পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১১৬
সিলেবাস
ফুল মডেল টেস্ট - ৩
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১৬ প্রশ্ন

.
সংস্কৃত সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপ কোনটি?
  1. নাট্যসাহিত্য
  2. মহাকাব্য
  3. বেদ
  4. উপনিষদ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত সাহিত্যের সূচনা হয় বৈদিক যুগে। বেদ হল প্রাচীনতম ও প্রধান সাহিত্য, যা মূলত শ্রুতিসাহিত্য হিসেবে প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ। বেদে দেবতা, স্তোত্র, যজ্ঞ এবং দর্শনের প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে। তাই সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস বেদের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে।

.
বৈদিক সাহিত্যের পরবর্তী পর্যায়কে কী বলা হয়?
  1. উপনিষদ যুগ
  2. মহাকাব্য যুগ
  3. নাট্য যুগ
  4. উত্তর বৈদিক যুগ
ব্যাখ্যা

বৈদিক যুগের পরবর্তী সাহিত্যকে উত্তর বৈদিক যুগ বলা হয়। এই সময় ব্রাহ্মণগ্রন্থ, আরণ্যক ও উপনিষদ রচিত হয়। এখানে বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান, দার্শনিক চিন্তা ও তত্ত্বকথা বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। মহাকাব্য যুগ শুরু হওয়ার পূর্বে এই উত্তর বৈদিক সাহিত্য সংস্কৃত ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্তর।

.
নাট্যশাস্ত্রের প্রণেতা কে বলে ধরা হয়?
  1. কালিদাস
  2. শূদ্রক
  3. ভাস
  4. ভরত
ব্যাখ্যা

নাট্যশাস্ত্র প্রাচীন ভারতীয় নাট্য ও অভিনয়কলার মৌলিক গ্রন্থ। এর প্রণেতা ঋষি ভরত। নাট্যশাস্ত্রে অভিনয়, সংগীত, নৃত্য, রস-তত্ত্ব ইত্যাদি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এটি সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে এক অমূল্য দলিল, যা নাট্যরচনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

.
সংস্কৃত সাহিত্যে "কাব্য যুগ" বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়?
  1. বৈদিক যুগ
  2. মহাকাব্য যুগ
  3. গুপ্ত যুগ
  4. মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা

গুপ্ত যুগকে সংস্কৃত সাহিত্যের "সুবর্ণ যুগ" বলা হয়। এ সময় কালিদাস, ভাস, শূদ্রক প্রমুখ মহাকবি জন্মগ্রহণ করেন। কাব্য, নাটক ও অলঙ্কারশাস্ত্রের বিস্তার ঘটে এই সময়ে। বিশেষত কালিদাসের রচনার জন্যই গুপ্ত যুগকে কাব্য যুগ বলা হয়। তাই এই যুগকে সাহিত্য বিকাশের সর্বোচ্চ শিখর ধরা হয়।

.
সংস্কৃত সাহিত্যে "চম্পূ কাব্য" কিসের জন্য বিশেষ?
  1. নাটক ও কাব্যের সংমিশ্রণ
  2. কাব্য ও গদ্যের সংমিশ্রণ
  3. শুধুই মহাকাব্য
  4. কেবল দর্শন
ব্যাখ্যা

চম্পূ কাব্যে গদ্য ও পদ্য উভয়ের সংমিশ্রণ পাওয়া যায়। এটি সংস্কৃত সাহিত্যের একটি অনন্য ধারারূপে বিবেচিত। এর মাধ্যমে কাহিনিকে একদিকে কাব্যময়, অন্যদিকে বর্ণনামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়। ভট্টি চম্পূ একটি প্রসিদ্ধ রচনা। ফলে চম্পূ কাব্য সাহিত্য ইতিহাসে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

.
আধুনিক যুগে সংস্কৃত সাহিত্যের পুনর্জাগরণের পেছনে কার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. দয়ারাম
  3. রামমোহন রায়
  4. মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী
ব্যাখ্যা

আধুনিক যুগে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য পুনর্জাগরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বেদ অধ্যয়ন ও প্রচারকে নতুনভাবে সংগঠিত করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় সংস্কৃত শিক্ষা পুনরায় জনপ্রিয় হয়। সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি আধুনিক যুগের অন্যতম পথিকৃৎ।

.
কোন উপনিষদে "তত্ত্বমসি" মহাবাক্য পাওয়া যায়?
  1. ঐতরেয় উপনিষদ
  2. মাণ্ডূক্য উপনিষদ
  3. ছান্দোগ্য উপনিষদ
  4. কৌষীতকি উপনিষদ
ব্যাখ্যা

"তত্ত্বমসি" অর্থাৎ ‘তুমি সেই’ — এই মহাবাক্য ছান্দোগ্য উপনিষদের অষ্টম অধ্যায়ে পাওয়া যায়। এর অর্থ মানুষ ও পরমাত্মা একই সত্তার প্রকাশ। গুরু তাঁর শিষ্যকে বোঝান যে আত্মা ও ব্রহ্ম অভিন্ন। এই উপনিষদ ব্রহ্ম-বিদ্যার অন্যতম প্রধান গ্রন্থ।

.
মাণ্ডূক্য উপনিষদ প্রধানত কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. কর্মতত্ত্ব
  2. ‘ওঁ’-এর ব্যাখ্যা
  3. যজ্ঞপদ্ধতি
  4. ধর্মনীতি
ব্যাখ্যা

মাণ্ডূক্য উপনিষদে "ওঁ" ধ্বনিকে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক বলা হয়েছে। এখানে জাগ্রত, স্বপ্ন, সুপ্তি এবং তুরীয় – এই চার অবস্থার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উপনিষদটি ছোট হলেও গভীর দর্শন ধারণ করে। এজন্যই মাণ্ডূক্যকে উপনিষদ সাহিত্যের মণিমুক্তা বলা হয়।

.
কোন উপনিষদে যম ও নচিকেতার সংলাপ পাওয়া যায়?
  1. কঠোপনিষদ
  2. কেনোপনিষদ
  3. ঈশোপনিষদ
  4. প্রাশ্নোপনিষদ
ব্যাখ্যা

কঠোপনিষদে যম ও নচিকেতার সংলাপ বিখ্যাত। নচিকেতা মৃত্যুর রহস্য জানার জন্য যমকে প্রশ্ন করে। যম তাকে আত্মার অমরত্ব, ব্রহ্মতত্ত্ব ও মুক্তির পথ শিক্ষা দেন। এই উপনিষদে জীবন-মৃত্যু ও অমৃতত্ব সম্পর্কিত গূঢ় দর্শন ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

১০.
ব্রাহ্মণ গ্রন্থ মূলত কোন বিষয়ে রচিত?
  1. যজ্ঞকর্ম ও আচারবিধি
  2. দর্শন
  3. কাব্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

ব্রাহ্মণ গ্রন্থ বেদীয় সাহিত্যের অংশ, যা যজ্ঞ ও আচারসংক্রান্ত নিয়ম-কানুন ব্যাখ্যা করে। এতে যজ্ঞের পদ্ধতি, দেবতাদের উদ্দেশ্যে আচার এবং তার ফলাফল বিশদভাবে উল্লেখ আছে। এগুলো মূলত প্রয়োগশাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এজন্য ব্রাহ্মণ গ্রন্থকে বেদীয় আচারবিধির বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ বলা হয়।

১১.
‘ঐতরেয় ব্রাহ্মণ’ কোন বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. ঋগ্বেদ
  2. যজুর্বেদ
  3. সামবেদ
  4. অথর্ববেদ
ব্যাখ্যা

ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ঋগ্বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রধান ব্রাহ্মণ গ্রন্থ। এতে বিশেষভাবে সোমযজ্ঞ, অগ্নিহোত্র ইত্যাদির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। ঋগ্বেদের মন্ত্রগুলোর ব্যবহারিক দিক এখানে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এজন্য ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ঋগ্বেদীয় আচার-অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান নির্দেশিকা।

১২.
শতপথ ব্রাহ্মণ কোন বেদের সঙ্গে যুক্ত?
  1. ঋগ্বেদ
  2. যজুর্বেদ
  3. সামবেদ
  4. অথর্ববেদ
ব্যাখ্যা

শতপথ ব্রাহ্মণ যজুর্বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটি বৃহত্তম ব্রাহ্মণ রচনা, যেখানে যজ্ঞপদ্ধতি, দেবকথা ও দার্শনিক ভাবনা একত্রে মিশেছে। বিশেষভাবে ‘পুরুষমেধ’, ‘অশ্বমেধ’ প্রভৃতি যজ্ঞ এখানে বিশদভাবে আলোচিত। ফলে এটি ব্রাহ্মণ সাহিত্যের শীর্ষস্থানীয় গ্রন্থ হিসেবে খ্যাত।

১৩.
ব্রাহ্মণ সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. দর্শনের ব্যাখ্যা
  2. দেবকাহিনি রচনা
  3. মন্ত্রের প্রয়োগ ও যজ্ঞের ব্যাখ্যা
  4. গদ্যকাব্য রচনা
ব্যাখ্যা

ব্রাহ্মণ সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য হলো বেদীয় মন্ত্রগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ নির্ধারণ করা। অর্থাৎ কোন মন্ত্র কোন যজ্ঞে, কীভাবে ব্যবহৃত হবে এবং তার ফল কী হবে তা এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেবকাহিনি ও প্রতীকী অর্থও দেওয়া হয়েছে। এজন্য এগুলোকে আচারভিত্তিক সাহিত্য বলা হয়।

১৪.
কোন ব্রাহ্মণ গ্রন্থে দেব-অসুর সংঘর্ষ, মনু ও প্রলয়ের কাহিনি পাওয়া যায়?
  1. গোপথ ব্রাহ্মণ
  2. ঐতরেয় ব্রাহ্মণ
  3. শতপথ ব্রাহ্মণ
  4. তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ
ব্যাখ্যা

শতপথ ব্রাহ্মণে শুধু যজ্ঞপদ্ধতি নয়, বহু পুরাণসদৃশ কাহিনি সংকলিত রয়েছে। যেমন— দেব-অসুর সংঘর্ষ, মনুর বংশ, প্রলয়ের কাহিনি ইত্যাদি। এই কাহিনিগুলো থেকে পুরাণসাহিত্যের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাই শতপথ ব্রাহ্মণ আচারশাস্ত্র ছাড়াও পুরাণের প্রাচীন উৎস হিসেবে বিশেষ মূল্যবান।

১৫.
পুরাণ সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. যজ্ঞকর্মের ব্যাখ্যা
  2. নাট্যচর্চা
  3. গদ্যকাব্য রচনা
  4. ধর্ম, নীতি ও কাহিনির মাধ্যমে শিক্ষাদান
ব্যাখ্যা

পুরাণ সাহিত্যের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ জনগণের কাছে ধর্মীয়, নৈতিক ও দার্শনিক শিক্ষা সহজ ভাষায় পৌঁছে দেওয়া। এখানে দেব-দেবীর কাহিনি, মন্বন্তর, রাজবংশের বৃত্তান্ত, সৃষ্টিতত্ত্ব ও আচারবিধি তুলে ধরা হয়েছে। তাই পুরাণ সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজে ধর্ম ও নৈতিকতার প্রচার ঘটে।

১৬.
কতটি পুরাণকে ‘মহাপুরাণ’ বলা হয়?
  1. ১০টি
  2. ১২টি
  3. ১৮টি
  4. ২৪টি
ব্যাখ্যা

মোট ১৮টি পুরাণকে মহাপুরাণ বলা হয়। যেমন— বিষ্ণু পুরাণ, শিব পুরাণ, ভাগবত পুরাণ, মার্কণ্ডেয় পুরাণ, ব্রহ্ম পুরাণ, পদ্ম পুরাণ ইত্যাদি। প্রতিটি মহাপুরাণে ১৮টি লক্ষ শ্লোক থাকার নিয়ম বলা হলেও বাস্তবে সংখ্যায় তার ভিন্নতা আছে। এই ১৮টি মহাপুরাণই ভারতীয় সংস্কৃতির প্রধান ভিত্তি।

১৭.
ভাগবত পুরাণের মূল কেন্দ্রবিন্দু কে?
  1. শিব
  2. ব্রহ্মা
  3. দুর্গা
  4. বিষ্ণু ও তাঁর অবতার কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা

ভাগবত পুরাণ বিষ্ণুভক্তি বা বৈষ্ণবধর্মকেন্দ্রিক। বিশেষত ভগবান কৃষ্ণের লীলা, গোপীগণ ও ভক্তির মাহাত্ম্য এখানে বিশদভাবে বর্ণিত। এই পুরাণে ভক্তিকে মুক্তির প্রধান পথ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য ভাগবত পুরাণকে ভক্তি সাহিত্যের ভিত্তিপ্রস্তর ধরা হয়।

১৮.
দেবী মহাত্ম্য কোন পুরাণের অংশ?
  1. ব্রহ্ম পুরাণ
  2. শিব পুরাণ
  3. মার্কণ্ডেয় পুরাণ
  4. স্কন্দ পুরাণ
ব্যাখ্যা

মার্কণ্ডেয় পুরাণের একটি বিখ্যাত অংশ হলো "দেবী মহাত্ম্য" বা "চণ্ডী"। এতে দুর্গার বিভিন্ন রূপ, অসুর দমন এবং শক্তির মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। এই অংশের জন্যই মার্কণ্ডেয় পুরাণ বিশেষভাবে খ্যাত। দেবী মহাত্ম্য শাক্তধর্মের একটি প্রধান শাস্ত্র হিসেবে মান্য।

১৯.
পুরাণ সাহিত্যের ভাষা কোন রূপে রচিত হয়েছিল?
  1. প্রাকৃত ভাষায়
  2. সংস্কৃত ভাষায়
  3. পালি ভাষায়
  4. অপভ্রংশ ভাষায়
ব্যাখ্যা

পুরাণ সাহিত্যের মূল ভাষা সংস্কৃত। তবে এগুলোর ভাষা বেদ বা উপনিষদের মতো জটিল নয়, বরং সাধারণ মানুষের বোধগম্য রূপে উপস্থাপিত হয়েছে। এজন্য পুরাণকে বলা হয় “পঞ্চম বেদ”— কারণ সাধারণ মানুষের কাছে ধর্মীয় জ্ঞান প্রচারের উপযুক্ত মাধ্যম ছিল এগুলো।

২০.
সংস্কৃত সাহিত্যে গীতিকাব্যের জনক হিসেবে কাকে ধরা হয়?
  1. ভাস
  2. জয়দেব
  3. ভট্টিকবি
  4. কালিদাস
ব্যাখ্যা

কালিদাস সংস্কৃত সাহিত্যে গীতিকাব্যের পথিকৃৎ। তাঁর ‘মেঘদূত’ গীতিকাব্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, যেখানে প্রকৃতি, প্রেম ও বেদনা সুরেলা ছন্দে ফুটে উঠেছে। গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগঘন ভাবপ্রকাশ। তাই কালিদাসকে গীতিকাব্যের জনক বলা হয়।

২১.
জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কোন ধরনের কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মহাকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. চম্পূ কাব্য
  4. নাট্যকাব্য
ব্যাখ্যা

জয়দেব রচিত ‘গীতগোবিন্দ’ সংস্কৃত সাহিত্যের এক অনন্য গীতিকাব্য। এতে ভগবান কৃষ্ণ ও রাধার প্রেমলীলা পদাবলির মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। এই কাব্যে ভক্তি, শ্রঙ্গার ও সংগীতের মেলবন্ধন ঘটেছে। এজন্য ‘গীতগোবিন্দ’ ভক্তিকাব্য ও গীতিকাব্যের শিখরে অবস্থান করছে।

২২.
গীতিকাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
  1. বিশাল যুদ্ধকাহিনি
  2. যজ্ঞবিধির ব্যাখ্যা
  3. দর্শনের গভীর বিশ্লেষণ
  4. সংক্ষিপ্ততা, সুরেলা ছন্দ ও আবেগঘনতা
ব্যাখ্যা

গীতিকাব্যে মহাকাব্যের মতো দীর্ঘ কাহিনি থাকে না। এর মূল আকর্ষণ হলো সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগপূর্ণ প্রকাশ। প্রকৃতির রূপ, প্রেম, বেদনা, ভক্তি ও অনুভূতির গভীরতা এখানে কাব্যময় রূপে প্রকাশিত হয়। ছন্দ, রস ও সুরেলা গঠন গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২৩.
সংস্কৃত সাহিত্যে গদ্যকাব্যের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা হিসেবে কাকে গণ্য করা হয়?
  1. ভাস
  2. কালিদাস
  3. জয়দেব
  4. বাণভট্ট
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত সাহিত্যে গদ্যকাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রচয়িতা বাণভট্ট। তাঁর রচিত কাদম্বরী ও হর্ষচরিত গদ্যসাহিত্যের অমূল্য নিদর্শন। কাদম্বরীকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন উপন্যাস হিসেবে ধরা হয়। বাণভট্টের ভাষাশৈলী অলঙ্কারমণ্ডিত, কাব্যময় ও বর্ণনাশক্তিতে ভরপুর। এজন্য তাঁকে গদ্যকাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়।

২৪.
সংস্কৃত সাহিত্যে ‘কথাসরিৎসাগর’ কার রচনা?
  1. বাণভট্ট
  2. ভাস
  3. সোমদেব
  4. কালিদাস
ব্যাখ্যা

‘কথাসরিৎসাগর’ সংস্কৃত সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কথাসাহিত্য। এটি মূলত বৃহৎ আকারের গল্পসংকলন, যেখানে নীতিকথা, রূপকথা ও লোককথার সমন্বয় আছে। সোমদেব এটি রচনা করেছিলেন কাশ্মীরের রাজা অনন্তের রানি সুর্যবতীর জন্য। এই কাহিনিগুলি পরবর্তীকালে পৃথিবীর নানা ভাষায় অনুবাদিত হয়েছে। তাই একে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম রত্ন ধরা হয়।

২৫.
আখ্যায়িকা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কোনটি?
  1. হর্ষচরিত
  2. গীতগোবিন্দ
  3. মেঘদূত
  4. কাদম্বরী
ব্যাখ্যা

বাণভট্ট রচিত হর্ষচরিত আখ্যায়িকা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এটি সম্রাট হর্ষবর্ধনের জীবনীমূলক কাহিনি হলেও কাব্যময় শৈলীতে রচিত। আখ্যায়িকার বৈশিষ্ট্য হলো ইতিহাসনির্ভর বর্ণনা, যা গদ্যের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। হর্ষচরিত সেই বৈশিষ্ট্য বহন করে বলে আখ্যায়িকা সাহিত্যে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

২৬.
গীতার উপদেশ প্রদানের প্রধান উপলক্ষ কী ছিল?
  1. রাম-রাবণের যুদ্ধ
  2. যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞ
  3. কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রারম্ভে অর্জুনের সংকট
  4. দ্রৌপদীর স্বয়ম্ভর
ব্যাখ্যা

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে অর্জুন আত্মীয়-স্বজনকে হত্যা করার আশঙ্কায় যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে কর্ম, ভক্তি ও জ্ঞানযোগের মাধ্যমে কর্তব্যপালনের শিক্ষা দেন। এই শিক্ষা-সংলাপই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা নামে পরিচিত। তাই গীতা হলো সংকটকালে কর্তব্যনিষ্ঠার দার্শনিক দিশারি।

২৭.
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কোন ধরনের সাহিত্যধারার অন্তর্গত?
  1. গদ্যকাব্য
  2. দার্শনিক কাব্য
  3. প্রবন্ধকাব্য
  4. নাট্যকাব্য
ব্যাখ্যা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ভারতীয় দর্শনের অন্যতম প্রধান গ্রন্থ। এখানে জীবনের উদ্দেশ্য, আত্মার অমরত্ব, কর্মের মাহাত্ম্য ও ভক্তির গুরুত্ব বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দর্শনশাস্ত্রের মূল ধারণাগুলো কাব্যরূপে উপস্থাপিত হওয়ায় একে দার্শনিক কাব্য বলা হয়।

২৮.
গীতার ১৮ অধ্যায়কে সাধারণত কতটি যোগে ভাগ করা হয়?
  1. ২টি যোগে
  2. ৪টি যোগে
  3. ৬টি যোগে
  4. ৩টি যোগে
ব্যাখ্যা

গীতার ১৮ অধ্যায়কে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়— কর্মযোগ, ভক্তিযোগ ও জ্ঞানযোগ। প্রথম ছয় অধ্যায় কর্মযোগ, মধ্যবর্তী ছয় অধ্যায় ভক্তিযোগ, এবং শেষ ছয় অধ্যায় জ্ঞানযোগ বিষয়ক। তবে সব অধ্যায় পরস্পর সম্পর্কিত এবং মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করা।

২৯.
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার উপদেশ প্রথম কাকে প্রদান করা হয়েছিল?
  1. অর্জুনকে
  2. সঞ্জয়কে
  3. যুধিষ্ঠিরকে
  4. ধৃতরাষ্ট্রকে
ব্যাখ্যা

গীতার উদ্ভব ঘটে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধক্ষেত্রে। যুদ্ধ শুরুর আগে অর্জুন আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করতে দ্বিধান্বিত হন। তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে ধর্ম, কর্তব্য, কর্ম ও আত্মার অমরত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেন। এই শিক্ষা-সংলাপই পরবর্তীকালে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা নামে পরিচিত হয়।

৩০.
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে গীতা কাহিনি শ্রোতা হিসেবে কারা ছিলেন?
  1. শুধু অর্জুন
  2. অর্জুন ও সঞ্জয়
  3. অর্জুন, সঞ্জয় ও ধৃতরাষ্ট্র
  4. সমগ্র কুরুক্ষেত্রের সৈন্যবাহিনী
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ সরাসরি অর্জুনকে দেওয়া হলেও, সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে এই সংলাপ শুনিয়ে দেন। কারণ সঞ্জয়ের কাছে দ্যৈবদৃষ্টি (দিব্যদৃষ্টি) ছিল, যার দ্বারা তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনা রাজা ধৃতরাষ্ট্রকে বর্ণনা করতেন। তাই গীতার উদ্ভবের কাহিনি তিনজনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

৩১.
গীতা উদ্ভবের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. অর্জুনকে যুদ্ধের কৌশল শেখানো
  2. কৌরবদের পরাজিত করার উপায় বলা
  3. যুধিষ্ঠিরকে রাজা করা
  4. অর্জুনের মানসিক দ্বিধা দূর করে কর্তব্যের পথ প্রদর্শন
ব্যাখ্যা

গীতার উদ্ভবের মূল কারণ হলো অর্জুনের মানসিক দ্বিধা। আত্মীয়দের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে গিয়ে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে আত্মার চিরন্তনতা, কর্মফল ত্যাগ, ও কর্তব্যপালনের মাধ্যমে মুক্তির পথ শেখান। তাই গীতা মূলত কর্তব্যনিষ্ঠ জীবনের দার্শনিক নির্দেশিকা।

৩২.
গীতার প্রথম অধ্যায়ের নাম কী এবং এর মূল বিষয় কী?
  1. অর্জুনবিষাদযোগ – অর্জুনের দ্বিধা
  2. কর্মযোগ – নিঃসঙ্গ কর্ম
  3. জ্ঞানযোগ – আত্মার পরিচয়
  4. ভক্তিযোগ – ভক্তির মহিমা
ব্যাখ্যা

প্রথম অধ্যায়কে অর্জুনবিষাদযোগ বলা হয়। এখানে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরুর সময় অর্জুন আত্মীয় ও বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দ্বিধান্বিত হন। এই দ্বিধা ও মানসিক কষ্টই অধ্যায়ের মূল বিষয়। শ্রীকৃষ্ণ পরবর্তী অধ্যায়ে এই দ্বিধা দূর করার জন্য উপদেশ দেন।

৩৩.
গীতার কোন অধ্যায় কর্মসংক্রান্ত নির্দেশনা বা “কর্মযোগ” কেন্দ্রিক?
  1. দ্বিতীয়
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. সপ্তদশ
ব্যাখ্যা

তৃতীয় অধ্যায়কে কর্মযোগ বলা হয়। এখানে বলা হয়েছে যে জীবনের উদ্দেশ্য হলো কর্তব্যপালন, কিন্তু কর্মফলে আসক্তি না রাখা। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্মসংক্রান্ত নীতি, ধর্ম এবং দায়িত্ব পালন শেখান। এটি গীতার অন্যতম প্রধান দার্শনিক অংশ।

৩৪.
গীতার কোন অধ্যায়ে ভক্তি এবং শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সমর্পণের উপদেশ প্রধান?
  1. সপ্তম অধ্যায়
  2. দ্বাদশ অধ্যায়
  3. ত্রয়োদশ অধ্যায়
  4. ষষ্ঠ অধ্যায়
ব্যাখ্যা

দ্বাদশ অধ্যায় ভক্তিযোগ নামে পরিচিত। এখানে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন যে যিনি তাঁকে ভক্তিভরে স্মরণ করেন, সমস্ত কিছুর উপর ত্যাগ করেন, তিনি মুক্তি লাভ করেন। অধ্যায়টি ভক্তির গুরুত্ব, ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণ ও বিশ্বাসের উপদেশে সমৃদ্ধ।

৩৫.
শ্রীকৃষ্ণ কী উপদেশ দিয়েছেন যে মানুষকে কাজ করতে হবে কিন্তু ফলের আশায় আসক্ত না হতে হবে?
  1. “অহংকার ত্যাগ করো”
  2. “নিঃসঙ্গভাবে কর্ম করো”
  3. “ভক্তির মাধ্যমে মুক্তি অর্জন করো”
  4. “শাস্ত্রাবলম্বী হও”
ব্যাখ্যা

গীতার অন্যতম প্রধান বাণী হলো কাজের প্রতি নিবদ্ধ থাকা কিন্তু কর্মফলের প্রতি আসক্তি না থাকা। এটি নিষ্কাম কর্মযোগের মূলনীতি। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, যে ব্যক্তি কর্তব্য পালন করে কিন্তু ফলের দিকে চোখ রাখে না, তিনি সত্যিকারভাবে মুক্তি লাভ করেন।

৩৬.
শ্রীকৃষ্ণের কোন বাণী জীবনের লক্ষ্য ও আত্মার অমরত্বকে বোঝায়?
  1. “অহং ব্রহ্মাস্মি”
  2. “যিনিই নিজেকে জ্ঞানে চিনে, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ”
  3. “সকল প্রকার ভক্তি সমান”
  4. “মৃত্যু শেষ নয়”
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ আত্মার চিরন্তনতা শিক্ষা দেন। তিনি বলেন আত্মা জন্ম ও মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ নয়। দেহ ক্ষয় হয়, কিন্তু আত্মা অবিনশ্বর। এই বাণী অর্জুনকে যুদ্ধের ক্ষেত্রে দুঃখ ও দ্বিধা কাটিয়ে ধর্মপথে অনুপ্রাণিত করে।

৩৭.
শ্রীকৃষ্ণের কোন বাণী ভক্তিকে মুক্তির প্রধান পথ হিসেবে দেখায়?
  1. “কর্মই মানুষের মুক্তির মাধ্যম”
  2. “দুষ্টতার পরিহার কর”
  3. “জ্ঞানের মধ্যে অবিচল থাক”
  4. “যিনি আমাকে ভক্তিভরে স্মরণ করেন, তিনি মুক্ত হন”
ব্যাখ্যা

গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে ভক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ। যিনি ঈশ্বরকে হৃদয়ভরে স্মরণ করেন, সমস্ত কর্তব্য নিঃসঙ্গভাবে পালন করেন এবং তাঁর প্রতি সমর্পিত থাকেন, তিনি মুক্তি লাভ করেন। এটি ভক্তির গুরুত্বের অন্যতম স্পষ্ট প্রকাশ।

৩৮.
শ্রীকৃষ্ণ কোন বাণীতে নিষ্কাম কর্মের সঙ্গে জ্ঞানের সংমিশ্রণকে প্রাধান্য দিয়েছেন?
  1. “জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তি একসাথে পালন করো”
  2. “কেবল জ্ঞানেই মুক্তি”
  3. “শাস্ত্রবিধি মেনে চল”
  4. “অহংকার ত্যাগ করো”
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ শিক্ষা দেন যে মুক্তি একপথে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ— এই তিনটির সমন্বয়ে জীবন আলোকিত হয়। নিঃসঙ্গভাবে কর্ম করা, শুদ্ধ জ্ঞান অর্জন ও ভক্তি চর্চা একসাথে করলে ব্যক্তি চিরমুক্তি পায়।

৩৯.
শ্রীকৃষ্ণের কোন বাণী অর্জুনকে দার্শনিক সাহস দেয় যুদ্ধক্ষেত্রে?
  1. “অহংকার ত্যাগ করো”
  2. “যুদ্ধ করো, কারণ এটি তোমার ধর্ম”
  3. “প্রকৃতির প্রতি বিনম্র হও”
  4. “ভক্তির মধ্যে ধৈর্য রাখো”
ব্যাখ্যা

কুরুক্ষেত্রের প্রারম্ভে অর্জুন যুদ্ধ করতে দ্বিধান্বিত ছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে যুদ্ধে অংশ নেওয়া তাঁর ধর্ম (কর্তব্য) এবং তা ত্যাগ করা সঠিক নয়। এই বাণী অর্জুনকে নৈতিক ও দার্শনিক সাহস দেয়। ফলে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের কর্তব্য পালনে দৃঢ় হন।

৪০.
‘গায়ত্রী ছন্দ’ কত মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত?

  1. ১৩৪
  2. ২৪
  3. ৭৬
ব্যাখ্যা

গায়ত্রী ছন্দ সর্বাধিক জনপ্রিয় ছন্দ, যা সাধারণত ৩ পংক্তি এবং প্রতিটি পংক্তিতে ৮ মাত্রার সমন্বয় করে তৈরি হয়। মোট ২৪ মাত্রা হয়। এটি মূলত বেদমন্ত্রের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সংক্ষিপ্ত অথচ সূক্ষ্মতা এবং সুরের জন্য বিখ্যাত।

৪১.
‘জগতী ছন্দ’ সম্পর্কে সঠিক বিবরণ কোনটি?
  1. ৩ পংক্তি, প্রতি পংক্তিতে ৮ মাত্রা
  2. ৪ পংক্তি, প্রতি পংক্তিতে ১২ মাত্রা
  3. ৪ পংক্তি, প্রতি পংক্তিতে ৮ মাত্রা
  4. ২ পংক্তি, প্রতি পংক্তিতে ২৪ মাত্রা
ব্যাখ্যা

জগতী ছন্দ হলো দীর্ঘ এবং মেলোডিয়াস ছন্দ, যা সাধারণত মহাকাব্য ও নাট্যকাব্যে ব্যবহৃত হয়। এখানে ৪টি পংক্তি থাকে এবং প্রতিটি পংক্তিতে ১২ মাত্রা থাকে। এর কারণে এটি বিশদ, ভ্রান্তিহীন এবং গম্ভীরতার জন্য পরিচিত।

৪২.
সংস্কৃত ছন্দ বিশ্লেষণের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. মন্ত্রবিন্দুর সংরক্ষণ
  2. কবিতার সুর, মাত্রা ও ছন্দরূপ বোঝা
  3. আচারবিধি নির্ধারণ
  4. নাটকের চরিত্র চয়ন
ব্যাখ্যা

ছন্দ বিশ্লেষণের প্রধান লক্ষ্য হলো কবিতার সুর ও লয় সঠিকভাবে বোঝা। এতে প্রতি পংক্তির মাত্রা, রীতি, বিভাজন ও অলঙ্কার বিশ্লেষণ করা হয়। ছন্দ বিশ্লেষণের মাধ্যমে কবিতার সৌন্দর্য, মাধুর্য এবং ছন্দবিন্যাসের নিখুঁততা প্রকাশ পায়।

৪৩.
ছন্দের সংজ্ঞা কোনটি সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করে?
  1. কবিতার ভাব প্রকাশের পদ্ধতি
  2. কবিতার শব্দের সৌন্দর্য
  3. কবিতার লয় ও মাত্রার নিয়মিত বিন্যাস
  4. কবিতার অলঙ্কার ও রসের সমষ্টি
ব্যাখ্যা

ছন্দ হলো কবিতার লয়, স্বর ও মাত্রার এমন নিয়মিত বিন্যাস যা কবিতাকে সুরময় করে। ছন্দে পংক্তির মাত্রা, ধ্বনি এবং হ্রস্ব-দীর্ঘ শব্দের সমন্বয় থাকে। এটি কবিতার সৌন্দর্য, রস ও মাধুর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৪৪.
ছন্দের প্রধান প্রকারভেদ কোনটি?
  1. মাত্রিক ও অলঙ্কারিক
  2. কাব্যিক ও গদ্যিক
  3. স্বরযুক্ত (স্বর-ভিত্তিক) ও অলঙ্কারিক
  4. বেদিক ও উপনিষদিক
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত ছন্দ মূলত দুই প্রকারে বিভক্ত— মাত্রিক ছন্দ এবং অলঙ্কারিক ছন্দ। মাত্রিক ছন্দে লয় ও পংক্তির মাত্রা নির্ধারিত হয়, যেমন গায়ত্রী, জগতী। অলঙ্কারিক ছন্দে শব্দ ও অলঙ্কারের সৌন্দর্য, যেমন অনুপ্রাস, উপমা ইত্যাদির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৪৫.
নিম্নোক্ত কোনটি ছন্দের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. পংক্তির মাত্রা নির্ধারণ
  2. লয় ও ছন্দের মিলন
  3. কবিতার অর্থবোধ বৃদ্ধি
  4. মন্ত্র ও যজ্ঞ আচার
ব্যাখ্যা

ছন্দ মূলত কবিতার লয় ও মাত্রা নিয়ে কাজ করে। এটি পংক্তির স্বর, হ্রস্ব-দীর্ঘ শব্দ এবং লয় নির্ধারণ করে। ছন্দ কবিতার সৌন্দর্য ও অর্থবোধ বৃদ্ধি করে। তবে মন্ত্র বা যজ্ঞের আচার ছন্দের অংশ নয়; এগুলো ভিন্ন শাস্ত্রের বিষয়।

৪৬.
“রামঃ বনং গতমঃ।” এর সঠিক বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. রাম বন জয় করল
  2. রাম বনগামী হলেন
  3. রাম বন দেখতে গেলেন
  4. রাম বনের রাজা হলেন
ব্যাখ্যা

এখানে ‘রামঃ’ অর্থ রাম, ‘বনং’ অর্থ বন, ‘গতমঃ’ অর্থ গেলেন। তাই বাক্যের অর্থ হলো “রাম বনগামী হলেন।”

৪৭.
“বালকঃ ফলং খাদতি।” এর সঠিক বাংলা অনুবাদ?
  1. ছেলে ফল খায়
  2. ছেলে স্কুলে যায়
  3. ছেলে ঘুমায়
  4. ছেলে খেলা করে
ব্যাখ্যা

‘বালকঃ’ অর্থ ছেলে, ‘ফলং’ অর্থ ফল, ‘খাদতি’ মানে খাচ্ছে। সুতরাং বাক্যটির বাংলা অনুবাদ হলো “ছেলে ফল খায়।”

৪৮.
“কৃষ্ণঃ গঙ্গায়াম উপবিষ্টঃ।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. কৃষ্ণ গঙ্গায় বসে আছেন
  2. কৃষ্ণ গঙ্গায় খেলা করছেন
  3. কৃষ্ণ গঙ্গায় যাচ্ছেন
  4. কৃষ্ণ গঙ্গা পরিষ্কার করছেন
ব্যাখ্যা

‘উপবিষ্টঃ’ মানে বসে থাকা। বাক্যটির অর্থ হলো “কৃষ্ণ গঙ্গায় বসে আছেন।”

৪৯.
“সূর্যঃ উদয়তি।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. সূর্য অস্ত যায়
  2. সূর্য উদিত হয়
  3. সূর্য ছায়া দেয়
  4. সূর্য আকাশে থাকে
ব্যাখ্যা

উদয়তি’ অর্থ উদয় হওয়া। তাই বাক্যটির বাংলা অনুবাদ হলো “সূর্য উদিত হয়।”

৫০.
“গুরুঃ শিষ্যং শিক্ষয়তি।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. শিক্ষক শিষ্যকে পড়ান
  2. শিক্ষক শিষ্যকে ছেড়ে দিলেন
  3. শিক্ষক ঘুমাচ্ছেন
  4. শিক্ষক স্কুলে যাচ্ছেন
ব্যাখ্যা

‘শিষ্যং’ অর্থ শিষ্য, ‘শিক্ষয়তি’ মানে শিক্ষা দিচ্ছেন। তাই অনুবাদ হলো “শিক্ষক শিষ্যকে পড়ান।”

৫১.
“পুস্তকং মেজায়াং অস্তি।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. বইটি মেঝেতে আছে
  2. বইটি বইঘরে আছে
  3. বইটি হাতে আছে
  4. বইটি আলমারিতে আছে
ব্যাখ্যা

পুস্তকং’ অর্থ বই, ‘মেজায়াং’ মানে মেঝেতে। অনুবাদ হলো “বইটি মেঝেতে আছে।”

৫২.
“বালিকায়াঃ নাম সীতা।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. মেয়েটির নাম রাধা
  2. মেয়েটির নাম সীতা
  3. মেয়েটি ঘরে রয়েছে
  4. মেয়েটি স্কুলে যায়
ব্যাখ্যা

‘নাম’ অর্থ নাম, ‘সীতা’ হলো নাম। অনুবাদ হলো “মেয়েটির নাম সীতা।”

৫৩.
“চক্রবৎ পরিবর্তন্তে সুখানি চ দুঃখানি চ।” -এর বাংলা অনুবাদ?
  1. সুখ এবং দুঃখ চাকার মত
  2. সুখ-দুঃখ জীবনের সঙ্গী 
  3. সুখের পরিবর্তে দুঃখ আসে
  4. সুখ-দুঃখ চক্রাকারে পরিবর্তিত হয়।
ব্যাখ্যা

‘চক্রবৎ’ অর্থ চাকার মত বা চক্রাকারে , ‘সুখানি চ দুঃখানি চ' মানে সুখ ও দুঃখ, পরিবর্তন্তে মানে পরিবর্তিত হয়। অনুবাদ হলো “সুখ-দুঃখ চক্রাকারে পরিবর্তিত হয়।”

৫৪.
“অগ্নিঃ দীপং দহতি।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. আগুন দীপ জ্বালায়
  2. আগুন নদী খায়
  3. আগুন ঘুমায়
  4. আগুন বই পড়ে
ব্যাখ্যা

‘অগ্নিঃ’ অর্থ আগুন, ‘দীপং দহতি’ মানে জ্বালায়। অনুবাদ হলো “আগুন দীপ জ্বালায়।”

৫৫.
“পুষ্পাণি মৃগায় নীলং।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. ফুল গরুর উপর নীল
  2. ফুলটি গাছের উপর নীল
  3. ফুল নীল রঙের
  4. ফুল কাঁচা
ব্যাখ্যা

‘পুষ্পাণি’ অর্থ ফুল, ‘নীলং’ মানে নীল রঙের। অনুবাদ হলো “ফুল নীল রঙের।”

৫৬.
“নদী তটায় বালকঃ খেলা করতি।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. ছেলে নদীর তীরে খেলা করছে
  2. ছেলে নদীর তীরে বসেছে
  3. ছেলে নদীর পানি খাচ্ছে
  4. ছেলে ঘরে খেলা করছে
ব্যাখ্যা

‘নদী তটায়’ অর্থ নদীর তীরে, ‘বালকঃ খেলা করতি’ মানে ছেলে খেলা করছে।

৫৭.
“সীতাঃ গৃহে বসতি।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. সীতা বাড়িতে বসে আছেন
  2. সীতা বাইরে গেছে
  3. সীতা ঘুমাচ্ছে
  4. সীতা খেলা করছে
ব্যাখ্যা

‘গৃহে’ অর্থ বাড়িতে, ‘বসতি’ মানে বসে আছেন। অনুবাদ হলো “সীতা বাড়িতে বসে আছেন।”

৫৮.
“শিশুরা ফলং খানতি।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. শিশুরা খেলছে
  2. শিশুরা ফল খাচ্ছে
  3. শিশুরা ঘুমাচ্ছে
  4. শিশুরা বসে আছে
ব্যাখ্যা

‘শিশুরা’ অর্থ শিশু, ‘ফলং খানতি’ মানে ফল খাচ্ছে। অনুবাদ হলো “শিশুরা ফল খাচ্ছে।”

৫৯.
“পাখিঃ আকাশে উডিত।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. পাখি বসে আছে
  2. পাখি উড়ছে
  3. পাখি খাচ্ছে
  4. পাখি ঘুমাচ্ছে
ব্যাখ্যা

‘উডিত’ মানে উড়ছে। অনুবাদ হলো “পাখি আকাশে উড়ছে।”

৬০.
“গৃহঃ বড়।” এর বাংলা অনুবাদ?
  1. বাড়ি ছোট
  2. বাড়ি বড়
  3. বাড়ি নীল
  4. বাড়ি লাল
ব্যাখ্যা

গৃহঃ’ অর্থ বাড়ি, ‘বড়’ মানে বড়। অনুবাদ হলো “বাড়ি বড়।”

৬১.
“বালকঃ নদীতে স্নান করতি।” এর বাংলা?
  1. ছেলে নদীতে স্নান করছে
  2. ছেলে নদী খাচ্ছে
  3. ছেলে ঘরে স্নান করছে
  4. ছেলে নদীর পাশে বসে আছে
ব্যাখ্যা

বালকঃ’ অর্থ ছেলে, ‘নদীতে স্নান করতি’ মানে নদীতে স্নান করছে।

৬২.
“বালিকাঃ ফুল গ্রহন করতি।” এর বাংলা?
  1. মেয়েটি ফুল নষ্ট করে
  2. মেয়েটি ফুল নিচ্ছে
  3. মেয়েটি ফুল ছেড়ে দিলো
  4. মেয়েটি খেলছে
ব্যাখ্যা

বালিকাঃ’ মানে মেয়ে, ‘ফুল গ্রহন করতি’ মানে ফুল নিচ্ছে।

৬৩.
“গজরাজঃ বনং গম্যত।” এর বাংলা?
  1. হাতি বনগামী হল
  2. হাতি ঘুমাচ্ছে
  3. হাতি খাচ্ছে
  4. হাতি নদী পেরোল
ব্যাখ্যা

‘গজরাজঃ’ অর্থ হাতি, ‘বনং গম্যত’ মানে বনগামী হল।

৬৪.
ইংরেজি বাক্য: “The boy reads a book.”
সঠিক সংস্কৃত অনুবাদ কোনটি?
  1. বালকঃ পুস্তকং পাঠতি
  2. বালকঃ পাঠং পাঠতি
  3. বালকঃ পুস্তকং লিখতি
  4. বালকঃ পাঠং লিখতি
ব্যাখ্যা

এখানে ‘The boy’ অর্থ বালকঃ, ‘reads’ অর্থ পাঠতি, ‘a book’ অর্থ পুস্তকং। তাই পুরো বাক্যটির সংস্কৃত অনুবাদ হলো বালকঃ পুস্তকং পাঠতি। ক্রিয়ার সময় বর্তমানকাল অনুযায়ী পাঠতি ব্যবহার করা হয়েছে।

৬৫.
ইংরেজি বাক্য: “The girl plays in the garden.”
সঠিক সংস্কৃত অনুবাদ কোনটি?
  1. বালিকা উদ্যানে খেলতি
  2. বালিকা উদ্যানে পাঠতি
  3. বালিকা উদ্যানে লিখতি
  4. বালিকা উদ্যানে গচ্ছতি
ব্যাখ্যা

এখানে ‘The girl’ অর্থ বালিকা, ‘plays’ অর্থ খেলতি, ‘in the garden’ অর্থ উদ্যানে। তাই সম্পূর্ণ বাক্যের সংস্কৃত অনুবাদ হলো বালিকা উদ্যানে খেলতি। ক্রিয়ার বর্তমানকাল এবং অবস্থান সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

৬৬.
“অভিজ্ঞানশকুন্তলম” নাটকের নামকরণ কোন কারণে করা হয়েছে?
  1. নাটকে শকুন্তলার জন্মদর্শন বোঝাতে
  2. নাটকের রস প্রকাশ করতে
  3. নাটকের কাব্যিক অলঙ্কার দেখাতে
  4. নাটকে শকুন্তলার পরিচয় ও স্বাক্ষর বা “অভিজ্ঞান” প্রকাশ করতে
ব্যাখ্যা

‘অভিজ্ঞান’ অর্থ হলো কোনো কিছুর স্বীকৃতি বা পরিচয় চিহ্ন। নাটকের মূল কাহিনীতে শকুন্তলার পরিচয় হারিয়ে যায় এবং পরে একটি বিশেষ “অভিজ্ঞান” বা স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাজা দ্বারকাকে তিনি স্বীকৃতি পান। তাই নাটকের নামকরণ ঘটেছে এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে।

৬৭.
“অভিজ্ঞানশকুন্তলম” নাটকের নামকরণের মাধ্যমে প্রধান কোন ঘটনার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. শকুন্তলার সুন্দরী হওয়ার
  2. শকুন্তলার প্রেম কাহিনী
  3. শকুন্তলার স্বামীকে চিনে পাওয়া
  4. শকুন্তলার বাল্যজীবন
ব্যাখ্যা

নাটকের কেন্দ্রীয় ঘটনা হলো শকুন্তলা রাজা দুষ্মন্তের স্বামী এবং তাঁর সন্তানকে চিহ্নিত করাতে সক্ষম হওয়া। এই স্বীকৃতি বা “অভিজ্ঞান” নাটকের মূল উপজীব্য। নামকরণও মূলত এই ঘটনার গুরুত্ব প্রকাশ করে।

৬৮.
“অভিজ্ঞানশকুন্তলম” নাটকের নামকরণ কাকে কেন্দ্র করে?
  1. শকুন্তলার বাল্যজীবন
  2. শকুন্তলার সৌন্দর্য
  3. শকুন্তলার পরিচয় স্বাক্ষর বা অভিজ্ঞান
  4. রাজা দুষ্মন্তের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

নাটকের নামকরণের মূল কারণ হলো শকুন্তলার পরিচয়কে স্বীকৃতি দেওয়া বা “অভিজ্ঞান”। নাটকে শকুন্তলা ভুলে যাওয়া পরিচয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাজা ও রাজপ্রাসাদের সাথে মিলিত হয়। তাই নামকরণ বিশেষত এই ঘটনার উপর নির্ভরশীল।

৬৯.
'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' নাটকে কোন বিষয় শকুন্তলার আত্মপরিচয় হারানোর ঘটনাকে প্রকাশ করে?
  1. শকুন্তলার বাল্যজীবন
  2. অভিজ্ঞান বা স্বীকৃতি
  3. রাজকীয় সভা
  4. বনভ্রমণ
ব্যাখ্যা

নাটকে শকুন্তলার পরিচয় হারিয়ে যায় এবং রাজা তাকে চিনতে পারেন না। পরে শকুন্তলার দেহে থাকা একটি বিশেষ স্বাক্ষর বা “অভিজ্ঞান” দ্বারা রাজা তার পরিচয় বোঝেন। এটি নাটকের অন্যতম প্রধান বিষয়।

৭০.
“অভিজ্ঞানশকুন্তলম” নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো?
  1. রাজপ্রাসাদে রাজা ও শকুন্তলার মিলন
  2. শকুন্তলার শিক্ষাজীবন
  3. শকুন্তলার বনভ্রমণ
  4. রাজার যুদ্ধ কাহিনী
ব্যাখ্যা

নাটকের শেষাংশে শকুন্তলা রাজা দুষ্মন্তের সঙ্গে মিলিত হন। এই মিলন এবং সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘটনাই নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৭১.
'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' নাটকে প্রেম ও পারিবারিক সম্পর্কের কোন দিকটি প্রধানভাবে উপস্থাপিত?
  1. প্রেমের প্রতি বাধ্যবাধকতা
  2. রাজকীয় কর্তব্যের সংঘাত
  3. শকুন্তলার পিতৃপরিচয়
  4. বন ও প্রকৃতির সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা

নাটকে শকুন্তলা ও রাজা দুশ্যন্তের প্রেমকাহিনীতে বিভিন্ন সামাজিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা প্রদর্শিত হয়েছে। প্রেম, দায়িত্ব, নৈতিকতা এবং স্বীকৃতি এই বিষয়গুলো নাটকের মূল উপজীব্য।

৭২.
'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' নাটকে কোন বিষয় দর্শকের আবেগ ও রস উদ্দীপিত করে?
  1. শকুন্তলার বাল্যকাহিনী
  2. অভিজ্ঞান ও স্বীকৃতি লাভের ঘটনা
  3. বনপ্রবেশ
  4. রাজা দুশ্যন্তের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

শকুন্তলা যখন স্বীকৃতি বা অভিজ্ঞান পায়, তখন নাটকের দর্শক আবেগপূর্ণ ও রোমাঞ্চিত হয়। এটি নাটকের দর্শককেন্দ্রিক রস ও নাট্যলাভের প্রধান উৎস।

৭৩.
“অভিজ্ঞানশকুন্তলম” নাটকে প্রধান রস কোনটি?
  1. হাস্যরস
  2. শোকারস
  3. ভয়রস
  4. করুণরস
ব্যাখ্যা

নাটকে শকুন্তলার স্বামী রাজা দুশ্যন্তের সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণে নাটকটি মূলত করুণরসে ভরপুর। দর্শক শকুন্তলার ব্যথা ও দুঃখের সঙ্গে আবেগের যোগ অনুভব করেন। তাই করুণরস প্রধান রস।

৭৪.
'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' নাটকে কোন অলঙ্কার শকুন্তলার সৌন্দর্য ও আবেগ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপমা
  2. অনুপ্রাস
  3. পরিসম্প্রসারণ
  4. রূপক
ব্যাখ্যা

শকুন্তলার সৌন্দর্য ও অনুভূতি বোঝাতে উপমার ব্যবহার হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তাকে কুসুম বা চন্দনের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি দর্শকের কল্পনা শক্তি উদ্দীপিত করে।

৭৫.
'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' নাটকে কোন অলঙ্কার শোনার বা উচ্চারণের সুরময়তা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপমা
  2. অনুপ্রাস
  3. রূপক
  4. পরিসম্প্রসারণ
ব্যাখ্যা

অনুপ্রাস শব্দের ধ্বনি পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে উচ্চারণে সুর ও ছন্দ বৃদ্ধি করে। নাটকের সংলাপ ও কবিতাময় অংশে এটি শোনা যায়, যা শ্রোতার মনোযোগ ও আবেগ বাড়ায়।

৭৬.
'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' নাটকে রূপক অলঙ্কারের মাধ্যমে কোন বিষয় প্রকাশিত হয়েছে?
  1. শকুন্তলার প্রেম ও আশা
  2. রাজা দুশ্যন্তের শাসননীতি
  3. বন ও প্রাকৃতিক দৃশ্য
  4. যুদ্ধের কাহিনী
ব্যাখ্যা

রূপক অলঙ্কারের মাধ্যমে শকুন্তলার অনুভূতি, প্রেম ও আশা প্রতীকীভাবে প্রকাশিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শকুন্তলাকে ফুল বা আকাশের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা দর্শককে আবেগপ্রবণ করে।

৭৭.
স্বপ্নবাসবদত্তম নাটকের মূল কাহিনী কোনটি?
  1. রাজকুমারীর বাল্যজীবন
  2. রাজকুমার বসবদত্তার প্রেম ও বিবাহ
  3. রাজা যুদ্ধ ও রাজ্য সম্প্রসারণ
  4. দস্যুদের গল্প
ব্যাখ্যা

নাটকের কেন্দ্রীয় কাহিনী হলো রাজকুমার বসবদত্তার প্রেম, তার প্রণয় ও রাজকীয় বিবাহের ঘটনা। এটি নাটকের মূল উপজীব্য এবং দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

৭৮.
'স্বপ্নবাসব্দত্তম' নাটকে বসবদত্তা কোন সমস্যার সম্মুখীন হন?
  1. রাজ্যের অভাব
  2. প্রেমে ভুল বোঝাবুঝি ও বাধা
  3. বনভ্রমণ
  4. শিক্ষাজীবনের বাধা
ব্যাখ্যা

নাটকে রাজকুমার ও বসবদত্তার প্রেমে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধা আসে। এই ভুল বোঝাবুঝি নাটকের নাট্যরস এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি করে।

৭৯.
স্বপ্নবাসবদত্তম নাটকে কোন চরিত্রের কৌশল বা পরিকল্পনা গল্পের মোড় পরিবর্তন করে?
  1. রাজকুমার
  2. রাজকন্যা বসবদত্তা
  3. মন্ত্রিপরিষদ
  4. শত্রু বা প্রতিদ্বন্দ্বী
ব্যাখ্যা

নাটকের কাহিনীতে প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুর পরিকল্পনা ও কৌশল রাজকুমার ও বসবদত্তার প্রেমপথে বাধা সৃষ্টি করে। এতে নাটক আরও রোমাঞ্চকর এবং দর্শককেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।

৮০.
'স্বপ্নবাসবদত্তম' নাটকের সমাপ্তিতে প্রেমের ফলাফল কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?
  1. প্রেম ব্যর্থ হয়েছে
  2. প্রেম পূর্ণতা পেয়েছে এবং বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে
  3. রাজকুমার যুদ্ধ জিতেছে
  4. বসবদত্তা বন ছেড়ে চলে গেছে
ব্যাখ্যা

নাটকের শেষাংশে রাজকুমার ও বসবদত্তার প্রেম সফল হয় এবং তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এটি নাটকের আনন্দময় সমাপ্তি এবং দর্শকের সন্তুষ্টি প্রদান করে।

৮১.
'স্বপ্নুবাসবদত্তা' নাটকে বসবদত্তা বলেন: “সত্য ও ন্যায়ের পথে চললে সব বাধা পার হওয়া যায়।”- উক্তিটিতে কী প্রকাশ করে?
  1. শক্তি অর্জনের পথ
  2. প্রেম ও ন্যায়ের মিলন
  3. যুদ্ধ জয়ের কৌশল
  4. ধন ও সৌন্দর্যের গুরুত্ব
ব্যাখ্যা

এই উক্তিতে বসবদত্তা দর্শকদের শেখান যে, সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকলে প্রেম ও সম্পর্কের সকল বাধা অতিক্রম করা যায়। এটি নাটকের নৈতিক শিক্ষা এবং কেন্দ্রীয় বিষয়কে সমর্থন করে।

৮২.
'স্বপ্নবাসবদত্তম' নাটকে রাজকুমার বলেন: “ধৈর্য ধারণ করো, সময় সব কিছু স্পষ্ট করে দেবে।”
-এই উক্তি নাটকে কোন বিষয় প্রকাশ করে?
  1. দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া
  2. ধৈর্য ও প্রত্যাশার মূল্য
  3. আত্মরক্ষা কৌশল
  4. শাসন ও রাজনীতি
ব্যাখ্যা

এই উক্তি মূলত নাটকের চরিত্রদের ধৈর্য ধারণের গুরুত্ব বোঝায়। সময়ের সঙ্গে ধৈর্যশীল হওয়া প্রেম ও সম্পর্কের সফলতা নিশ্চিত করে।

৮৩.
'স্বপ্নবাসবদত্তম' বসবদত্তা বলেন: “ভালোবাসা শুধুমাত্র হৃদয় দিয়ে বোঝা যায়, চোখ দিয়ে নয়।”- এই উক্তির প্রধান অর্থ কী?
  1. বাহ্যিক সৌন্দর্য গুরুত্বপূর্ণ
  2. অভ্যন্তরীণ অনুভূতি ও প্রেমের গুরুত্ব
  3. ক্ষমতা ও ধন গুরুত্বপূর্ণ
  4. শিক্ষার মূল্য
ব্যাখ্যা

এই উক্তি নির্দেশ করে যে সত্যিকারের প্রেম ও অনুভূতি কেবল হৃদয় দিয়ে বোঝা যায়, বাহ্যিক চেহারা বা চোখের প্রদর্শন নয়। নাটকের প্রেমের উপজীব্যকে এটি শক্তিশালী করে।

৮৪.
'স্বপ্নবাসবদত্তম' নাটকে রাজকুমার বলেন: “সত্যিকারের প্রণয় কখনো বাধা পায় না।”-এর অর্থ নাটকে কোন বিষয়কে নির্দেশ করে?
  1. রাজনৈতিক জটিলতা
  2. যুদ্ধ ও বিজয়
  3. পরিবারিক দ্বন্দ্ব
  4. প্রেমের শক্তি ও অটলতা
ব্যাখ্যা

এই উক্তিতে নাটক দেখায় যে প্রেমের প্রকৃত শক্তি সব বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম। এটি প্রেমকে নাটকের মূল উপজীব্য এবং নৈতিক শিক্ষা হিসেবে তুলে ধরে।

৮৫.
মেঘদূত কাব্যে প্রধানত কোন ছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. গায়ত্রী
  2. জগতী
  3. মন্দাক্রান্তা 
  4. শারদী
ব্যাখ্যা

মেঘদূত কাব্যে মূলত মন্দাক্রান্তা  ছন্দ ব্যবহার করা হয়েছে। মহাকবি এই ছন্দের মাধ্যমে মেঘের যাত্রার নরম ও সুরম্য ছন্দ রচনা করেছেন।

৮৬.
অনুষ্টুপ ছন্দে প্রতি শ্লোকে কয়টি চরণ থাকে?




ব্যাখ্যা

অনুষ্টুপ ছন্দের মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি শ্লোক ৪টি চরণ নিয়ে গঠিত। প্রতিটি চরণে নির্দিষ্ট সংখ্যক মাত্রা থাকে, যা কাব্যের লয় ও সুর বজায় রাখে। মেঘদূত কাব্যে কালিদাস এই নিয়ম মেনে ছন্দের সৌন্দর্য নিশ্চিত করেছেন।

৮৭.
মেঘদূত কাব্যের ছন্দে “মাত্রা” কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কেবল শব্দের সংখ্যা নির্ধারণে
  2. চরণের দৈর্ঘ্য ও উচ্চারণের সঠিকতা বজায় রাখতে
  3. অলঙ্কারের রূপ দেখাতে
  4. শ্লোকের অর্থ প্রকাশে
ব্যাখ্যা

ছন্দের “মাত্রা” হলো হ্রস্ব ও দীর্ঘ ধ্বনির পরিমাপ। মেঘদূত কাব্যে প্রতিটি চরণের লয়, উচ্চারণ এবং সঙ্গীতময়তা বজায় রাখতে মাত্রা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কাব্যের রস ও লয় প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ।

৮৮.
মেঘদূতে মেঘকে পাঠানো হয়েছে কার উদ্দেশ্যে?
  1. যক্ষপ্রিয়া
  2. অর্কপ্রভা
  3. উদয়প্রভা
  4. রামচন্দ্র
ব্যাখ্যা

মেঘদূত কাব্যের মূল কাহিনী হলো  যক্ষ এর প্রেম এবং যক্ষীর প্রতি তার প্রেমিক বার্তা। যক্ষদূত যক্ষপ্রিয়ার প্রতি তার ভাবনায় ভরা বার্তা পাঠানোর জন্য মেঘকে দূত হিসেবে পাঠান। তাই মেঘের যাত্রা যক্ষপ্রিয়ার উদ্দেশ্যে।

৮৯.
মেঘদূতে মেঘ কোন পথে যাত্রা করে যক্ষপ্রিয়ার কাছে পৌঁছাতে?
  1. পাহাড়, নদী ও বনপথ
  2. শুধুমাত্র সমুদ্রপথ
  3. শহর ও বাজারপথ
  4. আকাশপথে সরাসরি
ব্যাখ্যা

মেঘের যাত্রা পটভূমি বর্ণিত হয়েছে প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং ভূগোলের মাধ্যমে। মেঘ পাহাড়, নদী, বন ও পথচারী স্থান পার হয়ে যক্ষীর কাছে পৌঁছায়। এটি কাব্যের সৌন্দর্য ও দর্শকের কল্পনাশক্তি উদ্দীপিত করে।

৯০.
কাব্য কিরাতার্জুনীয়মে আর্জুন কী কারণে ক্ষোভান্বিত হন?
  1. তার শিকার ব্যর্থ হওয়ায়
  2. কিরাতকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হওয়ায়
  3. একটি মহা যুদ্ধে পরাজিত হওয়ায়
  4. বনভ্রমণে হারিয়ে যাওয়ায়
ব্যাখ্যা

আর্জুন একটি শিকারের সময় কিরাতকে (যক্ষ বা রাজার আভাসে) প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে এবং তাকে আক্রমণ করেন। এই ঘটনার মাধ্যমে কাহিনীর উত্তেজনা শুরু হয় এবং আর্জুন ও কিরাতের সংলাপ ও দ্বন্দ্বের মাধ্যমে গল্প এগোয়।

৯১.
কিরাতার্জুনীয়ম কাব্যের মূল উপজীব্য কী?
  1. শিকার ও বনজীবন
  2. রাজকীয় অভিযান
  3. কৃষিকাজ ও প্রকৃতি
  4. কিরাত ও আর্জুনের দ্বন্দ্ব এবং শৃঙ্গার ও ধর্মের মিলন
ব্যাখ্যা

কাব্যের মূল কাহিনী হলো আর্জুন ও কিরাতের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, যক্ষ বা বনদেবতার সঙ্গে যুদ্ধ এবং অবশেষে ধর্ম ও ন্যায়ের বিজয়। এটি মহাকাব্যের উত্তেজনা ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।

৯২.
'কিরাতার্জুনীয়ম' কাব্যে কিরাত কে বা কী হিসেবে পরিচিত?
  1. রাজা
  2. ছদ্মবেশী শিব
  3. সাধারণ মানুষ
  4. শিকারি
ব্যাখ্যা

কিরাত আসলে ছদ্মবেশী শিব, যিনি আর্জুনকে বিভ্রান্ত করেন। আর্জুন তাকে সাধারণ শিকারি মনে করে, ফলে কাহিনীতে দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধের ঘটনা সংঘটিত হয়। পরে কিরাত তার সত্ত্বা প্রকাশ করে আর্জুনের কাছে শৃঙ্গার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে।

৯৩.
কিরাত আর্জুনকে বলেন: “সত্য ও ন্যায়ের পথে কখনও ভয় পাওয়া উচিত নয়।”
এই উক্তি কোন বিষয় প্রকাশ করে?
  1. যুদ্ধ জয়ের কৌশল
  2. নৈতিক দায়িত্ব ও সাহস
  3. শিকার কৌশল
  4. রাজকীয় নীতি
ব্যাখ্যা

কিরাত এই উক্তির মাধ্যমে দর্শকদের শেখান যে সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকলে কোনো বাধা ভয়ানক নয়। এটি কাব্যের মূল নৈতিক শিক্ষা এবং আর্জুনের চরিত্র বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।

৯৪.
আর্জুন বলেন: “সাহসী হোন, কারণ সময় সব সত্য উন্মোচন করবে।”
এই উক্তি নাটকে কী নির্দেশ করে?
  1. ধৈর্য ও সাহসের গুরুত্ব
  2. শিকার কৌশল
  3. রাজকীয় কর্তৃত্ব
  4. বনভ্রমণের নিরাপত্তা
ব্যাখ্যা

আর্জুন এই বাক্যের মাধ্যমে শেখান যে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে বিপদ বা বিভ্রান্তি মোকাবিলা করলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এটি কাব্যের নৈতিক শিক্ষা এবং চরিত্র বিকাশকে সমর্থন করে।

৯৫.
কিরাত বলেন: “যে ব্যক্তি সততা ও নিষ্ঠার পথে চলে, সে কখনও হারায় না।”
এর মূল শিক্ষা কী?
  1. যুদ্ধ জেতার কৌশল
  2. প্রেমের বিজয়
  3. বনভ্রমণের নিরাপত্তা
  4. নৈতিকতা ও ধর্মের গুরুত্ব
ব্যাখ্যা

কিরাতের এই উক্তি দেখায় যে নৈতিকতা ও ধর্মের পথ অনুসরণ করলে যে কোনো বিভ্রান্তি বা সমস্যাকে সমাধান করা যায়। এটি কাব্যের নৈতিক ও দার্শনিক উপজীব্যকে তুলে ধরে।

৯৬.
কোন ধরনের সন্ধি “রামঃ + চ = রামশ্চ” তৈরি করে?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গসন্ধি
  3. নিপাতনেসিদ্ধ সন্ধি
  4. ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যাখ্যা

এখানে “রামঃ” এবং “চ” যোগের ফলে “রামশ্চ” তৈরি হয়েছে। এটি বিসর্গসন্ধি, কারণ দুটি শব্দের সংযোগে ঃ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে শ এর  আগম ঘটেছে।

৯৭.
কোন ধরনের সন্ধি “অস্মিন + ঈশ্বরঃ = অস্মিনশ্বরঃ” তৈরি করে?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিশ্রান্তিসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. যমনসন্ধি
ব্যাখ্যা

এখানে ‘ন’ এবং ‘ঈ’ সংযোগে একটি ব্যঞ্জন উৎপন্ন হয়েছে। এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

৯৮.
কোন শব্দ ক্রিয়ার আগে বা পরে ব্যবহার হয়ে ক্রিয়ার অর্থ পরিবর্তন করে না?
  1. ক্রিয়া-বিশেষণ
  2. উপপদ
  3. অব্যয়
  4. সমাস
ব্যাখ্যা

অব্যয় হলো এমন শব্দ যা কোনো পদবাচক পরিবর্তন ছাড়াই বাক্যে ব্যবহার হয়। এটি ক্রিয়ার অর্থে বা বাক্যের অন্যান্য অংশে প্রভাব ফেলে না। যেমন: চিরকাল, সবে, সর্বদা ইত্যাদি।

৯৯.
আত্মনেপদ ক্রিয়া বাক্যে কোনভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. কর্তা ও কর্ম আলাদা করে
  2. কর্তা নিজের উপর ক্রিয়ার প্রভাব বোঝায়
  3. কেবল বিশেষ্যকে নির্দেশ করে
  4. কেবল সমাস তৈরি করে
ব্যাখ্যা

আত্মনেপদ ক্রিয়ায় ক্রিয়ার কর্তা নিজের উপর ক্রিয়ার ফল ভোগ করে। বাক্য বিশ্লেষণে এটি বোঝা যায় ক্রিয়ার শেষে প্রাপ্তি ও প্রভাব দেখে।

১০০.
ণত্ব বিধান কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. আত্মনেপদ
  2. পরস্মৈপদ 
  3. শব্দের বানান
  4. ধ্বনির উচ্চারণ 
ব্যাখ্যা

ণত্ব বিধান  বানানের একটি নিয়ম। এই বিধান অনুযায়ী  কোন শব্দের ন,  ণ তে পরিবর্তিত হয়।

১০১.
'Amend' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক্ষতিপূরণ দান করা
  2. সংশোধন করা
  3. সংবেদনশীল
  4. পরিবর্ধন করা
ব্যাখ্যা

• 'Amend' এর বাংলা পরিভাষা - সংশোধন করা।

অন্যদিকে,
• 'Amenable' অর্থ - সংবেদনশীল; চালিত বা নিয়ন্ত্রিত হতে আগ্রহী এমন; বাধ্য; অনুগত।
• 'Amends' অর্থ - ক্ষতিপূরণ দান করা।
• 'Augmenting' অর্থ - পরিবর্ধন করা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।

১০২.
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. উদক
  2. হিমানী
  3. প্রভঞ্জন
  4. পায়োদ
ব্যাখ্যা

• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ: অম্বু, জল, নীর, সলিল, অপ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।
• 'তুষার' শব্দের সমার্থক শব্দ: বরফ; হিমানী; নীহার।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ: জলধর; জীমূত; বারিদ; নীরদ; পায়োদ; ঘন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৩.
আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন-
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।

- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ-আগম-পারসী-নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পান্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- চল্লিশ বৎসর বয়সে ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি নিযুক্ত হন। তাঁর মাসিক বেতন হয় চল্লিশ টাকা। কবি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে প্রতিদিন কবিতা রচনা করে শোনাতেন। তাঁর কবিত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা তাঁকে 'গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন এবং প্রচুর ভূসম্পত্তি উপহার দেন।

- ভারতচন্দ্র মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। কবি গ্রন্থোৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, একদিকে দেবীর আদেশ, অন্যদিকে রাজার আদেশে কাব্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি। মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়। তিনি ছিলেন ব্রজবুলি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

• চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১০৪.
যোগতন্ত্রশাস্ত্র মতে 'মীননাথ' চর্যাপদের কোন কবির অপর নাম?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবনকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

- যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা।

- লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিব্বতি অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ক তিনটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'। প্রথম দুটি বই দর্শনের এবং তৃতীয়টি দোঁহা ও গানের।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১০৫.
"সবাই এসো আলোর মিছিলে হে নবীন তরুণ দল।" এখানে 'মিছিল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. ওলন্দাজ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা



মিছিল (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- শোভাযাত্রা (মহরমের মিছিল)।
- মোকদ্দমা ও তৎসম্বন্ধীয় নথিপত্র।
- বিন্যাস, সিজিল।
- সমান, সমকক্ষ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০৬.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস-
  1. নাসিকা
  2. মুখ
  3. ফুসফুস
  4. কণ্ঠ
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি। বস্তুত ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে চারটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো হলো-ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ।

- মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য 'কথা' বলে। মানুষের 'কথা' হলো অর্থযুক্ত কিছু ধ্বনি। ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত শব্দ বা আওয়াজকেই ধ্বনি বলা হয়। বস্তুত অর্থবোধক ধ্বনিসমূহই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি।

- ধ্বনি নির্গত হয় মুখ দিয়ে। ধ্বনি উৎপাদনে মুখ, নাসিকা, কণ্ঠ প্রভৃতি বাক্-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হলেও ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস হলো ফুসফুস। ফুসফুসের সাহায্যে আমরা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আসে। ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখের বিভিন্ন জায়গায় ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে মুখে নানা ধরনের ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

- অর্থাৎ ফুসফুস নির্গত বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশের পর বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আঘাত লাগার দরুন ধ্বনি গঠিত বা তৈরি হয়। ধ্বনি গঠনে বিভিন্ন বাক্- প্রত্যঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১০৭.
'ঘরানা' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• আনা (য়ানা) -আনি (য়ানি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: ভাব, অভ্যাস বা আচরণ অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
ঘর + আনা = ঘরানা,
গরিব + আনা = গরিবানা,
বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
বিবি + আনা = বিবিয়ানা ইত্যাদি।

আবার,
বাবু + আনি = বাবুআনি > বাবুয়ানি।

• এরূপ কিছু বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
-ওয়ান, -খানা, -খোর, -গর, -গিরি, -চা > চি, -চী > চি, -তর (তরো), -দান, -দানি, -সার, -নবিশ, -বন্দি, -বাজ /-বাজি, -সহি, সই, -স্তান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৮.
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন- ঞ্‌ + ক = ঙ্ক।
- শুদ্ধরূপ: ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।

---------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- জ্‌ + ঞ = জ্ঞ;
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ;
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ;
- ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ;
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৯.
'অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।' বাক্যে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে??
  1. বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
  2. বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
  3. সমাস ঘটিত অশুদ্ধি
  4. বাচ্যজনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করলে এ ধরনের ভুল হয়।
যেমন- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।
যেমন
অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ: হার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
শুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।

অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১০.
বিশেষণ পদ নয় কোনটি?
  1. নিখুঁত
  2. সুকঠিন
  3. দুঃসহ
  4. সততা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয়- সততা।
- 'সততা' গুণবাচক বিশেষ্য পদ।

• আদ্য প্রত্যয় বা উপসর্গযুক্ত বিশেষণ: এ ধরনের বিশেষণ আদ্যপ্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হয়।
যেমন:
- নিখুঁত (নি + খুঁত) কাজ।
- সুকঠিন (সু + কঠিন) প্রতিজ্ঞা।
- দুঃসহ (দুঃ + সহ) দারিদ্র্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. প্রশস্ত
  2. অভ্যস্ত
  3. গৃহস্ত
  4. ব্যস্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: গৃহস্থ।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংসার ধর্ম পালন করে এমন,
- গৃহী।

অন্যদিকে,
• প্রশস্ত, অভ্যস্ত ও ব্যস্ত বানানগুলো শুদ্ধ।

• এরূপ কিছু শুদ্ধ শব্দ- ঠোঁটস্থ, মুখস্থ, দ্বারস্থ, অস্ত, কণ্ঠস্থ, গ্রস্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১২.
১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো ঘোড়া
  2. কালো বরফ
  3. খেলাঘর
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• "কালো ঘোড়া" লেখক ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৮১ সালে পশ্চিম জার্মানির সিনডেল ফিঙেন শহরে বসে তিনি এই উপন্যাসটি রচনা করেন এবং এটি বাংলাদেশের একটি নিবিড় গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ‘কালোঘোড়া’ মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। ১৯৭১ এর সেই জেগে ওঠার দিনে বাংলাদেশের একটি গ্রামে কেমন চেহারা নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন করে মুক্তিযুদ্ধ প্রভাবিত করেছিল গ্রামের প্রতিটি মানুষকে, কেমন করে মুক্তিযোদ্ধারা এসে আশ্রয় পায় এক বালকের কাছে, কেমন করে প্রাণ হারায় এব বোবা যুবতী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হোতা কেমন করে নিহত হয় মুক্তেোদ্ধাদের হাতে আর কেমন করেই বা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সেই বালক নিজের অজান্তে হয়ে ওঠে এক মহান মুক্তিযোদ্ধা, প্রাণের বিনিময়ে যে রক্ষা করতে চায় সহযোদ্ধাদের কে, এরকম অনেকগুলো বিষয়কে ‘কালোঘোড়া’ উপন্যাসে উপজীব্য করেছেন ইমদাদুল হক মিলন।

উৎস: 'কালো বরফ' ও "কালো ঘোড়া" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৩.
'অপর্ণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ডাকঘর
  2. মুক্তধারা
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।

- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র রঘুপতি ও জয়সিংহের ভূমিকায় বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেন।

- উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনই বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে। নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রঘুপতি,
- জয়সিংহ,
- অপর্ণা,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য।

অন্যদিকে,
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অভিজিৎ, রণজিত, সুমন, অম্বা, বিভূতি।
• "প্রায়শ্চিত্ত" নাটকের চরিত্রগুলো: ধনঞ্জয়, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

-------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মিকী প্রতিভা,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৪.
নিম্নের কত তারিখে অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  3. ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  4. ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি:
- ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর সদস্যদের মধ্যে প্রথম ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য ও কানাডা।
- এর পর দিন ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ জাতিসংঘের সদর দপ্তর এক অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ ফ্রান্স।
- এ নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের দেড় শ’র বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- এর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন ও মধ্য আমেরিকার দেশই বেশি।
- ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে এ পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি।

সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১১৫.
যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন' কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৮৮৩ সালে
  2. ১৮৮৫ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
ব্যাখ্যা

• ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধিবদ্ধভাবে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৮৮৩ সালে।
- The Pendleton Civil Service Reform Act-1883 এর মাধ্যমে।
- ১৯৭৮ সালে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশনে সংস্কার করে একে তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এগুলো হলো:
- অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট
- দ্য মেরিট সিস্টেম প্রোটেকশন বোর্ড
- দ্য ফেডারেল লেবার রিলেশন অথরিটি।

উৎস: অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট।

১১৬.
‘জাপাদ-২০২৫’ নামক সামরিক মহড়া চালিয়েছে -
  1. রাশিয়া ও চীন
  2. জাপান ও ভারত
  3. চীন ও পাকিস্তান
  4. রাশিয়া ও বেলারুশ
ব্যাখ্যা

• জাপাদ-২০২৫:
- জাপাদ-২০২৫ হলো রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া।
- এই মহড়া ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শুরু হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শেষ হয়।
- এই মহড়ায় প্রায় ১ লাখ সেনা অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ভারী অস্ত্র, বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং প্যারাট্রুপারদের সমন্বয়ে ব্যাপক সামরিক কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৩টি দেশের প্রতিনিধিরা মহড়া দেখতে বেলারুশে উপস্থিত ছিলেন।
- মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি প্রদর্শন।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।