পরীক্ষা আর্কাইভ

ICT Expert

পরীক্ষাICT Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ টপিক: দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার, কার্যক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার, কম্পিউটার প্রোগ্রাম। [ক্লাস ১১, ১২ ও ১৩]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ICT Expert

ICT Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি VR হেডসেট নয়?
  1. Raspberry Pi
  2. Oculus Quest
  3. HTC Vive
  4. Sony PlayStation VR
সঠিক উত্তর:
Raspberry Pi
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Raspberry Pi
ব্যাখ্যা
• Raspberry Pi একটি ক্ষুদ্র কম্পিউটার যা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রকল্প ও প্রোগ্রামিং শেখার কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি হার্ডওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ও কোডিং শিখতে পারে। অন্যদিকে, Oculus Quest, HTC Vive, এবং Sony PlayStation VR - এ তিনটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) হেডসেট, যা ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল পরিবেশে নিয়ে যেতে সক্ষম। এই হেডসেটগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা গেম খেলা, ভিডিও দেখা বা ভার্চুয়াল জগতে কাজ করতে পারেন। কিন্তু Raspberry Pi সরাসরি কোনো VR অভিজ্ঞতা দেয় না, তাই এটি VR হেডসেট নয়।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি:
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো বস্তু, ঘটনা বা পরিবেশের বাস্তবভিত্তিক বা ত্রিমাত্রিক চিত্রভিত্তিক রূপায়ণ।
- এটি বাস্তব নয়, তবে কৃত্রিমভাবে বাস্তব জগৎ অনুভূতি প্রদান করে।

• মূল ভিত্তি:
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।

• প্রধান উপাদানসমূহ:
- হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে (HMD): পরিধানযোগ্য ডিসপ্লে যা ত্রিমাত্রিক দৃশ্য উপস্থাপন করে।
- ডেটা গ্লোভ (Data Glove): ব্যবহারকারীর হাতের গতিবিধি শনাক্ত এবং ভার্চুয়াল পরিবেশে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বডি স্যুইট (Body Suit): স্পর্শ ও গতির অনুভূতি প্রদান করে।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব:
- শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, বিনোদন, গেমিং, গবেষণা ও উন্নয়ন, নতুন প্রযুক্তি ও ধারণার পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

সোর্স: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
.
"জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং"-এর জনক হিসেবে কে পরিচিত?
  1. Paul Berg
  2. Gregor Mendel
  3. James Watson
  4. Herbert Boyer
সঠিক উত্তর:
Paul Berg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Paul Berg
ব্যাখ্যা
• জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জনক হিসেবে Paul Berg পরিচিত। তিনি ১৯৭২ সালে প্রথম কৃত্রিমভাবে DNA-এর দুটি ভিন্ন অংশকে একত্রিত করে রিকম্বিন্যান্ট DNA (rDNA) তৈরি করেন। এ কাজের মাধ্যমে জীববিজ্ঞানের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা চিকিৎসা, কৃষি এবং শিল্প খাতে বিপ্লব ঘটায়। Paul Berg-এর এই গবেষণা ভবিষ্যতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে এবং জেনেটিক রোগ নিরাময়, জৈব প্রযুক্তি, ও জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ফসল উৎপাদনে ব্যাপক অবদান রাখে। তার এই যুগান্তকারী অবদানের জন্য তিনি ১৯৮০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

- সঠিক উত্তর: ক) Paul Berg.

• জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং:
- বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে কোন জীবের জিনোমকে নিজের সুবিধানুযায়ী সাজিয়ে নেয়াকেই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জেনেটিক মডিফিকেশন বলে।
- ১৯৭২ সালে পল বার্গ বানরের ভাইরাস SV40 ও lambda virus এর ডিএনএ-এর সংযোগ ঘটিয়ে বিশ্বের প্রথম রিকম্বিনেট ডিএনএ অণু তৈরি করেন।
- "আণবিক কাঁচি” নামে খ্যাত রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction enzyme) দিয়ে ডিএনএ কাটার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
- Jack Williamson তার সায়েন্স ফিকশন নোভেল Dragon's Island-এ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য,
- গ্রেগর মেন্ডেল ছিলেন জিনতত্ত্ব (Genetics)–এর জনক, কিন্তু জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর জনক নন।
- মার্শাল ম্যাকলুহান বিশ্বগ্রাম শব্দটির প্রবর্তক।
- টিম বার্নারস লি হলেন WWW এর জনক।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
.
C++ কে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে এমন অপশন কোনটি?
  1. অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা
  2. মার্কআপ ভাষা
  3. ফাংশনাল প্রোগ্রামিং ভাষা
  4. প্রোসিডিউরাল প্রোগ্রামিং ভাষা
সঠিক উত্তর:
অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর: ক) অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা।

C++ একটি অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং (OOP) ভাষা, যা C ভাষার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে "অবজেক্ট", যার মাধ্যমে ডেটা ও ফাংশন একত্রে সংগঠিত করা যায়। C++-এ ইনক্যাপসুলেশন, ইনহেরিটেন্স, পলিমরফিজম ইত্যাদি OOP ধারণাগুলো ব্যবহার করে সফটওয়্যারকে আরও মডুলার, রিইউজেবল এবং পরিচালনাযোগ্য করা যায়। যদিও এটি প্রোসিডিউরাল প্রোগ্রামিংও সমর্থন করে, তবে এর শক্তিশালী OOP ফিচারের জন্য একে মূলত অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড ভাষা হিসেবে ধরা হয়। তাই অপশনগুলোর মধ্যে ‘অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা’ হল সঠিক উত্তর।

• সি++:
- সি++ এক ধরনের অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা।
- ১৯৮০ সালে বিয়ার্নে স্ট্রোট্রুপ (Biarne Stroustrup) যুক্তরাষ্ট্রের এটিএন্ডটি বেল ল্যাবরোটরিতে (AT&T Bell Laboratary) এটি ডেভেলপ করেন।
- মূলত সিমলা ৬৭ এবং সি প্রোগ্রামিং ভাষার সুবিধাজনক বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয় সাধন করে সি++ তৈরি হয়।
- সি++ একটি মধ্যম শ্রেণীর প্রোগ্রামিং ভাষা যাতে উচ্চ স্তর এবং নিম্ন স্তর ভাষাগুলোর সুবিধা সংযুক্ত আছে।
- এটি সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা এবং সফ্টওয়্যার শিল্পে এটি বহুল ব্যবহৃত হয়। যেমন-সিস্টেম সফ্টওয়‍্যার, এপ্লিকেশন সফ্টওয়‍্যার, ডিভাইস ড্রাইভার, এম্বেডেড সফ্টওয়্যার, উচ্চ মানের সার্ভার ও ক্লায়েন্ট এপ্লিকেশন, বিনোদন সফ্টওয়্যার ইত্যাদি।
- সি++ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষাকে প্রভাবিত করেছে যার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাভা।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কম্পাইলারের প্রধান কাজ কী?
  1. সোর্স কোড সম্পাদনা করা
  2. প্রোগ্রাম ডিবাগ করা
  3. লাইন বাই লাইন কোড চালানো
  4. সোর্স কোডকে মেশিন কোডে অনুবাদ করা 
সঠিক উত্তর:
সোর্স কোডকে মেশিন কোডে অনুবাদ করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোর্স কোডকে মেশিন কোডে অনুবাদ করা 
ব্যাখ্যা
• কম্পাইলারের প্রধান কাজ হলো সোর্স কোডকে মেশিন কোডে অনুবাদ করা। প্রোগ্রামাররা যে উচ্চস্তরের ভাষায় (যেমন C, C++, Java) কোড লেখেন, কম্পাইলার সেই কোডকে কম্পিউটারের বোধগম্য নিচু স্তরের ভাষা বা মেশিন কোডে রূপান্তর করে। এটি একটি পূর্ণ প্রক্রিয়া যেখানে পুরো প্রোগ্রাম একসাথে অনুবাদ করা হয়, তারপর তা এক্সিকিউটযোগ্য ফাইলে রূপ নেয়। কম্পাইলার সোর্স কোড বিশ্লেষণ করে ত্রুটি শনাক্ত করতেও সাহায্য করে, তবে এটি ডিবাগার নয়। এটি লাইন বাই লাইন কোড চালায় না—সে কাজ ইন্টারপ্রেটারের। তাই, সঠিক উত্তর হলো: ঘ) সোর্স কোডকে মেশিন কোডে অনুবাদ করা।

• অনুবাদক প্রোগ্রাম:
- যে প্রোগ্রামের মাধ্যমে উৎস প্রোগ্রামকে বস্তু প্রোগ্রামে পরিণত করা হয়, তাকে অনুবাদক প্রোগ্রাম বলে।
- তিন ধরনের অনুবাদক প্রোগ্রাম রয়েছে। যথা:
১. কম্পাইলার
২. ইন্টারপ্রেটার
৩. অ্যাসেম্বলার

• কম্পাইলার (Compiler):
- কম্পাইলার হলো এমন একটি অনুবাদক যা সোর্স প্রোগ্রাম একসাথে সম্পূর্ণরূপে মেশিনের ভাষায় অনুবাদ করে একটি অবজেক্ট প্রোগ্রাম তৈরি করে এবং একটি এক্সিকিউশন ফাইল (.exe) তৈরি করে।
- এখানকার এক্সিকিউশন ফাইল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এক্সিকিউট হয়ে থাকে।
- ফলে প্রোগ্রামিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততর হয় এবং প্রোগ্রামারকে নিজ হাতে কোন অনুবাদকের কাজ করতে হয় না।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
এক ন্যানোমিটার সমান = কত?
  1. ১ মিটারের ১ মিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ
  2. ১ মিটারের ১ লাখ ভাগের ১ ভাগ
  3. ১ মিটারের ১ হাজার ভাগের ১ ভাগ
  4. ১ মিটারের  ১ বিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ
সঠিক উত্তর:
১ মিটারের  ১ বিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ মিটারের  ১ বিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ
ব্যাখ্যা
• ন্যানোমিটার একটি দৈর্ঘ্যের একক যা মিটার স্কেলের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একক। ১ ন্যানোমিটার (nm) সমান ১ মিটারের  ১ বিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ। এটি সাধারণত অণু, পরমাণু, ও কোষীয় কাঠামোর মাপ পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি ডিএনএ অণুর প্রস্থ প্রায় ২ ন্যানোমিটার, আর একটি মানব চুলের প্রস্থ প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ ন্যানোমিটার। তাই, সঠিক উত্তর হলো ঘ) ১ মিটারের  ১ বিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ। এত ক্ষুদ্র মাত্রা বোঝাতে ন্যানোমিটার গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক জীববিজ্ঞানে।

• ন্যানো টেকনোলজি:
- ন্যানো টেকনোলজি হলো পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতিক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য ধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞান।
- এক ন্যানোমিটার হচ্ছে এক মিটারের একশত কোটি ভাগের এক ভাগ।
- অর্থাৎ ১ ন্যানোমিটার (1nm) = 10-9 মিটার (m)।
1 nm = 1/1,000,000,000 m

• ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহার:
- রাসায়নিক শিল্প: সানস্ক্রিন এ ব্যবহৃত টিটানিয়াম ডাই-অক্সাইড তৈরির কাজে, বিভিন্ন জিনিসের প্রলেপ তৈরির কাজে, পানি বিশুদ্ধকরণের কাজে।
- খাদ্যশিল্প : খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেজিং এর সিলভার তৈরির কাজে, খাদ্যে স্বাদ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ন্যানোম্যাটেরিয়াল তৈরিতে।
- জ্বালানী তৈরিতে: হাইড্রোজেন আয়ন এর জন্য ফুয়েল সেল তৈরিতে।
- ব্যাটারী শিল্পে: সৌর কোষ তৈরিতে প্রচলিত সৌর কোষের চাইতে আরও অধিক সাশ্রয়ী মূল্যের ন্যানোটেক সৌর কোষ তৈরিতে ।
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে: ঔষধ তৈরির আণবিক গঠনে যাতে রোগাক্রান্ত সেলে সরাসরি ঔষধ প্রয়োগ করা যায়।

এছাড়াও খেলাধুলা ও ক্রিয়া সরঞ্জাম তৈরিতে, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার তৈরিতে, ভিডিও গেমস কনসোল এবং পার্সোনাল কম্পিউটারের মেমরি, গতি, দক্ষতা ইত্যাদি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন হার্ডওয়্যার তৈরিতে।

উৎস: (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি), মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
অ্যাডা লাভলেস কোন গণনা যন্ত্রের সাহায্যে কাজ করেছিলেন?
  1. UNIVAC
  2. Analytical Engine 
  3. Z3
  4. ENIAC
সঠিক উত্তর:
Analytical Engine 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Analytical Engine 
ব্যাখ্যা
• অ্যাডা লাভলেস ছিলেন ইতিহাসের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার, যিনি চার্লস ব্যাবেজের উদ্ভাবিত Analytical Engine নামক প্রস্তাবিত গণনা যন্ত্রের জন্য অ্যালগরিদম তৈরি করেছিলেন। যদিও এই যন্ত্রটি তার জীবদ্দশায় সম্পূর্ণ তৈরি হয়নি, তবুও অ্যাডা লাভলেস তার বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা ও গণনামূলক ধারণা দিয়ে এটি কীভাবে কাজ করতে পারে, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই যন্ত্রটি শুধু সংখ্যা নয়, বরং যেকোনো ধরনের প্রতীকগত ডেটা প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম। তার এই দূরদর্শিতাই তাকে আধুনিক প্রোগ্রামিংয়ের পথিকৃৎ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। সুতরাং সঠিক উত্তর: খ) Analytical Engine.

• প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার:
- ১৭৮৬ সালে জার্মানির মুলার 'ডিফারেন্স ইঞ্জিন' নামে পরিচিত একটি ক্যালকুলেটর বা গণনা যন্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেন।
- এর প্রায় দুই যুগ পর ১৮১২ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage) আরো উন্নত ডিফারেন্স ইঞ্জিন (Difference Engine) বা বিয়োগ ফলভিত্তিক গণনার যন্ত্র উদ্ভাবনের পরিকল্পনা করেন।
- চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়।
- ১৮৩৩ সালে ব্যাবেজ 'অ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিন' নামে অপর একটি যন্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা করেন এবং নকশা তৈরি করেন।
- ব্যাবেজ আধুনিক কম্পিউটারের মতোই তাঁর মেশিনে নিয়ন্ত্রণ অংশ, গাণিতিক অংশ, স্মৃতি অংশ, গ্রহণ মুখ, নির্গমন মুখ চিহ্নিত করেন।
- অ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিনের পরিকল্পনা ও উন্নয়নে ইংরেজ কবি লর্ড বায়রনের কন্যা অগাস্টা অ্যাডা বায়রনের (Augusta Ada Byron) অবদান অনস্বীকার্য।
- এ যন্ত্রে সাধারণ অ্যাসেম্বলি ভাষার মতোই প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হতো।
- অ্যাডা লাভলেস অ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিনের জন্য প্রোগ্রাম রচনা করেন।
- প্রকৃতপক্ষে অ্যাডা লাভলেস অগাস্টাই (Ada Lovelace) পৃথিবীর সর্বপ্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার।
- আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষা অ্যাডা তাঁর নামানুসারেই রাখা হয়।

উৎস:
১. মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
.
"White hat hacker" - বলতে কী বোঝায়?
  1. যে হ্যাকার নৈতিকভাবে নিজের হ্যাকিং দক্ষতা ব্যবহার করে
  2. যে হ্যাকার ডেটা চুরি করে
  3. একটি কল্পিত হ্যাকার চরিত্র
  4. যে হ্যাকার সাইবার অপরাধ চক্রের জন্য কাজ করে
সঠিক উত্তর:
যে হ্যাকার নৈতিকভাবে নিজের হ্যাকিং দক্ষতা ব্যবহার করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে হ্যাকার নৈতিকভাবে নিজের হ্যাকিং দক্ষতা ব্যবহার করে
ব্যাখ্যা
• "White hat hacker" বলতে এমন হ্যাকারকে বোঝায়, যে নৈতিকভাবে ও আইন মেনে তার হ্যাকিং দক্ষতা ব্যবহার করে। তারা সাধারণত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে দুর্বলতা খুঁজে বের করে তা মেরামতের উপায় জানান, যেন ম্যালিশিয়াস হ্যাকাররা (black hat hackers) ওই দুর্বলতাগুলো ব্যবহার করে আক্রমণ করতে না পারে। এরা নৈতিক হ্যাকিং করে, যার অনুমতি আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া হয়। তাই "White hat hacker" হল একজন ভালো উদ্দেশ্যে কাজ করা হ্যাকার। সঠিক উত্তর: ক) যে হ্যাকার নৈতিকভাবে নিজের হ্যাকিং দক্ষতা ব্যবহার করে।

• হ্যাকিং:
- হ্যাকিং বলতে বোঝানো হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বা ব্যবহারকারীর বিনা অনুমতিতে তার কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা। যারা এই কাজ করে থাকে তাদেরকে বলা হয় কম্পিউটার হ্যাকার বা হ্যাকার।

• হ্যাকারদের শ্রেণিবিভাগ:
১. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার,
২. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার,
৩. গ্রে হ্যাট হ্যাকার ইত্যাদি।

• হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার:
- হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা কোনো সিস্টেমের উন্নতির জন্য সেটির নিরাপত্তা ছিদ্রসমূহ খুঁজে বের কর।
- এদেরকে এথিক্যাল হ্যাকারও (ethical hacker) বলা হয়।
- এরা সিস্টেমের কোন ক্ষতি করে না বরং সিকিউরিটি বৃদ্ধি করে।

• ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার:
- এ ধরণের হ্যাকাররা অবৈধ কাজ করে এবং ইনফরমেশন চুরি করে সাইবার অপরাধ করে।
- এদের ক্রেকারও বলে।

• গ্রে হ্যাট হ্যাকার:
- এরা হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার ও ব্লাক হ্যাট হ্যাকারের মাঝামাঝি এক ধরনের হ্যাকার।
- এরা নেটওয়ার্কের দূর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানায়।
- দূর্বল দিকগুলো ঠিক করার মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সুরক্ষার জন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।

উৎস: (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি), প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
.
অফিস অটোমেশনে কোন সফটওয়্যারটি সাধারণত ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহার হয়?
  1. Microsoft Word 
  2. Adobe Photoshop
  3. AutoCAD
  4. VLC Media Player
সঠিক উত্তর:
Microsoft Word 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Microsoft Word 
ব্যাখ্যা
• অফিস অটোমেশনে সাধারণত ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের জন্য Microsoft Word ব্যবহার করা হয়। এটি একটি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ওয়ার্ড প্রসেসর যা মাইক্রোসফট কোম্পানি তৈরি করেছে। এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের ডকুমেন্ট যেমন চিঠি, প্রতিবেদন, জীবনবৃত্তান্ত ইত্যাদি সহজে তৈরি, সম্পাদনা ও ছাপানো যায়। এতে টেক্সট ফরম্যাটিং, বানান ও ব্যাকরণ যাচাই, ছবি সংযোজন, টেবিল তৈরি এবং বিভিন্ন টেমপ্লেট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, Adobe Photoshop চিত্র সম্পাদনার জন্য, AutoCAD নকশা তৈরির জন্য এবং VLC Media Player ভিডিও/অডিও চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের জন্য নয়। সুতরাং, সঠিক উত্তর ক) Microsoft Word.

• অফিস অটোমেশন:
- অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির একটি প্রায়োগিক টুল হলো অফিস অটোমেশন সিস্টেম।
- অফিস অটোমেশন হলো এমন এক ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম, যার মাধ্যমে কম্পিউটার, নেটওয়ার্কিংসহ তথ্য প্রযুক্তির আরও অন্যান্য ডিভাইস ও সিস্টেম দ্বারা অফিসের সকল পেপার ওয়ার্ক ও যোগাযোগের কাজ পরিচালনা করা যায়।
- এছাড়াও অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সমস্ত তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ফ্যাক্স, স্ক্যানার, প্রিন্টার, প্রজেক্টর, সিসিটিভি, আইপি, পিএবিএক্স, কর্মীদের হাজিরার জন্য বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস ইত্যাদি।
- বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক উৎকর্ষতার কারণে ঘরে বসেও অফিসের সকল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং অফিস পরিচালনার সব ধরনের নির্দেশ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে প্রদান করা সম্ভব।
- চব্বিশ ঘণ্টা চালু থাকে এ ধরনের অফিসকে ভার্চুয়াল অফিস এবং প্রদত্ত সার্ভিসকে 24/7 সার্ভিস বলা হয়ে থাকে।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
.
পাইথন কোন ধরণের প্রোগ্রামিং ভাষা?
  1. নিম্নস্তরের
  2. মেশিন ভাষা
  3. উচ্চস্তরের
  4. অ্যাসেম্বলি
সঠিক উত্তর:
উচ্চস্তরের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চস্তরের
ব্যাখ্যা
• পাইথন একটি উচ্চস্তরের (গ) প্রোগ্রামিং ভাষা। এই ভাষা মানুষের বোধগম্য শব্দ ও সিনট্যাক্স ব্যবহার করে, যা প্রোগ্রাম লেখাকে সহজ ও বোধগম্য করে তোলে। উচ্চস্তরের ভাষা হিসেবে পাইথন হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতা থেকে প্রোগ্রামারকে মুক্ত রাখে এবং লজিক বা সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। পাইথনের ব্যবহারিক দিক যেমন: ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে দেখা যায়। এটি ইন্টারপ্রেটেড ও অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড ভাষা, যার কোড সহজে পড়া ও লেখা যায়। এ কারণে পাইথন নতুন শিক্ষার্থীদের কাছেও খুব জনপ্রিয়।

• পাইথন (Python):
- পাইথন একটি অবজেক্ট অরিয়েন্টেড উচ্চ স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা।
- ১৯৯১ সালে গুইডো ভ্যান রোসাম এটি প্রথম প্রকাশ করেন।
- পাইথন নির্মাণ করার সময় প্রোগ্রামকে পঠনযোগ্যতার ওপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে।
- পাইথনের কোর সিনট্যাক্স ও সেমান্টিক্স খুবই সংক্ষিপ্ত, তবে ভাষাটির স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরি অনেক সমৃদ্ধ।
- পাইথন একটি বহু-প্যারাডাইম এবং পুরোপুরি চলমান প্রোগ্রামিং ভাষা যার স্বনিয়ন্ত্রিত মেমরি ব্যবস্থাপনা রয়েছে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
কোন উপাদানটি মূলত রোবটকে চলাচল করতে সাহায্য করে?
  1. সেন্সর
  2. প্রসেসর
  3. ব্যাটারি
  4. অ্যাকচুয়েটর
সঠিক উত্তর:
অ্যাকচুয়েটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাকচুয়েটর
ব্যাখ্যা
• রোবটকে মূলত চলাচল করতে সাহায্য করে ঘ) অ্যাকচুয়েটর। অ্যাকচুয়েটর হল এমন একটি উপাদান, যা রোবটের নির্দেশ অনুযায়ী যান্ত্রিক শক্তি তৈরি করে চলাচল ঘটায়। এটি বৈদ্যুতিক, হাইড্রোলিক বা নিউমেটিক শক্তিকে গতিশীল শক্তিতে রূপান্তর করে রোবটের হাত, চাকা বা পা নড়াচড়া করায়। প্রসেসর কমান্ড দেয়, সেন্সর পরিবেশের তথ্য সংগ্রহ করে, ব্যাটারি শক্তি জোগায়, কিন্তু অ্যাকচুয়েটর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি রোবটের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়ায়। তাই রোবটকে চলাফেরায় সক্ষম করে তোলার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে অ্যাকচুয়েটর।

• রোবট:
- কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যে মেশিন মানুষের মতো কাজ করে তাকে বলা হয় রোবট।
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গারকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- রোবটের মুভমেন্টের জন্য রোবোটিক্সে অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করা হয়।
- জাপানের মুরাতা কোম্পানির রোবট 'মুরাতা বয়'।
- স্যামসাং কোম্পানির রোবট 'রোবোরো'।
- হংকং ভিত্তিক হ্যানসন রোবটিক্স কোম্পানির রোবট 'সোফিয়া'।
- সনি কর্পোরেশন কোম্পানির রোবট 'আইবো'।
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল।
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট।

• বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন-
- শিল্পের বিপজ্জনক ও কঠিন কাজ করা।
- বৃহৎ মেশিনের কষ্টদায়ক যন্ত্রপাতির সংযোজন।
- খনি হতে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ উত্তোলন।
- মহাকাশ গবেষণায় রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
- মহাশূন্যের ছবি সংগ্রহ।
- ক্ষতিকর বিস্ফোরক সনাক্তকরণে।
- গৃহস্থালীর কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
- গভীর অরণ্য কিংবা বহুদূরত্বে শত্রুর উপস্থিতির প্রমাণে।
- শিল্প কারখানায় দ্রুত উৎপাদন কার্য হাসিলে রোবটের ব্যবহার হচ্ছে; ইত্যাদি।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
একটি স্মার্ট থার্মোস্ট্যাটের সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?
  1. সঙ্গীত চালানো
  2. রান্নার সময় কমানো
  3. তাপমাত্রা নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা 
  4. টিভির চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করা
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা 
ব্যাখ্যা
• একটি স্মার্ট থার্মোস্ট্যাটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি তাপমাত্রা নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা। স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট ব্যবহারকারীর জীবনকে আরও সহজ এবং আরামদায়ক করে তোলে, কারণ এটি ঘরের তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করে। যখন ঘর খালি থাকে বা মানুষের উপস্থিতি কম থাকে, তখন এটি তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না। এইভাবে, এটি বিদ্যুৎ বিল কমায় এবং পরিবেশের প্রতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্য অপশনগুলো যেমন সঙ্গীত চালানো, রান্নার সময় কমানো, কিংবা টিভির চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করা স্মার্ট থার্মোস্ট্যাটের কাজ নয়। তাই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় সবচেয়ে বড় সুবিধা।

• স্মার্ট হোম প্রযুক্তি:
- স্মার্ট হোম হলো এমন একটি বাসস্থান, যেখানে রিমোট কন্ট্রোলিং বা প্রোগ্রামিং ডিভাইসের সাহায্যে বাড়ির হিটিং সিস্টেম, কুলিং সিস্টেম, লাইটিং সিস্টেম, সিকিউরিটি কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- স্মার্ট হোমের পদ্ধতিকে হোম অটোমেশন সিস্টেম (Home Automation System) বলা হয়।
- একটি স্মার্ট হোমে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- টেলিভিশন, এসি, লাইটিং, ফ্যান, সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি পরিচালনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল বা রিমোট কন্ট্রোলিং ডিভাইস ব্যবহার করে সেগুলোকে কোনো কেন্দ্রীয় অবস্থানে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পোন্নত দেশ যেমন-চীন, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া ইত্যাদি দেশে গ্লোবাল রেসিডেন্স বা বৈশ্বিক বাসস্থান তৈরি করা হচ্ছে।
- বাসস্থানের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আইপি ক্যামেরা।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
১২.
"jony.doe@example.com" এই ইমেইল ঠিকানার ইউজার আইডি কোনটি?
  1. jony.doe 
  2. example.com
  3. @example.com
  4. .com
সঠিক উত্তর:
jony.doe 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
jony.doe 
ব্যাখ্যা
• "jony.doe@example.com" এই ইমেইল ঠিকানায় ইউজার আইডি হলো "jony.doe"। ইমেইল ঠিকানাটি দুই অংশে বিভক্ত থাকে, যেখানে @ চিহ্নের আগে অংশটি ইউজার আইডি এবং @ চিহ্নের পরে অংশটি ডোমেইন নাম। এখানে "jony.doe" হচ্ছে ব্যক্তির বা ইউজারের নাম বা আইডি, যেটি ব্যবহার করে ইমেইল পাঠানো হয়। "example.com" হলো সার্ভারের নাম বা ডোমেইন, যেখান থেকে ইমেইল পাঠানো বা গ্রহণ করা হয়। তাই, প্রশ্নে দেয়া অপশন থেকে সঠিক উত্তর হলো (ক) jony.doe। অন্যান্য অপশনগুলো ডোমেইন বা ডোমেইনের অংশ, যা ইউজার আইডি নয়।

• ইমেইল:
- ১৯৭১ সালে রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিসন ARPANET-এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পত্রালাপ চালু করেন, যা ছিল প্রথম ইমেইল সিস্টেম।
- ইলেকট্রনিক মেইল (ই-মেইল) হলো এক ধরনের ডিজিটাল বার্তা বিনিময়ের পদ্ধতি, যেখানে একজন প্রেরক এক বা একাধিক প্রাপকের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে বার্তা পাঠাতে পারেন।
- ইমেইল ঠিকানায় @ চিহ্ন থাকা আবশ্যক।
- একটি ইমেইল ঠিকানা মূলত ইউজার আইডি এবং ডোমেইন নেম দ্বারা গঠিত।
- উদাহরণ: abc@def.com। এখানে @ চিহ্নের পূর্বের অংশটি ইউজার আইডি ও @ চিহ্নের পরের অংশটি ডোমেইন নেম নির্দেশ করে।
- ইমেইল আদান-প্রদানে POP, IMAP এবং SMTP প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।

• ইমেইলে ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ:
- CC (Carbon Copy): একই ইমেইল একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে অন্য প্রাপকেরা দেখতে পান কে কে বার্তাটি পেয়েছেন।
- BCC (Blind Carbon Copy): একই ইমেইল একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠানো হলেও, এক প্রাপক অন্যদের ইমেইল ঠিকানা দেখতে পান না।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩.
কোনটি B2C ই-কমার্স মডেলের উদাহরণ?
  1. আলিবাবা ওয়ালমার্টের কাছে বিক্রি করা
  2. একটি নির্মাতা কারখানায় পার্টস বিক্রি করা
  3. একজন গ্রাহক অ্যামাজন থেকে পোশাক কেনা
  4. সরকার অতিরিক্ত মাল নিলামে দেওয়া
সঠিক উত্তর:
একজন গ্রাহক অ্যামাজন থেকে পোশাক কেনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একজন গ্রাহক অ্যামাজন থেকে পোশাক কেনা
ব্যাখ্যা
• B2C (ব্যবসা থেকে গ্রাহক) ই-কমার্স মডেলে ব্যবসা সরাসরি শেষ গ্রাহকের কাছে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে। এই মডেলের একটি উদাহরণ হলো একজন গ্রাহক অ্যামাজন থেকে পোশাক কেনা, যেখানে অ্যামাজন একটি ব্যবসা এবং গ্রাহক সাধারণ ব্যবহারকারী। অন্যদিকে, আলিবাবা ওয়ালমার্টের কাছে বিক্রি করা হলো B2B (ব্যবসা থেকে ব্যবসা) মডেল, কারণ এখানে ব্যবসাগুলো একে অপরের কাছে পণ্য বিক্রি করছে। নির্মাতা কারখানায় পার্টস বিক্রিও B2B মডেলের অন্তর্ভুক্ত। সরকার অতিরিক্ত মাল নিলামে দেওয়া একটি সরকারি কার্যক্রম এবং সরাসরি গ্রাহক ভিত্তিক নয়। তাই গ) অপশনটি B2C ই-কমার্স মডেলের সঠিক উদাহরণ।

• ই-কমার্স:
- ইলেকট্রনিক কমার্সকে সংক্ষেপে ই-কমার্স বলা হয়।
- ই-বাণিজ্য একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র যেখানে কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেম এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে।
- আধুনিক ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য কাজ পরিচালনা করে।
- ই-কমার্সের কল্যাণে ঘরে বসেই কম্পিউটারের সাহায্যে ক্রেতারা সারা বিশ্বের বাজারজাতকারীদের পণ্য ও সেবা সার্চ করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ডার দিতে পারে।
- অর্ডার প্রদান ও পণ্য ডেলিভারী গ্রহণে স্বল্পতম সময় ব্যয় হয়।
- ইলেকট্রনিক কমার্স হচ্ছে ডিজিটাল ডাটা প্রসেসিং।

- সেবা ও পণ্য লেনদেনের ভিত্তিতে ই-কমার্সকে সাধারণত চারটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১। ব্যবসা থেকে ব্যবসা (Business to Business B2B),
২। ব্যবসা থেকে ভোক্তা (Business to Consumer B2C),
৩। ভোক্তা থেকে ব্যবসা (Consumer to Business C2B) ও
৪। ভোক্তা থেকে ভোক্তা (Consumer to Consumer C2C)।

উৎস: ইলেকট্রনিক কমার্স, এমবিএ প্রোগ্রাম।
১৪.
Oracle সফটওয়্যার প্রধানত ব্যবহৃত হয়:
  1. ডাটাবেজে ডেটা ম্যানেজ করার জন্য 
  2. ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য
  3. সঙ্গীত প্লে করার জন্য
  4. ছবি এডিট করার জন্য
সঠিক উত্তর:
ডাটাবেজে ডেটা ম্যানেজ করার জন্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাটাবেজে ডেটা ম্যানেজ করার জন্য 
ব্যাখ্যা
• Oracle সফটওয়্যার প্রধানত ডাটাবেজে ডেটা ম্যানেজ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি শক্তিশালী রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDBMS) যা বড় পরিমাণে তথ্য সংরক্ষণ, অনুসন্ধান এবং পরিচালনার কাজ সহজ করে তোলে। Oracle সফটওয়্যার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, সরকারী সংস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ডেটা নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ডেটার স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং দ্রুত অ্যাক্সেস নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সঙ্গীত প্লে করা বা ছবি এডিট করার জন্য Oracle সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় না। তাই Oracle এর মূল কাজ হলো ডাটাবেজ পরিচালনা।

• ডাটাবেস:
- ডাটাবেজ হচ্ছে ডাটাসমৃদ্ধ এক বা একাধিক ফাইলের সমষ্টি।

• ডাটাবেজের বিভিন্ন উপাদানসমূহ হলো-
১. ডাটা (Data),
২. রেকর্ড (Record),
৩. ফিল্ড (Field) ও
৪. ডাটা টেবিল (Data Table)।

• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডেটাবেজ প্রোগ্রাম হলো:
- মাইক্রোসফট এক্সেস,
- ওরাকল,
- ফক্সপ্রো,
- ডিবেজ,
- ফক্সবেইজ,
- প্যারাডক্স,
- ফোর্থ ডাইমেনশন,
- MySQL, ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রযুক্তিতে বড় সমস্যা কী?
  1. কীবোর্ডের সাথে সামঞ্জস্যতা
  2. ইন্টারনেটের ধীর গতি
  3. রঙের ঘাটতি
  4. চলার সময় মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব 
সঠিক উত্তর:
চলার সময় মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলার সময় মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব 
ব্যাখ্যা
• ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চলার সময় মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব হওয়া। যখন ব্যবহারকারী VR হেডসেট পরিধান করে ভার্চুয়াল পরিবেশে চলাফেরা করে, তখন চোখ এবং শরীরের সিগন্যালের মধ্যে মিল না থাকায় ভার্চুয়াল মুভমেন্টের কারণে মাথা ঘোরা বা মাথা ভারি লাগার মতো অনুভূতি তৈরি হয়। এই কারণে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা অস্বস্তি বোধ করেন এবং দীর্ঘ সময় VR ব্যবহার করতে পারেন না। অন্যান্য সমস্যাগুলো যেমন কীবোর্ডের সামঞ্জস্যতা, ইন্টারনেট গতি বা রঙের ঘাটতি তুলনায় কম গুরুতর এবং সহজেই সমাধানযোগ্য। তাই VR প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই শারীরিক অসুবিধা।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি:

- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো বস্তু, ঘটনা বা পরিবেশের বাস্তবভিত্তিক বা ত্রিমাত্রিক চিত্রভিত্তিক রূপায়ণকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলা হয়।
- প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্যোগকারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা ব্যবহারকারীর কাছে সত্য ও বাস্তব মনে হয়।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রি-মাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও করা সম্ভব হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।