পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন: 1) Definition of Values Education and Good Governance; 2) Relation between Values Education and Good Governance; 3) General Perception of Values Education and Good Governance; 4) Importance of Values Education and Good Governance in the life of an individual as a citizen as well as in the making of society and national ideals; সোর্স: যেকোনো গাইড বই, SSC & HSC পৌরনীতি বোর্ড বই
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
কোনটির ভিত্তির উপর গড়ে ওঠে মূল্যবোধের কাঠামো?
  1. ক) প্রথা
  2. খ) বিশ্বাস
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) ভাবাবেগ
ব্যাখ্যা
- বিশ্বাসের ভিত্তির উপর গড়ে ওঠে মূল্যবোধের কাঠামো। 
- মানুষ তার বিশ্বাসের ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করে। 
- জীবনের প্রতিটি স্তরে বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে হবে মূল্যবোধকে প্ৰয়োগ করে।
 
যেমন:
একজন ব্যক্তি মানবিকতায় বিশ্বাসী। তিনি জীবজগতের প্রতি সব সময়ই সহানুভূতিশীল। এখানে তার বিশ্বাস তাকে এই মানবিক আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, সে কারণে তিনি মানবিক আচরণকে গুরুত্ব দেন বা মূল্য দেন । এটাই তার মূল্যবোধ ।
 
উৎস: স্কুল অব এডুকেশন; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
.
নিচের কোনটি প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়। এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে। তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
.
মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. ক) মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
  2. খ) মূল্যবোধ বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
  3. গ) মূল্যবোধ অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। 
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। 
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। 
- কেননা একজনের কাছে যা আদর্শ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে। 
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক বুদ্ধির বহি:প্রকাশই মূল্যবোধ। 
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে কোনটির উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ক) Governance
  2. খ) Values
  3. গ) Civil
  4. ঘ) Morality
ব্যাখ্যা
Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
এর অর্থ - শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।

According to Oxford Dictionary:
Middle English: from Old French, from governer, from Latin gubernare ‘to steer, rule’, from Greek kubernan ‘to steer’.

মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।

- উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল।
- ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে। 

Good Governance শব্দটির অর্থ - কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন। সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের যে চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) প্রাতিষ্ঠানিকতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) আইনী কাঠামো
ব্যাখ্যা
''সুশাসন'' প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন। সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’।
সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Government এর মতই Governance শব্দটি এসেছে ‘‘kubernao’’ নামক ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হল−
(i) দায়িত্বশীলতা
(ii) স্বচ্ছতা
(iii) আইনী কাঠামো
(iv) অংশগ্রহণ

উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন বই।
.
'Methods of Ethics' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) এরিস্টিপাস
  2. খ) সিজউইক
  3. গ) সাইরেনিক
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
- নীতিদর্শনে সিজউইক তাঁর সমন্বয়বাদী ভূমিকার জন্য প্রসিদ্ধ। 
- অষ্টাদশ শতকের ইংরেজ স্বজ্ঞাবাদীদের নৈতিক চিন্তা এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় নীতিদর্শন উপযোগবাদের মধ্যে যে বিরোধ ছিল তিনি তার একটা নিষ্পত্তি চেয়েছিলেন। 
- তাঁর বিখ্যাত পুস্তক (Methods of Ethics) এ তিনি তিন ধরনের নৈতিক চিন্তাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যেগুলো হচ্ছে, স্বজ্ঞাবাদ, আত্মসুখবাদ এবং উপযোগবাদ। 
- তাঁর মতে আমাদের সাধারণ বুদ্ধিই আমাদেরকে এদের স্বীকৃতি দানে প্ররোচিত করে। 
- এ ব্যাপারে সিজউইক দেখান যে, স্বজ্ঞাবাদ স্বজ্ঞার মাধ্যমে যেসব নৈতিক নিয়ম জানার দাবি করে ঐসব নিয়মগুলো উপযোগবাদের নিয়ম ছাড়া আর কিছুই নয়। 
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
মূল্যবোধ শিক্ষা দূর করে -
  1. ক) মাদকাসক্ততা
  2. খ) রাহাজানি
  3. গ) ইভটিজিং
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সম্পর্কিত শিক্ষা।
- মূল্যবোধের শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়।
- সেজন্যে ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয়জনিত কর্মকাণ্ড রোধ করতে মূল্যবোধ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক সুশাসন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. ক) World Bank
  2. খ) UNDP
  3. গ) ADB
  4. ঘ) IMF
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৫ সালে  Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে। 
- ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে। 
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন , এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট। 
.
অ্যারিস্টটল তার কোন গ্রন্থে সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন?
  1. ক) কর্পাস অ্যারিস্টটেলিকাম
  2. খ) মেটাএথিক্‌স্
  3. গ) নিকোমেকীয়ান এথিক্‌স্
  4. ঘ) ইউডেমিয়ান এথিক্‌স্
ব্যাখ্যা
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্‌গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে : প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়। 
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন। 
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্‌গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে। 
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘নিকোমেকীয়ান এথিক্‌স্' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্‌গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে। আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০.
জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার নীতিমালা কোনটি?
  1. ক) সংস্কৃতি
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) সংযম
  4. ঘ) আইন
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ জাতীয় দর্শন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
- এটি জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার নীতিমালা বা সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক শক্তি। 
- আধুনিক ধারণা অনুযায়ী মূল্যবোধ হলো কতগুলো জৈব মানসিক সংগঠনের এমন এক সমন্বয় যা পরিবেশের বৃহৎ অংশকে সক্রিয়তার দিক থেকে সমগুণসম্পন্ন করে তোলে এবং ব্যক্তির মধ্যে উপযুক্ত আচরণ সৃষ্টি করে।
- এ সংজ্ঞাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের জৈব মানসিক প্রবণতা যা সাধারণধর্মী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ সৃষ্টি করে তাকে মূল্যবোধ বলা হয়। 
 
উৎস: স্কুল অব এডুকেশন; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১.
সুশাসন নিম্নের কোন ধারণা নির্মাণ করে না?
  1. ক) রাজনৈতিক সুশাসন
  2. খ) নৈতিক সুশাসন
  3. গ) সামাজিক সুশাসন
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে : 
- রাজনৈতিক সুশাসন, 
- সামাজিক সুশাসন, 
- অর্থনৈতিক সুশাসন এবং 
- সাংস্কৃতিক সুশাসন।
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২.
'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল' এর চূড়ান্ত লক্ষ্য কোনটি?
  1. ক) ব্যক্তিমানুষের চরিত্রনিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা
  2. খ) ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা
  3. গ) দুর্নীতি নির্মূল করা
  4. ঘ) সামাজিক অবক্ষয় দূর করা
ব্যাখ্যা
- গত ১৮ অক্টোবর ২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা-বৈঠকে 'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল' চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। 
- সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্নীতি নির্মূল ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
- রাষ্ট্র আইনকানুন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে তাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, সমাজ তা প্রতিপালন করে; সেইসঙ্গে সমাজের নীতিচেতনা ও মূল্যবোধও রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হয়। 
- এই সম্পর্কের জটাজালে ব্যক্তিমানুষের নৈতিকতা ও শুদ্ধতার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠা যেমন প্রয়োজন, তেমনি তার যুক্তরূপ প্রতিষ্ঠানগত শুদ্ধাচার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠাও জরুরি। 
- এই কৌশলটির চূড়ান্ত লক্ষ্য ব্যক্তিমানুষের শুদ্ধাচার, অন্য কথায় চরিত্রনিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা; কিন্তু এর হাতিয়ার হিসাবে প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। 
- রাষ্ট্র, বেসরকারি ব্যবসা খাত ও সুশীল সমাজের যেসব প্রতিষ্ঠান শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে প্রতীয়মান হয়, তাদের উন্নয়ন বিবেচনা করা হয়েছে; শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-নীতির উন্নয়ন সাধন, ক্ষেত্রবিশেষে আইন ও পদ্ধতির পরিবর্তন এবং নতুন আইন ও পদ্ধতি প্রবর্তন, লোকবলের দক্ষতার উন্নয়ন, এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কার্যকারিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে এ দলিলটিতে।
 
উৎস: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (National Integrity Strategy of Bangladesh)

১৩.
কোন ঘোষণায় সুশাসনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে?
  1. ক) কেপটাউন ঘোষণা
  2. খ) ভিয়েনা ঘোষণা
  3. গ) জোহান্সবার্গ ঘোষণা
  4. ঘ) জেনেভা ঘোষণা
ব্যাখ্যা
Johannesburg Plan of Implementation যা জোহান্সবার্গ ঘোষণা নামে পরিচিত। 
১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ  শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে Johannesburg Plan of Implementationগৃহীত হয়। 
ইহা সুশাসনের সঙ্গে Sustainable development (টেকসই উন্নয়ন) এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎসঃ জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর ওয়েবসাইট।
১৪.
কোনটি দ্বারা 'Education' শব্দটি প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) Educatum
  2. খ) Educere
  3. গ) Educare
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ‘শিক্ষা' শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হিসেবে 'Education' শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
- 'Education' শব্দটি ইংরেজি ভাষায় এসেছে ল্যাটিন ভাষা থেকে। 
- ল্যাটিন ভাষায় তিনটি মৌলিক শব্দের সন্ধান পাওয়া যায়, যথা 'Educatum' 'Educere' এবং 'Educare'। 
- প্রথমটি অর্থাৎ 'Educatum' শব্দটির অর্থ শিক্ষা কর্ম (Act of teaching) বা শিক্ষকতা।
-  দ্বিতীয়টি অর্থাৎ Educere শব্দের অর্থ লালন-পালন করা (To bring up) বা প্রয়োজন অনুসারে প্রশিক্ষণ দেওয়া (To train)।
-  তৃতীয়টি অর্থাৎ Educare শব্দটির সমার্থ হল প্রকাশ করা (To Lead out) বা বিকাশ ঘটানো (To draw)। 
- উপরের তিনটি ল্যাটিন শব্দের ভাবগত অর্থ ইংরেজি Education শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
 
উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল নিম্নের কোন গ্রন্থের রচয়িতা?
  1. ক) The Prince
  2. খ) The Elements of Ethics
  3. গ) The Republic
  4. ঘ) Eudemian Ethics
ব্যাখ্যা
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা ব্রিটিশ দার্শনিক - বার্ট্রান্ড রাসেল।
- তিনি ১৯৫০ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 

তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Problem of Philosophy
- The Conquest of Happiness
- Religion and Science
- The Principles of Mathematics
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Philosophical Essays
- Power: A New Social Analysis
- Principles of Social Reconstruction
- The Analysis of Matter
- Logic and knowledge.
 
উৎসঃ ব্রিটানিকা
১৬.
“রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) অস্টিন
  2. খ) স্যালমন্ড
  3. গ) হবস
  4. ঘ) গেটেল
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।" (A Law is a general rule of external action enforced by the sovereign political authority.)
- জন অস্টিন (John Austin) বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।" (Law is the command of the political superior i. e. sovereign to the political inferior.) 
- অধ্যাপক স্যালমন্ড (Prof. Salmond)-এর মতে, "ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক গেটেল (Prof. Gettel) বলেন, “রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।" (Only those rules which the state creates or which as recognises, enforces become law.)

- আইনের একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও চমৎকার সংজ্ঞা প্রদান করেছেন আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson)।
তাঁর মতে, “আইন হলো মানুষের স্থায়ী আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন আছে।” (Law is that portion of the established thought and habit which has gained distinct and formal recognition in the shape of uniform rules backed by the authority and power of the government.)
 
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭.
শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক হলো -
  1. ক) অবিচ্ছেদ্য
  2. খ) চিরন্তন
  3. গ) সাপেক্ষ
  4. ঘ) অভিন্ন
ব্যাখ্যা
- সংস্কৃতি ও শিক্ষার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। একের সঙ্গে অন্যের যোগাযোগ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। 
- অনেক ক্ষেত্রেই সংস্কৃতি ও শিক্ষাকে পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। 
- এই দুটো প্রত্যয় একটি অন্যটির সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকে বা একটি অন্যটি এমনভাবে বিলীন হয়ে যায় যে, এদের স্বতন্ত্ররূপে চিনে নেয়া কঠিন।
- শিক্ষা যেমন সংস্কৃতিকে গতিশীল রাখে, আবার সংস্কৃতিও তেমনি শিক্ষার দ্বারাই অর্জিত হয়। ফলে উভয়ই যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
- পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া শিক্ষা-দীক্ষা, ভাবধারা, রীতি-নীতি, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, জ্ঞান, কৌশল, দক্ষতা, দর্শন ইত্যাদিকে সংস্কৃতি (Culture) বলা হয়। সংস্কৃতির আরেক নাম ‘সামাজিক উত্তরাধিকার’ (Social Heritage)।

সংক্ষেপে ‘সংস্কৃতি’ বলতে একটি মানবগোষ্ঠীর সমগ্র জীবন ধারাকে বোঝায়। “Culture is the total way of life”. এ হলো একটি মানবগোষ্ঠীর আচার-আচরণ, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আহার-বিহার, বিলাস-ব্যাসন, উপকরণ প্রভৃতি সবকিছুই।


আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীব হিসেবে মানুষের ব্যক্তিত্বে উৎস মূলত দ্বিবিধ: একটি হলো জন্মগত ও অপরটি হলো সংস্কৃতিগত। 
অর্থাৎ সমাজ-সংস্কৃতির ওপর মানুষের ব্যক্তিত্ব অনেকাংশে নির্ভরশীল।
 
- বস্তুত, মানুষের ব্যক্তিত্বকে রূপায়ন করে তার সংস্কৃতি। মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠিত ও বিকশিত হয় তার সামগ্রিক সংস্কৃতিরই অংশ হিসেবে।
- মানুষের ব্যক্তিত্ব মূলত তার সংস্কৃতিরই ফল
- আর শিক্ষার পরিধি প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবনেরই পরিধি।
- শিক্ষা ব্যক্তিত্ব গঠন করে, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। শিক্ষা ব্যক্তিত্ব বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তির আচরণে অপেক্ষাকৃত ইতিবাচক স্থায়ী পরিবর্তন আনে। 

উৎসঃ স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রামের; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
কোন সালের প্রতিবেদনে মূল্যবোধ শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে?
  1. ক) ২০০০
  2. খ) ১৯৯৮
  3. গ) ২০০৯
  4. ঘ) ১৯৯৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৬ সালে প্রবর্তিত প্রতিবেদনে জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন কমিটি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছে। 
- সেখানে শিক্ষার জাতীয় জীবনে নৈতিক, মানবিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা তথা মূল্যবোধ শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। 
- অর্থাৎ শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সাধারণধর্মী আচরণগুলো যখন সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে তখনই শিক্ষণে মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে ধরা যাবে। 
 
 উৎস: স্কুল অব এডুকেশন; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৯.
কোনটি ছাড়া স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব নয়?
  1. ক) গনতন্ত্র
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- সুশাসন ছাড়া স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটি রাষ্ট্রে সুশাসন না থাকলে, সে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থিতিশীল হয় না।
- অর্থনৈতিক উন্নয়নের সকল উপাদান যেমন, উৎপাদন, বণ্টন, বিনিয়োগ এমনকি ভোগের ক্ষেত্রেও নানারকম বাঁধার সৃষ্টি হয়।
- অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে বাজার ব্যবস্থাও নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়।
- যেমন ধরা যাক বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হয় তখন এর উৎপাদন বাঁধাগ্রস্ত হয়।রাজনৈতিক কর্মসূচি হরতালের কারণে যানবাহন চলাচল না করলে পণ্যের যথাযথ বাজারজাতকরণ সম্ভব হয় না। ফলে ভোক্তারা বাজার থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে না। অথবা কিনলেও বেশি অর্থ ব্যয়ে বাধ্য হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য বন্টন সম্ভবপর হয়।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২০.
নিচের কোনটি আত্মকেন্দ্রিক সততা?
  1. ক) দেশপ্রেম
  2. খ) মিতাচার
  3. গ) বন্ধুত্ব
  4. ঘ) স্নেহ
ব্যাখ্যা
সততার শ্রেণীবিন্যাস
সততা ও সদগুণাবলী অসংখ্য। অনেকেই সততাকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যথা:
- (ক) আত্মকেন্দ্রিক সততা 
- (খ) পরকেন্দ্রিক সততা এবং 
- (গ) আদর্শকেন্দ্রিক সততা।

(ক) আত্মকেন্দ্রিক সততা : এ ধরনের সততা মূখ্যত ব্যক্তির নিজের কল্যাণ সাধনের উপযোগী। তাই বলে সততা যে শুধু ব্যক্তির কল্যাণে সীমিত থাকবে এমন নয়। কেননা যেহেতু ব্যক্তি সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেহেতু ব্যক্তির কল্যাণ সমাজ কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত। আত্মকেন্দ্রিক সততার কতকগুলো উপভাগ দেয়া হবে :
(১) সাহসিকতা : মানুষের দুঃখভীতিকে জয় করার শক্তিকে সাহসিকতা বলা হয়। ভবিষ্যতের বৃহত্তর এবং মহৎ উদ্দেশ্য লাভের জন্যে বর্তমানের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার শক্তি হল সাহসিকতা। মনোবল, ধৈর্য, অধ্যবসায়, দৈহিক সাহস ইত্যাদি এ শ্রেণীর সততার অন্তর্গত।
(২) মিতাচার : ব্যক্তিগত কল্যাণ ও সামাজিক কল্যাণ লাভের ইচ্ছা ও বিচারবুদ্ধির মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে মিতাচার বলা হয়। মানুষ কল্যাণ লাভের জন্যে সংযত ও বিচারবুদ্ধিসম্মত জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
(৩) পরিশ্রম ও অধ্যবসায় : সাময়িক আরাম-আয়েশ তুচ্ছ করে উচ্চতর কল্যাণ লাভের জন্যে দেহ ও মনের উৎকর্ষ সাধন করা ব্যক্তির অবশ্য করণীয় ; পরিশ্রম ও অধ্যবসায় ছাড়া জীবনের সীমাহীন সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়। সুতরাং মানুষকে মানুষ হিসাবে বাঁচতে হলে পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের অনুশীলন আবশ্যক।
(৪) মিতব্যয়িতা : মিতব্যয়িতা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের উৎকর্ষ বিধানের জন্যে অপরিহার্য। বাক্য, কার্য ও চিন্তায় মিতব্যয়ী হওয়া মানুষের উচিত। আর্থিক মিতব্যয়িতাই শুধু পালনীয় নয়। মানুষের ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন দিকে মিতব্যয়িতার অভ্যাস বাঞ্ছনীয়। মিতব্যয়িতা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই আনয়ন করে না, সমাজের কল্যাণও সাধন করে।

(খ) পরকেন্দ্রিক সততা : পরকেন্দ্রিক সদগুণাবলী অপরের কল্যাণ সাধনের জন্যে নিয়োজিত হয়। 
যেমন:
 (১) ন্যায়পরায়ণতা : প্রত্যেক মানুষের পরিশ্রমের যোগ্য পুরস্কার দেওয়া, কিংবা তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের পথে অন্তরায় সৃষ্টি না করা ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত। ব্যাপক অর্থে ন্যায়পরায়ণতা বলতে সেই সকল গুণকে বুঝায়, যেগুলো সমাজের অন্যান্য ব্যক্তির সাথে আমাদের সম্পর্ক মধুময় করে । 
(২) বদান্যতা : অপরের কল্যাণ সাধনের ইচ্ছাকে বদান্যতা বলা হয়। বদান্যতা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত
হয়, যেমন- স্নেহ, বন্ধুত্ব, দেশপ্রেম ইত্যাদি।

(গ) আদর্শকেন্দ্রিক সততাঃ নৈর্ব্যক্তিক আদর্শের জন্যে আকাক্ষা আদর্শের সততা। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের আদর্শ অনুসারে জীবনকে গড়ে তোলার বাসনা ও সে অনুসারে কাজ করার অভ্যাসকে আদর্শকেন্দ্রিক সততা বলে। আদর্শকেন্দ্রিক সততা তিন ধরনের হতে পারে। যথা:
- (১) বুদ্ধি সম্বন্ধীয় সততা 
- (২) সৌন্দৰ্যসম্বন্ধীয় সততা এবং 
- (৩) নৈতিক সততা ।
 
উৎস: সিভিক এডুকেশন- ১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
"কোন ব্যক্তিকে অনুপার্জিত আয় ভোগ থেকে অসমর্থকরণ" - সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ১৯
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ১১
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ২০
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ -১০
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ২০ :
- কোন ব্যক্তিকে অনুপার্জিত আয় ভোগ থেকে অসমর্থকরণ;
- প্রত্যেকের যোগ্যতা বিবেচনা করে কর্মানুযায়ী পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণ;
 
অনুচ্ছেদ - ১৯ :
- সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ;
- নাগরিকের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন ও সুষম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ;
- জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ;
 
অনুচ্ছেদ - ১১ :
- মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ;
- মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিতকরণ;
 
অনুচ্ছেদ -১০ :
- মানুষের উপর মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ;

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 
২২.
নিম্নের কোনটিকে 'উপযুক্ততা মূল্যবোধ' বলা হয়?
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) সক্ষমতা
  3. গ) সুখ
  4. ঘ) সাম্যতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ (Values) :মানুষের মধ্যে কিছু স্থায়ী প্রত্যাশা থাকে যা ভাল বলে প্রতীয়মান হয়, তা-ই মূল্যবোধ। এগুলো মানুষের নৈতিক মান গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মূল্যবোধকে “অন্তর্নিহিত বিশ্বাস” বলে আখ্যায়িত করা যায় যা মানুষের মনোভাব ও কার্যকে প্রভাবিত করে। 
নিচে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:
১। শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ (Terminal Values) : শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ বলতে এমন কতগুলো প্রত্যাশাকে বুঝায় যা মানুষ সারাজীবনে অর্জন করতে চায়। অর্থাৎ জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও মানুষ সে-ই সকল প্রত্যাশা পূরণ করতে চায়। যা জীবনের শুরুতেই প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
২। ব্যক্তিক মূল্যবোধ (Personal Values) : প্রতিটি মানুষের কিছু একান্ত প্রত্যাশা থাকে যা নিজের জীবনের জন্য অর্জন করতে চায়, তা-ই ব্যক্তিক মূল্যবোধ। যেমন- আরাম-আয়েশপূর্ণ জীবন, স্বাধীনতা, সুখ প্রভৃতি।
৩। যান্ত্রিক মূল্যবোধ (Instrumental Values) : এটি এমন মূল্যবোধ যা ব্যবহার করে মানুষ তার জীবনের শেষ প্রান্তের মূল্যবোধকে অর্জন করতে চায়। যেমন- আচরণের ধরন, কাজের ধরন প্রভৃতি ।
৪। নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values) : নৈতিক মূল্যবোধ হলো মানুষের আন্তঃব্যক্তিক গুণাবলি, যা তাদের আচরণকে প্রভাবিত করে। যেমন- সততা, উৎফুল্লতা, সাহসিকতা, অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা প্রভৃতি। এ সকল নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ কোনো খারাপ কাজে ব্যথিত হয় ।
৫। উপযুক্ততা মূল্যবোধ (Competence Values) : এটি এমন কতগুলো উপাদানের সমাহারকে বুঝায় যা মানুষকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে। যেমন- উচ্চাভিলাষী, সক্ষমতা, মেধা, দায়-দায়িত্ব প্রভৃতি। এ সকল গুণ যাদের মধ্যে বিদ্যমান তারা খারাপ কাজে লজ্জিত হয়।
৬। সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values) : মানুষ সামাজিক জীব। তাই তারা সমাজে বসবাস করে। তাই সমাজকে বসবাসযোগ্য রাখতে হবে। এ জন্য কতিপয় মূল্যবোধ জাগিয়ে রাখতে হবে। যেমন- সাম্যতা, জাতীয় নিরাপত্তা, বিশ্ব শান্তি প্রভৃতি।
 
উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৩.
কোনটি দ্বারা শাসনযন্ত্রের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য বুঝায়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) সংবেদনশীলতা
  4. ঘ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
- সংবেদনশীলতা হচ্ছে শাসনযন্ত্রের এমন দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য যার মাধ্যমে জনসাধারণের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সকল বৈধ প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া যথাসময়ে পূরণ করা সম্ভব হয়।
- অর্থাৎ, সরকার জনগণের আশাআকাঙ্খা যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই সংবেদনশীলতা।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীদের বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা নিম্নের কোন নীতিটি জড়িত?
  1. ক) সমান বৈষম্য
  2. খ) লিঙ্গ সমতা
  3. গ) বিপরীত বৈষম্য
  4. ঘ) আনুপাতিক সমতা
ব্যাখ্যা
স্বার্থের সম-বিবেচনার মতবাদ:
নিশ্চয়তা না দিয়েও সমতা-নীতি বাস্তবায়নে কথা বলে। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা তার নিজস্ব ছাঁচে ফেলে বিচার-বিবেচনা করে এসব তত্ত্বের আলোকে সমানাধিকারের প্রশ্নগুলো আলোচনা করতে পারে।
পিছিয়ে পড়াদেরকে এক সারিতে আনার জন্য ‘বিপরীত বৈষম্যের' প্রবর্তন সমতা-নীতির বিরোধী নয়।
সমতার প্রশ্নে “বিপরীত-বৈষম্যের” (reverse discrimination) ধারণাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে। অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়। বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন। আর একেই বলে ‘বিপরীত-বৈষম্যের' নীতি।
 
 একটা উদাহরণ দেয়া যাক। আমাদের সমাজে মেয়েরা শিক্ষা-দীক্ষায়, চাকুরীতে পুরুষদের চেয়ে পেছনে পড়ে আছে। এমতাবস্হায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদেরকে বিশেষ বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং চাকুরীর ক্ষেত্রে তাদের জন্য কোটা প্রথা রয়েছে। এটা সমতা-নীতির স্বার্থেই। অবশ্য অনেকে একে এ নীতির পরিপন্থী বলেও মনে করেন।
ন্যায়ের আলোচনা খুবই প্রাচীন এবং অধিকার, স্বাধীনতা, সমতা সবগুলো ধারণাই এর সঙ্গে জড়িত।
 
উৎসঃ নীতিবিদ্যা বই (SSHL); উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
আধ্যাত্মিক সুখবাদ হলো -
  1. ক) স্থূল ও সূক্ষ্ম সুখবাদের সমন্বয়।
  2. খ) আত্মসুখবাদ ও সর্বজনীন সুখবাদের সমন্বয়।
  3. গ) গ্রিক সুখবাদ ও ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সমন্বয়।
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগে আরববিশ্ব জ্ঞানের চর্চা অব্যাহত রেখেছিল আর দর্শনের ক্ষেত্রে আরব পন্ডিতরা যে গ্রিকদের দ্বারা খুবই প্রভাবিত ছিলেন তা মসুলিম দর্শনের ছাত্রমাত্রই জানেন।
- আরব তথা মুসলিম দার্শনিকদের প্রায় সকলেরই চেষ্টা -ছিল ইসলামের শিক্ষা ও গ্রিক দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। 
- এই সমন্বয় প্রচেষ্টা তাঁদের নৈতিক চিন্তার মধ্যেও দেখা যায়।
- আল্লাহতায়ালা ভাল কাজের জন্য পরকালে পুরস্কার (সুখ) এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তির (দুঃখ) ব্যবস্থা রেখেছেন, ইসলামের এই মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁরা গ্রিক সুখবাদের সমন্বয় সাধন করেন। 
- এই সমন্বয়কে আধ্যাত্মিক সুখবাদ নাম দেয়া যেতে পারে; কেননা  তাঁরা সুখের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা গতানুগতিক কোন সুখ নয়। এর প্রেক্ষিতটি আধ্যাত্মিক।
- মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যে প্রায় সকলের মধ্যেই এই ধরনের চিন্তাধারার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। 
- তবে যিনি প্রথম অত্যন্ত সুসংবদ্ধভাবে এই আধ্যাত্মিক সুখবাদের বর্ণনা দেন তিনি হচ্ছেন আহমদ বিন মোহাম্মদ মিশকাৰী (৯৩৬-১০৩০)। 
- এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গ্রিকদের সুখ বা আনন্দের | প্রতিশব্দ হিসেবে মুসলিম দার্শনিকরা 'সা'আদা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। 
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।