পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৩: বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. বাংলা ভাষা [ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি; বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয়] ২. ধ্বনিতত্ত্ব [ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ; যুক্তবর্ণ; ধ্বনির গঠন ও উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন] এবং বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - ভৌত বিজ্ঞান: পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ক ১. ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পদার্থের চৌম্বকত্ব, তড়িৎ চৌম্বক ও তাড়িত চৌম্বকীয় আবেশ, তরঙ্গ এবং শব্দ, শক্তি। ২. কাজ, শক্তি ও ক্ষমতা; তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক বিজ্ঞান ও আলোক যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন

.
অন্তঃস্থ ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অন্তঃস্থ ধ্বনি:
স্পর্শ বা উম্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র, ল, ব- এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

অন্যদিকে,
• ওষ্ঠ্য ধ্বনি যে ধ্বনির উচ্চারণে দুটি ঠোঁট পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ওষ্ঠ্য (bilabials) ধ্বনি বলা হয়। প, ফ, ব,, হলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি। যেমন- তাপ, লাফ, ডার, সহা, নাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
মধ্যস্বর লোপ পেয়েছে নিচের কোন উদাহরণে?
  1. অলাবু > লাবু > লাউ
  2. আজি > আজ
  3. অগুরু > অগ্রু
  4. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
সঠিক উত্তর:
অগুরু > অগ্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগুরু > অগ্রু
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

• আদি স্বরলোপ:
প্রথম স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু> লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

• মধ্যস্বর লোপ:
শব্দের মধ্যে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

• অন্ত্যস্বর লোপ:
শব্দের শেষে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার,
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

.
অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে কোন ভাষারীতির পরিবর্তন হয় না?
  1. প্রমিত ভাষারীতি
  2. সাধু ভাষারীতি
  3. আঞ্চলিক ভাষারীতি
  4. মান্য ভাষারীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -২০২১ সংস্করণ)।

.
শ বর্ণের [স] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. শান্ত
  2. শসা
  3. শত
  4. শ্রমিক
সঠিক উত্তর:
শ্রমিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রমিক
ব্যাখ্যা

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
শ কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়। স কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, আবার কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়। [ষ] বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
• শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা], শান্ত [শান্‌তো]।
• শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্], শৃগাল [সৃগাল্]।
• ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষোলো [শোলো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
অর্ধস্বরধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ও্‌
  2. এ্‌
  3. ঊ্‌ 
  4. ই্‌
সঠিক উত্তর:
ঊ্‌ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊ্‌ 
ব্যাখ্যা

• অর্ধস্বরধ্বনি নয়- ঊ্‌। 

-------------------
• অর্ধস্বরধ্বনি:

যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: ই্‌, উ্‌, এ্‌, ও্‌।

স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবে, দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন:
• 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্‌ ]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
• একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্‌]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম কী?
  1. মান্য ভাষা
  2. প্রচলিত ভাষা
  3. অপভাষা 
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা

• আঞ্চলিক ভাষা:
- আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম উপভাষা।
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহৃত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
'উপসর্গ' নিয়ে ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষও রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. রাখিয়া > রেখে
  2. আজি > আইজ
  3. হাটুয়া > হেটো
  4. মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
এরূপ-
- রাখিয়া > রেখে,
- করিয়া > করে,
- শুনিয়া > শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
'ছুরি' শব্দের 'ছ' কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. মূর্ধা স্পষ্ট
  3. তালু স্পৃষ্ট
  4. দন্ত স্পৃষ্ট 
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
যথা:
ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১০.
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. প্রতিশব্দ 
  2. কারক বিশ্লেষণ
  3. ক্রিয়ার কাল 
  4. বাগ্‌ধারা 
সঠিক উত্তর:
কারক বিশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারক বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।

তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
• 'ক্রিয়ার কাল' রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
• 'প্রতিশব্দ' ও 'বাগ্‌ধারা' নিয়ে ব্যাকরণের অর্থতত্ত্ব অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১১.
ম-ফলার অনুনাসিক উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পদ্ম
  2. যুগ্ম
  3. জন্ম
  4. গুল্ম
সঠিক উত্তর:
পদ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্ম
ব্যাখ্যা

• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন: শ্মশান [শঁশান্], স্মরণ [শঁরোন্]।

• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন: আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন: যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১২.
"ব্রাহ্মণ" শব্দের 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. হ্‌ + ষ 
  2. ক্‌ + ষ 
  3. হ্‌ + ম 
  4. ম্‌ + হ 
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ম 
ব্যাখ্যা

• "ব্রাহ্মণ" শব্দের 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি 'হ্‌ + ম' বর্ণ যোগে গঠিত। 

-----------------
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্+ ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

১৩.
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. ধ, দ, স
  2. ছ, জ, শ
  3. ঠ, ট, ড
  4. ফ, ঘ, হ
সঠিক উত্তর:
ফ, ঘ, হ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ, ঘ, হ
ব্যাখ্যা

•  মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনগুচ্ছ-  ফ, ঘ, হ। 

------------------
• ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৪.
চলিত ভাষারীতি কোন শব্দবহুল?
  1. দেশি 
  2. তদ্ভব
  3. বাংলা 
  4. তৎসম 
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে।
- এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
- চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
- সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

অন্যদিকে, 
-----------------
• সাধু রীতি:
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৫.
'দই' শব্দে কোন দ্বিস্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অই্‌ 
  2. আই্‌ 
  3. ওই্‌
  4. এই্‌
সঠিক উত্তর:
ওই্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওই্‌
ব্যাখ্যা

• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই। 
[এই্‌]: সেই, নেই। 
[আও্‌]: যাও, দাও। 
[আএ্‌]: খায়, যায়। 
[উই্‌]: দুই, রুই। 
[অএ্‌]: নয়, হয়। 
[ওউ্‌]: মৌ, বউ। 
[ওই্‌]: কৈ, দই। 
[এউ্‌]: কেউ, ঘেউ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৬.
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন কয়টি?
  1. দুইটি 
  2. তিনটি 
  3. চারটি 
  4. পাঁচটি 
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে। ঐ, ঔ – এ দুটি দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন।

• ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্‌]।
• একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৭.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জনদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. চক্র > চক্ক
  2. পাকা > পাক্কা
  3. পক্ব > পক্ক
  4. পদ্ম > পদ্দ
সঠিক উত্তর:
পাকা > পাক্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকা > পাক্কা
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, তাকে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা বলে।
যেমন:
- সকাল > সক্কাল; 
- পাকা > পাক্কা ইত্যাদি।

-----------------
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক;
- পক্ব > পক্ক;
- লগ্ন > লগ্গ;  
- পদ্ম > পদ্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৮.
সংযুক্ত বর্ণের কোন গঠনটি শুদ্ধ?
  1. ত্ + ত = ক্ত
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু
  4. ভ্ + ঋ = ভ্র  
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু
ব্যাখ্যা

• সংযুক্ত বর্ণের শুদ্ধরূপ- ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু
- ক্‌ + ত = ক্ত, 
- ভ্ + র = ভ্র, 
- ত্ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্ + ম = হ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৯.
কোনটি পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. মোজা > মুজো
  2. এখনি > এখুনি
  3. মিঠা > মিঠে
  4. আখো > আখুয়া > এখো
সঠিক উত্তর:
আখো > আখুয়া > এখো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখো > আখুয়া > এখো
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২০.
'শব্দজোড়' নিয়ে ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা হয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২১.
তালব্য ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. ল, স 
  2. দ, ধ
  3. ঝ, শ
  4. জ, ঢ় 
সঠিক উত্তর:
ঝ, শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝ, শ
ব্যাখ্যা

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্য ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২২.
'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে কোন শব্দে?
  1. কথা
  2. অদ্য
  3. পক্ষ
  4. অণু
সঠিক উত্তর:
কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথা
ব্যাখ্যা

• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্কো], অদ্য [ওদো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২৩.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. শুষ্ক
  2. সহিত
  3. তুলা
  4. ভেঙে
সঠিক উত্তর:
ভেঙে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেঙে
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

 সাধু - চলিত:
আসিয়া - এসে;
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো;
পড়িল - পড়ল/পড়লো;
করিয়া - করে;
ভাঙিয়া - ভেঙে;
যাইতে - যেতে;
ফুটিয়া -  ফুটে; 
সহিত - সঙ্গে/সাথে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৪.
একটি অবতল দর্পণ ব্যবহার করে বাস্তব, উল্টানো ও বস্তুর সমান আকারের চিত্র পাওয়া গেল। বস্তুটির অবস্থান হবে-
  1. ফোকাসের ভিতরে
  2. ফোকাস ও বক্রতার কেন্দ্রের মাঝামাঝি
  3. বক্রতার কেন্দ্রে
  4. বক্রতার কেন্দ্রের বাইরে
সঠিক উত্তর:
বক্রতার কেন্দ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্রতার কেন্দ্রে
ব্যাখ্যা

অবতল দর্পণ (Concave Mirror):
- অবতল দর্পণ এমন এক ধরনের দর্পণ যার প্রতিফলক পৃষ্ঠ ভিতরের দিকে বাঁকানো থাকে।
- এটি আলোর রশ্মিকে অভ্যন্তরের দিকে প্রতিফলিত করে, ফলে বিভিন্ন অবস্থানে বস্তু রাখলে চিত্রের অবস্থান, আকার ও প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়।

• অবতল দর্পণের মূল বিন্দুসমূহ:
- P (Pole): দর্পণের কেন্দ্রবিন্দু।
- F (Focus): যেখানে সমান্তরাল আলোকরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে মিলিত হয়।
- C (Center of Curvature): বক্রতার কেন্দ্র; এর ব্যাসার্ধ R = 2f

• যখন বস্তুটি বক্রতার কেন্দ্রে (C) রাখা হয়:
- প্রতিফলিত রশ্মি এমনভাবে ফিরে আসে যে চিত্রটি একই বিন্দুতে তৈরি হয়।
- চিত্রটি হয় বাস্তব, উল্টানো ও বস্তুর সমান আকারের।
 
 
 

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৫.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি নয়?
  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর
  3. বল
  4. সময়
সঠিক উত্তর:
বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল
ব্যাখ্যা

• মৌলিক রাশি (Fundamental Quantity):
- যে রাশিগুলো অন্য কোনো রাশি থেকে নির্ণয় করা যায় না এবং পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি গঠন করে, সেগুলোই মৌলিক রাশি নামে পরিচিত।
- এদের মান অন্য কোনো ভৌত রাশির ওপর নির্ভর করে না।

• SI পদ্ধতিতে মোট সাতটি মৌলিক রাশি রয়েছে:
i) দৈর্ঘ্য (মিটার, m),
ii) ভর (কিলোগ্রাম, kg),
iii) সময় (সেকেন্ড, s),
iv) তড়িৎ প্রবাহ (অ্যাম্পিয়ার, A),
v) তাপমাত্রা (কেলভিন, K),
vi) পদার্থের পরিমাণ (মোল, mol) এবং
vii) আলোক তীব্রতা (ক্যান্ডেলা, cd)।
এই সাতটি রাশি থেকেই পদার্থবিজ্ঞানের সমস্ত অন্যান্য রাশি নির্ণীত হয়।

• লব্ধ রাশি (Derived Quantity):
- যে সকল ভৌত রাশি এক বা একাধিক মৌলিক রাশির সমন্বয়ে গঠিত, তাদের লব্ধ রাশি বলা হয়।
- এদের মান নির্ভর করে মৌলিক রাশিগুলোর ওপর।
উদাহরণস্বরূপ, 
বল (Force) = ভর × ত্বরণ = kg.m/s2,
বেগ (Velocity) = m/s এবং
চাপ (Pressure) = N/m2 = kg/(m.s2)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

২৬.
নিউটনের “Principia Mathematica” কোন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে?
  1. গ্রহ ও চন্দ্রের গতিবিধি নির্ধারণের গাণিতিক পদ্ধতি
  2. আলোর বেগ ও রঙের প্রকৃতি বিশ্লেষণ
  3. গতিশক্তি ও মহাকর্ষের তত্ত্ব সংজ্ঞায়িত করা এবং গণিতের মাধ্যমে প্রকাশ
  4. বৈদ্যুতিক ও চুম্বকীয় ক্ষেত্রের প্রাথমিক সূত্র
সঠিক উত্তর:
গতিশক্তি ও মহাকর্ষের তত্ত্ব সংজ্ঞায়িত করা এবং গণিতের মাধ্যমে প্রকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতিশক্তি ও মহাকর্ষের তত্ত্ব সংজ্ঞায়িত করা এবং গণিতের মাধ্যমে প্রকাশ
ব্যাখ্যা

• স্যার আইজ্যাক নিউটন ও তাঁর গ্রন্থ “Principia Mathematica” (১৬৮৭):
- স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৬৮৭ সালে তার গ্রন্থ “Philosophiae Naturalis Principia Mathematica” প্রকাশ করেন। সংক্ষেপে এটিকে Principia Mathematica বলা হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্র এবং গণিতের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।

• নিউটনের তিনটি মৌলিক গতিসূত্র (Laws of Motion):
- এই গ্রন্থে নিউটন তিনটি মৌলিক গতিসূত্র প্রবর্তন করেন:

- জড় বস্তু স্থির থাকে বা সমান গতিতে সরলরেখায় চলে যতক্ষণ বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগ হয় না।
- বাহ্যিক বল বস্তুতে এর ভর ও ত্বরণের সঙ্গে সমানুপাতিক।
- প্রতিটি ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়া থাকে।

- এরপর তিনি মহাকর্ষের সূত্র প্রণয়ন করেন, যা বলে যে পৃথিবীর সব বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এই সূত্র ব্যবহার করে তিনি গ্রহগুলোর কক্ষপথ গণনা করেন এবং সৌরজগতের গতিবিধির ব্যাখ্যা দেন।

উৎস: Encyclopaedia Britannica.

২৭.
এক্স-রে বিকিরণ সম্পর্কে নিচের কোনটি ভুল?
  1. এটি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
  2. এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 10-10 মিটার
  3. এটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ
  4. এটি পদার্থের মধ্যে প্রবেশ করতে সক্ষম
সঠিক উত্তর:
এটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• এক্স-রে (X-Ray):
- এক্স-রে হলো তড়িৎচৌম্বক (Electromagnetic) তরঙ্গ, যা তড়িৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের দোলন দ্বারা গঠিত।
- এটি কোনো পদার্থগত কণার প্রবাহ নয়, বরং নিরপেক্ষ শক্তি বহনকারী বিকিরণ।
- এক্স-রে পদার্থের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পর্যায়ে শোষিত হয়, যা একে চিকিৎসা ও শিল্পে বহুল ব্যবহৃত করে।
- শিল্প ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয় ধাতু বা যন্ত্রাংশের ত্রুটি নির্ণয়ে।
- এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সাধারণত 0.01 nm থেকে 10 nm পর্যন্ত।
- ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে এক্স-রে উচ্চ শক্তিধর এবং পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম।
- শক্তি নির্ণয়ের সূত্র: E = hν = hc/λ
- অর্থাৎ, তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, শক্তি তত বেশি।
- এক্স-রে কোনো চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৮.
একটি ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলে ২০০ টার্ন এবং সেকেন্ডারি কয়েলে ৮০০ টার্ন রয়েছে। প্রাইমারিতে 12 V দেওয়া হলে সেকেন্ডারি ভোল্টেজ কত হবে?
  1. 24 V
  2. 48 V
  3. 72 V
  4. 96 V
সঠিক উত্তর:
48 V
উত্তর
সঠিক উত্তর:
48 V
ব্যাখ্যা

আমরা জানি,
Vs = (Ns/Np) Vp
যেখানে,
Vp = প্রাইমারি ভোল্টেজ
Vs = সেকেন্ডারি ভোল্টেজ
Np = প্রাইমারি টার্ন সংখ্যা
Ns = সেকেন্ডারি টার্ন সংখ্যা 

∴ Vs = (Ns/Np)Vp
       = (800/200)12
       = 4 × 12
       = 48
সুতরাং, সেকেন্ডারি ভোল্টেজ 48 V.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৯.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় পরমাণুর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল
  2. নিউট্রন ও প্রোটনের অনুপাত সুষম
  3. স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নির্গত করে
  4. এর পারমাণবিক সংখ্যা সাধারণত 82 -এর বেশি
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন ও প্রোটনের অনুপাত সুষম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন ও প্রোটনের অনুপাত সুষম
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয় পরমাণু (Radioactive Atom):
- তেজস্ক্রিয় পরমাণু হলো এমন একটি পরমাণু যার নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল।
- এই অস্থিতিশীলতার কারণে পরমাণুটি নিজে থেকেই বিকিরণ (radiation) নির্গত করে এবং ধীরে ধীরে স্থিতিশীল নিউক্লিয়াসে রূপান্তরিত হয়।

• তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রকারভেদ:
i) α-বিকিরণ (Alpha Radiation): হেলিয়াম নিউক্লিয়াস (২ প্রোটন + ২ নিউট্রন) নির্গত হয়।
ii) β-বিকিরণ (Beta Radiation): একটি নিউট্রন প্রোটনে রূপান্তরিত হয় এবং ইলেকট্রন বা পজিট্রন নির্গত হয়।
iii) γ-বিকিরণ (Gamma Radiation): উচ্চ শক্তির ফোটন নির্গত হয়, যা পদার্থের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম।

• তেজস্ক্রিয় পরমাণুর বৈশিষ্ট্য:
- নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল থাকা এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নির্গত করা তেজস্ক্রিয়তার মূল চিহ্ন।
- ভারী মৌলগুলোর (পারমাণবিক সংখ্যা > 82) অস্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যেমন ইউরেনিয়াম (92) ও থোরিয়াম (90)।

উৎস: Encyclopaedia Britannica [link]

৩০.
একটি গোলকের ব্যাসার্ধ r = 5.00 ± 0.02 cm. গোলকের আয়তনের শতকরা ত্রুটি কত হবে?
  1. 0.12%
  2. 0.6%
  3. 1.20%
  4. 3 %
সঠিক উত্তর:
1.20%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.20%
ব্যাখ্যা

আমরা জানি,
গোলকের আয়তন, V = (4/3) πr2
অতএব, আয়তন V ব্যাসার্ধ r-এর ঘাত ৩ এর সমানুপাতিক।
V∝r3
আবার,         
ΔV/V = 3(Δr/r)
এখানে,
Δr = 0.02cm
r = 5cm
তাহলে,
ΔV/V = 3 × (0.02/5)
         = 3 × 0.004
         = 0.012

শতকরা ত্রুটি = 0.012 × 100
                     = 1.2%

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

৩১.
একটি বল ঢাল বরাবর নিচে গড়িয়ে পড়ে। নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. বিভবশক্তি অপরিবর্তিত থাকে, গতিশক্তি বাড়ে
  2. বিভবশক্তি ও গতিশক্তি উভয়ই বাড়ে
  3. বিভবশক্তি কমে, গতিশক্তি বাড়ে
  4. উভয় শক্তিই কমে
সঠিক উত্তর:
বিভবশক্তি কমে, গতিশক্তি বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভবশক্তি কমে, গতিশক্তি বাড়ে
ব্যাখ্যা

• বিভবশক্তি (Potential Energy):
- বিভবশক্তি হলো কোনো বস্তুর অবস্থানজনিত শক্তি।
- এটি নির্ভর করে বস্তুটির উচ্চতা এবং ভর-এর ওপর।
- সূত্র: Ep = mgh
- যখন বল ঢাল বরাবর নিচে নামে, তার উচ্চতা কমে যায়, ফলে বিভবশক্তি কমে।

• গতিশক্তি (Kinetic Energy):
- গতিশক্তি হলো বস্তুর চলার কারণে সৃষ্ট শক্তি।
- এটি বস্তুটির ভর ও বেগ উভয়ের ওপর নির্ভর করে।
- যখন বল নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে, তার বেগ বাড়ে, ফলে গতিশক্তি বাড়ে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

৩২.
মানবচক্ষুর জন্য “নিকট বিন্দু ” সাধারণত কত দূরত্বে অবস্থিত থাকে?
  1. 10 সেমি.
  2. 15 সেমি.
  3. 25 সেমি.
  4. 30 সেমি.
সঠিক উত্তর:
25 সেমি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
25 সেমি.
ব্যাখ্যা

নিকট বিন্দু (Near Point):
- নিকট বিন্দু (Near Point) হলো সেই ন্যূনতম দূরত্ব, যেখানে কোনো বস্তু চোখের জন্য স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হয়। অর্থাৎ রেটিনায় স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি গঠিত হয়।
- সাধারণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এই দূরত্ব প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার।
- যখন কোনো বস্তু এই দূরত্বের চেয়ে কাছে রাখা হয়, তখন চোখের লেন্সকে অত্যধিক বাঁকতে হয় ফোকাস আনতে, যা চোখের পেশীর সীমার বাইরে, ফলে বস্তু ঝাপসা দেখা যায়।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে নিকট বিন্দু আরও দূরে সরে যায়; এটি প্রেসবায়োপিয়া (Presbyopia) নামে পরিচিত।

• দূর বিন্দু (Far Point)
- সাধারণ মানুষের জন্য সাধারণত ∞ (অনন্ত) ধরে নেওয়া হয়।
- অপটিক্যাল যন্ত্র যেমন ম্যাগনিফায়িং গ্লাস, মাইক্রোস্কোপ, টেলিস্কোপ ডিজাইনে ২৫ সেমি. নিকট বিন্দু মান ব্যবহার করা হয়।

উৎস: Encyclopaedia Britannica.

৩৩.
কোনো তরঙ্গে কণার সর্বাধিক স্থানচ্যুতি ও বিশ্রাম অবস্থার মধ্যে দূরত্বকে কী বলে?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  2. বিস্তার
  3. সময়কাল
  4. ফেজ পার্থক্য
সঠিক উত্তর:
বিস্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্তার
ব্যাখ্যা

• বিস্তার (Amplitude):
- মাধ্যমের কণার বিশ্রাম অবস্থান থেকে সর্বাধিক স্থানচ্যুতি পর্যন্ত দূরত্ব।
- তরঙ্গের শক্তি এবং তীব্রতা নির্ধারণ করে।
- জল ঢেউয়ের উচ্চতা, শব্দ তরঙ্গের চাপ ইত্যাদি বিস্তারের উদাহরণ।
- বিস্তার পরিবর্তন করলে তরঙ্গের শব্দ বা আলোতে তীব্রতা পরিবর্তিত হয়।

• তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength):
- একই ফেজে থাকা দুটি বিন্দুর মধ্যে দূরত্ব (যেমন, শিখর থেকে পরবর্তী শিখর পর্যন্ত)।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য তরঙ্গের প্রকার (উদাহরণ: আলো, শব্দ) নির্ধারণ করে।

• সময়কাল (Time Period):
- এক সম্পূর্ণ কম্পনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়।
- সময়কাল নির্ধারণ করে তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি।

• ফেজ পার্থক্য (Phase Difference):
- দুই বিন্দুর কম্পনের আপেক্ষিক অবস্থানের পার্থক্য।
- ফেজ পার্থক্য নির্ধারণ করে দুই তরঙ্গের সংযোজন বা বিঘ্নন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

৩৪.
নিচের কোন অবস্থায় ট্রান্সফরমার কাজ করবে না?
  1. যখন AC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
  2. যখন কয়েল দুটি চৌম্বকীয় কোরের উপর আবৃত থাকে
  3. যখন DC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
  4. যখন সেকেন্ডারি কয়েল লোডের সঙ্গে যুক্ত থাকে
সঠিক উত্তর:
যখন DC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন DC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমার (Transformer):
- ট্রান্সফরমার হলো একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস যা AC ভোল্টেজকে অন্য ভোল্টেজে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
- এর মূল উপাদান হলো দুটি কয়েল: প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি , যা সাধারণত একটি লৌহ বা ফেরাইট কোরের চারপাশে আবৃত থাকে।

• কাজের মূল নীতি:
- ট্রান্সফরমারের কাজ ফ্যারাডে’র ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন-এর উপর নির্ভর করে।
- সেকেন্ডারি ভোল্টেজ তৈরি হয় প্রাইমারি কয়েলের পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র (dΦ/dt) থেকে।
- AC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, তাই ট্রান্সফরমার কাজ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৩৫.
কোনো সংরক্ষণশীল বলের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কোনটি সত্য নয়?
  1. বলের কাজ পথ নিরপেক্ষ
  2. বলের কাজ বন্ধ বৃত্তে শূন্য
  3. বলের দ্বারা শক্তি সৃষ্টি হয়
  4. বলের জন্য বিভবশক্তি সংজ্ঞায়িত করা যায়
সঠিক উত্তর:
বলের দ্বারা শক্তি সৃষ্টি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলের দ্বারা শক্তি সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা

• সংরক্ষণশীল বল (Conservative Force):
- কোনো বস্তু একটি পূর্ণচক্র সম্পন্ন করে আদি অবস্থানে ফিরে আসলে, ঐ বস্তুর উপর প্রযুক্ত বল দ্বারা কাজের পরিমাণ শূণ্য হয় ঐ বলকে সংরক্ষণশীল বলা হয়ে থাকে। 

বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- সংরক্ষণশীল বলের ক্ষেত্রে, বল দ্বারা করা কাজ কেবল শুরু ও শেষ বিন্দুর উপর নির্ভর করে, পথে নয়।
- উদাহরণ: মাধ্যাকর্ষণ বল, স্থিরচাপীয় স্প্রিং বল।
- যদি কোনো কণা সম্পূর্ণ বন্ধ বৃত্তে চলে, তবে কাজ শূন্য হবে।
- সংরক্ষণশীল বল শুধুমাত্র শক্তি স্থানান্তর করে, সৃষ্টি করে না।

উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

৩৬.
একটি পদার্থ বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতেও নিজে থেকেই চুম্বকত্ব প্রদর্শন করে। নিচের কোনটি এই প্রকার পদার্থের উদাহরণ?
  1. প্যারাম্যাগনেটিক পদার্থ
  2. ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থ
  3. ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ
  4. অ্যান্টিফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ
ব্যাখ্যা

• ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ (Ferromagnetic Materials):
- এই ধরনের পদার্থ বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্র ছাড়াও স্থায়ীভাবে চৌম্বকত্ব ধারণ করতে সক্ষম।
- এদের মধ্যে ইলেকট্রনের স্পিন ও কক্ষপথীয় চৌম্বক মুহূর্ত (magnetic moment) একই দিকে সজ্জিত থাকে।
- উদাহরণ: লোহা (Fe), কোবাল্ট (Co), নিকেল (Ni), এবং কিছু সংকর ধাতু।

• প্যারাম্যাগনেটিক পদার্থ (Paramagnetic Materials):
- এদের মধ্যে অসম জোড় ইলেকট্রন থাকে, ফলে বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগে চৌম্বকত্ব দেখা দেয়।
- উদাহরণ: অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম।

• ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থ (Diamagnetic Materials):
- এরা বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে।
- চৌম্বকত্ব সাধারণত খুবই দুর্বল এবং বিপরীতমুখী।
- উদাহরণ: বিসমাথ, তামা।

• অ্যান্টিফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ (Antiferromagnetic Materials):
- এদের পরমাণবিক ডাইপোল বিপরীতমুখী এবং সমান মানের, ফলে নিট চৌম্বকত্ব থাকে না।
- উদাহরণ: ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড (MnO)

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৩৭.
নিচের কোনটির জন্য UHF তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়?
  1. স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচার
  2.  রেডিও ব্রডকাস্টিং
  3. মাইক্রোওয়েভ ওভেন
  4.  হেডফোন সিগন্যাল
সঠিক উত্তর:
স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচার
ব্যাখ্যা

স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচার:
- UHF (Ultra High Frequency) 
তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
- ফ্রিকোয়েন্সি 300 MHz থেকে 3 GHz পর্যন্ত, যা টেলিভিশন সম্প্রচার এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। 

রেডিও ব্রডকাস্টিং:
- সাধারণ FM/AM রেডিও ব্রডকাস্টিং VHF (Very High Frequency) বা HF (High Frequency) ব্যান্ড ব্যবহার করে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন: 
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন 2.4 GHz বা তার আশেপাশের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে।
- এই ফ্রিকোয়েন্সি জল অণুগুলোর কম্পন ঘটাতে সক্ষম, যার ফলে খাবার গরম হয়।

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৩৮.
সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ফটোভোল্টায়িক কোষ
  2. গ্যাস টারবাইন
  3. কয়লা জ্বালানি চুল্লি
  4. নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর
সঠিক উত্তর:
ফটোভোল্টায়িক কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোভোল্টায়িক কোষ
ব্যাখ্যা

• ফটোভোল্টায়িক কোষ:
- সূর্যালোককে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে।
- সোলার প্যানেলে অনেকগুলো কোষ সিরিজ বা প্যারালাল সংযোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
- সূর্যের আলোর কণা (ফোটন) সেমিকন্ডাক্টর উপাদানে পড়লে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

• গ্যাস টারবাইন:
- এটি গ্যাস বা তেলের জ্বালানি পুড়িয়ে ঘূর্ণনশক্তি তৈরি করে।
- সাধারণত বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত।

• কয়লা জ্বালানি চুল্লি:
- এটি কয়লা পুড়িয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সৌরশক্তি নয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯.
ফ্যারাডের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, তাড়িতচালক শক্তি উৎপন্ন হয় -
  1. চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক অনুযায়ী
  2. চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারে
  3.  চৌম্বক ফ্লাক্সের মানের উপর নির্ভর না করে
  4. চৌম্বক ক্ষেত্রের ঘনত্বের সাথে সরাসরি সমানুপাতিকভাবে
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারে
ব্যাখ্যা

• ফ্যারাডের তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী-
- যখন কোনো বন্ধ বর্তনীতে চৌম্বক ফ্লাক্স পরিবর্তিত হয়, তখন তাতে একটি তাড়িতচালক শক্তি আবিষ্ট হয়।
- সুত্র, e = - (dΦ/dt)
- তাড়িতচালক শক্তি (e)-এর মান চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হার এর সমানুপাতিক।
- ঋণাত্মক চিহ্ন (-) নির্দেশ করে লেন্জের সূত্র, উৎপন্ন তাড়িতচালক শক্তির দিক এমন হবে যা মূল ফ্লাক্সের পরিবর্তনকে প্রতিহত করবে।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

৪০.
রাদারফোর্ড, পিয়ের কুরি ও মেরি কুরির তেজস্ক্রিয়তার ওপর গবেষণার প্রধান অবদান কী ছিল? 
  1. রেডিওঅ্যাক্টিভ ধাতু আবিষ্কার
  2.  তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ
  3. নিউট্রনের গঠন ব্যাখ্যা 
  4. আলফা রশ্মির শক্তি পরিমাপ
সঠিক উত্তর:
 তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

• মেরি কুরি ও পিয়ের কুরির তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক অবদান
- মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি ইউরেনিয়াম যৌগ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে, কিছু পদার্থ নিজে থেকেই শক্তিশালী বিকিরণ নির্গত করে, যা বাহ্যিক কোনো প্রভাব ছাড়াই ঘটে।তাঁরা গবেষণার মাধ্যমে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়াম (Ra) ও পোলোনিয়াম (Po) আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কার তেজস্ক্রিয়তার ধারণাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং আধুনিক পরমাণুবিজ্ঞানের ভিত্তি গঠনে সহায়তা করে।
- মেরি কুরি 1903 সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (বেকেরেল ও পিয়ের কুরির সঙ্গে) এবং 1911 সালে রসায়নে এককভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁরা প্রমাণ করেন যে তেজস্ক্রিয়তা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়, বরং এটি পরমাণুর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনজনিত প্রক্রিয়া।

- রাদারফোর্ড তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান রশ্মি শনাক্ত করেন 
(i) আলফা (α) রশ্মি: ধনাত্মক চার্জযুক্ত, ভারী ও কম অনুপ্রবেশক্ষম।
(ii) বিটা (β) রশ্মি: ঋণাত্মক চার্জযুক্ত, ইলেকট্রন সদৃশ কণা।
(iii) গামা (γ) রশ্মি: কোনো চার্জ নেই, তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, প্রবেশক্ষমতা সর্বাধিক।

উল্লেখ্য,
ক) রেডিওঅ্যাক্টিভ ধাতু আবিষ্কার - পিয়ের কুরি ও মেরি কুরির একটি অবদান কিন্তু,
খ) তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ - সর্বোত্তম উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।
মেরি ও পিয়ের কুরি রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু এটি তাদের প্রধান অবদান নয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৪১.
কোনো চার্জযুক্ত কণিকা যদি চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে ৯০° কোণে চলে, তবে- 
  1. কোনো বল থাকে না
  2. সর্বাধিক বল কাজ করে
  3. বলের মান অর্ধেক হয়
  4. বলের মান শূন্য হয়
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক বল কাজ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক বল কাজ করে
ব্যাখ্যা

চৌম্বক ক্ষেত্রের উপর চলন্ত চার্জ q-এর ওপর প্রয়োগিত লরেঞ্জ বলের সূত্র হলো:
F = qv × B
যেখানে,
q = চার্জের মান
v = কণিকার বেগ
B = চৌম্বক ক্ষেত্র
θ = v এবং B-এর মধ্যে কোণ

লরেঞ্জ বলের মান নির্ণয় হয়:
F = qv × B. sinθ
sinθ সর্বাধিক হয় যখন, θ = 90° 
অর্থাৎ, বেগ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র পরস্পর লম্ব হলে sin⁡90° = 1
তাই, Fmax​ = qvB হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪২.
শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব কত হতে হয়?
  1. 1.65 মি.
  2. 16.5 মি.
  3. 0.165 মি.
  4. 33 মি.
সঠিক উত্তর:
16.5 মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
16.5 মি.
ব্যাখ্যা

• শব্দের প্রতিফলন (Reflection of Sound):
- যখন কোনো শব্দ তরঙ্গ কোনো কঠিন ও মসৃণ পৃষ্ঠে আঘাত করে ফিরে আসে, তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় শব্দের প্রতিফলন।
- শব্দ প্রতিফলনের জন্য পৃষ্ঠটি হতে হবে কঠিন, মসৃণ ও সমতল (যেমন: দেওয়াল, পাহাড়, ভবন ইত্যাদি)।

- বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হলে, শব্দটি প্রতিফলিত দেয়ালে গিয়ে ফিরে আসার মোট সময় হবে ০.১ সেকেন্ড।
-  সুতরাং, 2d = v × t অনুযায়ী, 2d = 330 × 0.1 = 33, অর্থাৎ d = 16.5 মিটার।
-  তাই শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হতে হবে ১৬.৫ মিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৪৩.
রংধনুর মধ্যে কোন রঙের বিচ্যুতি কোণ সর্বাধিক?
  1. বেগুনি
  2. নীল
  3. সবুজ
  4.  লাল
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
ব্যাখ্যা

• রংধনু গঠনের প্রক্রিয়া:
- সূর্যের সাদা আলো যখন বৃষ্টির ক্ষুদ্র জলের ফোঁটার মধ্যে প্রবেশ করে, তখন আলোর প্রতিসরণ (Refraction) ঘটে।
- প্রতিসরণের ফলে আলোটি বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রঙে বিভক্ত হয়।
- এই বিভাজন প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিচ্ছুরণ (Dispersion)।
- ফলে সাদা আলোটি সাতটি পৃথক রঙে বিভক্ত হয় — বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল।
- প্রতিটি রঙের প্রতিসরণের কোণ ভিন্ন হওয়ায় তারা আলাদা আলাদা পথে ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশে অর্ধবৃত্তাকার রঙিন ধনু বা রংধনু দেখা যায়।



উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৪৪.
পানির ঘনত্ব ও তাপমাত্রার সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিচের কোন বিবরণটি সঠিক?
  1. বরফ (০° C) সর্বাধিক ঘন, পানি সব সময় তাপমাত্রা বাড়লে সংকুচিত হয়
  2. পানি ৪° C-এ সর্বাধিক ঘন হয়, বরফের চেয়ে বেশি ঘন
  3. পানি ১০০° C-এ সর্বাধিক ঘন, কারণ এটি বাষ্পে রূপান্তরিত হতে থাকে
  4. পানি ২৫° C-এ সর্বাধিক ঘন হয়, কারণ কক্ষ তাপমাত্রায় অণু স্থিতিশীল
সঠিক উত্তর:
পানি ৪° C-এ সর্বাধিক ঘন হয়, বরফের চেয়ে বেশি ঘন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি ৪° C-এ সর্বাধিক ঘন হয়, বরফের চেয়ে বেশি ঘন
ব্যাখ্যা

• পানির ঘনত্বের পরিবর্তন (Density Anomaly of Water):
- পানি একটি বিশেষ ধরনের পদার্থ, যার ঘনত্ব তাপমাত্রার সাথে অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়। 
- সাধারণত পদার্থ তাপমাত্রা বাড়লে প্রসারিত হয় এবং ঠান্ডা হলে সংকুচিত হয়।
- পানির ক্ষেত্রে ০° C থেকে ৪° C পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়লে ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

- পানি অণুগুলির মধ্যে থাকা হাইড্রোজেন বন্ধন এর কারণে এই অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়।
- ০° C-এ পানি বরফে পরিণত হয়, যেখানে অণুগুলি খোলামেলা ক্রিস্টাল কাঠামো তৈরি করে। এজন্য বরফের ঘনত্ব পানির তুলনায় কম হয় এবং বরফ পানির ওপর ভেসে থাকে।

- পানির এই density anomaly নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাধারে জীবজন্তুর টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ঠান্ডা পরিবেশেও পানির নিচে উষ্ণ স্তর বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি

৪৫.
মানুষের শ্রবণসীমার নিচের শব্দকে কী বলা হয়?
  1. ইনফ্রাসাউন্ড
  2. আলট্রাসাউন্ড
  3. মেগাসাউন্ড
  4. সাবসোনিক
সঠিক উত্তর:
ইনফ্রাসাউন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনফ্রাসাউন্ড
ব্যাখ্যা

• ইনফ্রাসাউন্ড (Infrasound):
- যেসব শব্দের কম্পাঙ্ক মানুষের শ্রবণ সীমার নিচে থাকে, অর্থাৎ 20 Hz-এর নিচে, সেগুলোকে ইনফ্রাসাউন্ড বলা হয়।
- উদাহরণ: ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির গর্জন, কিছু বৃহৎ প্রাণীর শব্দ।

• আলট্রাসাউন্ড (Ultrasound):
- যেসব শব্দের কম্পাঙ্ক মানুষের শ্রবণ সীমার উপরে থাকে, অর্থাৎ 20 kHz-এর উপরে।
- উদাহরণ: ডেন্টিস্টদের ডেন্টাল ক্লিনিং যন্ত্র, ভয়েসহীন নেভিগেশন বা ডাক্তারি ইমেজিং (সোনোগ্রাফি)।

• মেগাসাউন্ড (Megasound):
- সাধারণত এটি ব্যবহার হয় খুব উচ্চশক্তির শব্দের জন্য যা কোনো বড় শক্তি বা বিস্ফোরণের সাথে সম্পর্কিত।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬.
প্রিজমের মাধ্যমে আলো বিচ্ছুরিত হওয়ার কারণ-
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ কোণের পরিবর্তন
  3. আলোর বেগের ভিন্নতা
  4. আলোর মেরুকরণ
সঠিক উত্তর:
আলোর বেগের ভিন্নতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর বেগের ভিন্নতা
ব্যাখ্যা

• প্রিজম:
- প্রিজম হলো স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি ত্রিভুজাকার অপটিক্যাল যন্ত্র, যার দুটি সমতল পৃষ্ঠ পরস্পরের সাথে একটি নির্দিষ্ট কোণে ঝোঁকানো থাকে।
- যখন সাদা আলো (বিভিন্ন রঙের সমষ্টি) প্রিজমে প্রবেশ করে, প্রতিটি রঙের জন্য প্রতিসরণ কোণ ভিন্ন হয়।
- বিভিন্ন রঙের আলোর বেগ ভিন্ন হয় কাঁচের মধ্যে। কাঁচের মধ্যে বেগ যত কম, প্রতিসরণ তত বেশি।
- নীল ও বেগুনি আলোর বেগ কাঁচে কম, তাই এগুলোর প্রতিসরণ বেশি।
- লাল আলোর বেগ বেশি হওয়ায় প্রতিসরণ কম।
- সাদা আলো প্রিজমের অপর প্রান্ত দিয়ে বের হওয়ার সময় বিভিন্ন রঙে ভেঙে যায়। এই ঘটনাকেই বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলা হয়।

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৪৭.
একটি মহাকাশযান পৃথিবীর সাপেক্ষে 0.8c বেগে চলছে। একটি আলোকরশ্মি একই দিকে c বেগে চললে, মহাকাশযানের সাপেক্ষে আলোর বেগ কত হবে?
  1.  0.2c
  2. 0.8c
  3.  c
  4. 1.8c
সঠিক উত্তর:
 c
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 c
ব্যাখ্যা

• আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Special Theory of Relativity):
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Special Theory of Relativity) অনুসারে,আলোর বেগ (c) সকল পর্যবেক্ষকের জন্য ধ্রুবক।
- যে কোনো রেফারেন্স ফ্রেম থেকেই সেটি পরিমাপ করা হোক না কেন, এর মান সর্বদা c = 3 × 108 m/s
- নিউটনীয়ভাবে মনে হতে পারে, চলমান মহাকাশযান থেকে আলোর বেগ 1.8c বা বেশি হবে। কিন্তু আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী, আলোর বেগ কখনো c-এর বেশি হয় না।

- অতএব, মহাকাশযানের সাপেক্ষেও আলোর বেগ থাকবে c.

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]