পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫৭: আইন বিষয়াবলী - ২২ Subject: The Constitutional Law Topic: Articles 48-93 (Part IV: The Executive, Part V: The Legislature).
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা কোন ব্যক্তির উপর ন্যস্ত?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
  4. সেনাবাহিনী প্রধান
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬১ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রপতি হলেন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী (সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী) এর সর্বোচ্চ কমান্ডার। তবে বাস্তবে প্রতিরক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী সর্বাধিনায়কতার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির উপর অর্পিত।

অর্থাৎ সংবিধানের এই বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাংবিধানিক প্রধান হলেও প্রতিদিনের কার্যক্রম এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ গ্রহণ করেন। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কার্যাবলীর বাস্তবায়ন মূলত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনীর প্রধানরা করেন।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ৬১ সর্বাধিনায়কতা:
- বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হইবে এবং আইনের দ্বারা তাহার প্রয়োগ নিয়ন্ত্রিত হইবে।
.
শপথ গ্রহণের পূর্বে সংসদে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করলে একজন সদস্য কত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন?
  1. ৫০০ টাকা প্রতিদিন
  2. ১,০০০ টাকা প্রতিদিন
  3. ৫,০০০ টাকা প্রতিদিন
  4. ১০,০০০ টাকা প্রতিদিন
সঠিক উত্তর:
১,০০০ টাকা প্রতিদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১,০০০ টাকা প্রতিদিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি যদি শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করার পূর্বে কিংবা তিনি সংসদ-সদস্য হওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য হয়েছেন জেনেও সংসদ-সদস্য হিসেবে আসনগ্রহণ বা ভোটদান করেন, তাহলে তিনি প্রতিদিনের জন্য ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। এই অর্থদণ্ড প্রজাতন্ত্রের নিকট দেনা হিসাবে উসুলযোগ্য হবে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) ১,০০০ টাকা প্রতিদিন।
.
প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙে দিতে পারেন কীভাবে?
  1. সরাসরি আদেশ জারি করে
  2. সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনে
  3. সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে
  4. রাষ্ট্রপতিকে লিখিত পরামর্শ দিয়ে
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতিকে লিখিত পরামর্শ দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতিকে লিখিত পরামর্শ দিয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৭(২) অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙে দিতে পারেন। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে পরামর্শ দিতে হবে।
- প্রধানমন্ত্রী যদি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারান, তাহলে তিনি দুটি পদক্ষেপ নিতে পারেন:
১) পদত্যাগ করতে পারেন, অথবা
২) সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে লিখিত পরামর্শ দিতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন, তবে শর্ত হলো যে রাষ্ট্রপতির এ বিষয়ে সন্তুষ্ট হতে হবে যে সংসদের অন্য কোনো সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থা অর্জন করতে পারেননি।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৭ প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ:
(১) প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি- 
(ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন; অথবা 
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন। 
(২) সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারাইলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিবেন কিংবা সংসদ ভাংগিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাংগিয়া দিবেন। 
(৩) প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।
.
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কত দিনের মধ্যে শপথগ্রহণ করতে হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সংসদ অধিবেশনের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে তাকে শপথ নিতে হবে।
→ যদি কোনো সংসদ সদস্য ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নেন, তবে তার আসন শূন্য হয়ে যাবে।
→ তবে স্পীকার যথার্থ কারণে এই সময়সীমা বাড়াতে পারেন।

সংবিধানের ভাষ্য:
“কোন সংসদ-সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন।”
.
সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সরকারী হিসাব কমিটি
  2. নির্বাচন কমিটি
  3. বিশেষ-অধিকার কমিটি
  4. সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিটি
ব্যাখ্যা
⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৬(১) অনুযায়ী, সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহের মধ্যে নিম্নলিখিত কমিটিগুলো অন্তর্ভুক্ত:
১. সরকারী হিসাব কমিটি (ক),
২. বিশেষ-অধিকার কমিটি (গ), এবং
৩. সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি (ঘ)।

এই অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিটি (খ) এর উল্লেখ নেই। তাই, নির্বাচন কমিটি সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো: খ) নির্বাচন কমিটি।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ- সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ
(১) সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে সদস্য লইয়া সংসদ নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটিসমূহ নিয়োগ করিবেন:
(ক) সরকারী হিসাব কমিটি;
(খ) বিশেষ-অধিকার কমিটি; এবং
(গ) সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি।
(২) সংসদ এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় উল্লিখিত কমিটিসমূহের অতিরিক্ত অন্যান্য স্থায়ী কমিটি নিয়োগ করিবেন এবং অনুরূপভাবে নিযুক্ত কোন কমিটি এই সংবিধান ও অন্য কোন আইন-সাপেক্ষে
(ক) খসড়া বিল ও অন্যান্য আইনগত প্রস্তাব পরীক্ষা করিতে পারিবেন;
(খ) আইনের বলবৎকরণ পর্যালোচনা এবং অনুরূপ বলবৎকরণের জন্য ব্যবস্থাদি গ্রহণের প্রস্তাব করিতে পারিবেন;
(গ) জনগুরুত্বসম্পন্ন বলিয়া সংসদ কোন বিষয় সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করিলে সেই বিষয়ে কোন মন্ত্রণালয়ের কার্য বা প্রশাসন সম্বন্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত করিতে পারিবেন এবং কোন মন্ত্রণালয়ের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি সংগ্রহের এবং প্রশ্নাদির মৌখিক বা লিখিত উত্তরলাভের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন;
(ঘ) সংসদ কর্তৃক অর্পিত যে কোন দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন।
(৩) সংসদ আইনের দ্বারা এই অনুচ্ছেদের অধীন নিযুক্ত কমিটিসমূহকে
(ক) সাক্ষীদের হাজিরা বলবৎ করিবার এবং শপথ, ঘোষণা বা অন্য কোন উপায়ের অধীন করিয়া তাঁহাদের সাক্ষ্যগ্রহণের,
(খ) দলিলপত্র দাখিল করিতে বাধ্য করিবার
ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবেন।
.
সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে উত্থাপিত প্রস্তাব কী আকারে উত্থাপিত হয়?
  1. বিল
  2. প্রস্তাবনা
  3. প্রজ্ঞাপন
  4. অধ্যাদেশ
সঠিক উত্তর:
বিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিল
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৮০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে উত্থাপিত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়। বিল হলো একটি আইন প্রণয়নের প্রস্তাব, যা সংসদে আলোচনা ও পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলে আইনে পরিণত হয়।
অন্যদিকে, 
অন্য অপশনগুলো যেমন প্রস্তাবনা, প্রজ্ঞাপন বা অধ্যাদেশ আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার অংশ নয়।
প্রস্তাবনা: সাধারণত কোনো বিষয়ে মতামত বা সিদ্ধান্ত প্রকাশের জন্য ব্যবহার হয়।
প্রজ্ঞাপন: সরকারি ঘোষণা বা বিজ্ঞপ্তি।
অধ্যাদেশ: জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারিকৃত আদেশ, যা সংসদের অনুমোদন ছাড়াই প্রণয়ন করা যায়।
সুতরাং, সংসদে আইন প্রণয়নের জন্য প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদ- আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি:
(১) আইনপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হইবে।
(২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিতে হইবে।
(৩) রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করিবার পর পনর দিনের মধ্যে তিনি তাহাতে সম্মতিদান করিবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তাহার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্দেশিত কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ জ্ঞাপন করিয়া একটি বার্তাসহ তিনি বিলটি সংসদে ফেরত দিতে পারিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি অনুরূপভাবে সংসদে ফেরত পাঠান, তাহা হইলে সংসদ রাষ্টপতির বার্তাসহ তাহা পুনর্বিবেচনা করিবেন; এবং সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ব্যতিরেকে 52[***] সংসদ পুনরায় বিলটি গ্রহণ করিলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে এবং অনুরূপ উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিলে বা তিনি সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইলে তাহা আইনে পরিণত হইবে এবং সংসদের আইন বলিয়া অভিহিত হইবে।
.
বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে?
  1. রাজস্ব খাতের ব্যয়
  2. সংযুক্ত তহবিলের ব্যয়
  3. সরকারের অনুমিত আয় এবং ব্যয়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ৮৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
→ রাজস্ব খাতের ব্যয়: সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে অংশ রাজস্ব থেকে আসে এবং তার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়।
→ সংযুক্ত তহবিলের ব্যয়: সংযুক্ত তহবিলের ব্যয়, যা সরকারের বিশেষ তহবিল এবং এর ব্যয় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব করা হবে।
→ সরকারের অনুমিত আয় এবং ব্যয়: সরকারের পরবর্তী অর্থ-বছরের জন্য অনুমিত আয় ও ব্যয়ের হিসাব এবং তার ভিত্তিতে পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন করা হয়।

সুতরাং, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়, সংযুক্ত তহবিলের ব্যয়, এবং রাজস্ব খাতের ব্যয়—এই তিনটি বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) উপরের সবগুলো।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৭ অনুচ্ছেদ- বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি:
(১) প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সম্পর্কে উক্ত বৎসরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি (এই ভাগে "বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি" নামে অভিহিত) সংসদে উপস্থাপিত হইবে।
(২) বার্ষিক আর্থিক বিবৃতিতে পৃথক পৃথকভাবে
(ক) এই সংবিধানের দ্বারা বা অধীন সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়রূপে বর্ণিত ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, এবং
(খ) সংযুক্ত তহবিল হইতে ব্যয় করা হইবে, এইরূপ প্রস্তাবিত অন্যান্য ব্যয়নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ
প্রদর্শিত হইবে এবং অন্যান্য ব্যয় হইতে রাজস্বখাতের ব্যয় পৃথক করিয়া প্রদর্শিত হইবে।
.
বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কখন অধ্যাদেশ প্রণয়ন করতে পারেন?
  1. প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে
  2. সংসদের অধিবেশন চলাকালীন
  3. সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে
  4. সংসদ ভাঙ্গা অবস্থায় বা অধিবেশন ব্যতীত অন্য সময়ে
সঠিক উত্তর:
সংসদ ভাঙ্গা অবস্থায় বা অধিবেশন ব্যতীত অন্য সময়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদ ভাঙ্গা অবস্থায় বা অধিবেশন ব্যতীত অন্য সময়ে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করতে পারেন সংসদ ভাঙ্গা অবস্থায় বা সংসদের অধিবেশন চলাকালীন ব্যতীত অন্য সময়ে। এই ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য নিম্নলিখিত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে:
১. আশু ব্যবস্থাগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা:
- রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকতে হবে। অর্থাৎ, এমন একটি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে হবে যেখানে দ্রুত আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হয়।
২. সংসদের অধিবেশন না চলা:
- এই ক্ষমতা শুধুমাত্র তখনই প্রয়োগ করা যাবে যখন সংসদের অধিবেশন চলছে না বা সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সংসদের অধিবেশন চলাকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করতে পারেন না।
৩. অধ্যাদেশের বৈধতা:
- অধ্যাদেশ প্রণয়নের পর তা সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে। সংসদ যদি অধ্যাদেশটি অননুমোদন করে, তাহলে তা বাতিল হয়ে যাবে।
৪. সংবিধানের সীমাবদ্ধতা:
- রাষ্ট্রপতি এমন কোনো অধ্যাদেশ প্রণয়ন করতে পারবেন না, যা সংবিধানের বিধান লঙ্ঘন করে বা সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতার বাইরে যায়।

সুতরাং, রাষ্ট্রপতি সংসদ ভাঙ্গা অবস্থায় বা সংসদের অধিবেশন ব্যতীত অন্য সময়ে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করতে পারেন। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) সংসদ ভাঙ্গা অবস্থায় বা অধিবেশন ব্যতীত অন্য সময়ে।


⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ- অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা:
(১)সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন এবং জারী হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না,
(ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন-দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না;
(খ) যাহাতে এই সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হইয়া যায়; অথবা
(গ) যাহার দ্বারা পূর্বে প্রণীত কোন অধ্যাদেশের যে কোন বিধানকে অব্যাহতভাবে বলবৎ করা যায়।
(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হইবে এবং ইতঃপূর্বে বাতিল না হইয়া থাকিলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে তাহা অননুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হইলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাইবে।
(৩) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থার কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট ব্যবস্থা-গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি এমন অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন, যাহাতে সংবিধান-দ্বারা সংযুক্ত তহবিলের উপর কোন ব্যয় দায়যুক্ত হউক বা না হউক, উক্ত তহবিল হইতে সেইরূপ ব্যয়নির্বাহের কর্তৃত্ব প্রদান করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার সময় হইতে তাহা সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।
(৪) এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন জারীকৃত প্রত্যেক অধ্যাদেশ যথাশীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং সংসদ পুনর্গঠিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় উপযোগীকরণসহ পালিত হইবে।
.
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির কী বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক?
  1. জনগণের ভোট
  2. মন্ত্রিসভার সম্মতি
  3. সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশ
  4. সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা
সঠিক উত্তর:
সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন।
- অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল ভিত্তি হলো সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন।

সুতরাং রাষ্ট্রপতির প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা, যা প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য সংবিধানে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ- মন্ত্রিগণ:
(১) একজন প্রধানমন্ত্রী থাকিবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী থাকিবেন। 
(২) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন: 
তবে শর্ত থাকে যে, তাঁহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।
(৩) যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন। 
(৪) সংসদ ভাংগিয়া যাওয়া এবং সংসদ-সদস্যদের অব্যবহিত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তীকালে এই অনুচ্ছেদের (২) বা (৩) দফার অধীন নিয়োগ দানের প্রয়োজন দেখা দিলে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার অব্যবহিত পূর্বে যাঁহারা সংসদ-সদস্য ছিলেন, এই দফার উদ্দেশ্যসাধনকল্পে তাঁহারা সদস্যরূপে বহাল রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।
১০.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সংক্রান্ত সংসদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয় নয়?
  1. প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ
  2. প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ
  3. রাষ্ট্রপতির সামরিক উপদেষ্টার নিয়োগ
  4. প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের বাজেট অনুমোদন
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতির সামরিক উপদেষ্টার নিয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতির সামরিক উপদেষ্টার নিয়োগ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২(১) অনুযায়ী, সংসদ নিম্নলিখিত প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সংক্রান্ত বিষয়ে আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে:
১) প্রতিরক্ষা বাহিনীর গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ
২) প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কমিশন মঞ্জুরী
৩) প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ ও তাঁদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ
৪) প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়
→ তবে, রাষ্ট্রপতির সামরিক উপদেষ্টার নিয়োগ প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সম্পর্কিত বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত বা সাংবিধানিক প্রশাসনিক বিষয়, যা সংসদ কর্তৃক সরাসরি নিয়ন্ত্রিত নয়। সাধারণত, সামরিক উপদেষ্টা নিয়োগ রাষ্ট্রপতির নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত বিষয় এবং এটি সংসদীয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিরক্ষা নীতির মধ্যে পড়ে না।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ৬২ প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি:
(১) সংসদ আইনের দ্বারা নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ নিয়ন্ত্রণ করিবেন: 
(ক) বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ ও উক্ত কর্মবিভাগসমূহের সংরক্ষিত অংশসমূহ গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ; 
(খ) উক্ত কর্মবিভাগসমূহে কমিশন মঞ্জুরী; 
(গ) প্রতিরক্ষা-বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগদান ও তাঁহাদের বেতন ও ভাতা-নির্ধারণ; এবং 
(ঘ) উক্ত কর্মবিভাগসমূহ ও সংরক্ষিত অংশসমূহ-সংক্রান্ত শৃঙ্খলামূলক ও অন্যান্য বিষয়। 
(২) সংসদ আইনের দ্বারা এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় বর্ণিত বিষয়সমূহের জন্য বিধান না করা পর্যন্ত অনুরূপ যে সকল বিষয় প্রচলিত আইনের অধীন নহে, রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা সেই সকল বিষয়ের জন্য বিধান করিতে পারিবেন।
১১.
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য সংসদের কত শতাংশ সদস্যের ভোট প্রয়োজন?
  1. অর্ধেক
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. দুই-তৃতীয়াংশ
  4. চার-পঞ্চমাংশ
সঠিক উত্তর:
দুই-তৃতীয়াংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই-তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করা যেতে পারে।

অভিশংসন প্রক্রিয়া:
১) অভিযোগ উত্থাপন:
- সংসদের মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ (৫০%+ বা অর্ধেকের বেশি) সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে দাখিল করতে হয়।
২) তদন্ত ও বিবেচনা:
- অভিযোগের তদন্তের জন্য সংসদ কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত করতে পারে।
- রাষ্ট্রপতির নিজেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে।
৩) অভিশংসন প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার শর্ত:
- অভিযোগ বিবেচনার পর, সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ (৬৬.৬৭%) ভোটে যদি অভিযোগ যথার্থ বলে ঘোষণা করা হয়, তাহলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়ে যাবে।

অর্থাৎ
→ অভিযোগ উত্থাপনের জন্য: সংসদের অর্ধেক (৫০%+ সদস্য) স্বাক্ষর লাগবে।
→ অভিশংসনের জন্য: সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ (৬৬.৬৭%) ভোট প্রয়োজন।

→ তাই সঠিক উত্তর: গ) দুই-তৃতীয়াংশ।
১২.
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হয়, তা কীভাবে পরিচালিত হয়?
  1. রাষ্ট্রপতির আদেশে
  2. সংবিধান অনুসারে
  3. সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে
  4. প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে
সঠিক উত্তর:
সংবিধান অনুসারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান অনুসারে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হয় এবং এটি সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
- অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু তা অবশ্যই সংবিধানের বিধানসমূহের মধ্যে থাকতে হবে।
→ সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত নির্বাহী ক্ষমতা সরাসরি সংবিধান দ্বারা পরিচালিত হয়, এবং তা রাষ্ট্রপতির আদেশ বা প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ- মন্ত্রিসভা:
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। 
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে। 
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন। 
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে। 
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। 
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।
১৩.
স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্বের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জনশৃংখলা রক্ষা
  2. জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
  3. প্রশাসন ও সরকারী কর্মচারীদের কার্য
  4. অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯(২) অনুযায়ী, স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্বের মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—
১) প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের কার্য পরিচালনা
২) জনশৃঙ্খলা রক্ষা
৩)জনসাধারণের কার্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন

তবে, "জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা" স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এটি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দায়িত্ব।
→ অতএব, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থানীয় শাসনের দায়িত্ব নয়, তাই 'খ' অপশনটি সঠিক উত্তর।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯ স্থানীয় শাসন:
(১) আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক এককাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।
(২) এই সংবিধান ও অন্য কোন আইন-সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা যেরূপ নির্দিষ্ট করিবেন, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় উল্লিখিত অনুরূপ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান যথোপযুক্ত প্রশাসনিক এককাংশের মধ্যে সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন এবং অনুরূপ আইনে নিম্নলিখিত বিষয় সংক্রান্ত দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত হইতে পারিবে:
(ক) প্রশাসন ও সরকারী কর্মচারীদের কার্য;
(খ) জনশৃংখলা রক্ষা;
(গ) জনসাধারণের কার্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ স্থানীয় শাসন- ৬০ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা:
- এই সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের বিধানাবলীকে পূর্ণ কার্যকরতাদানের উদ্দেশ্যে সংসদ আইনের দ্বারা উক্ত অনুচ্ছেদে উল্লিখিত স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ করিবার ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ ও নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করিবেন।
১৪.
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. অনুচ্ছেদ ৫০
  2. অনুচ্ছেদ ৫১
  3. অনুচ্ছেদ ৫২
  4. অনুচ্ছেদ ৫৩
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৫১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ ৫১
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো আইনি দায়বদ্ধতার সম্মুখীন হবেন না।
→ সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি:
১) ফৌজদারি মামলা করা যাবে না:
- রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের বা চালু রাখা যাবে না। 
- কোনো আদালত রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারবে না।
২) রাষ্ট্রপতি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে দায়মুক্ত থাকবেন:
- রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কাজ করলে বা না করলে, সে জন্য তাঁকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না।
- তবে এই দায়মুক্তির বিধান সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি মামলা দায়েরের অধিকার বাতিল করে না।

অর্থাৎ সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ করেছে।
- ফৌজদারি মামলা দায়ের বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।
- সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার প্রভাবিত হয় না।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ- রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি:
(১) এই সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদের হানি না ঘটাইয়া বিধান করা হইতেছে যে, রাষ্ট্রপতি তাঁহার দায়িত্ব পালন করিতে গিয়া কিংবা অনুরূপ বিবেচনায় কোন কার্য করিয়া থাকিলে বা না করিয়া থাকিলে সেইজন্য তাঁহাকে কোন আদালতে জবাবদিহি করিতে হইবে না, তবে এই দফা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যধারা গ্রহণে কোন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুন্ন করিবে না।
(২) রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাইবে না এবং তাঁহার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হইতে পরোয়ানা জারী করা যাইবে না।

১৫.
সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কিত কোন বিতর্ক দেখা দিলে কে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন?
  1. স্পীকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সুপ্রিম কোর্ট
  4. নির্বাচন কমিশন
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কিত কোনো বিতর্ক দেখা দিলে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
 অর্থাৎ, সংসদ সদস্যের যোগ্যতা নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে—
- তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো কারণে অযোগ্য হয়েছেন কি না, বা
- সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হবে কি না
এই সমস্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, যা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

→ সংবিধান নির্দেশ করে:
-"কোন সংসদ-সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর ৬৬(২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কি না, কিংবা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।"
১৬.
সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা কার নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পীকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. মন্ত্রিসভা
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫(৪) অনুযায়ী, সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে।
→ যদিও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫(২) অনুযায়ী, নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রয়োগ করা হয়, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির নামেই সরকারি নির্বাহী আদেশ ও কার্যক্রম প্রকাশ করা হয়।
- এটি মূলত একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা, কারণ বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা সরকার পরিচালনা করে। তবে, রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধান, তাই সকল নির্বাহী আদেশ তার নামেই প্রকাশিত হয়।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ- মন্ত্রিসভা:
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। 
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে। 
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন। 
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে। 
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। 
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।
১৭.
নিম্নলিখিত কোন শর্তটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্যতা নয়?
  1. পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হওয়া
  2. সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হওয়া
  3. পাঁচ বছরের বেশি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করা
  4. অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়া
সঠিক উত্তর:
পাঁচ বছরের বেশি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচ বছরের বেশি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না যদি তিনি—
১) পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হন— (অযোগ্যতার শর্ত)
২) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হন— (অযোগ্যতার শর্ত)
৩) অতীতে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন— (অযোগ্যতার শর্ত)

- তবে "পাঁচ বছরের বেশি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করা" রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কোনো অযোগ্যতার শর্ত নয়।
→ সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন, কিন্তু তৃতীয়বার নির্বাচন করা যাবে না।
- তবে এটি রাষ্ট্রপতি হওয়ার অযোগ্যতার শর্ত নয়, বরং একটি মেয়াদ সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা।

→ অর্থাৎ সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট অযোগ্যতার শর্ত রয়েছে।
- কিন্তু ৫০(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি হওয়া যাবে না, যা মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান, তবে এটি নির্বাচনের অযোগ্যতা নয়।
 তাই সঠিক উত্তর: গ) পাঁচ বছরের বেশি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করা।
১৮.
প্রধানমন্ত্রী যদি কোন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করেন এবং মন্ত্রী তা পালনে অসমর্থ হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কী করতে পারেন?
  1. মন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন
  2. মন্ত্রীর বেতন বন্ধ করতে পারেন
  3. মন্ত্রীকে সংসদে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিতে পারেন
  4. রাষ্ট্রপতিকে মন্ত্রীর নিয়োগ অবসানের পরামর্শ দিতে পারেন
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতিকে মন্ত্রীর নিয়োগ অবসানের পরামর্শ দিতে পারেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতিকে মন্ত্রীর নিয়োগ অবসানের পরামর্শ দিতে পারেন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৮(২) অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যে কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করতে পারেন। যদি সেই মন্ত্রী পদত্যাগ করতে অসম্মত হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে উক্ত মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটানোর পরামর্শ দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রীর পদত্যাগ কার্যকর করতে পারেন।
- প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কোনো মন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন না, কারণ মন্ত্রীদের নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকে। তবে, এটি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের ভিত্তিতেই করা হয়, কারণ সংবিধানে মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত হবে বলে নির্ধারিত রয়েছে।
- এটি সংসদীয় শাসনব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক অংশ, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের কার্যক্রম তদারকি করেন।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৫৮ অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ:
(১) প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন;
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন, তবে ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার শর্তাংশের অধীনে মনোনীত মন্ত্রীর ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে না;
(গ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুসারে রাষ্ট্রপতি অনুরূপ নির্দেশ দান করেন; অথবা
(ঘ) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফায় যেরূপ বিধান করা হইয়াছে তাহা কার্যকর হয়।
(২) প্রধানমন্ত্রী যে-কোন সময়ে কোন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করিতে অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত মন্ত্রী অনুরূপ অনুরোধ পালনে অসমর্থ হইলে তিনি রাষ্ট্রপতিকে উক্ত মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটাইবার পরামর্শ দান করিতে পারিবেন।
(৩) সংসদ ভাংগিয়া যাওয়া অবস্থায় যে-কোন সময়ে কোন মন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের (১) দফার (ক), (খ) ও (ঘ) উপ-দফার কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।
(৪) প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকিলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে; তবে এই পরিচ্ছেদের বিধানাবলী-সাপেক্ষে তাঁহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাঁহারা স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন।
(৫) এই অনুচ্ছেদে "মন্ত্রী" বলিতে প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী  অন্তর্ভুক্ত।
১৯.
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পীকার
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. সংসদের উপনেতা
সঠিক উত্তর:
স্পীকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পীকার
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়, অথবা তিনি অনুপস্থিত, অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, তাহলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
→ যখন স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন:
১) রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে— নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত।
২) রাষ্ট্রপতি অনুপস্থিত থাকলে— তিনি ফিরে না আসা পর্যন্ত।
৩) রাষ্ট্রপতি গুরুতর অসুস্থ হলে— সুস্থ হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত।
৪) অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে— তিনি দায়িত্ব নিতে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত।

অর্থাৎ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে স্পীকার অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ- অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার:
- রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।
২০.
প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের সংরক্ষিত অংশসমূহের শৃঙ্খলামূলক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে কে?
  1. সংসদ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. সেনাবাহিনী প্রধান
সঠিক উত্তর:
সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২(১)(ঘ) অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ ও এর সংরক্ষিত অংশসমূহের শৃঙ্খলামূলক ও অন্যান্য বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব সংসদের উপর ন্যস্ত হয়েছে। সংসদ আইনের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
→ সংসদ প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলা, নিয়োগ, পদোন্নতি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রণয়ন করতে পারে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য পৃথক সেনা আইন, নৌ আইন ও বিমান বাহিনী আইন রয়েছে, যা সংসদ কর্তৃক প্রণীত।
- তবে, সংসদ আইন দ্বারা যে বিধান করবে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর অধীন কর্তৃপক্ষের হাতে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ৬২ প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি:
(১) সংসদ আইনের দ্বারা নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ নিয়ন্ত্রণ করিবেন: 
(ক) বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ ও উক্ত কর্মবিভাগসমূহের সংরক্ষিত অংশসমূহ গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ; 
(খ) উক্ত কর্মবিভাগসমূহে কমিশন মঞ্জুরী; 
(গ) প্রতিরক্ষা-বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগদান ও তাঁহাদের বেতন ও ভাতা-নির্ধারণ; এবং 
(ঘ) উক্ত কর্মবিভাগসমূহ ও সংরক্ষিত অংশসমূহ-সংক্রান্ত শৃঙ্খলামূলক ও অন্যান্য বিষয়। 
(২) সংসদ আইনের দ্বারা এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় বর্ণিত বিষয়সমূহের জন্য বিধান না করা পর্যন্ত অনুরূপ যে সকল বিষয় প্রচলিত আইনের অধীন নহে, রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা সেই সকল বিষয়ের জন্য বিধান করিতে পারিবেন।
২১.
প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত কে গ্রহণ করে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সংসদের স্পিকার
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের প্রতি দায়ী এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে গৃহীত হয়। যদি প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকেন, তবে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যগণ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
→ সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যগণ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, কারণ মন্ত্রিসভা দলগতভাবে পরিচালিত হয় এবং এটি সংসদের নিকট যৌথভাবে দায়ী।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ- মন্ত্রিসভা:
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। 
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে। 
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন। 
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে। 
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। 
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।
২২.
স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে কীভাবে?
  1. স্থানীয় জনগণের ভোটে
  2. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে
  3. রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে
  4. সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনে
সঠিক উত্তর:
সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯(২) অনুযায়ী, স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
→ সংসদ আইনের দ্বারা নির্ধারণ করবে:
- প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের কার্যক্রম
- জনশৃঙ্খলা রক্ষা
- জনসাধারণের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন

অনুচ্ছেদ ৬০ আরও উল্লেখ করে যে, সংসদ স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠানসমূহকে কর আরোপ, বাজেট প্রস্তুতকরণ এবং নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করবে।
→ অতএব, স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯ স্থানীয় শাসন:
(১) আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক এককাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।
(২) এই সংবিধান ও অন্য কোন আইন-সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা যেরূপ নির্দিষ্ট করিবেন, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় উল্লিখিত অনুরূপ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান যথোপযুক্ত প্রশাসনিক এককাংশের মধ্যে সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন এবং অনুরূপ আইনে নিম্নলিখিত বিষয় সংক্রান্ত দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত হইতে পারিবে:
(ক) প্রশাসন ও সরকারী কর্মচারীদের কার্য;
(খ) জনশৃংখলা রক্ষা;
(গ) জনসাধারণের কার্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ স্থানীয় শাসন- ৬০ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা:
- এই সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের বিধানাবলীকে পূর্ণ কার্যকরতাদানের উদ্দেশ্যে সংসদ আইনের দ্বারা উক্ত অনুচ্ছেদে উল্লিখিত স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ করিবার ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ ও নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করিবেন।

২৩.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণা করতে কার সম্মতি আবশ্যক?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সংসদ
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. সেনাবাহিনী
সঠিক উত্তর:
সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৩(১) অনুযায়ী, সংসদের সম্মতি ছাড়া যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, এবং প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে না।
- অর্থাৎ, যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য সংসদের অনুমোদন আবশ্যক।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৬৩ যুদ্ধ:
 (১) সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাইবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিবেন না।