পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি [১৯১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি [১৯১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes৪৫ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
Exam 14: Topic: (part II) g. Nuruddin Jahangir-his state policy, patronization of art and painting, the influence of Nurjahan in the court; Shihabuddin Shah Jahan-his administration and architectural development-war of succession among his sons; Muhiuddin Alamgir Aurangzib-his expansion of the empirestruggle with the Marahtas and Deccan policy-his revivalist and religious policy; the weak successors of the dynasty and the forces of disintegration; the causes for the decay and downfall of the dynasty; society, learning, culture and administration in Muhgal India. Source: Class – 11, relevant books
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি [১৯১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি [১৯১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
কোন সম্রাটের আমলে মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটে?
  1. আকবরের আমলে    
  2. জাহাঙ্গীরের আমলে  
  3. শাহজাহানের আমলে
  4. আওরঙ্গজেবের আমলে
ব্যাখ্যা

⇒মুঘল সম্রাটদের মধ্যে আওরঙ্গজেব ছিলেন অন্যতম দক্ষ শাসক ও সমর নায়ক।
-দাক্ষিণাত্য বিজয়ের ফলে আওরঙ্গজেবের রাজ্যসীমা কাবুল থেকে চট্টগ্রাম এবং কাশ্মীর থেকে কাবেরী পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে।
-তাঁর সময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটে।
-তবে সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটলেও সাম্রাজ্যে বিশৃ´খলা দেখা দেয়। দাক্ষিণাত্যে মারাঠাদের উত্থান ঘটে।

.
কোন সম্রাটের সময় নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণ করে?
  1. ফাররুখসিয়ার
  2. মুহাম্মদ শাহ
  3. জাহান্দার শাহ
  4. শাহ আলম
ব্যাখ্যা

⇒পারস্যের শাসক নাদির শাহ ১৭৩৯ সালে কান্দাহার থেকে মুঘল সাম্রাজ্যে আক্রমণ করেন।
-দুর্বল শাসক মুহাম্মদ শাহ তা প্রতিহত করতে ব্যর্থর হয়ে সন্ধি করতে বাধ্য হন।
-নাদির শাহ ভারত হতে বিপুল ধনরত্ন, কোহিনূর হীরা ও ময়ুর সিংহাসন পারস্যে নিয়ে যান।  

.
জাহাঙ্গীরের রচিত আত্মজীবনীর নাম কি?
  1. জাহাঙ্গীর নামা
  2. শাহজাহান নামা
  3. তুজক-ই-জাহাঙ্গিরি
  4. বাবর নামা
ব্যাখ্যা

⇒সাহিত্য, শিল্পকলা ও চিত্রশিল্পে তাঁর যথেষ্ট অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়। সম্রাট নিজে চিত্রকর ও কবি ছিলেন।
-তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী রচনা করে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় দেন। এটি ছিল তাঁর আত্মজিবনী ।
-যেখানে সমসাময়িক মোগল ইতিহাসের অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
-সাহিত্যের উৎকষর্তার কারণে তাঁর সময়কালকে অনেকে মধ্যযুগীয় ভারতীয় সাহিত্যের ‘অগাস্টাস যুগ’ বলে অভিহিত করেন। 

.
আওরঙ্গজেব মুঘল রাজস্ব ব্যবস্থায় কোন কর পুনরায় চালু করেন?
  1. জিজিয়া কর
  2. খারাজ কর
  3. খুমস কর
  4. ফিতরা
ব্যাখ্যা

⇒আওরঙ্গজেব ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান সুন্নী মুসলমান।
-তিনি ইসলামী রাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। 
- এ জন্য তিনি রাজস্ব ব্যবস্থায় অমুসলমানদের জন্য জিজিয়া কর পুনরায় চালু করেন।
-এর ফলে ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অমুসলমান প্রজারা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার জন্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।

.
শাহজাহানের আসল নাম কী?
  1. খুররম
  2. দারা শিকোহ
  3. জালালউদ্দিন
  4. সেলিম
ব্যাখ্যা

⇒শাহজাহানের প্রকৃত নাম ছিল খুররম।
-তিনি জাহাঙ্গীরের রাজপুত পত্মী জগৎ গোসাইয়ের পুত্র। 
-আকবর ও জাহাঙ্গীরের প্রিয়পাত্র খুররম শৈশব থেকেই ছিলেন শিক্ষা ও সমরবিদ্যায় কুশলী। 
-আহমেদ নগর অভিযানে মালিক আম্বরকে পরাজিত করে তিনি তার পিতার নিকট হতে শাহজাহান উপাধি লাভ করেন। 

.
শাহজাহানের কন্যা জাহানারা কার প্রভাবে সুফিবাদের দিকে ঝুঁকেছিলেন?
  1. খাজা মুইনউদ্দিন চিশতি
  2. মুল্লা শাহ
  3. শাহ ওয়ালি উল্লাহ
  4. সেলিম চিশতি
ব্যাখ্যা

•সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্র ও দুই কন্যা ছিল।
-জ্যেষ্ঠ পুত্র দারা শিকোহ ছিলেন সম্রাটের প্রিয় এবং তিনি পিতার সাথে আগ্রাতে অবস্থান করছিলেন।
-দরবারের রাজনীতিতে বিশেষত উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বের সময় শাহজাহানের দুই কন্যার ভূমিকা লক্ষণীয়।
-জাহানারা পিতা ও জ্যেষ্ঠভ্রাতা দারার পক্ষ নেন এবং রৌশনারা আওরঙ্গজেবের পক্ষ অবলম্বন করেন। 
-জাহানারা মুল্লা শাহের প্রভাবে সুফিবাদের দিকে ঝুঁকেছিলেন।

.
তাজমহল নিমার্ণে কত বছর সময় লেগেছিলো?  
  1. ২০  বছর
  2. ২১  বছর
  3. ২২  বছর
  4. ২৩  বছর
ব্যাখ্যা

⇒সম্রাট শাহজাহানের সবর্শ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। 
-যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। 
-বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। (১৬৩২-৫৩)
-সম্রাট নিজেই ছিলেন এর পরিকল্পনাকারী। প্রধান স্থাপতি ছিলেন ইসফানদিয়ার রুমী ও মাস্টার ঈসা। 

.
বিদ্রোহের সময় কে খসরুকে সহায়তা করাছিল?
  1. গুরু নানক
  2. গুরু অর্জুন
  3. গুরু গোবিন্দ
  4. গুরু তেগ 
ব্যাখ্যা

⇒সম্রাট জাআঙ্গীরের জ্যেষ্ঠপুত্র খুসরু পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
-রাজা মান সিং, খান-ই-আজম, আজিজ কোকা খুসরুকে সমর্থন দান করেন।
-খুসরু পাঞ্জাবে পলায়ন করলে সেনাপতি দিলওয়ার খান জলন্ধরের যুেদ্ধ খুসরুকে পরাজিত ও বন্দী করেন।
-দশবছর কারারুদ্ধ থাকার পর অন্ধ খুসরু ১৬২২ খি. মৃত্যুবরণ করেন।
-শিখগুরু অর্জুন শাহজাদা খুসরুকে বিদ্রোহী অবস্থায় অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন।
-সম্রাট তার নিকট অর্থের কৈফিয়ত তলব করলে অজর্নু উদ্ব্যত্ত পক্রাশ করেন।
-সম্রাট তাকে রাজদ্রোহিতার অপরাধে মৃত্যুদন্ড পদ্রান করেন। 

.
মুমতাজ মহল কবে মারা যান?
  1. ১৬২৯ সালে
  2. ১৬৩০ সালে
  3. ১৬৩১ সালে
  4. ১৬৩২ সালে
ব্যাখ্যা

⇒সমগ্র বিশ্ব ইতিহাসে শাহজাহানের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো তাঁর প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিসৌধ আগ্রার তাজমহল।
-শিল্প সৃষ্টির দিক দিয়ে এটি বিশ্বের অন্যতম বিস্ময় বলে পরিগণিত হয়ে থাকে।
-১৬৩১ খ্রিস্টাব্দে মমতাজের মৃত্যুর পর যমুনা নদীর তীরে শাহজাহান তাঁর প্রেমকে কালজয়ী করে রাখার উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।

১০.
মুঘল বংশে মোট কতজন শাসক ছিলেন?  
  1. ১৭ জন
  2. ১৮ জন
  3. ১৯ জন 
  4. ২০ জন
ব্যাখ্যা

⇒শাসনতান্ত্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য ছিল এককেন্দিক্র রাজতান্ত্রিক শাসন।
-১৭ জন সম্রাটের মধ্যে মাত্র ৬ জন যোগ্য শাসক ছিলেন।
ব্যক্তিগত দুবর্লতাও দক্ষতার অভাবে সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিশৃংখলা রোধ করা শাসকদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।  

১১.
শাহজাহানের কোন পুত্র বাংলার সুবেদার ছিলেন?
  1. দারা শিকোহ
  2. আওরঙ্গজেব
  3. শাহ সুজা
  4. মুরাদ
ব্যাখ্যা

⇒সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্র ও দুই কন্যা ছিল। জ্যেষ্ঠ পুত্র দারা শিকোহ ছিলেন সম্রাটের প্রিয় এবং তিনি পিতার সাথে আগ্রাতে অবস্থান করছিলেন। 
-অন্য তিন পুত্রের মধ্যে সুজা বাংলায়, আওরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যে এবং মুরাদ গুজরাটের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়োজিত ছিলেন। 

১২.
সবর্শেষ মুঘল শাসক কে ছিলেন?
  1. ২য় বাহাদুর শাহ
  2.  ২য় আকবর 
  3. ২য় আলমগির
  4. ২য় শাহ আলম 
ব্যাখ্যা

⇒মুঘল বংশের সবর্শেষ শাসক ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ।
-তিনি কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
-তবে ইংরেজদের বেতনভোগী পুতুল সম্রাট ছাড়া তিনি আর কিছুই ছিলেন না।  
-১৮৫৭ সালে ইংরেজ শাসন বিরোধী সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার জন্য তাকে দায়ী করে ইংরেজরা এবং রেঙ্গুেন (ইয়াংগুন) নির্বাসন দেয়। 

১৩.
'জিন্দা পীর' নামে ডাকা হয় কোন সম্রাটকে?   
  1. বাবরকে     
  2. আকবরকে 
  3. শাহজাহানকে 
  4. আওরঙ্গজেবকে
ব্যাখ্যা

⇒রাজদরবারের মদ্যপান, সংগীত, নৃত্যকলা প্রদর্শন, ঝরোকা দর্শন, ব্যয় বহুল নওরোজ উৎসব ও বিলাসীতাকে ইসলামের পরিপন্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
-রাজ দরবারের ভোগ বিলাস পরিত্যাগ করেন।
-১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি শিয়াদের ‘মহরম' উৎসব পালন ও তাজিয়া মিছিল নিষিদ্ধ করেন।  
-এ জন্য সুন্নী মুসলমান প্রজাগণ আওরঙ্গজেবকে ‘জিন্দাপীর' বলে মনে করতেন। 

১৪.
আগ্রার প্রাসাদ থেকে যমুনার তীর পর্যন্ত ঝোলানো সোনার শিকলে কয়টি ঘন্টা ছিল? 
  1. ৫০ টি
  2. ৫৫ টি
  3. ৬০ টি
  4. ৬৫ টি
ব্যাখ্যা

⇒সিংহাসনে বসে জাহাঙ্গীর কতগুলো জনহিতকর কার্যপদ্ধতি গ্রহণ করেন।
-ন্যায়বিচারের জন্য আগ্রা দুর্গ হতে যমুনা পর্যন্ত ষাটটি ঘন্টাযুক্ত ত্রিশ গজ লম্বা একটি সোনার শিকল ঝুলিয়ে দেন।
-এর ফলে যেসব প্রজা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতো তারা শিকলে টান দিয়ে সম্রাটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারতো।
ইতিহাসে এই ঘন্টা Bell of Justice বা ন্যায়বিচারের ঘন্টা নামে পরিচিত। 

১৫.
শাহজাহানের স্ত্রী মমতাজের আসল নাম কি ছিল?
  1. আরজুমান্দ বানু 
  2. আঞ্জমান আরা
  3. জাহান আরা
  4. গুলবদন বেগম
ব্যাখ্যা

⇒সম্রাট শাহজাহানের সবর্শ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। 
-যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। 
-বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। (১৬৩২-৫৩)।
-মমতাজের আসল নাম ছিল আরজুমান্দ বানু।
-তিনি নুরজাহানের ভাই আসফ খানের কন্যা।

১৬.
মোগল প্রশাসন ব্যবস্থায় সম্রাটের পরের স্থান ছিল কার? 
  1. কাজী-উল-কুজ্জাত
  2. উজির 
  3. দিউয়ান
  4. মীর বকসী
ব্যাখ্যা

⇒মুঘল কেন্দ্রিয় শাসনের মধ্যমণি ছিলেন সম্রাট নিজে।
-তিনি ছিলেন আইনপ্রণেতা এবং সকল বিষয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কারী।
-সম্রাটের পরেই এই পদাধিকারী ব্যক্তি ছিলেন মূলত সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বা উজির। 

১৭.
আওরঙ্গজেবকে কোন উপাধিতে ডাকা হত?
  1. শাহ জাফর
  2. বাদশাহ আলমগীর
  3. শাহানশাহ
  4. বাদশাহ ই নামদার
ব্যাখ্যা

⇒সম্রাট শাহজাহানের জীবদ্দশায় সংঘটিত উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে বিজয়ী হয়ে ১৬৫৮ খিষ্টাব্দে আওরঙ্গজেব বাদশাহ আলমগীর উপাধি নিয়ে মোগল সিংহাসনে বসেন।
-তিনি ধর্মান্ধ ছিলেন না, তবে ধমর্প্রাণ ছিলেন। 

১৮.
জাহাঙ্গীর কোন শিল্পকলায় বিশেষ আগ্রহী ছিলেন?
  1. ভাস্কর্য
  2. চিত্রকলা
  3. স্থাপত্য
  4. সঙ্গীত
ব্যাখ্যা

⇒জাহাঙ্গীর শিল্প ও সাহিত্যের পরম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। শিল্পের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ।
-তিনি স্বয়ং চিত্রাঙ্কন ও চিত্র সমালোচনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন।
-আগ্রার প্রাসাদের দেওয়াল চিত্রের কতকাংশ তিনি নিজে অঙ্কন করেছিলেন।
-তাঁর শাসনামলে মুঘল চিত্রশিল্প চরম উৎকর্ষতা লাভ করে গৌরবের স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করে। 

১৯.
মোগল যুগর সমাজ ব্যবস্থা কত শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল? 
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

⇒মুঘল সমাজব্যবস্থা মূলত ৩টি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। 
-মুঘল যুগের সমাজ ছিল মূলত সামন্ততান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। 
-সমাজে সম্রাটের স্থান ছিল সর্বোচ্চ। তাঁর নিচেই অভিজাত সম্প্রদায়ের স্থান ছিল। 
-অভিজাত সম্প্রদায়ের পরেই ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর স্থান। দোকানদার, ব্যবসায়ী, বণিক, মহাজন প্রভৃতি ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণীভুক্ত। 
-সবর্শেষ স্তর ছিল নিম্ন শ্রেণি। এরা ছিল কৃষক, শ্রমিক, কারিগর, দাস ও সেবক ইত্যাদি।

২০.
কোন মুঘল শাসক জিজিয়া কর পুনঃ প্রবতর্ন করেন? 
  1. বাবর  
  2. আকবর 
  3. শাহজাহান
  4. আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

⇒১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেব দরবারে নৃত্যগীত নিষিদ্ধ করেন।
-তিনি প্রজাদের প্রায় ৮০ প্রকার কষ্টসাধ্য কর বাতিল করেন। 
-চন্দ্রমাসের বর্ষপঞ্জিও চালু করেন।  
-১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেব এক নির্দেশনামায় হিন্দু প্রজাদের ওপরে পুনরায় জিজিয়া কর স্থাপন করেন। 

২১.
পারস্যের কোন শাসক ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন?
  1. আহমদ শাহ আবদালী
  2. নাসির শাহ
  3. নাদির শাহ
  4. মোহাম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা

⇒পারস্যের শাসক নাদির শাহ ১৭৩৯ সালে কান্দাহার থেকে মুঘল সাম্রাজ্যে আক্রমণ করেন।
-দুর্বল শাসক মুহাম্মদ শাহ তা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়ে সন্ধি করতে বাধ্য হন।
-নাদির শাহ ভারত হতে বিপুল ধনরত্ন, কোহিনূর, হীরা ও ময়ুর সিংহাসন পারস্যে নিয়ে যান। 

২২.
মসলিন বস্ত্র ভারত বর্ষের কোথায় উৎপাদিত হতো? 
  1. মাদ্রাজে
  2. বাংলায়
  3. বিহারে 
  4. উড়িষ্যায় 
ব্যাখ্যা

⇒আগ্রা, লাহোর ও বাংলা বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে সুনাম লাভ করে। বণিকদের নিরাপত্তা ও সরাইখানার ব্যবস্থা করা হয়। 
-এই সময় সুতিবকাপড়, চিনি, চাল, গম ইত্যাদি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হত।
-কার্পাস, তামাক, নীল ও পশম উৎপন্ন হত।
-ঢাকার মসলিন ছিল এই সময়ে জগৎ বিখ্যাত।

২৩.
জাহাঙ্গীরের সময়ে মুঘল দরবারে কে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ছিলেন?
  1. আবুল হাসান
  2. দাসবন্ত
  3. বাসাওয়ান
  4. আবদুর সামাদ
ব্যাখ্যা

⇒চিত্রকলার প্রতি জাহাঙ্গীরের অনুরাগ ছিল। 
-তাঁর সময় হিন্দু শিল্পীদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
-জাহাঙ্গীরের সময়ে চিত্রকলার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য মুসলিম চিত্রকলায় পারসিক প্রভাব পরিহার।
-এই সময় অঙ্কনরীতি চরিত্রগতভাবে সম্পূর্ণ ভারতীয়ত্ব প্রাপ্ত হয়।
-জাহাঙ্গীরের সময়ে মুঘল দরবারে আবুল হাসান ছিলেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী।

২৪.
আওরঙ্গজেব কত বছর দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেন?  
  1. ২২ বছর
  2. ২৫ বছর 
  3. ২৭ বছর 
  4. ২৯ বছর
ব্যাখ্যা

⇒১৬৮৭ থেকে ১৭০৭ খিস্ট্রাব্দ পর্যন্ত সম্রাট আওরঙ্গজেব শম্ভজী ও অন্যান্য মারাঠা নেতার ক্ষমতা ধ্বংস সাধন করেন।
-আওরঙ্গজেব দীর্ঘ ২৫ বছর (১৬৮২-১৭০৭ খ্রি.) দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেছিলেন।
-এ সময়ে শম্ভজী পরাজিত ও নিহত হন এবং তাঁর মৃত্যুর পূর্ব  পর্যন্ত মারাঠা সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

২৫.
ধর্মীয় ব্যাপারে জাহাঙ্গীর কেমন ছিলেন?  
  1. গোঁড়া 
  2. উদার  
  3. মধ্যপন্থী 
  4. সংস্কারপন্থী
ব্যাখ্যা

⇒আকবরের মতো জাহাঙ্গীর ধর্মের ব্যাপারে উদার ছিলেন।
-তিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হয়েও আকবরের মতো তিনি বিভিন্ন ধর্মের আলোচনা শুনতেন।
-তিনি হিন্দু যোগীদের সঙ্গ দিতেন। হোলি উৎসবে যোগদান করতেন।
-তিনি ধর্মীয় ব্যাপারে সহিষ্ণুতার পরিচয় দেন।
-পিতার মতোই তাঁর রাজদরবারে হিন্দুদের মর্যাদা দেন।
-মানসিংহ ও অন্যান্য হিন্দু মনসবদারগণ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। 

২৬.
উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে শাহজাহানের কন্যা জাহানারা তাঁর কোন ভ্রাতাকে সমর্থন করেছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. মুরাদ  
  3. সুজা
  4. দারা
ব্যাখ্যা

⇒দরবারের রাজনীতিতে বিশেষত উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বের সময় শাহজাহানের দুই কন্যার ভূমিকা লক্ষণীয়।
-জাহানারা পিতা ও জ্যেষ্ঠভ্রাতা দারার পক্ষ নেন।
-এবং রওশনারা আওরঙ্গজেবের পক্ষ অবলম্বন করেন। 

২৭.
বিজাপুর ও গোলকুন্ডার লোকজন কোন সম্প্রদায়ের ছিলেন?  
  1. শিয়া 
  2. সুন্নি
  3. খারেজী 
  4. জবরিয়া
ব্যাখ্যা

⇒সম্রাট আকবরের সময়ে দাক্ষিণাত্যের খান্দেশ ও বেরার মুঘল অধিকারে এসেছিল।
-সম্রাট শাহজাহান এর শক্তিশালী কূটনীতিক নীতির ফলে ১৬৩৩ খ্রি. আহমেদনগর মুঘল অধিকারে আসে।
-শিয়া রাজ্য দুটি বিজাপুর ও গোলকুন্ডা ১৬৩০-১৬৩৬ খ্রি. মুঘল অধিকার আসে।
-দাক্ষিণাত্য হস্তগত করে সম্রাট তার তৃতীয়পুত্র শাহজাদা আওরঙ্গজেবকে সেখানকার সুবাদার নিয়োগ করেন। 

২৮.
পরগনাহ প্রধানকে কি বলা হতো?
  1. সুবাদার
  2. শিকদার
  3. ফৌজদার
  4. দিউয়ান
ব্যাখ্যা

⇒মোগল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় বিভক্ত ছিল।
-প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
-ফৌজদার  ছিলেন সরকারের  প্রধান নির্বাহীকর্তা। 
-শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

২৯.
আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর কোন পুত্র সিংহাসনে বসেন?
  1. বাহাদুর শাহ
  2. জাহান্দার শাহ
  3. ফররুখসিয়ার
  4. মুহাম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা

⇒১৭০৭ খ্রি. সম্রাট আওরঙ্গজেব মৃত্যুবরণ করেন।
-আওরঙ্গজের পরবর্তীর মুঘল শাসকগণ হন তার পুত্র  বাহাদুর শাহ(১৭০৭-১২) ।

৩০.
মোগল আমলে রাজস্বের প্রধান উৎস ছিল?
  1. ব্যবসা-বাণিজ্য
  2. শিল্প
  3. কৃষি
  4. খনিজ সম্পদ
ব্যাখ্যা

⇒মুঘল আমলে কৃষিই ছিল ভারতের জনগণের প্রধান জীবিকা ও সাম্রাজ্যের রাজস্বের প্রধান উৎস।
-মোগল আমলে জাবতি, গাল্লাবকস, নাসাব প্রভৃতি প্রথা অনুসারে রাজস্ব আদায় হত।
-অধিকাংশ ক্ষেত্রে কৃষকদের নিকট থেকে নিদির্ষ্ট হারে নগদে রাজস্ব আদায়ের নিয়ম ছিল। 

৩১.
জাহাঙ্গীরের সময়ে সুরাটে কারখানা নিমার্ণ করে কারা? 
  1. পর্তুগিজরা   
  2. ওলন্দাজরা 
  3. ফরাসিরা 
  4. ইংরেজরা  
ব্যাখ্যা

⇒১৬১৫ খ্রি: প্রথম জেমসের দূত হিসেবে দরবারে আগমন করেন স্যার টমাস রো।
-তিনি ছিলেন একজন সুশিক্ষিত বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ।
-পর্তুগিজদের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি সফল হন।
-সম্রাট জাহাঙ্গীর ইংরেজ কোম্পানিকে সুরাটে একটি কুঠি স্থাপন এবং অবাধ ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুমতি প্রদান করেন। 

৩২.
উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে শাহজাহানের কোন পুত্র জয়ী হয়েছিলেন?
  1. দারা শিকোহ
  2. মুরাদ
  3. শাহ সুজা 
  4. আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

⇒১৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহানের অসুস্থতার সুযোগে সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে তাঁর চার পুত্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘটিত হয়।
-এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে আওরঙ্গজেব জয়ী হয়ে দিল্লির সম্রাটরূপে অধিষ্ঠিত হন। 

৩৩.
মীর জুমলার মৃত্যুর পর বাংলার মুঘল শাসনকর্তা কে ছিলেন? 
  1. শায়েস্তা খাঁ 
  2. মানসিংহ  
  3. ইসলাম খাঁ 
  4. ঈসা খাঁ
ব্যাখ্যা

⇒আসাম থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের পথে ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীর জুমলা মৃত্যুবরণ করেন।
-মীর জুমলার মৃত্যুর পর আওরঙ্গজেব তাঁর মাতুল শায়েস্তা খানকে (আসফ খাঁর পুত্র) দাক্ষিণাত্য থেকে সরিয়ে এনে বাংলার শাসনকর্তা (সুবাদার) পদে নিয়োগ দান করেন।
-শায়েস্তা খান দীর্ঘ ত্রিশ বছর এই পদে বহাল ছিলেন। 

৩৪.
“ফাতোয়া-ই-আলমগিরী” কোন ধরনের গ্রন্থ?  
  1. ফেকাহ শাস্ত্র  
  2. রাজনীতি শাস্ত্র 
  3. অনুবাদ গ্রন্থ
  4. আত্মজীবনী 
ব্যাখ্যা

⇒সম্রাট আওরঙ্গজেব ইসলামী শাস্ত্রে প্রভুত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। 
-ফারসি সাহিত্য, আরবিয় আইন-কানুন, নীতিশাস্ত্র প্রভৃতিতে তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন।
-তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম আমলের সর্ববৃহৎ আইন সংকলন ‘ফতোয়া-ই-আলমগীরী' রচিত হয়।

৩৫.
১৭৬১ সালে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ কার কার মধ্যে হয়েছিল?
  1. মারাঠা ও আফগান
  2. মুঘল ও মারাঠা
  3. শিখ ও আফগান
  4. ইংরেজ ও মুঘল
ব্যাখ্যা

⇒আফগানিস্তানের শাসক আহমদ শাহ আবদালী নয়বার ভারত আক্রমণ করে মুঘল সাম্রাজ্যকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।
-আহমদ শাহ আবদালীর বারবার আক্রমণে কার্যত মুঘল সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়ে যায়।
১৭৬১ সালে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ মারাঠা ও আফগান নেতা আহমদ শাহ আবদালীর মধ্যে হয়েছিল। 

৩৬.
কত খ্রিস্টাব্দে মোগল শাসনের চির অবসান ঘটে? 
  1. ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

⇒১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে জহিরউদ্দিন বাবর কতৃর্ক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। 
-বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
-১৭০৭ খিস্ট্রাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
-১৮৫৮ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।

৩৭.
কোন সম্রাট পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন? 
  1.  হুমায়ুন
  2. আকবর
  3. জাহাঙ্গীর 
  4. শাহজাহান 
ব্যাখ্যা

⇒সাতগাঁও ও হুগলিতে পর্তুগীজ বাণিজ্যকুঠি ছিল। 
-তারা মমতাজ মহলের দুইজন দাসীকে অপহরণ করে ও সম্রাট হওয়ার পর শাহজাহানকে উপঢৌকন না পাঠিয়ে সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
-১৬৩২ সালে কাসিম খান এর পুত্র এনায়েতউল্লাহ পতর্গুীজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।

৩৮.
“দুনিয়ার বেহেশত নামে অভিহিত কোনটি? 
  1. দিউয়ান-ই-খাস
  2. দিউয়ান-ই-আম
  3. তাজমহল
  4. ময়ূর সিংহাসন
ব্যাখ্যা

⇒সম্রাট শাহজাহান তাঁর  স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
-তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নিমির্ত হয়।
-দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি ‘দুনিয়ার বেহেশত' বলে অভিহিত।

৩৯.
মোগল প্রশাসনে রাজস্ব বিভাগ ন্যাস্ত ছিল কার উপর? 
  1. দিউয়ান
  2. কাজী-উল- কুজ্জাত
  3. মীর বক্সি
  4. মীর-ই-সামান
ব্যাখ্যা

⇒কেন্দ্রিয় সরকারের অর্থ বিষয়ক ও প্রধান রাজস্ব কমর্কর্তা ছিলেন দিউয়ান।
-কেন্দ্রের সামরিক ব্যবস্থাপনার প্রধান কমর্কর্তার নাম ছিল মীর বকশি। 
-মীর সামান বা খান-ই-সামান ছিলেন রাজকীয় গৃহস্থালীর প্রধান।
-কাজী-উল-কুজ্জাত বা প্রধান কাজী।

৪০.
শাহজাহানের মাতার নাম কি?   
  1.  জগৎ গোসাই
  2. নূরজাহান 
  3. যোধাবাই 
  4. মনিবাই    
ব্যাখ্যা

⇒শাহজাহানের প্রকৃত নাম ছিল খুররম। তিনি জাহাঙ্গীরের রাজপুত পত্মী জগৎ গোসাইয়ের পুত্র। 
-আকবর ও জাহাঙ্গীরের প্রিয়পাত্র খুররম শৈশব থেকেই ছিলেন শিক্ষা ও সমরবিদ্যায় কুশলী। 
-আহমেদ নগর অভিযানে মালিক আম্বরকে পরাজিত করে তিনি তার পিতার নিকট হতে শাহজাহান উপাধি লাভ করেন। 

৪১.
মোগল আমলের রাষ্ট্র ভাষা ছিল কী? 
  1. ফার্সি
  2. আরবি
  3. উর্দু
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা

⇒মোঘল বাদশাহদের পাশাপাশি স্থানীয় শাসক ও জমিদারগণ শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।
-এ সময়ে আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষা দেয়া হতো।
-মোগল আমলে রাষ্ট্র ভাষা ছিল ফার্সি। 

৪২.
জাহাঙ্গীরকে আকবর স্নেহ করে কি নামে ডাকতেন? 
  1. সেখুবাবা 
  2. সেলিম বাবা 
  3. জাহাবাবা 
  4. জহুবাবা
ব্যাখ্যা

⇒অনেকগুলো সন্তান পরপর মারা যাওয়ার পর শেখ সেলিম চিশতির দোয়ায় ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীরের জন্ম হয়। 
-সে জন্য সেলিম চিশতির নামে সন্তানের নাম রাখেন সেলিম।
-তিনি ডাকতেন ‘সেখুবাবা' বলে।  
-তিনি ছিলেন অম্বররাজ বিহারীমলের কন্যার গর্ভজাত সন্তান। 

৪৩.
ময়ুর সিংহাসন নির্মাণ করেন কে? 
  1. জাহাঙ্গীর
  2. শাহজাহান 
  3. আওরঙ্গজেব
  4. শাহ আলম 
ব্যাখ্যা

⇒শাহজাহানের স্থাপত্য শিল্পের আর একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো ‘ময়ুর সিংহাসন'।
-পারস্যের বিখ্যাত শিল্পী বেবাদল খাঁ এটি নির্মাণ করেছিলেন।
-এই সিংহাসনের বাহন ছিল রত্ন খচিত ময়ুর। 
-দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে ১৭৩৯ সালে পারস্যের সম্রাট নাদির শাহ এই মহামূল্যবান ময়ূর সিংহাসনটি লুণ্ঠন করে নিয়ে গিয়েছিলেন। 

৪৪.
কত খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীর নুরজাহানকে বিবাহ করেন?  
  1. ১৬০০ খ্রি:
  2.  ১৬০৫ খ্রি:  
  3. ১৬১১ খ্রি: 
  4. ১৬১২ খ্রি:
ব্যাখ্যা

⇒নূরজাহানের প্রকৃত নাম মেহের-উন-নিসা।
-তিনি ছিলেন ইরানের ইস্পাহান হতে আগত মির্জা গিয়াস বেগের কন্যা ও পারসিক যুবক আলীকুলি খানের স্ত্রী। 
-আলীকুলী খানকে বাংলার বর্ধমানে জায়গীর প্রদান করা হয়।
-কিন্তু ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি এক সামরিক অভিযানে মৃত্যুবরণ করেন। 
•১৬১১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট মেহের উন নিসাকে বিবাহ করেন এবং তার উপাধি দেন ‘নূর মহল’ (প্রাসাদের আলো) ও পরে নূরজাহান (পৃথিবীর আলো)।

৪৫.
সম্রাট শাহজাহান নির্মিত “শাহজাহানাবাদ” নগরের  বতর্মান নাম কী?  
  1. আহমেদাবাদ
  2. ফিরোজাবাদ
  3. পুরনো দিল্লি 
  4. গুজরাট
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: নতুন দিল্লি। 
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
--------------- 

⇒শাহজাহান ১৬৩৮ খ্রি. রাজধানী আগ্রা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করেন এবং নতুন নগরীর নাম দেন শাহজাহানাবাদ।
-এখানে তিনি লালকেল্লা, মমতাজ মহল, দিল্লির জামে মসজিদ ইত্যাদি নির্মাণ করেন। 
-শাহজাহানাবাদ” নগরের  বতর্মান নাম নতুন দিল্লি।

৪৬.
কে রাজা প্রথম জেমসের চিঠি নিয়ে সর্বপ্রথম সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন? 
  1. ক্যাপ্টেন হকিন্স
  2. স্যার টমাস রো
  3. এডওয়ার্ডস 
  4. উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা

⇒সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকালে ইংরেজরা ভারতে বাণিজ্য করতে আসে। 
-১৬০৮ সালে ক্যাপ্টেন হকিংস রাজা প্রথম জেমসের অনুরোধ পত্র  নিয়ে তাঁর দরবারে আসেন।
-১৬১৫ সালে টমাস রো পুনরায় তার দরবারে আসেন।
-তিনি কোম্পানিকে সুরাটে একটি কুঠি স্থাপন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুমতি প্রদান করেন।