ব্যাখ্যা
প্রশ্ন:
সমাধান:
৪৯তম বিসিএস ⎯ দর্শন [২১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১০১ প্রশ্ন
প্রশ্ন:
সমাধান:
প্রশ্ন: প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?
সমাধান:
(২য় কলাম × ৩য় কলাম) - ১ম কলাম = ৪র্থ কলাম
(6 × 10) - 2 = 60 - 2 = 58
(7 × 11) - 3 = 77 - 3 = 74
(8 × 12) - 4 = 96 - 4 = 92
সুতরাং, প্রশ্নবোধক স্থানে 92 সংখ্যাটি বসবে।
বি.দ্র. অপশনে জেনোফিনিস না থাকলে পারমেনাইডিস দাগাবেন। আবার, প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা থাকলেও পারমেনাইডিস দাগাবেন।
দেহলভী' (Dehlavi) শব্দটি ফার্সি এবং এটি "দিল্লি থেকে আগত" বা "দিল্লির বাসিন্দা" অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা কোনো ব্যক্তি বা স্থানের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, বিশেষত যারা দিল্লির বাসিন্দা বা সেখানে বসবাস করতেন।
প্রসঙ্গত, শাহ ওয়ালীউল্লাহর মৃত্যুও দিল্লিতেই হয়। তাকে হিন্দের ইমামও বলা হয়।
Source : মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম
Introduction To Mathematical Philosophy - Bertrand Russell
(The book explores the foundational concepts of mathematics from a philosophical perspective, aiming to clarify the logical underpinnings of mathematical principles)
Source : Britannica
শঙ্করের ব্রহ্মবাদ (Sankara's Conception of God) :- শঙ্করের মতে, ব্রহ্মই একমাত্র সত্য, জগৎ মিথ্যা এবং জীব ব্রহ্মস্বরূপ। শঙ্কর কেবলাদ্বৈতবাদী, কারণ তিনি ব্রহ্মের সত্তা ছাড়া আর কোন কিছুর সত্তা স্বীকার করেন নাই । ব্রহ্মের স্বরূপ বর্ণনা প্রসঙ্গে শঙ্কর বলেন, ব্রহ্ম নিত্য, শুদ্ধ, বুদ্ধ ও মুক্ত । ব্রহ্ম অসীম, অনন্ত ও নির্গুণ। ব্রহ্ম এবং আত্মার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই । আত্মাই ব্ৰহ্ম।
Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
বুদ্ধদেবের উপদেশাবলী প্রথমে মুখে মুখে প্রচারিত হইলেও পরে তাঁহার তিনজন বুদ্ধদেবের তিনজন প্রিয় প্রিয় শিষ্য তাঁহার উপদেশাবলীকে তিনটি গ্রন্থে পালিভাষায় লিপিবদ্ধ করেন। এই তিনটি গ্রন্থ 'ত্রিপিটক' (তিনটি পেটিকা) নামে খ্যাত। এই পিটকগুলির নাম—বিনয় পিটক, সুত্ত-পিটক এবং অভিধম্ম- পিটক। প্রথম পিটকে আছে বৌদ্ধ সঙ্ঘের নিয়মাবলী, অর্থাৎ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের আচরণ কি রকম হওয়া উচিত তৎসম্পর্কীয় নিয়মাবলী; দ্বিতীয় পিটকে আছে বুদ্ধদেব-কথিত উপদেশমূলক ছোট ছোট গল্প এবং তৃতীয় পিটকে আছে দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
আল-গাজালী তৎকালীন দার্শনিক মতাবলম্বীদেরকে নিম্নোক্ত চার শ্রেণীতে বিভক্ত করেন : (ক) মধ্যযুগীয় ধর্মতাত্ত্বিক সম্প্রদায় : (আশারীয়া সম্প্রদায়); (খ) তালেমী সম্প্রদায়; (গ) দার্শনিক সম্প্রদায় (ফালাসিফা) ও (ঘ) সুফী
সম্প্রদায় ।
(ক) মধ্যযুগীয় ধর্মতাত্ত্বিক সম্প্রদায় (Scholastic Theologian) : মধ্যযুগীয় ধর্মতাত্ত্বিক সম্প্রদায় বলতে আল-গাজালী আশারীয়া সম্প্রদায়কে বুঝিয়েছেন। আশারীয়া মতবাদের পর্যালোচনা করে তিনি লক্ষ্য করেছেন যে তারা ধর্মীয় ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রক্ষণশীলতাকেই সমর্থন করেছেন। তারা মুতাযিলাদের যুক্তি পাল্টাযুক্তির সাহায্যে খণ্ডন করেছেন বটে; কিন্তু তাদের দেওয়া যুক্তির মধ্যে কোনো মৌলিকত্ব নেই। শাস্ত্রীয় বিধান ও প্রচলিত ধর্মীয় মতের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তারা এক ধরনের যুক্তির আশ্রয় নেন। এ কারণে, আল-গাজালী মনে করেন যে মধ্যযুগীয় ধর্মতাত্ত্বিক মতবাদ সঠিক ও সুনিশ্চিত জ্ঞান দিতে পারে না এবং তাই, তিনি ঐ সকল মতবাদেক জ্ঞানের উপকরণ হিসেবে স্বীকার করে নিতে নারাজ ।
Source : মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম
বাংলাদেশ দর্শন সম্পর্কে ড. প্রদীপ কুমার রায় বলেছেন, “যে প্রজ্ঞাময় দৰ্শন বাংলাদেশের আবহমানকালের বিশাল পটভূমিতে প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে এ সময় পর্যন্ত বিবর্তিত হয়েছে তাই বাংলাদেশ দর্শন।”
অধ্যাপক মফিজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ দৰ্শন মোক্ষ বা মুক্তি লাভকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।”
অধ্যাপক সাইদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ দর্শন কেবল সমদর্শন নয়, খালি পরলোক চর্চা নয়, তত্ত্ববিদ্যার নিছক রোমন্থন ও কসরত নয়, পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের যে কোনো সার্থক দর্শনের ন্যায় বাংলাদেশ দর্শন মূলত জীবনদর্শন । উন্নত মানবজীবন প্রণয়ন ও যাপনের উপায়ুনুসন্ধান”
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, বাংলাদেশ দর্শন হলো বাঙালির শিক্ষা,সংস্কৃতি, চিন্তা-চেতনা, মনন ইত্যাদি সম্পর্কিত জীবনদর্শন।
Source : বাঙালির দর্শন - রামদুলাল রায়
জড়বাদের দিক থেকে নিয়ন্ত্রণবাদের প্রমাণ : জড়বাদীদের মতে, দুনিয়ার সবকিছুই যান্ত্রিকভাবে ঘটে। প্রত্যেক পরিবর্তনে পূর্বাবস্থা উত্তরাবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যতিক্রম নেই। সুতরাং মনের কোনো স্বাধীন ইচ্ছা নেই।
source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী
বুদ্ধদেবের দ্বিতীয় সত্যটি স্বাভাবিক কার্য-কারণ' নিয়ম হইতে নিঃসৃত। কার্য কারণ নিয়ম অনুসারে কোন কিছুই সত্যহীন নয়, সবই শর্তাধীন। কারণ ব্যতিরেকে কার্যের সৃষ্টি হয় না। সুতরাং দুঃখেরও কারণ আছে। যে স্বাভাবিক কার্য-কারণ নিয়মে বুদ্ধদেব বিশ্বাসী, সেই নিয়মকে তিনি 'প্রতীত্যসমুৎপাদ' বলিতেন। এই নিয়ম অনুসারে তিনি দুঃখের কারণ নির্দেশ করিয়াছেন । বৌদ্ধ দর্শনে দুঃখের কারণকে ‘দুঃখ-সমুদায়' বলা হয়।
source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
এভাবে ইসলামের সমস্ত শরিয়ত-বিরুদ্ধ অভিনবত্ব খণ্ডন করে আল-গাজালী আল্লাহর কোরআন এবং রাসূলের হাদীসের শিক্ষার ওপর ইসলামকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর এই অবিস্মরণীয় অবদান ও ইসলামের প্রতি অকুণ্ঠ সেবার জন্য তাঁকে 'হুজ্জাতুল ইসলাম’ বা ইসলামের রক্ষক বলা হয়।
Source : মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম
বাঙালির দর্শনে প্রত্যক্ষবাদী চিন্তার প্রভাব:
উনিশ শতকে বাঙালি চিন্তাবিদদের ওপর অগাস্ট কোঁতের (১৭৯৮-১৮৫৭) প্রত্যক্ষবাদের প্রভাব অপরিসীম। স্যামুয়েল লব, জেমস্ গেডেস, হেনরী কটনের মাধ্যমে এদেশে কোঁতের মতবাদের প্রবেশ ঘটে। কোঁতের প্রত্যক্ষবাদ দ্বারা যারা প্রভাবিত হন তাঁদের মধ্যে যোগেন্দ্রচন্দ্র ঘোষ, দ্বারকানাথ মিত্র, কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য।এঁরা কলকাতায় "পজিটিভিস্ট ক্লাব” গঠন করেন। কোঁতের প্রত্যক্ষবাদী চিন্তার দ্বারা উনিশ শতকের বেশ কয়েকজন সাহিত্যিক প্রভাবিত হয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ভূদেব মুখার্জী, সতীশ চন্দ্ৰ মুখার্জী অন্যতম। বঙ্কিম চন্দ্র বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রত্যক্ষবাদের ওপর বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ লেখেন।
Source: বাঙালির দর্শন - রামদুলাল রায়
প্রখ্যাত দার্শনিক এবং নীতিবিদ কাণ্টের মতে ইচ্ছার স্বাধীনতাই নীতিবোধের ভিত্তি। নৈতিক বিচারের ক্ষেত্রে ঔচিত্যবোধ আছে। কিন্তু সামর্থ্য না থাকলে ঔচিত্যবোধের কোনো প্রশ্ন ওঠে না। ‘তোমার করা উচিত, তার মানেই তুমি করতে পার” – (Thou oughtest means thou can).-Kant এ হলো কাণ্টের বিখ্যাত উক্তি। ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে বলেই কর্তব্য, দায়িত্ব, ন্যায়, অন্যায়, গৌরব, অগৌরব, পাপ-পুণ্য—এগুলোর অর্থ আছে ; নতুবা এগুলো অর্থহীন শব্দমাত্র। নৈতিক আদর্শ ইচ্ছার স্বাধীনতা ছাড়া অর্থহীন। সুতরাং মানুষের ইচ্ছা পূর্ণ স্বাধীন। মেকেন্জী (Mackenzie) বলেন, “নৈতিক আদর্শের যদি কোনো অর্থ থাকে তাহলে ইচ্ছা সম্পূর্ণভাবে পারিপার্শ্বিক অবস্থার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে কিন্তু কোনো না কোনো অর্থে তাকে স্বাধীন হতেই হবে। ”
Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী
ভেদ তিন প্রকারের, যথা; স্বজাতীয়, বিজাতীয় এবং স্বগত। একই জাতীয় দুই জীবের মধ্যে যে ভেদ তাহাকে স্বজাতীয় ভেদ বলা হয়; যেমন, দুইটি ঘোড়ার মধ্যে যে ভেদ। ভিন্নজাতীয় দুইটি জীবের যে ভেদ তাহাকে বিজাতীয় ভেদ বলা হয়; যেমন একটি গরু ও একটি ছাগলের যে ভেদ। একই জীবের শরীরের বিভিন্ন অংশের যে ভেদ তাহাকে বলা হয় স্বগত ভেদ; যেমন, একটি গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যে ভেদ।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
কারণ হইতে কার্যের দিকে অগ্রসর হইলে দ্বাদশ নিদানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাঁড়াইবে নিম্নরূপ :
(১) অবিদ্যা দুঃখের মূল কারণ; অবিদ্যা হইতে (২) সংস্কার, সংস্কার হইতে (৩) বিজ্ঞান বা চেতনা বিজ্ঞান হইতে (৪) নামরূপ বা দেহ-মন দ্বাদশ নিদান বা অবচক্রের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা সংগঠন, নামরূপ হইতে (৫) ষড়ায়তন বা ষট ইন্দ্রিয়, ঘড়ায়তন হইতে (৬) স্পর্শ, স্পর্শ হইতে (৭) বেদনা বা ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা, বেদনা হইতে (৮) তৃষ্ণা বা ভোগস্পৃহা, তৃষ্ণা হইতে (৯) উপাদান বা জাগতিক বস্তুর প্রতি আসক্তি, উপাদান হইতে (১০) ভব বা জন্মলাভের বাসনা, ভব হইতে (১১) জাতি বা জন্ম, এবং জাতি হইতে (১২) জরা-মরণ উদ্ভূত হয়।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
আল-গাজালীর মতে, মানবাত্মা আধ্যাত্মিক দ্রব্য । মানবদেহে আত্মার উপস্থিতির জন্যই মানুষ জগতের অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা । আধ্যাত্মিক দ্রব্য বলেই এর কোন বিস্তৃতি নেই । আত্মা দেহধারী হলেও আসলে দেহাতীত। অন্যান্য বস্তুর ন্যায় আত্মাও আল্লাহর সৃষ্টি। কিন্তু এর কোন জড়ীয় আকৃতি নেই। মানুষের আত্মা ঐশী শক্তির অধিকারী।
আল-গাজালীর মতে, মানবাত্মার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ইচ্ছাশক্তি । আল্লাহ নিছক চিন্তা দ্বারা জগতকে সৃষ্টি করেননি । আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা শক্তি দ্বারা জগতকে সৃষ্টি করেছেন । অতএব, ইচ্ছাশক্তিই আল্লাহর প্রধান গুণ। এ থেকে যা সহজেই অনুমেয় তা হচ্ছে : মানবাত্মা খোদার সত্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আল-গাজালীর মতে, এই সাদৃশ্যের জন্যেই মানুষ আল্লাহর অস্তিত্ব সহজে উপলব্ধি করতে পারে। এভাবে আল-গাজালীর আত্মা সম্পর্কীয় ধারণায় সুফীবাদে উপনীত হন।
Source: মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম
বাউল ও বৈষ্ণব দর্শন বাংলার নিজস্ব দর্শন। মধ্যযুগে ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি হ্রাস পায়। নিম্নবর্ণের হিন্দুরা যাঁরা উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের দ্বারা নির্যাতিত, শোষিত, নিষ্পেষিত ছিল তাঁরা তন্ত্র, সহজিয়া মতবাদ দ্বারা আকৃষ্ট হয়। কালক্রমে তাঁরা বাউল মতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। বাউলদের মধ্যে কোন জাতিভেদ নেই। হিন্দু মুসলমান উভয়ই বাউল মতের অন্তর্ভুক্ত। আর ষোড়শ শতকে চৈতন্যদেবের আবির্ভাব ঘটে। তিনি প্রেম দর্শন প্রচার করেন। তাঁর মতবাদ "গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন" নামে পরিচিত। তিনি হিন্দু ধর্মের জাতিভেদ প্রথা ভেঙে দিলেন। তাঁর কাছে উঁচু-নীচু সবাই সমান। ব্রাহ্মণ, শুদ্র, চণ্ডাল, কায়স্থ, যবনে কোন ভেদাভেদ নেই। ঈশ্বর প্রেমে সবাই একাকার হয়ে গেল ।
source : বাঙালির দর্শন - রামদুলাল রায়
টম রেগান তার The case for animal right (1985) গ্রন্থে দেখানোর চেষ্টা করেন যে, পশুরও অধিকার আছে,তাই তারা সমবিবেচনা পাওয়ার যোগ্য।
source : প্রায়োগিক নীতিবিদ্যা- আব্দুল খালেক
'ন্যায়দর্শনের' প্রতিষ্ঠাতা হইলেন মহর্ষি গৌতম; তাঁহার আর এক নাম ছিল অক্ষপাদ । তাই ন্যায়দর্শনকে 'অক্ষপাদ-দর্শন'ও বলা হয়। কোন কোন নিয়ম অনুসরণ করিলে আমাদের চিন্তা বা তর্ক ফলপ্রদ হয় এবং কি কি উপায় অবলম্বন করিলে যথাযথ জ্ঞানলাভ করা যায়, এই সকল নির্দেশ দেয় বলিয়া 'ন্যায়দর্শনকে' তর্কশাস্ত্র ও ন্যায়বিদ্যা বলা হয়। প্রত্যক্ষের সাহায্যে যা জানা যায় তা পরবর্তীতে আলোচনা করার নাম অন্বীক্ষা। ন্যায়দর্শন এই অন্বীক্ষার সমাধা করে বলিয়া ন্যায়দর্শনকে আন্বীক্ষিকীও বলা হয় । ন্যায়দর্শন মুখ্যতঃ 'প্রমাণ' (যথার্থ জ্ঞানলাভের প্রণালী) সম্পর্কে আলোচনা করে বলিয়া ইহাকে প্রমাণশাস্ত্রও বলা হয়। প্রদীপ যেমন সকল বস্তুকে আলোকিত করে, তেমনি ন্যায়দর্শনও সর্বশাস্ত্রকে নির্ভুলভাবে প্রতিভাত হইতে সাহায্য করে। তাই ন্যায়দর্শনকে অনেকেই 'সর্ববিদ্যার প্রদীপ' বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
বুদ্ধদেবের চতুর্থ আর্য-সত্য হইল ‘দুঃখ-নিবৃত্তির মার্গ' বা পথও আছে। বুদ্ধদেবের মতে দুঃখের কারণ অপসারণ করিবার মার্গ বা পথই হইল দুঃখ-নিবৃত্তির পথ। এই পথের আটটি অঙ্গ বা স্তর আছে। তাই এই পথকে বৌদ্ধদর্শনে 'অষ্টাঙ্গিক মার্গ' (Eight-fold_path) বলা হয়। এই অষ্টাঙ্গিক মার্গের মধ্যেই বৌদ্ধ দর্শনের নীতিতত্ত্বকে প্রকাশ করা হইয়াছে । এই মার্গের আটটি স্তর হইল— (১) সম্যক দৃষ্টি (সম্মাদিখি), (২) সম্যক সংকল্প (সম্মাসংকল্প), (৩) সম্যক্ বাক্ বা বাক্ সংযম (সম্মাবাচা), (৪) সম্যক্ কর্মান্ত বা সংযত আচরণ (সম্মা-কম্মান্ত), (৫) সম্যক্ আজীব (সম্মা-আজীব), (৬) সম্যক্ ব্যায়াম (সম্মা-ব্যায়াম), (৭) সম্যক স্মৃতি (সম্মাসতি) এবং (৮) সম্যক সমাধি (সম্মা-সমাধি)।
(২) সম্যক্ সংকল্প (Right determination) — পার্থিব বস্তু সম্পর্কে আসক্তি, ভোগবিলাস, হিংসা, রাগ ও দ্বেষ, বর্জন করিবার দৃঢ় ইচ্ছাই সম্যক সংকল্প।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
ইবনে রুশদ ছিলেন বহু গ্রন্থের প্রণেতা । এ্যারিস্টটলের ওপর তিনি বেশ কয়েকখানা গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর প্রণীত গ্রন্থের মধ্যে 'তাহফাতুল তাহাফুত' (খণ্ডনে খণ্ডন), ‘কিতাবুল ফালাসিফা’ উল্লেখযোগ্য। ‘তাহাফাতুল তাহাফুত' গ্রন্থটি গাজালীর ‘তাহাফাতুল ফালাসিফা' গ্রন্থের প্রত্যুত্তর।
Source : মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম
দর্শনে বিশিষ্ট অবদানের জন্য ১৯৬৭ সালে দেবকে সম্মানসূচক ‘দর্শন সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে গোবিন্দচন্দ্র দেব দর্শন গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’ প্রদান করে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনে তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের গণকবরে তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয়।
source : বাংলাপিডিয়া
David Hume ( 1711-1776)
Notable works :
1. A Treatise of Human Nature (1739-1740)
2. An Enquiry Concerning Human Understanding (1748)
3. An Enquiry Concerning the Principles of Morals (1751)
4. Dialogues Concerning Natural Religion (published posthumously in 1779):
5. Essays, Moral, Political, and Literary
6. The History of England
Source : Britannica
শঙ্করের মতে বৈদিক যাগযজ্ঞ অনুষ্ঠানের দ্বারা আত্মার মুক্তিলাভ সম্ভব নয়। কেবল আত্মজ্ঞানই, অর্থাৎ আত্মার যথার্থ স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞানই মুক্তিলাভের উপায় । এখন প্রশ্ন, কি উপায়ে আত্মজ্ঞান লাভ করা যায়? শঙ্কর বলেন, এই জ্ঞান লাভ করা শঙ্করের মতে আত্মজ্ঞান খুবই কঠিন ব্যাপার। তাই ইহার জন্য বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন । তিনি বলেন, আত্মজ্ঞান লাভ করিতে হইলে চতুর্বিধ সাধনার প্রয়োজন; যথা:
(১) নিত্যানিত্য বস্তু বিবেক, অর্থাৎ নিত্য বস্তু অনিত্য বস্তু হইতে যে ভিন্ন এই বোধ
(২) ইহা সূত্ৰাৰ্থ—ভোগবিরাগ, অর্থাৎ সংসারের যাবতীয় বস্তুর প্রতি বিরাগ
(৩)শমদমাদি স্মধন সম্পদ, অর্থাৎ ইন্দ্রিয় ও মনের সংযম অভ্যাস, এবং
(৪) মুমুক্ষুত্ব, অর্থাৎ চিত্তে মুক্তি লাভের প্রবল আকাঙ্ক্ষা।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
অস্তেয় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ 'চুরি না করা' বা 'অচৌর্য'। এটি জৈনধর্ম এবং যোগশাস্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ এবং পাঁচটি প্রধান ব্রতের (যম) মধ্যে একটি। এর অর্থ কেবল শারীরিক বা বস্তুগত চুরি না করা নয়, বরং অন্যের সময়, মনোযোগ, ধারণা বা অন্য কোনো কিছু, যা নিজের নয়, তা গ্রহণ করা থেকেও বিরত থাকা।
পঞ্চব্রত (বা পঞ্চ মহাব্রত) হলো জৈন ধর্মের পাঁচটি প্রধান নৈতিক নীতি, যা সন্ন্যাসীরা পালন করেন। এগুলো হলো অহিংসা (হিংসা না করা), সত্য (সত্য কথা বলা), অস্তেয় (চুরি না করা), ব্রহ্মচর্য (ইন্দ্রিয়সংযম বা সতীত্ব), এবং অপরিগ্রহ (অ-সংগ্রহ বা লোভ না করা বা অতিরিক্ত জিনিস জমা না করা)।
source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
ম্যাকেঞ্জি তার "A manual of ethics" গ্রন্থে ব্যাক্তির ৭ টি প্রধান কর্তব্যের কথা বলেছেন:
১. জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ২. স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা ৩. চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি শ্রদ্ধা ৪. সম্পত্তির প্রতি শ্রদ্ধা ৫. সামাজিক নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা ৬. সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা ৭. প্রগতির প্রতি শ্রদ্ধা
Source: A manual of ethics by mackenzie
ডেভিড হিউমের মতে, এই জগৎ ক্ষণস্থায়ী এবং মানুষের জীবন একটি ঝিনুকের চেয়েও মূল্যহীন। তাই কোন মানুষ যদি স্বেচ্ছায় নিজের শান্তি ও মঙ্গলের জন্য এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চান এবং তার ফলে যদি সমাজের তেমন কোন ক্ষতি না হয় সেক্ষেত্রে এটি অন্যায় বলে বিবেচ্য নয়। তার জন্য এই পৃথিবীতে কোন ভাল কাজ করার পথ হয়তো চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় এবং এর ফলে যদি কোন প্রকার ক্ষতির আশংকা থেকেও থাকে, তা এতই নগণ্য যে তাতে সমাজের কিছু যায় আসে না। তাঁর মতে কোন ব্যক্তি যখন নিজেকে সমাজের বোঝা মনে করেন এবং সে নিজেকে সমাজ থেকে সরিয়ে নিতে চান তখন তা অন্যায় বলে গণ্য হবে না, বরং প্রশংসনীয় কাজ বলে মনে করা হবে।
Source : প্রায়োগিক দর্শন - আব্দুল খালেক
ফরাসী দার্শনিক দেকার্ত-এর (Descartes) (১৫৯৬-১৬৫০) দেহ ও মনসম্পৰ্কীয় তত্ত্বটি হচ্ছে একটি উল্লেখযোগ্য দ্বৈতবাদী তত্ত্ব। তিনি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ ও মনের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় ব্যাখ্যায় প্রথমে দেহ ও মনের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেন । ‘মন একটা আধ্যাত্মিক দ্রব্য' – একথা বলে দেকার্ত মন ও দেহের মধ্যে একটা স্পষ্ট পার্থক্য নিরূপণ করেন । দেকার্তের মতে, প্রকৃতির দিক থেকে দেহ ও মন দুটি স্বতন্ত্র ও পরস্পর-বিরোধী সত্তা বা দ্রব্য । দেহ অচেতন জড় দ্রব্য, যার সারসত্তা বিস্তৃতি এবং মন চেতন দ্রব্য, যার সারসত্তা চেতনা। অর্থাৎ দেহ জড় এবং মন অজড় বা অশরীরী।
Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী
পদের অর্থের নাম পদার্থ, অর্থাৎ কোন পদ দ্বারা যে অর্থ নির্দিষ্ট হয়, তাহাই পদার্থ । পদার্থসমূহের তত্ত্বজ্ঞান জীবের মুক্তিলাভের জন্য একান্ত প্রয়োজন । 'ন্যায়'-মতে পদার্থ ষোড়শ প্রকার; যথা—(১) প্রমাণ, (২) প্রমেয়, (৩) সংশয়, (৪) প্রয়োজন, (৫) দৃষ্টান্ত, (৬) সিদ্ধান্ত, (৭) অবয়ব, (৮) তর্ক, (৯) নির্ণয়, (১০) বাদ, (১১) জল্প (১২) বিতন্ডা, (১৩) হেত্বাভাস, (১৪) ছল, (১৫) জাতি এবং (১৬) নিগ্রহস্থান ।
সর্বব্যাপক পরিবর্তনবাদ ও অনিত্যবাদ (The Doctrine of Universal Change and Impermanence) :
'সর্বব্যাপক পরিবর্তনবাদ ও অনিত্যতাবাদ' প্রতীত্য সমুৎপাদ হইতেই উদ্ভূত হইয়াছে । প্রতীত্য সমুৎপাদ অনুযায়ী সকল বস্তু বা ঘটনার কারণ আছে । সুতরাং কারণটির পরিবর্তন হইলে কার্যের আবির্ভাব হয় এবং কারণটি ধ্বংস হইলে কার্যটিও ধ্বংস হয়। বুদ্ধদেব বার বার বলিয়াছেন, 'সব কিছুই পরিবর্তনশীল, সব কিছুই ধ্বংসশীল এবং সব কিছুই অনিত্য (সর্বং অনিত্যম্) । তিনি আরও বলেন, যাহার আদি আছে, তাহার অন্তও আছে, যাহার জন্ম আছে তাহার মৃত্যুও আছে, যেখানে মিলন আছে সেখানে বিচ্ছেদও আছে । অক্ষম, চিরস্থায়ী বা নিত্য বলিয়া কিছুই নাই । আপাতদৃষ্টিতে কোন বস্তুকে চিরস্থায়ী মনে হইলেও আসলে তাহা চিরস্থায়ী নয়; তাহার বিনাশ হইবেই। এই অনিত্যতাবাদ বুঝাইবার জন্য বুদ্ধদেব দুইটি উপমা দিয়াছেন, যথা, “অগ্নিশিখা' এবং 'নদীজলধারা'। অগ্নিশিখা যেমন নিয়ত চঞ্চল, নদীজলধারা যেমন নিয়ত পরিবর্তনশীল, তেমনি জগতের সকল কিছুই অগ্নিশিখার মত চঞ্চল এবং নদীজলধারার মত পরিবর্তনশীল ।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
ইবনে রুশদের মতে দু'ধরনের সত্তা আছে- এদের একটি যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপরটি যা নিয়ন্ত্রিত হয় । সত্তা হিসেবে প্রথমটি সক্রিয় এবং দ্বিতীয়টি নিষ্ক্রিয়। সক্রিয় সত্তা আধ্যাত্মিক। কিন্তু নিষ্ক্রিয় সত্তা জড়ীয় এবং এ জন্যই, তা দেহধারী বা বস্তুগত। দেহধারী ও আধ্যাত্মিক সত্তার মধ্যে এক সমান্তরালবাদের (parallelism) সম্পর্ক বিদ্যমান ।এভাবে ইবনে রুশদ সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়—এই দ্বিবিধ সত্তার ধারণায় উপনীত হয়েছেন।
Source : মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী
ইউথেনেশিয়া (Euthanasia) হলো অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা বা দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য স্বেচ্ছায় জীবন শেষ করার প্রক্রিয়া, যা 'ভালো মৃত্যু' বা 'সহজ মৃত্যু' হিসেবে পরিচিত। এটি একটি "কৃপাহত্যা"/ ইচ্ছামৃত্যু(mercy killing) হিসেবেও পরিচিত, যেখানে অন্য কেউ রোগীর জীবন অবসান ঘটিয়ে তাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়। এই শব্দটি গ্রিক শব্দ 'ইউ' (eu) এবং 'থানাতোস' (thanatos) থেকে এসেছে, যার অর্থ যথাক্রমে 'ভালো/সুস্থ' এবং 'মৃত্যু'
প্রথম কোন দেশগুলো ইচ্ছামৃত্যুকে বৈধতা দেয়, তারা হলেন২০০১ সালে নেদারল্যান্ডস এবং ২০০২ সালে বেলজিয়াম । ১৯৯৭ সালেওরেগন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজ্য যেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় আত্মহত্যাকে অপরাধমুক্ত করা হয়েছে; তবে বিতর্কিত আইনের বিরোধীরা এটি বাতিল করার চেষ্টা করেছিল।
Source : Britannica
হার্বার্ট স্পেন্সারও সমান্তরবাদ সমর্থন করেন। তাঁর মতে একই অজ্ঞেয় তত্ত্ব (The Unknowable) দেহ ও মনের আকারে প্রকাশিত হয়। এই অজ্ঞেয় তত্ত্বই চরম তত্ত্ব। চরম তত্ত্ব কোন দৈহিক বা মানসিক তত্ত্ব নয়। চরম তত্ত্ব একান্তভাবেই অজ্ঞাত ও অজ্ঞেয় ৷ দেহ ও মন এই অজ্ঞেয় তত্ত্বেরই দুই প্রকাশ । মস্তিষ্ক ও মন এক নয় । মস্তিষ্ক তার নিজস্ব নিয়ম মেনে চলে, আর মন চলে তার নিজের নিয়ম মেনে ।
source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী
রামানুজের মতে কর্মফল ভোগের জন্যই আত্মা দেহের মধ্যে বন্ধনপ্রাপ্ত হয় । নিজ নিজ কর্ম অনুসারে আত্মা দেহ ধারণ করে। আত্মার দেহ ধারণই হইল আত্মার বন্ধন (Bondage)। আত্মা ও দেহের এই একীকরণের নাম অহঙ্কার । এই অহঙ্কারের জন্যই আত্মা পার্থিব সুখের জন্য লালায়িত হয় এবং সকাম কর্ম সম্পাদন করে । ফলে বারবার তাহাকে জন্মগ্রহণ করিতে হয় । সুতরাং রামানুজের মতে অজ্ঞানতা বা অবিদ্যাই আত্মার বন্ধনের কারণ।
source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
সৌত্রান্তিক ও বৈভাষিক দার্শনিক সম্প্রদায় হীনযান ধর্ম-সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।
মাধ্যমিক ও যোগাচার দার্শনিক সম্প্রদায় মহাযান ধর্ম সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
মধ্যযুগীয় নীতিবিদ্যা(Medieval Ethics)
মধ্যযুগীয় নীতিবিদ্যায় ধর্মের প্রভাবই বিশেষরূপে পরিলক্ষিত হয় এবং ধর্মীয় বিধি- জ্ঞানই বিধান ও ধর্মযাজকদের বক্তব্য ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যকরণের ক্ষেত্রে প্রধান নৈতিক মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। মধ্যযুগীয় নীতিবিদ্যার মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে ধর্মীয় বিধি-বিধান ও প্রকৃত ধর্মযাজকদের বক্তব্য অনুসারে নৈতিক ক্রিয়াবলীর বিবেচনা করা এবং ফলে প্রায়োগিক নীতিবিদ্যা-র (casuistry) প্রাধান্যই মধ্যযুগীয় চিন্তাধারায় বেশী দেখা যায়। এ যুগের চিন্তা- বিদদের মধ্যে সেন্ট অগাস্টিন (আনুমানিক ৩৫৩-৪৩০), সেন্ট অ্যানসেল্ম (১০৩৩-১১০৯) ও থমাস অ্যাকুইনাস-এর (আনুমানিক ১২২৬-১২৭৪) নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
Source : নীতিবিদ্যা- আব্দুল বারী
'Existence' এর সাধারণ অর্থ হলো থাকা বা অস্তিত্ব। ‘অস্তিত্ব' শব্দ থেকে ‘অস্তিত্ববাদ' জন্মলাভ করেছে। দার্শনিক অর্থে এখানে অস্তিত্ব বলতে বুঝায় মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনা। ব্যক্তির সুপ্ত সম্ভাবনার প্রতি সমধিক গুরুত্বারোপ করা হয় । ব্যক্তি জাগতিক পরিবেশের মধ্যে অনেক সংকটের সম্মুখীন হয়। এই Crisis বা সংকট থেকে উত্তরণের উপায় ব্যক্তিকে প্রকৃত বা সার অস্তিত্বে (authentic existence) নিয়ে যায়। একটা সম্ভাবনা বা ঘুমন্ত অবস্থা থেকে বের হয়ে বাস্তবের স্তরে দাঁড়ানই Existence। অস্তিত্ববাদীগণ to be বা to live এবং to exist এর মধ্যে পার্থক্য বা ভেদ নির্দেশ করেছেন। একটি কুকুরের বাঁচা ও একটি মানুষের বাঁচার মধ্যে কি ভেদ তা অনুধাবন করতে হবে।ব্যক্তি যা সৃষ্টি করবে, সে যা হবে, তা সে স্বাধীন ইচ্ছার ব্যবহার করেই নির্ধারণ করবে।
Source : হেগলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম
মার্টিনিউ ( Martineau ) নৈতিক যুক্তির দিক থেকেও আত্মার অমরতার সপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি তাঁর 'স্টাডি অব রেলিজিয়ান' ( Study of Religion ) গ্রন্থে আত্মার অমরত্বের সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন যে, মানবাত্মার গঠনের আসল প্রকৃতি থেকে বেশ কতকগুলো ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, আত্মা অমর । এই ভবিষ্যদ্বাণী বা ইঙ্গিতগুলোকে তিনি তিন ভাগে ভাগ করেছেন, যেমন, বুদ্ধির ভবিষ্যদ্বাণী' ( Vaticinations of intellect), 'বিবেকের ভবিষ্যদ্বাণী' ( Vaticinations of conscience ) এবং ‘উদ্বেগের ভবিষ্যদ্বাণী' ( Vaticinations of suspense ) ।
Source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী
'ন্যায়'-মতে জ্ঞান হইল বিষয়ের প্রকাশ। জ্ঞান প্রধানতঃ দুই প্রকার-প্রমা (যথার্থ জ্ঞান) এবং অপ্রমা (অযথার্থ জ্ঞান)। প্রমাকে আবার চারিভাগে ভাগ করা যায়। যথা, প্রত্যক্ষণ, অনুমান, উপমান ও শব্দ । অপ্রমাণও চারিপ্রকার। যথা, স্মৃতি, সংশয়, ভ্রম বা বিপর্যয় ও তর্ক।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
সাংখ্য দর্শনের প্রবর্তক এবং প্রতিষ্ঠাতা হইলেন মহর্ষি কপিল। ভারতীয় দর্শনগুলির মধ্যে সাংখ্য দর্শনই প্রাচীনতম । সাংখ্য দর্শনের আদি গ্রন্থ হইল কপিল প্রণীত 'তত্ত্ব সমাস।' এই গ্রন্থে সাংখ্য দর্শনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় পাওয়া যায়। কপিল মুনি, আসুরি এবং পঞ্চশিখ, তাঁহাদের কাহারও গ্রন্থ এখন পাওয়া যায় না। তবে যে সমস্ত গ্রন্থ পাওয়া যায়, উহাদের মধ্যে সর্বপ্রাচীন ও প্রামাণিক ঈশ্বরকৃষ্ণের ‘সাংখ্যকারিকা' সর্বপ্রাচীন এবং প্রামাণিক।
Source : ভারতীয় দর্শন - অর্জুন বিকাশ
নৈতিক মানদণ্ড-সম্পৰ্কীয় মতবাদসমূহকে বিভিন্ন শ্রেণীতে শ্রেণীকরণ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ নীতিবিদ্যা (Absolute Ethics) মনে করে যে, একটা সার্বিক ও শাশ্বত নৈতিক নীতিমালা বা রীতি-নীতি রয়েছে, যা কোন পরিবর্তন ব্যতিরেকে সর্ব যুগে সব মানুষের প্রতি প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে, সাপেক্ষ নীতিবিদ্যা (Relative Ethics) মনে করে যে, নৈতিক নীতিমালা বা রীতি-নীতি সার্বিক ও শাশ্বত নয়, বরং পরিবর্তন সাপেক্ষ, যা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্নরূপে মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ।
Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম
চার্লস স্যান্ডারস পার্সকে মার্কিন প্রয়োগবাদের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। পার্সের প্রধান অবদান তার অর্থসম্পর্কীয় মতবাদ। তার দর্শনে প্রয়োগবাদ হলো অর্থ নিরূপনের একটি পদ্ধতি। তিনি এটি প্রথম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন Popular Science Monthly তে "How to make our ideas clear" প্রবন্ধে।
পার্স যুক্তিবিদ্যাকে তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত করেন:
১. Speculative grammar: এই অংশ চিহ্ন(sign) এর অর্থপূর্ণতার আকারগত শর্ত নিয়ে জড়িত।
২. Critical logic: প্রতীক(symbol) এর সত্যতার আকারগত শর্ত নিয়ে জড়িত।
৩. Speculative rhetoric
source : হেগলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম
থেলিস্ প্রচার করেন, 'জলই বস্তুর আদিম উপাদান। জলে সবকিছুর উৎপত্তি এবং জলেই সবকিছু লয়প্রাপ্ত হয়।
তাঁর পরবর্তী দার্শনিক অ্যানাক্সিমাণ্ডার আদিম উপাদানের নাম দিলেন, অসীম বা অনন্ত/সীমাহীন(Boundless)
অ্যানাক্সিমিনিসের মতে,'বায়ু' হলো মূল উপাদান ।
কিন্তু হিরাক্লাইটাস্ এ মত গ্রহণ করতে পারলেন না। তিনি অগ্নিকেই আদিম উপাদান বলে মনে করেন। কেননা পরিবর্তন জগতের ধর্ম এবং অগ্নি প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়।হিরাক্লাইটাসের মতে, 'অগ্নি'ই জগতের মূল উপাদান।
হিরাক্লাইটাসের পর এস্পিডক্লিস পূর্ববর্তী সবগুলো মতের সমন্বয় করে বললেন যে, মাটি, জল, অগ্নি ও বায়ু —এ চারটিই হলো জগতের আদিম উপাদান। সমস্ত কিছুই এদের থেকে সৃষ্ট।
Source : পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিবৃত্ত - আব্দুল হাই তালুকদার
আগম—রামানুজের মতে শাস্ত্রলব্ধ জ্ঞানই আগম; তাঁহার মতে অতীন্দ্রিয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান কেবল শাস্ত্রের মাধ্যমেই পাওয়া যায়। চরম সত্তাকে শাস্ত্র ছাড়া অন্য কোন প্রমাণের সাহায্যে জানা যায় না।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
তমোগুণ হইল মোহাত্মক (মোহের সৃষ্টিকারী) গুরু ও আবরক (যাহা আবৃত করিয়া রাখে)। গুরু ও আবরক বলিয়া তমোগুণ সত্ত্বগুণের বিপরীত-ধর্মী; রজোগুণের চঞ্চলতার বাধা সৃষ্টি করে বলিয়া ইহা রজোগুণের বিপরীত-ধর্মী। তমোগুণ সত্ত্বগুণের প্রকাশের বাধা সৃষ্টি করে এবং রজোগুণের গতিকে বাধা দেয়।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
বিশ্লেষণী ধারার সূত্র ধরেই সাম্প্রতিক নীতিবিদ্যায় নৈতিক অবধারণের স্বরূপ সম্পর্কে প্রকৃতিবাদ, অপ্রকৃতিবাদ, আবেগবাদ, নির্দেশবাদ, বর্ণনাবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন মতবাদ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।
প্রকৃতিবাদী: হবস, বেন্থাম, মিল, স্পেন্সার প্রমুখ।
অপ্রকৃতিবাদী: প্লেটো, জি,ই ম্যুর, প্রিচার্ড, রস প্রমুখ।
আবেগবাদী: এ.জে এয়ার, আর এল স্টিভেনসন, মরিজ শ্লিক, কারন্যাপ প্রমুখ
নির্দেশবাদী : আর এম হেয়ার এর প্রবক্তা।
বর্ণনাবাদী: এই মতবাদকে নব্য প্রকৃতিবাদও(neo naturalism) বলা হয়। এর সমর্থক ডেভিড হিউম, জে আর সার্ল(তার How to derive ought from is প্রবন্ধ), জি জে ওয়ারনক প্রমুখ।
Source: সমকালীন নীতিবিদ্যার রূপরেখা - আব্দুল হামিদ
ক্রোচের দর্শনের সারকথা হলো স্বজ্ঞা বা অনুভূতি, মনই প্রধান শক্তি। ৪ প্রকার ক্রিয়ার মাধ্যমে মন প্রকাশ পেতে পারে, এদের অধ্যাত্ম বা মানসিক জীবনের ৪ স্তর বলা হয়। তার "The Philosophy of Spirit " গ্রন্থে এর উল্লেখ করেন: নন্দনতাত্ত্বিক(aesthetic), যৌক্তিক(Logical) অর্থনৈতিক(Economical) ও নৈতিক(Ethical)
source : হেগলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম
রা ঈশ্বর বিশ্বাসী নন (যেমন, মিল) তাঁদের মতে, প্রকৃতি থেকেই জগতের সৃষ্টি। তাঁরা ঈশ্বরের পরিবর্তে প্রকৃতির অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। প্রকৃতি আপন ইচ্ছায় কোনো বিশেষ মুহূর্তে জগতের সৃষ্টি করেন। জগতের কস্তুগুলো তাদের সৃষ্টিকালের রূপ নিয়ে আজও আছে। তাদের রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ঈশ্বরে বিশ্বাসী সৃষ্টি তত্ত্বের দুটি রূপ আছে। যথা—(ক) নিরপেক্ষ সৃষ্টি তত্ত্ব (The theory of Absolute Creation) এবং (খ) সাপেক্ষ সৃষ্টি তত্ত্ব (The theory of Conditional Creation)।
source : Introduction to philosophy by Jadunath Sinha
সাংখ্য মতে প্রত্যক্ষকে প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা যায়; যথা, লৌকিক এবং অলৌকিক । চক্ষু, কর্ণ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে যে প্রত্যক্ষ করা হয়,—তাহাকে লৌকিক বা বাহ্য প্রত্যক্ষ বলা হয়; আর যোগ-সাধনালব্ধ অলৌকিক শক্তির বলে যোগীরা যখন অতি এবং ভবিষ্যতে বস্তুকে প্রত্যক্ষ করেন, তখন উহাকে বলা হয় অলৌকিক প্রত্যক্ষ। লৌকিক বা বাহ্য প্রত্যক্ষকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়; যথা, নির্বিকল্প (Indeterminate) এবং সবিকল্প (Determinate)। যে প্রত্যক্ষে বস্তুর কেবল অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান হয়, তাহাকে নির্বিকল্প প্রত্যক্ষ বলা হয়। নির্বিকল্প প্রত্যক্ষে বস্তুর কোন বৈশিষ্ট্যকে জানা হয় না । নির্বিকল্প প্রত্যক্ষ জ্ঞান বস্তু সম্পর্কে অপরিস্ফুট জ্ঞান, নির্বিকল্প প্রত্যক্ষ জ্ঞানকে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। নির্বিকল্পের পরিণতি হইল সবিকল্পে। সাংখ্য দর্শনে নির্বিকল্প প্রত্যক্ষকে ‘আলোচনা' এবং সবিকল্প প্রত্যক্ষকে 'বিবেচনা'ও বলা হয় ।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
সুখবাদ অনুসারে সুখই নৈতিক আদর্শ, যার আলোকে মানুষের কাজের নৈতিক গুণাবলি নির্ধারিত হয়। সুখই (Hedone) মানব জীবনের পরমকল্যাণ। যে কাজ সুখ দেয় ও দুঃখ দেয় তা অনুচিত। সুখ অন্বেষণ করা এবং দুঃখ পরিহার করাই মানুষের কর্তব্য। সুখবাদের দুটি ভিত্তি রয়েছে। যথা- মনস্তাত্ত্বিক (psychological) এবং পরাবৈজ্ঞানিক (metaphysical)।
source : নীতিবিদ্যা- আব্দুল বারী
রাসেলের মতে আকারগত বিশ্লেষণের সাথে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের সংযুক্তির ফলে যে দর্শন গড়ে ওঠে তাকে তিনি বলেছেন তত্ত্ব দর্শন বা Metaphysics। ১৯২৪ সালে প্রকাশিত The analysis of Matter এবং An Outline of Philosophy নামক গ্রন্থদ্বয়ে তিনি সমস্ত উপাদানকে নিরপেক্ষ বিশেষ বলেছেন যাকে তিনি ঘটনা বা Event নাম দিয়েছেন। এখানেই তাঁর মতবাদকে নিরপেক্ষ একত্ববাদ বলা হয়।
source : হেগলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম
লকের মতে, মানুষ জন্মের সময় কোনো ধারণা নিয়ে অন্যায় না। শিশুমন একেবারে খালি থাকে। লক্ এই খালি মনকে "একখানা অলিখিত সাদা কাগজ- Tabula Rasa" বলে উল্লেখ করেছেন। পরে ইন্দ্রিয় পথে বাইরের জিনিসের ছাপ মনে পড়ে। এ ছাপ থেকে শিশুর জ্ঞান হয়। বস্তুর যে ছাপ মনে পড়ে লক্ এর নাম দিয়েছেন ধারণা(concept)
ধারণা দু' পথে আমাদের মনে প্রবেশ করে সংবেদন আর অন্তর্দর্শনের পথে। আমরা সংবেদনের সাহায্যে পাই বহিবিশ্বের জ্ঞান এবং অন্তদর্শনের সাহায্যে পাই মানসিক অবস্থার জ্ঞান।
source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী
বেলুড় মঠ রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান মঠ। রামকৃষ্ণ সম্প্রদায়ের সকল সন্ন্যাসীকে এর নিয়মাবলি অনুসারে চলতে হবে। প্রথমে রামকৃষ্ণ মিশনকে মঠের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কার্যকর্ম বৃদ্ধি পাওয়ায় একে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেয়া হল। প্রচারকার্যের সুবিধার্থে স্বামীজি আলমোড়া থেকে 'প্রবৃদ্ধ ভারত' (১৮৯৯), কলকাতা থেকে ‘উদ্বোধন' (১৮৯৯) এবং মাদ্রাজ থেকে 'ব্রহ্মবাদিন' (১৮৯৫) নামে তিনটি সাময়িক পত্রিকা প্রকাশের ব্যবস্থা করেন।
Source : বাঙালির দর্শন - রামদুলাল রায়
ন্যায় দার্শনিকদের মত সাংখ্য দার্শনিকগণও বলেন যে, প্রতিটি ন্যায় (Syllogism) অনুমানে পাঁচটি অবয়ব বা তর্কবাক্য থাকিবে; যথা (১) প্রতিজ্ঞা, (২) হেতু, (৩) উদাহরণ, (৪) উপনয় ও (৫) নিগমন । যেমন,
(১) পর্বতটি অগ্নিমান (প্রতিজ্ঞা)
২) কারণ ইহা ধূমবান (হেতু)
(৩) সকল ধূমবান বস্তুই অগ্নিমান (উদাহরণ)
(৪) পর্বতটি ধূমবান (উপনয়)
(৫) পর্বতটি অগ্নিমান (নিগমন)
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
ড. সিগউইক (Dr. Sidgwick) মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদের একটি প্রধান ত্রুটি নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেন, “সুখের প্রতি আকর্ষণ যদি অত্যন্ত প্রবল হয়, তবে সে সুখ আর পাওয়া যায় না।” "The impulse towards pleasure, if too predominant, defeats its own aim." - Sidgwick
যতই আমরা সুখ পেতে চাই ততই আমরা সুখ হারাই। সুখ পেতে হলে সাময়িকভাবে আমাদেরকে সুখ বিস্মৃত হতে হয়, অর্থাৎ সুখ পাবার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো সুখ বিস্মৃত হওয়া। এটাকে বলা হয় (paradox of hedonism);
Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম
জি ই ম্যুর ছিলেন একজন সহজবুদ্ধির দার্শনিক। দর্শন, তার মতে আকাশচারিতা নয়, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়বস্তুর সহজবুদ্ধি সমর্থিত বিশ্লেষণই হল দর্শন। এ লক্ষ্যে তিনি লণ্ডনের মার্লি কলেজে ১৯১০-১১ সালে যে কুড়িটি বক্তৃতা করেন তার সমন্বয়ে “Some Main Problems of Philosophy” নামক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এখানে তিনি দর্শনের বিষয়বস্তু কি, জড়বস্তুর জ্ঞান কিভাবে হয়, প্রকৃতপক্ষে জড়বস্তুকে জানা যায় কিনা সে সম্পর্কে বিচার বিশ্লেষণ করেছেন। জড়বস্তুর জ্ঞান সম্পর্কে ম্যুর বলেছেন যে, এ সম্পর্কে আমাদের প্রকৃত জ্ঞান হতে পারে না।
source : হেগেলোত্তর দর্শন - বজলুল করিম
John Stuart Mill:
Notable works -
1. A System of Logic (1843)
2. Principles of Political Economy (1848)
3. On Liberty (1859)
4. Utilitarianism (1861)
5. The Subjection of Women (1869)
Source : Britannica
কার্য-কারণ সম্পর্কে ন্যায়-দর্শনের মতবাদ ‘অসৎকার্যবাদ' নামে পরিচিত। ন্যায় দার্শনিকগণ সাংখ্যের সৎকার্যবাদের বিরোধিতা করেন। তাঁহারা বলেন, কার্য উৎপন্ন হওয়ার পূর্বে উহা উপাদান কারণে বিদ্যমান থাকে না । তাঁহাদের মতে উপাদান কারণ হইল সৎ, আর কার্য হইল অসৎ। ন্যায়-দর্শন মতে ‘সৎ’ হইতে ‘অসৎ' এর উৎপত্তি বা আরম্ভ । নৈয়ায়িকগণের মতবাদকে আরম্ভবাদও বলা হয়, যেহেতু তাঁহাদের মতে কার্য সম্পূর্ণ নূতন সৃষ্টি বা আরম্ভ।নৈয়ায়িকদের মতে কারণ এবং কার্যের ভিন্ন সত্তা আছে; তাহা যদি না হইত তবে কারণ হইতে কার্যকে পৃথক করা যাইত না।
source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
আত্মবাদের ত্রুটিসমূহঃ
প্রথমত, আত্মবাদের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্পেন্সার (১৮২০-১৯০৩) বলেন যে, আত্মবাদ আমাদের আত্ম-স্বার্থের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক। যে ব্যক্তি অপরের স্বার্থের প্রতি লক্ষা রাখে না, সে ব্যক্তি অপরের কাছ থেকে সহানুভূতি ও সহযোগিতা পেতে পারে না, প্রতিটি ব্যক্তিরই তার নিজের মঙ্গল অর্জনের জন্য অপরের সাহায্যের প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, হবস্ (১৫৮৮-১৬৭৯) যদিও মনে করেন যে, মানুষ নিজের মঙ্গল ছাড়া অপর কারও মঙ্গলের অনুসন্ধান করে না, তথাপি তিনি বলেন যে, যে সমাজে প্রতিটি ব্যক্তিত্ব অপরের মঙ্গলের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে কেবল নিজের মঙ্গল অনুসন্ধান করে, সে সমে প্রতিটি ব্যক্তির জীবনই হীন, বর্বর ও সংক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে। এদিক থেকে দেখা যায়, আত্মবাদ একটা সন্তোষজনক মতবাদ নয়।
Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশিদুল আলম
বেন্থাম সুখের সাতটি মান স্বীকার করেছেন। যথা- (১) তীব্রতা (intensity), (২) স্থায়িত্ব (duration), (৩) নিশ্চয়তা (certainty), (8) নৈকট্য (nearness), (৫) উর্বরতা (fruitfulness of fecundity) (৬) বিশুদ্ধি (purity) এবং (৭) বিস্তৃতি (extent)'।
১. তীব্রতা (intensity) : ক্ষীণতর সুখের তুলনায় তীব্রতর সুখ আমাদের কাম্য হওয়া উচিত। বেন্থামের মতে মানসিক সুখের চেয়ে দৈহিক সুখ অনেক বেশি তীব্র। কাজেই দৈহিক সুখ আমাদের কাম্য হওয়া উচিত ।
.২. স্থায়িত্ব (duration) : স্বল্পস্থায়ী সুখের পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী সুখ আমাদের কাম্য হওয়া উচিত ।
৩. নিশ্চয়তা (certainty) : অনিশ্চিত সুখের প্রতি ধাবিত না হয়ে যে সুখ নিশ্চিত অর্থাৎ যে সুখ আমাদের ধরাছোঁয়ার ভিতরে তা গ্রহণ করাই শ্রেয় ৷
.&. নৈকট্য (nearness) : বেন্থাম দূরবর্তী সুখের তুলনায় নিকটবর্তী সুখকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর মতে দূরবর্তী সুখের পরিবর্তে নিকটবর্তী সুখ, ভাবী সুখের পরিবর্তে বর্তমান সুখ আমাদের কাম্য হওয়া উচিত।
৫. উর্বরতা (fruitfulness of fecundity) : যখন একটি সুখ একাধিক সুখ আনয়ন করে তখন তাকে উর্বর সুখ বলা হয়। কিন্তু যে সুখ অন্য কোনো সুখ আনয়ন করতে পারে না তাকে অনুর্বর সুখ বলে। বেন্থাম বলেন যে, অনুর্বর সুখের পরিবর্তে উর্বর সুখই আমাদের কাম্য হওয়া উচিত।
৬. বিশুদ্ধি (purity) যে সুখের মধ্যে দুঃখের ছোঁয়াচ নেই সেই সুখই বিশুদ্ধ সুখ আর যে সুখ দুঃখ মিশ্রিত তাকে বিশুদ্ধ সুখ বলা যায় না। মিশ্রিত সুখের পরিবর্তে বিশুদ্ধ সুখই আমাদের কামনা হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৭. বিস্তৃতি (extent) : সুখের বিস্তৃতি বলতে বুঝায় যত লোক সুখ ভোগ করে তাকে। যে সুখের বিস্তৃতি যত অধিক সে সুখ ততই আদরণীয়। যে সুখ যত অধিক সংখ্যক লোক উপভোগ করে সে সুখের বিস্তৃতি ততই বেশি। বেন্থামের মতে স্বল্প বিস্তৃতি সুখের তুলনায় অধিক বিস্তৃতি সুখই আমাদের কাম্য হওয়া উচিত।
Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম
অনেক চিন্তাবিদ মনের তিনটি বৃত্তি স্বীকার করেছেন। চিন্তা, অনুভূতি ও কৃতি (Thinking. Feeling and Willing)— মনের এ তিন বৃত্তি। মানব মনের এ তিন বৃত্তির আদর্শ হিসেবে আমরা যথাক্রমে সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলকে পাই। তাই সত্য (Truth), শিব (Goodness) ও সুন্দরকে (Beauty) মানসিক মূল্য বলা হয়। চিন্তার আদর্শ মূল্যের নাম সত্য, অনুভূতির আদর্শ মূল্যের নাম সুন্দর এবং কৃতির বা ইচ্ছার আদর্শ মূল্যের নাম শিব। সত্য, শিব এবং সুন্দর হলো মানব জীবনের পরম মূল্য। এই তিনটি আদর্শের প্রেক্ষিতেই মানুষ বিভিন্ন জাগতিক বস্তু বা ঘটনার মূল্য নির্ধারণ করে। মানুষের আদর্শ জীবন হলো এক সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের জীবন। এই আদর্শ লাভের মাঝেই মানুষ প্রকৃত মনুষ্যত্ব লাভ করে। এ সত্য, সুন্দর এবং শিবের নিজস্ব মূল্য আছে। এ কারণে সত্য, মঙ্গল ও সুন্দরকে স্বতঃমূল্য বলা হয়।
source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী
কার্ল মার্ক্স দ্বান্দ্বিক জড়বাদের প্রবর্তক। এঙ্গেলস্ ও লেনিন হলেন তাঁর সমর্থক। স্টেলিন মার্ক্স, এঙ্গেলস্ ও লেনিনের প্রধান কথাগুলোকে তাঁর ঐতিহাসিক জড়বাদে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। মার্ক্স ছিলেন বামপন্থী হেগেলীয় দার্শনিক। ।
মার্ক্স হেগেলের পরিণতিমূলক ব্যাখ্যাকে বাতিল করে দিয়ে বলেন যে, দৃশ্যমান জগৎ হচ্ছে জড় ও তার গতির স্বাভাবিক পরিণতি। জাগতিক বিবর্তনের মূলে কোনো আধ্যাত্মিক সত্তা বা উদ্দেশ্য নেই। বিবর্তন হচ্ছে জড়ের খেলা।
source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী
উনিশ শতকে বাংলার নব জাগরণে নিরীশ্বরবাদী ও আধ্যাত্মিক মানবতাবাদের বিকাশ ঘটে। ডিরোজিও ও তাঁর অনুগামীরা ছাড়াও অক্ষয়কুমার দত্ত, বিদ্যাসাগর প্রমুখ নিরীশ্বরবাদী মানবতাবাদের সমর্থক। অন্যদিকে রামমোহন, কেশবচন্দ্র, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ মনীষীর চিন্তা চেতনার মুখ্য উপাদান ছিল মানুষ।
Source : বাঙালির দর্শন - রামদুলাল রায়
সর্ববাদ (Universalism) : সমাজের বা দলের সাধারণ স্বার্থ বা মঙ্গল রক্ষা করাকেই ব্যক্তির নৈতিক কর্তব্য বলে সর্ববাদ মনে করে। এ মতবাদ বলে যে, সমাজের অপরাপর ব্যক্তির স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিকে তার নিজের স্বার্থ সম্পর্কেও চিন্তা করতে হবে। এদিক থেকে এ মতবাদকে সমন্বয় সাধনের মতবাদও বলা যায়। এ মতবাদ আত্মবাদ ও পরার্থবাদের সত্যিকারের উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবী করে, কেননা এ মতবাদ সমাজের মঙ্গলে ব্যক্তির নিজের ও অপরের মঙ্গলকে অন্তর্ভুক্ত করে।
Source: নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশিদুল আলম
মিলের পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ সুখবাদের ত্রুটি থেকে বিমুক্ত নয়। , মিল পরসুখবাদের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলেছেন, যে কোনো বস্তু দৃশ্যযোগ্য কারণ মানুষ তা সত্য সত্যই দেখে থাকে। কোনো শব্দ শ্রবণযোগ্য কারণ মানুষ তা বাস্তবিক শ্রবণ করে। তেমনিভাবে কোনো বস্তু কামনার যোগ্য, কেননা মানুষ প্রকৃতই তা কামনা করে থাকে। এখানে মিলের যুক্তিতে রূপক পদ অনুপপত্তি (fallacy of figure of speech) ঘটেছে। তিনি কামনার যোগ্য (desirabie) কথাটিকে ‘যা কামনা করা যেতে পারে' (capable of being desired) অর্থে ব্যবহার করেছেন। 'কামনা যোগ্য' (desirable) কথাটির প্রকৃত অর্থ হলো 'যা কামনা করা উচিত। কোনো বস্তু কামনা করলেই তা কামনার যোগ্য হয় না। এমন অনেক বস্তু আমরা কামনা করি বাঁ করতে পারি যা কামনার অযোগ্য; অর্থাৎ আমাদের কামনা করা উচিত নয়।
Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম
যান্ত্রিক বিবর্তনবাদের ভিত্তি হলো কার্যকরণ সম্পর্ক। এ মতবাদ বিবর্তন প্রক্রিয়ায় কোনো উদ্দেশ্য বা আদর্শের স্থান দেয় না। নেহাত আকস্মিকভাবে জড় থেকে বিবর্তন প্রক্রিয়ার আরম্ভ হয়। ধীরে ধীরে এই অভিব্যক্তি প্রাণ, মন প্রভৃতি বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়।
যান্ত্রিক বিবর্তনবাদ আবার জড়বাদ ও নিসর্গবাদভিত্তিক মতবাদ। জড়বাদী ও নিসর্গবাদী দার্শনিকরা গতিকেই জগতের সমস্ত কিছুর উৎপত্তির জন্য দায়ী বলে মনে করেন। নিসর্গবাদ শক্তি, গতি, প্রাকৃতিক নিয়ম ও কার্যকারণ সম্পর্কের সাহায্যেই জগৎ ও জাগতিক ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। যান্ত্রিক বিবর্তনবাদও জড়, শক্তি, গতি, দেশ, মাধ্যাকর্ষণ প্রভৃতির সাহায্যেই এ জগতের বিবর্তনকে ব্যাখ্যা করতে চায়। অতএব যান্ত্রিক বিবর্তনবাদ জড়বাদ ও নিসর্গবাদভিত্তিক মতবাদ।
Source : দর্শনের সমস্যাবলী - মোহাম্মদ নূরনবী
হেগেলের ভাববাদকে বস্তুগত ভাববাদ বলা হয় এজন্য যে, এতে বস্তুবাদ এবং ভাববাদের সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। আত্মগত ভাববাদ বহির্জগতের ব্যক্তিমন নিরপেক্ষ অস্তিত্ব অস্বীকার করে। অপরদিকে কান্টের মতে, অতীন্দ্রিয় সত্তার জ্ঞান সম্ভব নয়। হেগেল বিশ্ব প্রকৃতির ব্যক্তিমন নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র সত্তায় বিশ্বাস করেন। কিন্তু পরম সত্তার প্রকাশরূপেই তিনি জগতের বাস্তব সত্তার অস্তিত্বকে গ্রহণ করেন। জীবাত্মা ও জড় বস্তু উভয়ই পরমাত্মারই প্রকাশ। সেজন্য জীবাত্মা জড়ের এবং পরম চেতনের জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম।
source : দর্শনের সমস্যাবলী - মোহাম্মদ নূরনবী
অন্যান্য ভারতীয় দর্শনের মত ন্যায়দর্শনও জীবাত্মার মুক্তিলাভকে জীবের পরম পুরুষার্থ (চরম লক্ষ্য ) বলিয়া অভিহিত করিয়াছে। আত্মার মুক্তি বলিতে নৈয়ায়িকেরা দুঃখের আত্যন্তিক নিবৃত্তিকেই (Absolute negation of pain) বুঝিয়াছেন।
আত্মার বদ্ধাবস্থা (Bondage) তথা দুঃখের কারণ সম্পর্কে নৈয়ায়িকেরা বলেন, দেহ ও ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে আত্মার সংযোগই আত্মার বদ্ধাবস্থা সূচনা করে। বদ্ধাবস্থায় আত্মার দুঃখভোগ অনিবার্য; কারণ, দেহ থাকিলেই দেহস্থিত ইন্দ্ৰিয় বিভিন্ন বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়; ফলে দেহ নানারকমের দুঃখভোগ করে এবং সেই দুঃখে আত্মাও অভিভূত হয়। সুতরাং দেহ ও ইন্দ্রিয় হইতে আত্মার সম্পূর্ণ বিচ্যুতি না হওয়া পর্যন্ত তাহার দুঃখের আত্যন্তিক নিবৃত্তি তথা মুক্তি সম্ভব নয় । তাই মুক্তাবস্থায় আত্মা দেহ ও ইন্দ্রিয় হইতে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়ে ।নৈয়ায়িকদের মতে মুক্তিলাভের জন্য প্রয়োজন তত্ত্বজ্ঞানের । আত্মা দেহ, মন ও ইন্দ্রিয় হইতে যে ভিন্ন, এই জ্ঞানই তত্ত্বজ্ঞান। এই তত্ত্বজ্ঞান লাভ করিতে না পারিলে জীবাত্মার মুক্তি সম্ভব নয় ।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
সক্রেটিস ন্যায়পরতার সংজ্ঞা দেয়ার আগে রাষ্ট্রের নাগরিকদের শাসক, সৈনিক ও উৎপাদক, এই তিন শ্রেণীতে ভাগ করে প্রজ্ঞাকে(reason/wisdom) শাসকের প্রধান সদগুণ, সাহসকে(courage) সৈনিকদের প্রধান সদগুণ এবং সংযম বা মিতাচারকে(temperance) উৎপাদক শ্রেণীর প্রধান সদগুণ বলে অভিহিত করেন। এরপরে তিনি বলেন যে, ন্যায়পরতা এমন এক নীতি (principle), যার স্বরূপ রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতিটি শ্রেণী অপরের কাজে হস্তক্ষেপ না করে নিজ নিজ কর্তব্য কাজ সম্পাদন করার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ অপরের কাজে হস্তক্ষেপ না করে নিজ নিজ কাজ সম্পাদন করাই ন্যায়পরতা। অর্থাৎ তাঁর মতে, রাষ্ট্রের এই তিন শ্রেণীর নাগরিকদের সঙ্গতির মধ্যেই ন্যায়পরতা নিহিত।মূলত সক্রেটিসে সংলাপের মাধ্যমে প্লেটো তার নিজের বক্তব্যই তুলে ধরেছেন।
Source : The Republic by Plato
স্পেন্সারের মতে, ব্যক্তির কাজের ওপর দ্বিবিধ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে- বহির্নিয়ন্ত্রণ এবং অন্তরের নিয়ন্ত্রণ । রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বহির্নিয়ন্ত্রণ; আর অন্তরের নিয়ন্ত্রণ হলো নৈতিক নিয়ন্ত্রণ বা নৈতিক অনুশাসন। এই নৈতিক অনুশাসন হলো প্রকৃত প্রতিরোধক শক্তি। এটা হলো নৈতিক বাধ্যতাবোধ। এই নৈতিক বাধ্যতাবোধ আমাদের ন্যায় আচরণে উৎসাহিত করে এবং অন্যায় আচরণ থেকে বিরত রাখে।
source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম
পূর্ণতাবাদ বা আত্মোপলব্ধি পরম নৈতিক আদর্শ, যা মানুষের পূর্ণ বিকাশের সহায়ক। প্রাচীন যুগে গ্রিক দার্শনিক প্লেটো, অ্যারিস্টটল এবং বর্তমান যুগে হেগেল, গ্রিন, কেয়ার্ড (Caird), ডিউই (Dewey), ম্যাকেনজি, ম্যুরহেড, ডি'আর্কী (D'Arcy), পলসন (Paulsen) এবং আরো অনেকেই এই মতবাদের সমর্থক। এরই মতবাদ বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন ( পূর্ণতাবাদ (perfectionism), কল্যাণবাদ (eudaemonism) এবং শক্তিবাদ (energims)। "হেগেল ও নব্য হেগেলীয়দের (যেমন- গ্রিন, ম্যাকেনজি, ম্যুরহেড, ডি আর্কী) প্রচারিত নৈতিক মতবাদকে পূর্ণতাবাদ বলা হয়। এই মতবাদানুসারে আত্মোপলব্ধি নৈতিক আদর্শ। অ্যারিস্টটল কল্যাণবাদের (Eudaemonism) সমর্থক, তিনি এই কল্যাণকে নৈতিক আদর্শ বলে অভিহিত করেন। অবশ্য কেউ সুখ ও কল্যাণকে গুলিয়ে ফেলেছেন। ড. পলসন প্রচারিত নৈতিক মতবাদ শক্তিবাদ (Energism) নামে পরিচিত। এই মতবাদ পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ মূলত একই।
Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম
বার্গস হেরাক্লিটাসের ন্যায় বলেন, গতিই একমাত্র জগতের মূল বৈশিষ্ট্য। জগৎ জুড়ে এক বিরাট পরিবর্তনের স্রোত প্রবাহিত হয়ে চলেছে। এখানে কিছুই নিত্য নয়। এ গতিকে তিনি আবার প্রাণ-প্রবাহ(Elan Vital) বলে ভেবেছেন। অনাদি অনন্ত প্রাণ-প্রবাহ বিশ্বের চরম তত্ত্ব। এ প্রাণ-প্রবাহের একমাত্র কাজ প্রতিনিয়ত নতুন বস্তু সৃষ্টি করা। চলার পথে নতুন জিনিস অহরহ সৃষ্টি করে চলে।
“বস্তুত প্রাণ হলো গতি, জড় হলো বিপরীত গতি।”
"In reality life is a movement, materiality is the inverse movement."--Bergson
প্রাণ-প্রবাহ নিরন্তর সৃষ্টি করে চলছে।
Source : Introduction to philosophy by Jadunath Sinha
বিবর্তন প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর বুকে জড়ের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হতে হতে সৃষ্টি হয়েছে মানুষ। মানুষের স্বকীয়তা নিহিত মনে; আর এই মনসম্পন্ন ব্যক্তিকেই বিবর্তিত হতে হবে অতিমানসিক ব্যক্তিতে। বিবর্তন প্রক্রিয়ায় এ মানুষই রূপান্তরিত হয় অতিমানবে। সত্তা ক্রমশ ওপরের দিকে অগ্রসর হয়ে চলেছে দিব্যজীবনের(Divine Life) চূড়ান্ত উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। তবে এ ঊর্ধ্বায়ন প্রক্রিয়া বস্তুজগৎকে অস্বীকার করে ব্রহ্মে স্থিত হতে চায় না, বরং দিব্য জ্যোতি ও দিব্য আনন্দকে ঊর্ধ্বভূমি থেকে নামিয়ে আনতে চায় মাটির পৃথিবীতে। বস্তুত, বিবর্তন প্রক্রিয়ায় মানুষ শেষ পর্যন্ত জ্ঞানশক্তির এমন এক অবস্থায় উন্নীত হয় যেখানে খোদ পরমসত্তা নেমে এসে তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
Source: বাঙালির দর্শন : রামদুলাল রায়
আল ফারাবী মুতাযিলা ও ফালাসিফা- উভয় সম্প্রদায়ের মতবাদের সমালোচনা করেছেন । তাঁর মতে, মুতাযিলারা একধরনের নির্বিচারবাদী। তাঁরা কোন রকমের বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই তাদের মতবাদের সমর্থনে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। অপরদিকে, ফালাসিফা’ সম্প্রদায়ের চিন্তাবিদগণ শুধু অবভাসিক জগতের স্বরূপ সন্ধানে নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করেছেন; কখনও অতীন্দ্রিয় জগতের সত্তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেন নি।
Source : মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম
অ্যারিস্টটলের মতে আত্মার দ্বিবিধ উপাদান বা অঙ্গ রয়েছে; বুদ্ধিময় ও বুদ্ধিবর্জিত। প্রজ্ঞা বা বুদ্ধি হলো আত্মার বুদ্ধিময় অংশ; আর বুদ্ধিবর্জিত অংশ হলো কামনা, বাসনা, অনুভূতি ইত্যাদি। মানবাত্মার পূর্ণ বিকাশের অন্য আত্মার বুদ্ধিময় অংশের সাথে আত্মার বুদ্ধিবর্জিত অংশের সহযোগিতা ও সামঞ্জস্য স্থাপিত হওয়া প্রয়োজন; যে ব্যক্তির আত্মার বিভিন্ন ক্রিয়াবলির মধ্যে যথার্থ সম্পর্ক বর্তমান অর্থাৎ কামনা, “বাসনা ও বুদ্ধির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে, তাকে ন্যায়পরায়ণ বা ধার্মিক ব্যক্তি বলা যায়। অ্যারিস্টটল দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থাকে সততা বা সুবর্ণ মধ্যক(Golden mean) বলেছেন
Source: নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম
What is knowledge ( জ্ঞান কি?)
knowledge is justified true believe - Plato
জ্ঞান বলতে মূলত একটি সত্য বিশ্বাস কে বুঝায় যা যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ এবং দৃঢ় যুক্তির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। একটি সংজ্ঞার মাধ্যমে আসলে জ্ঞান এর যথার্থ উপলব্ধি সম্ভব নয়, এজন্য জ্ঞানের উৎপত্তি, স্বরূপ, শর্ত, সীমা আলোচনা করা প্রয়োজন। এই আলোচনাগুলোই মূলত জ্ঞানবিদ্যায়(Epistemology) হয়ে থাকে।
“Epistemology is the theory of knowledge, it enquires into the origin of knowledge and the conditions of its validity also into the nature of knowledge.
Source : Introduction to philosophy by Jadunath Sinha
আরোহ অনুমানের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Inductive inference)
উপরিউক্ত উদাহরণ থেকে কিছু প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
প্রথমত > আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত বা অনুমিত হয় না। কারণ এর সিদ্ধান্ত চেয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করে। নতুন তথ্য উপস্থাপন করে।
দ্বিতীয়ত > আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে কোনো সত্য প্রমাণ করে না। সিদ্ধান্ত যে তথ্য প্রকাশ করে তা পরবর্তী সময়ে অভিজ্ঞতার আলোকে ভ্রান্ত প্রমাণিত হতে পারে, আর নাও হতে পারে। হবেই এমন কোনো শর্ত নেই।
তৃতীয়ত > আরোহ অনুমানে বস্তুগত সত্যতার দিকে লক্ষ রাখা হয়, আকারগত সত্যতার দিকে নয়। অর্থাৎ আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ কি না, তা বিচার করা হয়। সত্যকে খুঁজে বের করাই লক্ষ্য থাকে।
চতুর্থত > আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত কোনো ক্ষেত্রেই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক হয় না ৷
পঞ্চমত > আরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্যকে স্বীকার করেও সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করা যায় ।
ষষ্ঠত > আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তের সত্যতা আশ্রয়বাক্যের দ্বারা সমর্থিত। কিন্তু এ সত্যতা সম্ভাব্য, প্রমাণিত নয় ।
সপ্তমত > আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত অভিজ্ঞতার আলোকে গঠিত হয়।
source : উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা (১ম পত্র)
ন্যায়দর্শন মতে, ঈশ্বর এক; তিনি অসীম ও নিত্য। তাঁহার সৃষ্ট জগৎ তাঁহাকে সীমিত করিতে পারে না । জগৎ তাঁহার দেহ, আর তিনি জগতের আত্মা । আত্মার সঙ্গে জীবদেহের যে সম্বন্ধ, ঈশ্বরের সঙ্গে জগতেরও সেই সম্বন্ধ । আর ঈশ্বরের সঙ্গে জীবের সম্পর্ক হইল পিতা-পুত্রের সম্পর্ক। পিতা যেমন পুত্রের ক্ষমতা ও সামর্থ্য অনুসারে পুত্রকে কর্মে নিযুক্ত করেন, ঈশ্বরও অনুরূপভাবে তাঁহার সৃষ্ট জীবকে তাহার অতীতের কর্মানুসারে বর্তমান কর্মে নিযুক্ত করেন । কর্মক্ষেত্রে জীব সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়, আংশিক স্বাধীন মাত্র ।নৈয়ায়িকেরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে দশটি প্রমাণ উপস্থাপিত করেন।
Source : ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ
এই আদি কারণ বা পরমসত্তাকেই আমরা আল্লাহ বলি। তাঁর মধ্যে জগতের সকল বস্তু একীভূত হয়ে থাকে। আদি সত্তার বা আল্লাহর কোন সংজ্ঞা দেয়া যায় না। ফারাবীর মতে মানুষ সীমিত বুদ্ধির অধিকারী, এই সীমিত বুদ্ধির সাহায্যে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান লাভ অসম্ভব। তবে, তাঁকে যে একেবারে জানা অসম্ভব, তাও নয়। তিনি অজ্ঞেয় হলেও অনিবার্য এবং জগতের সবকিছুর মধ্যে বিরাজমান। কাজেই, জাগতিক বস্তু বা ঘটনাবলীর জ্ঞান থেকেই আল্লাহকে জানা সম্ভব। এককথায়, ' সরাসরি জানা না গেলেও, জীব ও জগতের জ্ঞানের মধ্যে দিয়ে তাঁকে জানা যায় । এভাবে, ফারাবী আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞানের ব্যাপারে সর্বেশ্বরবাদী ধারণায় উপনীত হন।
Source : মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী
কান্ট বিচারশক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা- বিশুদ্ধ বিচারশক্তি (pure reason) এবং ব্যবহারিক বিচারশক্তি (practical reason)। তিনি বিবেককে ব্যবহারিক বিচারশক্তি বলে বিবেচনা করেছেন। বিবেক স্বতঃস্ফূর্তভাবে সর্বোচ্চ নৈতিক নিয়ম আমাদের নিকট ব্যক্ত করে। এই নৈতিক নিয়ম অভিজ্ঞতালব্ধ নয়- অভিজ্ঞতাপূর্বক এবং স্বতঃসিদ্ধ । এই সর্বোচ্চ নৈতিক নিয়মের প্রেক্ষিতেই কোনো কাজের ভালো-মন্দ, ঔচিত্য-অনৌচিত্য বিচার করা হয়। যে কাজ এই নৈতিক নিয়মের বিরোধী সেই কাজ অনুচিত। কোনো কাজের ফলাফল দেখে কাজটির নৈতিক গুণাগুণ বিচার করা যায় না, কর্তার মনের অভিপ্রায়ই কাজের নৈতিক গুণের প্রকৃত নির্ধারক। কান্টের বিচারবাদ এক ধরনের দার্শনিক বা বুদ্ধিমূলক স্বজ্ঞাবাদ। এই মতবাদ অনুসারে নৈতিক নিয়ম (moral law) হলো নৈতিক আদর্শ, যার প্রেক্ষিতে কাজের ভালো-মন্দ, ঔচিত্য-অনৌচিত্য নির্ধারিত হয়।
Source: নীতিবিদ্যা - আব্দুল বারী
সঙ্গতিবাদ অনুসারে, অভিজ্ঞতার দিক থেকে কোনো বচনই চরম সত্য নয়, আবার চরম মিথ্যাও নয়। সত্যতা হলো একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। চরম অভিজ্ঞতার দিক থেকে প্রত্যেক বচনই আপেক্ষিক মিথ্যা, আবার চরম মিথ্যাত্বের দিক থেকে প্রত্যেক বচনই আপেক্ষিক সত্য।সত্যতার এ আপেক্ষিকতা ব্রাডলি প্রমুখ দার্শনিক স্বীকার করেন। ব্রাডলি বলেন, ভ্রমও সত্য। তবে ভ্রম হলো আংশিক সত্য। আবার সমস্ত সত্যই আংশিক মিথ্যা।
source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী
ডেকার্টের মতে, আমাদের কতকগুলো সহজাত ধারণা(innate ideas) আছে। ঈশ্বর আমাদের জন্মের সময়ই এগুলোকে আমাদের মনে গেঁথে দেন। সমস্ত কিছুর জ্ঞানই এ সমস্ত ধারণা থেকে গাণিতিক অবরোহ পদ্ধতিতেও লাভ করা যায়। এ জাতীয় বুদ্ধিবাদকে পলসন গাণিতিক বুদ্ধিবাদ নামে অভিহিত করেন। এ সমস্ত ধারণা হচ্ছে, অসীমতা, নিত্যতা, পূর্ণসত্তা বা ঈশ্বর।
এ ছাড়াও আরও দুরকমের ধারণা আছে- আগন্তুক এবং কৃত্রিম। যেসব ধারণা বাইরে থেকে আমাদের মনে আসে সেগুলোকে বলে আগন্তুক ধারণা। আমাদের মনের বিভিন্ন ধারণার সাথে যোগ-বিয়োগের ফলে যে ধারণার উৎপত্তি হয় সেগুলো হলো কৃত্রিম। এ উভয় রকমের ধারণাগুলো স্পষ্ট ও উজ্জ্বল নয়। কাজেই এরা নিশ্চিত জ্ঞানের উৎস নয়। অপর দিকে, সহজাত ধারণা নিশ্চিত জ্ঞানের উৎস।
Source : দর্শনের কথা- আব্দুল বারী
ইকবালের দর্শনের মূল সুর হচ্ছে খুদী বা অহম বা আত্মসত্তা। বস্তুত, খুদীর ধারণার উপরই ইকবাল দর্শনের মূল কাঠামো প্রতিষ্ঠিত । তাঁর মতে, খুদী বাস্তব সত্তা। এটি সকল প্রকার ক্রিয়াপরতার উৎস এবং তা আপন সত্তায় বিরাজমান। অতীন্দ্রিয় অনুভূতির মাধ্যমে আমরা এই সত্তার সাক্ষাত পেয়ে থাকি। স্বজ্ঞার মাধ্যমে শুধু আমরা খুদীর স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হই । স্বজ্ঞার মাধ্যমে প্রাপ্ত খুদীর ধারণা বস্তুত স্বাধীন ও অমর।
Source : মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী
ফারাবী উচ্চতম থেকে নিম্নতম সত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরকে ছয়টি শ্রেণীতে বিভক্ত করেন। তাঁর মতে, আল্লাহই আদি সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্তকাল থেকে অস্তিত্বশীল। এর পরের সত্তা হচ্ছে আল্লাহর প্রতিকৃতি (image)। এটি আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি এবং প্রথম সৃষ্ট চিদাত্মা (spirit)। অনন্তকাল থেকেই এটি আল্লাহ থেকে উৎসারিত । তারপর, প্রথম চিদাত্মা থেকেই পরপর সৃষ্ট হয়েছে নভোমণ্ডলের (heavenly bodies) আটটি চিদাত্মা। এ আটটি চিদাত্মা থেকেই আবার সৃষ্ট হয়েছে সৌরজগতের জ্যোতিষ্ক মণ্ডল । ফারাবীর প্রথম চিদাত্মা সমেত সর্বমোট এ ন'টি চিদাত্মাকে স্বর্গীয় দূত বা ফেরেশতা বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, সত্তার দ্বিতীয় স্তর এ সকল চিদাত্মার সমবায়ে গঠিত । সত্তার তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছে যথাক্রমে প্রজ্ঞা ও আত্মা, এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তরে রয়েছে যথাক্রমে আকার ও জড়ের অবস্থান। শেষ স্তরে অর্থাৎ ষষ্ঠ স্তরে আধ্যাত্মিক অস্তিত্বের অনুক্রম (order) সমাপ্ত হয়। উল্লেখ্য যে, এ ছ'টি স্তরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সত্তাসমূহ (যথা— আল্লাহ, সৌরমণ্ডলসমূহ এবং প্রজ্ঞা) বিশুদ্ধ চিদাত্মা হিসেবে পরিগণিত; কিন্তু শেষের তিনটি স্তর (যথা— আত্মা, আকার ও জড়) অশরীরী হলেও শেষ পর্যন্ত দেহের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
Source : মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী
কান্টের মতে, সৎ ইচ্ছাই (সদিচ্ছা) একমাত্র কল্যাণকর। তিনি বলেন, “এই জগতে কিংবা এই জগতের বাইরে এমন কিছু নেই যা সৎ ইচ্ছা এই গুণ বা বিশেষণ ব্যতিরেকে কল্যাণকর বলে অভিহিত হতে পারে।”এবং সৎ ইচ্ছা বিনা শর্তেই কল্যাণকর; বিনা শর্তেই সৎ ইচ্ছা নিজ গুণেই সৎ। সম্পদ ও প্রতিভা বিনাশর্তে কল্যাণকর নয় । কেননা এইগুলি অসৎ ইচ্ছার দ্বারা কলুষিত হতে পারে। এইগুলি একমাত্র একমাত্র সৎ ইচ্ছার দ্বারা চালিত হলেই কল্যাণকর বলে অভিহিত হতে পারে। কিন্তু সৎ ইচ্ছা শর্তহীন- এটা কোনো শর্তের অধীন নয়। এই সৎ ইচ্ছাই নৈতিক নিয়মসমূহকে আপনার উপর প্রয়োগ করে। মানুষের ইচ্ছা যখন তার বুদ্ধির অনুগামী হয় তখন তা স্বাধীন। আর যখন তার ইচ্ছা বুদ্ধির অনুগামী না হয়ে কামনা, বাসনা বা কোনো আবেগের দ্বারা চালিত হয়।
source : নীতিবিদ্যা - আব্দুল বারী
একটি যুক্তিবাক্য গঠিত হয় ৩ টি অংশ নিয়ে; যথা-
ক. উদ্দেশ্যখ. বিধেয় গ.সংযোজক
ক. উদ্দেশ্য: কোনো যুক্তিবাক্যে কোনো পদ সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে উদ্দেশ্য বলে । যেমন- ‘স্কুল শিক্ষক হন দায়িত্ববান’ এবং ‘কিছু সৈনিক নয় ভীরু' এ যুক্তিবাক্য দু'টিতে ‘শিক্ষক' ও ‘সৈনিক' হলো উদ্দেশ্য ।
খ. বিধেয়: কোনো যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে বলে বিধেয় । যেমন- ‘সকল ফুল হয় সুন্দর' এবং 'কোনো মানুষ নয় দেবতা' যুক্তিবাক্য দু'টিতে 'সুন্দর' ও 'দেবতা' হলো বিধেয় ।
গ. সংযোজক: যে শব্দের সাহায্যে যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মাঝে স্বীকৃতিবা অস্বীকৃতিপ্রকাশ করা হয় তাকে বলে সংযোজক । যেমন- ‘সকল ফুল হয় সুন্দর' এবং ‘কোন মানুষ নয় (হয় না) দেবতা' যুক্তিবাক্য দু'টিতে ‘হয়’ ও ‘নয়’ হলো সংযোজক ।
source : উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা (১ম পত্র)
গুণ অনুসারে ২ প্রকার:
সদর্থক : সকল কবি হয় ভাবুক
নঞর্থক : কোনো কাক নয় সাদা
পরিমাণ অনুসারে ২ প্রকার:
সার্বিক : সকল মানুষ হয় মরণশীল
বিশেষ : কিছু মানুষ হয় সৎ
গুণ ও পরিমাণ অনুসারে ৪ প্রকার
· সার্বিক সদর্থক : সকল মানুষ হয় মরণশীল – A
· সার্বিক নঞর্থক: কোনো কাক নয় সাদা- E
· বিশেষ সদর্থক : কিছু মানুষ হয় সৎ - I
· বিশেষ নঞর্থক : কিছু মানুষ নয় সৎ- ও
source : উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা (১ম পত্র)
'বেদান্ত' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হইল 'বেদের অন্ত বা শেষ'। বেদান্ত বলিতে মুখ্যতঃ উপনিষদকেই বুঝায় । এখন প্রশ্ন, উপনিষদকে বেদান্ত বলা হয় কেন? নানাদিক হইতে বিচার করিয়া উপনিষদকে বেদান্ত বলা হয়। প্রথমত, বেদের শেষ অংশ হইল উপনিষদ। বেদ চারি প্রকারের; যথা, ঋক, যজুঃ, সাম ও অথর্ব । প্রত্যেক বেদের আবার তিনটি অংশ; যথা: মন্ত্র, ব্রাহ্মণ ও উপনিষদ । মন্ত্র বা সংহিতা অংশে আছে বেদের মন্ত্রগুলি, ব্রাহ্মণ অংশে আছে সংহিতায় উক্ত যাগযজ্ঞাদির বিবরণ ও ব্যাখ্যা, আর উপনিষদে আছে দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা। দ্বিতীয়ত, শাস্ত্রপাঠের ক্রম অনুসারেও উপনিষদ সর্বশেষ; প্রথমে মন্ত্র, তারপর ব্রাহ্মণ, তার পরে আরণ্যক এবং সর্বশেষে পাঠ করিতে হয় উপনিষদকে । তৃতীয়ত, উপনিষদগুলিতেই বৈদিক চিন্তাধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়াছে । কাজেই উপনিষদ বেদান্ত নামে অভিহিত ।
Source : ভারতীয় দর্শন - অর্জুন বিকাশ
আল-কিন্দির মত, ফারাবীও প্রজ্ঞাজাত বৃত্তিকে সুপ্ত বুদ্ধি, সক্রিয় বুদ্ধি, চালক বুদ্ধি ও অর্জিত বুদ্ধি - এ চার শ্রেণীতে বিভক্ত করেন। প্রতিটি উচ্চতর বৃত্তি তার নিম্নতর বৃত্তির ওপর নির্ভরশীল । প্রথম বৃত্তিটিই হচ্ছে সুপ্তবুদ্ধি যার সাহায্যে মানুষ বস্তু হতে বস্তুর গুণ পৃথক করে থাকে। দ্বিতীয় বৃত্তির নাম সক্রিয় বুদ্ধি (active intellect) যা প্রথম বুদ্ধিবৃত্তিকে সক্রিয় করে তোলে । তৃতীয় বৃত্তির নাম চালক বুদ্ধি (agent intellect)। এটি এমন এক আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি, যা মানুষের সুপ্ত বা সম্ভাব্য শক্তিসমূহকে জাগিয়ে তোলে এবং তাকে সক্রিয় করে। চতুর্থ ও শেষ বৃত্তিটিকে বলা হয় অর্জিত বুদ্ধি – যা তৃতীয় বৃত্তি অর্থাৎ চালক বুদ্ধির সাহায্যে মানুষ অর্জন করে থাকে । এখানে উল্লেখ্য যে, চালক বুদ্ধি আল্লাহ থেকে সরাসরি মানবদেহে প্রবিষ্ট হয়।
Source : মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী
অ্যারিস্টটল শাস্তিকে নেতিবাচক পুরষ্কার বলে মনে করেন। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায়, নৈতিক নিয়ম ভঙ্গ করেছে সমাজ তাকে পুরষ্কার না দিয়ে পারে না। শাস্তিই এই পুরষ্কার । কান্টও প্রতিশোধাত্মক মতবাদ সমর্থন করেন। তাঁর মতে, নিজের কল্যাণ কিংবা সমাজের কল্যাণের জন্য নয়, নৈতিক নিয়ম ভঙ্গের জন্যই অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত। কান্ট বলেন, ফৌজদারী আইন শর্তহীন আদেশ” (The penal law is a categorical imperative), হেগেলও অনুরূপ মতবাদ পোষণ করেন। তাঁর মতে, অপরাধী শাস্তি কামনা করে, এটা তার প্রাপ্য যা সে নিজের কাজের দ্বারা অর্জন করেছে। এটা নেতিবাচক পুরষ্কার। নব্য হেগেলীয় ব্রাডলিও মনে করেন যে, শাস্তির জন্যই শাস্তি দেওয়া হয়। অর্থাৎ অন্যায় কাজের পুরষ্কার হিসাবেই শাস্তি প্রদান করা হয়ে থাকে ।
Source : নীতিশাস্ত্র পরিচয় - রশীদুল আলম
ইংরেজি ‘Philosophy’ এবং ‘Philosopher' শব্দ দুটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো ‘দর্শন’ ও ‘দার্শনিক’। গ্রীক দার্শনিক পীথাগোরাস সর্বপ্রথম ‘Philosophy' শব্দের ব্যবহার করেন।‘Philosophy' শব্দটি গ্রীক শব্দ ‘Philos’ এবং ‘Sophia’ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ‘Philos' শব্দের ইংরেজি অর্থ ‘Loving’ এবং বাংলা মানে ‘অনুরাগ’। ‘Sophia' শব্দের ইংরেজি অর্থ ‘knowledge' এবং বাংলা মানে ‘জ্ঞান’। কাজেই ‘Philosophy' শব্দের ধাতুগত অর্থ হয় ‘জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ'। আবার এর অর্থ ‘সত্যের প্রতি অনুরাগ' ‘জ্ঞান-সন্ধান' ‘সত্য-সন্ধান' ইত্যাদিও করা হয়। কাজেই ‘Philosopher' বলতে আমরা বুঝি সে ব্যক্তিকে যিনি জ্ঞানের প্রতি অনুরাগী বা সত্যের প্রতি অনুরাগী; যিনি জ্ঞান-সন্ধানী বা সত্য-সন্ধানী।
source : Britannica
Karl Marx (1818- 1883)
1. Das Kapital (1867)
2. The Communist Manifesto (1848)(co-authored with Friedrich Engels)
3. The German Ideology
Source : Britannica
ইকবাল চরম পুজিবাদের( extreme capitalism) বা সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী। তার মতেই এটি জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশার মূল কারণ। তিনি একধরণের সমাজতন্ত্রের সমর্থন করেন। তার মতে ইসলাম ও সমাজতন্ত্র বিরোধী নয় বরং পরিপূরক। তিনি বলেন,
" একজন সমাজতন্ত্রী অজ্ঞাতে হলেও বহুলাংশে আল্লাহর কাজ করে থাকেন" তিনি আরোও বলেন,
" আমাকে যদি একটি মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক করা হতো,তাহলে প্রথমে সেই রাষ্ট্রকে একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতাম"
Source : মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী
এ্যারিস্টটলের মত, ইবনে সিনা মনে করেন যে প্রত্যেক বচনের দু'টি পদ রয়েছে, প্রথমটি উদ্দেশ্যপদ এবং দ্বিতীয়টি বিধেয়পদ এবং এই উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে পাঁচ প্রকারের সম্বন্ধের উল্লেখ করেন (যেমন- জাতি (genus), প্ৰজাতি (species) বিভেদক লক্ষণ (differentia), উপলক্ষণ (property) ও অবান্তর লক্ষণ (accident)।
Source: মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী
অপরাধ কথাটি সাধারণত পাপ (Sin) কথা অপেক্ষা সঙ্কীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অপরাধ হলো সেই সমস্ত মন্দ কাজ যা সমাজের বিরুদ্ধে করা হয়, যে কাজসমূহ রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ এবং যার জন্য অপরাধীকে শাস্তি পেতে হয়। সব ধরনের পাপকে অপরাধ বলা যায় না; শুধু যে পাপকাজসমূহ রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ সেই কাজগুলি অপরাধ পদবাচ্য। দৃষ্টান্তস্বরূপ, অকৃতজ্ঞতা অপরাধ নয়- এটা পাপ। কোনো ব্যক্তির অকৃজ্ঞতার জন্য কোনো রাষ্ট্রই তাঁকে সাজা দিতে পারে না। “কেননা কোনো কাজের মাধ্যমে অকৃতজ্ঞতার যথার্থ স্বরূপ নির্ধারণ করা প্রায়ই অসম্ভব। অকৃতজ্ঞতা সমাজের কাছে নিন্দনীয়; কিন্তু চুরি করার জন্য রাষ্ট্র অপহরণকারীকে শাস্তি প্রদান করে, কেননা চৌর্যবৃত্তি রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি ব্যহত করে। অল্প কথায়, দেশের আইন অমান্য করাই অপরাধ, তাই অপরাধ আইনের চোখে দণ্ডনীয়।
source : নীতিবিদ্যা- আব্দুল বারী
সর্বধরেশ্বরবাদ PANENTHEISM
ঈশ্বর সম্পর্কে হেগেলের ব্যাখ্যা সর্বধরেশ্বরবাদ নামে পরিচিত। হেগেলের ঈশ্বরবাদ বা সর্বধরেশ্বরবাদ অতিবর্তী ঈশ্বরবাদ এবং সর্বেশ্বরবাদের দোষ-ত্রুটি দূর করে উভয় মতবাদের সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছে। এ মতবাদ অতিবর্তী ঈশ্বরবাদ এবং সর্বেশ্বরবাদের মধ্যবর্তী পথ (Middle ground or Middle Course or mean) অবলম্বন করে। অতিবর্তী ঈশ্বরবাদ অনুযায়ী ঈশ্বর জীব ও জগতের সম্পূর্ণ বাইরে অবস্থান করেন। অতিবর্তী ঈশ্বরবাদ এবং সর্বেশ্বরবাদ দুই বিরুদ্ধ মতবাদ। সর্বধরেশ্বরবাদ এ দুই বিরুদ্ধ মতবাদের সমন্বয় সাধন করে এভাবে যে, ঈশ্বর জীব ও জগতের ভেতরেও অবস্থিত এবং বাইরেও অবস্থিত। তিনি অতিবর্তী ও অন্তর্ব্যাপী উভয়ই। অসীমের সঙ্গে সসীমের, পূর্ণের সঙ্গে অপূর্ণের এক অনিবার্য ও আংশিক সম্পর্ক রয়েছে। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
source : দর্শনের ভূমিকা- নীরদচন্দ্র চক্রবর্তী
প্রকৃত আরোহ বা যথার্থ আরোহ : যে সকল আরোহে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ আরোহমূলক লম্ফ বা অনির্দেশ যাত্রা উপস্থিত সেগুলোকে তিনি ‘প্রকৃত আরোহ' বলেছেন।
প্রকৃত আরোহকে তিনি তিন ভাগে ভাগ করেছেন। যথা : (ক) বৈজ্ঞানিক আরোহ (Scientific Induction); (খ) অবৈজ্ঞানিক আরোহ (Unscientific Induction); (গ) সাদৃশ্যানুমান বা উপমানুমান (Analogy)।
source : উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা (১ম পত্র)
কান্টের বলেন, "Understanding maketh(makes) nature -বোধই প্রকৃতিকে গঠন করে"
কাণ্ট বলেন, বস্তু-সত্তাকে জানা যায় না। কেবল বস্তুর আভাসকে জানা যায়। বস্তু-সত্তা অজ্ঞেয় এবং অ-জ্ঞানগম্য। “বোধই প্রকৃতিকে গঠন করে” অর্থাৎ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা যে সংবেদন পাই তা সব সময়ে দেশ ও কালের মধ্য দিয়ে আসে আর বোধ তার উপর কাজ করে বুদ্ধির ধারণা অনুসারে। ফলে আমরা সংবেদ্য বস্তুর জ্ঞান বা প্রকৃতির জ্ঞান পাই। অতীন্দ্রিয় সত্তার উপর জ্ঞানের প্রয়োগ করা যায় না, কাজেই একে জানা যায় না।
Source: কান্টের দর্শন - সৈয়দ কমরুদ্দীন হোসাইন