পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ বিষয়: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি - ১ টপিক: বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি। উৎস: ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কিত বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, হিস্টরি.কম, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
প্রথম শিল্প বিপ্লব (Industrial Revolution) কোন দেশে শুরু হয়েছিল?
  1. ফ্রান্স
  2. জার্মানি
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা

- অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটেনে প্রথম শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়। কয়লা ও লোহার প্রাচুর্য, উপনিবেশ থেকে প্রাপ্ত কাঁচামাল, উন্নত ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এর প্রধান কারণ ছিল।

প্রথম শিল্প বিপ্লব:
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০-১৮৪০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়।
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।
- ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি (Arnold Toynbee) ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝানোর জন্য ‘শিল্প বিপ্লব' (Industrial Revolution) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- ইংল্যান্ডে শুরু হলেও খুব দ্রুতই ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে।
- ইউরোপের পাশাপাশি ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে।
- শিল্প বিপ্লবের ফলে পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তত হতে থাকে।
- এই সময় বিভিন্ন ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি ও তত্ত্ব আবিষ্কার হতে থাকে।
- ফলে বিশ্বের ইতিহাসও খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।

সূত্র: Britannica.

.
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীতদাস প্রথা বিলোপ করেন কোন প্রেসিডেন্ট?
  1. জর্জ ওয়াশিংটন
  2. থমাস জেফারসন
  3. আব্রাহাম লিঙ্কন
  4. থিওডোর রুজভেল্ট
ব্যাখ্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র:
- যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জিত হয় ৪ জুলাই, ১৭৭৬ সালে, যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে।
- এই দিনটি যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- বর্তমানে দেশটির মোট অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা ৫০টি, যার মধ্যে প্রথমে ছিল ১৩টি অঙ্গরাজ্য এবং সর্বশেষ যুক্ত হওয়া অঙ্গরাজ্য হলো হাওয়াই। দেশটির জাতীয় পতাকায় ৫০টি তারকা রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেস দুইটি কক্ষে বিভক্ত—নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং উচ্চকক্ষ সিনেট।
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে ন্যূনতম ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোটের প্রয়োজন হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ওয়াশিংটন, তিনি কখনো হোয়াইট হাউজে বসবাস করেননি।
- দেশটিকে স্ট্যাচু অব লিবার্টি উপহার দিয়েছিল ফ্রান্স।
- যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীতদাস প্রথা বিলোপ করেন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন, তিনি ছিলেন ১৬তম প্রেসিডেন্ট।
- ক্রীতদাস প্রথা বিলোপ করা হয় ১৮৬৩ সালে।
- যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের কাছ থেকে লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যটি ক্রয় করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তি (Central Powers) ছিল -
  1. জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য
  2. জার্মানি, রাশিয়া, ইতালি
  3. ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া
  4. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিগুলো প্রধানত জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং অটোমান সাম্রাজ্য (তুরস্ক) নিয়ে গঠিত ছিল। বুলগেরিয়াও পরে তাদের সাথে যোগ দেয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) ছিল একটি আন্তর্জাতিক সংঘর্ষ।
- এই যুদ্ধে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশসহ রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অঞ্চল জড়িয়ে পড়ে।

যুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল দুটি পক্ষ— 
১. কেন্দ্রীয় শক্তি: মূলত জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং অটোমান সাম্রাজ্য (তুরস্ক)।
২. মিত্রশক্তি: মূলত ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, ইতালি, জাপান এবং ১৯১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র।
- এই যুদ্ধ কেন্দ্রীয় শক্তির পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয়।

সূত্র:- হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

.
১৯৭৫ সালে ভারতের ২২তম রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় কোনটি?
  1. সিকিম
  2. মিজোরাম
  3. নাগাল্যান্ড
  4. মণিপুর
ব্যাখ্যা
সিকিম:
- সিকিম ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য,
- এটি পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার পাদদেশে অবস্থিত।
- সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক।
- একসময় এটি একটি স্বাধীন অঞ্চল ছিল, কিন্তু ১৯৭৫ সালে ভারতের প্রজাতন্ত্রের অংশ হয়ে ওঠে।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগের পর সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্বে রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- ১৯৭৪ সালের পুনর্নির্বাচনে লেন্দুপ দর্জির নেতৃত্বে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস বিপুল বিজয় অর্জন করে।
- ১৯৭৫ সালের ২৭ মার্চ গণভোটের মাধ্যমে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, 
- ২৬ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে সিকিম ভারতের ২২তম রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও বিভিন্ন পত্রিকা রিপোর্ট।
.
নিম্নলিখিত কোন রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে?
  1. নিউজিল্যান্ড
  2. যুক্তরাজ্য
  3. শ্রীলঙ্কা
  4. ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাজ্যে "হাউস অব কমন্স" (নিম্নকক্ষ) এবং "হাউস অব লর্ডস" (উচ্চকক্ষ) রয়েছে।

যুক্তরাজ্য:
- সরকার ব্যবস্থা: সাংবিধানিক রাজতন্ত্র।
- সংবিধান: অলিখিত।
- সরকার প্রধান: প্রধানমন্ত্রী।
- প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী: মার্গারেট থ্যাচার।
- যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টোন চার্চিল রাজনীতিবিদ হয়েও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- যুক্তরাজ্যে "হাউস অব কমন্স" (নিম্নকক্ষ) এবং "হাউস অব লর্ডস" (উচ্চকক্ষ) রয়েছে।

অন্যদিকে: 
- নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ডেনমার্কের এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে। 

- নিউজিল্যান্ড: হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives)
- শ্রীলঙ্কা: পার্লামেন্ট অব শ্রীলঙ্কা (Parliament of Sri Lanka)
- ডেনমার্ক: ফোকেটিং (Folketinget)

সূত্র: ব্রিটানিকা। 

.
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের (Russian Revolution) নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কারা?
  1. মেনশেভিকরা
  2. জারপন্থী বাহিনী
  3. বলশেভিকরা
  4. নৈরাজ্যবাদীরা
ব্যাখ্যা

- ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ার ক্ষমতা দখল করে। এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে “১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব” (Russian Revolution of 1917) বলা হয়।

• ফেব্রুয়ারি বিপ্লব: 
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে - রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন - আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

• বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব: 
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে - রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন - ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

সূত্র: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা.কম

.
কোন ক্ষেত্রে মিশরীয়রা 'মেটেরিয়া মেডিকা' দিয়ে অগ্রগতি সাধন করে?
  1. জ্যোতির্বিজ্ঞান
  2. দর্শন
  3. চিকিৎসাবিজ্ঞান
  4. ভূগোল
ব্যাখ্যা
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাদের উন্নতির প্রমাণ হলো মেটেরিয়া মেডিকা গ্রন্থ।

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৫২৫ অব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এটি নীলনদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতা। খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে নারমার বা মেনেস উচ্চ ও নিম্ন মিশরকে একত্রিত করে প্রথম ফারাও হন এবং ঐক্যবদ্ধ মিশরের সূচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার ছিল মিশরীয় সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- তারা প্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা তৈরি করে।
- মিশরীয়রা শুরুতে চিত্রের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করত, যা ‘হায়ারোগ্লিফিক’ নামে পরিচিত।
- তারা ‘প্যাপিরাস’ নামে এক ধরনের কাগজ তৈরি করে তার উপর লেখা শুরু করে।
মেটেরিয়া মেডিকা:
- মিশরীয় সভ্যতায় ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ হলো ঔষধের একটি তালিকা।
- এটি ছিল চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ ও তাদের গুণাগুণের বর্ণনা সম্বলিত একটি গ্রন্থ।
- মিশরীয়রা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও রোগ সারাতো এবং হাড় জোড়া লাগানো, হৃদপিণ্ডের গতি নির্ণয় করত।
- ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ তাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির প্রমাণ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় 'দ্য বিগ থ্রি' (The Big Three) বলতে কোন তিনজন নেতাকে বোঝানো হতো?
  1. হিটলার, মুসোলিনি, স্ট্যালিন
  2. রুজভেল্ট, চার্চিল, স্ট্যালিন
  3. দ্য গল, চিয়াং কাই-শেক, রুজভেল্ট
  4. চার্চিল, রুজভেল্ট, দ্য গল
ব্যাখ্যা

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তির প্রধান তিন নেতা ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা জোসেফ স্ট্যালিন। তাদের জোট 'গ্র্যান্ড অ্যালায়েন্স' নামে পরিচিত ছিল এবং বিজয়ের জন্য এটি অপরিহার্য ছিল।

তেহরান সম্মেলন:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ সালের ২৮ নভেম্বর- ১ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে তেহরান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনের কোড নাম ‘ইউরেকা’।
- এটি 'দ্য বিগ থ্রি' মিত্র নেতাদের (সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম সম্মেলন।

উল্লেখ্য,
- তেহরান সম্মেলনে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বোচ্চ নেতা জোসেফ স্ট্যালিন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এক সাথে উপস্থিত ছিলেন।
- এরা 'দ্য বিগ থ্রি' নেতা হিসেবে খ্যাত।
- এই সম্মেলনকে ঘিরে তিন পক্ষের আকাঙ্ক্ষা ছিল সর্বোচ্চ।
- শুধুমাত্র জার্মানি এবং জাপানকে পরাজিত করাই এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল না।
- একইসাথে যুদ্ধত্তোর বিশ্ব কেমন হবে এবং সেখানে তাদের ভূমিকা কতটুক থাকবে এসব বিষয়কে আলোচনায় প্রাধান্য দেয়া হয়।

সূত্র: Britannica ও THE NATIONAL WWII MUSEUM NEW ORLEANS ওয়েবসাইট। 

.
পম্পেই নগরী কোন দেশে অবস্থিত ছিলো?
  1. তুরস্ক
  2. গ্রিস
  3. ইতালি
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
- পম্পেই ইতালির ক্যাম্পানিয়ায় অবস্থিত ছিলো।

ইতালি:
- ইতালি ১৮৬১ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এক দশকের বিপ্লবের পর ইউরোপের তুরিনে ইতালি রাজ্য প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।
- প্রথম রাজা হিসেবে ভিক্টর ইমানুয়েল তাতে অধিষ্ঠিত হন।
- বর্তমানের ইতালির রাজধানী রোম,
- এটা প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যেরও রাজধানী ছিল।
- ইতালির মুদ্রার নাম ইউরো এবং রোমের সীমানার ভেতরে ভ্যাটিকান সিটি অবস্থিত।
- এছাড়া, রোমের কাছেই ভিসুভিয়াস পর্বতের পাদদেশে প্রাচীন পম্পেই নগরির ধ্বংসাবশেষও রয়েছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও প্রথম আলো।
১০.
বিশ্বে আয়তনে বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত দেশ কোনটি?
  1. কাজাখস্থান
  2. আজারবাইজান
  3. আফগানিস্তান
  4. মঙ্গোলিয়া
ব্যাখ্যা
বিশ্বে আয়তনের দিক থেকে বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত (landlocked) দেশ হলো কাজাখস্তান (Kazakhstan)

স্থলবেষ্টিত দেশ:
- যেসব দেশের সাথে সমুদ্র সীমা নেই সেসব দেশকে স্থল বেষ্টিত দেশ (Landlocked country) বলে।
- সমুদ্রের সাথে সীমান্ত না থাকায় এই দেশগুলোর কোন সমুদ্র বন্দর নেই।
- স্থলবেষ্টিত বৃহত্তম দেশ হলো কাজাখস্থান এবং ক্ষুদ্রতম দেশ হলো ভ্যাটিকান সিটি।

এশিয়ার কয়েকটি স্থল বেষ্টিত দেশ হচ্ছে:
- আফগানিস্তান,
- তুর্কমেনিস্তান,
- কাজাখস্তান,
- কিরগিজস্তান,
- লাওস,
- মঙ্গোলিয়া,
- নেপাল,
- আর্মেনিয়া,
- আজারবাইজান,
- ভুটান,
- তাজিকিস্তান এবং
- উজবেকিস্তান।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১১.
রোমান সভ্যতার আইনের ভিত্তি কোনটি?
  1. বার বিধি
  2. প্যাপিরাস
  3. ট্রাইব্যুনাল
  4. ল্যাটিন কোড
ব্যাখ্যা
- ‘বার বিধি’ ছিল রোমানদের প্রথম লিখিত আইন, এটা রোমান আইনের ভিত্তি হিসেবে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে প্রচলিত হয়।

রোমান সভ্যতা:
- রোমান সভ্যতা প্রথমে রোম রাজাদের শাসনাধীন ছিল, কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব ৫১০ সালে রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে রোমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। রোমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ীত্ব লাভ করে। তাদের অর্থনীতি মূলত দাসদের উপর নির্ভরশীল ছিল।

- রোমান সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল 'বার বিধি' (The Twelve Tables), এটা রোমান আইনের ভিত্তি হিসেবে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে প্রচলিত হয়। এটি রোমান নাগরিকদের জন্য আইনের ভিত্তি স্থাপন করে এবং তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

- রোমের শিল্প, সাহিত্য, দর্শন ও স্থাপত্য গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত হলেও, সামরিক সংগঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং প্রকৌশলবিদ্যায় রোমানরা গ্রিক ও অন্যান্য জাতির চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। তাদের আইন প্রণয়ন, বিশেষ করে 'বার বিধি', ছিল রোমান সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান।

সূত্র: Britannica ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
‘Lady with the Lamp’ নামে পরিচিত কে?
  1. মাদার তেরেসা
  2. ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল
  3. মারি ক্যুরি
  4. অ্যানি বেসান্ত
ব্যাখ্যা
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল:
- ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ছিলেন আধুনিক নার্সিং সেবার অগ্রদূত।
- তিনি ছিলেন ইতালিয়ান নাগরিক।
- ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্সে জন্মগ্রহণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল।
- তিনি Lady with the Lamp নামে পরিচিত।
- ১৯১০ সালের ১৩ আগস্ট লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল।
- ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নেও তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।
- লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে নার্সিংকে সম্পূর্ণ পেশারূপে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১৮৬০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাইটিঙ্গেল ট্রেনিং স্কুল’ যার বর্তমান নাম ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল স্কুল অব নার্সিং।

উল্লেখ্য,
- তিনি ক্রিমিয়ার যুদ্ধে যুদ্ধরত সৈন্যদের চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসেন।
- যুদ্ধটি ১৮৫৩-১৮৫৬ সময়কালে সংঘটিত হয়।
- তিনি দিনের বেলায় কাজ করে রাতের বেলায় আহত সৈন্যদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতেন।
- এ যুদ্ধে চিকিৎসা সেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বলা হয় ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প‘।
- ১৮৮৩ সালে রানি ভিক্টোরিয়া তাকে ‘রয়েল রেডক্রস’ পদক প্রদান করেন।
- প্রথম নারী হিসেবে ‘অর্ডার অব মেরিট’ খেতাব লাভ করেন ১৯০৭ সালে।
- ১৯০৮ সালে লাভ করেন লন্ডন নগরীর ‘অনারারি ফ্রিডম’ উপাধি।

সূত্র: Britannica.
১৩.
‘Sunshine Policy’ নীতির সাথে নিম্নলিখিত কোন দুটি দেশ জড়িত?
  1. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
  2. চীন ও তাইওয়ান
  3. যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা
  4. ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া
ব্যাখ্যা
Sunshine Policy:
- Sunshine Policy- এর সাথে জড়িত দেশ দুইটি।
- এগুলো হলো উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।
- দুই কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়া এক নীতি গ্রহন করে।
- এটি ‘সানসাইন পলিসি’ (Sunshine Policy) নামে পরিচিত।
- এই পলিসির আওতায় দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হয়।
- এই পলিসির মেয়াদ ছিলো ১৯৯৮-২০০৮ সাল পর্যন্ত।
- Sunshine Policy-র প্রবক্তা দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিম দায়ে জং।
- দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার জন্য কিম ২০০০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

সূত্র: koreanstudiescu.com ও Britannica.
১৪.
প্রাচীন গ্রিসের কোন দুটি নগর-রাষ্ট্র তাদের ভিন্নধর্মী সমাজ ব্যবস্থার জন্য পরিচিত ছিল?
  1. করিন্থ ও থিবস
  2. এথেন্স ও স্পার্টা
  3. ডেলফি ও অলিম্পিয়া
  4. মাইসিনি ও ট্রয়
ব্যাখ্যা

- এথেন্স তার গণতন্ত্র, দর্শন ও শিল্পের জন্য পরিচিত ছিল, অন্যদিকে স্পার্টা ছিল একটি সামরিক রাষ্ট্র যা কঠোর শৃঙ্খলা এবং সামরিক শক্তির উপর জোর দিত। এই দুটি নগর-রাষ্ট্রের মধ্যে বৈপরীত্য প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

গ্রিক সভ্যতা:
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

সূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
‘ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলি’ কোন দেশের পার্লামেন্টের নাম?
  1. কাতার
  2. ইরাক
  3. কুয়েত
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

ইরান:
- ইরান দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি মুসলিম রাষ্ট্র।
- ইরান বিশ্বের সবচেয়ে পর্বতময় দেশগুলির একটি।
- সৌদি আরবের পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।
- ১৯৭৯ সালে ইরানী বিপ্লব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের পতন ঘটায় এবং ইরানে একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র স্থাপন করে।

উল্লেখ্য, 
- ‘ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলি’ ইরানের পার্লামেন্টের নাম।

সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৬.
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার শাসকদের কী বলা হতো?
  1. সম্রাট
  2. ফারাও
  3. জার
  4. কাইজার
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন মিশরের শাসকদের সাধারণত ফারাও বলা হতো।  

মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশ যা আমাদের কাছে পরিচিত ইজিপ্ট বা মিশর নামে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- চিত্রকলায় আছে বিশেষ বৈচিত্রপূর্ণ অবদান।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- প্রাচীন মিশরের রাজাদের সাধারণত ফারাও বলা হতো।  

অন্যদিকে: 
- জার (Tsar): "জার" ছিল রাশিয়ার রাজাদের উপাধি। 
- কাইজার (Kaiser): "কাইজার" ছিল জার্মানির সম্রাটদের উপাধি। 

সূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
হাম্মুরাবির আইন (Code of Hammurabi) কোন সভ্যতার সাথে সম্পর্কিত?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  4. পারস্য সভ্যতা
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা: 
- হাম্মুরাবির কোড (Code of Hammurabi) ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সাথে জড়িত। 
- এটি ব্যাবিলনের ১ম রাজবংশের অংশ হিসাবে ১৭৯২ থেকে ১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত শাসনকারী হামুরাবির শাসনামলে বিকশিত হয়েছিল।
- হাম্বুরাবির ২৮২টি আইন প্রতিশোধমূলক নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল, যেখানে “চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত” নীতি অনুসরণ করা হতো।
- এসব আইন ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্পত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করত এবং রোমান ও হিব্রু আইনে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

উল্লেখ্য, 
- বিজ্ঞান ও গণিতের ক্ষেত্রেও ব্যাবিলনীয়দের অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
- তারা চাঁদের পর্যবেক্ষণ করে একটি পঞ্জিকা তৈরি করেছিল এবং জ্যোতির্বিদ্যায় উন্নতি সাধন করেছিল।
- স্থাপত্যে পাথরের অভাবে ইট দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করত। ঝুড়ি, মাটির পাত্র এবং ধাতব দ্রব্য তৈরি করত তারা।
- ধর্মীয় দিক থেকে, ব্যাবিলনীয়রা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক ছিল।
- তাদের প্রধান দেবতা ছিলেন 'মারদুক' এবং দেবী 'ইশতার'।  

সূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয় কোথায়?
  1. কিরগিজস্তান
  2. ইরান
  3. কাজাখস্তান
  4. আর্মেনিয়া
ব্যাখ্যা
- ২০০৫ সালে কিরগিজস্তানে টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয়।

ঐতিহাসিক বিপ্লবসমূহ:
- জেসমিন বিপ্লব: সংঘটিত হয় তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে।
- আমেরিকান বিপ্লব: সংঘটিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৭৬ সালে।
- টিউলিপ বিপ্লব: সংঘটিত হয় কিরগিজস্থানে ২০০৫ সালে।
- ফরাসি বিপ্লব: সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
- রুশ বিপ্লব: সংঘটিত হয় রাশিয়ায় ১৯১৭ সালে।
- ইসলামিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইরানে ১৯৭৯ সালে।
- রোজ বিপ্লব: সংঘটিত হয় জর্জিয়ায় ২০০৩ সালে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইউক্রেনে ২০০৪ সালে।

সূত্র: Britannica.
১৯.
আলেপ্পো শহরটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইরাক
  2. লেবানন
  3. সিরিয়া
  4. জর্ডান
ব্যাখ্যা
- আলেপ্পো সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং আলেপ্পো মুহাফাযার (প্রদেশ) রাজধানী।

• আলেপ্পো:
- আলেপ্পো উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার বৃহত্তম শহর।
- এটি তুর্কি সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরে অবস্থিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ-৪র্থ শতাব্দীতে পারস্য আচেমেনিয়ান রাজবংশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- আলেপ্পো খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দীতে রোমান সাম্রাজ্যের দ্বারা শোষিত হয়েছিল এবং আলেপ্পো কয়েক শতাব্দী ধরে সমৃদ্ধ হয়েছিল।
- ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে এটি আরবদের দ্বারা জয়লাভ করে, যার অধীনে আলেপ্পোর পুরানো নাম হালাব-এ ফিরে আসে।
- আলেপ্পো ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলিকে ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে মনোনীত করা হয়।

• সিরিয়া:
- ভূমধ্যসাগরের আরব উপদ্বীপের উত্তরে পশ্চিম এশিয়ায় সিরিয়া অবস্থিত।
- ১৯৪৬ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
- এর রাজধানী: দামেস্ক।
- বিখ্যাত শহর: আলেপ্পা, ইদলিব ও পালমিরা।
- মুদ্রা: পাউন্ড।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
২০.
সিন্ধু সভ্যতার প্রধান দুটি নগর কেন্দ্র ছিল -
  1. পাটলিপুত্র ও মথুরা
  2. এথেন্স ও স্পার্টা
  3. হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো
  4. তাম্রলিপ্তি ও বারাণসী
ব্যাখ্যা

- সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার দুটি প্রধান শহর ছিল হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো। এই শহরগুলো উন্নত নগর পরিকল্পনা এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য পরিচিত ছিল।

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতা সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল, এবং এ কারণেই এই সভ্যতাকে সিন্ধু সভ্যতা বলা হয়।
- এটি অনেক সময় হরপ্পা সভ্যতা বা হরপ্পা সংস্কৃতির নামে পরিচিত।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কার করেন।
- সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় পাঞ্জাবে।
- ১৯২১ সালে পাঞ্জাবের হরপ্পা ও ১৯২২ সালে সিন্ধুর মহেঞ্জোদারো শহরে খননকার্যের মাধ্যমে সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন উন্মোচিত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে পরিচিত।
- বিশেষত মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পাতে এই সভ্যতার সবচেয়ে বেশি নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ এবং ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
বান্দা আচেহ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ফিলিপাইন
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. কম্বোডিয়া
  4. লাওস
ব্যাখ্যা
- বান্দা আচেহ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত আচেহ প্রদেশের রাজধানী।

বান্দা আচেহ (Banda Aceh):
- বান্দা আচেহ হলো ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ প্রদেশ 'আচেহ' এর রাজধানী।
- এটি আচেহ নদীর তীরে এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত।
- বান্দা আচেহ ঐতিহাসিকভাবে 'মক্কার প্রবেশপথ' (“doorway to Mecca") বলা হয়।
- এখান থেকে জাহাজে করে খুব সহজে মুসলিমদের পবিত্র স্থান - মক্কায় যাতায়াত করা যায়। তাই এই নামকরণ করা হয়।
- বিখ্যাত পরিব্রাজক মার্কো পোলো ১৩৪৫ সালে এবং ইবনে বতুতা ১৩৪৬ সালে বান্দা আচেহ ভ্রমণ করেন।
- মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে আচেহই একমাত্র এলাকা যেখানে ইসলামি শরিয়াহ অনুসরণ করা হয়।

সূত্র: বিট্রানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ওয়েবসাইট।
২২.
নেপোলিয়ন বোনাপার্টের পতন ঘটে কোন যুদ্ধে?
  1. অস্টারলিৎজের যুদ্ধ
  2. ট্রাফালগারের যুদ্ধ
  3. লিপজিগের যুদ্ধ
  4. ওয়াটারলুর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- ১৮১৫ সালের ওয়াটারলুর যুদ্ধে ডিউক অফ ওয়েলিংটনের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ এবং ভন ব্লুচারের নেতৃত্বাধীন প্রুশিয়ান বাহিনীর কাছে নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে। এই পরাজয়ের পর তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়।

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট:
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ছিলেন একাধারে ফ্রান্সের অবিসংবাদিত সম্রাট ও তুখোড় সেনাপ্রধান।
- তিনি ফরাসি বিপ্লবের ক্রান্তিলগ্নে ফ্রান্সের হাল ধরেছিলেন।
- ফ্রান্সকে ইউরোপের শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করতে নেপোলিয়ন সক্ষম হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮১৫ সালে।
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
- যেখানে ১৮২১ সালে আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় নেপোলিয়ন মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: Britannica.

২৩.
মিনোয়ান সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে
  2. ক্রিট দ্বীপে
  3. সাইপ্রাস দ্বীপে
  4. ইতালির সিসিলিতে
ব্যাখ্যা

- মিনোয়ান সভ্যতা এজিয়ান সাগরের ক্রিট দ্বীপে গড়ে উঠেছিল। এটি মিশরীয় প্রভাব সত্ত্বেও নিজস্ব অনন্য বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছিল এবং এর elaborate প্রাসাদ ও সুন্দর দেয়ালচিত্রের জন্য পরিচিত ছিল।

মিনোয়ান সভ্যতা: 
- মিনোয়ান সভ্যতা ছিল ইউরোপের প্রথম সুসংগঠিত ব্রোঞ্জ যুগের উন্নত সভ্যতা, এটি প্রায় ৩০০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ১৪৫০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত ক্রিট দ্বীপে বিকশিত হয়।
- সভ্যতাটির নাম এসেছে কিং মিনোসের নাম থেকে, যিনি গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীতে ল্যাবিরিন্থ ও মিনোটরের সঙ্গে যুক্ত।
- মিনোয়ানদের প্রধান নগরী ছিল কনোসোস।
- এরা দক্ষ নাবিক ও ব্যবসায়ী ছিল।
- মিনোয়ানরা ‘লিনিয়ার-এ’ নামক একটি লিপি ব্যবহার করত।
- সমাজ ব্যবস্থায় ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং নারীদের উচ্চ মর্যাদা।
- শিল্পকলায় তারা ছিল অগ্রগামী—বিশেষত তাদের দেয়ালচিত্র, মৃৎপাত্র ও অলংকার ছিল অত্যন্ত রঙিন ও জীবন্ত। 

সূত্র: ব্রিটানিকা। 

২৪.
'ক্রুসেড' নিচের কোনটির জন্য পরিচালিত হয়েছিল?
  1. বাণিজ্য পথ নিয়ন্ত্রণের জন্য
  2. জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য
  3. বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকে রক্ষা করার জন্য
  4. মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য
ব্যাখ্যা
- ১১শ শতাব্দীর শেষের দিকে, ক্যাথলিক চার্চ জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য জন্য সামরিক অভিযান বা ক্রুসেডের অনুমোদন দিতে শুরু করে। ক্রুসেডাররা বিশ্বাস করত যে তাদের এই সেবা তাদের পাপমোচন করবে এবং স্বর্গে স্থান নিশ্চিত করবে।

ক্রুসেড (Crusade):
- বাংলায় ধর্মযুদ্ধ।
- প্রথম ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ শুরু হয় ১০৯৬ সালে।
- মুসলমানদের হাত থেকে জেরুজালেম মুক্ত করার জন্য খ্রিস্টানরা ১০৯৬ সাল থেকে ১২৭১ সাল পর্যন্ত সময়ে বারংবার যে-অভিযান চালায়, তা-ই ইতিহাসে ক্রুসেড নামে খ্যাত।
- মোট আটবার পরিচালিত, প্রথম ক্রুসেড অভিযান পরিচালনা করেন গডফ্রে।
- প্রধানত, ইউরোপ থেকেই ক্রুসেড অভিযানসমূহ প্রেরণ করা হয়।

সূত্র: রাজনীতিকোষ - হারুনুর রশীদ।
২৫.
অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. দামেস্ক
  2. বাগদাদ
  3. কায়রো
  4. কনস্টান্টিনোপল
ব্যাখ্যা

- ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ কনস্টান্টিনোপল জয় করার পর, এটি অটোমান সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানীতে পরিণত হয় এবং পরে ইস্তাম্বুল নামে পরিচিতি লাভ করে।

অটোমান সাম্রাজ্য:
- তুরস্কের নেতৃত্বে ১২৯৯ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের জন্ম হয়েছিল।
- এই সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল ১২৯৯ সাল থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত।
- তুরস্কে কামাল আতাতুর্কের আত্মপ্রকাশের মধ্যে দিয়ে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- প্রাচীন তুরস্কের কনসটানটিনপল (বর্তমানে ইস্তাম্বুল) এই সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।
- অটোমান শাসকরা সুলতান হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- এই সাম্রাজ্যের বিলুপ্ত ঘোষিত হয়েছিল ১৯২২ সালের ১ নভেম্বর।
- এরপর ২৯ অক্টোবর, ১৯২৩ এ তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের জন্ম হয়। 

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোষ - তারেক শামসুর রেহমান।

২৬.
'মোনা লিসা' এবং 'দ্য লাস্ট সাপার' চিত্রকর্মগুলো কোন শিল্পীর সৃষ্টি?
  1. মাইকেলেঞ্জেলো
  2. রাফায়েল
  3. লিওনার্দো দা ভিঞ্চি
  4. দোনাতেল্লো
ব্যাখ্যা

- লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ছিলেন হাই রেনেসাঁসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী। 'মোনা লিসা' এবং 'দ্য লাস্ট সাপার' তার দুটি বিশ্ববিখ্যাত চিত্রকর্ম। তাকে "রেনেসাঁস ম্যান" এর আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি:
- লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ইতালির চিত্রশিল্পী।
- তিনি ১৪৫২ সালে জন্ম গ্রহন করেন।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত পেইন্টিংগুলি হল - মোনা লিসা, দ্য লাস্ট সাপার, এবং ভার্জিন অফ দ্য রকস এবং ক্রাইস্টের ব্যাপটিজম।
- অন্যান্য পেইন্টিংগুলির মধ্যে রয়েছে - ভার্জিন মেরি, ভার্জিন অ্যান্ড চাইল্ড উইথ সেন্ট অ্যান, দ্য অ্যানানসিয়েশন, ম্যাডোনা অফ দ্য কার্নেশন, জিনেভরা দে' বেঞ্চি, দ্য অ্যাডোরেশন অফ দ্য ম্যাগি (অসমাপ্ত), সেন্ট জেরোম ইন দ্য ওয়াইল্ডারনেস (অসমাপ্ত), একটি প্রতিকৃতি, মিউজিশিয়ান (অসমাপ্ত), লেডি উইথ অ্যান এর্মাইন ইত্যাদি।
- ১৫১৯ সালে ৬৭ বছর বয়সে, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি মারা যান।

সূত্র: Worldatlas.

২৭.
কোন পর্তুগিজ নাবিক প্রথম ইউরোপ থেকে সমুদ্রপথে ভারতে পৌঁছান?
  1. ক্রিস্টোফার কলম্বাস
  2. ফার্ডিনান্ড ম্যাজেলান
  3. ভাস্কো দা গামা
  4. প্রিন্স হেনরি দ্য নেভিগেটর
ব্যাখ্যা

- ভাস্কো দা গামা ছিলেন একজন পর্তুগিজ অভিযাত্রী তিনি প্রথম ইউরোপ থেকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে সমুদ্রপথে ভারতে পৌঁছান। তার এই যাত্রা ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক বাণিজ্যের পথ খুলে দেয়।

ইউরোপীয়দের আগমন:
- ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল তুর্কিরা দখল করে নেয়।
- ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।
- সুতরাং প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভিন্ন জলপথ আবিষ্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
- মূলত এ কারণেই ইউরোপীয় শক্তিগুলো সমুদ্রপথে উপমহাদেশে আসার অভিযান শুরু করে।
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।