পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১২ টপিক: রিভিশন [পরীক্ষা ৭ – ১১ পর্যন্ত সকল পরীক্ষার টপিক সমূহ] [লাইভ ক্লাস - ১১ থেকে ২২ পর্যন্ত]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
'আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি' এটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. রূপক কর্মধারয় সমাস
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোনটি সংস্কৃত ধাতু?
  1. কর্
  2. দেখ্
  3. আঁক্
  4. অঙ্ক্‌
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন:
অঙ্ক্‌ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
হস্ + য হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

অন্যদিকে,
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বাংলা ধাতু বা খাঁটি বাংলা ধাতু বলে।
যেমন:
আঁক্ + আ = আঁকা: কী সব আঁকাআঁকি করছ?
দেখ্ + আ = দেখা: জাদুঘর আমার কয়েকবার দেখা।
কর্ + অ = কর: তুমি কী কর?
হাস্ + ই = হাসি: তোমার হাসিটি খুব সুন্দর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
'অনুক্ষণ' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. নঞ্ তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয়
  4. নঞ্ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'সম্পূর্ণ' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. তৎসম
  2. আরবি
  3. বাংলা
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'সম্পূর্ণ' শব্দটি 'তৎসম' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'সম্' উপসর্গ দিয়ে শব্দগঠন - সমাদর, সমাগত, সম্মুখ, সংবাদ, সংযম, সম্মান, সমধিক।
 
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
'শ্রীশ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শ্রীঃ + ঈশ
  2. শ্রী + ইশ
  3. শ্রী + ঈশ
  4. শ্রী + শ
ব্যাখ্যা
'শ্রীশ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - শ্রী + ঈশ
- এটি একটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

ই, ঈ ধ্বনির সন্ধি:

- অতি + ইত = অতীত, 
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা, 
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
'টানাটানি' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বাংলা ধাতু
  2. বিদেশি ধাতু
  3. সংস্কৃত ধাতু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিদেশাগত ধাতু:
- বিদেশি ভাষা থেকে আগত যেসব ধাতু বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাকে বিদেশাগত ধাতু বা বিদেশি ধাতু বলে।
যেমন:
খাট্ + বে = খাটবে যত বেশি খাটবে ততই সুফল পাবে।
বিগডু + আনো: তোমার বিগড়ানো ছেলেকে ভালো করার সাধ্য আমার নেই।
টান্ + আ: আমাকে নিয়ে টানাটানি করো না, আমি যাব না।
জম্ + আট = জমাট অন্ধকার বেশ জমাট বেঁধেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. অব
  2. গর
  3. অভি
  4. দুর
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:

আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

ফারসি উপসর্গ:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উর্দু উপসর্গ: হর।

ইংরেজি উপসর্গ:
- হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
তৎসম উপসর্গ - দুর, অভি, দুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোন শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. কাঁদন
  2. নাচন
  3. ধর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অ:

- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ,
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল,
- √পড়ু + অ = পড়।

অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
কোনটি দ্বিগু সমাস?
  1. দশগজি
  2. চৌচালা
  3. দুআনি
  4. দশানন
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন, 
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ,
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি,
- দু আনার সমাহার = দুআনি ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
- দশ আনন আছে যার = দশানন, চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা এবং দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি - সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
'দুশ্চরিত্র' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুঃ + চরিত্র
  2. দুশ + চরিত্র
  3. দুর + চরিত্র
  4. দু + চরিত্র
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• বিসর্গের পরে চ/ছ থাকলে বিসর্গের স্থলে শ; ট/ঠ থাকলে য এবং ত/থ থাকলে স হয়।

যেমন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়, 
- দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র, 
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার, 
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়, 
- দুঃ + তর = দুস্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১১.
'বনেবাদাড়ে' শব্দটি কোন দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  3. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
  4. একশেষ দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

যেমন:
- বনে ও বাদাড়ে = বনেবাদাড়ে
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে ,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
'ঈশ্বরদত্ত' কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া
  2. তৃতীয়া
  3. চতুর্থী
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত, 
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'ত + হ = দ্ধ' এই নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পদ্ধতি
  2. তদ্ধিত
  3. চলচ্ছক্তি
  4. উড্ডীন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি:

যেমন:
→ ত + ড = ড, উৎ + ডীন = উড্ডীন, 
→ ত + ল = ল্ল, উৎ + লিখিত = উল্লিখিত, 
→ ত + শ = চ্ছ, চলৎ + শক্তি = চলচ্ছক্তি, 
ত + হ = দ্ধ, তৎ + হিত = তদ্ধিত
→ দ + হ = দ্ধ, পদ্‌ + হতি = পদ্ধতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।