পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪৫: বিষয়:বাংলা টপিক: সমাস, এক কথায় প্রকাশ। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
'আলোছায়া' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• 'আলোছায়া' = 'আলো ও ছায়া' দ্বন্দ্ব সমাস।

• দ্বন্দ্ব সমাস:

- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- যেমন: তাল ও তমাল = তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
-এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে এবং, ও, আর এ তিনটি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়।
যেমন- মাতা ও পিতা মাতাপিতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'ধোয়ামোছা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'ধোয়ামোছা'= আগে ধোয়া তারপর মোছা কর্মধারয় সমাস।

• কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন: আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা

• কর্মধারয় সমাস:

- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

এছাড়াও কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
• দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
• দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
• বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
• পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন - কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'দুস্তর' শব্দের অর্থ কী?
  1. যাহা সহজে উত্তীর্ণ হওয়া যায় না
  2. যা সহজে পাওয়া যায় না
  3. যা সহ্য করা যায় না
  4. যা সহজে অতিক্রম করা যায় না
ব্যাখ্যা
• 'যাহা সহজে উত্তীর্ণ হওয়া যায় না- দুস্তর।

• কিছু গুরুত্বপুর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- যা কষ্টে নিবারণ করা যায় - দুর্নিবার।
- যা দমন করা কষ্টকর - দুর্দমনীয়।
- যা সহজে পাওয়া যায় না - দুষ্প্রাপ্য।
- যা সহ্য করা যায় না - দুর্বিষহ।
- যা সহজে দমন কর যায় না - দুর্দম।
- যাহাতে সহজে গমন করা যায় না - দুর্গম।
- যা মুছে ফেলা যায় না - দুর্মোচ্য।
- যা কষ্টে জয় করা যায় - দুর্জয়।
- যা সহজে মরে না - দুর্মর।
- যা কষ্টে অর্জন করা যায় - কষ্টার্জিত।
- যা কষ্টে লাভ করা যায় - দুর্লভ।
- যা সহজে অতিক্রম করা যায় না - দুরতিক্রম্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'যা চেটে খাবার যোগ্য' এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. চর্ব্য
  2. চোষ্য
  3. লেহ্য
  4. খাদ্য
ব্যাখ্যা
 • 'যা চেটে খাবার যোগ্য' কে এককথায় বলে - লেহ্য।

অন্যদিকে,
- 'যা চিবিয়ে খাবার যোগ্য' এর এককথায় প্রকাশ - চর্ব্য।
- ‘যা চুষে খাবার যোগ্য’ এর এককথায় প্রকাশ - চোষ্য।
- ‘যা খাওয়ার যোগ্য' এর এককথায় প্রকাশ - খাদ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাস?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।
এরূপ-ছাত্রাবাস, ডাকমাশুল, চোষকাগজ, শিশুমঙ্গল, মুসাফিরখানা, হজ্বযাত্রা, মাল গুদাম, রান্নাঘর, মাপকাঠি, বালিকা-বিদ্যালয়, পাগলাগারদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'নিরীক্ষিত হচ্ছে এমন' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. বীক্ষ্যমাণ
  2. বক্ষ্যমাণ
  3. বক্তব্য
  4. উক্ত
ব্যাখ্যা
 'নিরীক্ষিত হচ্ছে এমন' এর এক কথায় প্রকাশ - বীক্ষ্যমাণ।

এর সাথে সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- যা বলা হয়নি = অনুক্ত। 
- যা বলা হয়েছে = উক্ত। 
- যা বলা উচিত নয় = অকথ্য। 
- যা বলা হবে = বক্তব্য। 
- যা প্রকাশ করা হয়নি = অব্যক্ত। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।
- এমনি ভাবে গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. অনন্ত
  2. অন্তরীপ
  3. অনুক্ষণ
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস - অনুক্ষণ।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন:
বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

অন্যদিকে,
- নঞ্‌ বহুব্রীহি - অনন্ত।
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - অন্তরীপ।
- প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
  1. অনুধাবন
  2. আরক্তিম
  3. দর্শনমাত্র
  4. আপাদমস্তক
ব্যাখ্যা
• নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন :
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

 অন্যদিকে, 
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ - প্রাদি সমাস।
- ঈষৎ রক্তিম = আরক্তিম - অব্যয়ীভাব সমাস।
- পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক - অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০.
এক কথায় প্রকাশ করুন- 'অক্ষির সমীপে'-
  1. চাক্ষুষ
  2. সমক্ষ
  3. প্রত্যক্ষ
  4. পরোক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'অক্ষির সমীপে' কে এককথায় বলে - সমক্ষ।

অন্যদিকে,
- 'চক্ষুর সম্মুখে সংঘটিত' এর এককথায় প্রকাশ - চাক্ষুষ।
- 'অক্ষির অগোচরে' এর এককথায় প্রকাশ - পরোক্ষ।
- 'অক্ষির অভিমুখে' এর এককথায় প্রকাশ - প্রত্যক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
'ক্ষণজন্মা' বলতে কী বোঝায়?
  1. শুভক্ষণে জন্ম যার
  2. অশুভক্ষণে জন্ম যার
  3. রোগা হয়ে জন্মেছে যে
  4. ক্ষণিকের জন্য জন্মেছে যে
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষণজন্মা' = শুভক্ষণে জন্ম যার।

• এর সাথে সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- দুবার জন্মে যা-  দ্বিজ। 
- জন্মে নাই যা - অজ। 
- পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ। 
- যে ভূমিতে ফসল জন্মায় না - ঊষর। 
- শুভক্ষণে জন্ম যার - ক্ষণজন্মা। 
- অনুতে বা পশ্চাতে / জন্মেছে যে - অনুজ। 
- সরোবরে জন্মায় যা - সরোজ। 
- অগ্রে জন্মেছে যে - অগ্রজ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. পঙ্কজ
  2. রেলগাড়ি
  3. বাকপটু
  4. দানবীর
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।
• এরূপ সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রেলগাড়ি = রেলে চলে যে গাড়ি- কর্মধারয় সমাস।
- বাকপটু = বাকে পটু - ৭মী তৎপুরুষ সমাস।
- দানে বীর = দানবীর - ৭মী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩.
'সার্বজনীন' বলতে কী বোঝায়?
  1. সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত।
  2. সকলের জন্য মঙ্গলকর।
  3. যিনি সব কিছুই জানেন।
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর কোনটিই নয় ।
• সার্বজনীন = সকলের মধ্যে প্রবীণ বা জ্যেষ্ঠ।


• এর সাথে সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- সকলের জন্য প্রযোজ্য - সর্বজনীন। 
- সকলের জন্য মঙ্গলকর - সর্বজনীন। 
- সকলের জন্য অনুষ্ঠিত - সর্বজনীন। 
- যিনি সর্বত্র ব্যাপিয়া থাকেন - সর্বব্যাপক। 
- সর্বজন সম্বন্ধীয় - সার্বজনীন। 
- যিনি সব কিছুই জানেন - সর্বজ্ঞ। 
- সমস্ত পদার্থ ভক্ষণ করে যে - সর্বভুক। 
- সবকিছু গ্রাস করে যে - সর্বগ্রাসী। 
- বিশ্বজনের হিতকর - বিশ্বজনীন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।