৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন
১.
ওডেসা কোন দেশের সমুদ্রবন্দর?
ক
ক) গ্রিস
খ
খ) ইতালি
গ
গ) স্পেন
ঘ
ঘ) ইউক্রেন
ব্যাখ্যা
ওডেসা হলো কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত ইউক্রেনের প্রধান সমুদ্রবন্দর। ওডেসা ব্যতীত ইউক্রেনের অন্যান্য সমুদ্রবন্দরের মধ্যে মারিয়োপোল, অলিভিয়া, পিভডেনি, মাইকোলেভ অন্যতম।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
২.
আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ কোনটি?
ক
ক) নাউরু
খ
খ) মোনাকো
গ
গ) ভ্যাটিকান সিটি
ঘ
ঘ) টুভ্যালু
ব্যাখ্যা
আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশসমূহ: - প্রথম : ভ্যাটিকান সিটি (০.৪৪ বর্গ কি.মি.) - দ্বিতীয় : মোনাকো - তৃতীয় : নাউরু
জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ : ভ্যাটিকান সিটি আয়তনে বৃহত্তম দেশ : রাশিয়া জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ : চীন।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৩.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে ক্ষয়কার্য সাধন অধিক হয়?
ক
ক) নিম্নগতি
খ
খ) উর্ধ্বগতি
গ
গ) মধ্যগতি
ঘ
ঘ) ধীরগতি
ব্যাখ্যা
পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো: - উর্ধ্বগতি - মধ্যগতি এবং - নিম্নগতি
উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।
মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।
সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪.
নিচের কোনটিকে শারদ বিষুব বলা হয়?
ক
ক) ২১ মার্চ
খ
খ) ২১ জুন
গ
গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
ঘ
ঘ) ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখায় সূর্যের গমনকে বিষুব বলা হয়। ২৩শে সেপ্টেম্বর দক্ষিণায়নের অংশ হিসেবে সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে ২৩শে সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়। এই দিনটিকে শারদ বিষুব বলা হয়।
সূর্যের উত্তরায়ণের সময় ২১শে মার্চ সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে করে ২১শে মার্চও পৃথিবীর দিন-রাত্রি সমান থাকে। এই দিনটিকে মহাবিষুব বলা হয়। আবার এইদিন (২১ মার্চ) থেকে উত্তর গোলার্ধে বসন্ত শুরু হয় বিধায় একে বাসন্ত বিষুব বলা হয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
৫.
এক্সোমণ্ডলে কোন দুটি উপাদানের আধিক্য বিদ্যমান?
ক
ক) অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
খ
খ) হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন
গ
গ) আর্গন ও নাইট্রোজেন
ঘ
ঘ) হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের সর্বশেষ স্তর হলো এক্সোমণ্ডল। তাপমণ্ডল থেকে উপরের দিকে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত এক্সোমণ্ডল বিস্তৃত। এক্সোমণ্ডলে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম স্তরের প্রাধান্য বেশি। এছাড়া সামান্য পরিমাণে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও আর্গন গ্যাসও বিদ্যমান রয়েছে। এই স্তরের তাপমাত্রা ৩০০ ডিগ্রি থেকে প্রায় ১৬৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। এক্সোমণ্ডলের পর থেকে আন্তগ্রহ বা ইন্টারপ্লানারি স্পেসের শুরু হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলা নয়?
ক
ক) মার্বেল
খ
খ) গ্রাফাইট
গ
গ) কোয়ার্টজাইট
ঘ
ঘ) গ্রানাইট
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ, রাসায়নিক ক্রিয়া প্রভৃতির ফলে রূপ পরিবর্তন করে যে নতুন শিলায় পরিণত হয় তা রূপান্তরিত শিলা নামে পরিচিত।
ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তা ভূত্বক নামে পরিচিত। ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি। মহাসাগরীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা ০৫ কিলোমিটার এবং মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি।
মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা সিয়াল (SiAl) স্তর নামে পরিচিত। মহাসাগরীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা সিমা (SiMg) স্তর নামে পরিচিত।
সাভানা হলো আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিস্তৃত তৃণভূমি। এটির আয়তন প্রায় ৫০ লক্ষ বর্গমাইল।
এটি সাহারা মরুভূমি ও কালাহারি মরুভূমির মধ্যবর্তী স্থানে সুদান, দক্ষিণ সুদান, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশজুড়ে বিস্তৃত।
(তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)
১০.
বাংলাদেশে কত ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়?
ক
ক) দুই ধরনের
খ
খ) তিন ধরনের
গ
গ) চার ধরনের
ঘ
ঘ) পাঁচ ধরনের
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়। এগুলো হলোঃ - টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী - প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ - প্লাবন সমভূমি।
এদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী। আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে এগুলো গঠিত হয়। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলা জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী অবস্থিত। দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল টারশিয়ারি যুগে গঠিত।
উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি, টাঙ্গাইল-গাজীপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধুপুর ও ভাওয়াল গড় এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড় হলো প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ।
এ ব্যতীত দেশে সমগ্র অঞ্চল সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। দেশের মোট ভূমির প্রায় ৮০ শতাংশই সাম্প্রতিককালের প্লাবন ভূমিরূপ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১১.
নিচের কোনটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র?
ক
ক) মালয়েশিয়া
খ
খ) কম্বোডিয়া
গ
গ) বলিভিয়া
ঘ
ঘ) সেনেগাল
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত দেশসমূহের মধ্যে বলিভিয়া একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। বলিভিয়া ব্যতীত প্যারাগুয়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অপর একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া এবং সেনেগালের সমুদ্রতট রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
১২.
নিচের কোনটি বাল্টিক রাষ্ট্র নয়?
ক
ক) লিথুয়ানিয়া
খ
খ) এস্তোনিয়া
গ
গ) বুলগেরিয়া
ঘ
ঘ) লাটভিয়া
ব্যাখ্যা
বাল্টিক সাগর ইউরোপের উত্তর উপকূলে অবস্থিত। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ বাল্টিক রাষ্ট্র নামে পরিচিত। লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া বাল্টিক রাষ্ট্র নামে পরিচিত।
অন্যদিকে, বুলগেরিয়া বলকান অঞ্চলে অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
১৩.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল মাস কোনটি?
ক
ক) জুন
খ
খ) জুলাই
গ
গ) আগস্ট
ঘ
ঘ) মে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মাসিক স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত: - জানুয়ারি : ৯.০ মি.মি. - ফেব্রুয়ারি : ২৫.৫ মি. মি. - মার্চ : ৫২.৪ মি.মি. - এপ্রিল : ১৩০.২ মি.মি. - মে : ২৭৭.৩ মি.মি. - জুন : ৪৫৯.৪ মি.মি. - জুলাই : ৫২৩.০ মি.মি. - আগস্ট : ৪২০.৪ মি.মি. - সেপ্টেম্বর : ৩১৮.২ মি.মি. - অক্টোবর : ১৬০.৩ মি.মি. - নভেম্বর : ১৪২.৪ মি.মি. - ডিসেম্বর : ৯.৬ মি.মি।
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হলো ২০৩ সেন্টিমিটার।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর)
১৪.
নিচের কোনটি উঁচু উচ্চতার মেঘ?
ক
ক) স্ট্রেটাস
খ
খ) সিরোস্ট্রেটাস
গ
গ) কিউম্যুলাস
ঘ
ঘ) নিম্বাস
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
মাঝারি উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো: - অল্টোস্ট্রেটাস - কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস - নিম্বোস্ট্রেটাস
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ: - সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো: - স্ট্রেটাস - স্ট্রেটোকিউম্যুলাস - কিউম্যুলাস - কিউম্যুলোনিম্বাস।
(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
১৫.
ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতারতরঙ্গ কোন স্তরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে?
ক
ক) স্ট্রাটোমন্ডল
খ
খ) আয়নমন্ডল
গ
গ) মেসোমন্ডল
ঘ
ঘ) এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠের উপরের দিকে ৮০ কি.মি. থেকে ৫০০ কি.মি. পর্যন্ত স্তর হলো তাপমন্ডল। তাপমন্ডলের নিচের অংশকে বলা হয় আনয়মন্ডল। ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমন্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৬.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় কোথায়?
ক
ক) সমুদ্র উপকূলে
খ
খ) মালভূমিতে
গ
গ) গভীর সমুদ্রে
ঘ
ঘ) স্থলভাগে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে। গভীর সমুদ্রে উচ্চ তাপমাত্রার ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।
উচ্চ তাপমাত্রার (সাধারণত ২৭ ডিগ্রির অধিক) ফলে সমুদ্রের বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ভারীবায়ু দ্রুত বেগে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে এবং ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে। বায়ুর গতিবেগ ৬৩ কিলোমিটারের অধিক হলে তা ঘূর্নিঝড় হিসেবে অভিহিত হয়।
(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
১৭.
চার্বাক দর্শন হলো এক প্রকার-
ক
ক) একেশ্বরবাদী দর্শন
খ
খ) অবস্তুবাদী দর্শন
গ
গ) অনৈশ্বরিক দর্শন
ঘ
ঘ) অধ্যাত্মবাদী দর্শন
ব্যাখ্যা
চার্বাক দর্শন এক প্রকার অনৈশ্বরিক বা নাস্তিকবাদী দর্শন। চার্বাকপন্থিরা জগতের কর্তা হিসেবে কোনো চেতন-সর্বজ্ঞ ঈশ্বরকে স্বীকার করেন না। তাঁরা জড়বাদ ও বস্তুবাদে বিশ্বাসী।
দার্শনিক সমস্যার সমাধানে স্বাধীন যুক্তি কীভাবে সহায়তা করে এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় জড়বাদে। বৃহস্পতি এ দর্শনের আদি প্রবক্তা বলে স্বীকৃত।
চারু বা বৃহস্পতি প্রবর্তিত দর্শন বলে একে চার্বাক বা বার্হস্পত্য বলে। বার্হস্পত্যসূত্র চার্বাকগণের মূল গ্রন্থ। চার্বাকদর্শনকে লোকায়ত দর্শন ও বলা হয়, যেহেতু তা কেবল ইহলোকেরই অস্তিত্ব স্বীকার করে। চার্বাকরা প্রাকৃতজনের মতো ব্যবহার করে বলে তাদেরকে লোকায়ত বা লোকায়তিকও বলা হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৮.
জনমত বলতে কী বোঝায়?
ক
ক) সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত
খ
খ) প্রভাবশালীদের মতামত
গ
গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
ঘ
ঘ) শিক্ষিত শ্রেণীর মতামত
ব্যাখ্যা
সাধারণ অর্থে জনমত বলতে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অধিকাংশের মতামতকে বুঝলেও জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত। জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়। সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।
গ্রিক দার্শনিক প্লেটো প্রচিীন গ্রিসে সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না। কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
ক
ক) স্টুয়ার্ট মিল
খ
খ) মন্টেস্কু
গ
গ) মিশেল ক্যামডেসাস
ঘ
ঘ) ম্যাকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি হলো সরকারের তিনটি বিভাগের (শাসন, আইন ও বিচার বিভাগ) মধ্যে ক্ষমতা ও কাজকে পৃথক বা স্বতন্ত্র করে দেওয়া। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু কে। তিনি ১৭৪৮ সালে সর্বপ্রথম তার The Spirit of Laws বইয়ে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২১.
নৈতিকতা হলো একটি-
ক
ক) আধুনিক ধারণা
খ
খ) ধর্মীয় তত্ত্ব
গ
গ) মানসিক ধারণা
ঘ
ঘ) রাজনৈতিক এজেন্ডা
ব্যাখ্যা
Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র। নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।
লালফিতার দৌরাত্ম্য হলো সরকারি দপ্তরে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা। আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকনে। যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়। আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।
মানুষের অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ কোনটি?
ক
ক) আইনের অনুশাসন
খ
খ) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
গ
গ) জনগণের সজাগ দৃষ্টি
ঘ
ঘ) গণমাধ্যমের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যাক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে। মানুষের সকল অধিকারের উৎস হলো রাষ্ট্র। মৌলিক অধিকারের রক্ষক হলো সংবিধান।
অধিকারের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হলো জনগণের সজাগ দৃষ্টি। অধিকারের অন্যান্য রক্ষাকবচসমূহ হলো: - আইন - গণতন্ত্র - সংবিধান - আইনের অনুশাসন - বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রভৃতি।
রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য। অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। এগুলো ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৫.
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচের কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
ক
ক) জবাবদিহিতা
খ
খ) নিরপেক্ষতা
গ
গ) নৈতিকতা
ঘ
ঘ) যথার্থতা
ব্যাখ্যা
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক। তবে এক্ষেত্রে নৈতিকতা বা সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে কতটি আর্টিকেল রয়েছে?
ক
ক) ১৫টি
খ
খ) ২৪টি
গ
গ) ৩০টি
ঘ
ঘ) ৪৫টি
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ফ্রান্সের প্যারিসে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এই ঘোষণাপত্রে মোট ৩০টি ধারা বা আর্টিকেল রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
২৭.
Principia Ethica গ্রন্থের রচয়িতা কে?
ক
ক) হ্যারল্ড লাস্কি
খ
খ) এম ডব্লিউ পামফ্রে
গ
গ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
ঘ
ঘ) নিকোলা মেকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা
Principia Ethica গ্রন্থটি রচনা করেন ব্রিটিশ অ্যানালিটিক্যাল ফিলোসফার জর্জ এডওয়ার্ড মুর। এটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইয়ে নীতিবিদ্যা'র বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে জি.ই. মুর এর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এ গ্রন্থেই জি ই মুর প্রথম পরানীতিবিদ্যা বা Metaethics এর সূত্রপাত করেন।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
২৮.
কার মাধ্যমে শূন্যবাদ ধারণাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে?
ক
ক) জেরেমি বেন্থাম
খ
খ) ফ্রেডেরিখ নীটশে
গ
গ) জ্যা জ্যাক রুশো
ঘ
ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না। এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।
(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
২৯.
নাগরিকতার ধারণার উদ্ভব হয় কোন দেশে?
ক
ক) ইংল্যান্ড
খ
খ) চীন
গ
গ) গ্রিস
ঘ
ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
প্রায় ২,৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নাগরিকতা ধারণার উদ্ভব হয়। গ্রিস তখন ছোট ছোট নগরে বিভক্ত ছিলো যা নগর-রাষ্ট্র নামে পরিচিত। এসব নগর-রাষ্ট্রে যারা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতো তাদের নাগরিক বলা হয়। তাদের ভোটাধিকার ছিলো। তবে নারী, বিদেশি ও দাসদাসীরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না। সময়ের পরিক্রমায় নাগরিক ও নাগরিকতার ধারণা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩০.
নিচের কোনটি জনগণ ও সরকারের মাঝে যোগসূত্রকারী হিসেবে কাজ করে?
ক
ক) সুশীল সমাজ
খ
খ) রাজনৈতিক দল
গ
গ) গণমাধ্যম
ঘ
ঘ) স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা
আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল সরকার এবং জনগণের মাঝে যোগসূত্রকারী বা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে।