পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৪৪
সিলেবাস
ভূগোল ও নৈতিকতা সম্পূর্ণ [৭০ নাম্বার] (যারা প্যাকেজ নিয়েছেন তাদের জন্য সকল পরীক্ষা ফ্রি)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৪ প্রশ্ন

.
‘হ্নীলা’ সীমান্ত এলাকা বাংলাদেশের কোন জেলার অন্তর্গত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
হ্নীলা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত টেকনাফ উপজেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন। সূত্র- hnilaup.coxsbazar.gov.bd
.
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডে কত একর ভূমি যোগ হয়?
  1. ক) ১০০৪১.২৫ একর
  2. খ) ১০৯৬৭.৩৫ একর
  3. গ) ১১৪৯৮.৩৪ একর
  4. ঘ) ১২৬৫৩.৮১ একর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়। ফলে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডে ১০০৪১.২৫ একর ভূমি যোগ হয়। ১৯৭৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটি ঐতিহাসিক মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে পরিচিত। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
.
কোন দুইটি দেশ ব্যতীত দক্ষিণ আমেরিকার সবগুলো দেশের সাথে ব্রাজিলের সীমান্ত রয়ে‍ছে?
  1. ক) আর্জেন্টিনা ও ঘানা
  2. খ) কলম্বিয়া ও পেরু
  3. গ) সুরিনাম ও পেরু
  4. ঘ) ইকুয়েডর ও চিলি
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র ব্রাজিল। এছাড়াও জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। ইকুয়েডর ও চিলি ব্যতীত দক্ষিণ আমেরিকার সবগুলো দেশের সাথে ব্রাজিলের সীমান্ত রয়ে‍ছে। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
.
আয়তন ও জনসংখ্যায় আফ্রিকার সবচেয়ে ছোট দেশ-
  1. ক) সুরিনাম
  2. খ) সিচেলিস
  3. গ) আলজেরিয়া
  4. ঘ) নাইজেরিয়া
ব্যাখ্যা
আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ হল আফ্রিকা মহাদেশ। আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা অতিক্রম করেছে। এ মহাদেশের উত্তরে ভূ-মধ্যসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। আয়তনে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ আলজেরিয়া। জনসংখ্যায় আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ নাইজেরিয়া। জনসংখ্যায় ও আয়তনে আফ্রিকার সবচেয়ে ছোট দেশ সিচেলিস। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
.
কোন দেশটি মেলানেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. ক) কিরিবাতি
  2. খ) নাউরু
  3. গ) পালাউ
  4. ঘ) ফিজি
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সকল দ্বীপকে একত্রে ওশেনিয়া বলে। এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।
ওশেনিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলঃ
অস্ট্রেলেশিয়াঃ ১। অস্ট্রেলিয়া ও ২। নিউজিল্যান্ড।
পলিনেশিয়াঃ ১। সামোয়া, ২। টোঙ্গা ও ৩। টুভ্যালু।
মেলানেশিয়াঃ ১। পাপুয়া নিউগিনি, ২। সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ৩। ভানুয়াতু ও ৪। ফিজি।
মাইক্রোনেশিয়াঃ ১। ফেডারেল স্টেট অব মাইক্রোনেশিয়া, ২। কিরিবাতি, ৩। নাউরু, ৪। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও ৫। পালাউ।
সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।

.
এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি-
  1. ক) মাউন্ট ইরেবাস
  2. খ) মাউন্ট সিডলি
  3. গ) মাউন্ট হ্যাম্পটন
  4. ঘ) মাউন্ট বার্লিন
ব্যাখ্যা
এন্টার্কটিকা মহাদেশ আয়তনে বিশ্বে পঞ্চম (আয়তনঃ ১৩,২০৯,০০০ বর্গকিলোমিটার)। মহাদেশটি পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এবং দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে প্রায় বৃত্তাকারে অবস্থিত। এ মহাদেশের চতুর্দিকে দক্ষিণ মহাসাগর অবস্থিত। মহাদেশটি সারা বছর বরফে আচ্ছন্ন থাকে বলে মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী নয় (জনসংখ্যাঃ নেই)। পৃথিবীর মোট জমাটবদ্ধ বরফের ৯০ভাগ এন্টার্কটিকায় রয়েছে। শীতলতম এই মহাদেশে কোনো দেশ নেই। এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রাণি অ্যালবাট্রস, পেঙ্গুইন, সীল ইত্যাদি। এ মহাদেশে মস ও শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে। মাউন্ট ইরেবাস এই মহাদেশের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সিডলি। সর্বোচ্চ বিন্দু ভিনসন ম্যাসিফ। সর্বনিম্ন বিন্দু বেন্টলে সাবগ্ল্যাসিয়াল ট্রেঞ্চ। সামুদ্রিক পাথর প্রধান সম্পদ। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
.
জার্মানি কর্তৃক জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা কোনটি?
  1. ক) ম্যাজিনো লাইন
  2. খ) সিগফ্রিড লাইন
  3. গ) ওডারনিস লাইন
  4. ঘ) হিন্ডারবার্গ লাইন
ব্যাখ্যা
সিগফ্রিড লাইন, জার্মানির পশ্চিম সীমান্তে ১৯৩০-এর দশকে নির্মিত হয়েছিল। এটি জার্মানি কর্তৃক জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা। এছাড়া জার্মান আক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফ্রান্স কর্তৃক জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা ম্যাজিনো লাইন; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে নিরূপতি সীমারেখা ওডারনিস লাইন; এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে নিরূপতি সীমারেখা হিন্ডারবার্গ লাইন। সূত্র- ব্রিটানিকা।
.
‘কর্তারপুর করিডোর’ রয়েছে-
  1. ক) ভারত ও ভুটানের মধ্যে
  2. খ) ভারত ও নেপালের মধ্যে
  3. গ) বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে
  4. ঘ) পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে
ব্যাখ্যা
ভারতের পাঞ্জাবের ডেরা বাবা নানক সৌধের সঙ্গে প্রায় চার কিমি দূরে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের নারওয়াল জেলার কর্তারপুর সাহিবের সংযোগ স্থাপন করছে এই করিডোর। ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীরা ভিসা ছাড়া পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা এই উপাসনালয়ে যেতে কর্তারপুর করিডোরের চুক্তি করেছে নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদ। সূত্র- বিবিসি, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা এবং bengali.indianexpress.com।
.
‘কান্দাহার’ কোন দেশের বিখ্যাত শহর?
  1. ক) ইরান
  2. খ) মিশর
  3. গ) পাকিস্তান
  4. ঘ) আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
কান্দাহার দক্ষিণ আফগানিস্তানের একটি শহর এবং কান্দাহার প্রদেশের রাজধানী। আফগানিস্তানের আরও কয়েকটি বিখ্যাত শহরঃ মাযার-ই-শরীফ, কাবুল, হেরাত, গজনী। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
১০.
‘The Land of a Thousand Smiles’ বলা হয় কোন দেশকে?
  1. ক) থাইল্যান্ডকে
  2. খ) ফিলিপাইনকে
  3. গ) ইন্দোনেশিয়াকে
  4. ঘ) জাপানকে
ব্যাখ্যা
ফিলিপাইনের উপনাম “The Pearl of the Orient Sea”; আফগানিস্তান “Graveyard of Empires বা সাম্রাজ্যের কবরস্থান'' নামে পরিচিত। থাইল্যান্ড ''The Land of a Thousand Smiles” নামে পরিচিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এর ঐতিহাসিক ঐশ্বর্যের পাশাপাশি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ এবং আকর্ষণীয় সংস্কৃতির কারণে এই দেশকে ''The Land of a Thousand Smiles” নামে অভিহিত করা হয়। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
১১.
ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) ২০° সেলসিয়াস
  2. খ) ২৫° সেলসিয়াস
  3. গ) ৩০° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে অভ্যন্তরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত প্রথম স্তরকে অশ্মমন্ডল বলে। অশ্মমন্ডলের উপরের অংশ ভূত্বক নামে পরিচিত। এর পুরুত্ব সবচেয়ে কম, গড়ে ২০ কিলোমিটার। ভূ-কম্পন তরঙ্গ থেকে জানা যায় যে, এ স্তরটি মূলত সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম উপাদান দিয়ে গঠিত যা সিয়াল নামে পরিচিত। ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অশ্বমন্ডলের নিচে গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডল নামে আরো দুটি প্রধান স্তর রয়েছে। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১২.
ম্যাগমা বা গলিত শিলা ভূ-পৃষ্ঠে অথবা ভূগর্ভে ঠান্ডা হয়ে কঠিন রূপ লাভ করলে তাকে বলা হয়-
  1. ক) স্তরীভূত শিলা
  2. খ) আগ্নেয় শিলা
  3. গ) পাললিক শিলা
  4. ঘ) রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
ম্যাগমা বা গলিত শিলা ভূ-পৃষ্ঠে অথবা ভূগর্ভে ঠান্ডা হয়ে কঠিন রূপ লাভ করলে তাকে আগ্নেয় শিলা বলা হয়। গ্রানাইট, পেগমাটাইট, গ্রানোডায়োরাইট, টোনালাইট, ডায়োরাইট, ডলেরাইট, গ্যাব্রো প্রভৃতি বাংলাদেশের কয়েকটি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
গ্রানাইট থেকে কোন রূপান্তরিত শিলার সৃষ্টি হয়?
  1. ক) নিস
  2. খ) কোয়ার্টজাইট
  3. গ) স্লেট
  4. ঘ) গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয়, যা রূপান্তরিত শিলা নামে পরিচিত। রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ। যেমন- গ্রানাইট থেকে নিস বা নাইস, কয়লা থেকে গ্রাফাইট, চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৪.
নিচের কোনটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ-
  1. ক) লিপারী দ্বীপের ষ্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি
  2. খ) ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি
  3. গ) জাপানের ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি
  4. ঘ) ইরানের কোহিসুলতান আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যুৎপাতের ভিত্তিতে পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন: সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং মৃত আগ্নেয়গিরি।
সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেই সব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই ধরনের। যেমন- যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরত লাভা নির্গত হয় সেগুলো অবিরাম আগ্নেয়গিরি। যেমন: ভূ-মধ্যসাগরের লিপারী দ্বীপের ষ্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি, ক্যালিফোর্নিয়ার আগ্নেয়গিরি। অন্যদিকে যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি, সিসিলি আগ্নেয়গিরি। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সমূহ থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। যেমন : জাপানের ফুজিয়ামা। মৃত আগ্নেয়গিরিসমূহ থেকে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে না। যেমন: পোপো আগ্নেয়গিরি, ইরানের কোহিসুলতান, মেক্সিকোর পে্রিকোটিন আগ্নেয়গিরি। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম(উন্মুক্ত)।
১৫.
প্রবাহমান দুইটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে বলা হয়-
  1. ক) দোয়াব
  2. খ) খাঁড়ি
  3. গ) নদী উপত্যকা
  4. ঘ) মোহনা
ব্যাখ্যা

মোহনাঃ নদী যখন কোন হ্রদ বা সাগরে এসে পতিত হয়, তখন সেই পতিত স্থানকে মোহনা বলে।
খাঁড়িঃ নদীর অধিক বিস্তৃত মোহনাকে বলা হয় খাঁড়ি।
দোয়াবঃ প্রবাহমান দুইটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলে।
নদী উপত্যকাঃ উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সে খাতকে উক্ত নদী উপত্যকা বলে।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম (উন্মুক্ত)।

১৬.
অত্যন্ত সংকীর্ণ ও গভীর গিরিখাতকে বলা হয়-
  1. ক) বর্তুলাকার গর্ত
  2. খ) পলল কোণ
  3. গ) ক্যানিয়ন
  4. ঘ) ‘U’-আকৃতির উপত্যকা
ব্যাখ্যা
নদী যখন শুষ্ক অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সেখানে যদি কোমল শিলার স্তর থাকে তাহলে গিরিখাতগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ ও গভীর হয়। এরূপ গিরিখাতকে ক্যানিয়ন বলে। উত্তর আমেরিকার কলোরোডো নদীর গিরিখাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবী বিখ্যাত। এটি ১৩৭-১৫৭ মিটার বিস্তৃত, প্রায় ২.৪ কিলোমিটার গভীর ও ৪৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৭.
গলিত শিলা বা ম্যাগমাসমূহ ভূ-ত্বকের নিচে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে, জমাট বেঁধে ও স্ফীত হয়ে কোন ধরনের পর্বত সৃষ্টি করে?
  1. ক) ভঙ্গিল পর্বত
  2. খ) আগ্নেয় পর্বত
  3. গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  4. ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত
ব্যাখ্যা
ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন উপায়ে ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাগমাসমূহ বাঁধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে জমাট বেঁধে উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূ-ত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে। এভাবে সৃষ্ট শৃঙ্গবিহীন সামান্য খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্প অঞ্চল ব্যাপী বিস্তৃত এই পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৮.
বাংলাদেশের মধুপুরের চত্বর ও বরেন্দ্রভূমি-
  1. ক) পলল সমভূমি
  2. খ) প্লাবন সমভূমি
  3. গ) সঞ্চয়জাত সমভূমি
  4. ঘ) ক্ষয়জাত সমভূমি
ব্যাখ্যা
ক্ষয়জাত সমভূমি: বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন-নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ এবং হিমবাহের ক্ষয়ক্রিয়ার ফলে কোনো উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে, নিচুঁ হয়ে ক্ষয়জাত সমভূমির সৃষ্টি হয়। অ্যাপালেশিয়ান পাদদেশীয় সমভূমি, ফিনল্যান্ড ও সাইবেরিয়া সমভূমি এ ধরনের ক্ষয়জাত সমভূমি। বাংলাদেশের মধুপুরের চত্বর ও বরেন্দ্রভূমি দুটি ক্ষয়জাত সমভূমির উদাহরণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৯.
ভূ-ত্বকের সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) সমৃদ্ধ স্তরটির অপর নাম-
  1. ক) সিমা স্তর
  2. খ) নিফে স্তর
  3. গ) সিয়াল স্তর
  4. ঘ) মোহবিচ্ছেদ স্তর
ব্যাখ্যা
মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) হওয়ায় এই স্তরকে সিয়াল স্তর (Sial) বলা হয়। অপরদিকে, মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) হওয়ায় এই স্তরকে সিমা স্তর (Sima) নামে অভিহিত করা হয়। ভূ-কম্পন তরঙ্গ থেকে বুঝা যায় যে, কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশ অপেক্ষাকৃত তরলাকারে রয়েছে (২,২৭০ কি.মি. পুরু)। লোহা ও নিকেল সমৃদ্ধ এই মন্ডলের গাঠনিক উপাদানের মধ্যে পারদ ও সিসা উল্লেখযোগ্য। নিকেল (Ni) ও লোহার(Fe) প্রাধান্য থাকায় এই স্তরটির নিফে (Nife) স্তর নামে অভিহিত করা হয়। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
২০.
বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস একত্রে শতকরা কতভাগ জায়গা জুড়ে রয়েছে?
  1. ক) ৯০.৭১ শতাংশ
  2. খ) ৯৩.৯৮ শতাংশ
  3. গ) ৯৭.৭৫ শতাংশ
  4. ঘ) ৯৮.৭৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকারের গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত। বিশুদ্ধ ও শুষ্ক বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের নাম নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। এই দুটি গ্যাস একত্রে মিলে বায়ুমন্ডলের ৯৮.৭৩ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে এবং বাকি ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদান। এই ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকা গ্যাসীয় উপাদানগুলো হলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস যেমন- ওজোন, জেনন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্রিপটন, হিলিয়াম, নিয়ন ইত্যাদি। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২১.
হিমাঙ্ক শিশিরাঙ্কের উপরে থাকলে ঘনীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জলীয়বাষ্প পরিণত হয় না-
  1. ক) বৃষ্টিতে
  2. খ) কুয়াশায়
  3. গ) শিশিরে
  4. ঘ) তুষারে
ব্যাখ্যা

বায়ু যত বেশি উষ্ণ হবে তত বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় যতটুকু পরিমাণ জলীয়বাষ্প বায়ুতে থাকলে বায়ু এর চেয়ে বেশি জলীয়বাষ্প আর ধারণ করতে পারে না সেই অবস্থায় ঐ বায়ুকে বলা হয় সম্পৃক্ত বা পরিপৃক্ত বায়ু।
এই সম্পৃক্ত বায়ু যখন শীতল হতে থাকে তখন তা আর অধিক পরিমাণে জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে না। এ পরিস্থিতিতে জলীয়বাষ্পের কিছু অংশ পানিতে পরিণত হয় এবং এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঘনীভবন।
বায়ু যে উষ্ণতায় জলীয়বাষ্পরূপে ঘনীভূত হয় তাকে বলা হয় শিশিরাঙ্ক। তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে তখন ঘনীভূত জলীয়বাষ্প কঠিন আকার ধারণ করে তুষার ও বরফরূপে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়।
তবে হিমাঙ্ক শিশিরাঙ্কের উপরে থাকলে ঘণীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৃষ্টি, কুয়াশা ও শিশিরে পরিণত হয়।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২২.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছর কোন ধরনের বৃষ্টিপাত হয়-
  1. ক) ঘূর্ণি বৃষ্টি
  2. খ) পরিচলন বৃষ্টি
  3. গ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. ঘ) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে প্রচুর জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়। এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজা নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টি। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এই সব এলাকার উর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। নিরক্ষীয় এলাকায় স্থলভাগের থেকে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হয়। এই অঞ্চলে হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন এই রকম পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারাবছরই সন্ধ্যা ও বিকালে এইরূপ বৃষ্টি হয়। নাতিশীতোষ্ণমন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৩.
কোনটি আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলের স্থানীয় বায়ু-
  1. ক) খামসিন
  2. খ) বোরা
  3. গ) মিস্ট্রাল
  4. ঘ) চিনুক
ব্যাখ্যা
স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ। রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৪.
কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কোন ভূতাত্ত্বিক যুগের ভূমিরূপ-
  1. ক) প্লাইস্টোসিন যুগের
  2. খ) টারশিয়ারি যুগের
  3. গ) মায়োসিন যুগের
  4. ঘ) ডেবোনিয়ান যুগের
ব্যাখ্যা
আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টির বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৫.
খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল কোন ধরনের প্লাবন সমভূমি?
  1. ক) পাদদেশীয় সমভূমি
  2. খ) স্রোতজ সমভূমি
  3. গ) ব-দ্বীপ সমভূমি
  4. ঘ) উপকূলীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলের বন্যা প্রবণ প্লাবন সমভূমি।
ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২৬.
বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলার রায়ে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে মূল ভূখন্ডের কত ভাগ সমুদ্র-অঞ্চল লাভ করে?
  1. ক) ১৫.৮০ ভাগ
  2. খ) ৫৫.৯৮ ভাগ
  3. গ) ৭২.৪৫ ভাগ
  4. ঘ) ৮০.৫১ ভাগ
ব্যাখ্যা
৭ জুলাই ২০১৪ তারিখে নেদারল্যান্ডসের হেগ-এর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সালিশি ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলার রায় ঘোষণা করে। এ রায়ের ফলে বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিক্যাল মাইলের (৩৭০ কিলোমিটার) একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরে মহীসোপান অঞ্চলে বাংলাদেশের অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি নিশ্চিত হয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সংগে সমুদ্রসীমা নির্ধারণী সংক্রান্ত মামলার রায় জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইন বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে অমীমাংসিত ২০০ নটিক্যাল মাইলের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাহিরে মহীসোপান অঞ্চলে সকল প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার লাভ করে। এই দুইটি রায়ে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে সর্বমোট ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র-অঞ্চল লাভ করে, যা মূল ভূখন্ডের ৮০.৫১ ভাগ। সূত্র- সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বাংলাদেশের গেজেট।
২৭.
সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পায়?
  1. ক) ৪° সেলসিয়াস
  2. খ) ৬° সেলসিয়াস
  3. গ) ৮° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ১২° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়। সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়। যেমন-দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়। দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৮.
‘Tidal Forest’ হলো-
  1. ক) মিঠাপানির জলাবন
  2. খ) পাহাড়ের সংরক্ষিত বন
  3. গ) জোয়ারধৌত বন
  4. ঘ) শাল গাছের বন
ব্যাখ্যা
জোয়ারধৌত বন(Tidal forest) জোয়ারভাটার প্রভাবের আওতাভুক্ত বনভূমি। বাংলাদেশে সুন্দরবনকে জোয়ারভাটার প্লাবিত বন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
২৯.
চা চাষের জন্য কত সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন?
  1. ক) ১০০ সেন্টিমিটার
  2. খ) ১৫০ সেন্টিমিটার
  3. গ) ২০০ সেন্টিমিটার
  4. ঘ) ২৫০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম। বাংলাদেশে উৎপাদিত চা-এর কিছু অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়। পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষ করা হয়।
নিয়ামক:
তাপমাত্রা : চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। ১৬° থেকে ১৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা চা চাষের উপযোগী।
বৃষ্টিপাত : চা চাষের জন্য ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
মৃত্তিকা : উর্বর লৌহ ও জৈব পদার্থ মিশ্রিত দোঁআশ মাটিতে চা চাষ ভালো হয়।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৩০.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় তেলক্ষেত্রটি অবস্থিত-
  1. ক) বরমচালে
  2. খ) হরিপুরে
  3. গ) কৈলাশটিলায়
  4. ঘ) রশিদপুরে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সিলেট জেলার হরিপুরে ১৯৮৬ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের সপ্তম কূপে তেল পাওয়া গেছে। এ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৬০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়। অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের তেল শোধনাগারে পরিশোধন করা হয়। পরিশোধিত তেল থেকে কোরোসিন, বিটুমিন, পেট্রোল ও অন্যান্য দ্রব্য পাওয়া যায়। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বরমচালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় তেলক্ষেত্রটি অবস্থিত। দৈনিক প্রায় ১,২০০ ব্যারেল তেল উত্তোলিত হয় এই তেলক্ষেত্রটি থেকে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সমগ্র বাংলাদেশের জ্বালানি তেল মজুদ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, বিপনন ও জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ করে থাকে। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩১.
বাংলাদেশের দেওয়া নামে প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয়েছিল-
  1. ক) অনিল
  2. খ) বিজলি
  3. গ) রেশমী
  4. ঘ) আইলা
ব্যাখ্যা
২০০৪ সালে বাংলাদেশের দেওয়া ‘অনিল’ নামে প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড় ভারতে আঘাত করেছিল। বাংলাদেশে আঘাত হানা নামকরণ হওয়া প্রথম ঘূর্ণিঝড়টি ছিল ‘সিডর’। এটি ছিল ওমানের দেওয়া নাম। সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা।
৩২.
‘আম্পান’ কোন দেশের দেওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম?
  1. ক) মালদ্বীপ
  2. খ) মিয়ানমার
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ১৬৯টি নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা(ডব্লিউএমও)। এই অঞ্চলে বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) ১৩টি দেশ নামগুলো দিয়েছে। আরএসএমসির সদস্য রয়েছে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ। বাকি ১২টি দেশ হলো ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। আরব ও বঙ্গোপসাগরে এখন যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে অর্থাৎ, ৬৪ নম্বর ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘আমপান’। এটি থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম। ১৬৯টি নতুন ঘূর্ণিঝড়ের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নামগুলো হলো: নিসর্গ, বিপর্যয়, অর্ণব, উপকূল, বর্ষণ, রজনী, নিশীথ, ঊর্মি, মেঘলা, সমীরণ, প্রতিকূল, সরবর, মহানিশা। সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা।
৩৩.
উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত সমুদ্র অঞ্চলঘেঁষা এশিয়ায়(দূরপ্রাচ্যে) সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোকে বলা হয়-
  1. ক) টাইফুন
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) হ্যারিকেন
  4. ঘ) জোয়ান
ব্যাখ্যা
উত্তর আটলান্টিক, উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত, ক্যারিবিয়ান সমুদ্র ও মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপন্ন গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়কে (আমেরিকা মহাদেশে) ‘হ্যারিকেন’, উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত সমুদ্র অঞ্চলঘেঁষা এশিয়ায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোকে(দূরপ্রাচ্যে) ‘টাইফুন’, দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশে বলা হয় সাইক্লোন এবং বাংলায় ঘূর্ণিঝড়। পাশ্চাত্যে হারিকেনকে মানুষের নামেও চিহ্নিত করা হয়, যেমন: মিচেল, এনড্রু, ক্যারল, ডরোথি এবং ইভ। সূত্র- বাংলাপিডিয়া ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম।
৩৪.
বাংলাদেশের একমাত্র ভূকম্পন মানমন্দির কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া দফতর ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামে একটি ভূকম্পন মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করে। আজও সেটিই দেশের একমাত্র ভূকম্পন মানমন্দির। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
দুর্যোগ ‘পূর্ব প্রস্তুতি’ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত-
  1. ক) নদী খনন
  2. খ) আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. গ) ঝুঁকিপুর্ণ অঞ্চল চিহ্নিতকরণ
  4. ঘ) পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি
ব্যাখ্যা
পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র,টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত। কাঠামোগত প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যেমন- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকে বুঝায়। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩৬.
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত ‘গ্লোবাল দুর্নীতি অনুধাবন সূচক- ২০১৯’ অনুসারে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান-
  1. ক) ১৩ তম
  2. খ) ১৪ তম
  3. গ) ১৫ তম
  4. ঘ) ১৭ তম
ব্যাখ্যা
বার্লিন ভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত গ্লোবাল দুর্নীতি অনুধাবন সূচকে ২০১৯ অনুসারে বাংলাদেশ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে ১৪ তম স্থানে রয়েছে। টিআই'র দুর্নীতির ধারণা সূচকে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ তালিকার এক নম্বরে, মানে শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ছিল৷ ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তৃতীয়, ২০০৭ সালে সপ্তম, ২০০৮ সালে দশম, ২০০৯ সালে ১৩তম, ২০১০ সালে ১২তম, ২০১১ সালে ১৩তম, ২০১২ সালে ১৩তম, ২০১৩ সালে ১৬তম, ২০১৪ সালে ১৪তম, ২০১৫ সালে ১৩তম, ২০১৬ সালে ১৫তম, ২০১৭ সালে ১৭তম এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩তম৷ সূত্র- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ও ডয়েচ ভেল ওয়েবসাইট।
৩৭.
‘দেশের উন্নয়নে প্রতিটি স্তরের জন্য সুশাসন আবশ্যক’-কার অভিমত?
  1. ক) আইএমএফের
  2. খ) জাতিসংঘের
  3. গ) ম্যাককরনির
  4. ঘ) মিশেল ক্যামডেসাসের
ব্যাখ্যা
আইএমএফের মতে, ‘দেশের উন্নয়নে প্রতিটি স্তরের জন্য সুশাসন আবশ্যক’। জাতিসংঘের ভাষায়, ‘সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন’। ম্যাককরনির মতে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীলসমাজের, সরকারের সাথে জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়’। UNDP এর মতে,'সুশাসন সকলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।' অন্যদিকে,জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের মতে,''Good governence is perhaps the single most important factor in eradicating proverty and promoting development।'' আইনের শাসন, মানবাধিকার সংরক্ষণ, শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, সব ক্ষেত্রে সমতা, সবার প্রতি ন্যায়পরায়ণতা, জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা ও জাতীয় শুদ্ধাচার সুশাসনের চালিকাশক্তি। সূত্র- নয়াদিগন্ত ও দৈনিক জনতা পত্রিকা।
৩৮.
একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেই দেশের-
  1. ক) রাজনৈতিক সংস্কৃতি
  2. খ) অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তর
  3. গ) সামাজিক পরিবেশ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তর এবং সামাজিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূলে রয়েছে সুশাসন। সুশাসন ও উন্নয়ন পরস্পরের পরিপূরক। সুশাসন জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষায় নিশ্চয়তা দেয়। ফলে একটি দেশের উন্নয়ন সূচকে ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা দেখা যায়। সূত্র- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র(উন্মুক্ত)।
৩৯.
ব্যক্তির বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত হয়-
  1. ক) মৌলিক অধিকার
  2. খ) রাজনৈতিক অধিকার
  3. গ) সামাজিক অধিকার
  4. ঘ) নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। এরূপ অধিকারের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, নৈতিক অধিকার ইত্যাদি। এদের মধ্যে নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। এটি ব্যক্তির বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত। সূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন-
  1. ক) রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বাধীন ও দক্ষ বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, স্বাধীন ও দক্ষ বিচার ব্যবস্থা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী সংসদ, সুষ্ঠু নির্বাচন, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। দুর্বৃত্তায়ন, কাল টাকার প্রভাব, লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি দুর্নীতির কারণ যা কু-শাসনের জন্ম দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সৎ মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি নিম্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সূত্র- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও নাগরিকতা(উন্মুক্ত)।
৪১.
UNDP (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) সুশাসনের কোন উপাদানের উল্লেখ করেনি?
  1. ক) সহানুভূতিশীলতা
  2. খ) সকলের অংশগ্রহণ
  3. গ) কৌশলগত লক্ষ্য
  4. ঘ) সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
ব্যাখ্যা
UNDP (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে এবং সুশাসনের ৯ টি উপাদানের উল্লেখ করে। এগুলো হলোঃ স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত লক্ষ্য। সূত্র- ইউএনডিপি ওয়েবসাইট।
৪২.
Nihilism বা শূন্যতাবাদের উদ্ভব হয়েছিল-
  1. ক) রাশিয়ায়
  2. খ) জার্মানিতে
  3. গ) ফ্রান্সে
  4. ঘ) চীনে
ব্যাখ্যা
Nihilism বা শূন্যতাবাদ (ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে, যার অর্থ “Nothing বা কিছুই নয়”), মূলত নৈতিক ও জ্ঞানতত্ত্ব সংশয়ের একটি দর্শন যা ১৯ শতকের রাশিয়ায় দ্বিতীয় জার আলেকজান্ডারের শাসনের প্রথম বছরগুলিতে উদ্ভূত হয়েছিল। এই শব্দটি পাশ্চাত্য সমাজের নৈতিকতার বিশৃঙ্খলা বর্ণনা করার জন্য ফ্রেডরিচ নিত্শে(Friedrich Nietzsche) প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। সূত্র- ব্রিটানিকা।
৪৩.
রেনে দেকার্ত কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
রেনে দেকার্ত(১৫৯৬-১৬৫০), একজন ফরাসি দার্শনিক, গণিতজ্ঞ এবং বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি একজন দ্বৈতবাদী দার্শনিক ছিলেন। তিনি স্কলাস্টিক অ্যারিস্টোটেলিয়ানিজমকে ত্যাগকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন, কারণ তিনি মন-দেহের দ্বৈতবাদের প্রথম আধুনিক সংস্করণ তৈরি করেছিলেন। সেজন্য তাকে আধুনিক দর্শনের জনক বলা হয়েছে। সূত্র- ব্রিটানিকা।
৪৪.
মূল্যবোধ তৈরির সূতিকাগার বলা হয়-
  1. ক) পরিবারকে
  2. খ) রাষ্ট্রকে
  3. গ) সমাজকে
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ তৈরি মূলত পারিবারিক পরিমণ্ডলেই শুরু হয়। কারণ পরিবার এমন একটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান যা শিশুর জীবনের সূচনালগ্নেই তার চেতনায় এমন বোধ বপন করে দিতে পারে যা দীর্ঘস্থায়ী হয়; এমন নজির রয়েছে প্রচুর। তাই পরিবারই মূল্যবোধ তৈরির সূতিকাগার বলা হয়। সূত্র- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।