পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
"বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা ⎯ ১ টপিক: বাংলা ভাষা, বাংলা ব্যাকরণ ও আলোচ্য বিষয়, বাংলা লিপি, উপাদান ও উপকরণ [লাইভ ক্লাস ⎯ ১, ২ ও ৪১]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ-
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. বাংলা ভাষাতত্ত্ব
  4. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন। সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

অন্যদিকে,
• বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ( ১৮৫৩)। 
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থের রচয়িতা - মুহম্মদ এনামুল হক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন-
  1. ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. নাথায়িল ব্রাসি হ্যালহেড
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
নাথায়িল ব্রাসি হ্যালহেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথায়িল ব্রাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা

• ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পর্তুগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
- কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।

• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন নাথায়িল ব্রাসি হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়।
- এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)।

• ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ। রচয়িতা রাজা  রামমোহন রায়, প্রকাশিত ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ। এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

.
নিচের কোনটি বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয়?
  1. মৈথিলী
  2. অহমিয়া
  3. হিন্দি
  4. নেপালি
সঠিক উত্তর:
অহমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহমিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
কোনটি চলিত ভাষার বিশেষ বৈশিষ্ট্য?
  1. সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে
  2. পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়
  3. সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা নয়
  4. সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সম্প্রসারিত রূপ ব্যবহৃত হয়
সঠিক উত্তর:
পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা

চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল। চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি

.
'প্রকৃতি ও প্রত্যয়' কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'প্রকৃতি ও প্রত্যয়' বাংলা ব্যাকরণের 'রূপতত্ত্ব' অংশে আলোচিত হয়। 

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রকৃতি, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।  
 
• অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়, 
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

• ধ্বনিতত্ত্ব: 
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• বাক্যতত্ত্ব: 
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ। 

.
'শুকনা' এর চলিতরূপ কোনটি?
  1. শুষ্ক
  2. শুকানো
  3. শুকনো
  4. শুকনা
সঠিক উত্তর:
শুকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকনো
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষারীতি:
- বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি, অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
- বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি: একটি চলিত রীতি, অপরটি সাধু রীতি।

• সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
- সাধু ⇒ চলিত
- মস্তক ⇒ মাথা;
- জুতা ⇒ জুতো;
- তুলা ⇒ তুলো;
- শুষ্ক / শুকনা ⇒ শুকনো;
- বন্য ⇒ বুনো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'বাচ্য' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- 'বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন' বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় 'শব্দগঠন প্রক্রিয়া'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

.
বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণকে কী বলে?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. সাধুচণ্ডালী দোষ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তিকাল খ্রিষ্টীয় কত শতাব্দীতে?
  1.  নবম শতাব্দীতে
  2. দশম শতাব্দীতে
  3. সপ্তম শতাব্দীতে
  4. অষ্টম শতাব্দীতে
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতাব্দীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তিকাল - খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে। 

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি।
- খ্রিষ্টপূর্ব আটাশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি।
- আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি।
- জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ গৌড় অপভ্রংশ থেকে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় পাঁচশ অব্দে বঙ্গ কামরূপী ভাষার তৈরী।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০.
বাংলাদেশের রংপুরে কোন উপভাষার ব্যবহার পাওয়া যায়?
  1. রাঢ়ি
  2. পশ্চিমী
  3. কামরূপি
  4. বরেন্দ্রি
সঠিক উত্তর:
কামরূপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামরূপি
ব্যাখ্যা

• উপভাষা:
- বাংলা ভাষার আঞ্চলিক কথ্য রীতির পার্থক্য সহজেই অঞ্চল ভেদে বুঝা যায়। আঞ্চলিক ভেদে ভাষার এই ভিন্নতা উপভাষা নামে পরিচিত।
- সেই হিসেবে 'বাঙ্গালি' উপভাষা বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে যেসকল জেলা রয়েছে,সেই সব অঞ্চলের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• কয়েকটি উপভাষার নাম :
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল),
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল),
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল),
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ),
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১১.
ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ব্যাকরণ:
যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা যায় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।

• প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে।
যেমন-
১. ধ্বনি (Sound),
২. শব্দ (Word),
৩. বাক্য (Sentence),
৪. অর্থ (Meaning),

• সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
১. ধ্বনিতত্ব (Phonology),
২. শব্দতত্ব বা রূপতত্ব (Morphology,
৩. বাক্যতত্ব বা পদক্রম (Syntax),
৪. অর্থতত্ব (Semantics)।

এ ছাড়া অভিধানতত্ব, ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১২.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৩৪ সালে
  2. ১৭৪৩ সালে
  3. ১৭৫৬ সালে
  4. ১৭৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৪৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪৩ সালে
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:

• পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।
- এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• এরপর উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।

• ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
- এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে-বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩.
'রুপতত্ত্ব' এর অপর নাম কী?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. পদক্রম
  3. ধ্বনি তত্ত্ব
  4. শব্দ তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
শব্দ তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব:
ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।

এর আলোচ্য বিষয় হলো:
- শব্দগঠন,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- পদপরিচয়,
- লিঙ্গ,
- পুরুষ,
- বচন,
- শব্দ ও ধাতুরূপ,
- সমাস,
- কারক।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪.
নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - , ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, , অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫.
'পুনঃপুন' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. পুনপ্‌পুনো
  2. পুনপুনো
  3. পুনোপুনো
  4. পুনোপ্‌পুনো
সঠিক উত্তর:
পুনোপ্‌পুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনোপ্‌পুনো
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'পুনঃপুন' এর সঠিক উচ্চারণ 'পুনোপ্‌পুনো'।

অর্থ:

- বারবার,
- উপর্যুপরি;
- মুহুর্মুহু।



উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬.
'প্রশ্ন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. প্রশ্‌নো
  2. প্রস্‌নো
  3. প্রোশ্‌নো
  4. প্রোস্‌নো
সঠিক উত্তর:
প্রোস্‌নো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোস্‌নো
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'প্রশ্ন' এর সঠিক উচ্চারণ 'প্রোস্‌নো'।

অর্থ:
- জিজ্ঞাসা (কঠিন প্রশ্ন)।
- অনুসন্ধানের বিষয়।
- সমস্যা।


উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৭.
'অজ্ঞান' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অগ্‌গ্যান্
  2. অগ্‌গান
  3. অগ্‌গ্যন
  4. ওগ্‌গ্যান্
সঠিক উত্তর:
অগ্‌গ্যান্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্‌গ্যান্
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'অজ্ঞান' এর সঠিক উচ্চারণ 'অগ্‌গ্যান্'।

- মূর্খ, অজ্ঞ।
- সংজ্ঞাহীন। 
- মূর্খতা।
-(দর্শন) মায়া; অবিদ্যা। 
- (বাংলায়) অচৈতন্য।



উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৮.
স এবং শ-এর সঙ্গে 'ত', 'থ', 'ন', 'ঋ', 'র', 'ল' যুক্ত অবস্থায় থাকলে স এবং শ এর উচ্চারণ হবে-
  1. স- এর মত
  2. শ- এর মত
  3. ষ- এর মত
  4. সস- এর মত
সঠিক উত্তর:
স- এর মত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স- এর মত
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- এ তিনটি 'শ' বাংলা ভাষার উচ্চারণে কেবল বিশেষ বিশেষণে বিশেষিত।
- যথা-তালব্য শ, মূর্ধন্য 'ষ' এবং দন্ত্য 'স'।
- আসলে এ তিনটি 'শ'-ই 'শ' (ইংরেজির sh')-এর মতো উচ্চারিত।
- প্রাচীনকালে এগুলোর পৃথক উচ্চারণ ছিল কিন্তু আধুনিক বাংলা ভাষায় প্রতিটি 'শ'-ই "বাংলার শিস জাতীয় মূলধ্বনি (phoneme)।”
- কেবল ত, থ, ন, র, ল-এর পূর্ববর্তী ধ্বনি হিসেবে 'শ'-এর দন্ত্য স (স) ধ্বনির উচ্চারণ শোনা যায়।
 - এটাকে 'শ'-এর দন্ত্য সহধ্বনি বা পূরক ধ্বনি (allophone) বলা যায়
 - যথা: ত: সমস্ত (শোমোস্‌তো/শমোস্‌তো), ব্যস্ত (ব্যাস্‌তো), গ্রস্ত (গ্রোস্তো), মস্তক (মস্‌তোক্-তক্), বস্তি (বোস্‌তি), আস্তে (আস্‌তে), রাস্তা (রাস্‌তা) ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।