পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: ১. বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ; ২. বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৩. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
উইলিয়াম কেরির 'কথোপকথন' দ্বিভাষিক গ্রন্থটি কোন কোন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. সংস্কৃত ও ফারসি
  2. বাংলা ও ইংরেজি 
  3. ইংরেজি ও সংস্কৃত 
  4. বাংলা ও সংস্কৃত 
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও ইংরেজি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও ইংরেজি 
ব্যাখ্যা

• 'কথোপকথন' গ্রন্থ:
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।

- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা- শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।

- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।

- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক– এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

.
বিখ্যাত 'নিতাই' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত 'নিতাই' চরিত্রের স্রষ্টা- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 

• 'কবি' উপন্যাস:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

------------------------
•  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় কত সালে?
  1. ১৭৯৫ সালে
  2. ১৭৯৮ সালে
  3. ১৮৯৫ সালে
  4. ১৮৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা নাটকের বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে। হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন। তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।

- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

.
'কিরণময়ী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. দেনা পাওনা
  2. চরিত্রহীন
  3. পথের দাবী
  4. গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

• 'দেনা পাওনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে। কাহিনির নায়ক, জীবনানন্দ। এই নাটক 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়।

-------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
হরচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক কোনটি?
  1. মালতীমাধব
  2. রত্নাবলী 
  3. ভানুমতী চিত্তবিলাস
  4. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
সঠিক উত্তর:
ভানুমতী চিত্তবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভানুমতী চিত্তবিলাস
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য। তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) ও 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' ও 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। বেণীসংহার (১৮৫৬), রত্নাবলী (১৮৫৮), অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও মালতীমাধব (১৮৬৭)-এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বত্রিশ সিংহাসন
  2. রাজাবলি
  3. হিতোপদেশ
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থ:
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে।
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত।
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃতরীতির প্রয়োগ দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

----------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি একদিকে যেমন সাধু ভাষার আদি লেখক, অপরদিকে তিনি তেমনি চলিত ভাষারও আদর্শ লেখক।’

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- রাজাবলি (১৮০৮),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

.
কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ প্রথম বাংলা নাটক কোনটি?
  1. কাল্পনিক সংবদল
  2. ভানুমতি চিত্ত বিলাস
  3. কিঞ্চিৎ জলযোগ
  4. কলীনকল সর্বস্ব
সঠিক উত্তর:
কাল্পনিক সংবদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাল্পনিক সংবদল
ব্যাখ্যা

• নাটকের উৎপত্তি:
- ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক “কাল্পনিক সংবদল'।
- এটি কোন মৌলিক নাটক নয়, অনুবাদ নাটক। রুশদেশীয় যুবক গেরাসিম স্তেপানভিচ্‌ লেবেদেফ ইংরেজি নাটক "দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে লেখেন “কাল্পনিক সংবদল'।
- এ সময় লেবেদেফ “লাভ ইজ দ্য বেস্ট ডক্টর' নামে আরও একটি কৌতুক নাটক অনুবাদ করেন। এ নাটকটিও কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। নাটকদ্বয় বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেদেফ পন্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন। 
- ১৭৯৫ সালে রুশীয় যুবক লেবেদেফের এই সাহসী উদ্যমের পর ধীরে ধীরে বাংলা নাটক বিকশিত হতে আরম্ভ করে।

অন্যদিকে, 
• হরচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক 'ভানুমতি চিত্ত বিলাস' (১৮৫৩)। 
• জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক 'কিঞ্চিৎ জলযোগ'। 
• রামনারায়ন তর্করত রচিত নাটক 'কলীনকল সর্বস্ব' নাটক

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
অতীন ও এলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গোরা
  2. চার-অধ্যায়
  3. চতুরঙ্গ
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'চার-অধ্যায়' উপন্যাস:
- ‘চার-অধ্যায়’ (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার-অধ্যায়’ উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার-অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রবিবার’ গল্পের সম্পর্ক আছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- চতুরঙ্গ,
- চার-অধ্যায়,
- ঘরে-বাইরে।

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাসের চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র: শচীশ ,দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
• নায়িকা কুমু্দনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ 'যোগাযোগ' উপন্যাসের কেন্দ্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'ইতিহাসমালা' গ্রন্থটি প্রকাশ করেন-
  1. তারিণীচরণ মিত্র 
  2. রামরাম বসু 
  3. উইলিয়াম কেরি 
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি 
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা' গ্রন্থ:
- প্রায় দেড়'শ ইতিহাসাশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে 'ইতিহাসমালা' নামক অন্য একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য।

- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান। এতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য উভয় উৎস থেকে গল্প সংগৃহীত হয়েছিল।

- হিতোপদেশ', ‘পঞ্চতন্ত্র' প্রভৃতি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থের গল্প থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত আধুনিক ধনপতি- খুল্লনা-লহনা, রূপ সনাতন গোস্বামির কথা এতে স্থান পেয়েছে। অনুবাদে যে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাঞ্জলতা সঞ্চারিত হতে পারে ইতিহাসমালা তার বিশিষ্ট নিদর্শন। সুষম ও প্রাঞ্জল রচনারীতির জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে তা শ্রেষ্ঠস্থানের অধিকারী। এই গ্রন্থের ভাষা ছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রাথমিক যুগের ভাষা অপেক্ষা অনেক উন্নত এবং গদ্য রচনার একটা স্টাইলও এতে পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১০.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস রচয়িতা হিসেবে গদ্যচর্চার নতুন পথসন্ধান দিয়েছিলেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ 
  2. মীর মশাররফ হোসেন 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• গদ্য রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পাঠ্যপুস্তক ও তর্ক-বিতর্কের বাহন হিসেবে প্রচলিত যে গদ্য বিদ্যাসাগরের চর্চায় শিল্প মাধ্যমের স্তরে উন্নীত হয়েছিল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর (১৮৩৮-৯৪) সাধনায় সে গদ্য শিল্পিত উপন্যাসের ধারক হয়ে উঠল। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্কিমচন্দ্র রচিত গদ্যে, যুগপৎভাবে উপন্যাস ও অন্যান্য গদ্যরচনায় বাংলা গদ্যের গভীরতা, ব্যাপ্তি ও ঐশ্বর্য সুপ্রমাণিত হল।

- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'র রচয়িতা হিসেবে বঙ্কিম গদ্যচর্চার নতুন যে পথসন্ধান দিলেন, তাকে অনুসরণ করেই সৃষ্টিশীল গদ্যসাহিত্য উত্তরকালে বিকশিত হয়েছে। 

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে (উপন্যাস):
- দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫),
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬),
- বিষবৃক্ষ (১৮৭৩),
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮),
- রাজসিংহ (১৮৮২),
- আনন্দমঠ ((১৮৮৪)। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
বিষয় অনুসারে নাটককে কয় ভাগে বিভক্ত করা যায়? 
  1. দুই 
  2. চার 
  3. পাঁচ 
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
চার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার 
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন মাপকাঠির আলোকে নাটককে নানাভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়। বিষয় অনুসারে আমরা নাটককে প্রধান চারটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি। এই বিভাগগুলো নিম্নরূপ—
১. পৌরাণিক নাটক, 
২. ঐতিহাসিক নাটক, 
৩. সামাজিক নাটক, 
৪. চরিতমূলক নাটক। 

• পৌরাণিক নাটক:
পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে কেন্দ্র করে যখন কোন নাটক রচিত হয়, তখন তাকে পৌরাণিক নাটক বলে। রামায়ন, মহাভারত, ভাগবত পুরাণ বা অন্য কোন ধর্মমূলক কাহিনী অবলম্বনে পৌরাণিক নাটক লিখিত হয়। পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে সমকালীন জীবন ও চিন্তার সঙ্গে একাত্ম করার মধ্যেই এ ধরনের নাটকের সার্থকতা নিহিত। Byron এর The Four P'S গিরিশচন্দ্রের ‘জনা’, অমৃতলালের ‘হরিশচন্দ্র', দ্বিজেন্দ্রলালের ‘সীতা, মম্মথ রায়ের 'কারাগার ইত্যাদি পৌরাণিক নাটকের উদাহরণ।

• ঐতিহাসিক নাটক:
অতীতের কোন ঘটনা বা ইতিহাসের কোন চরিত্র অবলম্বনে যখন নাটক লিখিত হয়, তাকে ঐতিহাসিক নাটক বলে। এ ধরনের নাটকে নাট্যকারকে ঐতিহাসিক সত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হয়, তবে নাটকের প্রয়োজনে তিনি একাধিক কল্পিত চরিত্র বা ঘটনার অবতারণা করতে পারেন। ঐতিহাসিক ঘটনাকে বর্তমানের মানবভাগ্যের সঙ্গে একাত্মকরে নেওয়ার মধ্যেই এ জাতীয় নাটকের সার্থকতা নিহিত। শেক্সপীয়রের Henry IV দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’, শচীন সেনগুপ্তের 'সিরাজউদ্দৌলা', সিকান্দার আবু জাফরের ‘সিরাজ-উ-দ্দৌলা' প্রভৃতি ঐতিহাসিক নাটকের উদাহরণ।

• সামাজিক নাটক: 
সমাজের কোন সমস্যা নিয়ে রচিত নাটককে সামাজিক নাটক বলা হয়। সামাজিক নাটকে সমাজের মৌল প্রবণতা এবং নানা অনুষদের প্রতি নাট্যকারকে সতর্ক থাকতে হয়। এ ধরনের নাটকে সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দেখা দেয়- পরিণতিতে অশুভ পতন দেখানো হয়। বার্নার্ড শ'র Heart-break House দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ, নুরুল মোমেনের ‘রূপান্তর' প্রভৃতি সামাজিক নাটকের উদাহরণ।

• চরিতমূলক নাটক:
বিশেষ কোন ব্যক্তিত্বের চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখা হয় চরিতমূলক নাটক। চরিত্রমূলক নাটকে যে ব্যক্তিত্বের জীবন নিয়ে নাটক লেখা হয়, নাট্যকার তার জীবনের বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কিছু কল্পনারও আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তবে এ ব্যাপারে নাট্যকারকে খুবই সচেতন থাকতে হয়, যেন কল্পনার অংশটুকু বিশেষ ব্যক্তিত্বকে বিবর্ণ না করে। বনফুলের ‘শ্রীমধুসূদন' ও 'বিদ্যাসাগর’, মহেন্দ্র গুপ্তের ‘মাইকেল' প্রভৃতি চরিতমূলক নাটকের উদাহরণ।

উল্লেখ্য, 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এর বই অনুসারে নাটক বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. পৌরাণিক নাটক, ২. ঐতিহাসিক নাটক,  ৩. সামাজিক নাটক। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
রামমোহন রায় কর্তৃক রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বেদান্তগ্রন্থ
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. লিপিমালা 
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'বেদান্তগ্রন্থ': 
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা। বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

----------------------
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেন।

অন্যদিকে, 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।
• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ- লিপিমালা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩.
বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. রাজসিংহ
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্রসমূহ:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- 'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- 'রাজসিংহ' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউনিসা, উদিপুরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৪.
রামনারায়ণ তর্করত্নের অভিনয় সাফল্য নাটক কোনটি?
  1. বেণীসংহার
  2. রত্নাবলী
  3. কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. মালতীমাধব
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা

• রামনারায়ণ তর্করত্ন ও 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
বাংলা নাটকের ইতিহাসে অস্থিরচিত্ততা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য নাটক সৃষ্টি হয় রামনারায়ণ তর্করত্নের (১৮২২-৮৬) হাতে। নাট্যকার হিসেবে তাঁর প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্বের' (১৮৫৪) অভিনয় সাফল্য। 

এই নাটকটি নাট্যকর্মের বিবিধ বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণ অনুসারী না হলেও তা তৎকালীন বাংলা নাটকের মধ্যে বৈচিত্র্যের পরিচায়ক বলে যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেছিল। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নামে নাটক রচনার জন্য পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে রংপুরের কুত্তী পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী যে প্রতিযোগিতা আহ্বান করেছিলেন তাতে বিজয়ী হয়ে রামনারায়ণ সে পুরস্কার লাভ করেন। এতে দেখা যায় রামনারায়ণের নাটক রচনা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না এবং নাটকের বিষয় ও নাম পর-নির্দেশিত ছিল। তবে নাটকটির বিষয়ের প্রতি সমগ্র জাতির কৌতূহলই রামনারায়ণকে জনপ্রিয়তা দান করেছিল। এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। কৌলিন্য প্রথার দোষ নির্দেশক এই নাটকটিতে মূলকাহিনির শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। তাতে কতকগুলো কৌতুকপূর্ণ দৃশ্য সংযোজিত হয়েছে মাত্র। একান্ত বাস্তব সামাজিক জীবনের ঘটনা অবলম্বন করাতেই এই নাটকটির বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী। নাটকটির অন্য একটি বৈশিষ্ট্য এর টাইপ চরিত্রের প্রাধান্য। অনৃতাচার্য, অধর্মরুচি, বিবাহবণিক, উদারপরায়ণ, বিবাহবাতুল, অভব্যচন্দ্র এই সব নাম একদিকে যেমন ব্যঙ্গরসাত্মক, অন্যদিকে তাৎপর্যবাহী। হাস্যরসের আধিক্যের জন্য কোন কোন চরিত্র অবাস্তবতায় পরিপূর্ণ। 

অন্যদিকে, 
------------------------
সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন, এগুলো হলো-
- বেণীসংহার (১৮৫৬),
- রত্নাবলী (১৮৫৮),
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও
- মালতীমাধব (১৮৬৭)- এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৫.
'কীর্তিবিলাস' কোন ধরনের নাটক?
  1. মধুরান্তিক
  2. পৌরাণিক
  3. হাস্যরসাত্মক
  4. বিয়োগান্তক
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্তক
ব্যাখ্যা

• 'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত। বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬.
'ফেলুদা' কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আবু ইসহাক 
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
সত্যজিৎ রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়।

• ফেলুদা সিরিজ:
- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।

- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

অন্যদিকে,
- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হলো গোয়েন্দা চরিত্র সত্যান্বেষী- ব্যোমকেশ বক্সী।
- 'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।

উৎস: 'ফেলুদা সিরিজ' এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৭.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. মহাশ্মশান 
  2. পদ্মাবতী
  3. বসন্তকুমারী
  4. রত্নাবতী 
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

• 'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।

- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।

- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'রত্মাবতী' গদ্যগ্রন্থ/উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৮.
'জয়গুন' কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. হাজার বছর ধরে 
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. লালসালু 
  4. আর কতদিন 
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
--------------------
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার-
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র 
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও নাটক:
- বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত  (১৮২৪-৭৩) সগৌরব আবির্ভাব ঘটেছিল নাট্যরচনার সূত্র ধরে। নাটকের দীনহীন অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তিনি নাটক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর বিশ্বয়কর প্রতিভা বৈচিত্র্যমুখী হয়ে ওঠে।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্থান সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রথম নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা নাটকে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয়। এই নাটকের পূর্বেকার বাংলা নাটকে কৌতুকরসের বাহুল্য, রচনার গুরুভার ইত্যাদি ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। মধুসূদন পূর্ববর্তী প্রভাব কাটিয়ে বাংলা নাটককে উদ্দেশ্যহীন গতি থেকে মুক্তি দিয়ে কাহিনিবিন্যাস, ঘটনার সংস্থাপনা এবং কৌতুক-রসের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে এক নতুন জীবনদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

- সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি, কাহিনিতে নিরবচ্ছিন্ন গতি, নাট্যরীতিতে পাশ্চাত্য আদর্শ গ্রহণ ইত্যাদির ফলে বাংলা নাটক তাঁর হাতেই ভাবীকালের পথের সন্ধান পেয়ে সার্থকতর সৃষ্টির পর্যায়ে উন্নীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২০.
সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. হিতোপদেশ
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. লিপিমালা 
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র ও লিপিমালা  রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২১.
'কপিলা' কোন ঔপন্যাসিকের সৃষ্ট চরিত্র?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান 
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

২২.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক-
  1. নবীন তপস্বিনী
  2. নীলদর্পণ
  3. লীলাবতী
  4. জামাই বারিক
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক বেনামীতে মুদ্রিত 'নীলদর্পণ' (১৮৬০)। এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে।

- নাটকটিতে নাট্যকারের প্রত্যক্ষ স্বজাতি-প্রেম এবং বিদেশী শাসকের প্রজাপীড়নের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। নাটকটির নাম ছিল 'নীলদর্পণম নাটকম' এবং বিজ্ঞপ্তিটি ছিল: ‘নীলকর-বিষধর-দংশনকাতর-প্রজা নিকর-ক্ষেমঙ্করেণ কেনাচৎ পথিকেনাভি প্রণীতম।' নাটকে নাট্যকারের নাম ছিল না।

- অনুমান করা হয় এটি ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন এবং অনুবাদের প্রকাশক হিসেবে নাম থাকায় পাদ্রী রেভারেন্ড লং রাজদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

- নীলকরেরা কি ধরনের অত্যাচার করত সে সম্পর্কে যোগেশচন্দ্র বাগল লিখেছেন, 'নীলকর কর্তৃক টাকা দাদন দিয়ে উৎকৃষ্ট জমিতে নীল চাষে চাষীকে প্ররোচনা, আশানুরূপ ফসল না হলে পর বছর নীল উৎপাদনে তাকে বাধ্য করান, নীল চাষের জন্য দশ বছরের চুক্তি, পুরুষানুক্রমে নীলকরের আজ্ঞাবহ প্ৰজায় পরিণতি, নীলকরদের জমিদারী তালুকদারী ক্রয়, প্রজাবৃন্দদের দ্বারা বেগার খাটান, চুক্তি ভঙ্গকারী চাষিদের নীলকুঠিতে কয়েদ করে রাখা ইত্যাদি অত্যাচার ও নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে।
 
- বাস্তব চিত্র রূপায়ণের ফলে সে আমলে নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রবল আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। 

অন্যদিকে, 
• ‘নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক।
• দীনবন্ধু মিত্রের ‘লীলাবতী’ (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
• ‘জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম। 

২৩.
বাংলা গদ্যকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব কার?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গোলোকনাথ শর্মা 
  4. হরপ্রসাদ রায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
বাংলা গদ্যকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব যুগপুরুষ রাজা রামমোহন রায়-এর (১৭৭৪-১৮৩৩)। উনিশ শতকের নবজাগরণের অগ্রনায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগ ও চর্চায় বাংলা গদ্য এ সংস্কার আন্দোলনেরমাধ্যম হয়ে ওঠে ৷ সমাজ ও ধর্ম বিষয়ে প্রাণবন্ত তর্ক বিতর্কের লিখিত গদ্যরূপ বিভিন্ন পত্রিকায় ও পুস্তিকায় প্রকাশিত হয়। এ ভাবেই বাংলা গদ্য বিকাশধারার পথ খুঁজে পায়। আলোচনা “বিতর্ক ও মীমাংসা' এবং ধর্মতত্ত্বের বাহন হিসেবে বাংলা গদ্যের অমিত সম্ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামমোহন রায়।

 রামমোহন রায় রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল:
- 'বেদান্ত গ্রন্থ' (১৮১৫),
- 'বেদান্ত সার' (১৮১৫), 
- 'গোস্বামীর সহিত বিচার' (১৮১৮), 
- সহমরণ বিষয়ক, 
- প্রবর্তক নির্বর্তক সম্বাদ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৪.
বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক - 
  1. চারুমুখ চিত্তহারা 
  2. কংসবধ 
  3. ভদ্রার্জুন
  4. চক্ষুদান 
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
ব্যাখ্যা

• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে রচিত তারাচাঁদ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' কেই বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- ‘ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন' নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• কংসবধ ও চক্ষুদান রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক। 
• 'চারুমুখ চিত্তহারা' হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী অভিধায় অভিহিত করেছেন?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. রাজা রামমোহন রায় 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• বাংলা গদ্য ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান:
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্যের বাহনের মর্যাদায় উন্নীত করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর(১৮২০-৯১)। ভাব ও বিষয় অনুসারে বাক্যবিন্যাস এবং ইংরেজি ভাষার আদলে বিভিন্ন বিরাম-চিহ্নের ব্যবহার করে বাংলা গদ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও তাঁর৷

- বাংলা গদ্যের অবয়ব-নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন। গদ্যের অনুশীলন পর্যায়ে বিদ্যাসাগর সুশৃঙ্খলতা, পরিমিতিবোধ ও ধ্বনিপ্রবাহে অবিচ্ছিন্নতা সঞ্চার করে বাংলা গদ্যরীতিকে উৎকর্ষের এক উচ্চতর পরিসীমায় উন্নীত করেন। সেজন্য বাংলা গদ্যশেলার উদ্ভবের পয়তাল্লিশ বৎসর পরে লেখ ধারণ করা সত্ত্বেও তাঁকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়ে থাকে। বস্তুতপক্ষে, বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- মাইকেল মধুসূদনের মতে, 'প্রাচীন ঋষির জ্ঞান ও প্রতিভা, ইংরেজের কর্মশক্তি এবং বাঙালি মায়ের হৃদয় দিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠিত।' 
- রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অভিহিত করেছেন বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী অভিধায়। তবে বিদ্যাসাগর সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক ছিলেন না। তিনি প্রধানত অনুবাদক, পাঠ্যগ্রন্থ প্রণেতা এবং শিক্ষা-সমাজ সাহিত্য বিষয়ের প্রবন্ধকার।

তাঁর অনুদিত ও রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে: 
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), 
- শকুন্তলা (১৮৫৪),
- সীতার বনবাস (১৮৬০),
- ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯),
- বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮),
- জীবনচরিত(১৮৪৯),
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য শান্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩),
- বিদ্যাসাগর চরিত (১৮৯১) ইত্যাদি ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।