পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৭ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪৬: বিষয়: বাংলা টপিক: প্রকৃতি-প্রত্যয়, কাল ও কালের প্রয়োগ। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
ক্রিয়ার যে অংশকে বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে কী বলে?
  1. ক্রিয়ামূল
  2. মৌলিক শব্দ
  3. ক্রিয়া বিভক্তি
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
- ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

• ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:
• ধাতু বা ক্রিয়ামূল: 
- ক্রিয়ার যে অংশকে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে ক্রিয়ামূল বা ধাতু বলে।

• ক্রিয়া বিভক্তি।

যেমন
'করে' একটি ক্রিয়াপদ।
এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ +এ;
এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি।

সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'। অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
.
’সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়’ বাক্যটি কোন ধরনের বর্তমান কাল নির্দেশ করে?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে। যেমন- সে ভাত খায়। আমি বাড়ি যাই।

বর্তমান কালকে তিনভাগে ভাগ করা যায় :
ক. সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান;
খ. ঘটমান বর্তমান;
গ. পুরাঘটিত বর্তমান।

- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা-
• সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)।
• আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)।

 ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যথা-
হাসান বই পড়ছে।
নীরা গান গাইছে।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
.
'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ' কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটনার অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই  অতীত কাল। 
 
• সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
প্রদীপ নিভে গেল।
শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
বলে।
যেমন-
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
কামনা প্রকাশে:
আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।

অসম্ভব কল্পনায়:
'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।

সম্ভাবনা প্রকাশে:
তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

• ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
.
’মোড়ক’ এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মূড় + অক
  2. √মুড় + ওক
  3. √মুড় + অক
  4. √মুর + অক
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন 'পড়ুয়া' ও 'নাচুনে' কৃদন্ত পদ।

তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়।
যেমন
- √গম্+অন = গমন, √কৃ+তব্য = কর্তব্য।

• অক-প্রত্যয় যোগে সাধিত শব্দ:
√মুড় + অক = মোড়ক।
√ঝল্ + অক = ঝলক।

• অন্ত-প্রত্যয়:

বিশেষণ গঠনে 'অন্ত' প্রত্যয় হয়।
যেমন
√উড় + অন্ত = উড়ন্ত,
√ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
.
’মনীষা দৌড়াতে থাকবে’ বাক্যটি কোন ধরনের ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  2. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
  4. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কাল:
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সংঘটিত হবে, তার কালকে  ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যথা-
- আমরা মাঠে খেলতে যাব।
- শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।

• ভবিষ্যৎকালের প্রকার:

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া পরে বা অনাগত কালে সংঘটিত হবে, তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যথা-
- নিহা আসবে।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল:
- যে ক্রিয়ার কাজ ভবিষ্যতে শুরু হয়ে চলতে থাকবে, তার কালকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলা হয়।
যেমন:
সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে।
মনীষা দৌড়াতে থাকবে।

পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কালবোধক শব্দ ব্যবহার করে তা বোঝাতে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল হয়।
- আমি সোমবার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
.
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই।
  2. সদা সত্য বলবে।
  3. নীরা গান গাইছে।
  4. এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

. ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
 আদেশে অর্থে: সদা সত্য বলবে।

সম্ভাবনায় অর্থে: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।

বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।

অনুরোধ অর্থে:  কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

অন্যদিকে, 
- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল: আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)।
- ঘটমান বর্তমান কাল: নীরা গান গাইছে।
- পুরাঘটিত বর্তমান কাল: এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
.
’ক্রেতা‘ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কী?
  1. √ক্রে + তৃচ্
  2. √ক্র + তৃচ্
  3. √ক্রী + তৃঢ়
  4. √ক্রী + তৃচ্
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন:

- তৃচ্- প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।

যেমন-
√দা+তৃচ্ =√দা+তৃ = দা+তা = দাতা।
√ মা + তৃচ্ = মাতা,
√ক্রী + তৃচ্  = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
.
'কাজটি কি তুমি করেছিলে?' কোন ধরনের অতীত কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. ঘটনার অতীত
ব্যাখ্যা
অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল। 
 
• সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
প্রদীপ নিভে গেল।
শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

. নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
বলে।
যেমন-
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

•. ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

. পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: , বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
.
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ঝলক
  2. বড়াই
  3. লাজুক
  4. ঘরামি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ।
ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখনক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।

যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)। 

• কৎ ’অক’ প্রত্যয় যোগে সাধিত শব্দ:

√মুড় + অক = মোড়ক।
√ঝল্ + অক = ঝলক।

অন্যদিকে, 
---------------
• শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন:
লাজুক =  লাজ + উক;
বড়াই = বড়+আই;
ঘরামি = ঘর+আমি।

'লাজ' 'বড়' ও 'ঘর' শব্দগুলোর পরে যথাক্রমে 'উক', 'আই' ও 'আমি' (প্রত্যয়) যোগ করে নতুন শব্দ গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১০.
বর্তমান কালের অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. তুমি যাচ্ছ
  2. দরখাস্তটা পড়ুন
  3. দরখাস্তটা পড়ছে
  4. দরখাস্তটা পড়েছিলেন
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

. ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা
- আদেশে অর্থে: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায় অর্থে: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধ অর্থে:  কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:

 - আদেশ অর্থে: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
-  উপদেশ অর্থে : সত্য গোপন করো না। কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না। 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।'
- অনুরোধ অর্থে : আমার কাজটা এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা অর্থে : দরখাস্তটা পড়ুন।
 - অভিশাপ অর্থে: মর, পাপিষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১১.
'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা’ বাক্যটিতে ক্রিয়ার ভাবটি-
  1. নির্দেশক
  2. সাপেক্ষ
  3. অনুজ্ঞা
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:

 
• আদেশ অর্থে:
- কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।

• উপদেশ অর্থে :
- সত্য গোপন করো না।
- কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না।
- 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।'
- মানুষ হও;
- ভালো হও।

• অনুরোধ অর্থে:
- আমার কাজটা এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
•প্রার্থনা অর্থে :
- আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
• অভিশাপ অর্থে:
- মর, পাপিষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১২.
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়-
  1. প্রাতিপদিক
  2. সাধিত শব্দ
  3. নাম প্রকৃতি
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
 লাজুক =  লাজ + উক; 
বড়াই = বড় + আই;
ঘরামি =  ঘর + আমি।

'লাজ' 'বড়' ও 'ঘর' শব্দগুলোর পরে যথাক্রমে 'উক', 'আই' ও 'আমি' (প্রত্যয়) যোগ করে নতুন শব্দ গঠিত হয়েছে।

- 'লাজ' 'বড়' ও 'ঘর'- এ শব্দগুলোর সাথে কোনো শব্দ/বিভক্তি যুক্ত হয় নি। ।
-  বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতি ও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১৩.
’তৌহিদ বিয়ে করল’ কোন অতীত কালের উদহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
’তৌহিদ বিয়ে করল’ সাধারণ অতীত কালের উদহরণ।

অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল। 
 
সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।


এছাড়াও,
• নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
বলে।
যেমন-
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

•. ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

. পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: , বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
১৪.
’নীলিমা’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যায় কোনটি?
  1. নিল + ইমা
  2. নীল + ইমন
  3. নীৎ + ইমন
  4. নীল + ঈমা
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: 
ষ্ণ, ফি, ফ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। এ প্রত্যয় যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।


• ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে
 কুসুম + ইত = কুসুমিত,
তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত,
কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।

• ইমন্-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে
নীল + ইমন = নীলিমা।
মহৎ + ইমন = মহিমা।

• ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে
পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
ঊর্মি + ইল = ঊর্মিল
ফেন + ইল্ = ফেনিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১৫.
’ভালো হও’ বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. আদেশ
  2. অনুনয়
  3. উপদেশ
  4. অনুরোধ
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
 
• আদেশ অর্থে:
- কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।

• উপদেশ অর্থে :
- সত্য গোপন করো না।
- কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না।
- 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।'
- মানুষ হও;
- ভালো হও।

• অনুরোধ অর্থে:
- আমার কাজটা এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
•প্রার্থনা অর্থে :
- আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
• অভিশাপ অর্থে:
- মর, পাপিষ্ঠ।

• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১৬.
’গরিষ্ঠ’ এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. গুরি + ইষ্ঠ
  2. গুরু + ইষ্ঠ
  3. গূরু + ইষ্ঠ
  4. গুর + ইষ্ঠ
ব্যাখ্যা
 সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ফি, ফ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

• ইষ্ঠ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: অতিশায়নে
গুরু + ইষ্ঠ = গরিষ্ঠ,
লঘু + ইষ্ঠ = লঘিষ্ঠ।

• ইন্ (ঈ)-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: সাধারণ বিশেষণ গঠনে
জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানিন্
সুখ + ইন্ = সুখিন্।
গুণ+ইন্গু = গুণিন্
মান+ইন্ = মানিন্।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১৭.
’বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে’- বাক্যটি কোন ক্রিয়ার কালের উদহরণ?
  1. বর্তমান অনুজ্ঞা
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ব্যাখ্যা
- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।

• নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:

• স্থায়ী সত্য প্রকাশে :
চার আর তিনে সাত হয়।
 
• ঐতিহাসিক বর্তমান:
অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
 
• কাব্যের ভণিতায়:
- মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।
 
• অনিশ্চয়তা প্রকাশে:
কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।
 '
• যদি', 'যখন', 'যেন' প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগে অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়।
যেমন-
- বৃষ্টি যদি আসে, আমি বাড়ি চলে যাব।
- সকলেই যেন সভায় হাজির থাকে।
- বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।

• ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যথা-
হাসান বই পড়ছে।
নীরা গান গাইছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১৮.
’নবীন’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. নবী + ইন
  2. নব + ইন
  3. নব + ঈন
  4. নব + নীন
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
• 'নবীন' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় — নব + নীন (ঈন)।
সঠিক উত্তর- গ) নব + ঈন এবং ঘ) নব + নীন।
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: 
ষ্ণ, ফি, ফ্য, ফিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

. নীন (ঈন)- প্রত্যয়: তৎসম্পর্কিত অর্থে বিশেষণ গঠনে
সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
কুল + নীন  = কুলীন,
নব + নীন = নবীন।

• তা ও ত্ব-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: বিশেষ্য গঠনে
বন্ধু + তা = বন্ধুতা,
শত্রু + তা = শত্রুতা।
বন্ধু + ত্ব = বন্ধুত্ব,
গুরু+ত্ব = গুরুত্ব।
ঘন + ত্ব = ঘনত্ব,
মহৎ + ত্ব  = মহত্ত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।