পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes৪২ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৪৩
সিলেবাস
পরীক্ষা- ৭ কাজী নজরুল ইসলাম + পিএসসি নির্ধারিত বাকি ১১ জন সাহিত্যিক (লেকচার ৬)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন

.
সাময়িক পত্রের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সৃষ্টি সম্ভাবনা নিয়ে কত সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বিখ্যাত সাহিত্যপত্র 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭০
  2. ১৮৭২
  3. ১৮৭৪
  4. ১৮৭১
ব্যাখ্যা

- সাময়িক পত্রের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সৃষ্টি সম্ভাবনা নিয়ে ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বিখ্যাত সাহিত্যপত্র 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।

- বঙ্গদর্শন প্রকাশের পর তাঁর প্রতিভা বৈচিত্র্যধর্মী হয়ে ওঠে। তাঁর উপন্যাস, রসরচনা, সমালোচনা, ধর্মালোচনা প্রভৃতি বঙ্গদর্শন পত্রেই প্রকাশ পায়। এ ভাবে তাঁর সৃষ্টিসম্ভারে পত্রিকাটির যথেষ্ট উৎকর্ষ সাধিত হয়।

- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ বসু, রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায়, অক্ষয়চন্দ্র সরকার প্রমুখ অনেকেই বঙ্গদর্শনের লেখক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
বঙ্কিমচন্দ্রের ব্যঙ্গাত্মক ও সরস প্রবন্ধগ্রন্থ—
  1. 'লোকরহস্য'
  2. ‘বিজ্ঞানরহস্য'
  3. 'সাম্য'
  4. 'বিবিধ সমালোচনা'
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র তিন ধরনের প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছিলেন :
ক. বঙ্কিমচন্দ্রের ব্যঙ্গাত্মক ও সরস প্রবন্ধগ্রন্থ—যেমন 'লোকরহস্য', 'কমলাকান্তের দপ্তর' ও ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত';
খ. জ্ঞান বিজ্ঞান ও সমালোচনাবিষয়ক – যেমন ‘বিজ্ঞানরহস্য', 'সাম্য', 'বিবিধ প্রবন্ধ', 'বিবিধ সমালোচনা' এবং
গ. দর্শন ও শাস্ত্রচর্চাবিষয়ক—যেমন, 'কৃষ্ণচরিত্র' ও 'ধর্মতত্ত্ব'।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
.
মীর মশাররফ হোসেন জন্মগ্রহন করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন নিম্নলিখিত কোন বছরে?
  1. (১৮৩৮-১৮৯৪)
  2. (১৮২০-১৮৯১)
  3. (১৮২৪-১৮৭৩)
  4. (১৮৪৭-১৯১২)
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রাথমিক পর্যায়ের মুসলমান লেখক হিসেবে বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
- ‘গো-জীবন', ‘হযরত বেলালের জীবনী', 'আমার জীবনী', 'আমার জীবনীর জীবনী' ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর কৃতিত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
- তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০) উপন্যাসাকারে নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনিতে পূর্ণ। এতে তাঁর পারিবারিক জীবনের কথাও বলা হয়েছে।
- ‘গাজী মিঞার বস্তানী' (১৮৯৯) রসরচনাজাতীয় গ্রন্থ। জমিদারিকে কেন্দ্র করে জীবনের যে বৈশিষ্ট্য রূপায়িত হতে লেখক দেখেছেন তারই রসমণ্ডিত ব্যঙ্গাত্মক চিত্র হিসেবে এই গ্রন্থের গুরুত্ব।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
কপালকুণ্ডলা'র প্রকাশসাল-
  1. ১৯৬৫
  2. ১৯৬৬
  3. ১৯৬৭
  4. ১৯৬৮
ব্যাখ্যা

কপালকুণ্ডলা'র প্রকাশসাল-(১৮৬৬)।
বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর সাহিত্যিক জীবনের বাইশ বৎসরে চৌদ্দটি উপন্যাস রচনা করেছিলেন ।
সেগুলোর নাম : দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫), কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬), মৃণালিনী (১৮৬৯), বিষবৃক্ষ (১৮৭৩), ইন্দিরা (১৮৭৩), যুগলাঙ্গুরীয় (১৮৭৪), রাধারাণী(১৮৭৫), চন্দ্রশেখর (১৮৭৫), রজনী (১৮৭৭), কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮), রাজসিংহ (১৮৮১), আনন্দমঠ (১৮৮২), দেবী চৌধুরাণী (১৮৮৪) ও সীতারাম (১৮৮৭)।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
বঙ্কিমচন্দ্র নিজে ___________  কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যাত করেছেন।
  1. 'দুর্গেশনন্দিনী'
  2. 'চন্দ্রশেখর'
  3. ‘রাজসিংহ'
  4. 'সীতারাম'
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র নিজে একমাত্র ‘রাজসিংহ'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যাত করেছেন।
- ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্ৰ লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। 
- 'দুর্গেশনন্দিনী' বা 'চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না।
- এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।...ব্যায়ামের অভাবে মানুষের সর্বাঙ্গ দুর্বল হয়। জাতি সম্বন্ধেও এ কথা খাটে। ইংরেজ সাম্রাজ্যে হিন্দুর বাহুবল লুপ্ত হইয়াছে। কিন্তু তাহার পূর্বে কখনও লুপ্ত হয় নাই। 
- হিন্দুদিগের বাহুবলই আমার প্রতিপাদ্য। উদাহরণস্বরূপ আমি রাজসিংহকে লইয়াছি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
'পশুপতি' কোন উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র?
  1. ‘রাজসিংহ'
  2. 'সীতারাম'
  3. 'দুর্গেশনন্দিনী'
  4. ‘মৃণালিনী'
ব্যাখ্যা
'পশুপতি' হলো ‘মৃণালিনী' উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

‘মৃণালিনী' উপন্যাসে তের শতকের প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলমানকর্তৃক বঙ্গদেশ বিজয়ের কাহিনি উপজীব্য।
তবে এই উপন্যাসে ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর যতটুকু আশ্রয় করা হয়েছে তার চেয়ে ঔপন্যাসিকের কল্পনাশ্রয়ী মনোবৃত্তির বিকাশ ঘটেছে বেশি।
এর ইতিহাসের ঘটনার অন্তরালে দুটি প্রেমের কাহিনি আছে—একটি হেমচন্দ্র-মৃণালিনীর, অপরটি পশুপতি- মনোরমার।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
'শৈবলিনী' কোন উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র?
  1. ‘মৃণালিনী'
  2. ‘রাজসিংহ'
  3. 'রজনী'
  4. 'চন্দ্রশেখর'
ব্যাখ্যা

'শৈবলিনী' হলো  'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের পটভূমিকা ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মীর কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
এতে আছে ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির সংমিশ্রণ।
উপন্যাসের একদিকে যেমন চন্দ্রশেখর-প্রতাপ- শৈবলিনীর কাহিনি স্থান পেয়েছে, অন্যদিকে তেমনি মীর কাসিম-দলনী বেগমের কাহিনি রূপ লাভ করেছে।
ফলে এই দুটি কাহিনির একত্র সম্মিলন উপন্যাসটিতে লক্ষনীয়। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
বঙ্কিমচন্দ্রের সামাজিক উপন্যাস হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা যায় না কোনটিকে? 
  1. 'রজনী'
  2. 'দুর্গেশনন্দিনী'
  3. 'বিষবৃক্ষ'
  4. 'কৃষ্ণকান্তের উইল'
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্রের কতিপয় উপন্যাসকে সামাজিক উপন্যাস হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা যায়।
'বিষবৃক্ষ', 'রজনী' ও 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসে বিশুদ্ধ পারিবারিক জীবনের সংঘাত ও সমস্যাসম্বন্ধীয় কাহিনি রূপায়িত হয়ে উঠেছে বলে এগুলো সামাজিক উপন্যাস হিসেবে চিহ্নিত।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
কুন্দনন্দিনীর স্বাভাবিক প্রেম উপভোগাকাঙ্ক্ষা কোন প্রকারেই সমর্থন জানানো হয়নি কোন উপন্যাসে?
  1. 'কৃষ্ণকান্তের উইল'
  2. 'রজনী'
  3. 'বিষবৃক্ষ'
  4. 'দেবী চৌধুরাণী'
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসে রোহিণী এবং ‘বিষবৃক্ষে’ বালবিধবা কুন্দনন্দিনীর স্বাভাবিক প্রেম উপভোগাকাঙ্ক্ষাকে কোন প্রকারেই সমর্থন জানানো হয় নি।

পাত্র-পাত্রীর এই প্রকার মনোভাবকে সমাজের পবিত্রতার প্রতিবন্ধক বলে মনে করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১০.
বঙ্কিমচন্দ্রের রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা যায় কোনটিকে ?
  1. 'দেবী চৌধুরাণী'
  2. 'চন্দ্রশেখর'
  3. ‘রাজসিংহ'
  4. 'দুর্গেশনন্দিনী'
ব্যাখ্যা
'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরাণী' ও 'সীতারামকে' রাজনৈতিক উপন্যাসের পর্যায়ে স্থান দেওয়া হয়।

বঙ্কিমচন্দ্র এই ত্রয়ী উপন্যাসে দেশাত্মবোধ স্বাজাত্যবোধ এবং গীতায় উক্ত নিষ্কাম ধর্মমতের প্রচারক।

হিন্দুজাতিকেন্দ্রিক হয়ে এই পর্যায়ের উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
১১.
এ দেশের অধিবাসীদের জীবনে ছিয়াত্তরের ভয়াবহ মন্বন্তরের ঐতিহাসিক ঘটনা যে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছিল তারই কাহিনি সহকারে উত্তরবঙ্গের সন্ন্যাসী বিদ্রোহ উপজীব্য করা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. 'আনন্দমঠ'
  2. ‘মৃণালিনী'
  3. ‘রাজসিংহ'
  4. 'চন্দ্রশেখর'
ব্যাখ্যা

এ দেশের অধিবাসীদের জীবনে ছিয়াত্তরের ভয়াবহ মন্বন্তরের ঐতিহাসিক ঘটনা যে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছিল তারই কাহিনি সহকারে উত্তরবঙ্গের সন্ন্যাসী বিদ্রোহ উপজীব্য করা হয়েছে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসে।

ইতিহাসের নিরূপিত তথ্যসীমায় লেখকের ধ্যানকল্পনা কতদূর প্রসার লাভ করতে পারে, সন্ন্যাসের গেরুয়া আংরাখায় আধুনিক স্বদেশপ্রেমের ইউনিফর্ম কতটা তৈরি হতে পারে, ছায়াপটে ভবিষ্যতের অস্ফুট সম্ভাবনা কতখানি সুস্পষ্টভাবে প্রক্ষিপ্ত হতে পারে, বঙ্কিমচন্দ্ৰ এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে তারই পরীক্ষা করেছেন।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১২.
বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. 'যুগলাঙ্গুরীয়'
  2. 'রাধারাণী'
  3. 'ইন্দিরা'
  4. ‘সীতারাম'
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশেষ উপন্যাস ‘সীতারামে' ক্ষুদ্র সামন্ত রাজ্যের উত্থানপতনের ইতিহাস, পারিবারিক জীবনের সমস্যা এবং বিপর্যস্ত ব্যক্তিচরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে।

‘ইন্দিরা', 'রাধারাণী' ও 'যুগলাঙ্গুরীয়' বঙ্কিমচন্দ্রের সংক্ষিপ্ত আকারের উপন্যাস । সম্ভবত ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তিনি সচেতন ছিলেন না, তাই এগুলো ছোটগল্প হতে পারে নি—সংক্ষিপ্ত উপন্যাস হিসেবেই এদের পরিচয় ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩.
বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসটি ‘দেশপ্রীতিমূলক উপদেশাত্মক’?
  1. 'ইন্দিরা'
  2. ‘রাজসিংহ'
  3. 'চন্দ্রশেখর'
  4. 'দেবী চৌধুরাণী'
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্রের কতকগুলো উপন্যাস ‘দেশপ্রীতিমূলক উপদেশাত্মক’—'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরাণী' ও 'সীতারাম' এই শ্রেণির অন্তর্গত ।

গীতার নিষ্কাম কর্ম ও দেশাত্মবোধ এই সব উপন্যাসে প্রচারিত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪.
প্রথম মহাযুদ্ধের সময় করাচি সেনানিবাসের ___________ নম্বর বাঙালি পল্টনের সৈনিক ছিলেন নজরুল।
  1. ৪৭
  2. ৪৯
  3. ৪৮
  4. ৪৬
ব্যাখ্যা

প্রথম মহাযুদ্ধের সময় করাচি সেনানিবাসের ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনের সৈনিক ছিলেন নজরুল।
পরবর্তীতে যুদ্ধের শেষে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে পল্টন ভেঙে দেওয়া হলে নজরুল কলকাতা এসে মুজাফফর আহমদের কথামতো ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির' অফিসে উঠেন।
বলে রাখা ভালো যে ‘মুসলিম ভারত' পত্রিকা নজরুলের কবি খ্যাতি লাভের পক্ষে প্রচুর সাহায্য করেছিল।
এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক মোজাম্মেল হক।

১৫.
নজরুল _______ কে অগ্নিবীণা কাব্য উৎসর্গ করেছেন।
  1. দীনেশরঞ্জন দাস
  2. ‘নলিনীকান্ত সরকার
  3. বারীন্দ্রকুমার
  4. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
ব্যাখ্যা

তিনি বারীন্দ্রকুমার ঘোষ কে অগ্নিবীণা কাব্য উৎসর্গ করেছেন।

অগ্নিযুগের অন্যতম পুরুষ ও স্বাধীনতাযজ্ঞের ঋত্বিক বারীন্দ্রকুমার ঘোষের সংস্পর্শে নজরুল বিপ্লববাদের যে প্রকৃতি উপলব্ধি করেছিলেন তার স্বরূপ দেখা যায় তার অগ্নিবীণা কাব্যের উৎসর্গ অংশে। যেখানে তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার কে অগ্নিবীণা কাব্য উৎসর্গ করেছেন।

১৬.
বাংলাদেশ সরকার নজরুলকে একুশে পদক প্রদান করেন-
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৪
  3. ১৯৭৩
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালে ২৪শে মে নজরুলকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭.
নজরুলের প্রথম পত্রিকা 'দৈনিক নবযুগ' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০
  2. ১৯২২
  3. ১৯২৩
  4. ১৯২৫
ব্যাখ্যা

 নজরুল মোট তিনটি পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন:

ক. দৈনিক নবযুগ-১৯২০ ( সান্ধ্য পত্রিকা)। এ পত্রিকার সাথে সংযুক্ত ছিলেন - কমরেড মোজাফফর আহমেদ ও শেরে বাংলা ফজলুল হক ।

খ. ধূমকেতু-১৯২২ (অর্ধ-সাপ্তাহিক)। ১৯২৩ সালে ব্রিটিশ সরকার এ পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

গ. লাঙ্গল-১৯২৫ ।

১৮.
'বিদ্রোহী কবিতা' প্রথম প্রকাশিত হয় কখন?
  1. ১৯২১ সালে ডিসেম্বর মাসে শেষ সপ্তাহে
  2. ১৯২২ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে
  3. ১৯২১ সালে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি
  4. ১৯২২ সালের জানুয়ারী মাসের ২য় সপ্তাহে
ব্যাখ্যা
১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারী বিজলীতে প্রথম ‘বিদ্রোহী' কবিতা প্রকাশিত হয়।

১৯২১ সালে ডিসেম্বর মাসে শেষ সপ্তাহে কলকাতায় ৩/৪ সি তালতলা লেনের বাড়ির নিচের তলায় বসে এই ‘বিদ্রোহী' কবিতা রচনা করেন।

উৎসঃ live MCQ  লেকচার শিট।
১৯.
'পূজারিণী' নামক বিখ্যত কবিতাটি নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থের?
  1. অগ্নিবীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. ছায়ানট
  4. দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা

দোলন-চাঁপার মধ্যে কবির প্রেম সম্পর্কিত অস্থির মানসিকতা ধরা পড়েছে।
কুমিল্লা বাসি জনৈক উকিলের কাছে শোনা প্রমীলার ডাকনাম ছিল দোলন।
দুলি এই নামের অপভ্রংশ।
হয়তো নজরুল তাকে উভয় নামে ডাকতেন।
কাব্যগ্রন্থটির নামকরণ হয়েছে সেই দোলনের: দোলন-চাঁপা নামে।
এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বিখ্যাত কিছু কবিতা হল – বেলাশেষে,পউষ, পূবের ছাতক, পূজারিণী, অভিশাপ, সাধের ভিখারিনী, কবি-রানী, 'আশা' ও 'শেষ প্রার্থনা'।

পূজারিণী হলো এই কাব্যগ্রন্থের শ্রেষ্ঠ কবিতা ।

২০.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য নয় কোনটি ?
  1. 'সন্ধ্যা'
  2. 'নতুন চাঁদ'
  3. 'মরু ভাস্কর'
  4. 'চন্দ্রবিন্দু'
ব্যাখ্যা

তাঁর গানের বই : 'বুলবুল', 'চোখের চাতক', 'চন্দ্রবিন্দু', 'সুরসাকী', 'জুলফিকার’, ‘বনগীতি’, ‘গুলবাগিচা’, ‘গানের মালা', 'গীতি শতদল'।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যসমূহের নাম : 'অগ্নিবীণা', 'দোলনচাঁপা', 'বিষেরবাঁশী', 'ভাঙার গান', 'প্রলয় শিখা', 'ছায়ানট', ‘পূবের হাওয়া', ‘সাম্যবাদী', 'চিত্তনামা', 'সর্বহারা', 'ফণিমনসা', 'সিন্ধু হিন্দোল', 'ঝিঙেফুল', 'সাত ভাই চম্পা', 'জিঞ্জীর', 'চক্রবাক', 'সন্ধ্যা', 'নতুন চাঁদ', 'মরু ভাস্কর' ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২১.
নজরুলের সর্বশেষ নিষিদ্ধ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ‘বিষের বাঁশি
  2. ভাঙার গান
  3. চন্দ্রবিন্দু
  4. প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

সমালোচক শিশির কর ‘নিষিদ্ধ নজরুল' নামক গ্রন্থে নজরুলের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নিয়ে বলেছেন: ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময়ে কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ করে।

১. প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম- যুগবাণী। ১৯২২ সালে ২৩ নভেম্বর ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
২. বিষের বাঁশি- ২য় নিষিদ্ধ গ্রন্থ । ১৯২৪ সালের ২২ অক্টোবর (মতান্তরে ২৪ অক্টোবর) ‘বিষের বাঁশি’নিষিদ্ধ হয়।
৩. ভাঙার গান
৪. প্রলয় শিখা
৫. চন্দ্রবিন্দু- সর্বশেষ নিষিদ্ধ গ্রন্থ।

২২.
'সাত-ইল-আরব' কবিতাটি নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থের?
  1. অগ্নিবীণা
  2. দোলনচাঁপা
  3. বিষের বাঁশি
  4. ছায়ানট
ব্যাখ্যা

 ‘অগ্নিবীণা’কাব্যের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস' এবং শেষ কবিতা 'মোহররম'।
‘প্রলয়োল্লাস' 'বিদ্রোহী', 'রক্তাম্বরধারিণী মা', 'আগমনী', 'ধূমকেতু'
'কামাল পাশা’ 'আনোয়ার', , 'রণভেরী', 'সাত-ইল-আরব', 'খেয়াপারের তরণী',
'কোরবানী', 'মোহররম'- এ ১২টি কবিতার সমন্বয়ে 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি রচিত।

২৩.
'মাহবুবা ' , 'রাবেয়া ' নজরুলের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. বাঁধনহারা
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

বাঁধনহারা নজরুলের প্রথম উপন্যাস এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম
প্রকৃত পত্রোপন্যাস। ১৯২১ সাল থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে
'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ছাপা হয়। এই উপন্যাসের প্রধান
চরিত্র: নুরুল হুদা, মাহবুবা, সাহসিকা, রাবেয়া।

২৪.
'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কোন কাব্যের প্রথম কবিতা ?
  1. সাম্যবাদী
  2. বিষের বাঁশি'
  3. 'দোলনচাঁপা'
  4. ঝিঙেফুল
ব্যাখ্যা

'দোলনচাঁপা' - এটি প্রেমের কাব্য। তাঁর স্ত্রী দুলির নামানুসারে এ কাব্যের নামকরণ করেন।
-'দোলনচাঁপা কাব্যের প্রথম কবিতা 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'।
-পূজারিণী এ কাব্যের অন্যতম কবিতা।

২৫.
নজরুলের প্রেমানুভূতিমূলক কাব্য গ্রন্থ নয় কোনটি ?
  1. ‘ছায়ানট'
  2. ‘সিন্ধুহিন্দোল’
  3. ‘চক্রবাক’
  4. ‘বিষের বাঁশী'
ব্যাখ্যা

‘অগ্নিবীণা', ‘বিষের বাঁশী' বিদ্রোহভাবমূলক কাব্যের পাশে ‘দোলন চাঁপা’, ‘ছায়ানট', ‘সিন্ধুহিন্দোল’, ‘চক্রবাক’প্রভৃতি প্রেমানুভূতিমূলক কাব্য গ্রন্থের নাম উল্লেখযোগ্য ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২৬.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পসংকলন কোনটি ? 
  1. 'ব্যথার দান'
  2. 'রিক্তের বেদন’
  3. ‘শিউলিমালা
  4. উপরের কোনটিই  নয় 
ব্যাখ্যা

তাঁর প্রথম গল্পসংকলন ‘ব্যথার দান' গদ্যকাব্য নামে প্রশংসা অর্জন করেছিল। 

'ব্যথার দান', 'রিক্তের বেদন’ ‘শিউলিমালা' গ্রন্থে তাঁর গল্পগুলো সংগৃহীত।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

২৭.
 'সুজাউদ্দৌলা' কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. অমিয়ধারা
  2. অশ্রুমালা
  3. শ্মশানভষ্ম
  4. মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা

কায়কোবাদ মহাশ্মশান' রচনায় শিল্পগত উৎকর্ষের মোটেই পরিচয় দিতে পারেননি অসংখ্য কাহিনি এতে স্থান পেয়েছে, কিন্তু কাহিনিগুলো বিচ্ছিন্ন ভাবে থাকার জন্য এর যেমন ধারাবাহিকতা নেই, তেমনি নেই কোন সুষ্ঠু পরিণতি।

এ কাব্যে নায়কোচিত কোন চরিত্র নেই।
 আহমদ শাহ আবদালী, নজীবদ্দৌলা, সুজাউদ্দৌলা প্রভৃতি চরিত্রের মধ্যে এমন পূর্ণতা নেই যাতে কাউকে নায়ক বলা চলে ।
চরিত্রগুলো অসম্পূর্ণ ও দুর্বল । কাহিনি আকস্মিকতায় পরিপূর্ণ। দীর্ঘ বক্তৃতা বা অহেতুক বর্ণনার অতিকথনদোষ এ কাব্যকে ত্রুটিযুক্ত করেছে।

মহাকাব্য রচনা করতে গিয়ে কায়কোবাদ গীতিস্রোতে ভেসে গেছেন ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

২৮.
 কোন কাব্যটি গীতিকবি হিসেবে কায়কোবাদের প্রতিভার সার্থক পরিচয়বাহক।
  1. শিব মন্দির
  2. অমিয়ধারা
  3. শ্মশানভষ্ম
  4. অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা

মহাকাব্য ছাড়া কায়কোবাদ গীতিকবিতা ও কাহিনিকাব্য রচনায় দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাস'(১৮৭০) ও ‘কুসুমকানন’ (১৮৭৩) অল্প বয়সের রচনা বলে গুরুত্বহীন।

‘অশ্রুমালা' (১৮৯৪) কাব্যটি গীতিকবি হিসেবে কায়কোবাদের প্রতিভার সার্থক পরিচয়বাহক। কাব্যটি এ কারণে তৎকালীন সুধীবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিল। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

২৯.
কায়কোবাদ এর আখ্যানকাব্য নয় কোনটি ? 
  1. শিব মন্দির
  2. অশ্রুমালা
  3. অমিয়ধারা
  4. শ্মশানভষ্ম
ব্যাখ্যা

মহাকাব্য ছাড়া কায়কোবাদ গীতিকবিতা ও কাহিনিকাব্য রচনায় দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাস'(১৮৭০) ও ‘কুসুমকানন’ (১৮৭৩) অল্প বয়সের রচনা বলে গুরুত্বহীন।

‘অশ্রুমালা' (১৮৯৪) কাব্যটি গীতিকবি হিসেবে কায়কোবাদের প্রতিভার সার্থক পরিচয়বাহক। কাব্যটি এ কারণে তৎকালীন সুধীবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিল। 

কায়কোবাদ পরবর্তী পর্যায়ে আখ্যানকাব্য রচনায় মনোযোগী হন। এই প্রসঙ্গে ‘শিব মন্দির’(১৯১৭), অমিয়ধারা (১৯২৩), শ্মশানভষ্ম (১৯২৪), মহরম শরীফ (১৯৩৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এসব কাব্যে কবি ইতিহাসপ্রীতি, স্বাজাত্যবোধ ও নীতিজ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু এগুলোতে কাব্যকলার উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।


উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৩০.
কাজী নজরুলের গানের বই কোনটি? 
  1. 'বুলবুল'
  2. 'ঝিঙেফুল'
  3. 'সাত ভাই চম্পা'
  4. 'জিঞ্জীর'
ব্যাখ্যা

তাঁর গানের বই : 'বুলবুল', 'চোখের চাতক', 'চন্দ্রবিন্দু', 'সুরসাকী', 'জুলফিকার’, ‘বনগীতি’, ‘গুলবাগিচা’, ‘গানের মালা', 'গীতি শতদল'।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যসমূহের নাম : 'অগ্নিবীণা', 'দোলনচাঁপা', 'বিষেরবাঁশী', 'ভাঙার গান', 'প্রলয় শিখা', 'ছায়ানট', ‘পূবের হাওয়া', ‘সাম্যবাদী', 'চিত্তনামা', 'সর্বহারা', 'ফণিমনসা', 'সিন্ধু হিন্দোল', 'ঝিঙেফুল', 'সাত ভাই চম্পা', 'জিঞ্জীর', 'চক্রবাক', 'সন্ধ্যা', 'নতুন চাঁদ', 'মরু ভাস্কর' ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩১.
কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. 'কাব্যে আমপারা'
  2. 'আলেয়া'
  3. 'পুতুলের বিয়ে'
  4. উপরের কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

তিনি কয়েকটি কাব্যানুবাদ করেছেন।
'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম', 'রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ', 'কাব্যে আমপারা' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। 
 
তাঁর গল্প-উপন্যাস হচ্ছে : 'ব্যথার দান', “রিক্তের বেদন', 'শিউলিমালা', 'বাঁধনহারা', 'কুহেলিকা', 'মৃত্যুক্ষুধা'।
তাঁর নাটক : ‘ঝিলিমিলি', 'আলেয়া', 'পুতুলের বিয়ে'। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৩২.
'নীলদর্পণ' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয় ? 
  1. ১৮৫৮
  2. ১৮৫৯
  3. ১৮৬০
  4. ১৮৬১
ব্যাখ্যা

দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক বেনামীতে মুদ্রিত 'নীলদর্পণ' (১৮৬০)
এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে।
নাটকটিতে নাট্যকারের প্রত্যক্ষ স্বজাতি-প্রেম এবং বিদেশী শাসকের প্রজাপীড়নের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
নাটকটির নাম ছিল 'নীলদর্পণম নাটকম' এবং বিজ্ঞপ্তিটি ছিল 'নীলকর-বিষধর-দংশনকাতর-প্রজা নিকর-ক্ষেমঙ্করেণ কেনাচৎ পথিকেনাভি প্রণীতম।'
নাটকে নাট্যকারের নাম ছিল না। অনুমান করা হয় এটি ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন এবং অনুবাদের প্রকাশক হিসেবে নাম থাকায় পাদ্রী রেভারেন্ড লং রাজদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৩৩.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন নয় কোনটি? 
  1. 'সধবার একাদশী'
  2. 'বিয়ে পাগলা বুড়ো'
  3. ‘জামাই বারিক’
  4. ‘নবীন তপস্বিনী'
ব্যাখ্যা

নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক । এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 

 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে । প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। এতে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

দীনবন্ধু মিত্রের ‘লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।

জামাই বারিক’ (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৩৪.
মীর মশাররফ হোসেনের প্রহসন কোনটি?
  1. 'জমীদার দর্পণ'
  2. 'বেহুলা গীতাভিনয়'
  3. ‘ভাই ভাই এইতো চাই'
  4. ‘টালা অভিনয়’
ব্যাখ্যা

নাট্যরচনায় মীর মশাররফ হোসেনের প্রতিভার নিদর্শন চারটি নাটক ও চারটি প্রহসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তাঁর নাটকগুলোর নাম : 'বসন্তকুমারী নাটক’, 'জমীদার দর্পণ', 'বেহুলা গীতাভিনয়' ও ‘টালা অভিনয়’;

প্রহসনগুলোর নাম : ‘এর উপায় কি, 'ভাই ভাই এইতো চাই', ‘ফাঁস কাগজ' ও 'একি’।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৩৫.
মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. 'রত্নবতী'
  2. 'বিষাদসিন্ধু'
  3. বসন্তকুমারী
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৯।

মশাররফ হোসেনের রচনাবলীর তালিকা দীর্ঘ এবং তা এরূপ :

উপন্যাস : 'রত্নবতী', 'বিষাদসিন্ধু', 'উদাসীন পথিকের মনের কথা', 'গাজী মিঞার বস্তানী', 'ইসলামের জয়', 'রাজিয়া খাতুন', 'তহমিনা', 'বাঁধা খাতা’, ‘নিয়তি কি অবনতি’।

নাটক : ‘বসন্তকুমারী নাটক’, ‘জমীদার দর্পণ', 'বেহুলা গীতাভিনয়’, ‘টালা অভিনয়’।

প্রহসন : 'এর উপায় কি’, 'ভাই ভাই এইত চাই', ‘ফাঁস কাগজ’, 'একি' ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৩৬.
কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের নাটক ?
  1. 'এর উপায় কি’
  2. 'গোজীবন'
  3. 'বেহুলা গীতাভিনয়’
  4. 'গাজী মিঞার বস্তানী'
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেনের নাটকঃ বেহুলা গীতাভিনয়’।

মশাররফ হোসেনের রচনাবলীর তালিকা দীর্ঘ এবং তা এরূপ :

নাটক : ‘বসন্তকুমারী নাটক’, ‘জমীদার দর্পণ', 'বেহুলা গীতাভিনয়’, ‘টালা অভিনয়’।

উপন্যাস : 'রত্নবতী', 'বিষাদসিন্ধু', 'উদাসীন পথিকের মনের কথা', 'গাজী মিঞার বস্তানী', 'ইসলামের জয়', 'রাজিয়া খাতুন', 'তহমিনা', 'বাঁধা খাতা’, ‘নিয়তি কি অবনতি’।

প্রহসন : 'এর উপায় কি’, 'ভাই ভাই এইত চাই', ‘ফাঁস কাগজ’, 'একি' ।

প্রবন্ধ : 'গোজীবন', 'খোতবা', 'মুসলমানের বাংলা শিক্ষা’, ‘আমার জীবনী', ‘হযরত ইউসোফ’, 'বিবি কুলসুম বা আমার জীবনীর জীবনী'।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৩৭.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রবন্ধ কোনটি?
  1. মতিচূর
  2. পদ্মরাগ
  3. অবরোধবাসিনী
  4. উপরের কোনটিই নয়
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) মতিচূর ও গ) অবরোধবাসিনী
প্রশ্ন অনুসারে অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য - 
মাহবুবুল আলম রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বইয়ে মতিচূর ও পদ্মরাগ উপন্যাস হিসেবে উল্লেখ আছে। 
তবে "মতিচূর" মূলগ্রন্থের ভূমিকা অনুসারে - 
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তিনি শিক্ষাব্রতী ও সাহিত্যসাধিকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
'অবরোধবাসিনী' প্রবন্ধ পুস্তকে নারীর দুঃখদুর্দশার চিত্র ফুটানো হয়েছে।

‘পদ্মরাগ’ তাঁর উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৮.
‘বেদের মেয়ে' জসীমউদ্দীনের ?
  1. গীতিনাট্য
  2. কাব্যনাট্য
  3. নৃত্যনাট্য
  4. সাংকেতিক নাটক
ব্যাখ্যা

কবি হিসেবে জসীম উদ্দীনের (১৯০২-৭৬) প্রধান পরিচয় প্রকাশ পেলেও তিনি কয়েকটি নাটকেরও রচয়িতা। তিনি তাঁর কাব্যের মত গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্য ও

সংস্কৃতি তাঁর নাটকে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।
‘পদ্মাপার’, ‘বেদের মেয়ে', 'মধুমালা', ‘পল্লীবধূ’, ‘ওগো পুষ্পধনু' প্রভৃতি তাঁর গীতিনাট্য। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৩৯.
জসীমউদ্দীনের কাব্য নয় কোনটি?
  1. ‘রূপবতী’
  2. 'মা যে জননী কান্দে'
  3. 'মাটির কান্না'
  4. ‘পল্লীবধূ’
ব্যাখ্যা

পদ্মাপার’, ‘বেদের মেয়ে', 'মধুমালা', ‘পল্লীবধূ’, ‘ওগো পুষ্পধনু' প্রভৃতি তাঁর গীতিনাট্য। ‘

তাঁর কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম : 'রাখালী', 'নকশী কাঁথার মাঠ', 'বালুচর', ‘ধানখেত’, ‘সোজন :

বাদিয়ার ঘাট', 'মাটির কান্না', 'হাসু', 'রঙিলা নায়ের মাঝি', 'এক পয়সার বাঁশি',

রূপবতী’, ‘গাঙের পাড়’, ‘সকিনা', 'মা যে জননী কান্দে', 'সুচয়নী' ইত্যাদি ।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪০.
ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন কোনটি?
  1. 'নৌফেল ও হাতেম'
  2. 'সিরাজাম মুনীরা'
  3. 'মুহূর্তের কবিতা'
  4. 'পাখির বাসা
ব্যাখ্যা

'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন।
'নৌফেল ও হাতেম' তাঁর কাব্যনাট্য।
ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম : ‘সাত সাগরের মাঝি', 'সিরাজাম মুনীরা', 'পাখির বাসা', 'হরফের ছড়া' ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৪১.
কোনটি ফররুখ আহমদের কাব্যনাট্য?
  1. হরফের ছড়া'
  2. নৌফেল ও হাতেম'
  3. 'মুহূর্তের কবিতা'
  4. হাতেমতায়ী"
ব্যাখ্যা

'নৌফেল ও হাতেম' তাঁর কাব্যনাট্য

'হাতেমতায়ী"(১৯৬৬) ফররুখ আহমদের কাহিনিকাব্য।

'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন

ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম : ‘সাত সাগরের মাঝি', 'সিরাজাম মুনীরা', 'পাখির বাসা', 'হরফের ছড়া' ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৪২.
‘সিন্দাবাদ' কবিতাটি কোন গ্রন্থের? 
  1. পাখির বাসা
  2. সিরাজাম মুনীরা
  3. হরফের ছড়া
  4. সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ (১৯১৮-৭৪) ইসলামি ভাবধারা অবলম্বনে কবিতা রচনা করে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
দেশবিভাগের আগেই ১৯৪৪ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি' প্রকাশিত হয়।
এ কাব্যের বিশেষ কয়টি কবিতা—সিন্দাবাদ', ‘পাঞ্জেরী', 'ডাহুক', 'লাশ', 'সাত সাগরের মাঝি' কবির প্রতিভার সার্থক নিদর্শন। '
সাত সাগরের মাঝি' কবির শ্রেষ্ঠকাব্য।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৪৩.
'পদ্মা' ফররুখ আহমদের কোন ধরণের রচনা?
  1. কাব্যনাট্য
  2. কাহিনিকাব্য
  3. সনেট
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

'পদ্মা' সনেট জাতীয় কবিতা।

'পদ্মা কবিতাটি কবির 'কাফেলা কাব্যগ্রন্থের ৫ সংখ্যক সনেট।

'বর্ষার প্লাবনে ঘরবাড়ি ,মানুষ সব ভাসিয়ে নিয়ে যায় পদ্মা । আবার পলিমাটির উর্বর ভূমিতে ফসল ফলিয়ে সৃষ্টিশীল হয়ে উঠে পদ্মা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।