পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes৬২ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৬৩
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫: বাংলা ব্যাকরণ - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৮০ নম্বর] উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৬৩ প্রশ্ন

.
'ঈক্ষণ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) শিক্ষা
  2. খ) পরীক্ষা
  3. গ) নয়ন
  4. ঘ) মৌমাছি
ব্যাখ্যা
ঈক্ষণ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ঈক্ষ্‌+অন 
অর্থ: 
- দর্শন, দৃষ্টি
- নয়ন, নেত্র, চোখ 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
.
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. ক) ছন্দতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) পদক্রম
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয়/ অংশ ৪টি-
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)

এছাড়াও ব্যাকরণে আরো বেশ কিছু বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অভিধানতত্ত্ব (Lexicography), ছন্দ ও অলংকার ইত্যাদি।

তবে ছন্দতত্ত্ব নামে কোনো কিছু ব্যাকরণে নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'সুপ্রসন্ন ভাগ্য' অর্থে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. ক) জোর কপাল
  2. খ) ইঁদুর কপাল
  3. গ) আট কপাল
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
'জোর-কপাল' বাগধারাটির অর্থ সুপ্রসন্ন ভাগ্য। 
উদাহরণ: এম এ পাশ করে বেরোতেই চাকরি, তোমার তো দেখছি জোর-কপাল। 

'ইঁদুর কপালে' বাগধারাটির অর্থ = মন্দ ভাগ্য
উদাহরণ: তার মত ইঁদুর কপালে লোক খুব কমই দেখেছি। 

'আট কপালে' বাগধারাটির অর্থ = হতভাগ্য 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
বাংলা লিপির উৎস কী?
  1. ক) সংস্কৃত লিপি
  2. খ) ব্রাহ্মী লিপি
  3. গ) অশোক লিপি
  4. ঘ) প্রকৃত লিপি
ব্যাখ্যা
• প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
অহমিয়া, বােড়াে, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতাে।

বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে।
- তাই বাংলা বর্ণমালার উৎস ব্রাহ্মী লিপি। 

ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে।
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'ছোটদাদা>ছোটদা' এতে কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) অভিশ্রুতি
  2. খ) ব্যঞ্জন দ্বিত্ব
  3. গ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি ।
যেমন:
- বউদিদি>বউদি 
- বড়দাদা>বড়দা
- ছোটদাদা>ছোটদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
সমার্থক শব্দযুগল কোনটি?
  1. ক) পারাবত, পরভৃত
  2. খ) মকর, মধুময়
  3. গ) বর্হী, বহ্নি
  4. ঘ) ভূপ, ভূপাল
ব্যাখ্যা
'ভূপ' এবং 'ভূপাল' 'রাজা' শব্দের সমার্থক শব্দ।  
অন্যদিকে,
'বর্হী' = ময়ূর; কিন্তু 'বহ্নি' = আগুন
মকর = কুমির; কিন্তু মধুময় = ঊষর 
পারাবত = কবুতর; কিন্তু পরভৃত = কোকিল

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন" - এখানে উত্তরপদ কোনটি?
  1. ক) সিংহ
  2. খ) চিহ্নিত
  3. গ) আসন
  4. ঘ) সিংহ চিহ্নিত আসন
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা

- সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
- এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

- সমস্ত পদ: সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
- একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়।
- যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
- এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

- ব্যাসবাক্য: সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে।
- ব্যাস’ শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।
- উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন' হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

- পূর্বপদ ও পরপদ: সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
- সিংহাসন শব্দের সিংহ হলাে পূর্বপদ, আর আসন হলাে পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'দুর্দৈব' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) সুলভ
  2. খ) সৌভাগ্য
  3. গ) দুর্লভ
  4. ঘ) দুর্ভাগ্য
ব্যাখ্যা
'দুর্দৈব' এর বিপরীত শব্দ = সৌভাগ্য

দুর্দৈব শব্দের অর্থ
- মন্দভাগ্য, দুরদৃষ্ট
- দুর্ঘটনা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
.
নিম্নের কোনটি অনুবর্ণ?
  1. ক) ৎ
  2. খ) ং
  3. গ) ঃ
  4. ঘ) ঁ
ব্যাখ্যা
অনুবর্ণ
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।
 
ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে,
যেমন – ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ। 
যেমন ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১০.
ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস কী?
  1. ক) নাসারন্ধ্র
  2. খ) স্বরযন্ত্র
  3. গ) শ্বাসনালী
  4. ঘ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা
বাগযন্ত্র: ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত।
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ সমূহ:
১. ফুসফুস 
২. শ্বাসনালী
৩. স্বরযন্ত্র
৪. জিভ
৫. আলজিভ
৬. তালু
৭. মূর্ধা
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত)
৯. ওষ্ঠ
১০. নাসিকা ইত্যাদি।

ফুসফুস 
ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস ফুসফুস। 
- ফুসফুস শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে। 
- মূলত শ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে ধ্বনি উৎপন্ন হয়।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
নিম্নের কোন শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে?
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) সমাস
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷ সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
* তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

- পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- যেমন আমি এখন চা আনতে যাই বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র মনুযায়ী ‘আম্যেখন চানতে যাই বলা যায় না।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে

উৎস:  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
'চকলেট' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) গ্রীক
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) ওলান্দাজ
ব্যাখ্যা
চকলেট (বিশেষ্য) 
- ফরাসি ভাষার শব্দ। 
অর্থ: টেলে নেয়া কোকো বীজের গুড়োর সঙ্গে দুধ চিনি মিশিয়ে তক্তি বা পানীয় বিশেষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৩.
উপভাষা হচ্ছে-
  1. ক) আঞ্চলিক ভাষা
  2. খ) মিশ্র ভাষা
  3. গ) প্রমীত ভাষা
  4. ঘ) দাপ্তরিক ভাষা
ব্যাখ্যা
উপভাষা  
প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪.
'বহ্নিসখ' এর সমার্থক কোনটি?
  1. ক) জল
  2. খ) বাতাস
  3. গ) আগুন
  4. ঘ) মাটি
ব্যাখ্যা
'বাতাস' শব্দের সমার্থক 'বহ্নিসখ' 
'বাতাস' এর অন্যান্য সমার্থক শব্দ: বায়ু, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মারুত, বাত, গন্ধবাহ, বায়, আশুগ, পবমান, সদাগতি, নভঃশ্বাস, শব্দবহ, অগ্নিসখ, জগতায়ু, জগৎপ্রাণ, মাতরিশ্বা, জগদ্বল, ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৫.
কোন বাগ্‌ধারাটি স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ক) দুধের মাছি
  2. খ) সুখের পায়রা
  3. গ) আদায় কাচকলায়
  4. ঘ) বসন্তের কোকিল
ব্যাখ্যা
আদায় কাঁচকলায় (ঘাের শত্রুতা) — রহিম ও করিম দুই বন্ধুর এখন আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক চলছে।
কিন্তু, 
শরতের শিশির/ দুধের মাছি/ সুখের পায়রা/ লক্ষ্মীর বরযাত্রী/ বসন্তের কোকিল সবগুলো বাগধারার অর্থ সুসময়ের বন্ধু।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৬.
'উদীচী' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) উত্তর দিক
  2. খ) দক্ষিণ দিক
  3. গ) পূর্ব দিক
  4. ঘ) পশ্চিম দিক
ব্যাখ্যা
• উদীচী (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদচ্‌+ঈ
অর্থ: উত্তর দিক

প্রতীচী =পশ্চিম দিক
ঈশাণ = উত্তর-পূর্ব কোণ

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৭.
নিম্নের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ক) খুশি
  2. খ) গঞ্জ
  3. গ) টুপি
  4. ঘ) নকশা
ব্যাখ্যা
টুপি (বিশেষ্য):
- এটি একটি দেশি শব্দ 
অর্থ: মাথায় ধারনের আস্তরণ বিশেষ; শিরস্ত্রান। 

অন্যদিকে, 
নকশা = আরবি শব্দ 
গঞ্জ = ফারসি শব্দ।
খুশি = ফারসি শব্দ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৮.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল কোনটি?
  1. ক) স্বকীয় - পরকীয়
  2. খ) অর্পণ - প্রত্যর্থী
  3. গ) প্রার্থী - অর্থী
  4. ঘ) পূর্ণ - পূর্ণতা
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল = স্বকীয় - পরকীয়

অন্যদিকে, 
অর্পণ - গ্রহণ/প্রত্যর্পণ।
পূর্ণ - শূণ্য।
প্রত্যর্থী - অর্থী।
প্রবণতা - উদাসীনতা।
পথ - বিপথ।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯.
যোজকের শ্রেণি বিভাগ নয় কোনটি?
  1. ক) বিকল্প যোজক
  2. খ) বিরোধ যোজক
  3. গ) কারক যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

বৈশিষ্ট অনুযায়ী যোজককে পাঁচ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়:
১.সাধারণ যোজক
২. বিকল্প যোজক
৩. বিরোধ যোজক
৪. কারণ যোজক 
৫. সাপেক্ষ যোজক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০.
পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে-
  1. ক) বিদেশি শব্দ
  2. খ) আঞ্চলিক শব্দ
  3. গ) বিদেশি শব্দের বঙ্গানুবাদমূলক প্রতিশব্দ
  4. ঘ) বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে -
Oxygen (অম্লজান),
Hydrogen (উদযান),
File(নথি),
Training (প্রশিক্ষণ),
Manager (ব্যবস্থাপক),
Radio (বেতার),
General manager (মহাব্যবস্থাপক),
Secretary (সচিব),
Garduate (স্নাতক),
Post-graduate (স্নাতকোত্তর),
Final (সমাপ্তি),
Periodical (সাময়িকী),
Equition (সমীকরণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
'অর্থহীন উক্তি'কে এক কথায় কী বলে?
  1. ক) অনূদিত
  2. খ) প্রলাপ
  3. গ) আরক্ত
  4. ঘ) সাবলীল
ব্যাখ্যা
'অর্থহীন উক্তি'কে এক কথায় বলে - প্রলাপ 
অন্যদিকে, 
অন্য ভাষায় অনুবাদ = অনূদিত 
অবলীলাত সঙ্গে = সাবলীল 
ঈষৎ রক্তবর্ণ = আরক্ত 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২.
'শূদ্রানী' কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) নী-প্রত্যয়
  2. খ) আনী-প্রত্যয়
  3. গ) ঈ-প্রত্যয়
  4. ঘ) ঈনী-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ হলো
- ভাগনে-ভাগনী,
- বেঙ্গমা-বেঙ্গমী ইত্যাদি।

• ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
'প্রকৃতি' কোনটির অপর নাম?
  1. ক) ধাতু
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) শব্দমূল
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি।
- প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি।
- ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪.
লগ্নক নয় কোনটি?
  1. ক) বাচ্য
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) বচন
  4. ঘ) নির্দেশক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে।
লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক এবং বাক্যের যেসকল পদে লগ্নক থাকে না তাকে অলগ্নক পদ বলে।
“ছেলেরা স্টেশন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছে” বাক্যটিতে 'ছেলেরা', 'দৌড়ে' 'যাচ্ছে' সলগ্নক পদ। অন্যদিকে 'স্টেশন', 'বরাবর' অলগ্নক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
২৫.
'দম্পতি' — সমাসের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) জায়া ও পতি
  2. খ) দম ও পতি
  3. গ) স্ত্রী ও পতি
  4. ঘ) স্বামী ও স্ত্রী
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- মাতা ও পিত = মাতাপিতা। 
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে। 

উৎস; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী।
২৬.
'খ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) বর্ণ
  2. খ) বর্ণমালা
  3. গ) আকাশ
  4. ঘ) বাতাস
ব্যাখ্যা
• 'খ' শব্দের অর্থ = আকাশ, নভঃ, শূন্য; সুবিন্দু

• 'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ:  খ, খলোক, ব্যোম, নভঃ, অন্তরীক্ষ, দ্যুলোক, শূণ্য, নভোমণ্ডল ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭.
অনুনাসিকতা বোঝাতে স্বরবর্ণের উপর কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) মাত্রা
  2. খ) রেফ
  3. গ) চন্দ্রবিন্দু (ঁ)
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
 • অনুনাসিক স্বরধ্বনি
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলাে উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলাে উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলাে অনুনাসিক হয়ে যায়।
- স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বােঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
অনুনাসিক স্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [আঁ, [ওঁ], [উঁ]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৮.
নিম্নের কোনটি শব্দ গঠন প্রক্রিয়া নয়?
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) সমাস
ব্যাখ্যা
 শব্দ ও গঠনবৈচিত্র্য
বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
- এগুলাে হলাে : উপসর্গ যােগে, প্রত্যয় যােগে এবং যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

- মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়। সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়। অর্থাৎ, একটি শব্দ গঠনের পর যদি দেখা যায় যে, ওই শব্দে এমন কতগুলাে ধ্বনি পাশাপাশি বসেছে যাদের এক ধ্বনিতে পরিণত করা সম্ভব তাহলে সেখানে সন্ধি ঘটতে পারে। কিন্তু এটি যে বাধ্যতামূলক কোনাে বিষয়, তা কিন্তু নয়।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
'বউ' শব্দের মধ্যে কোন কোন স্বরধ্বনি আছে?
  1. অ+উ
  2. ও+উ
  3. অ+ঔ
  4. ও+ঔ
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
- যেমন – - লাউ’ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

• দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই
- [এই]: সেই, নেই
- [আ]: যাও, দাও
- [আ]: খায়, যায়
- [উই]: দুই, রুই
- [অ]: নয়, হয়
- [ওউ]: মৌ, বউ
- [ওই]: কৈ, দই
- [এ]: কেউ, ঘেউ

• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ই]।
- ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২ও২ সংস্করণ)।
৩০.
'গঞ্জ' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন দুটি বর্ণ যুক্ত আছে?
  1. ক) ঞ্‌ + চ
  2. খ) ঞ্‌ + জ
  3. গ) জ্‌ + ঞ
  4. ঘ) চ্‌ + ঞ্‌
ব্যাখ্যা
• 'রঞ্জন' শব্দের যুক্তবর্ণ 'ঞ্জ' = ঞ্‌ + জ। 
উদাহরণ: অঞ্জন, গঞ্জনা, গঞ্জ, কুঞ্জ ইত্যাদি। 
অন্যদিকে, 
জ্‌ + ঞ = জ্ঞ । উদাহরণ: বিজ্ঞান। 
ঞ্‌ + চ্‌ = ঞ্চ । উদাহরণ: অঞ্চল। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
ড়, ঢ় -এর উচ্চারণের মুখ্য বাকপ্রত্যঙ্গ কোনটি?
  1. ক) উপরের ঠোঁট
  2. খ) নিচের ঠোঁট
  3. গ) জিভের ডগা
  4. ঘ) দন্তমূলের পিছনের উঁচু অংশ
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢােল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির মুখ্য বাকপ্রত্যঙ্গ = জিভের ডগা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির গৌণ বাকপ্রত্যঙ্গ = দন্তমূলের পিছনের উঁচু অংশ(মূর্ধা)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) লাল
  3. গ) নাক
  4. ঘ) মানব
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।

অপরদিকে,
মনু + অ/ষ্ণ = 'মানব' হলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩৩.
অসমাপিকা ক্রিয়ার প্রকার নয় কোনটি?
  1. ক) সম্যক অসমাপিকা
  2. খ) ভাবী অসমাপিকা
  3. গ) ভূত অসমাপিকা
  4. ঘ) শর্ত অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া দুই প্রকার:
- সমাপিকা ক্রিয়া,
- অসামাপিকা ক্রিয়া।

১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায় ।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে না।
  2. খ) অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ আছে।
  3. গ) অনুসর্গ সম্পর্কিত শব্দটির বামদিকে একটু তফাতে বসে।
  4. ঘ) সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দের বৈশিষ্ট্য
১. অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে। 
২. অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ আছে।
৩. অনুসর্গ সম্পর্কিত শব্দটির ডানদিকে একটু তফাতে বসে।
৪. অনুসর্গ সাধারণত শব্দের পরে বসলেও কখনাে কখনাে পূর্বেও বসে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
‘উপধা' বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) প্রকৃতির পরিবর্তন
  2. খ) ধাতুর পরিবর্তন
  3. গ) প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনি
  4. ঘ) প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পাওয়া
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত নিয়ম অনুসারে কখনও কখনও প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার কালে প্রত্যয়ের অংশবিশেষ লােপ পায়।
- এই লােপ পাওয়া অংশটিকে ‘ইৎ' নামে অভিহিত করা হয়।
- এছাড়া, প্রকৃতির অন্ত্যধ্বনির আগের ধ্বনিকে ‘উপধা' বলা হয়ে থাকে এবং প্রকৃতির আদ্যধ্বনির পরবর্তী সকল ধ্বনিকে ‘টি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- অর্থাৎ, ‘ইৎ' প্রত্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং 'উপধা’ ও ‘টি' প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
'খাসমহল' কোন প্রকার সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়  তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
ক্ষুধিত-পাষাণ =ক্ষুধিত যে পাষাণ
অক্ষয়কীর্তি = অক্ষয় যে কীর্তি
অর্ধপথ = অর্ধ যে পথ 
খাসমহল = খাস যে মহল 
নবান্ন = নব যে অন্ন 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ
৩৭.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল নয় কোনটি?
  1. ক) রাগ - বিরাগ।
  2. খ) উৎকর্ষ - অপকর্ষ
  3. গ) উপগত - অনুগত
  4. ঘ) খাতক - মহাজন
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল:
উপগত - অপগত।
উৎকর্ষ - অপকর্ষ
রাগ - বিরাগ।
খাতক - মহাজন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮.
উৎসগত দিক দিয়ে শব্দকে কয়টি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে :
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি ও
- বিদেশি। 

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খন্ড) গ্রন্থ অনুসারে,
উৎসগত দিক দিয়ে শব্দকে চারটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো :
-  সংস্কৃত : বাংলা ভাষার উচ্চারণ রীতিতে গৃহীত সংস্কৃত শব্দ—শ্রাদ্ধ, চন্দ্র।
-  প্রাকৃত : বাংলা ভাষার উচ্চারণ রীতিতে গৃহীত প্রাকৃত শব্দ—ছেরাদ্দ, চন্দ, প্রাকৃতায়িত বিভিন্ন ভাষার শব্দ।
-  বাংলা : সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত, প্রাকৃত থেকে আগত, পরিবর্তিত সংস্কৃত, প্রাকৃত ইত্যাদি ভাষার শব্দ— সাধ, চাঁদ।
-  বিভিন্ন ভাষার শব্দ: নব্য-ভারতীয় আর্যভাষার শব্দ, বিভিন্ন অনার্য শব্দ, তুর্কি, আরবি, ফারসি, পাের্তুগিজ, ইংরেজি প্রভৃতি ভাষার শব্দ।
৩৯.
'তেহাই' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) তনুর ভাব
  2. খ) তুলা থেকে তৈরি
  3. গ) তবলায় নিপুন
  4. ঘ) তিন ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
'তিন ভাগের এক ভাগ' কে এক কথায় বলে = তেহাই
অন্যদিকে, 
তনুর ভাব = তনিমা 
তুলা থেকে তৈরি = তুলট 
তবলায় নিপুন = তবলচি 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০.
অঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
  1. ক) ক
  2. খ) খ
  3. গ) গ
  4. ঘ) ঘ
ব্যাখ্যা
অঘোষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি, যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ,, খ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪১.
উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) এক পৌষে শীত যায় না
  2. খ) আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো
  3. গ) রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে ক্রন্দন একই কথা।
  4. ঘ) দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
ব্যাখ্যা
প্রথম বাক্যটি 'এক পৌষে শীত যায় না' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না)।

দ্বিতীয় বাক্যটিতে উপমার ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
সঠিক বাক্যরূপটি হবে - আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।

 তৃতীয় বাক্যটিতে বাগধারার অপপ্রয়োগ হয়েছে।
বাক্যটির সঠিক রূপটি হবে - রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

চতুর্থ বাক্যে বাহুল্যদোষে দুষ্ট।
বাক্যটির সঠিক রূপ - দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষক তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
বা, দেশের বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।
৪২.
ভিন্নার্থক বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. ক) ঢাকের কাঠি
  2. খ) ধামাধরা
  3. গ) খয়ের খাঁ
  4. ঘ) ঠোঁটকাটা
ব্যাখ্যা
'ঠোঁটকাটা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = স্পষ্টভাষী 

অন্যদিকে, 
ঢাকের কাঠি = তোষামুদে
ধামাধরা = তোষামুদে/চাটুকারিতা
খয়ের খাঁ = তোষামোদকারী
তেল মাখানো = তোষামোদ

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৩.
নিম্নের কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. ক) জুতো
  2. খ) শুষ্ক
  3. গ) বুনো
  4. ঘ) তুলো
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা

১. সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

২. চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ-
সাধু ------------ চলিত 
জুতা ------------ জুতো 
তুলা------------- তুলো 
শুষ্ক/শুকনা ----- শুকনো 
বন্য ------------ বুনো 
দেন নি -------- দেননি
পার হইয়া ----- পেরিয়ে
পড়িল ---------- পড়ল/পড়লো
করিয়া ----------- করে
পূর্বেই আগেই। ইত্যাদি।
৪৪.
'দারক' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) দারিত
  2. খ) দুহিতা
  3. গ) দাহিত
  4. ঘ) দায়িক
ব্যাখ্যা
'দারক' শব্দের বিপরীত শব্দ = দুহিতা

কতিপয় বিপরীতার্থক শব্দ- 
ঝটিতি - বিলম্ব
ডগমগ - মনমরা
দুষ্কৃতি - সুকৃতি
দারক - দুহিতা 
তাপ - শৈত্য 
ঝুনা - কাঁচা/কচি
দস্যূ - ঋষি

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪৫.
তদ্ভব শব্দ কোনটি?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) গৃহিণী
  3. গ) ভবন
  4. ঘ) পাত্র
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ :
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি। 

গৃহিণী, ভবন, পাত্র = সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ। 
কিন্তু, 
চাঁদ = সংস্কৃত শব্দ চন্দ্র থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৬.
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাব সম্মিলনের নাম কী?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
বাক্যের গুণ ৩ টি।
যথা -
- আকাঙ্খা
- যোগ্যতা
- আসত্তি।

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য এক পদের পর অন্য পদের যে সংস্থাপন , বাক্য পূর্ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রোতার যে না-মেটা কৌতূহল, তাকে বাক্যের আকাঙ্খা বলে।
২. বাক্যের পদগুলি অর্থের সঙ্গতিক্রমে পূর্বাপর সন্নিবিষ্ট করার নাম আসত্তি।
৩. বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাব সম্মিলনের নাম যোগ্যতা ।

আলোচ্য বাক্যে বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলন লোপ পেয়েছে। তাই বাক্যটি যোগ্যতা হারিয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭.
Deed of gift এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঋণপত্র
  2. খ) দানপত্র
  3. গ) সম্মতিপত্র
  4. ঘ) চুক্তিপত্র
ব্যাখ্যা
Deed of gift এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ= দানপত্র 

অন্যদিকে, 
Deed of debt = ঋণপত্র 
Deed of consent = সম্মতিপত্র
Deed of Agreement = চুক্তিপত্র 
Deed of lease = পাট্টা। 
Deed of sale = বিক্রয় পত্র। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান
৪৮.
নিম্নের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. ক) তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
  2. খ) সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
  3. গ) যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।
  4. ঘ) আমার দেখাবে আমার সত্য।
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে। 
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে
খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।

সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য - আমার দেখাবে আমার সত্য। 
জটিল বাক্য - যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।

সরল বাক্য - সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।  
জটিল বাক্য - যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে। 

সরল বাক্য - দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য - যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৯.
ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনগুলো?
  1. ক) ঙ, হ
  2. খ) ভ, ধ
  3. গ) র, ল
  4. ঘ) ঝ, খ
ব্যাখ্যা
ঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ ।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫০.
'কথায় কথায়' কোন প্রকার শব্দ দ্বিত্ব?
  1. ক) অনুকার
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক
  3. গ) সমার্থক
  4. ঘ) পুনরাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
৩.পুনরাবৃত্তদ্বিত্ব

• অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
 যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্রাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে। যেমন: টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম ।

•পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১.
নিম্নের কোনটি সমুদ্র এর সমার্থক?
  1. ক) কলেবর
  2. খ) বারীশ
  3. গ) উদক
  4. ঘ) নিনাদ
ব্যাখ্যা
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ = বারীশ। 

সমুদ্র শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ:
সাগর, রত্নাকর, জলধি, সিন্ধুই, বারিধি, বারীশ, নদীকান্ত, উদধি, অর্ণব, অম্বুধি, তোয়নিধি, পয়োধি, পারাবার, জলনিধি, নীলাম্বু, পাথার, পয়োনিধি, জলধর, অম্বুনিধি, বারীন্দ্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
কলেবর = 'শরীর' এর সমার্থক 
উদক = 'জল' এর সমার্থক 
নিনাদ = 'রব' এর সমার্থক 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫২.
কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনে পূর্বে উচ্চারিত হওয়া ‘ ই/ উ ’ আগে উচ্চারিত হয়?
  1. ক) বিষমীভবন
  2. খ) অপিনিহিতি
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমনঃ
- সত্য > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• বিষমীভবন (Dissimilation) : দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
• অসমীকরণ (Dissimilation) : একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন – ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা » বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরুপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩.
নিম্নের কোনটি ভিন্নার্থক?
  1. ক) পিঙ্গল
  2. খ) টাঙ্গন
  3. গ) তুরঙ্গ
  4. ঘ) সৈন্ধব
ব্যাখ্যা
যেসকল শব্দ একই অর্থ প্রকাশ করে, তাদের সমার্থক বা একার্থক শব্দ বলে।
রচনার মাধুর্য সৃষ্টির জন্য অনেক সময় একটা অর্থকেই বিভিন্ন বাক্যে বিভিন্ন শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা প্রয়োজন হয়।

'অশ্ব' শব্দের সমার্থক শব্দ- ঘোড়া, ঘোটক, হয়, বাহ, বাজী, তুরঙ্গ, মতুরগ, সৈন্ধব, বাহনশ্রেষ্ঠ, হ্রেষী, মরুদ্রথ, ঘোটকী, তুরঙ্গ, বামী, টাঙ্গন, বড়বা ইত্যাদি।
অন্যদিকে, 'পিঙ্গল' শব্দের সমার্থক শব্দ = অগ্নি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৪.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে কোন শব্দটি?
  1. ক) ওলন্দাজ
  2. খ) উর্দু
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
‘ইংরেজি’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

ইংরেজি (বিশেষ্য) 
- পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: ইংরেজদের ভাষা। English.

ওলন্দাজ (বিশেষণ) 
- ফরাসি ভাষা Hollandaise থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: হল্যান্ড এর অধিবাসী, Dutch. 

উর্দু (বিশেষ্য) 
- তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: ভারত ও পাকিস্তানে ব্যবহৃত ফারসি ও আরবি ভাষার মিশ্রনজাত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবিশেষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫৫.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মাছুয়া > মেছাে
  2. খ) আজি > আইজ
  3. গ) কবাট > কপাট
  4. ঘ) সকাল > সক্কাল
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি : শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন-
কবাট > কপাট,
ধােবা > ধােপা,
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
সকাল > সক্কাল = দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
আজি > আইজ = অপিনিহিতি
মাছুয়া > মেছাে = অভিশ্রুতি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬.
'যাত্রী' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) জাত্‌রি
  2. খ) জাত্রি
  3. গ) জাতৃ
  4. ঘ) জাত্ত্রি‌
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
'যাত্রী' শব্দের সঠিক উচ্চারণ = জাত্ত্রি‌

যাত্রী (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = যাত্রা+ইন্‌
অর্থ: যাত্রাকারী, গমণকারী; ভ্রমণকারী। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫৭.
কোনটি পারিভাষিক শব্দ নয়?
  1. ক) সচিব
  2. খ) বেতার
  3. গ) উপহার
  4. ঘ) উদযান
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে -বাংলা ভাষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে -
Radio (বেতার),
Secretary (সচিব),
Garduate (স্নাতক),
Oxygen (অম্লজান),
Hydrogen (উদযান),
Periodical (সাময়িকী),
Equation (সমীকরণ) ইত্যাদি।

উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - প্রহার, উপহার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮.
বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে বিদ্যমান উপসর্গ কয়টি?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ২১
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) আকাঙ্ক্ষা 
  3. গ) আকাংখা
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - আকাঙ্ক্ষা 

আকাঙ্ক্ষা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = আ+√কাঙ্ক্ষ্‌+অ+আ 
অর্থ: ইচ্ছা, বাসনা, অভিলাষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬০.
নাম প্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে তাকে বলে---
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
শব্দ ও পদের গঠন
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে। শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি। ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু। নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়। নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।

নাম প্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়:

উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে। সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬১.
'উন বর্ষে দুনো শীত' প্রবাদটির অর্থ কী?
  1. ক) অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ
  2. খ) অভিজ্ঞতা দিয়ে চেনা
  3. গ) স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ
  4. ঘ) অল্প বর্ষায় বেশি শীত
ব্যাখ্যা
'উন বর্ষে দুনো শীত' প্রবাদটির অর্থ = অল্প বর্ষায় বেশি শীত 

অন্যদিকে, 
উনা ভাতে দুনা বল - স্বল্পাহার স্বাস্থ্যপ্রদ 
কত ধানে কত চাল - অভিজ্ঞতা দিয়ে চেনা
কানাছেলের নাম পদ্মলোচন - অযোগ্যের বিপরীত নামকরণ 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মাহমুদ। 
৬২.
'উচ্চারণের স্থান' ব্যাকরণের আলোচিত হয়
  1. ক) রূপতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা –
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
-বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও
- লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩.
'চতুর্থ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) চতু + থ
  2. খ) চতুর্‌ + থ
  3. গ) চতুঃ + অর্থ
  4. ঘ) চতুঃ + থ
ব্যাখ্যা
'চতুর্থ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = চতুঃ+থ
এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। 


'চতুর্থ' (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি- প্রত্যয় = চতুর্‌ + থ 
অর্থ: 
- ৪ সংখ্যক 
- ৪ সন্ধ্যার পূরক 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।