পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৩৯
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫৩: রিভিশন পরীক্ষা - ৬ Topic: Muslim & Hindu Law (পরীক্ষা ৪৬, ৪৮, ৫১) + General part (পরীক্ষা ৪৫, ৪৭, ৫০, ৫২)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৯ প্রশ্ন

.
উৎস অনুসারে বাংলাভাষার শব্দভাণ্ডারকে কত ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার(৪) শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।

• তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
- যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

• দেশি শব্দ:
- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

• বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
বাক্যের অন্তর্গত শব্দ বা পদকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• পদ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আট(৮)টি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়।
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়াবিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক ও
৮. আবেগ।
বাক্যে প্রয়োগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে।
যেমন, যখন বলা হয়: 'লাল থেকে নীল ভালো, তখন 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ। কিন্তু যখন বলা হয়: আমি একটি লাল ফুল তুলেছি তখন 'লাল' বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো কাজের নাম বোঝায়, তাকে কী বলে?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
- যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
She has been crying since she heard the bad news. Here the underlined clause is -
  1. Noun Clause
  2. Adjective Clause
  3. Adverbial Clause
  4. Prepositional Clause
ব্যাখ্যা
Adverbial clause of time:
- Principal clause এর কাজ সম্পন্ন করার সময়কে নির্দেশ করে।
- Adverbial Clause of time টি Conjunctions of time দিয়ে শুরু হয়। যেমন: As soon as, Before, After, Hardly --- when, No sooner --- than, Since, The sooner ইত্যাদি দিয়ে শুরু করে কমা পর্যন্ত বা এগুলো থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত Adverbial Clause এবং বাকী অংশ Principle Clause.
- Adverbial Clause of time, Principle Clause এর আগে বা পরে বসানো হয়।
- আগে বসলে Clause এ শেষে কমা বসে, পরে বসলে কমা বসে না।  

Correct Answer: She has been crying since she heard the bad news. Here the underlined clause is - Adverbial Clause.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
.
They took necessary steps under the apprehension that thieves would try to break into our house. Here, what is the meaning of the phrase 'under the apprehension'?
  1. মনে করে
  2. আশঙ্কাস্থল
  3. শাস্তির মুখে
  4. পৃষ্টপোষকতায়
ব্যাখ্যা
• Under the apprehension.
- English meaning: In a state of anxiety, fear, or worry, often due to a possible negative outcome or uncertain situation.
- Bangla meaning: আশঙ্কাস্থল, আশঙ্কা।

উল্লিখিত অপশনগুলো,
Under the impression - মনে করে,
Under the apprehension - আশঙ্কাস্থল,
Under pain of - শাস্তির মুখে,
Under the egis of - পৃষ্টপোষকতায়।

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
.
He goes to the gym every now and then. Here the underlined phrase is -
  1. Noun Phrase
  2. Adjective Phrase
  3. Adverbial Phrase
  4. Prepositional Phrase
ব্যাখ্যা
Adverbial Phrase
- যে শব্দ সমষ্টি বা Phrase যখন Adverb এর ন্যায় কাজ করে তখন তাকে Adverbial Phrase বলে।
- এখানে 'every now and then' দ্বারা goes 'Verb' টিকে Modify করেছে এবং এটি Adverbial Phrase of Frequency, কারণ এটি কাজটি কখন ঘটে তা বোঝাচ্ছে। 
- কোথায়, কখন, কিভাবে ইত্যাদি দ্বারা প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া গেলে তখন টা আমরা Adverb হিসেবে ব্যবহার করি। 

Correct Answer: He goes to the gym every now and then. Here the underlined phrase is - Adverbial Phrase.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
.
Each of the boys had finished their homework before the teacher arrived.
  1. had
  2. their
  3. after
  4. arrived
ব্যাখ্যা
• One of/ Any of/ Each of/ Either of/ Neither of যদি Subject হিসেবে ব্যবহার হলে এরপরে সব সময় Plural Noun বসে। যার কারণে এটি 'Each of the students' হয়েছে।
- আর 'Each of the students' phrase এর headword টি 'Each' Singular হওয়ায় Verb Singular হবে।
- Sentence টিতে "Each" singular হওয়ায়, পরের Pronoun টি "their" (plural) এর পরিবর্তে "his" (singular) হবে।

Correct Sentence: Each of the boys had finished his homework before the teacher arrived.

Source: Advanced Learner's Communicative English Grammar & Composition By Chowdhury & Hossain.
.
4(2a + 1) = 4(a - 2) হলে a এর মান কত?
  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. - 3
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 4(2x + 1) = 4(x - 2) হলে x এর মান কত?

সমাধান: 
4(2a + 1) = 4(a - 2)
বা, 8a + 4 = 4a - 8
বা, 8a - 4a = - 8 - 4
বা, 4a = -12
বা, a = -12/4
∴ a = - 3 
.
9p2 - (2p - 3q)2 = কত?
  1. (5p - 3q)(p + 3q)
  2. (5p + 3q)(p - 3q)
  3. (5p - 3q)(p - 3q)
  4. (5p + 3q)(p + 3q)
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 9p2 - (2p - 3q)2 = কত? 

সমাধান: 
9p2 - (2p - 3q)2 
= (3p)2 - (2p - 3q)2 
= {3p + (2p - 3q)} {3p - (2p - 3q)} 
= (3p + 2p - 3q) (3p - 2p + 3q) 
= (5p - 3q) (p + 3q)
১০.
3/5 ভগ্নাংশের লব ও হরের সাথে কোন সংখ্যা যোগ করলে নতুন ভগ্নাংশের মান 4/5 হবে?
  1. 3
  2. 4
  3. 5
  4. 6
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 3/5 ভগ্নাংশের লব ও হরের সাথে কোন সংখ্যা যোগ করলে নতুন ভগ্নাংশের মান 4/5 হবে?

সমাধান: 
ধরি, 
সংখ্যাটি = x 

প্রশ্নমতে, 
(3 + x)/(5 + x) = 4/5 
বা, 15 + 5x = 20 + 4x 
বা, 5x - 4x = 20 - 15 
∴ x = 5 

∴ সংখ্যাটি = 5   । 
১১.
m2 - n2 + 4n - 4 এর একটি উৎপাদক কোনটি?
  1. m - 2n + 1
  2. m + n - 2
  3. m + n + 2
  4. m - n - 2
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: m2 - n2 + 4n - 4 এর একটি উৎপাদক কোনটি? 

সমাধান: 
m2 - n2 + 4n - 4
= m2 - (n2 - 4n + 4) 
= m2 - {(n)2 - 2. n. 2 + (2)2
= m2 - (n - 2)2 
= {m + (n - 2)} {m - (n - 2)} 
= (m + n - 2) (m - n + 2)
১২.
(৫x/৬) + ৩ এবং (x/৩) + ১০ পরস্পর সমান হলে x এর মান কত? 
  1. ১০
  2. ১২
  3. ১৪
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: (৫x/৬) + ৩ এবং (x/৩) + ১০ পরস্পর সমান হলে x এর মান কত? 

সমাধান: 
(৫x/৬) + ৩ = (x/৩) + ১০
বা, (৫x/৬) - (x/৩) = ১০ - ৩
বা, (৫x - ২x)/৬ = ৭  
বা, ৩x/৬ = ৭ 
বা, x/২ = ৭ 
বা, x = ৭ × ২ 
∴ x = ১৪  ।  
১৩.
UNFCCC- এর অধীনে কোন দুটি চুক্তি গৃহীত হয়?
  1. কিয়োটো প্রটোকল ও প্যারিস চুক্তি
  2. কিয়োটো প্রটোকল ও মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. মন্ট্রিল প্রটোকল ও প্যারিস চুক্তি
  4. কার্টাগোনা প্রটোকল ও নাগোয়া প্রটোকল
ব্যাখ্যা
UNFCCC: 
- এর পূর্ণরূপ: United Nations Framework Convention on Climate Change.
- জাতিসংঘের উদ্যোগে এটি ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
- এটি কার্যকর হয়: ১৯৯৪ সালে।
- এর মূল কাজ: জলবায়ু সম্মেলন আয়োজন করা।
- সদর দপ্তর: বন, জার্মানি।
- UNFCCC- এর অধীনে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়: 
- কিয়োটো প্রটোকল ও প্যারিস চুক্তি।

কিয়োটো প্রটোকল:
- জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- উদ্দেশ্যে: কার্বন ডাইঅক্সাইড ও গ্রিন হাউস গ্যাস উদ্‌গিরণ কমানো।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সাউথ সুদান এ প্রটোকল অনুসমর্থন করে নি।
- ২০১২ সালে কানাডা নিজেকে প্রত্যাহার করে।

প্যারিস চুক্তি:
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তি।
- ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর - ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে কপ-২১ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০১৬।
- স্বাক্ষর করেছে ১৯৫টি দেশ।

উৎস: i) UNFCCC ওয়েবসাইট।
          ii) UNTC ওয়েবসাইট।
১৪.
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থা কোনটি?
  1. Green Peace
  2. GCF
  3. WMO
  4. IPCC
ব্যাখ্যা
IPCC:
- এর পূর্ণরূপ: Intergovernmental Panel on Climate Change.
- WMO ও UNEF এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়: IPCC.
- গঠিত হয়: ১৯৮৮ সালে।
- এটি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থা।
- জলবায়ু সংক্রান্ত অন্ত:সরকার প্যানেলের নাম।
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- শান্তিতে নোবেল পায়: ২০০৭ সালে।

⇒ অপরদিকে,
• Green Peace:
- গ্রিন পীস টেকসই পরিবেশ বাদী উন্নয়নকল্পে কাজ করে যাচ্ছে।
- এটি ১৯৭১ সালে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সদর দপ্তর আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ড।

GCF
- এর পূর্ণরূপ: Green Climate Fund.
- Cop-15 সম্মেলনের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: ইনচিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া।
- উদ্দেশ্য: জলবায়ু তহবিল সংগ্রহ করা।

WMO:
- এর পূর্ণরূপ: World Meteorological Organization.
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত:  ১৯৫০ সালের ২৩ মার্চ।
- সদর দপ্তর: সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
- উদ্দেশ্য: যা আবহাওয়া, জলবায়ু, জলসম্পদ ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

উৎস: ¡) IPCC ওয়েবসাইট।
          ¡¡) WMO ওয়েবসাইট।
১৫.
ক্রমওয়েল বিপ্লব কোন দেশে সংঘটিত হয়?
  1. ইংল্যান্ড
  2. ফ্রান্স
  3. রাশিয়া
  4. তুরস্ক
ব্যাখ্যা
• ক্রমওয়েল বিপ্লব: 
- ক্রমওয়েল বিপ্লব ইংল্যান্ডের ওলিভার ক্রমওয়েলের নেতৃত্বে সংঘটিত গৃহযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময়।
- ১৭শ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়।
- ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধ (১৬৪২-১৬৫১)।
- রাজা প্রথম চার্লসের স্বেচ্ছাচারী শাসন ও সংসদের সঙ্গে বিরোধ।
- পক্ষসমূহ:  রাজতন্ত্রপন্থী (রাজা সমর্থক) এবং পার্লামেন্ট পন্থি (পার্লামেন্ট সমর্থক)।
- ওলিভার ক্রমওয়েল পার্লামেন্ট বাহিনীর একজন দক্ষ নেতা ছিল।

• গৃহযুদ্ধের ফলাফল:
- পার্লামেন্ট বাহিনীর বিজয় ও রাজা চার্লসের বন্দিত্ব।
- রাজা চার্লসের বিচার ও ফাঁসি, যা ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো রাজদণ্ডের অবসান ঘটায়।
- ইংল্যান্ডকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ক্রোমওয়েল লর্ড প্রোটেক্টর হিসেবে শাসন করেন।
- ইংল্যান্ডের শাসনব্যবস্থা ও সমাজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসে।

উৎস: Britannica.
১৬.
ফরাসি বিপ্লবের ফলে ইউরোপে কী ঘটে-
  1. পুঁজিবাদ বিকশিত হয়
  2. সামন্তবাদের অবসান হয়
  3. বাস্তিল দুর্গের পতন হয়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ফরাসি বিপ্লব:
- সময়কাল: ১৪ জুলাই ১৮৯-১৭৯৯ সাল।
- কারণ: আমেরিকার স্বাধীনতার যুদ্ধে ফ্রান্স আর্থিক সাহায্য করার ফলে রাজকোশ শূন্য হয়ে পড়ে ও ষোড়শ লুইয়ের ঋণ।
- রাজা এই ঋণ ফেরত দিতে অস্বীকার করলে বিভিন্ন রাজ্য দাবি করে সামন্তবাদীরা।
- ফলে রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গ পতন ঘটে।
- ১৭৯৩ সালে ২১ জানুয়ারি শত সহস্র দর্শকের সামনে রাজা ষোড়শ লুইকে   গিলোটিনে শিরশ্ছেদ করা হয়।
- এ সময় নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বয়স ছিল ২০ বছর।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।

ফলাফল:
- বাস্তিল দুর্গ পতন হয়।
- সামন্তবাদের অবসান হয়।
- পুঁজিবাদের বিকশিত হয়।
- ফ্রান্সে প্রথম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও,
- ফরাসি বিপ্লবের চেতনা ছিল সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, স্বাধীনতা।
- এ বিপ্লবে ভলতেয়ার, জা জ্যাক রুশো লেখনী অনুপ্রেরণা দেয়।

উৎস: ¡) Britannica.
         ¡¡) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম।
১৭.
মুসলিম আইনের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. হাদিস
  2. ইজমা
  3. ইসতিসলাহ
  4. কিয়াস
ব্যাখ্যা
’মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস। আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।
১৮.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারা অনুযায়ী, তালাক দেওয়ার পর স্বামীকে কী পদক্ষেপ নিতে হবে?
  1. স্ত্রীকে সম্পূর্ণ দেনমোহর প্রদান করতে হবে
  2. চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে
  3. ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে মামলা করতে হবে
  4. ৭ দিনের মধ্যে আদালতকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে
ব্যাখ্যা
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):

১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারন করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।

২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

৩) অন্য কোনভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।

৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।
১৯.
মিতাক্ষরা ও দায়ভাগ মতবাদ কোন উৎসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শ্রুতি
  2. স্মৃতি
  3. প্রথা
  4. ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনের মূল উৎস চারটি। এগুলো হলো—
১) শ্রুতি (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ভিত্তি। বেদসমূহ (ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ) শ্রুতি শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
২) স্মৃতি (Smriti) – প্রাচীন ঋষিদের লিপিবদ্ধ করা সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ, যেমন মনুস্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি, নারদ স্মৃতি, পরাশর স্মৃতি ইত্যাদি।
৩) ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ (Commentaries and Digests) – বিভিন্ন স্মৃতি ও শাস্ত্রের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। এর দুটি প্রধান মতবাদ হলো মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ।
৪) প্রথা (Custom) – দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রীতিনীতি, যা আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি তিন ধরনের— স্থানীয় প্রথা, শ্রেণি প্রথা ও পারিবারিক প্রথা।

এছাড়া, আধুনিক সময়ে আদালতের রায়, বিধিবদ্ধ আইন ও সুবিচার হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০.
মুসলিম বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য কমপক্ষে কতজন সাক্ষী থাকতে হবে?
  1. ১ জন মুসলিম পুরুষ
  2. ২ জন মুসলিম পুরুষ
  3. ১ জন মুসলিম পুরুষ এবং ২ জন মুসলিম মহিলা
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• 'বিবাহ` শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো মিলানো, একত্র করা। ইসলামী আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট একজন নর ও নারীর একত্রিত হওয়ার চুক্তিকেই বিবাহ বলে।

ডি এফ মোল্লা তাঁর ‘মুসলিম আইনের মূলনীতি’ বইয়ে বিবাহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন
“বিবাহ বা নিকাহ এমন একটি চুক্তি যার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো বৈধভাবে সন্তান লাভ ও প্রতিপালন।

বিচারপতি মাহমুদ তাঁর ‘আঃ কাদির ও সালিসী মোকদ্দমার রায়ে বলেছেন,
“মুসলিম বিবাহ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানী চুক্তি যার উদ্দেশ্য পারিবারিক জীবন যাপন ও বৈধ সন্তান দান।"

মুসলিম বিবাহের অবশ্য পূরণীয় শর্তাবলী-
বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এক পক্ষকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং অপর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। এটিই বিবাহ বন্ধন সংগঠিত হওয়ার মূল শর্ত। বিবাহের জন্য পাত্র এবং পাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতির প্রয়োজন। বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে।

মুসলিম আইনে বিবাহের চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা আবশ্যক। কমপক্ষে ২ জন মুসলিম পুরুষ, অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা সাক্ষী থাকতে হবে। এটি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধতার জন্য বাধ্যতামূলক। সাক্ষীদের প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যোগ্য হতে হবে।তারা বিবাহ চুক্তি (নিকাহ) সম্পাদনের সময় উপস্থিত থাকতে হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতি শুনতে হবে হানাফি মাযহাব অনুসারে, সাক্ষী ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়। শিয়া মতানুসারে সাক্ষীর উপস্থিতি সব ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়, তবে এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
২১.
একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর কত শতাংশ সম্পত্তি উইল করতে পারেন?
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
• উইল বা অসিয়ত:
কোনো মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষণাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয়সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছাপত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।
- উইলকারী মৃত্যুর আগে চাইলে উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।
- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয়, তবে উইলকারীর উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশি কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে আদালত নয়, উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে।
২২.
নিচের কোনটি অনুমোদিত হিন্দু বিবাহের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আর্য
  2. গন্ধর্ব
  3. অসুর
  4. পৈশাচ
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে,
হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
২৩.
মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন না করার জন্য আইন অনুযায়ী কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হতে পারে?
  1. শুধুমাত্র কারাদণ্ড
  2. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  3. সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  4. বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
- মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বা ৮ এখন বাধ্যতামূলক।
- The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
- বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
- এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)

Section-5: Solemnization of a marriage to be reported and registered:

(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years orwith fine which may extend to three thousand taka,or with both.
২৪.
কোন পরিস্থিতিতে মৃত মুসলিম ব্যক্তির স্ত্রী ১/৪ অংশ সম্পত্তি পাবেন?
  1. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান রেখে যান
  2. যদি মৃত ব্যক্তি কোনো পুত্রের সন্তান রেখে যান
  3. যদি মৃত ব্যক্তি সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে যান
  4. যদি মৃত ব্যক্তি শুধু কন্যা সন্তান রেখে যান
ব্যাখ্যা
• স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়-
i) ১/৪ অংশ;
ii)  ১/৮ অংশ।
 
ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।
খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
২৫.
কোন মামলায় "একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেওয়া বৈধ" বলে রায় দেওয়া হয়?
  1. শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু
  2. ভূবনময়ী বনাম রামকিশোর
  3. ঠাকুর বনাম ঠাকুর
  4. কালেক্টর মাদুরা বনাম মুট্টোরাম
ব্যাখ্যা
শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু (1899) 22 Mad-308, 26 IA 113
এই মামলার বিবাদী মাদ্রাজ উপমতপন্থী হিন্দু আইনের আওতাভুক্ত কোন এক পিতার একমাত্র পুত্র ছিল। সেই অঞ্চলের এক বিধবা তাহার স্বামীর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি নিয়া উক্ত পিতার একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেন। বিধবার মৃত স্বামীর ভাবী উত্তরাধিকারী এই মামলার বাদী উক্ত দত্তকের বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করিয়া মামলা দায়ের করেন।

বিচার্য বিষয়:
১। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তাহার নিকটবর্তী সপিণ্ডদের সম্মতি নিয়া কোন বিধবা আইনত দত্তক নিতে পারে কিনা।
২। একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেওয়া যায় কিনা।

রায়:
⇒ বিজ্ঞ প্রিভিকাউন্সিল সুপ্রাচীন ধর্মশাস্ত্রগুলি পর্যালোচনা করিয়া এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মাদ্রাজ উপমতপন্থী অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি স্বামীর অনুমতির ন্যায় গণ্য হইবে। অতএব প্রথম বিচার্য বিষয়টি বাদীর বিপক্ষে যাইবে।

⇒ বিজ্ঞ প্রিভি কাউন্সিল আরও সাব্যস্ত করেন যে, কোন কোন প্রাচীন মুনিঋষি একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া বা নেওয়া সমর্থন করেন নাই সত্য, কিন্তু তাহাদের মতামত পড়িয়া বিজ্ঞ প্রিভি কাউন্সিলের এই ধারণাই জন্মে যে, বশিষ্ট সৌণক প্রমুখ মুনিগণ এই বিষয়ে যে মত দিয়েছেন তাহা নির্দেশক (recommendatory) ছিল, কোন অবস্থাতেই আদেশমূলক (mandatory) ছিল না। অতএব কেহ যদি সেই নির্দেশ উপেক্ষা করিয়া দত্তক নিয়া থাকে, তবে (Factum valet) নীতি অনুযায়ী ইহা বৈধ বিবেচিত হইবে।

⇒ নিম্ন আদালতে একমাত্র পুত্রকে দত্তক বৈধ সাব্যস্ত হয়। মাদ্রাজ হাইকোর্টে আপীলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। বাদী এই রায়ের অসম্মতিতে প্রিভিকাউন্সিলে আপীল দায়ের করে। প্রিভি কাউন্সিলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
২৬.
কোন অবস্থায় স্বামী বা স্ত্রী রাদের নীতির মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে?
  1. একমাত্র অংশীদার না হলে
  2. একমাত্র অংশীদার হলে
  3. যদি সন্তান থাকে
  4. কোনো অবস্থাতেই তারা রদে সম্পত্তি পাবে না
ব্যাখ্যা
রাদ বা প্রত্যর্পণ নীতি
মুসলিম সুন্নি আইনের বিধানমতে, অংশীদারগণের নির্ধারিত অংশ বা দাবি পূরণ করার পর ক্ষেত্র বিশেষে যদি সম্পত্তির কোনো অংশ অবশির থাকে তবে উক্ত অবশিষ্ট সম্পত্তি ঐ সব অংশীদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে পুনঃবণ্টন করা হবে, অর্থাৎ সমস্ত সম্পতি অংশীদারদের প্রাপ্য আংশ হারে বণ্টন করার পর বন্টিত অংশের সমষ্টি সব অপেক্ষা হর বেশি হলে অবশিষ্ট অংশ অংশীদারদের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করে দেয়া হয় যার ফলে অংশীদারদের পূর্ব প্রাপ্ত অংশ বৃদ্ধি পায়, এই নীতিকে রাদ বা প্রত্যর্পণ নীতি বলে।

• রাদের নীতি
⇒ সম্পদের অবশিষ্ট অংশ অংশীদারগণের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক অংশীদারের অংশ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ স্বামী এবং স্ত্রী রদের মাধ্যমে কোনো সম্পদ পাবে না। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী যদি একমাত্র অংশীদার হয়, তাহলে সে রাদের মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে।
২৭.
ওয়াকফ আলাল আওলাদ-এর ক্ষেত্রে সম্পত্তি কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে দাতব্য কাজে ব্যবহৃত হবে
  2. সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে সরকারের হাতে থাকবে
  3. সম্পত্তি প্রথমে পরিবারের কল্যাণে ব্যবহার হবে
  4. কোনটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ আলাল আওলাদ:
ওয়াকফ আলাল আওলাদ ইচ্ছে ইসলাম ধর্ম কর্তৃক স্বীকৃত বিশেষ ধরনের ওয়াকফ। এ ধরনের ওয়াকফের ক্ষেত্রে ওয়াফকারী সম্পত্তিটি তার বংশধরদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করতে পারে। তবে বংশধরদের উপকার শেষান্তে সম্পত্তিটি অবশ্যই ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ব্যয় বা ব্যবহার হবে। এটি ওয়াকফ আলাল আওলাদ বলে। অর্থাৎ ওয়াকিফের নিজের জন্য বা তার পরিবার বর্গের জন্য কোন ওয়াকফ করা হলে তাকে ওয়াকফ-আলাল- আউলাদ বলে।

Abul Fata Mahomed Ishak Vs Russomoy Dhur Chowdry (1894) নামক বিখ্যাত মামলায় পারিবারিক ওয়াকফ বা ওয়াকফ আল-আউলাদকে অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে The Mussalman Wakf validating Act, 1913 পাশের মাধ্যমে ওয়াকফ-আলাল আউলাদকে বৈধতা দেওয়া হয়। তবে শর্ত হলো এরকম ওয়াকফের চূড়ান্ত উপকার গরীব অথবা দাতব্য/ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে হতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, ওয়াকফকারী তার বংশধরদের কল্যাণে ওয়াফের উদ্দেশ্যের স্থগিত অবস্থার কারণে ওয়াকফটি অবৈধ হবে না। তবে সেরকম সংরক্ষণ বংশের পর বংশ চলতে থাকতে পারে না। সেরকম সংরক্ষণ অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হবে।
২৮.
দেবোত্তর সম্পত্তি কী?
  1. যে সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় থাকে
  2. যে সম্পত্তি সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়
  3. যে সম্পত্তি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হয়
  4. যে সম্পত্তি মন্দির ও দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা হয়
ব্যাখ্যা
মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

- মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে।দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

- দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
২৯.
একজন হানাফি মুসলিম মা, বাবা ও দুই বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। এই পরিস্থিতিতে কে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. মা
  2. বাবা
  3. দুই বোন
  4. কেউ বঞ্চিত হবে না
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লিখিত ক্ষেত্রে,
⇒ দুই বোন কোনো অংশ পাবে না; (বাবা জীবিত থাকায়, বোনেরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে)।
⇒ মা ১/৬ অংশ পাবে ( যেহেতু দুই বা ততোধিক বোন রয়েছে); এবং
⇒ বাবা বাকি ৫/৬ অংশ পাবে (আসাবা হিসেবে)।

• মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বোনের অংশ :
মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকলে এবং পিতা, দাদা বা ভাই না থাকলে,
⇒ বোন একজন হলে ১/২ অংশ এবং একাধিক হলে ২/৩ অংশ পায়।
⇒ আপন ভাই থাকলে বোনেরা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবে ২:১ আনুপাতিক হারে।
⇒ মৃত ব্যক্তির কন্যা অথবা পুত্রর কন্যা থাকলে বোন অবশিষ্টভোগী হিসেবে অংশ পাবে।
৩০.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রীর কোন কারণে আদালতে তালাক চাওয়ার অধিকার রয়েছে?
  1. চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে
  2. দুই বছর স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে
  3. স্বামী যদি সাত বছর বা তার বেশি সময় কারাদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
৩১.
উপার্জনের উৎস অনুযায়ী স্ত্রীধন কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৬ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
• স্ত্রীধন:
স্ত্রীর স্বোপার্জিত কিংবা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পত্তি হচ্ছে স্ত্রীধন। তারা এ ধন নিজের ইচ্ছামতো বিক্রয় অথবা দান করতে পারে। উপার্জনের উৎস অনুযায়ী স্ত্রীধন চার প্রকার-

ক. শুল্ক (কন্যাপণ):
স্বামীগৃহে যাইতে উৎসাহিত করার জন্য দেওয়া উপহার সামগ্রী। কোন হিন্দু মহিলা মারা যাওয়ার পর তার শুল্ক সম্পত্তি পর্যায়ক্রমে (১) ভ্রাতা (২) মাতা (৩) পিতা (৪) স্বামী উত্তরাধিকার হিসাবে এক জনের অনুপস্থিতিতে অন্যজন পাবেন।

খ. যৌতুক (বিবাহকালে প্রাপ্ত উপহার):
যৌতুক হল কন্যাকে বিবাহের সময় দেওয়া উপহার। অবাগ্দত্তা কন্যা, বাগ্দত্তা কন্যা, বিবাহিতা কন্যা যার পুত্র রয়েছে কিংবা পুত্রসম্ভবা, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা সমান অংশে; পুত্র, দৌহিত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, সতীন পুত্র, সতীন পৌত্র, সতীন প্রপৌত্র। উপর্যুক্তদের অভাবে স্ত্রীলোকের যৌতুক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে স্বামী, ভাই, মা, বাবা;

গ. অন্বাধেয় (বিবাহোত্তরকালে পিতৃদত্ত):
অন্বধেয়ক হল বিবাহের পরবর্তী সময় প্রাপ্ত উপহার। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারক্রম প্রায় যৌতুকের মতোই, তবে পার্থক্য হলো- বিবাহিতা কন্যাদের চেয়ে পুত্ররা অগ্রাধিকার পায় এবং নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হয় তার ভাই, মা, পিতা, স্বামী;

ঘ. অযৌতুক (বিবাহের পূর্বে বা পরে আত্মীয়গণ কর্তৃক প্রদত্ত; বিবাহের পূর্বে পিতৃদত্ত): 
অযৌতুক হল শুল্ক, অন্বষেয়ক এবং যৌতুক ব্যতীত অন্য কোনভাবে অর্জিত সম্পত্তি। এ ক্ষেত্রে পুত্র এবং কুমারী কন্যারা সমান অংশীদার; বিবাহিত পুত্রবতী অথবা পুত্রসম্ভবা কন্যা, পৌত্র, দৌহিত্র, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা।
৩২.
নাফাকা (Nafaqa) শব্দের অর্থ কী?
  1. ভরণপোষণ
  2. ধর্মীয় শিক্ষা
  3. অগ্রক্রয়
  4. আইনি অভিভাবকত্ব
ব্যাখ্যা
নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। স্বামী যদি ধনী হয়, তবে স্ত্রীর জন্য তার ভরণপোষণও বেশি হতে পারে। যদি স্বামী দরিদ্র হয়, তবে স্ত্রীর নাফাকা তার আর্থিক সামর্থ্য অনুসারে নির্ধারিত হবে। সাধারণভাবে, নাফাকা এমনভাবে নির্ধারিত হবে যেন স্ত্রীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে, এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূর্ণ হয়।
৩৩.
হিন্দু আইনে 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. জীবিত পুত্রদের ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে
  3. মৃত ব্যক্তির পুত্র এবং কন্যার ক্ষেত্রে
  4. মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্রের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
→ হিন্দু আইনে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ে দুই ধরনের উত্তরাধীকার পদ্ধতি চালু আছে:
(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি
(খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

- হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে- শুধুমাত্র পুত্র, পৌত্র (যার বাবা মৃত), প্রপৌত্র (যার বাবা ও পিতামহ দুজনই মৃত) উত্তরাধিকারী হিসেবে থাকলে, পৌত্রিক পূর্বপুরুষের সম্পত্তিতে 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' বা Doctrine of Representation প্রযোজ্য হবে। নারীদের ক্ষেত্রে এ নীতি প্রযোজ্য নয়।
৩৪.
বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে কী অধিকার পাবে?
  1. সম্পত্তির একচেটিয়া মালিক হবে
  2. এক পুত্রের সমান অংশ পাবে
  3. এক পুত্রের অর্ধেক অংশ পাবে
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-
(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
৩৫.
কোন বিধান অনুযায়ী, কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না?
  1. Muslim Family Laws Ordinance, 1961, ধারা ৬
  2. Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939, ধারা ২
  3. The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974, ধারা ৩
  4. Muslim Family Laws Ordinance, 1961, ধারা ৯
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:

১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ড।
৩৬.
According to Section 3 of the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-
  1. Only marriages performed by an imam are subject to registration
  2. Registration of marriage is optional but recommended
  3. Every Muslim marriage must be registered in accordance with the law
  4. Muslim marriages only need to be registered if the parties desire it
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

• বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন এখন বাধ্যতামূলক।
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।

ধারা ৩- বিবাহ রেজিষ্ট্রীকরণ:
অন্য যে কোন আইন, প্রথা বা রীতিতেযে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও মুসলিম আইনঅনুযায়ী অনুষ্ঠিত প্রত্যেক বিবাহ এই আইনের বিধানাবলী অনুযায়ী রেজিষ্ট্রীকরতে হবে।

Section 3- Registration of marriages
Notwithstanding anything contained in any law, custom or usage, every marriage solemnized under Muslim law shall be registered in accordance with the provisions of this Act.
৩৭.
নারী সপিণ্ডের মধ্যে কোন ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত?
  1. কন্যা, বোন, মাতা, মায়ের বোন, পিতার বোন
  2. পুত্রবধূ, কন্যা, মাতা, ভাইয়ের স্ত্রী, দিদি
  3. মাতা, মায়ের মা, স্ত্রী, কন্যা, বোন
  4. বিধবা স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা
⇒ মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
৩৮.
এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী হিসেবে একজন জীবিত পুত্র, দুইজন কন্যা এবং একজন মৃত পুত্রের পুত্র রয়েছে। মৃত পুত্রের পুত্র কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ২/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
এখানে প্রতিনিধিত্বের নীতি (Doctrine of Representation) অনুসারে,
মৃত পুত্রের পুত্র (পৌত্র) তার পিতার অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। অর্থাৎ, মৃত পুত্রের পুত্র তার পিতার উত্তরাধিকারী হয়ে, পিতার অংশটি গ্রহণ করবে।

এ ক্ষেত্রে, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের (পৌত্র) অংশ সমানভাবে ভাগ হবে। তাই, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের মধ্যে ১/২ অংশ করে ভাগ হবে।

উল্লেখ্য, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
৩৯.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান কারণ কী?
  1. ধর্মীয় ও পার্থিব
  2. সামাজিক ও আইনি
  3. পার্থিব ও অর্থনৈতিক
  4. ধর্মীয় ও আইনি
ব্যাখ্যা
• অন্যের পুত্রকে হিন্দু আইনের বিধান অনুযায়ী নিজ পুত্ররূণে গ্রহণ করাকে দত্তক গ্রহণ বলা যাইতে পারে। সুপ্রাচীন রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান চালু নাই।

দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:
প্রধান দুইটি কারণে হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত। একটি ধর্মীয় কারণ আর অপরটি বলা যেতে পারে পার্থিব কারণ। মুনিবর বশিষ্ট সাবধান বাণী উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোন স্থান নাই।" একজন মৃত ব্যক্তি তার নিম্নতন তিন পুরুষ অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র হইতে সরাসরি পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী। যার পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র নাই মৃত্যুর পর তার আত্মা এইভাবে পিণ্ড পাওয়ার আশা করতে পারে না। এসব বিবেচনাকে ধর্মীয় কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

পক্ষান্তরে প্রত্যেক মানুষই নিজ বংশের ধারাবাহিকতা চালু রাখতে চায়। প্রায় সকল মানুষই চায় যে মৃত্যুর পরও তার পুত্র পৌত্রাদির মাধ্যমে তার নাম এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন থাকুক। এইসব বিবেচনাকে পার্থিব কারণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।