পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪ টপিক: রিভিশন (পরীক্ষা ১, ২ ও ৩) [Live Class – 1 to 6]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
'ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ'-এই ধারণাটি কার?
  1. গ্রিন
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. শেফার
  4. উইলিয়াম
সঠিক উত্তর:
শেফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেফার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
• মূল্যবোধ সম্পর্কে শেফার বলেন, ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

• মূল্যবোধ সম্পর্কে সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম বলেন "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

• মূল্যবোধ সম্পর্কে ফ্রাঙ্কেল বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

• মূল্যবোধ সম্পর্কে 'সমাজবিজ্ঞানী গ্রিন এর মতে, "মূল্যবোধ হচ্ছে তুলনামূলকভাবে স্থায়ী সচেতনতা যা আবেগের সন্নিকটস্থ অবস্থা, লক্ষ্য, ধারণা অথবা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
সোফিস্টদের মতে জ্ঞান লাভের প্রধান মাধ্যম কী?
  1. ধর্মীয় গ্রন্থ
  2. ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণ
  3. জন্মগত জ্ঞান
  4. রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণ
ব্যাখ্যা

নীতি বিদ্যা ও অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- সোফিস্টরা নীতি বিদ্যাকে সর্বপ্রথম জনসম্মুখে আনেন। সোফিস্টদের মূলমন্ত্র: মানুষ সব কিছুর পরিমাপক।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

.
নীতিবিদ্যার মূল ধারা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার মূল ধারা ৪টি। এগুলো হচ্ছে: বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা। 

১। বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা:
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা। বিবর্তনবাদ নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী থেকে উচ্চ শ্রেণীর প্রাণীর বিকাশের কথা বলে। এই নীতি বিভেদ শেষপর্যন্ত ভালমন্দের বিভেদে পরিণত হয়। আচরণের ক্ষেত্রে এই এ ভাল মন্দ ধারণা এ সম্প্রসারিত হলে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে।

২। মানমূলক নীতিবিদ্যা:
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।

৩। বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা:
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা।

৪। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা:
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
জাতিসংঘ কত সালে ‘শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতিসংঘ:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

.
উপযোগবাদ অনুসারে কোনো কাজের নৈতিকতা নির্ধারিত হয় কীভাবে?
  1. কাজের উদ্দেশ্য দিয়ে
  2. ব্যক্তিগত গুণাবলী দিয়ে
  3. কাজের প্রকৃতি দিয়ে
  4. কাজের ফলাফল দিয়ে
সঠিক উত্তর:
কাজের ফলাফল দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজের ফলাফল দিয়ে
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ (Utilitarianism) অনুসারে, কোনো কাজের নৈতিকতা সম্পূর্ণরূপে তার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে, উদ্দেশ্য বা কাজের প্রকৃতির ওপর নয়।

উল্লেখ্য,
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

.
'মায়ের প্রতি সম্মান' মূল্যবোধের কোন বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ?
  1. আপেক্ষিকতা
  2. নির্দিষ্টতা
  3. সামাজিক মানদণ্ড
  4. বিভিন্নতা
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্টতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।

- সামাজিক মানদন্ড: বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।
- পরিবর্তনশীলতা: মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।
- নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
- বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।
- আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।
- সম্পর্কের সেতু: অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

.
সক্রেটিসের দর্শনের শুরু কোথা থেকে হয়?
  1. সামাজিক নিয়ম
  2. আত্মজিজ্ঞাসা
  3. বাহ্যিক আচার-ব্যবহার
  4. রাজনৈতিক নীতি
সঠিক উত্তর:
আত্মজিজ্ঞাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজিজ্ঞাসা
ব্যাখ্যা

গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে। অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।

• সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- তাঁর অন্যতম বাণী ছিল 'সদগুণই জ্ঞান'। তাঁর মতে, জ্ঞান দু'প্রকার: একটি হলো আপাত জ্ঞান এবং অপরটি প্রকৃত জ্ঞান।
- তিনি বলেন, সব মানুষের কর্তব্য হলো সত্য জ্ঞানের সন্ধান করা এবং তা তারা তখনই আয়ত্ব করতে পারবে যখন তারা নিজেদেরকে জানতে পারবে।
- জ্ঞানের মতো সদগুণও দু'প্রকার। এক ধরনের সদগুণ মতামত নির্ভর; অন্যটি সত্য নির্ভর। প্রথমটি ক্ষণস্থায়ী এবং দ্বিতীয়টি চিরস্থায়ী।
- তাঁর মতে, দর্শনের শুরু হয় আত্মজিজ্ঞাসা দিয়ে (Know thyself)। তিনি মনে করতেন 'পৃথিবীতে মানুষের চাইতে বড় কিছু নেই; আর মানুষের মাঝে আত্মার চাইতে বড় কিছু হয় না।' মানুষের কি হওয়া উচিৎ আর কোন গুণের পেছনে ধাবিত হওয়া কর্তব্য এ সব বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনায় অবতীর্ণ হতেন। সদগুণ ও উত্তম রাষ্ট্রের মাঝে যোগসূত্রতা স্থাপনে তিনি সক্ষম হন। রাষ্ট্রকে তিনি প্রকৃতিগত ও অপরিহার্য মানবিক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সুশাসন সম্পর্কিত European Economic Community নিম্নের কোনটি প্রকাশ করেছে?
  1. শ্বেতপত্র
  2. নীল পত্র
  3. সবুজ পত্র
  4. লাল পত্র
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও European Economic Community (EEC):
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য। আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

• শ্বেতপত্র: 
- শ্বেতপত্র (White Paper) হলো সরকার বা কোনো সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রামাণ্য দলিল, যা কোনো জটিল সমস্যা, নীতি বা বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে। এটি সাধারণত কোনো নতুন আইন, নীতি বা সংস্কারের পূর্বে জনমত তৈরি বা সঠিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য প্রকাশ করা হয়।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- শ্বেতপত্র রাষ্ট্রের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সুশাসনের মূল উপাদান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: i) European Economic Community ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

.
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে সুশাসনের উপাদান কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
• আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান ৫টি। এগুলো হলো: 
- জবাবদিহিতা (Accountability),
- স্বচ্ছতা (Transparency),
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই (Combating Corruption),
- অংশগ্রহণ (Participation),
- আইনি ও বিচারিক কাঠামো (Legal and Judicial Framework).

উৎস: AfDB ওয়েবসাইট। [link]

১০.
'পেশাগত মূল্যবোধ প্রতিটি পেশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য'-উক্তিটি কী নির্দেশ করে?
  1. সব পেশার মূল্যবোধ একই
  2. পেশাগত মূল্যবোধ কেবল ব্যক্তিগত বিষয়
  3. পেশাগত মূল্যবোধ পেশাভেদে ভিন্ন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ পেশাভেদে ভিন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ পেশাভেদে ভিন্ন
ব্যাখ্যা

পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ প্রতিটি পেশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
- পেশার উদ্দেশ্য ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে মূল্যবোধ পেশাগত কার্যক্রমকে স্বক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা হচ্ছে পেশাগত মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ এক পেশাকে অন্য পেশা থেকে পৃথক সত্ত্বা দান করে। যেমন: 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
কার্ল মার্কস কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. জার্মানি
  2. অস্ট্রিয়া
  3. ইংল্যান্ড
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
ব্যাখ্যা

কার্ল মার্ক্স:
- কার্ল মার্ক্স ছিলেন একজন জার্মান বিপ্লবী চিন্তাবিদ, ইতিহাসবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি মার্কসবাদ (Marxism) নামক রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তার প্রবক্তা।
- তাঁর জন্ম: ৫ মে, ১৮১৮ ট্রিয়ার, প্রুশিয়া (বর্তমান জার্মানি)।
- মৃত্যু: ১৪ মার্চ, ১৮৮৩ – লন্ডন, ইংল্যান্ড।

উল্লেখ্য,
- কার্ল মার্ক্সের মতবাদ মার্কসবাদ হিসেবে পরিচিত।
- মার্কসবাদ হলো একটি বিপ্লবী সামাজিক ও অর্থনৈতিক দর্শন যা পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিক শ্রেণির শোষণের সমালোচনা করে এবং একটি শ্রেণিহীন, রাষ্ট্রহীন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। মার্কসবাদ অনুযায়ী, পুঁজিবাদ তার নিজস্ব অন্তর্ঘাতের কারণে ধসে পড়বে। শ্রমিক শ্রেণি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করবে এবং 'সর্বহারার একনায়কত্ব' প্রতিষ্ঠা করবে, যা শেষ পর্যন্ত একটি শ্রেণিহীন সাম্যবাদী সমাজে পরিণত হবে।
- মার্কস দর্শনের মূল কথা: সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা।

• কার্ল মার্ক্সের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দ্য কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো (ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সাথে) এবং দাস ক্যাপিটাল। তার এই মতবাদ পুঁজিবাদ, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।

উৎস: Britannica.

১২.
বিশ্বব্যাংক কত সালে "Governance and Development" প্রতিবেদনে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও বিশ্বব্যাংক:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থা, যা আইনের শাসন নিশ্চিত করে এবং দেশের জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৩.
আইনের শাসন সূচক কে প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. ওয়ার্ল্ড ব্যাংক
  3. ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট
  4. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
সঠিক উত্তর:
ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন সূচক:
- আইনের শাসন সূচক (Rule of Law Index) প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজ সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (World Justice Project - WJP)।
- এই সূচকটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনের শাসনের বাস্তব প্রতিফলন, দুর্নীতি, স্বচ্ছতা এবং মৌলিক অধিকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়

এছাড়াও বিভিন্ন সূচক:
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে: UNCTAD.
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে: The Economist Intelligence Unit.
- মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে: UNDP.
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে: Reporters without Borders.
- সুখ সূচক প্রকাশ করে: Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করে: Institute of Economic and Peace (IEP).
- দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে: Transparency International.

উৎস: World Justice Project ওয়েবসাইট।

১৪.
শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা কোথা থেকে পায়?
  1. বিদ্যালয়
  2. রাষ্ট্র
  3. গণমাধ্যম
  4. পরিবার
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে। নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে। অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৫.
গোবিন্দ চন্দ্র দেব রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. Idealism and Progress
  2. Nicomachean Ethics
  3. A Manual of Ethics
  4. Critique of Judgement
সঠিক উত্তর:
Idealism and Progress
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Idealism and Progress
ব্যাখ্যা

গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ। চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য। তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- তিনি উগ্র ভাববাদ এবং উগ্র জড়বাদ উভয়কেই তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এ দুটি মতবাদই একদেশদর্শী; এদের দ্বারা মানবজীবনের কল্যাণসাধন ও প্রগতি সম্ভব নয়। তিনি তাঁর সমন্বয়ী দর্শনে বস্ত্তবাদকে অধ্যাত্মবাদে এবং অধ্যাত্মবাদকে বস্ত্তবাদে রূপান্তরিত করে এরই ভিত্তিতে একটি সার্থক জীবনদর্শন গড়ে তুলেছেন।
- তাঁর মতে, সার্থক দর্শন মাত্রই জীবনদর্শন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: Idealism and Progress.

অন্যদিকে,
- Nicomachean Ethics: অ্যারিস্টটল।
- Critique of Judgement: ইমানুয়েল কান্ট।
- A Manual of Ethics: ম্যাকেনজি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬.
আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে পার্থক্য কী?
  1. আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, নৈতিকতা মানুষের মনোজগত নিয়ন্ত্রণ করে
  2. আইন মানুষের মনোজগত নিয়ন্ত্রণ করে, নৈতিকতা বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  3. উভয়ই কেবল অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণা নিয়ন্ত্রণ করে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, নৈতিকতা মানুষের মনোজগত নিয়ন্ত্রণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, নৈতিকতা মানুষের মনোজগত নিয়ন্ত্রণ করে
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতা:
- আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয়ের আলোচ্য বিষয় মানুষের আচরণ।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিকতা মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধন করাই উভয়ের লক্ষ্য। 

• আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন। জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। নৈতিকতা বিরুদ্ধ আইন অনেক ক্ষেত্রে জনসম্মতি হারায় বরং জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে। আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) প্রথম আলো।

১৭.
সমাজে মানুষের সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, আচার-ব্যবহার ও ধ্যান-ধারণার ভিন্নতা কী নির্দেশ করে?
  1. নৈতিক অবক্ষয়
  2. রাজনৈতিক বিভাজন
  3. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বৈচিত্র্য
  4. সাংস্কৃতিক একরূপতা
সঠিক উত্তর:
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ (Cultural Values):
- যে সব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সাংস্কৃতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে। সমাজে বসবাসকারী মানুষের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-ব্যবহার, কর্মকাণ্ড ও সংগঠন থাকতে পারে। সেগুলোর প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান করতে হবে। সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংস্কৃতি চর্চায়, বাধানিষেধ আরোপ করা উচিত নয়। তবে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চর্চা, পশ্চিমা সংস্কৃতির রুচিহীন চর্চা, আকাশ-সংস্কৃতির মন্দ দিকগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৮.
নৈতিক আচরণবিধি দেশভেদে ভিন্ন কেন হয়?
  1. অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে
  2. প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে
  3. ব্যক্তিগত চাহিদার কারণে
  4. রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে
ব্যাখ্যা

নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics):
- নৈতিক আচরণবিধি বলতে বুঝায় মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে।

উল্লেখ্য,
- প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা-কর্মীদের জন্য নৈতিকতার কিছু নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করেও নৈতিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
- এটি হলো এমন কতগুলো আচরণের সমষ্টি যা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে। প্রতিষ্ঠানে এধরনের নীতিমালা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি তা মেনে চলতে বাধ্য হবে। ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর কার্যপরিবেশ বিরাজ করবে। এ সকল নিয়মনীতি এক দেশ থেকে অন্য দেশে রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য-এর বিষয়টি আলোচিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৮
  3. অনুচ্ছেদ ২১
  4. অনুচ্ছেদ ২৫
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ২১
ব্যাখ্যা

নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ২১(১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয় "সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।”
- ২১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়, "সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।”

অন্যদিকে,
- ১৭ নং অনুচ্ছেদ: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- ১৮ নং অনুচ্ছেদ: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা:
- ২৫ নং অনুচ্ছেদ: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২০.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের কয়টি উপাদানের কথা বলেছেন?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- প্রাচীন ভারতীয় অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য (চাণক্য) তাঁর 'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থে সুশাসনের জন্য ৪টি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
- এটি মূলত জনকল্যাণ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগঠনের ওপর জোর দেয়।

• কৌটিল্যের মতে সুশাসনের ৪টি উপাদান হলো:
১. আইনের শাসন (Law and Order),
২. জনকল্যাণমুখী প্রশাসন (People-caring Administration),
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিচার ও যৌক্তিকতা (Justice and Rationality as the basis of Decision),
৪. দুর্নীতিমুক্ত শাসন (Corruption-free Governance)।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

২১.
অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করা কোন মূল্যবোধের অংশ?
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২২.
ইমানুয়েল কান্টের মতে কর্মের নৈতিকতা কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে?
  1. কর্মের ফলাফলের উপর
  2. সামাজিক অনুমোদনের উপর
  3. কর্মের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর
  4. সামাজিক সম্মতির উপর
সঠিক উত্তর:
কর্মের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর
ব্যাখ্যা

কর্তব্যমুখী নৈতিকতা:
- জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজিকাল নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) এবং কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবক্তা।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান দার্শনিক, যিনি নৈতিকতা ও কর্তব্যবাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তাঁর নীতি কর্তব্যবাদ (Deontological Ethics) মূলত নৈতিকতা নির্ধারণ করে কাজের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে, ফলাফলের উপর নয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উল্লেখ্য,
- ইমানুয়েল কান্ট-এর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৩.
কোনটি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সাদৃশ্য নির্দেশ করে?
  1. উভয়ই আচরণ সংক্রান্ত ধারণা
  2. উভয়ই কেবল ব্যক্তিগত
  3. উভয়ই অপরিবর্তনীয়
  4. উভয়ই ধর্মনির্ভর
সঠিক উত্তর:
উভয়ই আচরণ সংক্রান্ত ধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়ই আচরণ সংক্রান্ত ধারণা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
- নৈতিকতা ব্যক্তির সদ গুণ বিশেষ।
- নৈতিকতা সার্বজনীন। 
- নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- নৈতিকতা ধর্ম নিরপেক্ষ। 
- নৈতিকতা এক ধরনের শক্তি ও আদর্শ। 
- নৈতিকতা ব্যক্তির বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ সামষ্টিক বিষয়। 
- মূল্যবোধ মানুষের অবশ্য পালনীয় আচরণ। 
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক। 
- মূল্যবোধ ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক উভয় আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। 
- মূল্যবোধের সাথে ধর্মের সম্পর্ক আছে। 
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার। 
- মূল্যবোধ শুধু বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
'The Conquest of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. ইমানুয়েল কান্ট 
  3. টমাস হবস 
  4. টি এইচ গ্রিন
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

Conquest of Happiness:
- 'The Conquest of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।
- এটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- বিষয়বস্তু: বার্ট্রান্ড রাসেল এই বইতে আধুনিক মানুষের অসুখের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন এবং একটি সুখী জীবনের জন্য যুক্তিভিত্তিক পথ দেখিয়েছেন, যেমন নিজের বাইরের আগ্রহ তৈরি করা এবং নিষ্ক্রিয় আনন্দের বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকা। 

• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, প্রভূত গ্রন্থ ও প্রবন্ধের রচয়িতা, শান্তিবাদী ‘অ্যাকটিভিস্ট’, গণবক্তা, গণবুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্ব পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বিশ্লেষণী দর্শনের একজন প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর দর্শন, গণিত, যুক্তি, সেট তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানতত্ত্ব ও অধিবিদ্যায় মৌলিক অবদান রেখেছে।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বিশ্ব সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৫.
ব্যক্তির আচার-আচরণের মাধ্যমে মূল্যবোধের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটে তা মূল্যবোধের কোন উপাদানের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মানবিকতা
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. নীতিবোধ
  4. সৌজন্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। 

• মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।
- শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।
- সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
 - মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
- শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।