পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৬ সাধারণ জ্ঞান - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক: বাংলাদেশের ইতিহাস (জনপদ ও সভ্যতা, প্রাচীন রাজবংশ, সুলতানি শাসন, নবাবী শাসন)। উৎস: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
সোমপুর বিহার কোথায় অবস্থিত?
  1. নওগাঁ
  2. বগুড়া
  3. রাজশাহী
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সোমপুর বিহার:
- অবস্থান: নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুণ্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়) এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য রাজধানী ছিল কোনটি?
  1. পাটালিপুত্র
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. বিক্রমপুর
  4. পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- তার সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে, মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সম্ভবত ২৪ বছর রাজত্ব করেন।
- জৈন সূত্র থেকে জানা যায় যে, পরপর কয়েক বছর অনাবৃষ্টির দরুন দুর্ভিক্ষ হলে চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং
- তিনি মহীশূরের শ্রাবণবেলগোলা নামক স্থানে অনশন করে জৈন রীতিতে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
       ¡¡) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পানি পথের প্রথম যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৫৫৬ সালে
  2. ১৫২৮ সালে
  3. ১৫২৬ সালে
  4. ১৫২০ সালে
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ: 
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ। 
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। 
- সম্রাট বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করেন। 
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। 
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন। 
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। 
- শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। 

উল্লেখ্য,
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল-১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ
- পক্ষ - আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল - হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল - ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল - মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রাচীন বাংলার একমাত্র স্বাধীন জনপদ কোনটি?
  1. সমতট
  2. গৌড়
  3. বরেন্দ্র
  4. বঙ্গ
ব্যাখ্যা

গৌড় রাজ্য:
- প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য গৌড় রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রাজা রামমোহন
  2. রাজা দেবজ্যোতি
  3. লক্ষণ সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
ঢাকেশ্বরী মন্দির: 
- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ঢাকেশ্বরী একটি মন্দির। 
- এই মন্দিরটি বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত। 
- ঢাকার পুরোনো ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো ঢাকার শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। 
- ধারণা করা হয়, সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন ১২শ শতাব্দীতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। 
- তবে সেই সময়কার নির্মাণশৈলীর সঙ্গে এর স্থাপত্যকলার মিল পাওয়া যায় না বলেও অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন। 
- এটি ঢাকার আদি ও প্রথম মন্দির। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
গৌড় জনপদভুক্ত বাংলাদেশের একমাত্র জেলা-
  1. ফরিদপুর
  2. পটুয়াখালী
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
গৌড় জনপদ:
- বর্তমান অবস্থান:
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর এলাকায় এটি বিস্তৃত ছিলো।

• বঙ্গ জনপদ:
- বঙ্গ জনপদ অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।

পুণ্ড্র জনপদ:
- বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।

বরেন্দ্র জনপদ:
- বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।

হরিকেল জনপদ:
- সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ ছিলো।

চন্দ্রদ্বীপ জনপদ:
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।
- এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

সমতট জনপদ:
- বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিলো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কে সুলতান মাহমুদের সভাকবি ছিলেন?
  1. মহাকবি ফেরদৌসী
  2. আলাওল
  3. বাহরাম খাঁ
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
সুলতান মাহমুদ:
- সুলতান মাহমুদ ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত। 
- মুহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের প্রায় তিনশ বছর পর গজনির সুলতান মাহমুদ ভারত অভিযান করেন। 
- গজনি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আলপ্তগীন। 
- আলপ্তগীন এর ক্রীতদাস ও জামাতা গজনীর আমির সবুক্তগীনের পুত্র ছিলেন সুলতান মাহমুদ। 
- এ রাজবংশটি ইসলামের ইতিহাসে 'গজনি রাজবংশ' নামে পরিচিত। 
- সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মাত্র ২৭ বছরে ১৭ বার ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করেন। 
- সুলতান মাহমুদের সভাকবি ছিলেন মহাকবি ফেরদৌসী। 

উল্লেখ্য, 
- ফেরদৌসীর রচিত অমর কাব্যগ্রন্থের নাম শাহনামা। 
- ফেরদৌসীকে বলা হয় প্রাচ্যের হোমার। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলার প্রাচীনতম জনপদ কোনটি?
  1. বঙ্গ জনপদ
  2. পুণ্ড্র জনপদ
  3. বরেন্দ্র জনপদ
  4. সমতট জনপদ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলো পুণ্ড্র।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থান ভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।

অপরদিকে,
বঙ্গ জনপদ:
- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিল।
- এর মধ্যে 'বঙ্গ' জনপদ ছিল অন্যতম।
- বর্তমান বরিশাল, ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নীচু জলাভূমি নিয়ে 'বঙ্গ' জনপদ গঠিত ছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী 'বঙ্গ' জনগোষ্ঠী থেকে 'বঙ্গ' নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।

বরেন্দ্র জনপদ:
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।

সমতট জনপদ:
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
দানশীলতার জন্য কাকে লাখবক্স বলা হয়?
  1. সুলতান নাসির উদ্দিন
  2. শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  3. মুহাম্মদ ঘুরী
  4. কুতুবুদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
•সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক:  
- সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক হলেন মুহাম্মদ ঘুরীর ক্রীতদাস। 
- তিনি দিল্লিতে মুসলীম শাসনের গোড়াপত্তন করেন। 
- দানশীলতার জন্য কুতুবুদ্দিন আইবেক কে লাখবক্স বলা হত। 
- তিনি তুর্কিস্থানের অধিবাসী। 
- দিল্লির প্রথম স্বাধীন সুলতান। 
- কুতুব মিনার নির্মাণ করেন। 
- উপমহাদেশের স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ও দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা। 

⇒ অপরদিকে, 
- শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ ছিলেন কুতুবুদ্দিনের জামাতা। 
- দিল্লির সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা: শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ। 
- তার উপাধি ছিল সুলতান-ই-আযম। 
- ইলতুতমিশের কন্যার নাম সুলতানা রাজিয়া। 
- দিল্লির সিংহাসনে আরোহণকারী প্রথম মুসলিম নারী সুলতানা রাজিয়া।
- সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমদ শাহ ছিলেন ইলতুৎমিশের পুত্র।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র , এইচ এস এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিল?
  1. শ্রী গুপ্ত
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  4. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
গুপ্তযুগ:
- বাংলায় গুপ্তরা শাসন করে ৩২০ থেকে ৪১৫ সাল পর্যন্ত।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গুপ্ত।
- গুপ্ত যুগ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণ যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।
- এর শ্রেষ্ঠ রাজা ছিল সমুদ্রগুপ্ত।
- তাকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন বলা হয়।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি ছিল বিক্রমাদিত্য।
- চীনা পরিব্রাজক ফাহিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় ভারতবর্ষে আসেন।
- গুপ্ত বংশ ধ্বংস হয় হুন শক্তির হাতে।
- এই সময় পণ্ডিত ছিলেন আর্যভট্ট, কালিদাস, বিষ্ণুশর্মা, বরাহমিহির।

উল্লেখ্য,
- পাল আমল ছিল বংশানুক্রমিক রাজবংশ।
- এই বংশ সবচেয়ে বেশি শাসন করেছিল।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১১.
বাংলায় ভ্রমণকারী প্রথম চৈনিক পরিব্রাজক কে?
  1. মা হুয়ান
  2. মেগাস্থিনিস
  3. হিউয়েন সাং
  4. ফা-হিয়েন
ব্যাখ্যা
পরিব্রাজক: 
- ফা-হিয়েন বাংলায় ভ্রমণকারী প্রথম চীনা পরিব্রাজক। 
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০-৪১৩খ্রি.) এর সময় বাংলায় আসেন।
- অর্থাৎ গুপ্ত যুগে বাংলায় আগমনকারী চীনা পরিব্রাজক হলে ফা-হিয়েন। 
- মা হুয়ান চীনা পরিব্রাজক। গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের সময় বাংলায় আসেন। 
- বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে যান। 
- মেগাস্থিনিস (গ্রিস) রাজকীয় দূত হিসেবে ভারতীয় রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজদরবারে দায়িত্ব পালন করেন। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
বাংলার শেষ স্বাধীন হিন্দু রাজা কে ছিলেন?
  1. হেমন্ত সেন
  2. সামন্ত সেন
  3. কেশব সেন
  4. লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
• সেন বংশ:
- সেন বংশের রাজত্ব কাল ছিল ১০৭০- ১২৩০ সাল পর্যন্ত।
- সেন রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন সামন্ত সেন।
- বাংলার সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা- হেমন্ত সেন।
- বাংলার সর্বপ্রথম একক শাসনাধীন আসে বিজয় সেনের সময়।
- সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা বিজয় সেন।
- সেন বংশের সর্বশেষ রাজা লক্ষণ সেন।
- বাংলার শেষ স্বাধীন হিন্দু রাজা লক্ষণ সেন।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসনকর্তা কেশব সেন।

উল্লেখ্য,
- লক্ষণ সেনের সময় রাজধানী ছিল নদীয়া বা নবদ্বীপ।
- লক্ষণসেনের উপাধি ছিল গৌড়েশ্বর।
- কৌলীন্য প্রথার প্রবর্তক বল্লাল সেন।
- দান সাগর ও অদ্ভুত সাগর নামে দুটি গ্রন্থ লিখেছেন বল্লাল সেন।
- দান সাগর ও অদ্ভুত সাগর নামে দুটি গ্রন্থ লিখেছেন বল্লাল সেন।
- লক্ষণ সেনের রাজসভার কবি ছিলেন জয়দেব, ধোয়ি, হলায়ুধ মিশ্র।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
১৩.
মাৎস্যন্যায় কোন শাসন আমলে দেখা দেয়?
  1. সেন শাসন আমলে
  2. পাল তাম্র শাসন আমলে
  3. গুপ্ত শাসন আমলে
  4. মোঘল শাসন আমলে
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়:
- 'মাৎস্যন্যায়' বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি 'মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
’শাহ-ই-বাঙ্গালা’ নামে উপাধি কার ছিল?
  1. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  2. গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:
- সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। 
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকে লখনৌতির শাসক হয়ে লখনৌতি, সাতগাঁও, সোনারগাঁ ও বিহার অধিকার করে সমগ্র বাংলাকে একটি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে এনে ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে অমর স্থান অধিকার করে আছেন। 
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন। 
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়। 
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।  
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন। 
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি। 
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন। 

উল্লেখ্য, 
- দুই বাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
সোনা ও রুপার পরিবর্তে তামার মুদ্রা প্রচলন করেন কে?
  1. সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ বিন তুঘলক: 
- গিয়াসউদ্দীন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- তাঁর রাজত্বকালের প্রথম তেরো বছর দেশে শান্তি বিরাজমান ছিল। 
- এ সময়ের মধ্যে মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। 
-এছাড়াও খোরাসান অভিযান, কারাচিল অভিযান, প্রতীক মুদ্রার প্রচলন, দোয়াবে কর বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। 
- সিন্ধুর বিদ্রোহ দমনকে ক্লান্ত সুলতান মৃত্যু বরণ করেন। 
- তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ পণ্ডিত ছিলেন। 
- মুহম্মদ বিন তুঘলক ভারতে প্রথম প্রতীক মুদ্রা প্রবর্তন করেন। 
- তিনি সোনা ও রুপার পরিবর্তে প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করেন। 

অন্যদিকে,
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন। 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান। তিনি রাজধানী সোনার গায়ে প্রতিষ্ঠা করেন। 
- শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, সাতগম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন। 
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা কোন দেশের নাগরিক?
  1. আফগানিস্তান
  2. তুরস্ক
  3. চীন
  4. মরক্কো
ব্যাখ্যা
• ইবনে বতুতা: 
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা। 
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ। 
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হজরত শাহজালাল মুজারদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ। 
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন। 
- এরপর তিনি ভারতে আসেন। 
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন। 
- সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন। 
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন। 
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বাংলাকে 'দোজখই- নিয়ামত পুর' অর্থাৎ প্রাচুর্য পূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭.
ভারতবর্ষে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন কে?
  1. শেরশাহ
  2. মুহম্মদ বাবর
  3. মুহম্মদ হুমায়ুন
  4. মুহম্মদ আকবর
ব্যাখ্যা
বাংলায় আফগান শাসন: 
- বাংলায় আফগান শাসন ১৫৩৮ সালে শেরখান (শেরশাহ) গৌড় জয় করে বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- আফগানরা ৩৮ বৎসর বাংলায় শাসন করে, এর মধ্যে মাত্র নয় মাস মোগল সম্রাট হুমায়ুন গৌড় অধিকার করেন। 
- শেরখান (শেরশাহ) যুদ্ধে হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসনও অধিকার করেন। 
- অতএব শেরশাহ ও তাঁর ছেলের সময়ে বাংলাদেশ দিল্লির একটি প্রদেশে পরিণত হয়। 
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহের ছেলে ইসলাম শাহের (সলীম শাহ নামেও পরিচিত) মৃত্যুর পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায় এবং সেই থেকে মোগল বিজয় পর্যন্ত স্বাধীন থাকে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
আইন-ই-আকবরই গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. আবুল ফজল
  2. ইবনে বতুতা 
  3. তানসেন
  4. কালীদাস রায়
ব্যাখ্যা
আইন-ই-আকবরী:
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড।
- আকবরনামা একটি ইতিহাস গ্রন্থ।
- সুষ্ঠু প্রশাসন প্রবর্তন ও কার্যকর করার জন্য সম্রাট আকবর যে আইন ও নীতি প্রবর্তন করেন তা আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত হয়েছে।
- আকবরনামার অংশবিশেষ হলেও আইন-ই-আকবরী এককভাবেই এক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।
- আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
- এ গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া 'আল' নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে 'বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
তাজমহল ভারতের কোন প্রদেশে অবস্থিত?
  1. পাঞ্জাব
  2. হায়দারাবাদ
  3. কলকাতা
  4. উত্তর প্রদেশ
ব্যাখ্যা
তাজমহল: 
- তাজমহলের নির্মাতা সম্রাট শাহজাহান। 
- এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত। 
- এটির অপর নাম মমতাজ মহল। 
- মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী, যিনি মমতাজ বেগম নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অপূর্ব সৌধটি নির্মাণ করেন। 
- সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যা সম্পূর্ণ হয়েছিল প্রায় ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে। 
- তাজমহলকে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর একটি আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়, যার নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। 
- এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।।
২০.
বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয় কে?
  1. মীর কাসিম
  2. নওয়াব সুজাউদ্দৌলা
  3. দ্বিতীয় শাহ আলম
  4. বর্ণিত সকলেই
ব্যাখ্যা
• বক্সারের যুদ্ধ:
- ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন বাংলার সাবেক নওয়াব মীর কাসিম, মুগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে তারা একটি সম্মিলিত মিত্রশক্তি গঠন করেছিলেন।
- কিন্তু ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে কোম্পানির বাহিনী তাদের পরাজিত করে।
- এই যুদ্ধে মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন, শাহ আলম ইংরেজদের শিবিরে আশ্রয় নেন এবং সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান।
- বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয়ের ফলে বাংলার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত হয় এবং
- পরবর্তীতে ১৭৬৫ সালে কোম্পানি মুগল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা-
  1. অশোক
  2. সমুদ্র গুপ্ত
  3. লক্ষণ সেন
  4. শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।
- এর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- সপ্তম শতকের শুরুতে তিনি রাজ্য গড়ে তোলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্যোগ নেন।
- তাঁর আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যা 'মাৎস্যন্যায়' নামে পরিচিত।

⇒ অপরদিকে,
- ধর্মপাল: পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।
- রামপাল: পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক।
- লক্ষণসেন: সেন বংশের সর্বশেষ রাজা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।