পরীক্ষা আর্কাইভ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

পরীক্ষাসহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
[ATEO - নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ৯] বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি পরীক্ষা - ১ টপিক: ১. ভৌত বিজ্ঞানের (পদার্থ ও রসায়ন) মৌলিক বিষয়সমূহ উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে কী বলে?
  1. ভর সংখ্যা
  2. নিউট্রন সংখ্যা
  3. নিউক্লিয়ন সংখ্যা
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
- পারমাণবিক সংখ্যাকে 'Z' অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- যেমন: সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11 টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11.
- তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হলো, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশি?
  1. বেগ
  2. ত্বরণ
  3. মন্দন
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
• দিকের বিবেচনায় রাশিকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: সদিক রাশি বা ভেক্টর রাশি এবং নির্দিক রাশি বা স্কেলার রাশি।

ভেক্টর রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়, তাদের ভেক্টর রাশি বলে।
- যেমন: সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি।
- শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়।
- দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে।
- ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।

স্কেলার রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
- যেমন: দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি।
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফল সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোনটি পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা?
  1. আলফা কণিকা
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রিনো
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
পরমাণু ও পরমাণুর মূল কণিকা:

• মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে।
• প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। যেমন: H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়।
- যে সকল ক্ষুদ্র কণা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলে।
- পরমাণুর মূল কণিকা তিন প্রকার। যথা: 

১. স্থায়ী মূল কণিকা: যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

২. অস্থায়ী মূল কণিকা: যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়।

৩. কম্পোজিট কণিকা: স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
.
অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটার কারণ-
  1. আহ্নিক গতি
  2. বার্ষিক গতি
  3. অক্ষাংশ ক্রিয়া
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ: অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারই অভিকর্ষজ ত্বরণ।
- একে (g) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- এর একক ms-2 ,

• বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান:
- ভূ-পৃষ্ঠ: 9.8 ms-2,
- পৃথিবীর কেন্দ্রে: 0 ms-2,
- মেরু অঞ্চল: 9.832 ms-2,
- বিষুবীয় অঞ্চল: 9.780 ms-2
 
• মূলত ৩ টি কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে।

১. উচ্চতার ক্রিয়া,
২. অক্ষাংশ ক্রিয়া বা আকৃতি ক্রিয়া,  
৩. পৃথিবীর ঘূর্ণন ক্রিয়া বা পৃথিবীর আহ্নিক গতি ক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম - দশম শ্রেণি। 
.
যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে কোনটি?
  1. বৈদ্যুতিক মোটর
  2. জেনারেটর
  3. ট্রান্সফর্মার
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
কয়েকটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র এবং কাজের ধরণ:

• বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
• ডায়নামো বা জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
• লাউড স্পিকার তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
• এমিটার - বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ করে।
• ভোল্টমিটার- বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে।
• ট্রান্সফরমার - একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি (সার্কিট) থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনিতে ফ্রিকুয়েন্সির কোন প্রকার পরিবর্তন না করে স্থানান্তর করে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি পদার্থবিজ্ঞান বই।
.
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের উদাহরণ কোনটি?
  1. একজন মাঝির নৌকা চালানো
  2. চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
  3. থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন
  4. বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।
- উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন।

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়োগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
- উদাহরণ: কোনো বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়।

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়োগ করে।
- উদাহরণ: বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
  2. নিউক্লিয়ন সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা + পারমাণবিক সংখ্যা
  4. নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
ভরসংখ্যা/ নিউক্লিয়ন সংখ্যা:

- কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ভরসংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা বলে।
- অর্থাৎ, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
- ভরসংখ্যাকে 'A' অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

ভর সংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক:

- কোনো মৌলের পরমাণুতে যদি P সংখ্যক প্রোটন এবং N সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাহলে, 
- পরমাণুটির ভরসংখ্যা (A) = প্রোটন সংখ্যা (P) + নিউট্রন সংখ্যা (N)
- যেহেতু, প্রোটন সংখ্যা (P) = পারমাণবিক সংখ্যা (Z)
- অতএব, ভরসংখ্যা (A) = পারমাণবিক সংখ্যা (Z) + নিউট্রন সংখ্যা (N)
- অর্থাৎ, A = Z + N
- বা, Z = A - N

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ
  2. একটি গাছ ও পৃথিবীর মধ্যে আকর্ষণ হলো অভিকর্ষ
  3. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণ একটি মহাকর্ষ
  4. উপরের সবকয়টি সত্য
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয় তবে এই আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল (Gravitational force) বলে অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণকে অভিকর্ষ (gravitational force) বা মাধ্যাকর্ষণ বলে।পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।

মহাকর্ষ: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণকে মহাকর্ষ বলে।

• অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
• অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
• অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
• মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
• অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।
• সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
• গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
• একটি গাছ ও পৃথিবীর মধ্যে আকর্ষণ হলো অভিকর্ষ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিউট্রনের চার্জ কত?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা ৩ টি। যথা: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

• ইলেকট্রন:
- পরমাণুর ঋণাত্মক চার্জধারী অতিপারমাণবিক কণা।
- এদের e− প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়,
- প্রকৃত ভর: 9.11×10⁻28 g বা 9.109×10⁻31 kg,
- চার্জ: −1.602×10−19 কুলম্ব, 
-  আবিষ্কারক: জে জে থমসন (১৮৯৭)। 

• প্রোটন: 
- পরমাণুর ধনাত্মক চার্জধারী কণা।
- প্রতীক: p বা H+,
- প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের প্রায় ১৮৩৬ গুণ,
- চার্জ: +1.602×10−19 কুলম্ব,
- আবিষ্কারক: রাদারফোর্ড,
- ভর: 1.672×10-24 g,

•  নিউট্রন:
- ‘নিউট্রাল’ বা ‘চার্জ নিরপেক্ষ’ শব্দ থেকে নিউট্রন শব্দের উৎপত্তি,
- আবিস্কারক: চ্যাডউইক (1932),
- এরা চার্জ নিরপেক্ষ (0),
- প্রতীক: n,
- নিউট্রনের ভর প্রোটনের চেয়ে সামান্য বেশি,
- ভর: 1.675×10⁻24 g,

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
১০.
৯৫.৬% ইথাইল অ্যালকোহল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে কী বলে?
  1. রেক্টিফাইড স্পিরিট
  2. ফরমালিন
  3. ভিনেগার
  4. ক্লোরোপিক্রিন
ব্যাখ্যা
প্রাত্যহিক জীবনে রসায়ন:

• ক্লোরোফরমের রাসায়নিক সংকেত: CHCl3 (চেতনানাশক রূপে ব্যবহৃত হয়)।
• ক্লোরোফরমের সাথে গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় কাঁদুনে গ্যাস বা ক্লোরোপিক্রিন তৈরি হয়।
• ফল পাকানোর জন্য দায়ী ইথিলিন (CH2=CH2)
• ৯৫.৬% ইথাইল অ্যালকোহল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেক্টিফাইড স্পিরিট বলে।
• ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
• পিঁপড়ার কামড়ের সময় পিঁপড়ার লালার সাথে ফরমিক এসিড বা মিথানোয়িক এসিড নিঃসৃত হয়।
• অ্যাসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে।
• পাকা কলায় এমাইল এসিটেট এস্টার থাকে।
• কঁচুতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকার কারণে কঁচু খেলে গলা চুলকায়।

 উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১১.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ট্রিটিয়ামে নিউট্রনের সংখ্যা কয়টি?  
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. কোনো নিউট্রন নেই
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ:

- যেসকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয় তাদের প্রত্যেককে একে অপরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অর্থাৎ একই মৌলের যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যেমন: হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ আছে।
- প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম, এবং ট্রিটিয়াম পরস্পরের আইসোটোপ। কারণ এদের প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন।
- প্রোটিয়াম আইসোটোপে কোনো নিউট্রন নেই, কিন্তু একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন রয়েছে। 
- ডিউটেরিয়াম আইসোটোপে ১ টি প্রোটন ও ১ টি নিউট্রন রয়েছে।
- ট্রিটিয়াম আইসোটোপে ২ টি নিউট্রন রয়েছে।


উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
১২.
কোনটি তরল ধাতু হিসেবে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. পারদ
  4. ওসমিয়াম
ব্যাখ্যা
কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

• পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
• সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম।
• সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
• সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
• উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
• লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
• লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
• সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
• সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।
• পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে সোডিয়াম (Na) ধাতুকে ব্যবহার করা হয়।
• ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি থাকে অ্যালুমিনিয়াম (Al) ধাতু (ভূত্বকের প্রায় ৭%)।
• কাস্ট আয়রন/ ঢালাই লোহা: এটি সবচেয়ে অবিশুদ্ধ লোহা, এতে প্রায় ২-৪.৫% কার্বন থাকে।
• ইস্পাত বা স্টিল: এতে লোহার সাথে ০.১৫- ১.৫% কার্বন থাকে।
• অ্যান্টমনি ধাতুকে আঘাত করলে শব্দ হয় না।
• মুদ্রা ধাতু: তামা বা কপার, সিল্ভার, গোল্ড ইত্যাদি।
• কালো সোনা: জিরকন, ম্যাগনেটাইট, ইলমোনাইট, কোরান্ডাম, মোনানজাইট, রিটাইল প্রভৃতির সমন্বয়ে গঠিত মূল্যবান খলিজ কালো সোনা নামে পরিচিত।
• পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী ধাতু- ওসমিয়াম (প্লাটিনাম জাতীয়)।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই ও ব্রিটানিকা।
১৩.
‘মিথাইল অরেঞ্জ’ নামক নির্দেশক এসিড দ্রবণে কি ধরনের বর্ণ নির্দেশ করে? 
  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. কমলা
  4. নীল
ব্যাখ্যা
নির্দেশক:
- যেসব রাসায়নিক পদার্থ অম্ল–ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে নিজ বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্রিয়ায় শেষবিন্দু নির্দেশ করে তাকে অম্ল ক্ষারক নির্দেশক বলে।



উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র। 
১৪.
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা কত?
  1. ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
  2. ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
  3. ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz
  4. ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার পাল্লা বা সীমা: উৎসের কম্পাঙ্ক 20Hz থেকে 20,000Hz এর মধ্য থাকলে মানুষ সে শব্দ শুনতে পায়। একে শ্রাব্যতার পাল্লা বলা হয়।

• 20Hz এর কম কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দেতর তরঙ্গ ও,
• 20,000Hz এর বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলা হয়।
• মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা-  ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz;
• কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা- ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz;
• বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা- ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz;
• ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা- ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz;
• বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা- ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৫.
নিচের কোনটি অভিজাত গ্যাস নয়?  
  1. রেডন
  2. ক্রিপ্টন
  3. জেনন
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস:

• যে সকল অন্য কোনো গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া করে না তাদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসকে অভিজাত গ্যাস ও বলা হয়।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস সাধারণত ৬টি, যথা: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন ও রেডন।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসমূহের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকে। ব্যতিক্রম হিলিয়াম। হিলিয়ামের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকে।
• সূর্যে মৌলিক পদার্থের মধ্যে হিলিয়াম (He) এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• রেডন তেজষ্ক্রিয় মৌল। বিজ্ঞানী ডর্ন ১৯০০ সালে রেডিয়ামের তেজষ্ক্রিয় বিভাজন হতে রেডন আবিষ্কার করেন।
• ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস নয়। 
 
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১৬.
নিচের কোনটি অপধাতু?
  1. হিলিয়াম
  2. সিলিকন
  3. ব্রোমিন
  4. জেনন
ব্যাখ্যা
অপধাতু বা উপধাতু:

- যে সকল মৌল ধাতু ও অধাতু উভয়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে তাদেরকে অপধাতু বলে।
- উদাহরণ: সিলিকন, আর্সেনিক, বোরন, জার্মেনিয়াম, অ্যান্টিমনি এবং টেলুরিয়াম ইত্যাদি।

• ট্রানজিস্টর ও মাইক্রোচিপস তৈরিতে সিলিকন ব্যবহৃত হয়।
• ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশলাইটে জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
• ডুবুরিদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন গ্যাসের সাথে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
• ব্রোমিন (Br) একমাত্র মৌলিক অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১৭.
কোন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

• হাইড্রোজেন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না।
• অপরদিকে অক্সিজেন আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে।
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস অগ্নি নির্বাপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
• বাতাসের নাইট্রোজেন (N2) গ্যাস মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে।

উল্লেখ্য,
• প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন পদার্থ- হীরক (কার্বনের রূপভেদ)।
• গ্রাফাইট অধাতু হলেও মুক্ত ইলেকট্রন থাকার দরুন এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
• পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহার করা হয়।
• ড্রাই আইস হলো কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড। শুষ্ক বরফ তৈরিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
• কার্বন ডাই-অক্সাইডকে অত্যাধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়।
• সমআয়তনের হাইড্রোজেন এবং কার্বন মনোক্সাইডের (CO) মিশ্রণকে ওয়াটার গ্যাস (CO+H2) বলে।
• হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডারে ৯৩% অক্সিজেন থাকে।
• সমুদ্রের পানির তুলনায় নদীর পানিতে অক্সিজেন বেশি থাকে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১৮.
প্রতি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতির কী রকম পরিবর্তন হয়?
  1. 1.0 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  2. 0.8 মিটার/ সেকেন্ড কমে
  3. 0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  4. একই থাকে
ব্যাখ্যা
শব্দ:
• শব্দ এক প্রকার শক্তি যা অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গরূপে কানে পৌঁছে শ্রবণের অনুভূতি জন্মায়।
• বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়, বস্তুর কম্পন থেমে গেলে শব্দ তরঙ্গ থেমে যায়।

শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 ( মিটার/ সেকেন্ড)। 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 

যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 

- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।