পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৮: টপিক সমূহ: প্রধান নদ-নদী সমূহের উপ ও শাখা নদী; বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রকৃতি ও সম্পদ [Live Class –12 & 13]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
নিম্নের কোনটি মেঘনা নদীর উপনদী নয়?
  1. মনু
  2. গোমতী
  3. আত্রাই
  4. বাউলাই
ব্যাখ্যা

মেঘনা (Meghna): 
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে। 
- এর মধ্যে একটি উত্তর সিলেট থেকে সুরমা নামে এবং অন্যটি দক্ষিণ সিলেট থেকে কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- পরে সুরমা, কুশিয়ারা এবং কালনী নদীর মিলিত স্রোত কালনী নামে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে। 
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে। 
- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। 
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার। 
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম। 
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

​অন্যদিকে,
​- 'আত্রাই' যমুনা নদীর উপনদী।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে কোন ধরনের বনভূমি দেখা যায়?
  1. স্রোতজ বনভূমি
  2. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি
  3. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি: 
- ​ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যাওয়া। 
​- তবে গ্রীষ্মকালে গাছগুলোতে আবার নতুন কচি পাতা গজায়।
​- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমির অবস্থান দেখতে পাওয়া যায়। 
​- পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমিকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি এবং রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি।

​ক. মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি: 
- ​ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। 
​- এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গজারী হওয়ায় এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত। 
​- এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার।

খ. রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি:
​- রংপুর ও দিনাজপুর জেলার প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি অবস্থিত। 
​- এখানকার প্রধান বৃক্ষ শাল। এজন্য এটি শাল বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত। 
​- এ বনভূমির আয়তন প্রায় ৩৯ বর্গকিলোমিটার।

​​তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল কোনটি?
  1. চা
  2. ইক্ষু
  3. পাট
  4. গম
ব্যাখ্যা

পাট (Jute):
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। 
​- বাংলাদেশে সাধারণত দুই প্রকার পাট চাষ হয়, দেশি এবং তোষা পাট। 
​- রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, যশোর, ঢাকা, কুষ্টিয়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা প্রভৃতি জেলায় পাট চাষ ভালো হয়।
- পাট উষ্ণ অঞ্চলের ফসল।
​- পাট চাষের জন্য অধিক তাপমাত্রা (২০ থেকে ৩৫° সেলসিয়াস) এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের (১৫০ থেকে ২৫০ সেন্টিমিটার) প্রয়োজন হয়।
- নদীর অববাহিকায় পলিযুক্ত দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখানদী কোনগুলো?
  1. ধরলা ও তিস্তা
  2. বংশী ও শীতলক্ষ্যা
  3. গড়াই ও ভৈরব
  4. তিতাস ও গোমতী
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

উল্লেখ্য,
ক) ধরলা ও তিস্তা- ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
গ) গড়াই ও ভৈরব- পদ্মা নদীর শাখানদী।
ঘ) তিতাস ও গোমতী- মেঘনা নদীর উপনদী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বেশি দেখা যায়?
  1. বৃষ্টিহীন অঞ্চলে
  2. শুষ্ক অঞ্চলে
  3. অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার অংশবিশেষ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে এ বনভূমি অবস্থিত। 
​- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষ এবং অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি অবস্থিত। 
​- চিরহরিৎ বৃক্ষসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো চাপালিশ, তেলসুর, ময়না প্রভৃতি। 
​- আর পাতাঝরা বা পর্ণমোচী বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, শিমুল, কড়ই, জারুল, সেগুন উল্লেখযোগ্য। 
​- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমির মোট আয়তন প্রায় ১৫,৩২৬ বর্গ কিলোমিটার।

​তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
দেশের বাণিজ্যিক জ্বালানির সবচেয়ে বড় অংশ কোন খনিজ দ্বারা পূরণ করা হয়?
  1. কয়লা
  2. খনিজ তেল
  3. চুনাপাথর
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা

খনিজ সম্পদ: 
​- বিশ্বের যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে খনিজ সম্পদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 
​- বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ না হলেও যেটুকু খনিজ সম্পদ রয়েছে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
​- খনিজ সম্পদসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লা, কঠিন শিলা, চুনাপাথর, নুড়িপাথর প্রভৃতি।
​- দেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের শতকরা ৭১ ভাগ পূরণ করে প্রাকৃতিক গ্যাস।
​- খনিজ তেল পরিশোধন করে ডিজেল, কেরোসিন প্রভৃতিতে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়। 
​- প্রাপ্ত খনিজ সম্পদগুলো বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেমন- চুনাপাথর সিমেন্ট শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
​- এছাড়া কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে খনিজ সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

​তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার, ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ধান চাষের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা কত?
  1. ১০°–১৫° সেলসিয়াস
  2. ১৬°–৩০° সেলসিয়াস
  3. ৩১°–৩৫° সেলসিয়াস
  4. ৩৬°–৪০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

ধান (Rice):
- বাংলাদেশের খাদ্য-শস্যের মধ্যে ধানই প্রধান। এ দেশে আউশ, আমন, বোরো প্রভৃতি ধরনের ধান চাষ হয়। 
​- বাংলাদেশের রংপুর, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, বগুড়া, দিনাজপুর, ঢাকা, নোয়াখালী প্রভৃতি অঞ্চলে ধান চাষ বেশি হয়। 
​- তবে রংপুরে আমন ধান ও সিলেটে বোরো ধান ভালো হয়।
- ধান চাষের জন্য ১৬° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন এবং ১০০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় ধানের ফলন ভালো হয়।
- নদী অববাহিকায় পলিমাটি ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। 
​- এজন্য বাংলাদেশের সর্বত্রই ধান জন্মে।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
বাংলাদেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন নদীর ওপর স্থাপিত হয়েছে?
  1. নাফ
  2. মেঘনা
  3. কর্ণফুলী
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলী নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী।
- এটি মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশে মোট কয়টি আন্তঃসীমান্ত নদী প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ৪৭টি
  2. ৫৭টি
  3. ৬৭টি
  4. ৭৭টি
ব্যাখ্যা

আন্তঃসীমান্ত নদী (Trans-boundary Rivers):
​​- আন্তঃসীমান্ত নদী বলতে সাধারণত সেসমস্ত নদীকে বুঝায় যেগুলি অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে।
​- এই সীমা একটি দেশের অভ্যন্তরস্থ বা আন্তর্জাতিক হতে পারে।
​- বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে।
​- আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ৫৪টি নদী ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
​-​ ৫৪ টির মধ্যে ৫১টি নদী বস্তুতঃপক্ষে তিনটি বৃহৎ নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার অববাহিকাভুক্ত।
​- মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৩ টি।

​উৎস: যৌথ নদী কমিশন। [Link​]

১০.
ইক্ষু চাষের জন্য কোন ধরনের ভূমি প্রয়োজন?
  1. পাহাড়ি ঢালু ভূমি
  2. সমতলভূমি
  3. উঁচু পাহাড়ি ভূমি
  4. জোয়ার-ভাটাযুক্ত নিম্নভূমি
ব্যাখ্যা

ইক্ষু (Sugarcane):
- চিনি ও গুড় উৎপাদনের জন্য ইক্ষু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ফসল। 
​- ইক্ষু চাষের জন্য সমতলভূমি প্রয়োজন। 
​- রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর ও ময়মনসিংহ ইক্ষু চাষের প্রধান অঞ্চল (চিত্র ১১.২)।
- ইক্ষু উৎপাদনের জন্য ১৯° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং কমপক্ষে ১৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন।
- বেলে দোআঁশ ও কর্দমময় দোআঁশ মাটিতে ইক্ষু চাষ ভালো হয়।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১১.
মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. কপোতাক্ষ
  2. ভাগীরথী
  3. করতোয়া
  4. ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা

করতোয়া: 
​- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
​- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুন্ঠপুর জলাভূমি থেকে করতোয়া নদীর উৎপত্তি। 
​- এটি পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
​- এরপর দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার নিকট আত্রাই নামে পরিচিত। 
​- সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে সমাধিঘাট পর্যন্ত অগ্রসর হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে। 
​- এরপর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হয়ে আবার রাজশাহী জেলার দেওয়ানপুরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বড়াল নদীর মধ্য দিয়ে পাবনার বেড়ার নিকট যমুনায় পতিত হয়েছে। 
​- করতোয়া যমুনার দীর্ঘতম উপনদী।

​উল্লেখ্য,​
​- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন দূর্গনগরী।
​- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
​- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
​- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

​​তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
সিলেট জেলার হরিপুরে খনিজ তেল আবিষ্কৃত হয় কবে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা

খনিজ তেল (Petroleum):
- বর্তমান যান্ত্রিক যুগে খনিজ তেল একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। 
​- শক্তি, তাপ এবং আলো উৎপাদনের কাজে খনিজ তেল ব্যবহার করা হয়। 
​- খনিজ তেল পরিশোধন করে ডিজেল, কেরোসিন, গ্যাসোলিন, প্যারাকিন, বিটুমিন প্রভৃতি পাওয়া যায়। 
​- ১৯৮৬ সালে সিলেট জেলার হরিপুরে প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের সপ্তম কূপে বাংলাদেশে প্রথম তেল পাওয়া যায়। 
​- একূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৬০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়।
​- মৌলভীবাজার জেলার বরমচালে দৈনিক প্রায় ১২০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়।
​- এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে খনিজ তেল পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে বিশেষজ্ঞগণ ধারণা করছেন। 

​উল্লেখ্য,
- ​বাংলাদেশের জ্বালানি তেল মজুদ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, বিপনন এবং চাহিদা অনুযায়ী আমদানির কাজ সম্পাদন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। 
​- অপরিশোধিত খনিজ তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারী শোধনাগারে পরিশোধন করা হয়।

​তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।