পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes২৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ পরীক্ষার টপিক: ১. বাক্য সঙ্কোচন ও এক কথায় প্রকাশ, ২. প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, ৩. বাচ্য, ৪. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টপিক। উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
'শুভ ক্ষণে জন্ম যার' এক কথায় কী বলে?
  1. ক্ষণপ্রভা
  2. ক্ষণজন্মা
  3. ক্ষণদ্যুতি
  4. ক্ষণদা
ব্যাখ্যা

• 'শুভ ক্ষণে জন্ম যার' এক কথায় বলে- ক্ষণজন্মা।

অন্যদিকে, 
• 'ক্ষণপ্রভা' শব্দের অর্থ- বিদ্যুৎ, দামিনী।
• 'ক্ষণদা' শব্দের অর্থ- রাত্রি, নিশি, শর্বরী, যামিনী।
• 'ক্ষণদ্যুতি' শব্দের অর্থ- বিজলি, বিদ্যুৎ, ক্ষণপ্রভা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

.
'দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।' বাক্যটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বানানের অশুদ্ধি 
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ 
  3. বাহুল্য দোষ
  4. গুরুচণ্ডালী দোষ 
ব্যাখ্যা

•  বাহুল্য দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারায়।
যেমন:
অশুদ্ধ বাক্য: দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
শুদ্ধ বাক্য হবে: 'দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন' অথবা 'দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন'।

বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচনবাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন বাচ্যের ক্রিয়াপদ সর্বদা কর্তার অনুসারী হয়?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার: (১) কর্তৃবাচ্য (২) কর্মবাচ্য ও (৩) ভাববাচ্য।

• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে। যেমন- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
১. কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
২. কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা-
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

• কর্মবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
১. কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা- 
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
২. কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে। যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় যষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

৩. মূল ক্লিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

.
'বুভুক্ষা' এর সম্প্রসারিত রূপ কোনটি?
  1. বলবার ইচ্ছা
  2. বলা হয়েছে যা
  3. ভোজন করার ইচ্ছা
  4. বলা হবে যা
ব্যাখ্যা

• 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বুভুক্ষা।

অন্যদিকে,
• 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা।
• 'বলা হয়েছে যা' এর এক কথায় প্রকাশ - উক্ত।
• 'বলা হবে যা' এর এক কথায় প্রকাশ - বক্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. রোগী পথ্য সেবন করে।
  2. এ পথে চলা যায় না।
  3. এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
  4. আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।- কর্মবাচ্যের উদাহরণ। 

-----------------
• কর্তৃবাচ্য: 

যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে। যেমন- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
১. কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
২. কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। 
যথা- 
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। 
- রোগী পথ্য সেবন করে।

• কর্মবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
১. কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়। 
যথা-  
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়। 
- চোরটা ধরা পড়েছে।
২. কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে। যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

• ভাববাচ্য: 
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় যষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। 
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

৩. মূল ক্লিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ষ্টেশন
  2. ভবিষ্যৎ
  3. অভিষেক
  4. সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে না।
যেমন:
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, স্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

অন্যদিকে,
ভবিষ্যৎ, অভিষেক ও সুষুপ্ত শব্দগুলোতে 'ষ' এর ব্যবহার শুদ্ধ।

--------------------
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে য-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. শিঞ্জন
  2. ঝংকার
  3. টঙ্কার
  4. ঝংকারা
ব্যাখ্যা

 • 'বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- ঝংকার। 

অন্যদিকে, 
- গুঞ্জন করা, গুনগুন ধ্বনি করা - ঝংকারা। 
- 'ধনুকের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- টঙ্কার। 
- 'অলঙ্কারের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- শিঞ্জন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।' বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বিশেষ্যের অপপ্রয়োগ
  2. বানানের অপপ্রয়োগ
  3. উপমার অপপ্রয়োগ
  4. বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহু বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে প্রশান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ। 

.
ভাববাচ্যের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
  2. এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
  3. শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
  4. কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

----------------
• ভাববাচ্য: 

যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় যষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের কিয়া)
(গ) তোমার যারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম যারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১০.
'লাফিয়ে চলে যে' এক কথায় বলে- 
  1. পন্নগ
  2. প্রবচর
  3. প্লবতা
  4. প্লবগ
ব্যাখ্যা

• 'লাফিয়ে চলে যে' এক কথায় প্রকাশ - প্লবগ।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'পা দিয়ে যে চলেনা' এক কথায় প্রকাশ- পন্নগ।
• 'হাঁস ডাহুক প্রভৃতি উভচর পাখি' - প্রবচর।
• 'ভেসে থাকতে পারার গুণ' - প্লবতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. নিরহঙ্কার
  2. পিতৃহারা
  3. দিবারাত্রি 
  4. নিরভিমান
ব্যাখ্যা

সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'দিবারাত্রি' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ: দিবারাত্র।

কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ  - শুদ্ধ শব্দ:
নিরপরাধী - নিরপরাধ;
অহর্নিশি - অহর্নিশ;
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী- নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২.
'কাজটা ভালো দেখায় না।' বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য 
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
'পেতে ইচ্ছুক' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. ঈপ্সিত
  2. লিপ্সা
  3. ঈপ্সু
  4. ঈপ্সা
ব্যাখ্যা

• 'পেতে ইচ্ছুক' এক কথায় প্রকাশ - ঈপ্সু।

অন্যদিকে, 
• মনোগত ইচ্ছা - ঈপ্সিত।
• লাভ করা ইচ্ছা - লিপ্সা।
• পাওয়ার ইচ্ছা - ঈপ্সা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪.
'আমি প্রাতকালে প্রার্থনা করতে ভালোবাসি।'- বাক্যটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. যোগ্যতা জনিত
  2. বানান জনিত 
  3. পদক্রম জনিত
  4. বাহুল্য জনিত
ব্যাখ্যা

• 'আমি প্রাতকালে প্রার্থনা করতে ভালোবাসি।' বাক্যটিতে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
শুদ্ধ রূপ: আমি প্রাতঃকালে প্রার্থনা করতে ভালোবাসি।

 বিসর্গ সন্ধিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় না।
যেমন:
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫.
'ময়ূরের ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. কাকলি
  2. কূজন
  3. কেকা
  4. হ্রেষা
ব্যাখ্যা

• 'ময়ূরের ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ-  কেকা।

অন্যদিকে, 
- 'পাখির ডাক' এক কথায় প্রকাশ- কূজন।
-' বিহঙ্গের ধ্বনি' এক কথায় বলে- কাকলি। 
- 'ঘোড়ার ডাক' এর এক কথায় প্রকাশ- হ্রেষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬.
'শরতে শিউলি ফোটে।' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য 
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্তাবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৭.
'হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত' এক কথায় কী বলে?
  1. মণিবন্ধ
  2. প্রকোষ্ঠ
  3. পাণি
  4. করতল
ব্যাখ্যা

• হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত - প্রকোষ্ঠ।

অন্যদিকে, 
• হাতের কব্জি - মণিবন্ধ। 
• হাতের কব্জি থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত - পাণি।
• হাতের তালু - করতল।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
• হাতের প্রথম আঙুল - অঙ্গুষ্ঠ।
• 'হাতের দ্বিতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - তর্জনী।
• 'হাতের তৃতীয় আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - মধ্যমা।
• 'হাতের চতুর্থ আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ - অনামিকা। 
• 'হাতের পঞ্চম আঙুল' এর এক কথায় প্রকাশ -  কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. তোমরা কখন এলে?
  2.  আমি যাব না।
  3. তুমিই ঢাকা যাবে।
  4. তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য:
যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
-কোথায় থাকা হয়?

অন্যদিকে, 
কর্তৃবাচ্য
(ক) আমি যাব না।
(খ) তুমিই ঢাকা যাবে।
(গ) তোমরা কখন এলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯.
বহুল শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ব্যয়বহুল
  2. বিলাসবহুল
  3. বহুলপ্রয়োগ
  4. কর্মবহুল
ব্যাখ্যা

• বহুল শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে 'বহুলপ্রয়োগ' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ-  বহুল প্রয়োগ।

'বহুল' শব্দ ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো:
- বহুল প্রয়োগ,
- বহুল পরিমাণ,
- ব্যয়বহুল,
- বিলাসবহুল,
- কর্মবহুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০.
'যে নারীর স্বামীও নেই সন্তানও নেই' তাঁকে কী বলে?
  1. অনূঢ়া
  2. অবীরা
  3. নবোঢ়া
  4. ঊঢ়া
ব্যাখ্যা

• যে নারীর স্বামীও নেই সন্তানও নেই - অবীরা। 

নারী সম্পর্কিত কিছু বাক্য সংকোচন:
• যে নারীর নতুন বিয়ে হয়েছে - নবোঢ়া। 
• যে নারীর (মেয়ের) বিয়ে হয়নি - অনূঢ়া/কুমারী।
• যে নারীর বিয়ে হয়েছে - ঊঢ়া।
• যে নারী বীর - বীরাঙ্গনা।
• যে নারীর হিংসা নেই - অনসূয়া। 
• যে নারীর হাসি সুন্দর - সুহাসিনী। 
• যে নারীর হাসি পবিত্র - শুচিস্মিতা। 
• যে নারী কখনো সূর্যকে দেখে নাই -  অসূর্যম্পশ্যা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২১.
কর্তৃবাচ্যে কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. দ্বিতীয়া
  2. ষষ্ঠী
  3. প্রথমা
  4. পঞ্চমী 
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।

- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২২.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. তিরস্কার
  2. পুরস্কার
  3. নমস্কার
  4. বহিস্কার
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ: বহিস্কার। 
শুদ্ধ: বহিষ্কার

---------------
বানানের নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার= বহিষ্কার)।

তবে স্ক/ স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায়: অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প/ স্ত/ স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ /নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৩.
'নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার' এক কথায় বলে- 
  1. অস্থায়ী
  2. ক্ষণস্থায়ী
  3. নশ্বর
  4. অবিনশ্বর
ব্যাখ্যা

• 'নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার' এক কথায় বলে- নশ্বর।

অন্যদিকে, 
- 'যা স্থায়ী নয়' এক কথায় বলে-  অস্থায়ী।
- 'ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী' এক কথায় বলে-  ক্ষণস্থায়ী। 
- 'নষ্ট হয় না' এক কথায় বলে-  অবিনশ্বর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৪.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
  2. চিঠিটা পড়া হয়েছে।
  3. হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
  4. একটি গান কর।
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
- হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
- একটি গান কর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. বর্ণনা
  2. ব্যাকরণ
  3. ত্রিনয়ণ 
  4. কঙ্কণ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ- ত্রিনয়ণ।  

-----------------
ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার
রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৬.
'যা বলা হচ্ছে' এক কথায় কী বলে?
  1. বক্ষ্যমাণ
  2. বক্তব্য
  3. উক্ত
  4. কথ্য
ব্যাখ্যা

• 'যা বলা হচ্ছে' এক কথায় বলে-  বক্ষ্যমাণ।

অন্যদিকে, 
• 'যা বলা হবে' এক কথায় বলে - বক্তব্য।
• 'যা বলা হয়েছে' এক কথায় বলে - উক্ত।
• লিখিত নয় এমন,  কথনযোগ্য - কথ্য। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৭.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. একতা
  2. কৃপণতা
  3. দীনতা
  4. আলস্যতা
ব্যাখ্যা

• 'আলস্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: আলস্য, অলসতা।

• বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অধৈর্যতা-  অধৈর্য, ধীরতা। 
আলস্যতা-  আলস্য, অলসতা।
ঐক্যতা-  ঐক্য, একতা। 
দৈন্যতা-  দৈন্য, দীনতা। 
কার্পণ্যতা-  কার্পন্য, কৃপণতা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
কর্তৃবাচ্যকে ভাববাচ্য রূপান্তরের সময় বাক্যের ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. নাম পুরুষ
  3. মধ্যম পুরুষ
  4. শূন্য পুরুষ
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
(১) কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং (২) ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
কর্তৃবাচ্য - ভাববাচ্য:
(ক) আমি যাব না। - আমার যাওয়া হবে না।
(খ) তুমিই ঢাকা যাবে। -  তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
(গ) তোমরা কখন এলে - তোমাদের কখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৯.
'উপকারীর অপকার করে এমন' এক কথায় কী বলে?
  1. কৃতজ্ঞ
  2. কৃতঘ্ন
  3. কৃতার্থ
  4. কৃততীর্থ
ব্যাখ্যা

• 'উপকারীর অপকার করে এমন' এক কথায় বলে- কৃতঘ্ন। 

অন্যদিকে, 
• উপকারীর উপকার স্বীকার করে এমন - কৃতজ্ঞ।
• তীর্থ দর্শন ও আনুষঙ্গিক আচার অনুষ্ঠান পালন করেছে এমন - কৃততীর্থ।
•  সফলকাম, সিদ্ধকাম, চরিতার্থ; ধন্য - কৃতার্থ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩০.
'তোমাকে হাঁটতে হবে।' বাক্যটির কর্তৃবাচ্যে রূপ কোনটি?
  1. এবার হাঁটতে হবে। 
  2. তোমাকে হাঁটা লাগবে।  
  3. তুমি হাঁটা লাগবে। 
  4. তুমি হাঁটবে।
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য:
নিয়ম: ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে-
(১) কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং (২) ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।
যেমন-
ভাববাচ্য - কর্তৃবাচ্য:
(ক) তোমাকে হাঁটতে হবে। - (ক) তুমি হাঁটবে।
(খ) এবার একটি গান করা হোক। - (খ) এবার (তুমি) একটি গান কর।
(গ) তার যেন আসা হয়। - (গ) সে যেন আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।