পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৭ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ টপিক: পৃথিবীর জলভাগ - ২ (উপসাগর ও প্রণালী), বায়ুমন্ডলীয় স্তর এবং আবহাওয়া ও জলবায়ু, জলবায়ুর নিয়ামক, বায়ু প্রবাহ। [Live Class – 7, 8 & 9]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
স্পেনকে মরক্কো থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী? 
  1. হরমুজ প্রণালী
  2.  জিব্রাল্টার প্রণালী
  3.  দারদানেলিস  প্রণালী 
  4. বসফরাস প্রণালী
সঠিক উত্তর:
 জিব্রাল্টার প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 জিব্রাল্টার প্রণালী
ব্যাখ্যা

প্রণালী :
- প্রণালী হলো এমন এক সংকীর্ণ জলপথ, যা দুটি বৃহৎ জলভাগকে একত্রে সংযুক্ত করে এবং পাশাপাশি দুটি ভূখণ্ডের মাঝে স্বাভাবিকভাবে বিভাজন তৈরি করে।
- এটি মূলত প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হলেও কখনো কখনো মানবসৃষ্ট পথও হতে পারে।

- কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীর মধ্যে জিব্রাল্টার প্রণালী অন্যতম :
• জিব্রাল্টার প্রণালী :
 - এ প্রণালী ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং
- ইউরোপের স্পেনকে আফ্রিকার মরক্কো থেকে পৃথক করেছে।

  অন্যদিকে,
- হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং
- ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পৃথক করেছে।
- দারদানেলিস প্রণালী মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং তুরস্কের ইউরোপীয় ও এশীয় অংশকে পৃথক করেছে।
- বসফরাস প্রণালী কৃষ্ণ সাগরকে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং তুরস্কের এশিয়া ও ইউরোপ অংশকে পৃথক করেছে।

উৎস : Britannica.

.
কোন প্রণালীকে তার বিপদসংকুল নৌপথের জন্য “মৃত্যুকূপ” নামে অভিহিত করা হয়?
  1. বাব-আল-মান্দেব প্রণালী
  2. মালাক্কা প্রণালী
  3. হরমুজ প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
সঠিক উত্তর:
বাব-আল-মান্দেব প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাব-আল-মান্দেব প্রণালী
ব্যাখ্যা

বাব-আল-মান্দেব প্রণালী :
- বাব-আল-মান্দেব প্রণালী হলো একটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক প্রণালি যা ইয়েমেন (এশিয়া) ও জিবুতি (আফ্রিকা)-কে পৃথক করেছে।
- এটি লোহিত সাগর  ও আডেন উপসাগর (Gulf of Aden)-এর সংযোগকারী পথ।
- এই প্রণালির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ কিলোমিটার। 
- এটি ইউরোপ-এশিয়া-বাণিজ্য রুটের একটি কৌশলগত স্থানে অবস্থিত।
- বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে “মৃত্যুকূপ” বলা হয় কারণ এর আরবি নামের আক্ষরিক অর্থই “অশ্রুর দ্বার” বা “মৃত্যুর প্রবেশদ্বার”।
- এই নামের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে।
- প্রথমত, প্রাচীন আরব কাহিনিতে বলা হয় যে, আফ্রিকা থেকে আরব উপদ্বীপে যাত্রাকালে এই প্রণালী পার হতে গিয়ে বহু লোক ডুবে প্রাণ হারিয়েছিল।
- দ্বিতীয়ত, অতীতে প্রণালীটি ছিল দিকনির্দেশনার দিক থেকে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ, যার ফলে নৌযাত্রায় বিপদের মাত্রা ছিল বেশি এবং এর ফলে বহু নাবিকের মৃত্যু ঘটত।

উৎস : Britannica.

.
কোন খালটি ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে? 
  1. কিয়েল খাল
  2. পানামা খাল
  3. গ্র্যান্ড খাল
  4. সুয়েজ খাল
সঠিক উত্তর:
সুয়েজ খাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুয়েজ খাল
ব্যাখ্যা

সুয়েজ খাল :
- পৃথিবীর দীর্ঘতম কৃত্রিম খাল হলো সুয়েজ খাল।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দে লেসেপ্স।
- সুয়েজ খালের খনন কাজ শুরু হয় ১৮৫৯ সালে।
- এটি চালু হয় ১৮৬৯ সালে।
- এই খাল লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করেছে।
- ১৯৫৬ সালে মিশর সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করে। 
- মিশরের এই জাতীয়করণের ফলেই দ্বিতীয় আরব–ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 

উৎস : Britannica.

.
কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের মাঝে কোন উপসাগর অবস্থিত?
  1. আলাস্কা উপসাগর
  2. হাডসন উপসাগর
  3. ল্যাব্রাডর উপসাগর
  4. ব্যাফিন উপসাগর
সঠিক উত্তর:
ব্যাফিন উপসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাফিন উপসাগর
ব্যাখ্যা

ব্যাফিন উপসাগর
- ব্যাফিন উপসাগর উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সাগর।

- এই উপসাগরটি  বেফিন দ্বীপ ও গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ–পশ্চিম উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি ডেভিস প্রণালী ও ল্যাব্রাডর সাগর হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে যুক্ত এবং 
- ন্যারেস প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- বছরের অধিকাংশ সময় উপসাগরটি বরফে আচ্ছাদিত থাকে এবং
- ভাসমান বরফ ও হিমশৈলের কারণে এখানে নৌ চলাচল অত্যন্ত সীমিত। 

উৎস : ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ব্রিটানিকা।

.
পশ্চিমের “এলিস দ্বীপ" নামে পরিচিত কোনটি?
  1.  আলকাট্রাজ
  2.  এঞ্জেল দ্বীপ
  3.  ট্রেজার আইল্যান্ড
  4. মারিন আইল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
 এঞ্জেল দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 এঞ্জেল দ্বীপ
ব্যাখ্যা

এঞ্জেল দ্বীপ :
- এঞ্জেল দ্বীপ সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক দ্বীপ।
- এটি উপসাগরের বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত।
- এই দ্বীপটি সান ফ্রান্সিসকো ও টিবুরনের মাঝামাঝি অবস্থানে অবস্থিত।
- টিবুরন উপদ্বীপের দক্ষিণ তীর থেকে প্রায় ১.৬ কিমি ও সান ফ্রান্সিসকো থেকে প্রায় ৫ কিমি উত্তরে অবস্থিত এঞ্জেল দ্বীপটি একসময় "পশ্চিমের এলিস দ্বীপ" নামে পরিচিত ছিল;
- কারণ বিংশ শতকের শুরুতে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন স্টেশন পরিচালিত হতো।

উল্লেখ্য,
- এটি মূলত মেরিন কাউন্টির টিবুরন শহরের অধীনে হলেও পূর্বাংশ সান ফ্রান্সিসকো শহর ও কাউন্টির আওতায় পড়ে।
- এখন পুরো দ্বীপটাই মূলত একটি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
- শুধু বাতিঘর ও মার্কিন কোস্ট গার্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছোট কয়েকটি অংশ এর বাইরে রয়েছে।

উৎস : Britannica.com

.
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের উল্লেখযোগ্য কোন দ্বীপটি আয়তনে সবচেয়ে বড়?
  1. হরমুজ
  2.  গেশম
  3. আবু মুসা
  4. খার্ক
সঠিক উত্তর:
 গেশম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 গেশম
ব্যাখ্যা

পারস্য উপসাগর :
-  পারস্য উপসাগর দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি ভূমধ্যসাগরীয় সাগর।
- এই উপসাগরটি ইরান ও আরব উপদ্বীপের মাঝে অবস্থিত। 
- এটি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ওমান উপসাগরের সাথে যুক্ত।
- এর চারপাশে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ইউএই ও ওমানসহ আটটি দেশ অবস্থিত।
- ইরানের উল্লেখযোগ্য দ্বীপ : গেশম, হরমুজ, বাহরাইন, আবু মুসা, এবং খার্ক/খার্গ এই উপসাগরে অবস্থিত।
- গেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালীর মধ্যে অবস্থান করে, যা তাকে ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে পৃথক করেছে।
- গেশম দ্বীপ  শুধু ইরানের নয়, সমগ্র পারস্য উপসাগরের বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

উৎস : Britannica.com

.
বাংলাদেশের সবচেয়ে গভীরতম স্থান কোনটি?
  1. কুতুবদিয়া চ্যানেল
  2. সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
  3. মহেশখালী 
  4. সেন্ট মার্টিন চ্যানেল
সঠিক উত্তর:
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড :
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (যার তল নেই) হলো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সবচেয়ে গভীর সামুদ্রিক খাদ, যা  সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে অতিক্রম করা এই গিরিখাতের গড় গভীরতা প্রায় ১২০০ মিটার এবং
- সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত গভীরতা প্রায় ১৩৪০ মিটার।
- এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল এবং বিশ্বের বৃহত্তম ডুবো গিরিখাতগুলোর মধ্যেও অন্যতম।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গোপসাগর হলো ভারত মহাসাগরের একটি বিস্তৃত অংশ।
- এই উপসাগর বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর হিসেবে পরিচিত। 
- এটি ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মধ্যবর্তী ত্রিভুজাকৃতির জলভাগ। 
- উপসাগরটির পশ্চিম সীমান্তে ভারত ও শ্রীলঙ্কা, উত্তরে ভারত ও বাংলাদেশ এবং পূর্বে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড অবস্থিত।

উৎস : Britannica

.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মি পাওয়া যায়?  
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. আয়নমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা

তাপমণ্ডল
- তাপমণ্ডল হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর, যা মেসোবিরতির উপরে শুরু হয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এখানে বায়ু অত্যন্ত হালকা এবং চাপ খুবই কম থাকে।
- এই স্তরে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মি পাওয়া যায়।
- তাপমাত্রা উচ্চতার সাথে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং প্রায় 1480∘ সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।
- এই স্তরের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল বলা হয়।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠে সূর্যের তাপের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত পাঁচটি তাপীয় বলয় রয়েছে :
- উষ্ণমণ্ডল,
- উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল,
- দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল,
- উত্তর হিমমণ্ডল,
- দক্ষিণ হিমমণ্ডল।

উৎস : ব্রিটানিকা।

.
কোন বায়ু কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপে প্রবাহিত হয়?
  1. অয়ন বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. পশ্চিমী বায়ু
  4. পাহাড়ি বায়ু
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা

অয়ন বায়ু :
- অয়ন বায়ু হলো এমন একটি নির্দিষ্ট ধরনের বায়ু যা কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়।
- এটিকে বাণিজ্য বায়ু নামেও ডাকা হয়।
 • বৈশিষ্ট্য:
- প্রবাহের দিক: কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় (২৫°–৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ) থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (০°–১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ) দিকে প্রবাহিত হয়।
- প্রকৃতি: নিয়মিত ও স্থায়ী বায়ুপ্রবাহ।
- মেঘ: অগভীর পুঞ্জীভূত মেঘ দেখা যায়।
- বৃষ্টিপাত: বায়ু যত দুর্বল হয়, পার্শ্ববর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।

উৎস : 
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
পানামা খালের খনন কোন সালে শুরু হয়? 
  1.  ১৮৫৯
  2.  ১৮৬৯
  3.  ১৯০৪
  4.  ১৯১৪
সঠিক উত্তর:
 ১৯০৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১৯০৪
ব্যাখ্যা

পানামা খাল :
- পানামা খাল পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম খাল।
- ১৯০৪ সালে পানামা খাল খনন করা শুরু হয়।
- ১৯১৪ সালে এটি চালু করা হয়।
- পানামা খাল উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাকে পৃথক করেছে;
- এবং আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর কে যুক্ত করেছে। 

উল্লেখ্য,
- পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ ১৯৯৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পানামার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
- খালটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা খনন করা হয়েছিল।
- এই হস্তান্তর টরিয়োস-কার্টার চুক্তি এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
- এই চুক্তি নিশ্চিত করেছিল যে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালের মধ্যে খালের সম্পূর্ণ মালিকানা ও পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পানামার হাতে চলে যাবে।
- চুক্তিগুলি স্বাক্ষরিত হইয়েছিল মার্কিন রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার এবং পানামার জেনারেল ওমর টোরিজোস এর মধ্যে।

উৎস : 
প্রথম আলো;
Britannica.

১১.
সূর্য থেকে কোন প্রক্রিয়ায় পৃথিবীতে তাপ পৌঁছায়?
  1. পরিবহন
  2. সঞ্চালন
  3. বিকিরণ 
  4. সংবহন 
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ 
ব্যাখ্যা

বিকিরণ প্রক্রিয়া :
-
বায়ুর তাপ বলতে বোঝায় বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, অর্থাৎ কোনো স্থানে থাকা বায়ু কতটা উষ্ণ বা শীতল। তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছায় তিনভাবে—পরিচলন, পরিবহন, এবং বিকিরণ।
- বিকিরণ এমন একটি উপায়, যেখানে কোনো বস্তু তার অভ্যন্তরীণ শক্তিকে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ হিসাবে নির্গত করে এবং সেই তরঙ্গ দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর পৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়।
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় তাপ স্থানান্তরের জন্য বাতাসসহ কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ ও আলো পৌঁছায় বিকিরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, কারণ এই প্রক্রিয়ায় তাপ পরিবহনের জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না।

 উল্লেখ্য,
- মহাকাশ প্রায় সম্পূর্ণ শূন্যস্থান হওয়ায় সেখানে পরিবহন বা পরিচলন - এই দুই উপায়ে তাপ চলাচল সম্ভব নয়।
- কোনো বস্তু তাপ বিকিরণ করলে তার অভ্যন্তরের শক্তি তরঙ্গ হিসেবে বেরিয়ে যায়—এটাই তাপ সঞ্চালনের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি।
- দিনে সূর্যের বিকিরণে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়, আর
- রাতে ভূপৃষ্ঠ সেই সঞ্চিত তাপ বিকিরণের মাধ্যমে মহাশূন্যে ছেড়ে দেয়; ফলে ধীরে ধীরে ভূপৃষ্ঠ ঠান্ডা হয়ে যায়।
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় কোনো বস্তু তার তাপশক্তি তরঙ্গ আকারে হারায়, তাই এটি শীতল হতে শুরু করে।

উৎস : 
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
পৃথিবীর কোন বায়ুমণ্ডলীয় স্তরকে "ক্ষুব্ধমণ্ডল" বলা হয়?
  1. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4.  থার্মোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

 ট্রপোমণ্ডল :
- ট্রপোমণ্ডল হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর, যা সরাসরি ভূপৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত।
- এই স্তরেই দেখা যায় মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, বজ্রপাত ও অন্যান্য আবহাওয়ার ঘটনা;
- তাই ট্রপোমণ্ডলকে "ক্ষুব্ধমণ্ডল"ও বলা হয়।
- এই স্তরে প্রায় ৯০% ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প, কুয়াশা ও মেঘ থাকে।
- এটি বায়ুমণ্ডলের মোট ভরের প্রায় ৮০% ধারণ করে।
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তকে ট্রপোবিরোতি বলা হয়।
- ট্রপোমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ থেকে শুরু হয়ে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬–১৯ কিলোমিটার এবং
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

 উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৩.
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সবচেয়ে শীতল তাপমাত্রা পাওয়া যায়?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. আয়নোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

মেসোমণ্ডল বা মধ্যমণ্ডল :
- মেসোমণ্ডল হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যবর্তী স্তর।
- এই স্তর স্ট্র্যাটোমণ্ডলের ঠিক উপরে এবং থার্মোমণ্ডলের নিচে অবস্থান করে।
- এটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে শুরু হয়ে মেসোবিরতি পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, যার উচ্চতা প্রায় ৮০–৮৫ কিলোমিটার।
- এই স্তরেই উল্কাপিণ্ড প্রবেশ করলে ঘর্ষণের ফলে পুড়ে যায়।
- উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় মেসোবিরতি অঞ্চলটি পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম স্থান হিসেবে পরিচিত;
- যেখানে তাপমাত্রা প্রায় –100°C পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।

উৎস :
Britannica;
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান এবং শক্তিশালী ঝড়-বৃষ্টির জন্য পরিচিত বায়ু কোনটি?
  1. অয়ন বায়ু
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3.  ঘূর্ণিবাত
  4. মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
 ঘূর্ণিবাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ঘূর্ণিবাত
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিবাত :
- ঘূর্ণিবাত হল স্থানীয় বায়ুর একটি প্রকারভেদ।
- ঘূর্ণিবাত হলো নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান একটি শক্তিশালী বায়ু;
- যা শীতল বা শুষ্ক অঞ্চল থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- বাতাস কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর উপরের দিকে উঠে যায়।
- উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিবাত ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে এবং
- দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে।
- শীতল ও ঘন বায়ু উষ্ণ ও হালকা বায়ুর দিকে প্রবাহিত হলে নিম্নচাপ তৈরি হয়;
- যা এই ঘূর্ণায়মান বায়ুকে আরও শক্তিশালী করে এবং তীব্র ঝড় ও বৃষ্টির কারণ হয়।

উৎস :
Britannica.
ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
জলবায়ু অঞ্চলকে কিসের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়?
  1.  নদী ও পাহাড়
  2. জনসংখ্যা ও ভাষা
  3. তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত
  4. মাটি ও উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

জলবায়ু অঞ্চল :
- যেসব এলাকার আবহাওয়ার উপাদান যেমন তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুচাপ ও আর্দ্রতা প্রায় একই রকম থাকে, সেগুলোকে একত্রে একটি জলবায়ু অঞ্চল বলা হয়।
- এটি নির্দিষ্ট এলাকার বহু বছরের গড় বা সামগ্রিক আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় এবং
- এককালীন আবহাওয়ার অবস্থার থেকে আলাদা হয়।
- জলবায়ু অঞ্চলকে সাধারণত চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: 
- গ্রীষ্মমণ্ডলীয়,
- শুষ্ক,
- নাতিশীতোষ্ণ এবং
- মেরু জলবায়ু।
- এই ভাগ করার পদ্ধতি তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে শীতলতম মাসিক গড় তাপমাত্রা 18∘C এর উপরে থাকে।
- শুষ্ক জলবায়ুতে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়।
- নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চারটি ঋতু দেখা যায়—শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ।
- এ অঞ্চলটি হালকা এবং ঠান্ডা মধ্য-অক্ষাংশ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
- মেরু অঞ্চলের জলবায়ু অত্যন্ত ঠান্ডা, এবং অধিকাংশ সময় বরফ বা তুষারে ঢাকা থাকে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
জলবায়ুর নিয়ামক কোনটি?
  1. জনসংখ্যা
  2.  মাটি
  3. ভূমিক্ষয় 
  4. অক্ষাংশ 
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ 
ব্যাখ্যা

জলবায়ুর নিয়ামক :
- জলবায়ুর নিয়ামক হলো সেই উপাদানগুলো যা কোনো এলাকার জলবায়ুর বৈচিত্র্যের জন্য দায়ী।
- এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো :
- অক্ষাংশ : অক্ষাংশের কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলের তুলনায় মেরু অঞ্চল বেশি শীতল থাকে, কারণ সেখানে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে। 
-উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর তাপমাত্রা কমে যায়। 
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব: উপকূলের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ এবং সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়।
- বনভূমি : বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের মাধ্যমে বায়ুতে জলীয় বাষ্প যোগ করে, বৃষ্টিপাত বাড়ায়, ঝড়-ঝাপটা কমায় এবং স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার মাত্রা এবং উষ্ণ বা শীতল সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এছাড়া, পাহাড় ও পর্বতের অবস্থান বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণে পার্থক্য আনে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রায় কত অ্যাটমোস্ফিয়ার?
  1. ০.৫ atm
  2. ১ atm
  3. ১.৫ atm
  4. ২ atm
সঠিক উত্তর:
১ atm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ atm
ব্যাখ্যা

বায়ুর চাপ :
- বায়ু তার ওজনের কারণে চারদিকে যে চাপ প্রদান করে, তাকে বায়ুর চাপ বলা হয়।
- বায়ু সাধারণত নিচ থেকে ওপরের দিকে স্তরে স্তরে সজ্জিত থাকে।
- সমুদ্রের সমতল অর্থাৎ নিম্নস্তরে বায়ুর চাপ সবচেয়ে বেশি;
- কারণ নিম্নস্তরে বায়ুর ওজন ও গভীরতা বেশি থাকে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুর স্বাভাবিক চাপ প্রায় ৭৬ সে.মি বা ৭৬০ মিলিমিটার পারদ স্তম্ভের সমান।
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রায় ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার (atm) হিসেবে ধরা হয়।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
নিম্নলিখিত কোন উপাদানগুলো আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রধান উপাদান?
  1.  তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
  2. বৃষ্টি ও মেঘ
  3. বৃষ্টি ও তাপমাত্রা
  4. বায়ুপ্রবাহ ও মেঘ
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক)  তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা এবং ঘ) বায়ুপ্রবাহ ও মেঘ। 
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
------------------ 

জলবায়ু ও আবহাওয়া: 

- আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলের অবস্থার বর্ণনা;
- অন্যদিকে, জলবায়ু হলো কোনো অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের, সাধারণত ৩০–৪০ বছরের, আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, মেঘ, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুচাপ হলো আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রধান উপাদান
- এই উপাদানগুলো একত্রে কোনো স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ধারণ করে।

উল্লেখ্য,
• তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বাতাসের উষ্ণতা বা শীতলতা নির্দেশ করে।
• আর্দ্রতা: আর্দ্রতা বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ প্রকাশ করে, 
• বায়ুপ্রবাহ: বায়ুপ্রবাহ বাতাসের গতি ও দিক নির্ধারণ করে, 
•  মেঘ: মেঘ হলো বাতাসে ভেসে থাকা জলকণা বা বরফকণা,
• বৃষ্টিপাত: বৃষ্টিপাত হলো মেঘ থেকে নিচে পড়া জলীয় পদার্থ, আর 
• বায়ুচাপ: বায়ুচাপ হলো বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর চাপ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়