পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - ভৌত বিজ্ঞান: রসায়ন বিজ্ঞান বিষয়ক ১. পদার্থের অবস্থা ও ধর্ম, পারমাণবিক গঠন, মৌলিক কণা, মৌলের ধর্ম, পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন, সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়া, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, এসিড, ক্ষার, লবণ, পদার্থের ক্ষয়। ২. মৌলিক কণা, ধাতব পদার্থ এবং তাদের যৌগসমূহ, পদার্থের দ্রবণ ধর্ম ও দ্রাব্যতা, সাবানের কাজ, অধাতব পদার্থ, জারণ-বিজারণ, ব্যাপন, অভিস্রবণ, প্রস্বেদন, তড়িৎ কোষ, অজৈব ও জৈব যৌগ, পলিমার। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
ভর বর্ণালী বিক্ষেপণ পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায় -
  1. আধান
  2. পরমাণুর ভর
  3. অণুর ভর
  4. তড়িৎ প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর ভর
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর: 
- পরমাণু ও অণু এত ক্ষুদ্র যে বিজ্ঞানীগণের পক্ষে এদের প্রকৃত ভর সরাসরি পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব। 
- তাই বিজ্ঞানীরা পরোক্ষভাবে (ভর বর্ণালী বিক্ষণ পদ্ধতিতে) পরমাণুর ভর পরিমাপ করে দেখেছেন যে, হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 0.167×10-23 গ্রাম এবং কার্বনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 1.992×10-23 গ্রাম। 
সুতরাং, পরমাণুর প্রকৃত ভরের এ মানগুলো এত ক্ষুদ্র যে রাসায়নিক গণনার ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার করা বেশ অসুবিধাজনক। 
- তাই কোন একটি পরমাণুর প্রকৃত ভরকে প্রমাণ (Standard) ধরে তার সাপেক্ষে অন্যান্য মৌলের পরমাণু কতগুণ ভারী তা নির্ণয় করা হয়। একেই সংশ্লিষ্ট মৌলের পরমাণুর আপেক্ষিক ভর বলা হয়। 
- প্রাথমিক পর্যায়ে একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরকে প্রমাণ হিসাবে ধরে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর গণনা করা হতো। 
- বর্তমানে একটি কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে প্রমাণ ধরে বিভিন্ন পরমাণুর আপেক্ষিক ভর গণনা করা হয়। 
অর্থাৎ, কোন মৌলের (আপেক্ষিক) পারমাণবিক ভর = {মৌলটির একটি পরমাণুর ভর/একটি কার্বন-১২ পরমাণু ভরের (১/১২) অংশ}। 
- কার্বন-12' আইসোটোপের ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে অ্যাটমিক মাস ইউনিট (atomic mass unit সংক্ষেপে amu) বলা হয়। 
1 amu = 1.66×10-24 গ্রাম। 
- আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভরও বলা হয়। 
- পর্যায় সারণিতে পরমাণুসমূহের যে পারমাণবিক ভর দেয়া হয়েছে তা সকলই আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর। 
- কোনো পরমাণুর আইসোটোপ না থাকলে সেগুলোর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ও ভর সংখ্যা সমান হয়। 

অন্যদিকে, 
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের জন্য অ্যামিটার ব্যবহৃত হয়। 
- তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে কোনো বস্তুতে উপস্থিত আধানের অস্তিত্ব নির্ণয় করা হয়। 
- অ্যাভোগেড্রোর সংখ্যা ব্যবহার করে কোনো পদার্থের একটি অণুর ভর নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
  1. গ্রাম
  2. মোল
  3. গ্রাম-তুল্যভর
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
অধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. পটাস
  2. লৌহ
  3. নিকেল
  4. দস্তা
সঠিক উত্তর:
পটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাস
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ: 
- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- সাধারণত দু'ভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়। 
যেমন-  
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) ধাতব খনিজ: 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- লৌহ আকরিক। 
- অলৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- তামা, টিন, বক্সাইট, সোনা, রূপা, দস্তা ইত্যাদি। 
- লৌহ সঙ্কর ধাতব খনিজ, যথা- ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল। 

(খ) অধাতব খনিজ: 
- রাসায়নিক খনিজ, যথা- গন্ধক, লবণ, পটাস, ডলোমাইট। 
- সড়ক ও গৃহনির্মাণের খনিজ, যথা- চুন, চুনাপাথর, মার্বেল। 
- অন্যান্য অধাতব খনিজ, যথা- অভ্র, চীনামাটি, গ্রাফাইট। 

(গ) জ্বালানি খনিজ: 
- কঠিন, যথা- কয়লা। 
- তরল, যথা- খনিজ তেল। 
- গ্যাসীয়, যথা- প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- পারমাণবিক, যথা- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
.
ড্যানিয়েল কোষ এক ধরনের -
  1. সঞ্চয়ী কোষ
  2. সেকেন্ডারি কোষ
  3. প্রাইমারি কোষ
  4. উভমুখী কোষ
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
.
ভিনেগার অন্য কী নামে পরিচিত?
  1. ম্যালিক এসিড
  2. অ্যাসিটিক এসিড
  3. ল্যাকটিক এসিড
  4. সাইট্রিক এসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
- তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ডিউটেরিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 0
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ডিউটেরিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে এক (১)। 

আইসোেটাপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
.
রাবার নিচের কোন জৈব দ্রাবকে অদ্রবণীয় থাকে?
  1. বেনজিন
  2. ইথার
  3. পেট্রোল
  4. মিথানল
সঠিক উত্তর:
মিথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথানল
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার করা হয়, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি সবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল-এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মৌমাছি হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ে সৃষ্ট জ্বালাপোড়া নিষ্ক্রিয় করতে নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. অ্যাপামিন
  2. মেলিটিন
  3. ক্যালামিন
  4. ফরমিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ক্যালামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালামিন
ব্যাখ্যা
ক্ষারকের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য: 
- নির্দেশকের সাথে বিক্রিয়ার মাধ্যমে রং পরিবর্তন করে। 
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে। 
- এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক আছে যেগুলো নিয়মিতভাবে পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- মিথাইল অরেঞ্জ, মিথাইল রেড, ফেনলফথেলিন ইত্যাদি রং পরিবর্তন করে। 
যেমন- 

- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• NaOH → Na+ + OH
• KOH → K+ + OH
• NH4OH → NH4+ + OH
- ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার: 
-  মৌমাছি হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড় দিলে জ্বলে কারণ পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। 
- আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন (Melittin) এবং অ্যাপামিন (Apamin) নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়াও হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়। 
- যেহেতু এসব ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, তাই এসিডকে নিষ্ক্রিয় করতে মলম, লোশন (যেমন-চুন) ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- এরকম একটি লোশন হলো ক্যালামিন (Calamine), যা মূলত জিংক কার্বোনেট (ZnCO3)। 
- বেকিং সোডা ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যায়। 

মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মাটিতে এসিডিটি বাড়লে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। তখন ক্ষারক ব্যবহার করে এসিডিটিকে প্রশমিত করা যায় এবং উর্বরতা ফিরিয়ে আনা যায়। 
- এক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ক্ষারক হলো চুন (CaO) এবং মিল্ক অব লাইম (Ca(OH)2)। 
- অবশ্য এ কাজে চুনাপাথরও (CaCO3) ব্যবহার করা হয়। 
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার নিত্যদিনের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু, যা ক্ষারীয়। খাওয়ার পরে সাধারণত মুখে এসিডীয় অবস্থা তৈরি হয়। আর টুথপেস্ট বা পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলে একদিকে যেমন দাঁত পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে তেমনি পেস্ট বা পাউডারের ক্ষার সৃষ্ট এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে। ফলে দাঁতের ক্ষয় রোধ হয়। 
- আবার থালা-বাসন পরিষ্কার করার জন্য যে শক্ত সাবান বা তরল সাবান ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতেও ক্ষারক থাকে। 
- এমনকি যে কাপড় কাচার সাবান ব্যবহার করা হয়, তাও তৈরি করা হয় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- একইভাবে শেভিং ফোম বা নরম সাবান তৈরি করা হয় পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির কারণে যে এন্টাসিড খাওয়া হয় তা হলো ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) নামের ক্ষার। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।