বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় স্বতন্ত্র শ্রেণির প্রমিত ভাষা গড়ে উঠলেও ঢাকায় তা হয়নি; এমনকি ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পরেও নয়।
বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে প্রধানত চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা:
১. উত্তরবঙ্গীয় দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনায় প্রচলিত উপভাষা;
২. রাজবংশী রংপুরের উপভাষা;
৩. পূর্ববঙ্গীয় (ক) ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, বরিশাল ও সিলেটের উপভাষা, (খ) ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার উপভাষা এবং
৪. দক্ষিণাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাকমা উপভাষা।
পশ্চিমবঙ্গের উপভাষাগুলি প্রধানত দু শ্রেণিতে বিভক্ত:
১. রাঢ়ী ও ঝাড়খন্ডী (দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ধমান ও প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধিকাংশ) এবং ২. বরেন্দ্রী ও কামরূপী (গোয়ালপাড়া থেকে পূর্ণিয়া পর্যন্ত)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
সাধারণত একটি ভাষার অনেক উপভাষা থাকে। বাংলা ভাষারও তেমনি অনেকগুলি উপভাষা আছে। উপভাষা হল সেই ভাষার আঞ্চলিক রূপ। ঝাড়খণ্ড থেকে শুরু করে কামরূপ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের কথ্য ভাষা বাংলা।
১) ঝাড়খণ্ডী উপভাষা
২) রাঢ়ী উপভাষা
৩) সমতট উপভাষা
৪) বরেন্দ্রী উপভাষা
৫) কামরূপী উপভাষা
সমতট উপভাষা আবার দুটো অংশে বিভক্ত। - ১) রাঢ়ী উপভাষার মত এই উপভাষার প্রচলনও এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। এর আবার দুটি ভাগ আছে। একটি বিশুদ্ধ সমতটী বা বঙ্গালী ভাষা। এটি ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, যশোহর অঞ্চলে প্রচলিত।
এবং ২) অন্যটি চাটিগ্রামী যা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সন্দীপ, শ্রীহট্ট, কাছাড়, ত্রিপুরা ও চাকমা অঞ্চলে প্রচলিত।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে "বরিশাল"ই সবচেয়ে যুক্তি সঙ্গত উত্তর।