পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১০
সিলেবাস
বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। উৎস: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১০ প্রশ্ন

.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে উপমহাদেশে প্রথম বাণিজ্যিক কুঠি স্থাপন করেন?
  1. ক) ১৬০০ সালে
  2. খ) ১৬০৮ সালে
  3. গ) ১৬১৫ সালে
  4. ঘ) ১৬১২ সালে
ব্যাখ্যা
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে। এই সনদপত্র নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আশায় আকবরের দরবারে হাজির হন।
- ক্যাপ্টেন হাকিন্স ১৬০৮ সালে রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর  অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন হয়।
- পরবর্তীকালে ১৬১৫ সালে প্রথম জেমসের দূত হয়ে জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন স্যার টমাস রো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মীর জাফরকে ক্ষমতাচুত্য করেন কোন ইংরেজ গভর্নর?
  1. ক) লর্ড ক্লাইভ
  2. খ) ভান্সিটার্ট
  3. গ) রবার্ট ক্লাইভ
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন হকিন্স
ব্যাখ্যা
- পলাশির যুদ্ধের পর মীর জাফরকে নামেমাত্র নবাব করা হয়। তবে মীর জাফরের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, অতিরিক্ত অর্থ প্রদানে অক্ষমতা এবং ওলন্দাজদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
- ১৭৬০ সালে ইংরেজ গভর্নর ভান্সিটার্ট মীর জাফরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মীর কাশিমকে শর্ত সাপেক্ষে সিংহাসনে বসান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় ১৭৯৩ সালের--
  1. ক) ২৫শে মার্চ
  2. খ) ২২শে মার্চ
  3. গ) ২৭শে মার্চ
  4. ঘ) ২৩শে মার্চ
ব্যাখ্যা
• ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেয়ার পর তিনি ১৭৯৩ সালে ২২শে মার্চ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
• ঐ বছর ২২শে মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কার নেতৃত্বে ইংরেজ সৈন্য নারিকেলবাড়িয়ায় অবস্থিত বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করেন?
  1. ক) লেফটেন্যান্ট ব্রেনান
  2. খ) ক্যাপ্টেন হকিন্স
  3. গ) মেজর স্কট
  4. ঘ) স্যার টমাস রো
ব্যাখ্যা
• ইংরেজ, জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গোড়ে তোলার লক্ষে ১৮৩১ সালে তিতুমির নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা। গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।

• বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে তিতুমির শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকলে শাসক-শোষক জমিদারশ্রেণি শঙ্কিত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী প্রেরণ করে।
মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমিরের নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
যশোর অঞ্চলে নীল বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
  1. ক) বেণী মাধব
  2. খ) বৈদ্যনাথ
  3. গ) বিষ্ণুচরণ
  4. ঘ) দিগম্বর বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
• ১৭৭০-১৭৮০ সালের মধ্যে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীল চাষ শুরু হয়। নীল চাষের শুরু দিক থেকেই কৃষকদের উপরে চালানো হতো চরম অত্যাচার। শেষ পর্যন্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নীল চাষিরা ১৮৫৯ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। এসব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় নীলচাষিরাই। 
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামের দুই ভাই।
- হুগলিতে নেতৃত্ব দেয় বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. ক) মাইকেল মধুসুদন দত্ত
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। তিনি হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করতে প্রচেষ্টা চালান। তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হন্দিুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- ১৮২৮ সালে ২০শে আগস্ট তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজা রামমোহন ১৮২২ সালে কোলকাতায় ‘অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ইংলিশ, দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান পড়ানোর ব্যবস্থা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
হাজী মুহম্মদ মহসীনের আদি নিবাস কোথায়?
  1. ক) রোম
  2. খ) পারস্য
  3. গ) জর্ডান
  4. ঘ) চৈনিক
ব্যাখ্যা
- হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৭৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মুহম্মদ ফয়জুল্লাহ এবং মায়ের নাম ছিল জয়নাব খানম। তাদের আদি নিবাস ছিল পারস্যে
- দানশীলতার জন্য ইতিহাসে তিনি ‘দানবীর বা বাংলার হাতেম তাই’ নামে পরিচিত। তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর প্রভৃতি স্থানে মাদ্রাসার উন্নতি সাধনে প্রচুর অর্থ দান করেন। তিনি তাঁর সমুদয় অর্থ শিক্ষা বিস্তার চিকিৎসা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যয় করেন।
- ১৮০৬ সালে মৃত্যুর ছয় বছর পূর্বে তিনি ‘মহসীন ফান্ড’ নামক একটি ফান্ড গঠন করে তার সমস্ত সম্পত্তি জনহিতকর কাজে দান করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
‘সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ কে গঠন করেন?
  1. ক) সৈয়দ আমির আলি
  2. খ) নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. গ) হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
•  সৈয়দ আমির আলিই বাংলার তথা ভারতের প্রথম মুসলমান নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং দাবি-দাওয়ার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। এ উদ্দেশে তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় ‘সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন।

• তিনি বিশ্বাস করতেন, আধুনিক ভারতের উন্নতির জন্য হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বন্দুকের গুলি ছুড়ে সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা কে করেন?
  1. ক) বাহাদুর শাহ
  2. খ) নানা সাহেব
  3. গ) মঙ্গল পান্ডে
  4. ঘ) সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি
ব্যাখ্যা
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কতৃক শোষণ, নিপীড়ন ও সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের পেক্ষাপটে সিপাহিদের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুতই এই বিদ্রোহটি  ভারতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল ছিল।
- এই যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন নানা সাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্ণীবাঈ, আযোদ্ধার বেগম হজরত মহল, মৌলভি আহমদ উল্লাহসহ ক্ষুব্ধ বঞ্চিত দেশীয় রাজন্যবর্গ। ১৮৫৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সব আন্দোলন শেষ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
কার নেতৃত্বে ভারত-পাকিস্থান সীমান্ত নির্ধারণ কমিটি গঠন করা হয়?
  1. ক) ওয়েলেভ
  2. খ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. গ) অ্যাটলি
  4. ঘ) র‍্যাডক্লিফ
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৪৭ সালের ১৫ই জুলাই লন্ডনে কমন্স সভার এক ঘোষণায় ভারত-পাকিস্তান নামে দুইটি স্বাধীন ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। দুই দেশের সীমানা নির্ধারণের জন্য স্যার র‌্যাডক্লিফের নেতৃত্বে সীমানা ‍নির্ধারণ কমিটি গঠন করা হয়।
⇒ ৯ই আগস্ট র‌্যাডক্লিফ তাঁর সীমান্ত রোয়েদাদ সমাপ্ত করে ভাইসরয়ের কাছে জমা দেন, যা রাহস্যজনক কারণে আলোর মুখ দেখেনি।
⇒ ১৯৪৭ সালে ১৮ই জুলাই ‘ভারত স্বাধীনতা আইন’ প্রণয়ন করা হয়, যার ভিত্তিতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৪৭ সালে ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ই আগস্ট ভারত নামে দুইটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।