পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৩১ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর রফিকুল ইসলাম কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৫নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা। ১০ নং সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

.
অপারেশন সার্চলাইটের সময় ঢাকা শহরে কে নেতৃত্ব দেন?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল টিক্কা খান
  4. জেনারেল নিয়াজি
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
- ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।

অপারেশন সার্চলাইট:

- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- ঢাকা শহরের বাহিরে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিহত মাদার মারিও ভেরেনজি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. পর্তুগাল
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. অস্ট্রিয়া
  4. ইতালি
সঠিক উত্তর:
ইতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালি
ব্যাখ্যা
মাদার মারিও ভেরেনজি ছিলেন ইতালির নাগরিক। তিনি ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল যশোরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন, মুক্তিযুদ্ধে আহতদের সেবা দিতে গিয়ে।

মাদার মারিও ভেরেনজি:
- মাদার মারিও ভেরেনজি ইতালির নাগরিক ছিলেন।
- ফাদার ভেরেনজি যশোর ফাতিমা ক্যাথলিক হাসপাতালের চারজন ইতালীয় যাজকের একজন ছিলেন।
- সকলেই জাভেরিয়ান আদেশের সদস্য ছিলেন।
- বাংলাদেশের যশোর জেলায় স্থাপিত খ্রিস্টান চার্চের দায়িত্ব পালনকালে ৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
- তাকে যশোর ক্যাথলিক হাসপাতালের মাঠে সমাহিত করা হয়।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কোন সেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. ৭নং
  2. ৬নং
  3. ১০নং
  4. ১১নং
সঠিক উত্তর:
১০নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ছিলেন ১০নং সেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- তাঁর পদবী ছিল স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।
- নোয়াখালীতে তাঁর জন্মস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস না হওয়ার প্রধান কারণ কী ছিল?
  1. ভারতের আপত্তি
  2. সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
  3. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো
  4. চীনের অনুপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
ব্যাখ্যা
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দেওয়ায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হয়নি।
- এটি বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক বিজয় ছিল।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিনবারই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।
.
মুক্তিযুদ্ধে মেজর এম.এ জলিল কোন সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন?
  1. ৭নং সেক্টর
  2. ৬নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৯নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ৯নং সেক্টর: বরিশাল-পটুয়াখালী-খুলনার অংশ; কমান্ডার এম.এ জলিল, মঞ্জুর, জয়নাল আবেদীন।

মুক্তিযুদ্ধে ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
- এই সেক্টরে প্রায় বিশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করে।
- এই সেক্টরকে টাকি, হিঙ্গলগঞ্জ ও শমসেরনগর তিনটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে এই সেক্টরকে ৮ নং সেক্টরের সঙ্গে একীভূত করা হয় এবং এর দায়িত্ব অর্পিত হয় মেজর মঞ্জুরের উপর।

এছাড়া,
- ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
- ৬ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
- ৮ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম এ মঞ্জুর।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী যৌথ কমান্ড গঠন করে—
  1. ১ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর।

উল্লেখ্য, 
- বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ।
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আমাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে।
- বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয় ৷

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।
.
১৯৭১ সালে মুক্তিবাহিনীর "এস ফোর্স" এর দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. কর্নেল জিয়াউর রহমান
  2. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  3. কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
  4. উপরের কেউ নন
সঠিক উত্তর:
কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী:
- যে জনযুদ্ধ এনেছে বাংলাদেশের পতাকা, সেই জনযুদ্ধের দাবিদার এদেশের সাত কোটি বাঙালি।
- এই সশস্ত্র যুদ্ধ একটি নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
- পরিকল্পিত এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশ সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি যুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্ত করেন।

- এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম: অঞ্চল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্ত করে রাজশাহী অঞ্চলে মেজর নাজমুল হক,
- দিনাজপুর অঞ্চলে মেজর নওয়াজেস উদ্দিন এবং,
- খুলনা অঞ্চলে মেজর জলিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন।
- এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়।
- কে ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফ।
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণ দলিলে কার স্বাক্ষর ছিল?
  1. কর্নেল ওসমানী
  2. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  3. লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে নিয়াজী
  4. মেজর জেনারেল রাও ফরমান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি ও প্রথম আলো।
১০.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১৩টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ৬৪টি সাব-সেক্টর গঠন করা হয়।
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম–পার্বত্য চট্টগ্রাম; হেডকোয়ার্টার হরিনাতে; কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান ও মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর, নোয়াখালি; সদর মেলাঘর; কমান্ডার খালেদ মোশাররফ ও এ.টি.এম. হায়দার।
- ৩নং সেক্টর: সিলেট-শ্রীমঙ্গল এলাকা; কমান্ডার কে.এম. শফিউল্লাহ ও এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
- ৪নং সেক্টর: সিলেট সীমান্ত অঞ্চল; হেডকোয়ার্টার করিমগঞ্জ-মাসিমপুর; কমান্ডার সি.আর. দত্ত ও ক্যাপ্টেন এ রব।
- ৫নং সেক্টর: ডাউকি-দুর্গাপুর এলাকা; হেডকোয়ার্টার বাঁশতলা; কমান্ডার মীর শওকত আলী।
- ৬নং সেক্টর: রংপুর-ঠাকুরগাঁও অঞ্চল; কমান্ডার এম. খাদেমুল বাশার।
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী-বগুড়া এলাকা; কমান্ডার নাজমুল হক, এ. রব, কাজী নূরুজ্জামান।
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া-যশোর-খুলনা এলাকা; কমান্ডার আবু ওসমান ও এম.এ মঞ্জুর।
- ৯নং সেক্টর: বরিশাল-পটুয়াখালী-খুলনার অংশ; হেডকোয়ার্টার টাকি; কমান্ডার এম.এ জলিল, মঞ্জুর, জয়নাল আবেদীন।
- ১০ ও ১১নং সেক্টর: ১০ নং ছিল নৌ-কমান্ডো সেক্টর (নিয়মিত কমান্ডার ছিল না), ১১ নং ছিল ময়মনসিংহ এলাকা; কমান্ডার এম. আবু তাহের ও হামিদুল্লাহ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১১.
উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ নন কে?
  1. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. সিপাহী মোস্তাফা জব্বার
  3. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
  4. সিপাহী হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
সিপাহী মোস্তাফা জব্বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী মোস্তাফা জব্বার
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ নন - সিপাহী মোস্তাফা জব্বার। 

• বীরশ্রেষ্ঠ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নোবাহিনীর একজন করে।

বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী,
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী,
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী,
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী,
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী,
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর,.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাগো নিউজ।
১২.
নিচের কোন দুইজন বীরশ্রেষ্ঠ ই.পি.আর. সদস্য ছিলেন?
  1. সিপাহী মোস্তফা কামাল ও মতিউর রহমান
  2. মুন্সি আব্দুর রউফ ও নূর মোহাম্মদ শেখ
  3. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও হামিদুর রহমান
  4. রুহুল আমিন ও মোস্তফা কামাল
সঠিক উত্তর:
মুন্সি আব্দুর রউফ ও নূর মোহাম্মদ শেখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুন্সি আব্দুর রউফ ও নূর মোহাম্মদ শেখ
ব্যাখ্যা
- মুন্সি আব্দুর রউফ ও নূর মোহাম্মদ শেখ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের (EPR) সদস্য ছিলেন।

- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নো বাহিনীর একজন করে।

বীরশ্রেষ্ঠ:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ই. পি. আর.।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৩.
মুজিবনগর সরকারের সচিবালয় কোথায় ছিলো?
  1. কলকাতার ৫নং ফ্রি স্কুল স্ট্রিট
  2. কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড
  3. কলকাতার ১১নং বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট
  4. কলকাতার ১০নং চৌরঙ্গী রোড
সঠিক উত্তর:
কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ করেন।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- এর আগে ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে চার সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় - মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং
- সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো - কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
১৪.
অপারেশন জ্যাকপট কী ধরনের অভিযান ছিল?
  1. স্থল
  2. বিমান
  3. নৌ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
নৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌ
ব্যাখ্যা
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি নৌ-কমান্ডো পরিচালিত নৌ-অভিযান।
- এতে জলপথে পাকিস্তানি বাহিনীকে আঘাত করা হয়।

অপারেশন জ্যাকপট:
- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল হরিনাতে?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ৬৪টি সাব-সেক্টর গঠন করা হয়।
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম–পার্বত্য চট্টগ্রাম; হেডকোয়ার্টার হরিনাতে; কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান ও মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর, নোয়াখালি; সদর মেলাঘর; কমান্ডার খালেদ মোশাররফ ও এ.টি.এম. হায়দার।
- ৩নং সেক্টর: সিলেট-শ্রীমঙ্গল এলাকা; কমান্ডার কে.এম. শফিউল্লাহ ও এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
- ৪নং সেক্টর: সিলেট সীমান্ত অঞ্চল; হেডকোয়ার্টার করিমগঞ্জ-মাসিমপুর; কমান্ডার সি.আর. দত্ত ও ক্যাপ্টেন এ রব।
- ৫নং সেক্টর: ডাউকি-দুর্গাপুর এলাকা; হেডকোয়ার্টার বাঁশতলা; কমান্ডার মীর শওকত আলী।
- ৬নং সেক্টর: রংপুর-ঠাকুরগাঁও অঞ্চল; কমান্ডার এম. খাদেমুল বাশার।
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী-বগুড়া এলাকা; কমান্ডার নাজমুল হক, এ. রব, কাজী নূরুজ্জামান।
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া-যশোর-খুলনা এলাকা; কমান্ডার আবু ওসমান ও এম.এ মঞ্জুর।
- ৯নং সেক্টর: বরিশাল-পটুয়াখালী-খুলনার অংশ; হেডকোয়ার্টার টাকি; কমান্ডার এম.এ জলিল, মঞ্জুর, জয়নাল আবেদীন।
- ১০ ও ১১নং সেক্টর: ১০ নং ছিল নৌ-কমান্ডো সেক্টর (নিয়মিত কমান্ডার ছিল না), ১১ নং ছিল ময়মনসিংহ এলাকা; কমান্ডার এম. আবু তাহের ও হামিদুল্লাহ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৬.
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৫৭৬ জন
  2. ৪৭৬ জন
  3. ৬৭৬ জন
  4. ৭৭৬ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।