৎসরের মধ্যে
  2. পাঁচ বৎসরের মধ্যে
  3. ছয় বৎসরের মধ্যে
  4. দশ বৎসরের মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৭০-এর প্রথম অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে" এটি সাধারণ নিয়ম। তবে এর একটি ব্যতিক্রম হলো: যদি অপরাধীর কারাদণ্ডের মেয়াদ ৬ বছরের বেশি হয়, তাহলে অর্থদণ্ড আদায় করা যাবে উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে।

⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান- অর্থদণ্ড ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য: মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:-
- অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশ বলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনত দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।

⇒ The Penal Code, 1860 -Section- 70. Fine leviable within six years, or during imprisonment Death not to discharge property from liability:
The fine, or any part thereof which remains unpaid, may be levied at any time within six years after the passing of the sentence, and if, under the sentence, the offender be liable to imprisonment for a longer period than six years, then at any time previous to the expiration of that period; and the death of the offender does not discharge from the liability of any property which would, after his death, be legally liable for his debts.

১১.
নিচের কোনটি দণ্ডবিধির ১০০ ধারায় উল্লিখিত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের শর্ত নয়? 
  1. অপহরণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ
  2. সম্পত্তি ধ্বংসের অভিপ্রায়ে আক্রমণ
  3. অপকৃত কাম লালসার অভিপ্রায়ে আক্রমণ
  4. গুরুতর আঘাতের আশঙ্কাজনক আক্রমণ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০০-এ দেহের আত্মরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত প্রযোজ্য হওয়ার জন্য ছয়টি সুনির্দিষ্ট শর্ত/ক্ষেত্র উল্লেখ আছে:
১. মৃত্যুর যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কাজনক আক্রমণ। 
২. গুরুতর আঘাতের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কাজনক আক্রমণ। 
৩. ধর্ষণের অভিপ্রায়ে আক্রমণ। 
৪. অপকৃত কাম লালসার (প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌন ইচ্ছা) অভিপ্রায়ে আক্রমণ। 
৫. অপহরণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ। 
৬. অবৈধভাবে আটক রেখে আইনি সাহায্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত করার অভিপ্রায়ে আক্রমণ।
- "সম্পত্তি ধ্বংসের অভিপ্রায়ে আক্রমণ" ধারা ১০০-এর তালিকাভুক্ত নয়।
- সম্পত্তি রক্ষার জন্য মৃত্যু পর্যন্ত আত্মরক্ষার বিধান ধারা ১০৩-এ আলাদাভাবে দেওয়া আছে, সেটিও শুধু বিশেষ অপরাধের (ডাকাতি, রাত্রিবেলা গৃহভঙ্গ, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- সাধারণ সম্পত্তি ধ্বংসের অভিপ্রায়ে আক্রমণের ক্ষেত্রে দেহের আত্মরক্ষায় মৃত্যু পর্যন্ত অধিকার প্রযোজ্য নয়।
-------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 100. When the right of private defence of the body extends to causing death:
-The right of private defence of the body extends, under the restrictions mentioned in the last preceding section, to the voluntary causing of death or of any other harm to the assailant, if the offence which occasions the exercise of the right be of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:- 
Firstly.-Such an assault as may reasonably cause the apprehension that death will otherwise be the consequence of such assault; 
Secondly.-Such an assault as may reasonably cause the apprehension that grievous hurt will otherwise be the consequence of such assault; 
Thirdly.-An assault with the intention of committing rape; 
Fourthly.-An assault with the intention of gratifying unnatural lust; 
Fifthly.-An assault with the intention of kidnapping or abducting; 
Sixthly.-An assault with the intention of wrongfully confining a person, under circumstances which may reasonably cause him to apprehend that he will be unable to have recourse to the public authorities for his release.

১২.
'A' কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। দণ্ডবিধির ৫৭ ধারা অনুযায়ী, যদি তার শাস্তির মেয়াদের এক-তৃতীয়াংশ স্থগিত (remission) করা হয়, তবে স্থগিতকৃত মেয়াদ কত বছর হিসেবে গণনা করা হবে?
  1. ১০ বছর
  2. ১৫ বছর
  3. ২০ বছর
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে স্থগিত (remission) প্রযোজ্য নয়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৫৭ ধারা অনুযায়ী, যখনই কোনো শাস্তির মেয়াদের ভগ্নাংশ (fraction) গণনা করার প্রয়োজন হয়, তখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে (Imprisonment for life) ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড (rigorous imprisonment for thirty years) হিসেবে গণনা করতে হয়।

 ধাপে ধাপে হিসাব:
১. ভিত্তি নির্ধারণ: প্রশ্নে 'A'-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৫৭ ধারা অনুযায়ী, ভগ্নাংশের হিসাব করার জন্য আমরা এই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৩০ বছর হিসেবে ধরব।
২. ভগ্নাংশের হিসাব: প্রশ্নে বলা হয়েছে, তার শাস্তির মেয়াদের এক-তৃতীয়াংশ (1/3) স্থগিত (remission) করা হবে। সুতরাং, আমাদের ৩০ বছরের এক-তৃতীয়াংশ বের করতে হবে। 
৩. গাণিতিক সমাধান: ৩০ বছরের এক-তৃতীয়াংশ = (১/৩) × ৩০ বছর  = ১০ বছর।
সুতরাং, স্থগিতকৃত মেয়াদ হবে ১০ বছর।

অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল?
খ) ১৫ বছর: এটি ৩০ বছরের অর্ধেক (১/২ অংশ), এক-তৃতীয়াংশ (১/৩ অংশ) নয়।
গ) ২০ বছর: এটি ৩০ বছরের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩ অংশ), এক-তৃতীয়াংশ নয়।
ঘ) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে স্থগিত (remission) প্রযোজ্য নয়: এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। বাস্তবে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সুশাসন ও আচরণের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট নিয়মে স্থগিত (remission) বা মুক্তির ব্যবস্থা আছে। আর সেই স্থগিতের পরিমাণ গণনা করার জন্যই দণ্ডবিধির ৫৭ ধারার প্রয়োজন হয়।
---------
 ⇒ The Penal Code,1860- Section 57: Fractions of terms of punishment:
- In calculating fractions of terms of punishment, imprisonment for life shall be reckoned as equivalent to rigorous imprisonment for thirty years.

১৩.
দণ্ডবিধির ১১৭ ধারা অনুযায়ী, কতজন ব্যক্তি দ্বারা অপরাধ সংঘটনে সাহায্য করলে এই ধারাটি প্রযোজ্য হবে?
  1. পাঁচজনের অধিক
  2. দশজনের অধিক
  3. সাতজন বা তার অধিক 
  4. যেকোনো সংখ্যক
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১১৭ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এই ধারাটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন কোন ব্যক্তি "জনসাধারণ" বা "দশজনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি বা শ্রেণির লোক" দ্বারা কোনো অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা বা সাহায্য (Abetment) করে।
- অর্থাৎ দণ্ডবিধি ১১৭ ধারার অনুযায়ী, জনসাধারণ বা দশজনের অধিক ব্যক্তি দ্বারা কোনো অপরাধ সংঘটনে সাহায্য বা উস্কানি দিলে এই ধারা প্রযোজ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১১৭ ধারার বিধান জনসাধারণ বা দশজনের অধিকসংখ্যক ব্যক্তি দ্বারা অপরাধ সংঘটনে সাহায্যকরণ:
- জনসাধারণ দ্বারা অথবা দশজনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী দ্বারা অপরাধ সংঘটনে কেউ সাহায্য করলে তাকে তিন বৎসর পর্যন্ত কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
-----------
⇒ The Penal Code,1860- Section 117: Abetting commission of offence by the public, or by more than ten persons: 
- Whoever abets the commission of an offence by the public generally or by any number or class of persons exceeding ten, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.

১৪.
সামরিক আইন ছাড়াও দণ্ডবিধির ধারা ৫ অনুযায়ী আর কোন ধরনের আইনকে দণ্ডবিধির প্রভাব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে?
  1. আন্তর্জাতিক আইন
  2. বিশেষ বা স্থানীয় আইন
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি
  4. সাধারণ ক্ষমার আইন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫ অনুযায়ী, দণ্ডবিধি সামরিক আইন ছাড়াও কোনো বিশেষ বা স্থানীয় আইনকে প্রভাবিত করতে পারে না।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা-৫: কতিপয় আইন এই আইন দ্বারা প্রভাবিত হবে না: এই আইনের কোনো কিছুই প্রজাতন্ত্রের সামরিক, নৌ বা বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বিমান সেনাদের বিদ্রোহ ও পলায়নের শাস্তির জন্য প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলি বা কোনো বিশেষ বা স্থানীয় আইনকে বাতিল, পরিবর্তন, স্থগিত বা প্রভাবিত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে না।
অতএব, সামরিক আইনের পাশাপাশি বিশেষ আইন (Special Law) এবং স্থানীয় আইন (Local Law)-ও দণ্ডবিধির প্রভাব থেকে অব্যাহত রয়েছে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section-5. Certain laws not to be affected by this Act:
 Nothing in this Act is intended to repeal, vary, suspend, or affect any of the provisions of any Act for punishing mutiny and desertion of officers, soldiers, sailors or airmen in the service of the Republic, or of any special or local law.

১৫.
দণ্ডবিধিড় ৬৬ ধারা অনুযায়ী, জরিমানা আদায়ের জন্য আরোপিত কারাদণ্ডের ধরন কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. অপরাধীর ইচ্ছা অনুযায়ী
  2. পুলিশের প্রস্তাব অনুযায়ী
  3. সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
  4. অপরাধীর মূল অপরাধ অনুযায়ী
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ৬৬ ধারার অনুযায়ী, যদি কেউ আদালতে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ না করে, তাহলে তার জন্য আরোপিত কারাদণ্ডের ধরন মূল অপরাধ অনুযায়ী হবে, অর্থাৎ সেই অপরাধের জন্য আদালত যেই ধরনের কারাদণ্ড দিতে পারত, সেই ধরনের কারাদণ্ডই জরিমানা অদায়ের ক্ষেত্রে আরোপ করা হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৬৬ ধারার বিধান- অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ডের ধরন:
অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ডের ধরন, অপরাধটির জন্য অপরাধীকে যে ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যেত সেরূপ হবে।
-------
⇒ The Penal Code,1860-Section 66- Description of imprisonment for non-payment of fine:
The imprisonment which the Court imposes in default of payment of a fine may be of any description to which the offender might have been sentenced for the offence.

১৬.
দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার রয়েছে?
  1. আদালত
  2. সরকার
  3. রাষ্ট্রপতির
  4. কারা কর্তৃপক্ষ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডে রূপান্তর করার ক্ষমতা শুধুমাত্র সরকারের আছে, এবং এজন্য অপরাধীর সম্মতি প্রয়োজন হয় না।

⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন:- যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ড হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 55. Commutation of sentence of imprisonment for life:- In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.

১৭.
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy) সংঘটনের জন্য ন্যূনতম কতজন ব্যক্তির একমত হওয়া প্রয়োজন?
  1. একজন
  2. দুইজন
  3. তিনজন
  4. চারজন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১২০ক ধারার অনুযায়ী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংঘটনের জন্য ন্যূনতম দুইজন ব্যক্তি একমত হতে হবে। একজনের একমত হওয়া যথেষ্ট নয়। একমত হওয়া সেই কাজে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্য নিয়ে হতে হবে, এবং চুক্তির কোনো কার্য সম্পাদিত হতে হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১২০ক: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা:
যখন দুইজন বা তার বেশি ব্যক্তি নিম্নলিখিত কোন কাজ করতে বা করানোর জন্য একমত হন:
- একটি অবৈধ কাজ করা, অথবা
- এমন কোনো কাজ করা যা আইনত অবৈধ নয় কিন্তু অবৈধ উপায়ে করা হয়, তবে এই ধরনের একমত হওয়াকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলা হয়।শর্ত: যে কোনো একমত হওয়া শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে হলে তা অপরাধী ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে, তবে এর জন্য এই চুক্তির সাথে সম্পর্কিত এক বা একাধিক পক্ষের দ্বারা এমন কিছু কার্যক্রম সম্পাদিত হতে হবে, যা এই চুক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য করা হয়।

ব্যাখ্যা: এটি গুরুত্বপূর্ণ নয় যে ওই অবৈধ কাজটি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল, অথবা তা চুক্তির উদ্দেশ্য থেকে এক প্রকার অনুষঙ্গী ছিল।
-------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 120A. Definition of criminal conspiracy. 
 When two or more persons agree to do, or cause to be done,- 
(1) an illegal act, or 
(2) an act which is not illegal by illegal means, such an agreement is designated a criminal conspiracy: 
Provided that no agreement except an agreement to commit an offence shall amount to a criminal conspiracy unless some act besides the agreement is done by one or more parties to such agreement in pursuance thereof.
Explanation.-It is immaterial whether the illegal act is the ultimate object of such agreement, or is merely incidental to that object.

১৮.
আদালত ‘A' কে হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা অনুসারে এই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কোন প্রকৃতির হবে?
  1. সশ্রম কারাদণ্ড
  2. বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. আদালতের বিবেচনাভার
  4. জেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ এর ব্যাখ্যা (Explanation) অংশে স্পষ্টভাবে বলা আছে:
"In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous."
অর্থাৎ, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদা সশ্রম কারাদণ্ড (Rigorous Imprisonment) হবে।
- এটি আদালতের বিবেচনা বা জেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে না; এটি আইন দ্বারা নির্ধারিত একটি বাধ্যতামূলক শর্ত।

⇒ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন।
- দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে।
৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
(iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple)
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
(v) অর্থদণ্ড (fine)
- দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও বিনাশ্রম।
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 53. Punishments:
The punishments to which offenders are liable under the provisions of this Code are,-
Firstly,- Death;
Secondly,- Imprisonment for life;
Thirdly,-[Omitted].
Fourthly,-Imprisonment, which is of two descriptions, namely:-
(1) Rigorous, that is, with hard labour;
(2) Simple;
Fifthly,- Forfeiture of property;
Sixthly,- Fine.
Explanation: -In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.

১৯.
নিচের কোনটি দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী "প্ররোচনা" (Abetment)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. অন্যকে অপরাধ করতে উসকানি দেওয়া
  2. অপরাধের পর অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া
  3. অপরাধ সংঘটনের জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া
  4. অপরাধ করার জন্য সচেতনভাবে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০৭ অনুসারে অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment) গঠিত হয় তিনটি উপায়ে:
১. উসকানি (Instigation) – অন্য কাউকে অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করা।
২. ষড়যন্ত্র (Conspiracy) – অপরাধ সংঘটনের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হওয়া এবং সেই ষড়যন্ত্র অনুসারে কাজ ঘটলে।
৩. ইচ্ছাকৃত সাহায্য (Intentional aid) – অপরাধ সংঘটনে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কাজ বা বেআইনি বাদপ্রদানের মাধ্যমে সাহায্য করা।
- অপরাধের পর অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া ধারা ১০৭-এর অধীনে প্ররোচনার (Abetment) অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি অপরাধ সংঘটনের পর সাহায্য করে। এটি একটি পৃথক অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে, কিন্তু মূল অপরাধের প্ররোচনা (Abetment) নয়।

⇒ অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment):
অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা বলতে এমন কাজ বা কার্যক্রম বোঝায় যা অন্যকে অপরাধ করতে উসকানির মাধ্যমে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- অনুপ্রেরণা বা উসকানি (Instigation): অন্য কাউকে অপরাধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ বা প্ররোচিত করা।
- ষড়যন্ত্র (Conspiracy): অপরাধ করার জন্য অন্য কারও সাথে গোপনে পরিকল্পনা করা।
- সহায়তা (Assistance): অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সাহায্য করা।
-  যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে অপরাধ করতে সাহায্য বা উসকানি দেয়, তখন তাকে অপরাধের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে দণ্ডবিধির ১০৮ ধারায় প্ররোচনাকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করার জন্য কাউকে প্ররোচিত করে বা অপরাধ সংঘটনের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়, তবে তাকে অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনাকারী বলে গণ্য করা হবে।

উদাহরণ: যদি একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে চুরি করতে উসকানি দেয় বা চুরির জন্য তাকে সাহায্য করে, তবে সে সেই অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 107: Abetment of a thing: 
- A person abets the doing of a thing, who-
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1.- A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
Explanation-2.- Whoever, either prior to or at the time of the commission of an act, does anything in order to facilitate the commission of that act, and thereby facilitates the commission thereof, is said to aid the doing of that act.

২০.
দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অনুযায়ী কোনটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ নয়?
  1. সরকারের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা
  2. সরকারের শাসনের প্রতি অসমর্থন
  3. সরকারের প্রতি বিদ্বেষ উদ্রেক করা
  4. সরকারের প্রতি বৈরিতা সৃষ্টির চেষ্টা করা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১২৪ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা) এর ব্যাখ্যা ২ ও ৩ এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে: শুধুমাত্র সরকারের শাসন বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রতি অসমর্থন প্রকাশ করা, যদি তা ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা (Disaffection) সৃষ্টি বা সৃষ্টির চেষ্টা না করে, তাহলে তা এই ধারার অধীনে অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
- আইনসম্মত উপায়ে (যেমন: শান্তিপূর্ণ সমালোচনা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দাবি) সরকারের নীতির অনুপোষণ (Disapprobation) প্রকাশ করলে, যতক্ষণ না তা ঘৃণা বা বৈরিতা সৃষ্টি করে, ততক্ষণ তা অপরাধ নয়।
- সুতরাং, সরকারের শাসনের প্রতি অসমর্থন নিজে থেকেই অপরাধ নয়, যদি না তা ঘৃণা বা বৈরিতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বা ফলাফলে পরিণত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার বিধান রাষ্ট্রদ্রোহিতা:
কোন ব্যক্তি যদি উচ্চারিত বা লিখিত কথা বা উক্তি দ্বারা, অথবা চিহ্নাদি দ্বারা, অথবা দৃশ্যমান প্রতীকের সহায়তায় অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশে আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে অথবা বৈরিতা উদ্রেক করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন অথবা যে কোন কম মেয়াদের কারাদণ্ডে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে অথবা তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে, অথবা তাকে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
ব্যাখ্যা ১: ‘বৈরিতা' বলতে রাজানুগত্যহীনতা এবং সর্বপ্রকার শত্রুতার ভাব বুঝায়।
ব্যাখ্যা ২: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করা বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই আইনসম্মত উপায়ে পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের প্রতি অসমর্থন প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।
ব্যাখ্যা ৩: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করার বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই সরকারের কোন শাসন পরিচালন বিষয়ক বা অন্যরূপ কার্য সম্পর্কে অসমর্থনমূলক অভিমত বা মন্তব্য প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না। 
---------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 124A. Sedition:
 Whoever by words, either spoken or written, or by signs, or by visible representation, or otherwise, brings or attempts to bring into hatred or contempt, or excites or attempts to excite disaffection towards, the Government established by law shall be punished with imprisonment for life or any shorter term, to which fine may be added, or with imprisonment which may extend to three years, to which fine may be added, or with fine.
Explanation 1.-The expression "disaffection" includes disloyalty and all feelings of enmity. 
Explanation 2.-Comments expressing disapprobation of the measures of the Government with a view to obtain their alteration by lawful means, without exciting or attempting to excite hatred, contempt or disaffection, do not constitute an offence under this section. 
Explanation 3.-Comments expressing disapprobation of the administrative or other action of the Government without exciting or attempting to excite hatred, contempt or disaffection, do not constitute an offence under this section.

২১.
দণ্ডবিধিতে “Judge” শব্দের অর্থ কোন ধারা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
  1. ধারা ১৮
  2. ধারা ১৯
  3. ধারা ২০
  4. ধারা ২১
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধিতে “Judge” শব্দের অর্থ ধারা ১৯ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ধারা ১৯-এ "Judge" শব্দটিকে একটি বিস্তৃত অর্থে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র দাপ্তরিকভাবে নিযুক্ত বিচারকই নন, বরং আইন দ্বারা যেকোনো ধরনের চূড়ান্ত বা কার্যত চূড়ান্ত রায় দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। 

⇒ দণ্ডবিধির ১৯ ধারার বিধান- জজ:
বিচারক অর্থ শুধু সরকারিভাবে বিচারক বলে আখ্যাত বা নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বোঝায় না, বরং যেকোন আইনগত কার্যব্যবস্থা, কোন দেওয়ানি বা ফৌজদারি যা হোক, চূড়ান্ত রায়দান বা আপিল না করা না হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এইরূপ বায়দান বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সমর্থিত হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এমন কোন রায়দান করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রদত্ত প্রত্যেক ব্যক্তি, অথবা অনুরূপ রায়দান করার জন্য আইনবলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি সংস্থাভুক্ত ব্যক্তিকেও বুঝাবে।
উদাহরণ:
(ক) ১৮৫৯ সালের ১০নং আইন মোতাবেক কোন মোকদ্দমায় বিচার-ক্ষমতা প্রয়োগে একজন কালেক্টরই বিচারক।
(খ) যে অভিযোগের বিচারে ম্যাজিস্ট্রেটের অর্থ বা কারাদণ্ডদানের ক্ষমতা রয়েছে-তার দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাক বা না যাক- সে অভিযোগে বিচার ক্ষমতা প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক।
(ঘ) যে অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র কোন আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত, সে অভিযোগের ব্যাপারে এখতিয়ার প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক নয়।
----------
⇒ The penal Code,1860: Section-19. “Judge”:
The word “Judge” denotes not only every person who is officially designed as a Judge, but also every person,- 
-who is empowered by law to give, in any legal proceeding, civil or criminal, a definitive judgment, or a judgment which, if not appealed against, would be definitive, or a judgment -which, if confirmed by some other authority, would be definitive, or 
-who is one of a body of persons, which body of persons is empowered by law to give such a judgment. 
Illustration:
(a) A Collector exercising jurisdiction in a suit under Act X of 1859, is a Judge. 
(b) A Magistrate exercising jurisdiction in respect of a charge on which he has power to sentence to fine or imprisonment with or without appeal, is a Judge. 
(d) A Magistrate exercising jurisdiction in respect of a charge on which he has power only to commit for trial to another Court, is not a Judge.

২২.
দণ্ডবিধির ৫৫ক ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির "prerogative" বা বিশেষ অধিকারের মধ্যে নিচের কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক্ষমা প্রদান
  2. দণ্ড স্থগিত করা
  3. শাস্তি হ্রাস করা
  4. রায় বাতিল করা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫৫ক-এ রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধিকার হিসেবে ক্ষমা প্রদান (grant pardons), দণ্ড স্থগিত (reprieves), মুলতুবি (respites) বা শাস্তি হ্রাস/মওকুফ (remissions of punishment)-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রায় বাতিল করা রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ অধিকারের আওতাভুক্ত নয়। রায় বাতিল বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা আদালতের এখতিয়ারভুক্ত (যেমন: আপিল, পুনর্বিবেচনা ইত্যাদি)।
রাষ্ট্রপতি শাস্তি হ্রাস বা ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু আদালতের দেওয়া রায় বা দণ্ডাদেশ আইনগতভাবে বাতিল করতে পারেন না।
- সুতরাং, ঘ) রায় বাতিল করা সঠিক উত্তর, কারণ এটি রাষ্ট্রপতির "prerogative" অধিকারের অংশ নয়।

⇒ দণ্ডবিধির  ৫৫ক ধারার বিধান রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধিকার সংরক্ষণ:- ৫৪ ধারা বা ৫৫ ধারার কোন বিধান দ্বারাই রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, মৃত্যুদণ্ড মওকুফ বা স্থগিত করা বা দণ্ডাজ্ঞা হ্রাসের অধিকার ক্ষুন্ন হবে না। 
--------- 
⇒ The Penal Code,1860- Section 55A. Saving for President prerogative:- Nothing in section fifty- four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment.

২৩.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় সরল বিশ্বাসে বিচারকের আইন দ্বারা বিচারিক কাজের জন্য সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৫৬ 
  2. ধারা ৭৬
  3. ধারা ৭৭
  4. ধারা ৭৯
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ৭৭ ধারা অনুযায়ী, বিচারক যখন তার বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের সময় আইন অনুযায়ী বা নিজের সরল বিশ্বাসে আইন দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা মনে করে কোনো কাজ করে, সেই কাজ অপরাধ গণ্য হবে না। অর্থাৎ, বিচারকের বিচারিক কাজের জন্য সম্পূর্ণ দায়মুক্তি এই ধারার মাধ্যমে নিশ্চিত।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৭ ধারার বিধান বিচার সংক্রান্ত কাজ সম্পাদনকালে বিচারক দ্বারা কৃতকার্য:-বিচার কাজ পরিচালনাকালে অর্থাৎ বিচারক হিসেবে কাজ পরিচালনাকালে বিচারক দ্বারা তাকে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বা যে ক্ষমতা তাঁকে আইনে প্রদত্ত হয়েছে তিনি সরল মনে বিশ্বাস করেন সে ক্ষমতানুসারে কৃত কোন কাজ অপরাধ হবে না।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-Section 77. Act of Judge when acting judicially:- Nothing is an offence which is done by a Judge when acting judicially in the exercise of any power which is, or which in good faith he believes to be, given to him by law.

২৪.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় "অন্যায় লাভ" (Wrongful Gain) এবং "অন্যায় ক্ষতি" (Wrongful Loss) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ধারা ২২
  2. ধারা ২৩
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২৩-এ “অন্যায় লাভ” (Wrongful gain) এবং “অন্যায় ক্ষতি” (Wrongful loss) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে:
অন্যায় লাভ (Wrongful gain): এটি হলো অবৈধ উপায়ে এমন সম্পত্তি অর্জন করা, যার উপর অর্জনকারী ব্যক্তির আইনি অধিকার নেই।
অন্যায় ক্ষতি (Wrongful loss): এটি হলো অবৈধ উপায়ে এমন সম্পত্তি থেকে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা, যার উপর তার আইনি অধিকার রয়েছে।
- তাই, সঠিক উত্তর হলো ধারা ২৩।
--------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-23:
→ “Wrongful gain”
 "Wrongful gain" is gain by unlawful means of property to which the person gaining is not legally entitled.
→ “Wrongful loss”
"Wrongful loss" is the loss by unlawful means of property to which the person losing it is legally entitled.
→ Losing wrongfully.
- A person is said to gain wrongfully when such person retains wrongfully, as well as when such person acquires wrongfully.
- A person is said to loss wrongfully when such person is wrongfully kept out of any property, as well as when such person is wrongfully deprived of property.

২৫.
যদি কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হয়, তবে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সর্বাধিক কত হতে পারে?
  1. ১৪ দিন
  2. ১ মাস
  3. ২ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ৭৩ ধারার অনুযায়ী, যদি কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের বেশি না হয়, তবে আদালত সেই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্জন কারাবাসে রাখতে পারে সর্বাধিক এক মাস পর্যন্ত।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৩ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাস:- যদি কোন ব্যক্তিকে এমন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয়, যে অপরাধের জন্য আদালত এই আইনবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তবে, আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমেই আদেশ করতে পারবেন যে অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশবিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য-যা সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না-নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতসময়ের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে নির্দেশ করা যাচ্ছে: কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বৎসরের অনধিক হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বৎসরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাসে সাজার সীমা:- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 73: Solitary confinement:
 Whenever any person is convicted of an offence for which under this Code the Court has power to sentence him to rigorous imprisonment, the Court may, by its sentence, order that the offender shall be kept in solitary confinement for any portion or portions of the imprisonment to which he is sentenced, not exceeding three months in the whole, according to the following scale, that is to say
a time not exceeding one month if the term of imprison-ment shall not exceed six months:  
a time not exceeding two months if the term of imprisonment shall exceed six months and shall not exceed one year: 
a time not exceeding three months if the term of imprisonment shall exceed one year.

⇒ The Penal Code, 1860 Section 74: Limit of solitary confinement:
 In executing a sentence of solitary confinement, such confinement shall in no case exceed fourteen days at a time, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods, and when the imprisonment awarded shall exceed three months, the solitary confinement shall not exceed seven days in any one month of the whole imprisonment awarded, with intervals between the periods of solitary confinement of not less duration than such periods.

২৬.
দণ্ডবিধির ৮২ ধারায় নয় বছরের কম বয়সী শিশুর কাজকে কীভাবে গণ্য করা হয়?
  1. অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে
  2. অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না
  3. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে অপরাধ হবে
  4. কেবলমাত্র গুরুতর অপরাধ হলে অপরাধ হবে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৮২ অনুযায়ী, নয় বছরের কম বয়সী শিশু দ্বারা করা কোনো কাজই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
- অর্থাৎ, বয়স নয় বছরের কম হলে শিশু আইনের চোখে অপরাধী নয়, কোনো কাজের জন্য তাকে দায়ী করা যায় না।

⇒ দণ্ডবিধির  ৮২ ধারার বিধান নয় বৎসরের কম বয়সের শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:- নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।
-------- 
⇒ The Penal Code, 1860, Section 82. Act of a child under nine years of age:- Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age.

২৭.
নিম্নলিখিত কোনটি দণ্ডবিধির ৪৪ ধারার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. পরিবেশগত ক্ষতি
  2. মানসিক ক্ষতি
  3. সম্পত্তির ক্ষতি
  4. শারীরিক ক্ষতি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী "Injury" বলতে শারীরিক ক্ষতি, মানসিক ক্ষতি ও সম্পত্তির ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত কিন্তু পরিবেশগত ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত নয়।
- পরিবেশগত ক্ষতি (Environmental Injury): প্রাকৃতিক সম্পদ বা পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব। যেমন: বন উজাড়, জলদূষণ।
- দণ্ডবিধির ৪৪ ধারার বিধান ক্ষতি:- যদি কোন ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয় তবে তাকে 'ক্ষতি' বলে।
- দণ্ডবিধির ধারা ৪৪: "ক্ষতি": "ক্ষতি" শব্দটি এমন যে কোনো ধরনের ক্ষতি বা হানি বোঝায়, যা অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তির দেহ, মন, খ্যাতি বা সম্পত্তির ওপর ঘটানো হয়।
----------
- The Penal Code, 1860 Section-44: “Injury”- The word "injury" denotes any harm whatever illegally caused to any person, in body, mind, reputation or property.

২৮.
আইনানুগভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ পালন করে সৈনিক যদি জনতার উপর গুলি চালায়, এটি দণ্ডবিধির কোন ধারার আওতায় অপরাধ গণ্য হবে না? 
  1. ধারা ৭৬
  2. ধারা ৭৭
  3. ধারা ৭৮
  4. ধারা ৭৯
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ৭৬ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি আইনবলে বাধ্য বা ভুল ধারণাবশতঃ নিজেকে আইনবলে বাধ্য মনে করে কোনো কাজ করে, যেমন সৈনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশে জনতার উপর গুলি চালানো, তার কাজ অপরাধ গণ্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৬ ধারার বিধান- আইনবলে বাধ্য বা ভুল ধারণাবশতঃ নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক সম্পাদিত কার্য:
যে ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনত: বাধ্য বলে কোন কাজ সম্পাদন করলে, অথবা আইনের কাজটি ভুল না করে ঘটনা সম্পর্কে ভুলবশত: কাজটি করতে আইনত: বাধ্য বলে সরল মনে বিশ্বাস করে সে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদন করলে তা অপরাধ হবে না।
উদাহরণসমূহ:
(ক) ক একজন সৈনিক। সে তার উর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশক্রমে আইনের বিধানমতে কোন জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে। ক-এর গুলিবর্ষণ কাজ অপরাধ হবে না।
(খ) বিচারালয়ের জনৈক কর্মকর্তা 'ক' উক্ত বিচারালয় কর্তৃক ম-কে গ্রেফতার করার জন্য আদিষ্ট হয়ে এবং যথাযথ তদন্তের পর 'খ'-কে 'ম' মনে করে 'খ'-কে গ্রেফতার করেন। 'ক' কোন অপরাধ সংঘটন করেন নাই।
---------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 76: Act done by a person bound, or by mistake of fact believing himself bound, by law:
Nothing is an offence which is done by a person who is, or who by reason of a mistake of fact and not by reason of a mistake of law in good faith believes himself to be, bound by law to do it.
Illustrations:
(a) A, a soldier, fires on a mob by the order of his superior officer, in conformity with the commands of the law. A has committed no offence.
(b) A, an officer of a Court of Justice, being ordered by that Court to arrest Y, and, after due enquiry, believing Z to be Y, arrests Z. A has committed no offence.

২৯.
দণ্ডবিধির ৫২ ধারায় সদবিশ্বাসের সংজ্ঞায় কোন বিষয়টি অপরিহার্য বলে উল্লেখ আছে?
  1. সৎ উদ্দেশ্য
  2. আইনজ্ঞের পরামর্শ
  3. ক্ষতি না করার অভিপ্রায়
  4. যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫২-এ "সদবিশ্বাস" (Good Faith) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে:
"কোনো কিছু 'সদবিশ্বাসে' করা হয়েছে বা বিশ্বাস করা হয়েছে বলে গণ্য হবে না, যদি তা যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ (due care and attention) ব্যতিরেকে সম্পাদিত বা বিশ্বাস করা হয়।"
- এখানে অপরিহার্য মানদণ্ড হলো যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ। অর্থাৎ, কেবলমাত্র ব্যক্তির সৎ উদ্দেশ্য বা ক্ষতি না করার ইচ্ছা যথেষ্ট নয়; তাকে অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা ও মনোযোগ সহকারে কাজ করতে হবে। এটি একটি বস্তুনিষ্ঠ (Objective) পরীক্ষা, যা ব্যক্তির আন্তরিকতা নয় বরং তার যুক্তিসঙ্গত আচরণের মানদণ্ডে যাচাই করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৫২ ধারায় সদবিশ্বাসের সংজ্ঞা রয়েছে।
- যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ ব্যতিরেকে সম্পাদিত বা বিশ্বাসকৃত কোন কিছুই 'সদবিশ্বাসে' করা হয়েছে বা বিশ্বাস করা হয়েছে বলে গণ্য হবে না।
- এছাড়া তামাদি আইনের ২(৭) ধারায় সদ্ধিশ্বাস বা Good faith এর বিধান রয়েছে।
---------
⇒ The Penal Code,1860- Section 52:
- “Good faith”: Nothing is said to be done or believed in "good faith" which is done or believed without due care and attention.

৩০.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেহের আত্মরক্ষার অধিকার কখন শুরু হয় এবং কতক্ষণ বজায় থাকে, তা বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ধারা ৯৬
  2. ধারা ৯৯
  3. ধারা ১০০
  4. ধারা ১০২
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১০২-এ সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে যে, দেহ বা শরীরের আত্মরক্ষার অধিকার (right of private defence of the body) কখন শুরু হয় এবং কতক্ষণ পর্যন্ত বজায় থাকে। এই ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে:
- আত্মরক্ষার অধিকার শুরু হয় যেই মুহূর্তে দেহে আঘাতের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা সৃষ্টি হয় (যদিও অপরাধটি সম্পূর্ণ না হয়)।
- এই অধিকার যতক্ষণ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা অব্যাহত থাকে ততক্ষণ স্থায়ী হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা-১০২: দেহ বা শরীর সম্পর্কিত আত্মরক্ষার অধিকারের স্থায়িত্ব-
শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার তখনই শুরু হয়, যখন শরীরে আঘাতের আশঙ্কা যুক্তিসঙ্গতভাবে সৃষ্টি হয় এবং কোনো অপরাধের চেষ্টা বা হুমকি থেকে আসে, যদিও সেই অপরাধটি সম্পূর্ণভাবে সংঘটিত না-ও হতে পারে; এবং এই অধিকার তখন পর্যন্ত বজায় থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই আঘাতের আশঙ্কা অব্যাহত থাকে।
-------- 
⇒ The Penal Code, 1860, Section 102- Commencement and continuance of the right of private defence of the body:
The right of private defence of the body commences as soon as a reasonable apprehension of danger to the body arises from an attempt or threat to commit the offence though the offence may not have been committed; and it continues as long as such, apprehension of danger to the body continues.