পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৯৬
সিলেবাস
Exam - 28 Full Model Test-5 Topic ➝ Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৯৬ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি 'The Civil Courts Act, 1887' আইনের আওতায় দেওয়ানি আদালতের শ্রেণী নয়?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সিভিল জজ আদালত
  3. দায়রা জজ আদালত
  4. সিনিয়র সিভিল জজ আদালত
ব্যাখ্যা

⇒ সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭-এর ধারা ৩ অনুসারে বাংলাদেশে নিম্নলিখিত ৫ শ্রেণীর দেওয়ানি আদালত রয়েছে:
১. জেলা জজ আদালত
২. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত
৩. যুগ্ম জেলা জজ আদালত
৪. সিনিয়র সিভিল জজ আদালত
৫. সিভিল জজ আদালত

- দায়রা জজ আদালত একটি ফৌজদারি আদালত (Criminal Court), যা ফৌজদারি কার্যবিধি (Criminal Procedure Code) এর আওতায় গঠিত হয়। তাই এটি দেওয়ানি আদালতের শ্রেণীভুক্ত নয়।

.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ অনুযায়ী Mesne Profits কী?
  1. ইজারা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা
  2. সম্পত্তির উন্নয়নজনিত মুনাফা
  3. সরকারি রাজস্ব থেকে প্রাপ্ত মুনাফা
  4. অবৈধ অধিকারে আয়কৃত মুনাফা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২(১২) অনুসারে, "মধ্যবর্তী মুনাফা" (Mesne Profits) বলতে এমন সম্পত্তির লাভকে বোঝায় যা অবৈধভাবে (wrongful possession) দখলে থাকা ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে প্রাপ্ত করেছে বা সাধারণ পরিশ্রম (ordinary diligence) করে প্রাপ্ত করতে পারত, সেইসাথে এই লাভের উপর সুদ সহ। তবে, এতে অবৈধ দখলকারীর দ্বারা করা উন্নয়নজনিত (improvements) লাভ অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি সাধারণত অবৈধ দখলকারীকে সম্পত্তির মালিকের কাছে লাভ ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ২(১২) ধারা অনুসারে, বেআইনিভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনিভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।
ব্যতিক্রম: বেআইনিভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না ।
---------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section 2(12)- "mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received therefrom, together with interest on such profits but shall not include profits due to improvements made by the person in wrongful possession. 

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৬ অনুযায়ী, ডিক্রি জারি সংক্রান্ত বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে-
  1. শুধুমাত্র ডিক্রির ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র আদেশের (Order) ক্ষেত্রে
  3. ডিক্রি ও আদেশ উভয়ের ক্ষেত্রে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure, 1908) এর ধারা ৩৬ অনুসারে: "The provisions of this Code relating to the execution of decrees shall, so far as they are applicable, be deemed to apply to the execution of orders."

অর্থাৎ, এই কোডের ডিক্রির জারি (execution) সংক্রান্ত বিধানগুলি, যতদূর প্রযোজ্য, আদেশ (orders)-এর জারির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে গণ্য হবে। এটি ডিক্রি এবং আদেশ উভয়কেই কভার করে, যাতে একই নিয়মাবলী অনুসরণ করা যায়।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 36. Application to orders:
The provisions of this Code relating to the execution of decrees shall, so far as they are applicable, be deemed to apply to the execution of orders.

.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) বিধান কত সালে প্রথম সংযোজন করা হয়?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০৩ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure, 1908)-এ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (Alternative Dispute Resolution - ADR) বিধান প্রথম ২০০৩ সালে সংযোজন করা হয়। এটি Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2003 এবং পরবর্তীকালে Act No. XXXVI of 2003 দিয়ে কার্যকর হয়। এই সংশোধনের মাধ্যমে ধারা ৮৯ক (Section 89A - Mediation), ৮৯খ (Section 89B - Arbitration) এবং ৮৯গ (Section 89C - Application and commencement) যোগ করা হয়, যা সিভিল মামলায় মধ্যস্থতা (Mediation) এবং সালিশী (Arbitration)-এর মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে। প্রথমে এটি ঐচ্ছিক ছিল, কিন্তু ২০১২ সালের সংশোধনী (Code of Civil Procedure (Amendment) Act, 2012) দিয়ে মধ্যস্থতাকে বাধ্যতামূলক করা হয় ('may' শব্দটির পরিবর্তে 'shall' ব্যবহার করে)।

.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নিঃস্ব ব্যক্তির সম্পত্তি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোন সম্পত্তি বাদ দেওয়া হয়?
  1. ব্যাংক আমানত
  2. মামলার বিষয়বস্তু
  3. ব্যবসায়িক সরঞ্জাম
  4. ব্যক্তিগত যানবাহন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩, বিধি ১ এর Explanation অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র (necessary wearing-apparel) এবং মামলার বিষয়বস্তু (subject-matter of the suit)-কে সম্পত্তি হিসাবে গণনা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নিঃস্ব (Pauper) হিসাবে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য শর্ত হলো—প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ও মামলার বিষয়বস্তু বাদ দিয়ে অন্যান্য সম্পত্তির মূল্য ৫,০০০ টাকার বেশি না হওয়া।
- অন্য অপশনগুলো—ব্যাংক আমানত, ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত যানবাহন সম্পত্তির আওতায় পড়ে এবং সেগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান অনুসারে নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।
- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-33 Rule-1. Suits may be instituted in forma pauperis: Subject to the following provisions, any suit may be instituted by a pauper.
Explanation−A person is a "pauper" when he is not possessed of sufficient means to enable him to pay the fee prescribed by law for the plaint in such suit, or, where no such fee is prescribed, when he is not entitled to property worth five thousand Taka other than his necessary wearing-apparel and the subject-matter of the suit.

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারা অনুযায়ী অধস্তন আদালতের ভাষা নির্ধারণের ক্ষমতা কার আছে?
  1. সরকার
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. আদালতের বিচারক
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৩৭(২) অনুসারে, সরকার অধস্তন আদালতের ভাষা ঘোষণা করতে পারে এবং দরখাস্ত ও কার্যধারা লিখিতরূপে কোন রীতিতে হবে তা নির্ধারণ করতে পারে। ধারা ১৩৭(১)-এর মাধ্যমে এই আইন কার্যকর হওয়ার সময়ের ভাষা চলতে থাকে যতক্ষণ না সরকার অন্যভাবে নির্দেশ দেয়। অন্যান্য অপশনগুলো (সুপ্রিম কোর্ট, আদালতের বিচারক বা প্রধান বিচারপতি) এই নির্দিষ্ট ক্ষমতার অধিকারী নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারার বিধান: অধস্তন আদালতে ভাষা:
১) এই আইন কার্যকর হওয়ার সময় কোন হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন কোন আদালতে ভাষা যা ছিল, সরকার অন্যভাবে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেটাই উক্ত অধস্তন আদালতে ভাষা হিসাবে চলতে থাকবে।
২) অনুরূপ আদালতের ভাষা কি হবে এবং কোন রীতিতে অনুরূপ আদালত সমীপে দরখাস্ত এবং আদালতে কার্যধারা লিখিত হবে তা সরকার ঘোষণা করতে পারবে।
৩) যখন অনুরূপ কোন আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত অন্য কিছু লিখিতরূপে নিরূপণ করার জন্য এই আইন আদেশ প্রদান করে বা অনুমতি প্রদান করে, তখন অনুরূপ লিখন ইংরেজীতে হতে পারে; কিন্তু কোন পক্ষ বা তার আইনজীবী যদি ইংরেজীর সঙ্গে অপরিচিত হন, তবে তার অনুরোধে আদালতের ভাষায় উক্ত ইংরেজীর অনুবাদ তাকে সরবরাহ করা হবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, অনুবাদের খরচ প্রদানের ব্যাপারে সেরূপ আদেশনামা প্রদান করবে।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 137. Language of subordinate Courts:
(1) The language which, on the commencement of this Code, is the language of any Court subordinate to the High Court Division shall continue to be the language of such subordinate Court until the Government otherwise directs. 
(2) The Government may declare what shall be the language of any such Court and in what character applications to and proceedings in such Courts shall be written. 
(3) Where this Code requires or allows anything other than the recording of evidence to be done in writing in any such Court, such writing may be in English; but if any party or his pleader is unacquainted with English a translation into the language of the Court shall, at his request, be supplied to him; and the Court shall make such order as it thinks fit in respect of the payment of the costs of such translation.

.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার বিস্তারিত বিধান কোথায় পাওয়া যায়?
  1. আদেশ ৩৩
  2. আদেশ ৩৪
  3. আদেশ ৩৫
  4. আদেশ ৩৭
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার সাধারণ বিধান ধারা ৮৮-এ উল্লেখ থাকলেও, এই মোকদ্দমা দায়েরের পদ্ধতি, আরজির বিষয়বস্তু, শর্তাবলী এবং অন্যান্য বিস্তারিত বিধান আদেশ ৩৫-এ সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure, 1908)-এর ধারা ৮৮ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার সাধারণ বিধান বর্ণনা করে, যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই সম্পত্তি বা অর্থের উপর দাবি করলে এবং বাদীর (যিনি দাবির সম্মুখীন) সেই সম্পত্তির উপর কোনো স্বার্থ না থাকলে (শুধুমাত্র মোকদ্দমার খরচ ছাড়া) তিনি এই ধরনের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হলো আদালতের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যে সম্পত্তি কার কাছে অর্পণ করতে হবে এবং বাদীর কোনো ক্ষতিপূরণ (যদি থাকে) আদায় করা। বাদী এখানে নিরপেক্ষ থাকেন এবং কোনো পক্ষপাতিত্ব বা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকবেন না।

কিন্তু ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমার বিস্তারিত বিধান (যেমন আরজির বিষয়বস্তু, বিবাদীদের দাবি, জমা বা হস্তান্তর ইত্যাদি) আদেশ ৩৫ (Order XXXV)-এ বর্ণিত আছে। এই অর্ডারে নির্দিষ্ট করা হয়েছে:
- বিধি ১ (Rule 1): আরজিতে (plaint) উল্লেখ করতে হবে যে (ক) বাদীর মামলার বিষয়বস্তুতে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই (শুধুমাত্র খরচ বা ফি ছাড়া); (খ) বিবাদীদের দাবিগুলি পৃথকভাবে প্রণীত; (গ) বাদী এবং কোনো বিবাদীর মধ্যে কোনো যোগসাজস বা ষড়যন্ত্র নেই।
- বিধি ২ (Rule 2): বিবাদিত সম্পত্তি (যেমন টাকা বা সম্পত্তি) যদি আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে বাদীকে আদালতের হেফাজতে রাখতে হতে পারে।
- বিধি ৫ (Rule 5): প্রতিনিধি বা প্রজাগণ (representative or tenant) এই মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে না।
- এই অর্ডারে কমপক্ষে দুজন বিবাদী থাকতে হবে, এবং বাদী নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বাধ্য।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১২ক অনুযায়ী, তিন বারের বেশি মুলতবি নেওয়া হলে অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কত টাকা পরিশোধ করতে হবে?
  1. ন্যূনতম ১০০ টাকা, সর্বাধিক ৫০০ টাকা
  2. ন্যূনতম ২০০ টাকা, সর্বাধিক ১০০০ টাকা
  3. ন্যূনতম ৫০০ টাকা, সর্বাধিক ১০০০ টাকা
  4. ন্যূনতম ১০০০ টাকা, সর্বাধিক ৩০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১২ক(১) অনুসারে, আপিলের শুনানিতে কোনো পক্ষ যদি তিন বারের বেশি মুলতবি চায়, তাহলে আদালত তাকে ন্যূনতম ২০০ (দুইশ) টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ (এক হাজার) টাকা পর্যন্ত খরচ (cost) অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে। এই খরচ আদালত উপযুক্ত মনে করলে নির্ধারণ করবেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ এর বিধি ১২ক অনুসারে, আপিল শুনানির ক্ষেত্রে আদালত কোনো পক্ষের অনুরোধে সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বার মুলতবি (adjournment) দিতে পারবেন।
- তবে ৩ বারের বেশি মুলতবি দেওয়া হলে, আদালত ন্যূনতম ২০০ টাকা এবং সর্বাধিক ১০০০ টাকা খরচ অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দেবেন।
- যদি আপিলকারী এই খরচ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার আপিল খারিজ হয়ে যাবে।
- আর যদি প্রতিবাদী খরচ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আপিল একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হবে।
- একতরফাভাবে আপিল খারিজ বা নিষ্পত্তি হলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষ খারিজের তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে পুনরুজ্জীবনের আবেদন করতে পারবে।
- এই আবেদনের সঙ্গে আদালতের নির্ধারিত ন্যূনতম ২০০ টাকা ও সর্বাধিক ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে।
- প্রত্যেক পক্ষ এইরকম পুনরুজ্জীবনের সুযোগ একবারই পাবে।
- তবে আদালত যদি নিজে থেকে আপিল শুনানি মুলতবি করতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে, নইলে মুলতবির আদেশ দেবেন না।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-41 Rule-12A .Adjournment in appeal:
(1) The Appellate Court shall not grant more than three adjournments for hearing of an appeal at the instance of either party to the appeal, and any adjournment granted to a party beyond the aforesaid limit shall make such party liable to pay such cost which shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka to the other party as the Court may deem appropriate and determine, non-compliance with which, by the appellant shall render the appeal liable to be dismissed and, by the respondent shall render the appeal liable to be disposed of ex parte.
(2) An appeal dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (1) shall not be revived for hearing unless the party, for whose non-compliance the appeal was dismissed or disposed of ex parte, makes, within thirty days of such dismissal or ex parte disposal, an application to the court for such revival; and upon such application being made, the Court shall award such cost as shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka as it may deem appropriate and determine, and the cost being deposited, the appeal shall be revived for hearing without any further proceeding; and the cost deposited in the Court shall be paid by it to the other party:
Provided that no appeal shall be revived more than once at the instance of the same party under this rule.
(3) The Appellate Court shall not, of its own, order any adjournment at the stage of hearing of appeal without recording reasons therefor.

.
মোকদ্দমার আরজিতে (plaint) তথ্য প্রমাণের জন্য শপথপত্রের প্রয়োজনীয়তা কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২৬(১)
  2. ধারা ২৬(২)
  3. আদেশ ৭, বিধি ১
  4. আদেশ ৬, বিধি ১৪
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৬(২) সরাসরি নির্দেশ করে যে, "প্রতিটি আরজির তথ্য শপথপত্র দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে" (In every plaint, facts shall be proved by affidavit)। এটি আরজিতে উল্লিখিত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া।

অন্যান্য অপশনগুলোর ভূমিকা ভিন্ন:
- ধারা ২৬(১) মোকদ্দমা দায়েরের সাধারণ পদ্ধতি (আরজি দাখিল) বর্ণনা করে।
- আদেশ ৭, বিধি ১ আরজির অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু সম্পর্কিত।
- আদেশ ৬, বিধি ১৪ লিখিত বিবৃতির (pleading) সাধারণ নিয়ম সম্পর্কিত।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৬- মোকদ্দমা দায়ের করা:
(১) প্রতিটি মোকদ্দমা (suit) আরজি (plaint) দাখিলের দ্বারা দায়ের করতে হবে অথবা সেইভাবে, যা আইনে নির্ধারিত হতে পারে।
(২) প্রতিটি আরজির (plaint) তথ্য (facts) শপথপত্র (affidavit) দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 26- Institution of Suits:
(1) Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint or in such other manner as may be prescribed.
(2) In every plaint, facts shall be proved by affidavit.

১০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৭, বিধি-১০ অনুযায়ী আদালত কখন আরজি ফেরত দিতে পারে?
  1. যদি আরজিতে ত্রুটি থাকে
  2. যদি বিবাদী অনুপস্থিত থাকে
  3. যদি আদালতের আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার না থাকে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭, বিধি ১০(১) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, যদি আরজিটি এমন একটি আদালতে দায়ের করা হয়, যার মোকদ্দমাটি বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তাহলে আদালত যেকোনো পর্যায়ে আরজিটি ফেরত দিতে পারবে, যাতে তা সঠিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দায়ের করা যায়।

অন্যান্য অপশনগুলো এই বিধির আওতায় পড়ে না:
ক) আরজিতে ত্রুটি থাকলে আদালত সংশোধনের সুযোগ দিতে পারেন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন (আদেশ ৭, বিধি ১১)।
খ) বিবাদীর অনুপস্থিতি আরজি ফেরতের কারণ নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৭ বিধি-১০- যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।
(২) যখন আরজি ফেরত দেওয়া হয়, বিচারক তার ওপর আরজির দাখিলের এবং ফেরত দেওয়ার তারিখ, দাখিলকারী পক্ষের নাম এবং ফেরত দেওয়ার কারণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি লিখবেন।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-7, Rule-10. Return of plaint:
(1) The plaint shall at any stage of the suit be returned to be presented to the Court in which the suit should have been instituted.
-(2) Procedure on returning plaint: On returning a plaint the Judge shall endorse thereon the date of its presentation and return, the name of the party presenting it, and a brief statement of the reasons for returning it.

১১.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী ডিক্রিতে "টাকা ১০,০০০" এর পরিবর্তে "টাকা ১,০০,০০০" লেখা হয়েছে। এটি কোন ধারায় সংশোধনযোগ্য?
  1. ১৫১ ধারা
  2. ১৫২ ধারা
  3. ১৪৪ ধারা
  4. ১৫৩ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫২ অনুসারে, রায়, ডিক্রি বা আদেশে হওয়া করণিক বা গাণিতিক ভুল (clerical or arithmetical mistakes) অথবা আকস্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতি (accidental slip or omission) যেকোনো সময় আদালত নিজ উদ্যোগে বা কোনো পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে সংশোধন করতে পারেন।

- এখানে, ডিক্রিতে "টাকা ১০,০০০" এর পরিবর্তে "টাকা ১,০০,০০০" লেখা হয়েছে, যা একটি স্পষ্ট গাণিতিক বা করনিক ভুল এবং ধারা ১৫২-এর অধীনে সংশোধনযোগ্য।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ২০নং আদেশের বিধি ৩ অনুযায়ী-
- রায় ঘোষণা করার সময় বিচারক কর্তৃক তা তারিখসহ স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে এবং একবার স্বাক্ষরিত হলে ১৫২ ধারা অনুসারে কিংবা পুনরীক্ষণ ব্যতীত তা পরবর্তী কোন সময়ে সংশোধিত বা সংযোজিত হতে পারবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫২ ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমার রায়, ডিক্রি, আদেশ সংশোধন (Amendment of judgement, decree & order) করার বিধান রয়েছে।
এই ধারামতে, আদালত যে কোন সময় নিজ উদ্যোগে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে-
- করনিক বা গানিতিক ভুল (clerical or arithmetical mistakes),
- আকস্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির (accidental slip or omission) কারণে রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ সংশোধন করতে পারেন।

- উল্লেখ্য যে, দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫৩ ধারায় আদালতের দেওয়ানি মামলার কার্য ধারার ত্রুটি সংশোধন করার ক্ষমতা রয়েছে। ১৫৩ ধারামতে আদালত যে কোন সময় মোকদ্দমার কোন প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের জন্য মামলার কার্য ধারার ত্রুটি (any defect or error in any proceeding in a suit) সংশোধন করতে পারেন।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 152. Amendment of judgments, decrees or orders:
-Clerical or arithmetical mistakes in judgments, decrees or orders or errors arising therein from any accidental slip or omission may at any time be corrected by the Court either of its own motion or on the application of any of the parties.

১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৬, বিধি ১২ অনুসারে, সাক্ষীর অনুপস্থিতির জন্য আদালত সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা আরোপ করতে পারেন?
  1. ২০০ টাকা
  2. ৫০০ টাকা
  3. ১০০০ টাকা
  4. ২০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৬, বিধি ১২ এর বিধান অনুযায়ী, কোনো সাক্ষী আদালতের সমন পাওয়ার পরও যদি উপস্থিত না হন বা সন্তোষজনক কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হন, তাহলে আদালত তার জীবনযাত্রার অবস্থা ও মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ৫০০ (পাঁচশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৬ বিধি-১২: সাক্ষী হাজির হতে ব্যর্থ হলে কার্যপদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যক্তি হাজির না হয় বা হাজির হয়  কিন্তু আদালতকে ঐরূপ সন্তুষ্ট করতে না পারে, সেক্ষেত্রে আদালত তার জীবন যাপনের অবস্থা এবং মোকদ্দমায় যাবতীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার উপর আদালত ন্যায়সঙ্গত মনে করে এরূপ অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা আরোপ করতে পারে এবং তার সম্পত্তি কিংবা উহার যে কোন অংশ ক্রোক করার ও নিলাম বিক্রয় করার জন্য, অথবা যদি ১০ বিধি অনুসারে ইতোপূর্বে ক্রোকাবদ্ধ হয়ে থাকে, তবে তা উক্ত জরিমানার অংকসহ, যদি কোন, অনুরূপ ক্রোকের ব্যয় মিটানোর উদ্দেশ্যে নিলাম বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, ঐ ব্যক্তি উপরোক্ত খরচাদি এবং জরিমানা আদালতে পরিশোধ করলে আদালত তার সম্পত্তি ক্রোকমুক্ত হতে আদেশ দিবে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 16 Rule-12-Procedure if witness fails to appear: 
- The Court may, where such person does not appear, or appears but fails so to satisfy the Court, impose upon him such fine not exceeding five hundred Taka as it thinks fit, having regard to his condition in life and all the circumstances of the case, and may order his property, or any part thereof, to be attached and sold or, if already attached under rule 10, to be sold for the purpose of satisfying all costs of such attachment, together with the amount of the said fine, if any: Provided that, if the person whose attendance is required pays into Court the costs and fine aforesaid, the Court shall order the property to be released from attachment.

১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৯ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. Stay Order
  2. Review
  3. Revision
  4. Appeal to Supreme Court
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০৯-এর শিরোনামই হলো "When appeals lie to the Supreme Court" (সুপ্রিম কোর্টে কখন আপিল করা যায়)। এই ধারাটি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার ক্ষেত্র ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 109. When appeals lie to the Supreme Court.
- Subject to such rules as may, from time to time, be made by the Supreme Court regarding appeals from the Courts of Bangladesh, and to the provisions hereinafter contained, an appeal shall lie to the Appellate Division.
(a) from any Judgment, decree or final order passed on appeal by the High Court Division or by any other Court of final appellate jurisdiction; 
(b) from any Judgment, decree or final order passed by the High Court Division in the exercise of original civil jurisdiction; and 
(c) from any Judgment, decree or final order, when the case, as hereinafter provided, is certified to be a fit one for appeal to the Appellate Division.

১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৭ বিধি ১(৭) অনুসারে, মামলা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৭ বিধি ১(৭) অনুসারে, যদি মোকদ্দমা মুলতবি (স্থগিতকরণ) সংক্রান্ত খরচ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে খারিজ বা একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হয়, তবে সেই মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবনের জন্য দায়ী পক্ষকে ৩০ দিনের মধ্যে ২,০০০ টাকা খরচ সহ আদালতে আবেদন করতে হবে। আবেদন মঞ্জুর হলে মোকদ্দমা কোনো অতিরিক্ত প্রক্রিয়া ছাড়াই পুনরুজ্জীবিত হবে, এবং জমাকৃত খরচ অন্য পক্ষকে প্রদান করা হবে।
অর্থাৎ, মুলতবি সংক্রান্ত খরচ না দেওয়ায় মামলা খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে ২,০০০ টাকা খরচ জমা দিতে হবে।
--------- 
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 17 Rule-1. Court may grant time and adjourn hearing:
(7) A suit dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (3) or (4) shall not be revived for hearing unless the party, for whose noncompliance the suit was dismissed or disposed of ex parte, makes within thirty days of such dismissal or ex parte disposal, an application together with cost of two thousand taka into Court for such revival; and upon such application being made, the suit shall be revived for hearing without any further proceeding; and cost deposited into Court shall be paid to the other party.

১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭, বিধি ৪ অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে আদালতকে কী করতে হবে?
  1. প্রতিপক্ষকে নোটিশ দিতে হবে
  2. উচ্চ আদালতের অনুমোদন নিতে হবে
  3. আবেদনটি পুনরায় যাচাই করতে হবে
  4. আবেদনকারীর কাছ থেকে জরিমানা আদায় করতে হবে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৭, বিধি ৪(২)(ক) অনুসারে, পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে আদালতকে প্রতিপক্ষকে (opposite party) নোটিশ দিতে হবে। এই নোটিশের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আদালতে উপস্থিত হয়ে ডিক্রি বা আদেশের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। অন্য অপশনগুলো (যেমন উচ্চ আদালতের অনুমোদন নেওয়া, জরিমানা আদায় ইত্যাদি) এই বিধির অধীনে বাধ্যতামূলক নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮, আদেশ–৪৭, বিধি–৪ : আবেদন বাতিল বা মঞ্জুর করার নিয়ম:
(১) যখন আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে পুনর্বিবেচনার (review) আবেদনের জন্য যথেষ্ট কারণ বা ভিত্তি নেই, তখন আদালত উক্ত আবেদন বাতিল করবে।
(২) যদি আদালতের মতে পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করা উচিত হয়, তবে আদালত উক্ত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবে,
তবে নিম্নলিখিত শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে—
(ক) উক্ত আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে প্রতিপক্ষকে (opposite party) নোটিশ দিতে হবে, যাতে সে উপস্থিত হয়ে সেই ডিক্রি বা আদেশের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে, যার পুনর্বিবেচনা চাওয়া হয়েছে; এবং
(খ) যদি আবেদনকারী দাবি করেন যে নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ উদ্ঘাটিত হয়েছে, যা ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের সময় তার জ্ঞাত ছিল না বা পেশ করা সম্ভব ছিল না, তবে সে ক্ষেত্রে উক্ত দাবির কঠোর প্রমাণ (strict proof) ব্যতিরেকে কোনো আবেদন মঞ্জুর করা যাবে না।

১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি ৪ অনুসারে, মোকদ্দমার ইস্যু গঠনের সময় আদালত প্রয়োজন মনে করলে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইস্যু গঠন কত দিনের জন্য স্থগিত রাখতে পারবে?
  1. ১০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৭ দিন 
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-১৪ বিধি-৪ অনুসারে, যদি আদালত মনে করে যে কোনো ব্যক্তির পরীক্ষা বা কোনো দলিলের পরিদর্শন ছাড়া ইস্যু সঠিকভাবে গঠন করা সম্ভব নয়, তবে আদালত ইস্যু গঠন ১৫ দিনের বেশি স্থগিত করতে পারবে না। এই সময়সীমার মধ্যে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যক্তির উপস্থিতি বা দলিল উৎপাদনের জন্য সমন বা অন্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দেশ দিতে পারে। 
------ 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-14, Rule-4.Court may examine witness or documents before framing issues:
Where the Court is of opinion that the issues cannot be correctly framed without the examination of some person not before the Court or without the inspection of some document not produced in the suit, it may adjourn the framing of the issues to a day not later than fifteen days, and may (subject to any law for the time being in force) compel the attendance of any person or the production of any document by the person in whose possession or power it is by summons or other process.

১৭.
নিচের কোন ডিক্রির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৮(১) প্রযোজ্য নয়?
  1. অর্থ প্রদানের ডিক্রি
  2. নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি
  3. সম্পত্তি হস্তান্তরের ডিক্রি
  4. স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির ডিক্রি
ব্যাখ্যা

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৪৮(১) অনুসারে, একটি ডিক্রির জারি (এক্সিকিউশন) এর জন্য আবেদন করার সময়সীমা সাধারণত ১২ বছর।
তবে এই সময়সীমা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না:
- নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি (decree granting an injunction)
- যদি জজমেন্ট-ডেবটর প্রতারণা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ডিক্রি জারি বাধাগ্রস্ত করে (ধারা ৪৮(২)(ক) অনুযায়ী)
- তামাদি আইনের ১৮৩ ধারা প্রযোজ্য হয় এমন ক্ষেত্রে। 

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত:- নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়ে থাকলে ঐ একই ডিক্রি জারির জন্য নিম্নলিখিত তারিখ থেকে বার বৎসর পর প্রদত্ত কোন আবেদন অনুযায়ী একই ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ; বা
খ) কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশে আবেদনকারীর প্রার্থনা মতে কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ অথবা সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হলে, তা লঙ্ঘনের তারিখ।

২) এই ধারার কোন বিধানই-
ক) আবেদনের তারিখের অব্যাবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারি দেওয়ার ব্যাপারে রায়সিদ্ধ দেনাদার প্রতারণা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপস্থাপিত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারির আদেশদানে আদালতকে বিরত করবে না; বা
খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকারীতাকে সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে প্রভাবিত করবে না।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 48 Limit of Time for Execution:
 Execution barred in certain cases: (1) Where an application to execute a decree not being a decree granting an injunction has been made, no order for the execution of the same decree shall be made upon any fresh application presented after the expiration of twelve years from
(a) the date of the decree sought to be executed, or,
(b) where the decree or any subsequent order directs any payment of money or the delivery of any property to be made at a certain date or at recurring periods, the date of the default in making the payment or delivery in respect of which the applicant seeks to execute the decree.

(2) Nothing in this section shall be deemed:
(a) to preclude the Court from ordering the execution of a decree upon an application presented after the expiration of the said term of twelve years, where the judgment-debtor has, by fraud or force, prevented the execution of the decree at some time within twelve years immediately before the date of the application; or
(b) to limit or otherwise affect the operation of article 183 of the First Schedule to the Limitation Act, 1908.

১৮.
দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ-১১, বিধি-১ অনুযায়ী, মোকদ্দমার পক্ষ আদালতের অনুমতিতে ইস্যু গঠনের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে Interrogatories পাঠাতে পারবে? 
  1. ৭ দিন 
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১১ বিধি-১ (Order XI Rule 1) Discovery by interrogatories:
"In any suit the plaintiff or defendant by leave of the Court may, within ten days from the date of framing of issues, deliver interrogatories in writing..."
অর্থাৎ, মামলার ইস্যু (issues) গঠনের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বাদী বা বিবাদী আদালতের অনুমতি নিয়ে লিখিত প্রশ্নাবলী (Interrogatories) দিতে পারে।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১, বিধি ১ অনুযায়ী, মামলার কোনো পক্ষ আদালতের অনুমতিতে, ইস্যু গঠনের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিত প্রশ্নাবলী (Interrogatories) দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 11 Rule 1: Discovery by interrogatories:
- In any suit the plaintiff or defendant by leave of the Court may, within ten days from the date of framing of issues, deliver interrogatories in writing for the examination of the opposite parties or any one or more of such parties, and such interrogatories when delivered shall have a note at the foot thereof stating which of such interrogatories each of such persons is required to answer: Provided that no party shall deliver more than one set of interrogatories to the same party without an order for that purpose: Provided also that interrogatories which do not relate to any matters in question in the suit shall be deemed irrelevant, notwithstanding that they might be admissible on the oral cross-examination of a witness.

১৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে আপীলের স্মারকলিপির সাথে কোন নথি অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে?
  1. মামলার সমস্ত দলিল
  2. সাক্ষীদের হলফনামা
  3. নিম্ন আদালতের রেকর্ড 
  4. আপীলকৃত ডিক্রির নকল
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১, বিধি ১(১) অনুসারে, আপীলের স্মারকলিপির (memorandum) সাথে অবশ্যই যে ডিক্রি থেকে আপীল করা হচ্ছে তার একটি নকল (copy of the decree appealed from) সংযুক্ত করতে হবে। এছাড়া, (যদি না আপীল আদালত ছাড় দেয়) সেই রায়ের নকলও যার উপর ডিক্রি প্রতিষ্ঠিত, তা সংযুক্ত করতে হয়। অন্যান্য অপশনগুলো (মামলার সমস্ত দলিল, সাক্ষীদের হলফনামা বা নিম্ন আদালতের সম্পূর্ণ রেকর্ড) এই বিধির অধীনে বাধ্যতামূলক নয়; সেগুলো পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুসারে দাখিল করা যায়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১ এর বিধান আপীলের নমুনা স্মারকলিপির সঙ্গে যা থাকতে হবে:
-(১) প্রত্যেকটি আপীল আপীলকারী বা তার উকিল কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি স্বারকলিপির আকারে পেশকরতে হবে এবং আদালত বা এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মচারীর নিকট দাখিল করতে হবে। যে ডিক্রি হতে আপীল করা হচ্ছে এবং (যদি না আপীল আদালত ইহার প্রয়োজনীয়তা শেষ করেন) যে রায়ের উপর উহা প্রতিষ্ঠিত, তার একটি নাকল স্বারকলিপির সঙ্গে প্রদান করতে হবে।

(২) স্মারকলিপির সারমর্মঃ যে ডিক্রি হতে আপীল করা হচ্ছে, সেই ডিক্রি সম্পর্কে আপত্তির সঙ্গত কারণগুলি সংক্ষেপে এবং স্পষ্ট শিরোনামে স্বারকলিপিতে কোন তর্ক বা ধারাবাহিক বর্ণনা ব্যতিত ব্যাখ্যা করতে হবে, এবং এরূপ সঙ্গত কারণগুলি ধারাবাহিক নম্বর যুক্ত হতে হবে।
--------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-41 Rule-1.Form of appeal. What to accompany memorandum:
(1) Every appeal shall be preferred in the form of a memorandum signed by the appellant or his pleader and presented to the Court or to such officer as it appoints in this behalf. The memorandum shall be accompanied by a copy of the decree appealed from and (unless the Appellate Court dispenses therewith) of the Judgment on which it is founded. 

- Contents of memorandum:
(2) The memorandum shall set forth, concisely and under distinct heads, the grounds of objection to the decree appealed from without any argument or narrative; and such grounds shall be numbered consecutively. 

২০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৪২ অনুসারে, এই আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে প্রদত্ত বা জারিকৃত সকল আদেশ ও নোটিশ কীভাবে হতে হবে?
  1. লিখিতভাবে
  2. মৌখিকভাবে
  3. ইলেকট্রনিকভাবে
  4. মৌখিক বা লিখিত যেকোনোভাবে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৪২ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, এই কোডের বিধানাবলি অনুসারে কোনো ব্যক্তিকে জারিকৃত বা প্রদত্ত সমস্ত আদেশ এবং নোটিশ অবশ্যই লিখিত আকারে হতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪২ ধারার বিধান:- আদেশ ও নোটিশ লিখিত হতে হবে:
- এই আইনের বিধানানুযায়ী কোন ব্যক্তির প্রতি জারি বা প্রদত্ত সকল আদেশ এবং নোটিশ লিখিতভাবে হবে।
-------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section:142: Orders and notices to be in writing.
- All orders and notices served on or given to any person under the provisions of this Code shall be in writing.

২১.
একজন ভাড়াটিয়া ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাড়ি খালি না করলে, বাড়ির মালিক সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন?
  1. ধারা ৯
  2. ধারা ৩১
  3. ধারা ৩৬
  4. ধারা ৪২
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯ (Recovery of specific immovable property) অনুযায়ী: "যদি কোনো ব্যক্তি তার স্থাবর সম্পত্তির দখল থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত হয়, তবে সে আদালতে মামলা দায়ের করে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।"
- ভাড়াটিয়া যদি ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাড়ি না ছাড়ে, তাহলে সে বেআইনি দখলদার (trespasser) হয়ে যায়।
- বাড়ির মালিক ধারা ৯ এর আওতায় "possession" পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে পারেন।
- এটি দ্রুত প্রতিকার (summary remedy) এবং মালিকানার প্রশ্ন উঠে না — শুধু দখলের অধিকার দেখতে হবে।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৯-এ স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ প্রতিকারের বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনিভাবে বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অন্যের স্থাবর সম্পত্তি (যেমন: বাড়ি, জমি) দখলে রাখে, তাহলে সম্পত্তির প্রকৃত মালিক এই ধারা অনুযায়ী একটি সরলীকৃত মামলার মাধ্যমে দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন।

২২.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারাগুলোতে রয়েছে?
  1. ধারা ৮-১১
  2. ধারা ১২-৩০
  3. ধারা ৩১-৩৫
  4. ধারা ৩৬-৪২
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ১২ থেকে ধারা ৩০ পর্যন্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (Specific Performance of Contract) সংক্রান্ত বিধানসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে।

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এ মোট ৮ ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
 এই প্রতিকারগুলো হলো:
১. স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৮-১১):
- এই ধারাগুলোতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের বিধান রয়েছে।
২. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২-৩০):
- এই ধারাগুলোতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (Specific Performance of Contracts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৩. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১-৩৪):
- এই ধারাগুলোতে দলিল সংশোধন (Rectification of Instruments) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৪. চুক্তি বাতিল (ধারা ৩৫-৩৮):
- এই ধারাগুলোতে চুক্তি বাতিল (Rescission of Contracts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৫. দলিল বাতিল (ধারা ৩৯-৪১):
- এই ধারাগুলোতে দলিল বাতিল (Cancellation of Instruments) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৬. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২-৪৩):
- এই ধারাগুলোতে ঘোষণামূলক প্রতিকার (Declaratory Relief) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৭. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪):
- এই ধারায় রিসিভার নিয়োগ (Appointment of Receiver) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৮. নিষেধাজ্ঞা/প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (ধারা ৫২-৫৭):
- এই ধারাগুলোতে নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Injunctions) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

২৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৬ অনুসারে, প্রতিরোধমূলক প্রতিকার কোন ধারার অধীনে পড়ে?
  1. ধারা ৫(ঘ)
  2. ধারা ৫(গ)
  3. ধারা ৫(খ)
  4. ধারা ৫(ক)
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫(গ) ধারার অধীনে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief) প্রদান করা হয়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫(গ) ধারা অনুযায়ী:
- “কোনো পক্ষকে এমন কিছু করা থেকে বিরত রাখা, যা করা তার জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী।”
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৬ অনুযায়ী:
- এই প্রতিরোধমূলক প্রতিকার-কে "Preventive Relief" বলা হয়। এটি সাধারণত আদালতের আদেশের (Injunction) মাধ্যমে প্রদান করা হয় যাতে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ অন্যের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।

⇒ উদাহরণ:
- কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে অন্যের জমিতে প্রবেশ করতে চায়, আদালত প্রতিরোধমূলক আদেশ জারি করে তাকে তা করতে নিষেধ করতে পারে।
- কোনো সংস্থা যদি অবৈধভাবে কপিরাইট লঙ্ঘন করে, আদালত প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হিসাবে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে পারে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 5. Specific relief how given:
 Specific relief is given- 
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.

⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-6. Preventive relief:
- Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.

২৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে উল্লিখিত প্রতিকার কোন শ্রেণির মামলার সাথে সম্পর্কিত?
  1. দেওয়ানি মামলা
  2. ফৌজদারি মামলা
  3. প্রশাসনিক মামলা
  4. শ্রম আদালতের মামলা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) এমন একটি আইন যা মূলত দেওয়ানি মামলাগুলির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিকার বা সাহায্য প্রদান করে। এর মাধ্যমে আদালত একটি নির্দিষ্ট শাস্তির পরিবর্তে, ব্যক্তির অধিকার বা দাবির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। "সুনির্দিষ্ট প্রতিকার" বলতে এমন প্রতিকার বোঝানো হয় যা শুধুমাত্র সঠিক এবং নির্দিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বিচার করা হয়, যেমন সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া, বিশেষ পারফরমেন্সের আদেশ, বা কোনও চুক্তির কার্যকরী বাস্তবায়ন।
- এটি মূলত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং এমন প্রতিকার যা কিছু নির্দিষ্ট দাবি বা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকে:
→ নির্দিষ্ট পারফরমেন্স
→ চুক্তির বাস্তবায়ন
→ কোনো সম্পত্তি বা প্রপার্টি ফেরত নেওয়া
→ অবৈধ দখল থেকে অবমুক্তি ইত্যাদি
অর্থাৎ, এটি দেওয়ানি মামলার প্রতিকার, যা সাধারাণত একটি ন্যায্যতা বা সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

প্রস্তাবনা:
যেহেতু কিছু নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত আইন নির্ধারণ এবং সংশোধন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; তাই এটি নিম্নরূপ প্রবর্তিত হলো:-
--------
Preamble:
WHEREAS it is expedient to define and amend the law relating to certain kinds of specific relief obtainable in civil suits; It is hereby enacted as follows:

২৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুসারে, প্রতিরোধমূলক প্রতিকার কীভাবে প্রদান করা হয়?
  1. ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে
  2. সম্পত্তি দখলের মাধ্যমে
  3. ইনজাংশনের মাধ্যমে
  4. চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual." (প্রতিরোধমূলক প্রতিকার আদালতের বিবেচনায় ইনজাংশনের মাধ্যমে, যা অস্থায়ী বা স্থায়ী হতে পারে, মঞ্জুর করা হয়।)
- অর্থাৎ, প্রতিরোধমূলক প্রতিকার প্রদানের মাধ্যম হলো ইনজাংশন (Injunction)। এটি দু'প্রকার: ১) অস্থায়ী ইনজাংশন (Temporary Injunction) ২) স্থায়ী ইনজাংশন (Perpetual Injunction)।
অন্য অপশনগুলো যেমন ক্ষতিপূরণ, সম্পত্তি দখল বা চুক্তি সংশোধন এই ধারায় প্রতিরোধমূলক প্রতিকার হিসেবে উল্লেখিত নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুরের প্রক্রিয়া:- আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

⇒ The Specific Relief Act, 1877,- Section 52 Preventive relief how granted: Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.

২৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় কতটি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না তার তালিকা দেওয়া আছে?
  1. ৯টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

⇒ কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায় না তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারামতে নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। যথা-
i) বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত;
ii) অধীন নয় এরূপ আদালতের কার্যধারা স্থগিত;
iii) আইন প্রণয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদনে বাধা;
iv) সরকারি দপ্তর বা বিদেশি সরকারের কার্যে হস্তক্ষেপ;
v) ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত;
vi) অবলবৎযোগ্য চুক্তিভঙ্গ নিরোধের প্রশ্নে
vii) উৎপাত (nuisance) নয় এমন কাজ নিরোধের জন্য;
viii) বাদীর মৌন সম্মতির প্রশ্নে;
ix) অন্য কোন পদ্ধতিতে একই প্রতিকারের ক্ষেত্রে;
x) বাদীর আচরণ আদালতের সাহায্য পেতে বঞ্চিত করলে; অথবা
xi) মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোনো স্বার্থ না থাকলে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-56. Injunction when refused:- An injunction cannot be granted-
(a) to stay a judicial proceeding pending at the institution of the suit in which the injunction is sought, unless such restraint is necessary to prevent a multiplicity of proceedings;
(b) to stay proceedings in a Court not subordinate to that from which the injunction is sought;
(c) to restraint persons from applying to any legislative body;
(d) to interfere with the public duties of any department of the Government, or with the sovereign acts of Foreign Government;
(e) to stay proceedings in any criminal matter;
(f) to prevent the breach of a contract the performance of which would not be specifically enforced;
(g) to prevent, on the ground of nuisance, an act of which it is not reasonably clear that it will be a nuisance;
(h) to prevent a continuing breach in which the applicant has acquiesced;
(i) when equally efficacious relief can certainly be obtained by any other usual mode of proceeding except in case of breach of trust;
(j) when the conduct of the applicant on his agents has been such as to disentitle him to the assistance of the Court;
(k) where the applicant has no personal interest in the matter.

২৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারা অনুসারে চুক্তি সংশোধনের জন্য আদালত কোন বিষয়ে অনুমান করে?
  1. চুক্তির তারিখ
  2. সাক্ষীদের সংখ্যা
  3. পক্ষসমূহের অভিপ্রায়
  4. পক্ষসমূহের আর্থিক অবস্থা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার শিরোনাম ও বিষয়বস্তুই হলো "পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান" (Presumption as to intent of parties)।
- ধারাটিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে: লিখিত চুক্তি সংশোধনের জন্য আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য (অভিপ্রায়) ছিল একটি সুষম ও সুবিচারমূলক (equitable and conscientious) চুক্তি সম্পাদন করা।
সুতরাং, আদালত চুক্তি সংশোধন করার সময় পক্ষগুলোর মূল অভিপ্রায় কী ছিল তা যাচাই করে, চুক্তির তারিখ, সাক্ষীর সংখ্যা বা পক্ষগুলোর আর্থিক অবস্থা নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার বিধান: পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
- লিখিত চুক্তি সংশোধন করবার উদ্দেশ্যে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষম ও সুবিচারমূলক চুক্তি সম্পাদন করা।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 Section:-32. Presumption as to intent of parties:
- For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.

২৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১ক কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. দলিল সংশোধন
  2. রিসিভার নিয়োগ
  3. বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা
  4. নিষেধাজ্ঞা প্রদান
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১ক সরাসরি স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা-এর সাথে সম্পর্কিত। এই ধারা অনুসারে, কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. চুক্তিটি লিখিত এবং রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।
২. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলা দায়েরের সময় আদালতে জমা দিতে হবে।
- এই ধারার শিরোনামই হলো "অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য"।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

২৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. সরকারি হার অনুসারে
  2. উভয় পক্ষের সম্মতিতে
  3. চুক্তিতে উল্লিখিত হার অনুসারে
  4. আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার শেষ অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।"
সুতরাং, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি সরকারি হার, পক্ষগুলোর সম্মতি বা চুক্তিতে উল্লিখিত হার দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।
- এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা: চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 19: Power to award compensation in certain cases:
Any person suing for the specific performance of a contract may also ask for compensation for its breach, either in addition to, or in substitution for, such performance.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought not to be granted, but that there is a contract between the parties which has been broken by the defendant and that plaintiff is entitled to compensation for that breach, it shall award him compensation accordingly.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought to be granted, but that it is not sufficient to satisfy the justice of the case, and that some compensation for breach of the contract should also be made to the plaintiff, it shall award him such compensation accordingly.
Compensation awarded under this section may be assessed in such manner as the Court may direct.
Explanation - The circumstance that the contract has become incapable of specific performance does not preclude the Court from exercising the jurisdiction conferred by this section.

৩০.
রিসিভার নিয়োগের বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ৯
  2. ধারা ৩৬
  3. ধারা ৪২
  4. ধারা ৪৪
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৪৪-এ রিসিভার নিয়োগের বিধান রয়েছে। আদালতের এই ক্ষমতা একটি discretionary power বা বিচারাধীন ক্ষমতা, যা ন্যায়বিচার ও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতির প্রয়োজনে প্রয়োগ করা হয়।

⇒ তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভারের সংজ্ঞা (Definition of receiver)- আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে। অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন। রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারার বিধান তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক: -প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স—তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।
⇒ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কিন্তু কখন কী প্রয়োজনে আদালত রিসিভার নিয়োগ করবেন বা রিসিভারের দায়িত্ব কর্তব্য বা অধিকার কী হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশের ১ থেকে ৫ বিধিতে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 44 Appointment of receivers discretionary: The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
Reference to Code of Civil Procedure: The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.

৩১.
সর্বপ্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক ফৌজদারি কার্যবিধি কত সালে পাশ করা হয়?
  1. ১৮৯৮ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৯০৮ সালে
ব্যাখ্যা

⇒  ১৮৬১ সালের পূর্বে ব্রিটিশ ভারতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা বিভিন্ন স্থানীয় প্রথা, রেগুলেশন এবং মুসলিম আইন দ্বারা পরিচালিত হতো। এই ব্যবস্থায় একতা ছিল না।
⇒  ১৮৬১ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি: এটি ছিল ব্রিটিশ ভারত জুড়ে ফৌজদারি পদ্ধতির জন্য প্রণীত প্রথম সমন্বিত এবং সাধারণ আইন বা কোড। এই আইনটি একটি অভিন্ন বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাইলফলক ছিল।
⇒  পরবর্তী কোডসমূহ: ১৮৬১ সালের আইনটি পরে ১৮৭২, ১৮৮২ এবং অবশেষে ১৮৯৮ সালের কোড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে (বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত) দীর্ঘকাল ধরে মৌলিক আইন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে (যদিও ভারত ১৯৭৩ সালে নতুন আইন করেছে)।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি মূলত একটি পদ্ধতিগত আইন যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Adjective law বা Procedural law, সিভিল বা দেওয়ানী মামলায় যেমন দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসরণ করে মামলা মোকদ্দমার প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, তেমনি সকল প্রকার ক্রিমিনাল মামলাতেও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হয়, যদি না আইনে ভিন্ন কিছু বলা থাকে।

⇒ ফৌজদারি আদালতের গঠন এবং ক্ষমতা থেকে শুরু করে, অভিযোগ দায়ের, আসামী গ্রেফতার, তদন্ত, মামলা আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন, অব্যাহতি, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায়, খালাস, মুক্তি, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল বিষয় ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারী কার্যবিধি পাশ করা হয়। যদিও পরবর্তীতে ১৮৭২, ১৮৮২ এবং ১৮৯৮ সালে  সংস্কার করে কার্যকর করা হয়। বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি আইনটি ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই হতে কার্যকর আছে। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ধারা ৫৬৫ টি এবং মোট তফসিল ছিল ৫টি, যার মধ্যে ১ টি বাতিল করা হয়েছে। যার ফলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্তমানে বলবৎ আছে ৪ টি তফসিল।

৩২.
“পাবলিক প্রসিকিউটর” কে নিয়োগ করেন?
  1. পুলিশ
  2. সরকার
  3. হাইকোর্ট
  4. ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৯২ অনুসারে, পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের (Government) রয়েছে। - ধারা ৪(t)-তে "পাবলিক প্রসিকিউটর" এর সংজ্ঞায়ও এটি স্পষ্ট করা হয়েছে। পাবলিক প্রসিকিউটর ফৌজদারি মামলায় রাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারার বিধান:- পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতা:-
(১) সরকার, সাধারণভাবে বা কোনো নির্দিষ্ট মামলা, বা মামলার কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য, এবং কোনো নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকার জন্য, “পাবলিক প্রসিকিউটর” নামে একজন বা একাধিক কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে পারবেন।
(২) পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে, অথবা যেখানে কোনো পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করা হয়নি, সেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সরকারের নির্ধারিত পদমর্যাদার নিচের কোনো পুলিশ অফিসার না হন — এমন অন্য কোনো ব্যক্তিকে উক্ত মামলার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-492: Power to appoint Public Prosecutor:
(1) The Government may appoint, generally, or in any case, or for any specified class of cases, in any local area, one or more officers to be called Public Prosecutors.
(2) The District Magistrate may, in the absence or the Public Prosecutor, or where no Public Prosecutor has been appointed, appoint any other person, not being an officer of police below such ranks as the Government may prescribe in this behalf to be Public Prosecutor for the purpose of any case.

৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর বিধান অনুসারে Chief Judicial Magistrate-এর অধীনে কারা থাকবে?
  1. Sessions Judge
  2. Executive Magistrates
  3. Judicial Magistrates
  4. Metropolitan Magistrates
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৭(২) অনুসারে, গ) Judicial Magistrates সঠিক উত্তর।
- ধারা ১৭(২) এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “All Judicial Magistrates appointed under section 11 and 12 (3) and all Benches constituted under section 15 shall be subordinate to the Chief Judicial Magistrate...”
অর্থাৎ, Chief Judicial Magistrate-এর অধীনে থাকবে: অন্যান্য Judicial Magistrates (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণির) এবং Benches of Judicial Magistrates.

ফৌজদারি কার্যবিধির কাঠামো অনুযায়ী:
Chief Judicial Magistrate (CJM): তিনি জেলার প্রধান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং তার প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক বন্টন (distribution of business) ক্ষমতা তার অধীনস্থ সকল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপর প্রযোজ্য। তার অধীনে থাকেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ।
Sessions Judge: জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সহ) প্রশাসনিকভাবে সেশন জজের (Sessions Judge) অধীনস্থ। তবে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজস্ব বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন।
Executive Magistrates: ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকেন এবং তারা মূলত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ইত্যাদি নির্বাহী কাজ করেন। তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে নন।
Metropolitan Magistrates: মহানগর এলাকার জন্য সমান্তরাল পদ হলো চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM), যার অধীনে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ থাকেন। তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে নন, বরং মেট্রোপলিটন সেশন জজের অধীনে থাকেন। 
- সুতরাং, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি অধীনস্থ হলেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ।

৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৮০-এর অধীনে অর্থদণ্ড না দিলে সর্বোচ্চ কতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ১৫ দিন
  2. ১ মাস
  3. ২ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারায় আদালত অবমাননার (Contempt of Court) শাস্তি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। ধারা ৪৮০ অনুযায়ী আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা অর্থদণ্ড বা অর্থদণ্ড না দিলে সর্বোচ্চ ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারার বিধান- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি-
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারী বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লেখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হবার পূর্বে যেকোন সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
 -------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-480: Procedure in certain cases of contempt-
When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid. 

৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ অনুযায়ী, যখন একজন পুলিশ কর্মকর্তা সাত বছরের কম মেয়াদের অপরাধে কাউকে গ্রেপ্তার করেন, তখন তার কী করা বাধ্যতামূলক?
  1. গ্রেপ্তারের আগে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নেওয়া।
  2. গ্রেপ্তারের কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করা।
  3. গ্রেপ্তারের সময় একজন সাংবাদিককে উপস্থিত থাকতে দেওয়া।
  4. গ্রেপ্তারের কারণ মৌখিকভাবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে জানানো।
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪(১) দ্বিতীয়ত অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "the police-officer shall record while making such arrest, his reasons in writing" (পুলিশ অফিসার এই ধরনের গ্রেপ্তার করার সময় তার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করবেন)।
- এটি বিশেষভাবে সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন সাত বছরের কম বা সর্বোচ্চ সাত বছর সাজার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয় এবং গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা উপ-শর্ত (ii) এর (ক) থেকে (ঙ) অনুসারে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।
- সুতরাং, গ্রেপ্তারের কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করা বাধ্যতামূলক।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪ "কখন পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে" (When police may arrest without warrant)
(১) যেকোনো পুলিশ অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং ওয়ারেন্ট ছাড়াই নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পারেন:
প্রথমত, যে কোনো ব্যক্তি যিনি একজন পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে একটি আমলযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) করেন;
দ্বিতীয়ত, যে কোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ করা হয়েছে, বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে, বা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ বিদ্যমান যে তিনি এমন একটি আমলযোগ্য অপরাধ করেছেন যা সাত বছরের কম মেয়াদের বা সাত বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হতে পারে, জরিমানা সহ বা ছাড়া, যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ হয়, যথা:—
(i) পুলিশ অফিসারের কাছে এই ধরনের অভিযোগ, তথ্য বা সন্দেহের ভিত্তিতে বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে ওই ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধ করেছেন; এবং
(ii) পুলিশ অফিসার সন্তুষ্ট হন যে এই ধরনের গ্রেপ্তার করা নিম্নলিখিত কারণে প্রয়োজনীয়:—
(ক) ওই ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ করা থেকে বিরত রাখা; বা
(খ) অপরাধের যথাযথ তদন্তের জন্য; বা
(গ) ওই ব্যক্তিকে অপরাধের প্রমাণ অদৃশ্য করা বা কোনোভাবে সেই প্রমাণ নষ্ট করা থেকে বিরত রাখা; বা
(ঘ) ওই ব্যক্তিকে মামলার ঘটনা সম্পর্কে পরিচিত কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচনা, হুমকি বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত রাখা, যাতে তিনি আদালতে বা পুলিশ অফিসারের কাছে সেই ঘটনা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন; বা
(ঙ) যেহেতু ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না করলে, যখনই প্রয়োজন হবে তখন আদালতে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাবে না;
এবং পুলিশ অফিসার এই ধরনের গ্রেপ্তার করার সময় তার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যে সকল ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধানাবলী অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হয় না, সেখানে পুলিশ অফিসার গ্রেপ্তার না করার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করবেন;
তৃতীয়ত, যে কোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে যে তিনি এমন একটি আমলযোগ্য অপরাধ করেছেন যা সাত বছরের বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হতে পারে, জরিমানা সহ বা ছাড়া, বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় এবং পুলিশ অফিসারের কাছে সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে ওই ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধ করেছেন;
চতুর্থত, যে কোনো ব্যক্তি যার দখলে বৈধ অজুহাত ব্যতীত, যে অজুহাত প্রমাণের ভার তার উপর বর্তাবে, ঘর ভাঙার কোনো সরঞ্জাম থাকে;
পঞ্চমত, যে কোনো ব্যক্তি যাকে এই কোডের অধীনে বা সরকারের আদেশ দ্বারা অপরাধী হিসাবে ঘোষিত করা হয়েছে;
ষষ্ঠত, যে কোনো ব্যক্তি যার দখলে এমন কিছু পাওয়া যায় যা যুক্তিসঙ্গতভাবে চুরি করা সম্পত্তি বলে সন্দেহ করা যেতে পারে এবং যাকে যুক্তিসঙ্গতভাবে সেই জিনিস সম্পর্কিত অপরাধ করার জন্য সন্দেহ করা যেতে পারে;
সপ্তমত, যে কোনো ব্যক্তি যিনি একজন পুলিশ অফিসারকে তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, বা যিনি আইনানুগ হেফাজত থেকে পালিয়েছেন বা পালানোর চেষ্টা করছেন;
অষ্টমত, যে কোনো ব্যক্তি যাকে যুক্তিসঙ্গতভাবে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর একজন পলাতক সৈনিক বলে সন্দেহ করা হয়;
নবমত, যে কোনো ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের বাইরের কোনো স্থানে সংঘটিত কোনো কাজের সাথে জড়িত ছিলেন, বা যার বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ করা হয়েছে বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে বা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ বিদ্যমান যে তিনি এমন কোনো কাজের সাথে জড়িত ছিলেন, যা বাংলাদেশে সংঘটিত হলে অপরাধ হিসাবে শাস্তিযোগ্য হতো, এবং যার জন্য তিনি কোনো প্রত্যর্পণ আইন (extradition law) বা অন্য কোনো আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে গ্রেপ্তার বা আটক হওয়ার যোগ্য;
দশমত, কোনো মুক্ত দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি যিনি ৫৬৫ ধারার উপ-ধারা (৩) এর অধীনে প্রণীত কোনো বিধি লঙ্ঘন করেন;
একাদশত, যে কোনো ব্যক্তি যার গ্রেপ্তারের জন্য অন্য একজন পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে চাহিদা (requisition) পাওয়া গেছে, যদি ওই চাহিদা পত্রে গ্রেপ্তারযোগ্য ব্যক্তির বিবরণ এবং যে অপরাধ বা অন্য কারণে গ্রেপ্তার করতে হবে তা নির্দিষ্ট করা থাকে এবং তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যে অফিসার চাহিদা পত্রটি জারি করেছেন তিনি ওয়ারেন্ট ছাড়াই আইনত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারতেন।
(২) কোনো পুলিশ অফিসার এই ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তিকে প্রতিরোধমূলক আটকের (preventive detention) বিধানকারী কোনো আইনের অধীনে আটক করার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করবেন না।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 54.  When police may arrest without warrant:
(1) Any police-officer may, without an order from a Magistrate and without warrant, arrest-
firstly, any person who commits, in the presence of a police-officer, a cognizable offence;
secondly, any person against whom a reasonable complaint has been made, or credible information has been received, or a reasonable suspicion exists that he has committed a cognizable offence punishable with imprisonment for a term which may be less than seven years or which may extend to seven years, whether with or without fine, if the following conditions are satisfied, namely:-
    (i) the police-officer has reason to believe, on the basis of such complaint, information, or suspicion that such person has committed the said offence; and
    (ii) the police-officer is satisfied that such arrest is necessary-
        (a) to prevent such person from committing any further offence; or
        (b) for proper investigation of the offence; or 
      (c) to prevent such person from causing the evidence of the offence to disappear or tampering with such evidence in any manner; or
        (d) to prevent such person from making any inducement, threat or promise to any person acquainted with the facts of the case so as to dissuade him from disclosing such facts to the Court or to the police-officer; or
        (e) as unless such person is arrested, his presence in the Court whenever required cannot be ensured;
        and the police-officer shall record while making such arrest, his reasons in writing:
            Provided that a police-officer shall, in all cases where the arrest of a person is not required under the provisions of this sub-section, record the reasons in writing for not making the arrest;
thirdly, any person against whom credible information has been received that he has committed a cognizable offence punishable with imprisonment for a term which may extend to more than seven years whether with or without fine, or with death sentence and the police-officer has reason to believe, on the basis of that information, that such person has committed the said offence;
fourthly, any person having in his possession without lawful excuse, the burden of proving which excuse shall lie on such person, any implement of house breaking;
fifthly, any person who has been proclaimed as an offender either under this Code or by order of the Government;
sixthly, any person in whose possession anything is found which may reasonably be suspected to be stolen property and who may reasonably be suspected of having committed an offence with reference to such thing;
seventhly, any person who obstructs a police-officer while in the execution of his duty, or who has escaped, or attempts to escape, from lawful custody;
eighthly, any person who is reasonably suspected of being a deserter from the armed forces of Bangladesh;
ninthly, any person who has been concerned in, or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received or a reasonable suspicion exists of his having been concerned in, any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would have been punishable as an offence, and for which he is, under any law relating to extradition, or otherwise, liable to be apprehended or detained in custody in Bangladesh;
tenthly, any released convict committing a breach of any rule made under section 565, sub-section (3);
eleventhly, any person for whose arrest a requisition, has been received from another police-officer, provided that the requisition specifies the person to be arrested and the offence or other cause for which the arrest is to be made and it appears therefrom that the person might lawfully be arrested without a warrant by the officer who issued the requisition.(2) No police-officer shall arrest a person under this section for the purpose of detaining him under any law providing for preventive detention.

৩৬.
দায়রা আদালতে কার দ্বারা বাদীপক্ষের পক্ষে মামলা পরিচালনা করা হয়?
  1. মামলার বাদী দ্বারা
  2. একজন পুলিশ অফিসার দ্বারা
  3. একজন পাবলিক প্রসিকিউটর দ্বারা
  4. আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন আইনজীবী দ্বারা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ধারা ২৬৫ক অনুযায়ী: “In every trial before a Court of Session, the prosecution shall be conducted by a Public Prosecutor.”
- অর্থাৎ দায়রা আদালত বা সেশন্স আদালতে বিচারের সময় বাদীপক্ষের (প্রসিকিউশনের) মামলা বাধ্যতামূলকভাবে পাবলিক প্রসিকিউটর (PP বা এপিপি) পরিচালনা করবেন।
সুতরাং সঠিক উত্তর: গ) একজন পাবলিক প্রসিকিউটর দ্বারা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫ক ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালতে প্রত্যেকটি বিচার সরকারি আইনজীবী (Public Prosecutor) অভিযােগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন।
⇒ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং দায়রা আদালতে ফৌজদারি মামলার বিচার করা হয়।আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি, চার্জ গঠন, খালাস বা শাস্তি প্রদানের আদেশ দিয়ে থাকে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ক-২৬৫জ তে দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
⇒ কে মামলা পরিচালনা করবে- (Who Conduct the Trial)
-ধারা ২৬৫ক অনুসারে, দায়রা আদালতে প্রত্যেকটি বিচারে সরকারি আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) অভিযােগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন।
- ধারা ২৬৫খ তে দেয়া আছে,অভিযুক্তকে উপস্থিত করার পর সরকারি আইনজীবী আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ বর্ণনা করবেন এবং কি সাক্ষ্য দ্বারা তিনি উক্ত অভযোেগ প্রমাণ করবেন তা বর্ণনা করার মাধ্যমে নিজ বক্তব্য শুরু করবেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure,1898 Section-265A.Trial to be conducted by Public Prosecutor:
 -In every trial before a Court of Session, the prosecution shall be conducted by a Public Prosecutor.

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898 Section-265B.Opening case for prosecution:
-When the accused appears or is brought before the Court in pursuance of section 205C, the prosecutor shall open his case by describing the charge brought against the accused and stating by what evidence he proposes to prove the guilt of the accused.

৩৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ______ অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে উপস্থাপন করা যায়।
  1. ৫০৯
  2. ৫০৯ক
  3. ৫১০ক
  4. ৫১১
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯ক-এ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের বিশেষ বিধান দেওয়া হয়েছে, যেখানে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক যদি মারা যান, সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হন বা দেশের বাইরে থাকেন এবং তাকে আদালতে তলব করা অযৌক্তিক হয়, তখন তার রিপোর্টকে তলব ছাড়াই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯ক: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট:-
এই কার্যবিধির অধীন যেক্ষেত্রে ইনকোয়ারি, বিচার বা অন্য কার্যক্রমে ময়না তদন্তের রিপোর্ট সাক্ষ্য রূপে ব্যবহৃত হওয়া দরকার এবং ময়না তদন্তকারী সিভিল সার্জন বা অন্য কোন মেডিকেল অফিসার মারা গেলে বা সাক্ষ্য প্রদান করতে অপারগ হন বা বাংলাদেশের সীমার বাহিরে অবস্থান করেন এবং এরূপ বিলম্ব বা অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়া বা অসুবিধা ছাড়া তাকে হাজির করা না যায়, যা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক সেক্ষেত্রে সাক্ষী রূপে তাকে তলব না করেই উক্ত রিপোর্ট সাক্ষ্য রূপে ব্যবহার করা যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898, Section 509A: Report of post-mortem examination:-
Where in any inquiry, trial or other proceeding under this Code the report of a post-mortem examination is required to be used as evidence, and the Civil Surgeon or other medical officer who made the report is dead or is incapable of giving evidence or is beyond the limits of Bangladesh and his attendance cannot be procured without an amount of delay, expense or inconvenience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable, such report may be used as evidence.

৩৮.
ম্যাজিস্ট্রেট আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে উকিলের মাধ্যমে হাজিরার অনুমতি দিতে পারেন ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায়?
  1. ২০৪ ধারায়
  2. ২০৫ ধারায়
  3. ২০৫গ ধারায়
  4. ২০৫গগ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫-এ সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে উকিলের মাধ্যমে হাজিরার অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা বর্ণিত আছে।
অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ধারা ২০৫(১)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, ম্যাজিস্ট্রেট যখন সমন জারি করেন, তখন যুক্তিসংগত কারণ থাকলে তিনি আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে উকিলের মাধ্যমে হাজির হওয়ার অনুমতি দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে রেহাই দিতে পারেন (Magistrate may dispense with personal attendance of accused)-
(১) যখন কোন ম্যাজিস্ট্রেট সমন জারি করেন তখন যুক্তিসংগত কারণ থাকলে তিনি আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা হতে রেহাই দিয়ে, তাকে উকিলের মাধ্যমে হাজির হওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন।
(২) কিন্তু তদন্ত বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট তার বিচারিক ক্ষমতায় মামলার যে কোন পর্যায়ে আসামিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনবোধে ইতঃপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারবেন।
--------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 205. Magistrate may dispense with personal attendance of accused:
(1) Whenever a Magistrate issues a summons, he may, if he sees reason so to do, dispense with the personal attendance of the accused, and permit him to appear by his pleader. 
(2) But the Magistrate inquiring into or trying the case may, in his discretion, at any stage of the proceedings, direct the personal attendance of the accused, and, if necessary, enforce such attendance in manner hereinbefore provided.

৩৯.
“অভ্যাসগতভাবে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে” এমন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যায় ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় অনুসারে?
  1. ৫৪ক
  2. ৫৫(১)(গ)
  3. ৫৫(১)(খ) 
  4. ৫৫(১)(ক)
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৫(১)(গ) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার নিম্নলিখিত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারেন: "যে ব্যক্তি খ্যাতি অনুযায়ী অভ্যাসগতভাবে জবরদস্তি (চাঁদা আদায়) করে বা জবরদস্তি করার উদ্দেশ্যে অভ্যাসগতভাবে ব্যক্তিকে আঘাতের ভয় দেখায় বা দেখানোর চেষ্টা করে।"
- সুতরাং, "অভ্যাসগতভাবে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে" এমন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যায় ধারা ৫৫(১)(গ) অনুসারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫ ধারার বিধান ভবঘুরে, অভ্যাসগত দস্যু প্রভৃতি গ্রেফতার:
(১) থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার অনুরূপভাবে নিম্নে উল্লিখিথ ব্যক্তিদেরকে গ্রেফতার করতে বা গ্রেফতারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন-
(ক) এরূপ থানার এলাকার মধ্যে কোন ব্যক্তি এ পরিস্থিতিতে নিজের উপস্থিতি গোপন রাখার লক্ষ্যে সাবধানতা গ্রহণ করতেছে, যদরুণ যৌক্তিকভাবে বিশ্বাস করা যেতে পারে যে, কোন আমলযোগ্য অপরাধ করার লক্ষ্যেই সে এরূপ সতর্কতা গ্রহণ করতেছে, অথবা
(খ) এরূপ থানার এলাকার মধ্যে কোন প্রকাশ্য জীবিকা নেই এরূপ কোন ব্যক্তিকে অথবা নিজের সম্পর্কে কোন সন্তোষজনক বিবরণ প্রদান করতে পারে না এরূপ কোন ব্যক্তিকে, অথবা
(গ) অভ্যাসগতভাবে ডাকাত, গৃহভংগকারী, বা চোর হিসাবে পরিচিত বা চোরাই হিসাবে অবগত হয়ে অভ্যাসগতভাবে চোরাই মাল গ্রহণ করার দুর্নাম আছে, এরূপ কোন ব্যক্তিকে অথবা অভ্যাসগতভাবে বলপূর্বক আদায় করে রূপে পরিচিত অভ্যাসগতভাবে বলপূর্বক গ্রহণের লক্ষ্যে অন্যকে আঘাতের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বা করার চেষ্টা করে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, Section 55. Arrest of vagabonds, habitual robbers, etc:
(1) Any officer in Charge of a police-station may, in like manner, arrest or cause to be arrested- 
(a) any person found taking precautions to conceal his presence within the limits of such station, under circumstances which afford reason to believe that he is taking such precautions with a view committing a cognizable offence; or 
(b) any person within the limits of such station who has no ostensible means of subsistence, or who cannot give a satisfactory account of himself; or 
(c) any person who is by repute an habitual robber, house-breaker or thief, or an habitual receiver of stolen property knowing it to be stolen, or who by repute habitually commits extortion or in order to the committing of extortion habitually puts or attempts to put persons in fear of injury.

৪০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় বিরোধীয় বিষয় ক্রোক করার ক্ষমতা বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ১৪৪
  2. ধারা ১৪৫
  3. ধারা ১৪৬
  4. ধারা ১৪৭
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ধারা ১৪৬-এ সুনির্দিষ্টভাবে ম্যাজিস্ট্রেটের বিরোধীয় বিষয় ক্রোক (Attachment of subject of dispute) করার ক্ষমতা এবং তার শর্তাবলী বর্ণিত আছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৬ ধারার বিধান: বিরোধীয় বিষয় ক্রোক করার ক্ষমতা: ম্যাজিস্ট্রেট যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, পক্ষবৃন্দের কেউই সে সময়ে বিরোধী বিষয়বস্তুতে দখলকার ছিল না, অথবা তাদের মধ্য থেকে কোন পক্ষ সেই সময়ে উহাতে দখলকার ছিল, সেই সম্পর্কে তিনি নিজে সন্তুষ্ট হতে অপারগ হলে আদালতে পক্ষবৃন্দের অধিকার বা দখল পাওয়ার অধিকারী ব্যক্তি সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা ক্রোক করতে পারবেন।
শর্ত থাকে যে, অনুরূপ উপরে বর্ণিত ম্যাজিস্ট্রেট যদি পরিতুষ্ট হন, বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে আর শান্তিভঙ্গের কোনরূপ সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে তিনি যে কোন সময় ক্রোক বাতিল করতে পারেন।
(২) যেক্ষেত্রে কোন ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধীয় বস্তু ক্রোক করেন, সেক্ষেত্রে তিনি যদি সঠিক হিসাবে মনে করেন এবং কোন দেওয়ানী আদালত যদি ইতিপূর্বে বিরোধীয় সম্পত্তির কোন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ না করে থাকেন, সেক্ষেত্রে তিনি উহার জন্য একটি তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করতে পারবেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণ দ্বারা উক্ত তত্ত্বাবধায়কের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়কের যাবতীয় ক্ষমতা থাকবে
শর্ত থাকে যে, কোন দেওয়ানী আদালত যদি পরবর্তী ধাপে উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তির কোন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক তাঁর বরাবর দখল অর্পণ করবেন এবং অতঃপর তাকে উক্ত দায়িত্ব থেকে রেহাই দেয়া হবে।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 146. Power to attach subject of dispute:
(1) If the Magistrate decides that none of the parties was then in such possession, or is unable to satisfy himself as to which of them was then in such possession of the subject of dispute, he may attach it until a competent Court has determined the rights of the parties thereto, or the person entitled to possession thereof: 
Provided that such Magistrate]may withdraw the attachment at any time if he is satisfied that there is no longer any likelihood of a breach of the peace in regard to the subject of dispute.
(2) When the Magistrate attaches the subject of dispute, he may, if he thinks fit and if no receiver of the property, the subject of dispute, has been appointed by any Civil Court appoint a receiver thereof, who, subject to the control of the Magistrate, shall have all the powers of a receiver appointed under the Code of Civil Procedure, 1908: 
Provided that, in the event of a receiver of the property, the subject of dispute, being subsequently appointed by any Civil Court, possession shall be made over to him by the receiver appointed by the Magistrate, who shall thereupon be discharged.

৪১.
অভিযুক্তের বাড়ি ব্যতীত অন্য কোথাও গ্রেপ্তার হলে, কত ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়কে অবহিত করতে হবে?
  1. ৬ ঘণ্টার মধ্যে
  2. ১২ ঘণ্টার মধ্যে
  3. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  4. অবিলম্বে না করলেও চলে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৬ক(ঘ) অনুযায়ী, যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তার নিজস্ব ঠিকানা থেকে গ্রেফতার না করা হয়, তাহলে গ্রেফতারকারী পুলিশ অফিসার বা অন্য ব্যক্তি অতিস্বল্পতম সময়ে কিন্তু সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, বা বন্ধুকে জানাতে বাধ্য।
→ Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 এর মাধ্যমে The Code of Criminal Procedure, 1898 এ নতুন ধারা ৪৬ক (Section 46A) সন্নিবেশিত হয়েছে। এই ধারার উপ-ধারা ঘ(d) অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তিকে তার নিজ বাসস্থানের বাইরে অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য ব্যক্তিকে যত শীঘ্র সম্ভব, তবে গ্রেপ্তারের সময় থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, বা তার মনোনীত বন্ধুকে গ্রেপ্তারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের স্থান সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
সুতরাং, ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে জানানো বাধ্যতামূলক।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৬ক- গ্রেপ্তার পদ্ধতি এবং গ্রেপ্তারকারী অফিসারের কর্তব্য: কোনো গ্রেপ্তার করার সময়, পুলিশ অফিসার বা অন্য গ্রেপ্তারকারী ব্যক্তি—
(ক) তার নামের একটি সঠিক, দৃশ্যমান এবং স্পষ্ট পরিচিতি বহন করবেন যা সহজে শনাক্তকরণে সহায়তা করবে;
(খ) তার পরিচয় প্রকাশ করবেন এবং যদি দাবি করা হয়, তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এবং গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে তার পরিচয়পত্র দেখাবেন;
(গ) গ্রেপ্তারের একটি স্মারকলিপি (memorandum) প্রস্তুত করবেন যা—
(i) কমপক্ষে একজন সাক্ষী দ্বারা সত্যায়িত হবে, যিনি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা যে এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেখানকার একজন গণ্যমান্য বাসিন্দা এবং যদি এই ধরনের কোনো সাক্ষী পাওয়া না যায়, তার কারণ স্মারকলিপিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে;
(ii) যদি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি অসম্মতি না জানান, তবে তার দ্বারা প্রতিস্বাক্ষরিত বা টিপসইযুক্ত হবে;
(ঘ) যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার বাসস্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেখানে গ্রেপ্তারের সময় এবং স্থান এবং হেফাজতের স্থান জানিয়ে, যত দ্রুত সম্ভব কিন্তু গ্রেপ্তারের সময় থেকে বারো ঘণ্টার মধ্যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কর্তৃক মনোনীত একজন পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা বন্ধুকে অবহিত করবেন;
(ঙ) যদি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে ৪৬ঙ ধারা অনুযায়ী ক্ষেত্রমত একজন মেডিকেল অফিসার বা একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার দ্বারা ওই ব্যক্তির পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন; উপস্থিত মেডিকেল অফিসার বা প্র্যাকটিশনারের কাছ থেকে একটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করবেন; এবং এই ধরনের আঘাতের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন;
(চ) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে, যদি তিনি ইচ্ছা পোষণ করেন, তার পছন্দের একজন আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করতে বা তার নিকটতম কোনো আত্মীয়ের সাথে দেখা করার সুযোগ দেবেন, preferably (সম্ভবত) গ্রেপ্তারের বারো ঘণ্টার মধ্যে।
------------ 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 46A. Procedure of arrest and duties of officer making arrest:
- In making an arrest, the police-officer or other person making the same shall-
(a) bear an accurate, visible and clear identification of his name which will facilitate easy identification;
(b) disclose his identity and if demanded, shall show his identity card to the person arrested and to the persons present at the time of arrest;
(c) prepare a memorandum of arrest which shall be-
(i)attested by at least one witness, who is a member of the family of the person arrested or a respectable inhabitant of the locality where the arrest is made and where no such witness is available, the reasons thereof be recorded in the memorandum;
(ii) countersigned or thumb-impressed by the person arrested if not refused by him;
(d) intimate, where the accused is arrested from a place other than his residence, to a family member, relative, or a friend nominated by the person arrested, as soon as practicable but not later than twelve hours from the time of such arrest, notifying the time and place of arrest and the place of custody;
(e) ensure, if any mark of injury is found on the body of the person arrested, the examination and first aid treatment of the person by a medical officer or a registered medical practitioner, as the case may be, in accordance with section 46E; obtain a certificate from the attending medical officer or practitioner; and record the reasons for such injury;
(f) allow the person arrested, if he so desires, to consult a lawyer of his choice or to meet any of his nearest relation, preferably within twelve hours of such arrest.

৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুসারে তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে [Petty Cases] আপিলের বিধান নিষিদ্ধ?
  1. ধারা ৪১১
  2. ধারা ৪১২
  3. ধারা ৪১৩
  4. ধারা ৪১৪
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১৩ স্পষ্টভাবে বলে—যদি দায়রা আদালত (Court of Session) ১ মাসের বেশি নয় এমন কারাদণ্ড দেয়, অথবা যদি দায়রা আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর অন্য ম্যাজিস্ট্রেট ৫০০০ টাকার বেশি নয় এমন অর্থদণ্ড আরোপ করে, তাহলে সেই তুচ্ছ মামলার বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৩- তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে [Petty Cases]:
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৩ ধারা অনুসারে কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০০০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।
অন্যদিকে যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে, আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
-------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 413. No appeal in petty cases:
Notwithstanding anything hereinbefore contained, there shall be no appeal by a convicted person in cases in which a Court of Session passes a sentence of imprisonment not exceeding one month only, or in which a Court of Session or Chief Judicial Magistrate or Metropolitan Magistrate or other Magistrate of the first class passes a sentence of fine not exceeding five thousand Taka only. 
Explanation:- There is no appeal from a sentence of imprisonment passed by such Court or Magistrate in default of payment of fine when no substantive sentence of imprisonment has also been passed.

৪৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৯গ অনুসারে, সরকার কার সাথে পরামর্শ করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত সকল অপরাধ বিচারের ক্ষমতা দান করতে পারে?
  1. আইন কমিশন
  2. অ্যাটর্নি জেনারেল
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC) এর ধারা ২৯গ (29C) তে বর্ণিত বিধান- মৃত্যুদণ্ড দ্বারা শাস্তিযোগ্য নয় এমন অপরাধের বিচার:
- ২৯ ধারায় যা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে-
(ক) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা কোনো অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট -কে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দ্বারা শাস্তিযোগ্য নয় এমন সকল অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারে;
(খ) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা যেকোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা দশ বছরের অধিক মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড দ্বারা শাস্তিযোগ্য নয় এমন সকল অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ২৯গ এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, “Notwithstanding anything contained in section 29, the Government may in consultation with the High Court Division— (a) invest the Chief Metropolitan Magistrate, Chief Judicial Magistrate or any Additional Chief Judicial Magistrate with power to try as a Magistrate all offences not punishable with death;”
অর্থাৎ, সরকার হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শ করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত সকল অপরাধ বিচারের ক্ষমতা দান করতে পারে।

৪৪.
একটি অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার কোন আদালতের রয়েছে, এই তথ্যটি ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের কোথায় পাওয়া যাবে?
  1. ৩য় কলামে
  2. ৬ষ্ঠ কলামে 
  3. ৭ম কলামে
  4. ৮ম কলামে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের ৮ম (শেষ) কলামে specifically উল্লেখ থাকে যে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার কোন আদালতের রয়েছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফশিলে বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একটি সারণীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মোট ৮টি কলাম রয়েছে। এই কলামগুলো বিচার প্রক্রিয়া, পুলিশি ক্ষমতা, জামিন, শাস্তি ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়।
- ১ম কলামে উল্লেখ থাকে দণ্ডবিধির (Penal Code) কোন ধারা অনুযায়ী অপরাধটি হয়েছে।
- ২য় কলামে লেখা থাকে সেই ধারার অধীনে অপরাধটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
- ৩য় কলামে বলা হয়, পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে কি না, অর্থাৎ এটি আমলযোগ্য (Cognizable) না আমল-অযোগ্য (Non-cognizable)।
- ৪র্থ কলামে বলা থাকে, প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে না ওয়ারেন্ট, তা নির্ধারণ করা হয়।
- ৫ম কলামে উল্লেখ থাকে অপরাধটি জামিনযোগ্য (Bailable) না জামিন-অযোগ্য (Non-bailable)।
- ৬ষ্ঠ কলামে বলা হয় অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কি না — অর্থাৎ ভুক্তভোগী চাইলেই কি সেটি মিটমাট করে নিতে পারে।
- ৭ম কলামে উল্লেখ থাকে সংশ্লিষ্ট ধারায় নির্ধারিত শাস্তির পরিমাণ।
- ৮ম তথা শেষ কলামে বলা হয়, সেই অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার কোন আদালতের আছে।

৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১ অনুসারে, জব্দকৃত জিনিসপত্রের তালিকা প্রস্তুত করার সময় কার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক?
  1. একজন সাক্ষীর
  2. একজন ম্যাজিস্ট্রেটের
  3. একজন মেডিকেল অফিসারের
  4. গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবারের কোনো সদস্যের
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫১ এর শেষ অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো জিনিস জব্দ করা হলে, অফিসার একজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং সম্ভব হলে তার স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন।
- সুতরাং, জব্দকৃত জিনিসপত্রের তালিকা প্রস্তুত করার সময় একজন সাক্ষীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫১ - "গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের তল্লাশি" (Search of arrested persons): যখনই কোনো ব্যক্তিকে একজন পুলিশ অফিসার এমন কোনো ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তার করেন যেখানে জামিনের বিধান নেই, অথবা এমন ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তার করেন যেখানে জামিনের বিধান আছে কিন্তু গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি জামিন দিতে পারেন না, এবং যখনই কোনো ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়, বা কোনো বেসরকারি ব্যক্তি কর্তৃক ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং আইনত জামিনে মুক্ত হতে পারেন না, অথবা জামিন দিতে অক্ষম হন, তখন গ্রেপ্তারকারী অফিসার অথবা, যখন গ্রেপ্তার কোনো বেসরকারি ব্যক্তি দ্বারা করা হয়, তখন যে পুলিশ অফিসারের নিকট গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে হস্তান্তর করা হয়, তিনি ওই ব্যক্তিকে তল্লাশি করতে পারেন এবং তার কাছে পাওয়া প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে রাখতে পারেন ; এবং
যেখানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো জিনিস জব্দ করা হয়, সেখানে অফিসার একজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং সম্ভব হলে তার স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন, এবং এর একটি অনুলিপি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা তার দ্বারা মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে সরবরাহ করবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 51. Search of arrested persons:
Whenever a person is arrested by a police-officer under a warrant which does not provide for the taking of bail, or under a warrant which provides for the taking of bail but the person arrested cannot furnish bail, and Whenever a person is arrested without warrant, or by a private person under a warrant, and cannot legally be admitted to bail, or is unable to furnish bail, the officer making the arrest or, when the arrest is made by a private person, the police-officer to whom he makes over the person arrested, may search such person, and place in safe custody all articles, other than necessary wearing-apparel, found upon him ; and
where any article is seized from the arrested person, the officer shall prepare a list in the presence of a witness and obtain his signature, if practicable, and shall serve a copy thereof to the arrested person or to any person nominated by him.

৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৭ অনুসারে, অ-আমলযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি তার নাম ও ঠিকানা দিতে অস্বীকার করে বা মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে কী করা যাবে?
  1. তাকে সতর্ক করা হবে
  2. তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে
  3. তাকে জরিমানা করা হবে
  4. তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৭(১) অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি একজন পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে কোনো অ-আমলযোগ্য অপরাধ (non-cognizable offence) করে বা করতে অভিযুক্ত হয় এবং সেই অফিসারের দাবি করলে তার নাম ও ঠিকানা দিতে অস্বীকার করে অথবা মিথ্যা নাম বা ঠিকানা দেয়, তাহলে পুলিশ অফিসার তার নাম ও ঠিকানা নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৭ ধারার বিধান,নাম ও বাসস্থান এর ঠিকানা জানাতে অস্বীকৃতি:
(১) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে কোন আমলযোগ্য অপরাধ করে অথবা এরূপ অপরাধ করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয় এবং উক্ত অফিসার দাবী করলে নিজের নাম ও বাসস্থান জানাতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে বা এরূপ নাম ও বাসস্থানের কথা ব্যক্ত করে যা উক্ত অফিসার যুক্তিসঙ্গতভাবে মিথ্যা মর্মে মনে করেন, সেক্ষেত্রে তার নাম বা বাসস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হবার জন্য উক্ত অফিসার তাকে গ্রেফতার করতে পারবেন।
(২) এধরণের ব্যক্তির প্রকৃত নাম ও বাসস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেলে প্রয়োজনবোধে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে উপস্থিত হবার লক্ষ্যে জামিনদারসহ বা জামিনদার ব্যতীত বন্ড সম্পাদনের পর তাকে ছেড়ে দিতে হবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে এরূপ ব্যক্তি বাংলাদেশের বাসিন্দা না হয়, সেক্ষেত্রে এক বা একাধিক বাসিন্দাকে তার বন্ডে জামিনদার হতে হবে।
(৩) গ্রেফতারের সময় হতে ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার মধ্যে যদি এরূপ ব্যক্তির প্রকৃত নাম ও বাসস্থান পাওয়া না যায় অথবা সে যদি বন্ড সম্পাদনে ব্যর্থ হয়, অথবা প্রয়োজন মতে পর্যাপ্ত জামিনদার আনতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে তাকে সাথে সাথে নিকটস্থ এখতিয়ার সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-57.Refusal to give name and residence:
(1) When any person who in the presence of a police-officer has committed or has been accused of committing a non-cognizable offence refuses, on demand of such officer, to give his name and residence or gives a name or residence which such officer has reason to believe to be false, he may be arrested by such officer in order that his name or residence may be ascertained. 
(2) When the true name and residence of such person have been ascertained, he shall be released on his executing a bond, with or without sureties, to appear before a Magistrate if so required: 
Provided that, if such person is not resident in Bangladesh, the bond shall be secured by a surety or sureties resident in Bangladesh. 
(3) Should the true name and residence of such person not be ascertained within twenty-four hours from the time of arrest or should he fail to execute the bond, or, if so required, to furnish sufficient sureties, he shall forthwith be forwarded to the nearest Magistrate having jurisdiction.

৪৭.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কখন পর্যন্ত বলবৎ থাকে?
  1. কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত
  2. আদালত কর্তৃক বাতিল না করা পর্যন্ত
  3. তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত
  4. ক  অথবা খ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির  ধারা ৭৫(২) অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা লিখিতভাবে থাকবে এবং এটি ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না আদালত সেটি বাতিল করে বা এটি সম্পাদিত হয়। অর্থাৎ, পরোয়ানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয় না; শুধু আদালতের রদ বা গ্রেপ্তারের বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা শেষ হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898) এর ধারা ৭৫ গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তার স্থায়িত্বের ধরন:
(১) ফরম (Form of warrant of arrest): এই বিধির (কোডের) অধীনে আদালত কর্তৃক জারিকৃত প্রতিটি গ্রেফতারি পরোয়ানা অবশ্যই লিখিত হতে হবে, presiding officer (প্রিজাইডিং অফিসার) কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে, অথবা যদি ম্যাজিস্ট্রেটের বেঞ্চ হয় তবে সেই বেঞ্চের কোনো সদস্য কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে এবং তাতে আদালতের সীলমোহর থাকতে হবে।
(২) স্থায়িত্ব (Continuance of warrant of arrest): এই ধরনের প্রতিটি পরোয়ানা দুটি অবস্থার যেকোনো একটি না ঘটা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে:
- যে আদালত এটি জারি করেছিল, সেই আদালত কর্তৃক বাতিল না হওয়া পর্যন্ত; অথবা
- পরোয়ানাটি কার্যকর (executed) না হওয়া পর্যন্ত।
----------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-  75. Form of warrant of arrest Continuance of warrant of arrest:
(1) Every warrant of arrest issued by a Court under this Code shall be in writing, signed by the presiding officer, or in the case of a Bench of Magistrates, by any member of such Bench, and shall bear the seal of the Court. 
(2) Every such warrant shall remain in force until it is cancelled by the Court which issued it, or until it is executed.

৪৮.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা করতে পারে?
  1. ২ লাখ
  2. ৩ লাখ
  3. ৫ লাখ
  4. ১০ লাখ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩২(১)(খ) অনুসারে, একজন দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এর জরিমানা করার সর্বোচ্চ ক্ষমতা হলো ৩ লক্ষ টাকা।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হল খ) ৩ লাখ।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৩২ ধারার বিধান ম্যাজিস্ট্রেটগণ যে দণ্ডাদেশ প্রদান করতে পারেন:
(১) ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতসমূহ নিম্নোক্ত দণ্ডাদেশসমূহ প্রদান করতে পারেন, যথা:-
(ক) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
কারাদণ্ড: অনধিক পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য, যার মধ্যে আইন দ্বারা অনুমোদিত নির্জন কারাবাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
জরিমানা: অনধিক পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত; 
(খ) দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
কারাদণ্ড: অনধিক তিন বছর মেয়াদের জন্য, যার মধ্যে আইন দ্বারা অনুমোদিত নির্জন কারাবাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
জরিমানা: অনধিক তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত;
(গ) তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
কারাদণ্ড: অনধিক দুই বছর মেয়াদের জন্য;
জরিমানা: অনধিক দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
(২) যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত আইন দ্বারা অনুমোদিত যেকোনো দণ্ডাদেশের সমন্বয়ে একটি বৈধ দণ্ডাদেশ প্রদান করতে পারেন।

৪৯.
যদি সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার না পাওয়া যায়, তাহলে গ্রেপ্তারকৃত অসুস্থ বা আহত ব্যক্তির পরীক্ষা কে করবেন?
  1. একজন স্বাস্থ্যকর্মী
  2. একজন ফার্মাসিস্ট
  3. পুলিশের মেডিকেল ইউনিট
  4. একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৬ঙ(১) অনুসারে, সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার না পাওয়া গেলে একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার (registered medical practitioner) কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত অসুস্থ বা আহত ব্যক্তির পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৪৬ঙ - মেডিকেল অফিসার কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরীক্ষা:
(১) যখন কোনো গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে অসুস্থ মনে হয় বা তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন থাকে, তখন গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে একটি সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার দ্বারা পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করতে হবে; এবং যদি এই ধরনের মেডিকেল অফিসার পাওয়া না যায়, তবে একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার দ্বারা তা করাতে হবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি একজন নারী, সেখানে তার শরীরের পরীক্ষা, যদি সম্ভব হয়, একজন নারী মেডিকেল অফিসার বা একজন নারী মেডিকেল প্র্যাকটিশনার দ্বারা বা তাদের তত্ত্বাবধানে, অথবা ক্ষেত্রমত একজন নারী স্টাফ নার্স বা একজন নারী অ্যাটেনডেন্টের উপস্থিতিতে পরিচালিত হবে।
(২) যেখানে উপ-ধারা (১) এর অধীনে পরীক্ষা এবং চিকিৎসা করা হয়, সেখানে ক্ষেত্রমত মেডিকেল অফিসার বা নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার কর্তৃক এই ধরনের পরীক্ষা এবং চিকিৎসার প্রতিবেদনের সাথে একটি সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে, সেইসাথে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা তার দ্বারা মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে সরবরাহ করতে হবে।
(৩) যেখানে একজন অসুস্থ বা আহত গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট তার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত বা অসুস্থ যার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন এবং শারীরিকভাবে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাবলী অনুযায়ী তাকে ইলেকট্রনিক ভিডিও লিংকেজের মাধ্যমে হাজির করা যেতে পারে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 46E - Examination of arrested person by medical officer:
(1) When any person arrested appears to be sick or bears any mark of injury, he shall, soon after the arrest is made, be examined and provided with first aid treatment by a medical officer of a Government hospital; and if such medical officer is not available, by a registered medical practitioner:
Provided that where the arrested person is a female, the examination of her body shall, if practicable, be conducted by or under the supervision of a female medical officer or a female medical practitioner, or in the presence of a female staff nurse or a female attendant, as the case may be.
(2) Where an examination and treatment are conducted under sub-section (1), a certificate along with the report of such examination and treatment shall be furnished by the medical officer or registered medical practitioner, as the case may be, to the concerned police-officer, as well as to the arrested person or to a person nominated by him.
(3) Where an arrested person, being sick or injured, is produced before the Magistrate, the Magistrate may pass necessary orders for his medical treatment: 
Provided that where the arrested person is severely injured or sick in a manner which requires his admission into a hospital and renders his physical production before the Magistrate impracticable, he may be produced through electronic video linkage, subject to the satisfaction of the Magistrate and to such terms as the Magistrate may determine.

৫০.
একজন বিকৃত মস্তিষ্কের ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে নিয়ে গেলে দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুসারে অপরাধ সংঘটিত হবে?
  1. ধারা ৩৫৯
  2. ধারা ৩৬০
  3. ধারা ৩৬১
  4. ধারা ৩৬২
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, কোনো ব্যক্তি যদি "বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে" তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে নিয়ে যায়, তবে তা আইনসম্মত অভিভাবকত্ব থেকে মনুষ্যহরণ বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫৯ ধারা মতে মনুষ্যহরণ বা অপহরণ ২ প্রকার।
যথা:
(i) বাংলাদেশ থেকে মনুষ্যহরণ;
(ii) আইনগত অভিভাবকের নিকট হতে মনুষ্যহরণ।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬০ ধারার বিধান বাংলাদেশ হতে মনুষ্য হরণ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার বিধান আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

৫১.
দণ্ডবিধির ধারা ৫৭ অনুসারে, শাস্তির মেয়াদের ভগ্নাংশ গণনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৫০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  4. কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৫৭ ধারা অনুযায়ী, শাস্তির মেয়াদ গণনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- দণ্ডবিধির ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, দণ্ডের মেয়াদের ভগ্নাংশ হিসাবের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৩০ বছর কারাদণ্ডের সমান বলে গণ্য হবে।
- সুতরাং দণ্ডবিধির ধারা ৫৭ অনুযায়ী, শাস্তির মেয়াদের ভগ্নাংশ গণনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৩০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড হিসেবে ধরা হয়।
---------
 ⇒ The Penal Code,1860- Section 57: Fractions of terms of punishment:
- In calculating fractions of terms of punishment, imprisonment for life shall be reckoned as equivalent to rigorous imprisonment for thirty years.

৫২.
দণ্ডবিধির ২০১ ধারা অনুযায়ী, যদি মূল অপরাধটি দশ বছরের কম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে অপরাধের সাক্ষ্য অদৃশ্যকারী বা ধ্বংসকারী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. মূল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির অর্ধেক
  4. মূল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২০১ এর তৃতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি মূল অপরাধ দশ বছরের কম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সাক্ষ্য অদৃশ্যকারী বা ধ্বংসকারী ব্যক্তি মূল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২০১ ধারার বিধান অপরাধকারীকে গোপন করিবার জন্য অপরাধের সাক্ষ্য অদৃশ্য করিয়া দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করা:
- কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধীকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে, কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও অথবা অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, সে অপরাধটি সংঘটনের কোন সাক্ষ্য বা প্রমাণ বিলুপ্ত করে বা করায়, অথবা সে উদ্দেশ্য নিয়ে সে অপরাধটি সম্পর্কে কোন খবর দেয়, যা সে মিথ্যা বলে জানে অথবা যা মিথ্যা বলে তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তখন-
-যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if a capital offence):-
যদি, যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সে জানে বা যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস সে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;
যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with imrisonment for life):-
এবং যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;
যদি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with less thatn ten year’s imprisonment):-
এবং যদি অপরাধটি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য যে ধরনের কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সে ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অপরাধটির জন্য দীর্ঘতম যে মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, তার কারাদণ্ডের মেয়াদ উহার এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোনো দৈর্ঘ্যের হবে, অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
উদাহরণ:
'খ', 'চ'-কে খুন করেছে জানা সত্ত্বেও 'ক', 'খ'-কে সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে 'খ'-কে 'চ' এর মৃতদেহটি লুকিয়ে ফেলিতে সহায়তা করে। 'ক' সাত বৎসর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 201. Causing disappearance of evidence of offence, or giving false information to screen offender- if a capital offence; if punishable with imprisonment for life; if punishable with less than ten years’ imprisonment:
Whoever, knowing or having reason to believe that an offence has been committed, causes any evidence of the commission of that offence to disappear, with the intention of screening the offender from legal punishment, or with that intention gives any information respecting the offence which he knows or believes to be false,
shall, if the offence which he knows or believes to have been committed is punishable with death, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and if the offence is punishable with [imprisonment for life], or with imprisonment which may extend to ten years, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine;
and if the offence is punishable with imprisonment for any term not extending to ten years, shall be punished with imprisonment of the description provided for the offence, for a term which may extend to one-fourth part of the longest term of the imprisonment provided for the offence, or with fine, or with both.

Illustration:
A, knowing that B has murdered Z, assists B to hide the body with the intention of screening B from punishment. A is liable to imprisonment of either description for seven years, and also to fine.

৫৩.
দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা অনুসারে বেআইনি সমাবেশ গঠনের জন্য ন্যূনতম কতজন ব্যক্তির প্রয়োজন?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৬ জন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ বেআইনি সমাবেশ গঠনের ন্যূনতম শর্ত। তাই ৫ জনের কম হলে তা এই ধারার অধীনে বেআইনি সমাবেশ হিসেবে গণ্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারার বিধান বেআইনি সমাবেশ:- পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশকে 'বেআইনি সমাবেশ' সেক্ষেত্রেই বলা হয়, যেক্ষেত্রে উক্ত সমাবেশের ব্যক্তিদের সাধারণ লক্ষ্য হয়-
প্রথম:- বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভাকে অথবা কোন সরকারি কর্মচারীকে অনুরূপ কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগের সময় অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ অথবা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি কর্তৃক ভীতি প্রদর্শন করা; কিংবা
দ্বিতীয়:- কোন আইনের অথবা কোন আইনগত ব্যবস্থার কার্যকরকরণে বাধা সৃষ্টি করা; কিংবা
তৃতীয়:- কোন ব্যক্তির দুষ্কর্ম বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ অথবা অন্যবিধ অপরাধ অনুষ্ঠিত করা; কিংবা
চতুর্থ:- কোন ব্যক্তির প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করা, অথবা কোন ব্যক্তিকে পথের অধিকার ভোগ হতে বঞ্চিত করা অথবা জল ব্যবহারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা অথবা তাকে তার দখলে অবস্থিত অপর কোন অশরীরী অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অথবা কোন অধিকার বা কল্পিত অধিকার প্রতিষ্ঠা করা; কিংবা
পঞ্চম:- অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন ব্যক্তিকে সে আইনত বাধ্য নয় এমন একটি কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা অথবা যে কার্যটি করতে সে আইনত বাধ্য বা অধিকারী তা সম্পাদন হতে বিরত করা।
ব্যাখ্যা:- যে সমাবেশ, সমাবিষ্ট হওয়া কালে বেআইনি ছিল না তা পরে বেআইনি সমাবেশ হতে পারে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-141. Unlawful assembly:
An assembly of five or more persons is designated an "unlawful assembly," if the common object of the persons composing that assembly is:
First.-To overawe by criminal force, or show of criminal force, Government or Legislature, or any public servant in the exercise of the lawful power of such public servant; or
Second.-To resist the execution of any law, or of any legal process; or
Third.- To commit any mischief or criminal trespass, or other offence; or
Fourth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to any person to take or obtain possession of any property, or to deprive any person of the enjoyment of a right of way, or of the use of water or other incorporeal right of which he is in possession or enjoyment, or to enforce any right or supposed right; or
Fifth.-By means of criminal force, or show of criminal force, to compel any person to do what he is not legally bound to do, or to omit to do what he is legally entitled to do.
Explanation.-An assembly which was not unlawful when it assembled, may subsequently become an unlawful assembly.

৫৪.
দণ্ডবিধির ২৩০ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিতগুলোর মধ্যে কোনটি 'মুদ্রা' হিসেবে গণ্য হবে?
  1. কড়ি (কাউরি)
  2. পদক (মেডেল)
  3. ফরুখাবাদী টাকা
  4. স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারায় "মুদ্রা" বলতে সরকার বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতায় স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে বোঝানো হয়েছে, যা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয় বা হওয়ার জন্য তৈরি। "বাংলাদেশি মুদ্রা" হিসেবে এমনকি ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেলেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তা মুদ্রা গণ্য হয়। উদাহরণ (e) অনুসারে, "ফরুখাবাদ" টাকা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবে গণ্য। অন্য অপশনগুলো (কড়ি, মেডেল, স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো) স্ট্যাম্পযুক্ত বা ইস্যুকৃত নয়, তাই মুদ্রা নয়।
অতএব, সঠিক উত্তর: গ) ফরুখাবাদী টাকা।

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারার বিধান: 'মুদ্রার' সংজ্ঞা:- বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।
- বাংলাদেশি মুদ্রা:- বাংলাদেশি মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে; এবং অর্থরূপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশি মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) কড়ি (কাউরি) মুদ্রা নয়।
(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো, যদিও তা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়, মুদ্রা নয়।
(গ) মেডেল মুদ্রা নয়, কারণ সেগুলো অর্থরূপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় না।
(ঘ) কোম্পানির টাকা নামে পরিচিত মুদ্রা রানির মুদ্রা।
(ঙ) "ফরুখাবাদ" টাকা, যা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হতো, তা বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবেই গণ্য হবে, যদিও তা এখন আর ব্যবহৃত হয় না।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 230. “Coin” defined Bangladesh coin:
- Coin is metal used for the time being as money, and stamped and issued by the authority of some State or Sovereign Power in order to be so used.
- Bangladesh coin is metal stamped and issued by the authority of the Government in order to be used as money; and metal which has been so stamped and issued shall continue to be Bangladesh coin for the purposes of this Chapter, notwithstanding that it may have ceased to be used as money.

Illustrations:
(a) Cowries are not coin.
(b) Lumps of unstamped copper, though used as money, are not coin.
(c) Medals are not coin, inasmuch as they are not intended to be used as money.
(d) The coin denominated as the Company's taka is the Queen's coin.
(e) The "Farukhabad" taka, which was formerly used as money under the authority of the Government of India, is Bangladesh coin although it is no longer so used.

৫৫.
দণ্ডবিধির ধারা ৪৪৫ অনুযায়ী, কতটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে গৃহে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে অপথে গৃহে প্রবেশ হয়?
  1. ১১টি
  2. ৬টি
  3. ৯টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় অপথে গৃহে প্রবেশের বিধান রয়েছে। ৪৪৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬টি উপায়ে কোন গৃহে প্রবেশ করলে বা গৃহ থেকে বের হলে তা অপথে গৃহে প্রবেশ বা House breaking বলে গণ্য হবে। যথা-
i) বন্ধ দরজা বা পথ খুলে (Opening any passage fastended for );
ii) তালা খুলে বা ভেঙে (Opening or breaking lock);
iii) নতুন পথ তৈরি করে (Passage made by him);
iv) আক্রমন বা বলপ্রয়োগের ভয় দেখিয়ে (Using criminal force);
v) আটকানো কোন কিছুকে খুলে বা অন্যভাবে মুক্ত করে অস্বাভাবিক পন্থায় ভিতরে প্রবেশ করা বা নির্গমন হওয়া; অথবা
vi) প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য নয় এমন পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহ প্রবেশ (house breaking) এর অপরাধ হবে।

অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় এই ৬ ধরনের গৃহপ্রবেশকে 'অপথে গৃহপ্রবেশ' (House- breaking) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
-------------------------------
⇒The Penal Code, 1860- Section- 445: House-breaking: A person is said to commit “house-breaking" who commits house-trespass if he effects his entrance into the house or any part of it in any of the six ways hereinafter described; or if, being in the house or any part of it for the purpose of committing an offence, or, having committed an offence therein, he quits the house or any part of it in any of such six ways, that is to say:
Firstly.-If he enters or quits through a passage made by himself, or by any abettor of the house-trespass, in order to the committing of the house-trespass.
Secondly.-If he enters or quits through any passage not intended by any person, other than himself or an abettor of the offence, for human entrance; or through any passage to which he has obtained access by scaling or climbing over any wall or building.
Thirdly.-If he enters or quits through any passage which he or any abettor of the house-trespass has opened, in order to the committing of the house-trespass by any means by which that passage was not intended by the occupier of the house to be opened.
Fourthly.-If he enters or quits by opening any lock in order to the committing of the house-trespass, or in order to the quitting of the house after a house-trespass.
Fifthly.-If he effects his entrance or departure by using criminal force or committing an assault, or by threatening any person with assault.
Sixthly.-If he enters or quits by any passage which he knows to have been fastened against such entrance or departure, and to have been unfastened by himself or by an abettor of the house-trespass.
Explanation.- Any out-house or building occupied with a house, and between which and such house there is an immediate internal communication, is part of the house within the meaning of this section.

৫৬.
নিচের কোন কাজটি দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য হবে?
  1. নারীকে উপহার দেওয়া
  2. নারীর সাথে কথা বলা
  3. নারীর কাছে টাকা চাওয়া
  4. নারীর শাড়ি টেনে শালীনতায় আঘাত
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, কোনো নারীর শালীনতায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে বা জ্ঞানসহকারে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করলে তা এই ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য। নারীর শাড়ি টেনে ধরা বা টান দেয়া তার শালীনতায় আঘাত করার একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা এই ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য।
অন্যদিকে, উপহার দেওয়া, কথা বলা বা টাকা চাওয়া—এগুলো শালীনতায় আঘাত করার উদ্দেশ্য বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই সেগুলো ধারা ৩৫৪ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি: কোনো নারীর উপর আক্রমণ (assault) বা অপরাধমূলক বল (criminal force) প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বা জ্ঞানসহকারে যে এতে তার শালীনতায় আঘাত (outrage modesty) পড়বে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি একসাথে প্রযোজ্য।
------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 354. Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty:
Whoever assaults or uses criminal force to any woman, intending to outrage or knowing it to be likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৫৭.
দণ্ডবিধি অনুসারে, কত দিন পর্যন্ত দৈহিক যন্ত্রণা বা কাজে অসামর্থ্য থাকলে তা গুরুতর আঘাত বলে গণ্য?
  1. ১০ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩২০ অনুসারে, গুরুতর আঘাতের (Grievous Hurt) অষ্টম ধরনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এমন কোনো আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণায় ভোগ করে বা তার সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------------
⇒The Penal Code, 1860- Section 320- Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":-
Firstly.-Emasculation.
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye.
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear.
Fourthly.-Privation of any member or joint.
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint.
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face.
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth.
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.

৫৮.
দণ্ডবিধির ১৭১ক ধারা অনুযায়ী, "নির্বাচনী অধিকার" (electoral right) কী?
  1. প্রার্থী হওয়া
  2. প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা
  3. ভোট দেওয়া বা ভোট না দেওয়ার অধিকার
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৭১ক ধারার (খ) উপধারা অনুযায়ী, "নির্বাচনী অধিকার" বলতে বোঝানো হয়েছে—
- প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর অধিকার
- প্রার্থী না হওয়ার অধিকার
- প্রার্থী হওয়ার পর মনোনয়ন প্রত্যাহারের অধিকার
- ভোট দেওয়ার অধিকার
- ভোটদান থেকে বিরত থাকার অধিকার
→ অতএব, উল্লিখিত প্রশ্নে 'উপরের সবগুলো ' সঠিক।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭১ক ধারার বিধান 'নির্বাচন প্রার্থী' 'নির্বাচনী অধিকার' কথা দুইটির সংজ্ঞা :- এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে- (ক) 'নির্বাচন প্রার্থী' বলতে কোন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিকে বুঝাবে এবং যে ব্যক্তি কোন নির্বাচনের জল্পনা-কল্পনা চলাকালে উহাতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিভাত করেন সে ব্যক্তিকেও বুঝাবে। তবে সে ব্যক্তিকে পরে অনুরূপ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হতে হবে;
(খ) নির্বাচনী অধিকার' বলতে কোন ব্যক্তির কোন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবার অথবা না দাঁড়াবার অথবা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে নাম প্রত্যাহার করার অথবা ভোট দেওয়ার অথবা ভোটদান হতে বিরত থাকার অধিকার বুঝায়।
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-171A- “Candidate”, “Electoral right” defined:
- For the purposes of this Chapter -
- (a) "candidate" means a person who has been nominated as a candidate at any election and includes a person who, when an election is in contemplation, holds himself out as a prospective candidate thereat; provided that he is subsequently nominated as a candidate at such election;
- (b) "electoral right" means the right of a person to stand, or not to stand as, or to withdraw from being, a candidate or to vote or refrain from voting at an election.

৫৯.
দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারায় বলপ্রয়োগের জন্য গতি সঞ্চার, পরিবর্তন বা স্তব্ধকরণের পদ্ধতি কত উপায়ে করা যায়?
  1. দুটি উপায়ে
  2. তিনটি উপায়ে
  3. চারটি উপায়ে
  4. একটি উপায়ে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারায় বলপ্রয়োগের জন্য গতি সঞ্চার, পরিবর্তন বা স্তব্ধকরণের তিনটি নির্দিষ্ট উপায় বর্ণনা করা হয়েছে:
১. নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে – সরাসরি শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে।
২. কোনো বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে যাতে তার বা অন্য কারো অতিরিক্ত কাজ ছাড়াই গতি বা পরিবর্তন ঘটে।
৩. পশুকে চালিত করে গতি, গতির পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করা।
সুতরাং, বলপ্রয়োগের পদ্ধতি তিনটি উপায়ে করা যায়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে। 
---------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 349: Force:
- A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling:
Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described: 
Firstly. By his own bodily power. 
Secondly. By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person. 
Thirdly. By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.

৬০.
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের (Criminal conspiracy) সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে দণ্ডবিধির কত নং ধারায়?
  1. ধারা ১২০
  2. ধারা ১২০ক
  3. ধারা ১২০খ
  4. ধারা ১২১
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১২০ক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রকে [criminal conspiracy] কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন অবৈধ কাজ করতে [To do an illegal act] বা কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করতে [to do a legal act by illegal means] সম্মত হয়, তখন উক্ত ব্যক্তিরা 'অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র' করেছে বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১২০ক: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা:
যখন দুইজন বা তার বেশি ব্যক্তি নিম্নলিখিত কোন কাজ করতে বা করানোর জন্য একমত হন:
- একটি অবৈধ কাজ করা, অথবা
- এমন কোনো কাজ করা যা আইনত অবৈধ নয় কিন্তু অবৈধ উপায়ে করা হয়, তবে এই ধরনের একমত হওয়াকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলা হয়।

শর্ত: যে কোনো একমত হওয়া শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে হলে তা অপরাধী ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে, তবে এর জন্য এই চুক্তির সাথে সম্পর্কিত এক বা একাধিক পক্ষের দ্বারা এমন কিছু কার্যক্রম সম্পাদিত হতে হবে, যা এই চুক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য করা হয়।

ব্যাখ্যা: এটি গুরুত্বপূর্ণ নয় যে ওই অবৈধ কাজটি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল, অথবা তা চুক্তির উদ্দেশ্য থেকে এক প্রকার অনুষঙ্গী ছিল।
-------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 120A. Definition of criminal conspiracy. 
 When two or more persons agree to do, or cause to be done,- 
(1) an illegal act, or 
(2) an act which is not illegal by illegal means, such an agreement is designated a criminal conspiracy: 
Provided that no agreement except an agreement to commit an offence shall amount to a criminal conspiracy unless some act besides the agreement is done by one or more parties to such agreement in pursuance thereof.
Explanation.-It is immaterial whether the illegal act is the ultimate object of such agreement, or is merely incidental to that object.

৬১.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুসারে নিম্নলিখিত কোনটি প্ররোচনার (Abetment) উপায়?
  1. Instigation
  2. Conspiracy
  3. Intentional Aid
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১০৭ অনুসারে, অপরাধে প্ররোচনা (Abetment) তিনটি উপায়ে সংঘটিত হয়:
১) Instigation (প্ররোচনা বা উসকানি) – কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।
২) Conspiracy (ষড়যন্ত্র) – এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে অপরাধের জন্য গোপন চক্রান্তে লিপ্ত হওয়া, যাতে অবৈধ কাজ বা অস্বীকার ঘটে।
৩) Intentional Aid (ইচ্ছাকৃত সহায়তা) – অপরাধ সংঘটনে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কাজ বা অস্বীকারের মাধ্যমে সাহায্য করা।
- সুতরাং, উল্লিখিত সবগুলোই প্ররোচনার উপায়।

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment):
অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা বলতে এমন কাজ বা কার্যক্রম বোঝায় যা অন্যকে অপরাধ করতে উসকানির মাধ্যমে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- অনুপ্রেরণা বা উসকানি (Instigation): অন্য কাউকে অপরাধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ বা প্ররোচিত করা।
- ষড়যন্ত্র (Conspiracy): অপরাধ করার জন্য অন্য কারও সাথে গোপনে পরিকল্পনা করা।
- সহায়তা (Assistance): অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সাহায্য করা।
-  যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে অপরাধ করতে সাহায্য বা উসকানি দেয়, তখন তাকে অপরাধের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে দণ্ডবিধির ১০৮ ধারায় প্ররোচনাকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করার জন্য কাউকে প্ররোচিত করে বা অপরাধ সংঘটনের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়, তবে তাকে অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনাকারী বলে গণ্য করা হবে।

উদাহরণ: যদি একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে চুরি করতে উসকানি দেয় বা চুরির জন্য তাকে সাহায্য করে, তবে সে সেই অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 107: Abetment of a thing: 
- A person abets the doing of a thing, who-
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1.- A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
Explanation-2.- Whoever, either prior to or at the time of the commission of an act, does anything in order to facilitate the commission of that act, and thereby facilitates the commission thereof, is said to aid the doing of that act.

৬২.
একজন বিচারক যখন বিচারিক দায়িত্ব পালনকালে কোন কাজ করেন, সেটি অপরাধ নয় - এটি দণ্ডবিধির কত নং ধারার বিধান?
  1. ধারা ৭৬
  2. ধারা ৭৭
  3. ধারা ৭৮
  4. ধারা ৭৯
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির (Penal Code, 1860) অধ্যায় IV-এর "সাধারণ ব্যতিক্রম" (General Exceptions) বিভাগে ধারা ৭৭ বিশেষভাবে বিচারকের (Judge) বিচারিক কাজের (judicial acts) সুরক্ষা প্রদান করে।
অর্থাৎ: একজন বিচারক যখন তাঁর বিচারিক দায়িত্ব পালনকালে (acting judicially) কোনো কাজ করেন, যা আইন দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতার ব্যবহারে (exercise of power) বা সৎবাবে (good faith) আইন দ্বারা প্রদত্ত মনে করে করেন, তখন সেই কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এটি বিচারকদের স্বাধীনভাবে এবং ভয়হীনভাবে বিচারকাজ করার জন্য একটি সুরক্ষা প্রদান করে, যাতে তারা আইনের মধ্যে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৭ ধারার বিধান বিচার সংক্রান্ত কাজ সম্পাদনকালে বিচারক দ্বারা কৃতকার্য:
-বিচার কাজ পরিচালনাকালে অর্থাৎ বিচারক হিসেবে কাজ পরিচালনাকালে বিচারক দ্বারা তাকে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বা যে ক্ষমতা তাঁকে আইনে প্রদত্ত হয়েছে তিনি সরল মনে বিশ্বাস করেন সে ক্ষমতানুসারে কৃত কোন কাজ অপরাধ হবে না।
--------------------------------
⇒ The Penal Code,1860- Section 77: Act of Judge when acting judicially:-
- Nothing is an offence which is done by a Judge when acting judicially in the exercise of any power which is, or which in good faith he believes to be, given to him by law.

৬৩.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৭৮ এ কোনটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ট্রেডমার্ক
  2. প্রোপার্টি মার্ক
  3. জাল দলিল
  4. কপিরাইট
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪৭৮- ট্রেডমার্ক:
- যে চিহ্নটি কোন পণ্য বা মালামাল নির্দিষ্ট ব্যক্তির উৎপাদন বা বাণিজ্যের নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে ট্রেডমার্ক বলা হয়, এবং এই কোডের উদ্দেশ্যে "ট্রেডমার্ক" শব্দের মধ্যে যেকোনো ট্রেডমার্ক অন্তর্ভুক্ত থাকবে যা ১৮৮৩ সালের পেটেন্ট, ডিজাইন এবং ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী ট্রেডমার্ক রেজিস্টারে নিবন্ধিত, এবং যেকোনো ট্রেডমার্ক যা নিবন্ধন থাকা বা না থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্রিটিশ অধিভুক্ত অঞ্চল বা বিদেশী রাষ্ট্রে আইন দ্বারা সুরক্ষিত, যেখানে ১৮৮৩ সালের পেটেন্ট, ডিজাইন এবং ট্রেডমার্ক আইনের ১০৩ ধারা, সরকারি আদেশের মাধ্যমে, সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রযোজ্য হয়েছে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-478. Trade mark:
- A mark used for denoting that goods are the manufacture or merchandise of a particular person is called a trade mark, and for the purposes of this Code the expression "trade mark" includes any trade mark which is registered in the register of trade marks kept under the Patents, Designs and Trade Marks Act, 1883, and any trade mark which, either with or without registration, is protected by law in any British possession or Foreign State to which the provisions of the one hundred and third section of the Patents, Designs and Trade Marks Act, 1883, are, under Order-in-Council, for the time being applicable.

৬৪.
দণ্ডবিধির বিধান অনুসারে কারাদণ্ড ভোগের সময় আসামি মারা গেলে তার আরোপিত অর্থদণ্ডের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
  1. সরকারের কোষাগার থেকে পরিশোধিত হবে
  2. আসামির অর্থদণ্ডের অর্ধেক আদায় করা হবে
  3. আসামির সম্পত্তি থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা হবে
  4. আসামির মৃত্যুর কারণে অর্থদণ্ড মওকুফ হবে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারায় অর্থদণ্ড আদায়ের সময়সীমা সম্পর্কে ৩টি বিধানের উল্লেখ আছে।
(i) দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী ৬ বছরের মধ্যে যেকোনো সময়।
(ii) ৬ বছরের অধিক কারাদণ্ড হলে- কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ/উত্তীর্ণ হওয়ার আগে।
(iii) অর্থদণ্ড অনাদায়ে আসামির মৃত্যু হলে- আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে।
অর্থাৎ আসামির মৃত্যু হলেও অর্থদণ্ড/জরিমানা মওকুফ হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭০ ধারার বিধান-অর্থদও ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাদণ্ড চলতে থাকাকালে আদায়যোগ্য:
- মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না:- অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশ বলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়,
- তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে;
- অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনত দায়গ্রস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।
--------
- The penal code section-70. Fine leviable within six years, or during imprisonment Death not to discharge property from liability:
The fine, or any part thereof which remains unpaid, may be levied at any time within six years after the passing of the sentence, and if, under the sentence, the offender be liable to imprisonment for a longer period than six years, then at any time previous to the expiration of that period; and the death of the offender does not discharge from the liability of any property which would, after his death, be legally liable for his debts.

৬৫.
দণ্ডবিধি অনুসারে, মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে যদি কোনো নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তাহলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীর সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ১০ বছর কারাদণ্ড
  2. মৃত্যুদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির  ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-
(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
-------------
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা :- কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

⇒ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:- যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।
_________
The Penal Code, 1860- Section-194: Giving or fabricating false evidence with intent to procure conviction of capital offence; if innocent person be thereby convicted and executed:
-Whoever gives or fabricates false evidence, intending thereby to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, any person to be convicted of an offence which is capital by any law for the time being in force, shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; 
-and if an innocent person be convicted and executed in consequence of such false evidence, the person who gives such false evidence shall be punished either with death or the punishment herein before described.

৬৬.
দণ্ডবিধির ধারা ২৭৩ এর অধীনে সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ২৭৩ অনুসারে, ক্ষতিকর খাদ্য বা পানীয় বিক্রয়ের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাস (যেকোনো ধরনের কারাদণ্ড: সশ্রম বা বিনাশ্রম), অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, বা উভয়।

⇒ দণ্ডবিধির ২৭৩ ধারার বিধান: ক্ষতিকর খাদ্য বা পানীয় বিক্রয়:- কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন দ্রব্য, খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিক্রয় করে, প্রদান করে বা বিক্রয়ার্থে উপস্থাপন করে, যা ক্ষতিকর করা হয়েছে বা সেরূপ হয়ে গিয়েছে অথবা যা এমন অবস্থায় রয়েছে, যাতে উহা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে ব্যবহারের অনুপযুক্ত এবং উহা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে স্বাস্থ্যহানিকর জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোনো পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 273. Sale of noxious food or drink:- Whoever sells, or offers or exposes for sale, as food or drink, any article which has been rendered or has become noxious, or is in a state unfit food or drink, knowing or having reason to believe that the same is noxious as food or drink, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.

৬৭.
দণ্ডবিধির ধারা ৩০৫ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়স্ক ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা প্রদানকারীকে সর্বোচ্চ কী শাস্তি দেওয়া হবে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. দশ বছরের কারাদণ্ড
  4. সাত বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারার বিধান শিশুর বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন উন্মাদ ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 305: Abetment of suicide of child or insane person:
-If any person under eighteen years of age, any insane person, any delirious person, any idiot, or any person in a state of intoxication commits suicide, whoever abets the commission of such suicide shall be punished with death or imprisonment for life, or imprisonment for a term not exceeding ten years, and shall also be liable to fine.

৬৮.
'ক' যদি 'চ'-এর বাড়ির সামনের রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করে 'চ'-এর যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে, তবে দণ্ডবিধি অনুসারে 'ক'-এর অপরাধ কী?
  1. অবৈধ আটক
  2. জনদুর্ভোগ সৃষ্টি
  3. অবৈধ বাধাদান
  4. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা

⇒ প্রদত্ত পরিস্থিতিতে, 'ক' 'চ'-এর বাড়ির সামনের রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করে 'চ'-এর যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করেছে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৩৯ অনুসারে, এটি অবৈধ বাধাদান (Wrongful Restraint) হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এতে ইচ্ছাপূর্বকভাবে কোনো ব্যক্তির চলাচলের অধিকারপ্রাপ্ত পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারা- অবৈধ বাধা (Wrongful restraint): যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।
- ব্যতিক্রম: যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।
- উদাহরণ: যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয়। ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।

⇒ The Penal Code, 1860-Section 339- Wrongful restraint:
Whoever voluntarily obstructs any person so as to prevent that person from proceeding in any direction in which that person has a right to proceed, is said wrongfully to restrain that person.
- Exception: The obstruction of a private way over land or water which a person in good faith believes himself to have a lawful right to obstruct, is not an offence within the meaning of this section.
- Illustration: A obstructs a path along which Z has a right to pass, A not believing in good faith that he has a right to stop the path. Z is thereby prevented from passing. A wrongfully restrains Z.

৬৯.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় আদালত অশ্লীল বা কেলেঙ্কারীজনক প্রশ্ন নিষিদ্ধ করতে পারে?
  1. ১৪৮ ধারায়
  2. ১৫১ ধারায়
  3. ১৬১ ধারায়
  4. ১৬৩ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫১ এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসাবাদ আদালতের মতে অশ্লীল বা কেলেঙ্কারিজনক হয়, তবে প্রশ্নটির কিছু গুরুত্ব বা প্রাসঙ্গিকতা থাকলেও আদালত তা নিষিদ্ধ করতে পারেন।
তবে ব্যতিক্রম: যদি প্রশ্নটি বিচার্য বিষয় (facts in issue) বা তার অস্তিত্ব নির্ধারণের জন্য অপরিহার্য হয়, তাহলে আদালত তা অনুমোদন করতে পারেন।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৫১ ধারা- অশ্লীল ও কুৎসাজনক প্রশ্ন: যদি কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসাবাদ আদালত অশ্লীল অথবা কেলেঙ্কারীজনক মনে করেন, তবে আদালতের বিচার্য বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্নটির কিছু গুরুত্ব থাকলেও আদালত এর প্রশ্ন নিষিদ্ধ করতে পারেন প্রশ্নটি যদি না বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত হয় অথবা বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব নির্ধারণের জন্য যা জানা প্রয়োজন এমনি বিষয় সম্পর্কিত হয়।
------------
⇒The Evidence Act, 1872-Section 151- Indecent and scandalous questions: The Court may forbid any questions or inquiries which it regards as indecent or scandalous, although such questions or inquiries may have some bearing on the questions before the Court, unless they relate to facts in issue, or to matters necessary to be known in order to determine whether or not the facts in issue existed.

৭০.
সাক্ষ্য আইনের ২২ক ধারার বিধান অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন না উঠলে মৌখিক স্বীকৃতি কী হবে?
  1. শুনানিযোগ্য হবে
  2. গ্রহণযোগ্য হবে
  3. প্রাসঙ্গিক হবে না
  4. বাধ্যতামূলক হবে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২২ক (Section 22A) এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হবে না – যদি না ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা/সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।”
- অর্থাৎ সাধারণত কেউ মুখে বলল যে “এই অডিও/ভিডিও/চ্যাটে আমি এটা বলেছি” – এই মৌখিক স্বীকৃতি আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না ডিজিটাল রেকর্ডটির সত্যতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২২ক ধারার বিধান: যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক:-দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন না হলে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু হিসাবে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়।
----------
⇒The Evidence Act, 1872- Section 22A: When oral admissions as to contents of digital records are relevant: Oral admissions as to the contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question.

৭১.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার অধীনে শনাক্তকরণ প্যারেড (Test Identification Parade) একটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ১৮
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় শনাক্তকরণ প্যারেড বা Test Identification Parade-কে সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারার বিধান: প্রাসঙ্গিক ঘটনার ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ঘটনা (Facts necessary to explain or introduce relevant facts): যে সমস্ত বিষয় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ইঙ্গিতবহ অনুমানকে সমর্থন বা অপ্রমাণ করে, অথবা বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ব্যাখ্যা করে বা পরিচয় করায়, অথবা কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে, অথবা বিচার্য প্রাসঙ্গিক বিষয়টি ঘটার সময় ও স্থান নির্দেশ করে, অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় ঘটনাকারী ব্যক্তির সম্পর্কে আলোকপাত করে, সেই সময় বিষয়ের যতখানি সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজন ততখানি প্রাসঙ্গিক।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় Test Identification Parade (শনাক্তকরণ প্যারেড) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাক্ষী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত -
১. কোন সম্পত্তি সনাক্ত করতে সক্ষম হয় বা,
২. কোন ব্যক্তি যেমন আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

⇒ প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করার জন্য যে সকল ঘটনা আবশ্যক সেগুলো প্রাসঙ্গিক। এ মূল ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বা ঐ ঘটনা, তার স্থান, কাল ব্যাখ্যা করতে পারে এমন ঘটনাকে ৯ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ এজাহারে অনেক সময় আসামির নাম উল্লেখ না করে অভিযোগকারী আসামিকে দেখলে চিনবেন এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা এই আসামি সনাক্তকরণ মহড়ার জন্য আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন।

⇒ P.R.B-282 অনুযায়ী TI Parade বলতে বুঝায় যে, “কোন সন্দেহভাজন আটককৃত অপরাধের সাথে জড়িত অভিযুক্ত আসামিকে জেলখানার  ভিতরে বাদী এবং সাক্ষী কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে  নির্ধারিত দিন ও তারিখে সনাক্তকরণের জন্য যে মহড়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয় তাহাকেই টি আই প্যারেড বা টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড বা সনাক্তকরণ মহড়া বলে।”

⇒ নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী, ভিকটিম বা অভিযোগকারীকে হাজির করার এবং সেই সাথে যারা সন্দেহজনক ভাবে অভিযুক্ত (একাধিক ব্যক্তি) তাদের হাজির করার নির্দেশ দেন আদালত। তখন ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে জেলহাজতে রাখার আদেশ প্রদান পূর্বক সনাক্তকরণ মহড়ার তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করে আদেশ দেন। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, এখানে সাক্ষী, ভিকটিম বা অভিযোগকারী যেন টিআই প্যারেড এরপূর্বে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কে কোনক্রমে দেখার সুযোগ না পায়। শুধুমাত্র এই টি আই প্যারেড চলাকালীন সময়ে তাদেরকে দেখবেন। তারপর সাক্ষী বা ভিকটিম বা অভিযোগকারী শনাক্ত করবেন আসল অপরাধী কে? এই মহড়াকে টি আই প্যারেড বলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারা অনুসারে, প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়। এই ধারার আওতায় শনাক্তকরণ প্যারেড (Test Identification Parade) পরিচালনা করা হয়, যার মাধ্যমে কোনো সাক্ষী বা ভিকটিম অপরাধের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তি সনাক্ত করতে পারে। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো আদালতের সামনে সাক্ষীর সনাক্তকরণ ক্ষমতা যাচাই করা এবং এটি একটি প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত।

৭২.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন কখন জিজ্ঞাসা করা যাবে না, তার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১৪০
  2. ধারা ১৪১
  3. ধারা ১৪২
  4. ধারা ১৪৩
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪২-এই স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading Question) কখন জিজ্ঞাসা করা যাবে না তার বিধান রয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন: প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারার বিধান ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাবে না: বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা যাবে না।
যেসকল বিষয় ভূমিকামূলক অথবা বিতর্কিহীন অথবা যেসব বিষয় পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন, সে সকল বিষয় সম্পর্কে আদালত অবশ্যই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিবেন।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারার বিধান যখন এরূপ প্রশ্ন করা যেতে পারে: জেরাতে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে।
-------------
⇒The Evidence Act, 1872- Section 141. Leading questions:
- Any question suggesting the answer which the person putting it wishes or expects to receive is called a leading question.
⇒The Evidence Act, 1872- Section 142. When they must not be asked:
- Leading questions must not, if objected to by the adverse party be asked in an examination-in-chief, or in a re-examination, except with the permission of the Court. 
- The Court shall permit leading questions as to matters which are introductory or undisputed, or which have, in its opinion, been already sufficiently proved.
⇒The Evidence Act, 1872- Section 143. When they may be asked:
- Leading questions may be asked in cross-examination.

৭৩.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে সাক্ষীকে যে পক্ষ আদালতে হাজির করে, সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তাকে কী বলে?
  1. জেরা
  2. জবানবন্দি
  3. পুনঃজেরা
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৭ অনুযায়ী: যে পক্ষ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে, সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তাকে জবানবন্দি বা Examination-in-chief বলে।
- অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষের প্রশ্নকে জেরা (Cross-examination) বলে।
- জেরার পর আবার হাজিরকারী পক্ষের প্রশ্নকে পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) বলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]: যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।
- জেরা [Cross Examination]: বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।
- পুনঃজবানবন্দি [Re-examination]: জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুনঃজবানবন্দি (Re- examination) বলে।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 137:
- Examination-in-chief: The examination of a witness by the party who calls him shall be called his examination-in-chief.
- Cross-examination: The examination of a witness by the adverse party shall be called his cross-examination.
- Re-examination: The examination of a witness, subsequent to the cross-examination by the party who called him, shall be called his re-examination.

৭৪.
‘A’ চাইছে হারিয়ে যাওয়া একটি দলিলের বিষয়বস্তু মাধ্যমিক সাক্ষ্য (secondary evidence) দ্বারা প্রমাণ করতে। সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারা অনুসারে তার জন্য কোনটি প্রমাণ করা আবশ্যক?
  1. দলিলটি তার দখলে নেই
  2. দলিলটি হারিয়ে গেছে
  3. দলিলটি তার দখলে ছিল
  4. দলিলটি রেজিস্ট্রার দ্বারা স্বীকৃত
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে একটি সাক্ষ্যকে আদালতের নিকট গ্রহণযোগ্য করাতে যদি কোন ঘটনা প্রমানের প্রয়োজন হয়, তাহলে যে পক্ষ সাক্ষ্যকে গ্রহণযোগ্য করাতে চায় তাকেই উক্ত ঘটনা প্রমান করতে হবে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার বিধান যে ঘটনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রমাণ করতে হবে তা প্রমাণের দায়িত্ব:- যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি অন্য কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, তজ্জন্য বিষয় প্রমাণ করা আবশ্যক, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুক তার উপর উপরেবর্ণিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।
উদাহরণ:
(ক) 'ক' 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে অবশ্যই 'খ'-এর মৃত্যু 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।
(খ) 'ক' একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের প্রসঙ্গের মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। দলিলাটি যে হারিয়ে গিয়েছে, অবশ্যই তা 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।
---------
⇒The Evidence Act, 1872- Section-104. Burden of proving fact to be proved to make evidence admissible: The burden of proving any fact necessary to be proved in order to enable any person to give evidence of any other fact is on the person who wishes to give such evidence.
Illustration:
(a) A wishes to prove a dying declaration by B. A must prove B's death.
(b) A wishes to prove, by secondary evidence, the contents of a lost document. A must prove that the document has been lost.

৭৫.
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারার বিধান অনুসারে কোন ক্ষেত্রে বিশারদের মতামত সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক নয়?
  1. ফরেনসিক সাক্ষ্য 
  2. টাইপ রাইটিং
  3. বিদেশী আইন
  4. বিক্রয় দলিল
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ অনুযায়ী বিশারদের (Expert) মতামত শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ১৩টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। এর মধ্যে রয়েছে: বিদেশী আইন, বিজ্ঞান, ফরেনসিক সাক্ষ্য, ডিজিটাল রেকর্ড, হস্তলিপি, আঙ্গুলের ছাপ, পায়ের ছাপ, তালুর ছাপ, টাইপ রাইটিং, ট্রেড বা টেকনিকাল শব্দের, ব্যবহার, ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় ইত্যাদি।
কিন্তু বিক্রয় দলিল (Sale Deed) এর সত্যতা, বৈধতা বা বিষয়বস্তু প্রমাণের জন্য বিশারদের মতামতের প্রয়োজন হয় না। এটি একটি প্রাথমিক দলিল (Primary Document) এবং এর বিষয়বস্তু ধারা ৬১-৬৬ অনুযায়ী প্রাথমিক বা গৌণ সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়, বিশারদের মতামত দিয়ে নয়।
- সুতরাং, প্রশ্নের চারটি অপশনের মধ্যে যেটি ধারা ৪৫-এর আওতায় পড়ে না তা হলো: ঘ) বিক্রয় দলিল।

⇒The Evidence Act, 1872- Section- 45. Opinion of Experts:
  When the Court has to form an opinion upon a point of foreign law, or of science, physical or forensic evidence or digital record, or art, or as to identity of hand writing or finger impression or footprint or palm impression or iris impression or typewriting or usage of trade or technical terms or identity of person or animal, the opinion upon that point of person specially skilled in such foreign law, science, physical or forensic evidence or digital record or art, or in questions as to identity of handwriting or finger impression, footprint, palm impression, typewriting, usage of trade, technical term or identity of person or animal, as the case may be, are relevant facts. Such persons are called experts.

৭৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১০৮ অনুযায়ী আদালত কত বছর খোঁজখবর না পাওয়ার পর ব্যক্তিকে মৃত বলে অনুমান করতে বাধ্য?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১০৮-এর প্রভিশন অনুসারে, যখন কোনো ব্যক্তি জীবিত কিনা মৃত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে এবং প্রমাণিত হয় যে সে ৭ (সাত) বছর ধরে যাদের কাছে স্বাভাবিকভাবে খবর পাওয়া যেত তাদের কাছ থেকে কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তখন ব্যক্তিটিকে মৃত বলে অনুমান করা হয়। এই অনুমানের ফলে জীবিত বলে দাবি করলে প্রমাণের বোঝা (burden of proof) সেই দাবিকারীর উপর স্থানান্তরিত হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী-আদালত কোন ব্যক্তিকে মৃত অনুমান করতে বাধ্য যদি বিগত ৭ বৎসর যাবৎ তার কোন খবর পাওয়া না যায়। এমন ব্যক্তিকে যে জীবিত দাবী করে, তাকেই প্রমাণ করতে হবে উক্ত ব্যক্তি জীবিত।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 108: Burden of proving that person is alive who has not been heard of for seven years:
Provided that when the question is whether a man is alive or dead, and it is proved that he has not been heard of for seven years by those who would naturally have heard of him if he had been alive, the burden of proving that he is alive is shifted to the person who affirms it.

৭৭.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় 'স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া' (course of business) একটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১৩
  4. ধারা ১৬
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৬-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: যখন প্রশ্ন ওঠে যে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা হয়েছে কি না, তখন স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বা রুটিনের (course of business) অস্তিত্ব একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য বলে গণ্য হবে।

- ধারা ১৬ অনুযায়ী, যদি কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য একটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকে, তাহলে সেই কাজটি করার প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, যে কাজটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা, তার প্রমাণ সাপেক্ষে সেই কাজের হওয়া বা না হওয়া প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৬ অনুসারে, কোনো কাজ স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া (course of business) অনুযায়ী সম্পাদিত হলে, সেই প্রক্রিয়ার অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে কাজটি করা হয়েছিল।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 16. Existence of course of business when relevant:
- When there is a question whether a particular act was done, the existence of any course of business, according to which it naturally would have been done, is a relevant fact.

৭৮.
সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা কোন ধরনের সাক্ষীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. সুস্থ সাক্ষীর ক্ষেত্রে
  2. বধির সাক্ষীর ক্ষেত্রে
  3. অন্ধ সাক্ষীর ক্ষেত্রে
  4. বোবা সাক্ষীর ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ বিশেষভাবে বোবা সাক্ষী (Dumb witnesses)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।ধারা ১১৯-এর অনুসারে বোবা সাক্ষী: একজন সাক্ষী যিনি কথা বলতে অক্ষম, তিনি যেকোনো উপায়ে তার সাক্ষ্য দিতে পারবেন যাতে তা বোধগম্য হয়, যেমন লিখে বা ইশারায়; কিন্তু এই ধরনের লিখিত সাক্ষ্য অবশ্যই লিখিত হতে হবে এবং ইশারা খোলা আদালতে করতে হবে। এভাবে দেওয়া সাক্ষ্য মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।

⇒The Evidence Act, 1872 এর ১১৯ ধারা অনুযায়ী, বোবা ব্যক্তি আদালতে প্রকাশ্যে লিখে বা ইশারায় সাক্ষ্য দিতে পারবেন।
এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো সাক্ষী বধির বা বোবা হন এবং সে লিখতে বা ইশারা করতে পারেন, তাহলে তাকে লিখিত বা ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে দেওয়া যেতে পারে।
সুতরাং, একজন বোবা সাক্ষীকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে:
লিখিত সাক্ষ্য: বোবা ব্যক্তি তার সাক্ষ্য লিখিতভাবে দিতে পারবেন। তিনি প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর লিখবেন এবং সেই লিখিত উত্তরগুলি আদালতে পাঠ করা হবে।
ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য: বোবা ব্যক্তি ইশারা করে তার সাক্ষ্য দিতে পারবেন। একজন দোভাষী তার ইশারাগুলি অনুবাদ করবেন এবং সেই অনুবাদগুলি আদালতে পাঠ করা হবে।
--------
⇒The Evidence Act, 1872-Section-119. Dumb witnesses: A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.

৭৯.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে পাঁচ বছর পুরোনো ডিজিটাল রেকর্ড সম্পর্কে অনুমান করা হয়?
  1. ধারা ৮৯ক
  2. ধারা ৯০ক
  3. ধারা ৯০খ
  4. ধারা ৯১ক
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯০ক (Section 90A)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, যদি কোনো ডিজিটাল রেকর্ড পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো হয় এবং যথাযথ হেফাজত (proper custody) থেকে উপস্থাপিত হয়, তাহলে আদালত অনুমান (may presume) করতে পারে যে, ঐ রেকর্ডে থাকা ডিজিটাল স্বাক্ষর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার অনুমোদিত কোনো ব্যক্তি দিয়েছেন।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯০ক অনুযায়ী,
যে কোনো ডিজিটাল রেকর্ড যদি পাঁচ বছর পুরোনো হয় এবং আদালত মনে করে যে এটি সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে, তবে আদালত এটি সঠিক বলে ধরে নিতে পারে এবং অনুমান করতে পারে যে ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার অনুমোদিত কোনো ব্যক্তির দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে।

⇒ The Evidence Act,1872, section- 90A. Presumption as to digital records five years old:
Where any digital record, purporting or proved to be five years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the digital signature which purports to be the digital signature of any particular person was so affixed by him or any person authorized by him in this behalf.

৮০.
'বৈরী সাক্ষী' বলতে সাধারণত বুঝায়-
  1. যে সাক্ষী নীরবতা পালন করে
  2. যে সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয় না
  3. যে সাক্ষী আদালতের নির্দেশ অমান্য করে
  4. যে সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
ব্যাখ্যা

- সঠিক উত্তর: ঘ) যে সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।
⇒ ‘বৈরী সাক্ষী’ (Hostile Witness) বলতে বোঝায়— যে সাক্ষীকে কোনো পক্ষ (বাদী/বিবাদী) নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতে হাজির করে, কিন্তু সে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে, পূর্ববর্তী জবানবন্দি (যেমন ১৬৪ দঃবিপ্র) থেকে সরে আসে বা বিপরীত কথা বলে।
- সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৪ অনুযায়ী এই ধরনের সাক্ষীকে আদালত বৈরী ঘোষণা করলে, যে পক্ষ তাকে হাজির করেছে, সেই পক্ষই আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে জেরা (cross-examine) করতে পারে।

⇒ বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) হলো সেই সাক্ষী যাকে কোনো পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করে, কিন্তু সে যদি নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে যদি সাক্ষী বৈরী হয়ে যায়। সাধারণত, জেরা করার অধিকার প্রতিপক্ষের থাকে, তবে যদি আদালত মনে করে যে একজন সাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষও তাকে জেরা করতে পারে।

 কখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়?
১) যখন সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।
২) যখন সাক্ষী প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে।
৩) যখন সাক্ষী তার আগের দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে আসে বা বিপরীত কথা বলে।

উদাহরণ:
- একজন সাক্ষী যদি পুলিশের সামনে একরকম বক্তব্য দেয়, কিন্তু আদালতে এসে তার বিপরীত কথা বলে, তাহলে সে বৈরী সাক্ষী বলে গণ্য হতে পারে।

⇒ অর্থাৎ যদি একজন সাক্ষী তার পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলে অথবা প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী বলা হয় এবং সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে জেরা করতে পারে।
- এটি আদালতের বিবেচনার বিষয় যে সাক্ষী সত্যিই বৈরী কি না।

৮১.
সাক্ষ্য আইনের বিধান অনুসারে 'Estoppel' নীতি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে
  2. আইনগত প্রশ্নে
  3. দেওয়ানি মামলায়
  4. উল্লিখিত সবক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৫ এর অধীনে Estoppel (স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা) শুধুমাত্র ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে (question of fact) প্রযোজ্য। এটি আইনগত প্রশ্নে (question of law) কখনোই প্রযোজ্য হয় না।
- অর্থাৎ Estoppel কেবল ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য; আইনগত অধিকার বা বিধান বিষয়ে এটি প্রযোজ্য নয়।

- Estoppel (স্বকার্যজনিত প্রতিবন্ধকতা) হলো এমন একটি নীতি, যা কাউকে তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কাজ বা কার্যবিরতির পরিপন্থী কথা বলার বা দাবি করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যদি সেই পূর্ববর্তী আচরণ বা কথার ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।

⇒ তবে এই নীতির প্রযোজ্যতা কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ:
- ঘটনাভিত্তিক প্রশ্নে (Questions of fact): যেমন, কে কী বলেছিল, কে কী কাজ করেছিল, কোনো জমি কার দখলে ছিল ইত্যাদি।
- দেওয়ানি মামলায় (Civil cases): বিশেষত অধিকার ও মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে।

⇒ আইনগত প্রশ্নে (Questions of law):
- যদি কোনো ব্যক্তি কোনো আইনগত অধিকার সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা দেয় বা স্বীকার করে, তবুও Estoppel এর মাধ্যমে সে তার প্রকৃত আইনি অধিকার হারাবে না।
- অর্থাৎ আইন বিষয়ে ভুল বক্তব্য বা বিশ্বাস কাউকে তার আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।

উদাহরণ:
যদি কেউ ভুল করে বলে যে তার কোনো জমির উপর মালিকানা নেই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে আইন অনুযায়ী মালিক হয়, তাহলে পরে সে তার মালিকানা দাবি করলেও Estoppel তার বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না — কারণ এটি আইনের প্রশ্ন।

৮২.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে, একজন আইনজীবী তার মক্কেলের সাথে হওয়া পেশাগত যোগাযোগের বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করতে বাধ্য?
  1. ধারা ১২২
  2. ধারা ১২৪
  3. ধারা ১২৫
  4. ধারা ১২৬
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারা অনুসারে, একজন ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল তার মক্কেলের পক্ষে কাজ করার সময় এবং উদ্দেশ্যে মক্কেল কর্তৃক বা তার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কোনো বার্তা, দলিলের বিষয়বস্তু বা প্রদত্ত পরামর্শ মক্কেলের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করতে পারবেন না। এই গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা তাদের নিয়োগ শেষ হওয়ার পরও বহাল থাকে।
তবে এই ধারায় কিছু ব্যতিক্রমও উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: কোনো বেআইনি উদ্দেশ্যে সংঘটিত যোগাযোগ বা নিয়োগ শুরুর পরে সংঘটিত কোনো অপরাধ বা প্রতারণা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।


⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না।
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
-------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 126 Professional communications:
- No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:

Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.

Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.

৮৩.
ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ (Digital Signature Certificate) সম্পর্কে অনুমানের বিধান কোন ধারায় আছে? 
  1. ৮৫ক ধারায়
  2. ৮৫খ ধারায়
  3. ৮৫গ ধারায়
  4. ৮৫ঘ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৮৫গ (Section 85C)-ই শুধুমাত্র ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ (Digital Signature Certificate) সম্পর্কে অনুমানের বিধান দেয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮৫গ ধারার বিধান ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদ সম্পর্কে অনুমান:- বিপরীত কিছু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, গ্রাহকের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়নি তা ব্যতীত ডিজিটাল স্বাক্ষর সনদের উল্লেখিত তথ্য সঠিক, যদি সনদটি গ্রাহক দ্বারা গৃহিত হয়। 
⇒ গ্রাহকের তথ্য হিসেবে নির্ধারিত তথ্য যাচাই করা না হলে তা সঠিক বলে আদালত অনুমান করবে না।
----------
⇒ The Evidence Act,1872, Section 85C Presumption as to Digital Signature Certificates.- The Court shall presume, unless contrary is proved, that the information listed in a Digital Signature Certificate is correct, except for information specified as subscriber information which has not been verified, if the certificate was accepted by the subscriber.

৮৪.
“All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.” – এই বিধান কোন ধারার?
  1. ধারা ২৪
  2. ধারা ২৫ 
  3. ধারা ২৬
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৫-এর পুরো বিধানই হলো: “All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.”
- অর্থাৎ তামাদি আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সব দলিল (যে ক্যালেন্ডারেই লেখা থাকুক না কেন – বঙ্গাব্দ, হিজরি, শকাব্দ ইত্যাদি) গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সম্পাদিত বলে গণ্য হবে। এর ফলে তামাদির মেয়াদ গণনায় একক ও নির্ভুল নিয়ম প্রয়োগ হয়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী, দলিলে উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of Time mentioned in instruments)- তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
-------
-The Limitation Act, 1908, Section-25. Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.

৮৫.
তামাদি আইনের বিধান অনুসারে অসাধুভাবে আত্মসাৎ করা অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলার তামাদির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৪৮ এর বিধান অনুযায়ী, অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ হলো ৩ (তিন) বছর।

গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- তামাদি মেয়াদ: ৩ বছর
- সময় গণনার সূচনা: সম্পত্তির আসল মালিক যেদিন প্রথমবার জানতে পারেন যে সম্পত্তিটি বর্তমানে কার কাছে রয়েছে সেদিন থেকে।

⇒ প্রযোজ্য ক্ষেত্র: এই বিধানটি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
- হারানো সম্পত্তি। 
- চুরি হওয়া সম্পত্তি। 
- অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত (Dishonest Misappropriation) সম্পত্তি। 
- অন্যায়ভাবে আটককৃত সম্পত্তি। 
সুতরাং, অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত অস্থাবর সম্পত্তি ফেরত পেতে বা তার ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা ৩ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।


৮৬.
তামাদি আইনের বিধান অনুসারে সাধারণ সম্পত্তির উপর সুখাধিকার অর্জনের জন্য কত বছর শান্তিপূর্ণ, প্রকাশ্য ও অব্যাহত ভোগ করতে হয়?
  1. ১২ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৬(১) এর বিধান অনুযায়ী, সাধারণ বেসরকারি সম্পত্তির উপর সুখাধিকার (Easement) অর্জনের জন্য ২০ (বিশ) বছর ধরে শান্তিপূর্ণ, প্রকাশ্য, অব্যাহতভাবে ও অধিকার দাবি করে ভোগ করতে হয়।
- তবে ধারা ২৬(২) অনুসারে, সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৬০ (ষাট) বছর।
- সুতরাং, প্রশ্নে "সাধারণ সম্পত্তি" বলতে বেসরকারি সম্পত্তি বোঝায়, যার জন্য ২০ বছর ভোগ আবশ্যক।

⇒ তামাদি আইনের ২৬ ধারার বিধান: সুখাধিকার সমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements):
(১) যেইক্ষেত্রে কোন দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছে,
এবং যেইক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নৈতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে, সেক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্ঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।
যদি কোন মামলায় উক্তরূপ কোন অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্ত উভয় ক্ষেত্রেই বিশ বৎসর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববতী দুই বৎসরের মধ্যে সমাপ্ত বিশ বৎসর বুঝাইবে।
(২) যে সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদি সরকারের সম্পত্তি হয় তবে উক্ত উপধারায় বিশ বৎসর কথাগুলির স্থলে ষাট বৎসর কথাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

ব্যাখ্যা : এই ধারার অর্থানুসারে কোন কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্য কোন লোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগে প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া না লওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভূত হইবার পর এক বৎসর অতিবাহিত হয়।

উদাহরণ:
(ক) পথ চলার অধিকারে বাধা প্রদানের জন্য ১৯১১ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিবাদী বাধা প্রদানের কথা স্বীকার করে কিন্তু পথ চলার অধিকারের প্রতি অস্বীকৃতি জানায়। বাদী প্রমাণ করে যে, সে এই অধিকার ১৮৯০ সালের ১লা জানুয়ারি হইতে ১৯১০ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহতভাবে উহাতে সুখাধিকার হিসাবে স্বত্ব দাবি করিয়া শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে। বাদী স্বীয় অনুকূলে রায় পাইবার অধিকারী।

(খ) অনুরূপ এক মামলায় বাদী দাবি করে যে, সে এই অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে বিশ বৎসর যাবত ভোগ করিয়াছে, বিবাদী প্রমাণ করে যে, ঐ বিশ বৎসরের মধ্যে বাদী একবার এই অধিকার ভোগের জন্য তাহার অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিল। মামলাটি খারিজ হইয়া যাইবে।

৮৭.
তামাদি আইনের কোন ধারাটি 'সংরক্ষণ' (Savings) শিরোনামে পরিচিত?
  1. ধারা ২৭
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ২৯
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ধারা ২৯-এর শিরোনামই হলো "সংরক্ষণ" (Savings)। এই ধারাটি তামাদি আইনের কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম ও সুরক্ষা বিধান উল্লেখ করে।

⇒ তামাদি আইনের ২৯ ধারা সংরক্ষণ:
(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
----------
⇒ The Limitation Act:- Section- 29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872. 
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law- 
(a) The provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special  law; and 
(b) The remaining provisions of this Act shall not apply. 
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act. 
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.

৮৮.
মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ডের (malicious prosecution/false imprisonment) জন্য ক্ষতিপূরণ মামলার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী, মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর। এই মেয়াদ কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

অর্থাৎ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৯ এর বিধান অনুযায়ী, মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ হলো ১ (এক) বছর।

গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- এই ১ বছর সময় গণনা শুরু হয় কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে।
- অর্থাৎ, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১ বছরের মধ্যে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে হবে।
- যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা তামাদির কারণে বাতিল হয়ে যাবে।

৮৯.
তামাদি আইনের ৬ ধারা কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে
  2. আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে
  3. ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে 
  4. উল্লিখিতর সকল ক্ষেত্রে 
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908-এর ৬ ধারা শুধুমাত্র মোকদ্দমা দায়ের, আদালতের কার্যধারা পরিচালনা, এবং ডিক্রি জারির আবেদন সংক্রান্ত তামাদি গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
-তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি নাবালক, উন্মাদ, বা জড়বুদ্ধি হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি গণনা শুরু হবে তখনই, যখন সে এই অপারগতা থেকে মুক্ত হবে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক মামলা (suit), আদালতের কার্যধারা (proceeding), বা ডিক্রি জারির আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রযোজ্য।
- আপিল দায়ের একটি পৃথক অধিকার: মোকদ্দমা (suit) বা কার্যধারা (proceeding) দায়ের করার অধিকার এবং আপিল দায়ের করার অধিকার আলাদা। আপিল সাধারণত একটি আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, যা স্বতন্ত্র এবং The Limitation Act-এর অন্যান্য ধারা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- তামাদির গণনার প্রভাব: ৬ ধারায় উল্লেখিত বৈধ অপারগতার কারণে যে সময় গণনা বন্ধ রাখা হয়, তা শুধুমাত্র মূল মামলা বা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আপিলের ক্ষেত্রে নয়।

অর্থাৎ আপিলের জন্য নির্ধারিত সময়: আপিল দায়েরের জন্য The Limitation Act-এ স্বতন্ত্র সময়সীমা নির্ধারিত আছে (যেমন, ৩০ বা ৯০ দিন, নির্ভর করে আদেশ বা ডিক্রির ধরন অনুযায়ী)। এই সময়সীমা ৬ ধারার বিধান দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

সুতরাং, The Limitation Act, 1908-এর ৬ ধারা মোকদ্দমা দায়ের, কার্যধারা পরিচালনা, এবং ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, আপিল দায়েরের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারিত আছে এবং তা ৬ ধারার আওতাভুক্ত নয়।

৯০.
বংশগত পদ (hereditary office) দখল করার জন্য মামলার তামাদি মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৪ অনুযায়ী, বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর।
- এই মেয়াদ বিবাদী যখন বাদীর প্রতিকূলে পদটি দখল করে সেই তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
- পদ দখল করার তারিখ বলতে সেই তারিখকে বোঝায় যখন বিবাদী বাদীর অধিকার লঙ্ঘন করে বংশগত পদটি দখল করে।
- এই তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।


৯১.
আপীল দায়েরের তামাদি মেয়াদ কোন আর্টিকেলের মধ্যে উল্লেখ আছে? 
  1. ১–১৪৯
  2. ১৫০–১৫৭
  3. ১৪৮–১৫৮
  4. ১৫৮–১৮৩
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিল মোট ৩টি বিভাগে বিভক্ত। এই তিনটি বিভাগ অনুযায়ী, তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের বিধানগুলি মোকদ্দমা (Suit), আপীল (Appeal), এবং দরখাস্ত (Application/Petition) সংক্রান্ত।
অর্থাৎ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের মোট ৩টি বিভাগ রয়েছে, যেগুলি হল: ১) মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি ২) আপীল দায়েরের তামাদি ৩) দরখাস্ত দায়েরের তামাদি।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ৩টি বিভাগ:
১) প্রথম বিভাগ (First Division):
→ মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Suits)
- এই বিভাগের অধীনে ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলার তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
২) দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division):
→ আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Appeals)
- এই বিভাগের অধীনে ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত বিভিন্ন আপীলের তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
৩)  তৃতীয় বিভাগ (Third Division):
→ বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Applications and Petitions)
- এই বিভাগের অধীনে ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত বিভিন্ন দরখাস্ত বা পিটিশনের তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

৯২.
বার কাউন্সিল অর্ডার অনুযায়ী আইনজীবী নয় এমন ব্যক্তি আইনচর্চা করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে?
  1. ৩ মাস কারাদণ্ড
  2. ৬ মাস কারাদণ্ড
  3. ১ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ বার কাউন্সিল অর্ডারের অনুচ্ছেদ ৪১ অনুসারে আইনজীবী নয় এমন ব্যক্তির আইনচর্চা করলে তার শাস্তির বিধান বলা আছে।
- বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৪১ অনুসারে, কোন ব্যক্তি যদি আইনজীবী না হয়েও আইন পেশা চর্চা করেন অথবা হাইকোর্টে অনুশীলন করার অধিকারী না হয়েও সেখানে অনুশীলন করেন, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
-------------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972: Article- 41. Any person who is not an advocate and practises the profession of law and any person who is not entitled under this Order to practise in the High Court practises before that Court shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to six months.

৯৩.
"পেশাগত আচরণ ও শিষ্ঠাচার বিধিমালা" (Canons of Professional conduct & Etiquette) এর মোট কতটি অধ্যায় আছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

⇒ “পেশাগত আচরণ ও শিষ্ঠাচার বিধিমালা” (Canons of Professional Conduct and Etiquette) – যা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত – এর মোট ৪টি অধ্যায় রয়েছে। এগুলো হলো:
- ১. অন্যান্য আইনজীবীদের প্রতি আচরণ (Conduct with regard to other advocates)
- ২. মক্কেলদের প্রতি আচরণ (Conduct with regard to clients)
- ৩. আদালতের প্রতি কর্তব্য (Duty to the court)
- ৪. জনসাধারণের প্রতি আচরণ (Conduct with regard to the public generally)
সুতরাং প্রশ্নের উত্তর: গ) ৪টি।

⇒ Canons of Professional conduct & Etiquette-এ মোট ৪টি অধ্যায় আছে।
যথা-
১ম অধ্যায়- অন্যান্য আইনজীবীদের প্রতি আচরণ।
২য় অধ্যায়- মক্কেলদের প্রতি আচরণ।
৩য় অধ্যায়- আদালতের প্রতি কর্তব্য।
৪র্থ অধ্যায়- জনসাধারণের প্রতি আচরণ।

৯৪.
বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী তফশিল কতদিন পূর্বে চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রকাশ করতে হবে? 
  1. ২১ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর বিধি ৩ অনুসারে, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে নির্বাচনের তারিখের সর্বনিম্ন ৪৫ দিন পূর্বে নির্বাচনী তফশিল সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। এই তফশিলে নির্বাচন প্রস্তাব জমার শেষ তারিখ, প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ, ভোটগ্রহণের তারিখ, নির্বাচনে আপত্তি দায়েরের তারিখ এবং আপত্তি নিষ্পত্তির তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 এর ৩ বিধিতে বলা হয়েছে বার কাউন্সিলের নির্বাচনের সর্বনিম্ন ৪৫ দিন পূর্বে, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচনের তফশিল প্রকাশ করবে।

--------------
Election of Members of the Bar Council
- Rules-3. The Chairman shall [at least 45 days before the election of the Bar Council], publish a programme of the election of members of the Bar Council in the official Gazett specifying -
(a) the date not being a day within ten days of th Notification by which proposals for election are to be delivered at the office of the Bar Council;
(b) the date for the scrutiny of such proposals;
(c) the date or dates on which voting shall take place;
(d) the date by which objections to election shall be filed;
(e) the date on which objection shall be taken up for the time by the Election Petition Committee at the office the Bar Council;

৯৫.
"Canons of Professional Conduct and Etiquette"-এর চতুর্থ অধ্যায়ের কোন বিধি অনুযায়ী একজন আইনজীবী তার পেশা ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসা বা চাকরির সাথে জড়িত হতে পারবেন না?
  1. বিধি-৫
  2. বিধি-৬
  3. বিধি-৭
  4. বিধি-৮
ব্যাখ্যা

⇒ "Canons of Professional Conduct and Etiquette" হলো বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা যা তাদের পেশাগত আচরণ ও শালীনতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এটি একটি সামগ্রিক নিয়মাবলী যা আইনজীবীদের কর্তব্য, দায়িত্ব এবং নৈতিক আচরণের বিভিন্ন দিকগুলো আওতাভুক্ত করে। Canons of Professional Conduct and Etiquette- এ মোট ৪টি অধ্যায়ে ৪২টি বিধি আছে।
অধ্যায়সমূহ:
১ম অধ্যায়- আইনজীবীদের পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য;
২য় অধ্যায়- মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৩য় অধ্যায়- আদালতের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৪র্থ অধ্যায়- জনসাধারনের প্রতি দায়িত্ব।
------------------------------
-একজন আইনজীবীর জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য: “Canons of Professional Conduct and Etiquette” অংশের চতুর্থ অধ্যায়ের ১-৮ বিধি অনুযায়ী একজন আইনজীবীর জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য কী তা উল্লেখ করা হয়েছে-
- একজন আইনজীবীর জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য- ৮টি:
[বিধি-১]-কোন ব্যক্তিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নিযুক্তি না নেওয়া: কোন ব্যক্তিকে বিরক্ত করা, হয়রানি করা বা মোকদ্দমা বিলম্বিত করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে বাদী বা বিবাদী কোন পক্ষে একজন আইনজীবী নিযুক্ত হবেন না।
[বিধি-২]- ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করা: একজন আইনজীবী সর্বদা তার ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করবেন। বিচার চলাকালে আইন বহির্ভুত কাজ করবেন না।
[বিধি-৩]- ক্ষতির উদ্দেশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মোকদ্দমা দায়ের বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
[বিধি ৪]- পরামর্শ প্রদানে বাধ্যবাধকতা: কোন আইনজীবী প্রত্যেককে পরামর্শ প্রদান করতে বা আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য নন।
[বিধি-৫]-  মোকদ্দমা গ্রহণ বা বর্জন করতে পারেন: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তি বা সংস্থা যতই ক্ষমতাবান হোক অথবা রাজনৈতিক মোকদ্দমা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক তিনি পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
[বিধি-৬]- পরিচয় প্রকাশ করা: কোন আইনজীবী কোন সরকারি অফিসার, বোর্ড কমিটি ইত্যাদির নিকট পেশাগত দায়িত্বে উপস্থিত হলে প্রথমে তিনি তার পরিচয় দিবেন।
[বিধি-৭]- পূর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে: কোন আইনজীবী যদি কোন বিষয়ে পূর্বে বিচারক পদমর্যাদায় কাজ করেন তাহলে তিনি সেই বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ লাভ করবেন না।
[বিধি-৮]- ব্যবসা, চাকুরি বা অন্য পেশার সাথে জড়িত না হওয়া: একজন আইনজীবী নিজের আইন পেশা ব্যতীত অন্য কোন ব্যবসা, চাকুরি বা পেশার সাথে জড়িত হবে না।

৯৬.
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল তার পূর্বের আদেশ পর্যালোচনা (review) করতে পারে কীভাবে?
  1. নিজ উদ্যোগে
  2. আবেদনের ভিত্তিতে
  3. উচ্চ আদালতের নির্দেশে
  4. ক অথবা খ 
ব্যাখ্যা

⇒ বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ) করার ক্ষমতা: অনুচ্ছেদ ৩৪(৮) অনুযায়ী: বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে তার পূর্বের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (review), পরিবর্তন (vary) বা বাতিল (rescind) করতে পারে।
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ৩৪ (৮) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল তার নিজস্ব উদ্যোগে বা কোন আবেদনের প্রেক্ষাপটে তার সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারে বা পরিবর্তন করতে পারে বা বাতিল করতে পারে।
------------------ 
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 Article-34(8):
The Tribunal may, of its own motion or on application made to it in this behalf, review any order passed under clause (4) or (6) and maintain, vary or rescind the same, as it thinks fit.