পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪৭ বাংলা: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও বাংলা সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ এর পদকর্তার সংখ্যা -
  1. ক) একুশ জন
  2. খ) তেইশ জন
  3. গ) ছয়ত্রিশ জন
  4. ঘ) ত্রিশ জন
সঠিক উত্তর:
খ) তেইশ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তেইশ জন
ব্যাখ্যা
‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে। চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়।
- এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। 
- চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়।
- অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাব কাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক। 
- চর্যাকাররা  সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন: সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ কে রচনা করেন?
  1. ক) শান্তি পা 
  2. খ) সরহ পা
  3. গ) ভাদ্র পা
  4. ঘ) কুক্করী পা 
সঠিক উত্তর:
খ) সরহ পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরহ পা
ব্যাখ্যা
সরহ পা অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উওরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরুপের রাজা রত্নপাল ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ- কামরুপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

অন্যদিকে,
- শান্তি পাদ বিক্রম শিলা বিহারের দ্বার পণ্ডিত ছিলেন।
- দীপঙ্কর শ্রী জ্ঞান আতীশ তাঁর শিষ্য।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, কুক্করী পা বাংলাদেশের লোক। তিনি ইন্দ্রভূতির অন্যতম গুরু।
- তিনি আট শতকের প্রথম পাদে বর্তমান ছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।
.
চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ-
  1. ক) শান্তি পা 
  2. খ) সরহ পা 
  3. গ) ভাদ্র পা
  4. ঘ) কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ। পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে তিনি বর্তমান ছিলেন।
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা। প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি। 
- কাহ্নপা সম্প্রদায়গতভাবে ছিলেন ব্রাহ্মণ, পরে সহজিয়া মতে দীক্ষা নিয়ে সিদ্ধাচার্য, মন্ডলাচার্য ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত হন।
- পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারে তিনি অবস্থান করতেন। তিনি বৌদ্ধ সহজিয়া মতের অনুসারী ছিলেন জলন্ধরী পা ছিলেন তাঁর গুরু। চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি। এ পর্যন্ত কাহ্নপার ভণিতায় ৭৪খানি গ্রন্থের নাম জানা গেছে।

অন্যদিকে,
 - শবর পা সহ জিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা। চর্যাপদ সঙ্কলনে শবর পা দুটি পদ আছে।
- শান্তি পা বিক্রম শিলা বিহারের দ্বার পণ্ডিত ছিলেন।
- দীপঙ্কর শ্রী জ্ঞান অতীশ তাঁর শিষ্য।

উৎস : বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।
.
বাংলা সাহিত্যে কোন সময়কে চৈতন্য যুগ বলে?
  1. ক) ১২০০-১৩৫০
  2. খ) ১৪৫০-১৫০০
  3. গ) ১৫০০-১৭০০
  4. ঘ) ১৭০০-১৮০০
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫০০-১৭০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫০০-১৭০০
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে (১৫০০ থেকে ১৭০০) পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সংক্ষেপে ‘চৈতন্য’ নামে পরিচিত।
- শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর জীবিতকালেই ভক্তদের ভগমানের অবতার বলে গৃহীত হয়েছিল।
- চৈতন্যদেব প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- প্রবোধানন্দ সরস্বতী ‘শ্রীচৈতন্যচন্দ্রামৃত’ নামক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে ‘কচড়া’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, যার অর্থ ব্যাপক।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ (১২০১-১৫০০) তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এ ছাড়া (১২০১-১৩৫০) সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।
 
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মঙ্গল কাব্যের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি যথা :
- মনসামঙ্গল
- চন্ডীমঙ্গল
- ধর্ম মঙ্গল

একটি সার্থক মঙ্গলকাব্য ৫টি অংশ থাকে যথা : 
- বন্দনা
- আত্মপরিচয়
- দেবখন্ড
- মর্ত্যখন্ড এবং
- শ্রুতিফল

- মঙ্গল কাব্যের প্রধান দেবতার হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী, ও ধর্মঠাকুর।
- এই কাব্য রচনার মূল কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতার নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্য কৃষিকাজের জন্য উপযোগী?
  1. ক) রুপকথা
  2. খ) পুঁথি সাহিত্য
  3. গ) ডাক ও খনার বচন
  4. ঘ) লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক ও খনার বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক ও খনার বচন
ব্যাখ্যা
খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া।
- তাই মধ্যযুগের ডাক ও খনার বচন কৃষিকাজের জন্য উপযোগী।
- বুদ্ধ সমাজের ডাকের বচন এবং হিন্দু সমাজে খনার বচনের উৎপত্তি হয়েছিল।
- ডাকের বচন ‘ডাকের কথা’ বা ‘ডাক পুরুষের কথা’ নামেও পরিচিত। 
- ডাক তাঁর বচনকে ‘ডাকর কথা’ বলেছেন, চাকমা ভাষায় যা ‘দাগর কধা’ নামে পরিচিত।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী, লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও  খনা একই ব্যক্তি।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও দীনেশচন্দ্র সেনের মতে ডাকার্ণব বাংলা ভাষার আদিগ্রন্থ।
- এটি কৃষি, জ্যোতিষশাস্ত্র, গণস্বাস্থ্য ও প্রাত্যহিক জীবন সংক্রান্ত প্রজ্ঞা-বচনের সমাহার

উৎস : বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোনটি শোকগীতি বা বিলাপ সংগীত?
  1. ক) সারিগান
  2. খ) মর্সিয়া
  3. গ) ভাটিয়ালী
  4. ঘ) হামদ
সঠিক উত্তর:
খ) মর্সিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মর্সিয়া
ব্যাখ্যা
শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।
- ‘মর্সিয়া’ কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা।
- আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত। 
- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্য স্থান পায়।
- ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।
- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, ‘যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।
.
নিচের কোনটি ‘পদ্মাবতী’ সম্পর্কিত?
  1. ক) প্রণয়কাব্য
  2. খ) মৌলিক গ্রন্থ
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) প্রণয়কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রণয়কাব্য
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- অযোধ্যার কবি জায়সী ১৫৪০ সালে ‘পদুমাবত’ কাব্য রচনা করেছিলেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ উমাদার আমলে মাগন ঠাকুর পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন। এর রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মধ্যযুগের আদি কবি-
  1. ক) বড়ু চন্ডীদাস
  2. খ) দ্বিজ চন্ডীদাস
  3. গ) দীন চন্ডীদাস
  4. ঘ) চন্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
ক) বড়ু চন্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বড়ু চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি।

চন্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়: 

১. বড়ু চন্ডীদাস
২. দ্বিজ চন্ডীদাস
৩. দীন চন্ডীদাস ও 
৪. চন্ডীদাস

- এই চারটি নামের মধ্যে শেষ তিনটি নাম একজনের নাকি তাঁরা পৃথক কবি তা নিশ্চিত করে আজও বলা যাচ্ছে না। এই সমস্যাকে চণ্ডীদাস-সমস্যা বলে।
- তবে এঁদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাসকে মোটামুটিভাবে চিহ্নিত করা গেছে। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নান্নুর গ্রামে (মতান্তরে ছাতনা-বাঁকুড়া)। তাঁর পিতা দুর্গাদাস বাগচী ছিলেন বরেন্দ্র শ্রেণির ব্রাহ্মণ।
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে। বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া থেকে এ কাব্যের পুথি আবিষ্কার করে ১৯১৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
নিচের কোন পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে মাসিক সাহিত্য হিসেবে প্রকাশ পায়?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) কল্লোল
  3. গ) কালিকলম
  4. ঘ) প্রগতি
সঠিক উত্তর:
খ) কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কল্লোল
ব্যাখ্যা
১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে। 
- কালিকলম সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)। মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- প্রগতি একটি সাহিত্য পত্রিকা। বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায় ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৪ সনের আষাঢ় মাসে (জুলাই ১৯২৭)।
- প্রগতির প্রধান বিষয় ছিল সাহিত্যে আধুনিকতা। এ বিষয়ে তরুণ লেখকদের অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে কল্লোল-র চেয়ে প্রগতির ভূমিকা ছিল বেশি বলিষ্ঠ। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
বাংলা একাডেমি থেকে কতটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

১. বাংলা একাডেমি পত্রিকা :
- গবেষণা মূলক ত্রৈমাসিক।বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্ব সহ অন্যান্য বিষয়ে ও বাংলায় রচিত গবেষণা মূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

২. উত্তরাধিকার মাসিক পত্রিকা :
- এতে সৃজনশীল রচনা, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

৩. ধানশালিকের দেশ : 
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা। কিশোর উপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

৪. বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা :
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৫. বাংলা একাডেমি জার্নাল : 
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা। বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৬. বার্তা :
- শের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংবাদসহ প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা। উল্লিখিত পত্রিকাসমূহ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি :সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১২.
‘শনিবারের চিঠি’ কি ধরনের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. ক) তথ্য সমৃদ্ধ
  2. খ) হাস্যরসাত্নক
  3. গ) নীতিকথা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) হাস্যরসাত্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাস্যরসাত্নক
ব্যাখ্যা
‘শনিবারের চিঠি পত্রিকা’ এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।

শনিবারের চিঠি পত্রিকা
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা।
- প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা  হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।

লেখকদের মধ্যে উলেখযোগ্য ছিলেন:
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- অশোক চট্টোপাধ্যায়
- সুবিমল রায়
- মোহিতলাল মজুমদার
- সজনীকান্ত দাস
- যোগানন্দ দাস
- নীরদ চন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
বাংলা বর্ণমালা তৈরীতে অগ্রদূত কারা?
  1. ক) উইলকিন্স ও হ্যালহেড
  2. খ) পঞ্চানন ও হ্যালহেড
  3. গ) উইলকিন্স ও পঞ্চানন
  4. ঘ) হ্যালহেড ও ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি 
সঠিক উত্তর:
গ) উইলকিন্স ও পঞ্চানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলকিন্স ও পঞ্চানন
ব্যাখ্যা
উইলকিন্স ও পঞ্চানন বাংলা বর্ণমালা তৈরীতে অগ্রদূত।
- ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকার তৎকালে প্রচলিত প্রাচীন পুঁথির বাংলা অক্ষরের আদলে বাংলা বর্ণমালা তৈরি করে হুগলীতে প্রথম বাংলা মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- একই বছর ই মুদ্রণযন্ত্র থেকে হ্যালহেডের (A Grammar of the Bengali Language) শীর্ষক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থে বাংলা অংশের মুদ্রণে হাতে খোদিত বাংলা টাইপ প্রথম ব্যবহৃত হয়।
- নির্মিত বাংলা বর্ণমালা মুদ্রিত হয়।
- উনিশ শতকে প্রায় সর্বত্রই বাংলা মুদ্রণ পদ্ধতি প্রচলিত হয়।
- ফলে হস্তলিখিত পুঁথির ব্যবহার হ্রাস পায়।
- ইতোপূর্বে যুগে যুগে ব্যক্তিভেদে হস্তাক্ষরের পরিবর্তন ঘটলে ও মুদ্রণযন্ত্রে বাংলা গ্রন্থ মুদ্রিত হওয়ায় পর থেকে বাংলা বর্ণ সার্বজনিক নির্দিষ্ট আদল লাভ করে।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
১৪.
বাংলার প্রাচীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল?
  1. ক) মঙ্গোলীয়
  2. খ) ককেশীয়
  3. গ) অষ্ট্রেলীয়
  4. ঘ) নিগ্রীয়
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্ট্রেলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্ট্রেলীয়
ব্যাখ্যা
বাংলার প্রাচীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে অষ্ট্রেলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।
- জাতিতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর প্রতিটির কোনো না কোনো শাখার  আগমন ঘটেছে বাংলায়। 
- বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি।
- নরগোষ্ঠীগুলি হলো নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়। 
- বাংলাদেশের সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী প্রভৃতি আদি অষ্ট্রেলীয়দের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 
 - এই আদি জনগোষ্ঠীগুলি দ্বারা নির্মিত সমাজ ও সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে আর্যদের  আগমনের পর। 
- বাংলাদেশের জনপ্রবাহে মঙ্গোলীয় রক্তেরও পরিচয় পাওয়া যায়।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
১৫.
‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধি কোন কাব্যের জন্য দেওয়া হয়?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  3. গ) শূন্যপুরাণ
  4. ঘ) রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
ব্যাখ্যা
‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধি শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যের জন্য দেওয়া হয়।
- মালাধর বসু সংস্কৃত শ্রীমদ্ভাগবত অবলম্বনে পয়ার ছন্দে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক উপাখ্যান  শ্রীকৃষ্ণবিজয় রচনা করেন ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। এই কাব্যের জন্য গৌড়েশ্বর তাঁকে ‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এটি ‘মঙ্গল’ বা ‘বিজয়’ জাতীয় পাঁচালি বা আখ্যানকাব্য হিসেবে পরিচিত তাই এর অন্য নাম গোবিন্দমঙ্গল বা গোবিন্দবিজয়।
- এই পাঁচালিকাব্য বাংলার অনুবাদ শাখার ও একটি প্রাচীনতম নিদর্শন বলে অনেকে মনে করেন।
- শ্রীকৃষ্ণবিজয় মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) রচিত একটি আখ্যানকাব্য। এটি সংস্কৃত ভাগবতের দশম
ও একাদশ অধ্যায় অনুসরণে রচিত।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
১৬.
নিচের কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ‘শূন্যপুরাণ’ রচিত হয়?
  1. ক) সংস্কৃতি
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) রাজনীতি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্ম
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘শূন্যপুরাণ’ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে। 
- শূন্যপুরাণ ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ, রচয়িতা রামাই পন্ডিত।
- রামাই পন্ডিতের কাল মুসলিম বিজয়োত্তর তেরো শতক বলে অনুমান করা হয়।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ অংশটি হিন্দু-মুসলমানের ধর্ম সমন্বয়ের চেতনা থেকে পরে প্রক্ষিপ্ত হয়েছে।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- ‘শূন্যপুরাণ’ গদ্য ও পদ্যের মিশ্রণে রচিত একটি চম্পূকাব্য। এর প্রথম পাঁচটি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধে বর্ণনা আছে।
- গ্রন্থের পরের ৪৬টি অধ্যায়ে ধর্মপূজার রীতি-পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭.
চৈতন্যদেবের প্রথম  জীবনী লেখক কে-
  1. ক) মুরারি গুপ্ত
  2. খ) বৃন্দাবন দাস
  3. গ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ 
  4. ঘ) লোচন দাস
সঠিক উত্তর:
ক) মুরারি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুরারি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- ‘মুরারি গুপ্ত কড়চা’ নামে পরিচিত। তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম ‘শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম’।
- মুরারি গুপ্ত সিলেটের অধিবাসী ছিলেন পরে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যের সহাধ্যায়ী ছিলেন।
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যেদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত। 
- কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁর ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ কাব্য লিখেছেন, মুরারি গুপ্ত কেবল প্রথম চৈতন্য-জীবনী লেখক নন, তিনি চৈতন্য-জীবনী রচনার অবিতর্কিত আদর্শের প্রবর্তনকারী।
কৃষ্ণদাস কবিরাজ 
- ষোল শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বৃন্দাবন বাসী এক বৈষ্ণব ভক্ত এবং কৃষ্ণ চৈতন্যের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত গ্রন্থ চৈতন্য চরিতামৃত এর রচয়িতা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। 
- চৈতন্য চরিতামৃত বাংলা ও সংস্কৃতের মিশ্রণে রচিত প্রায় ২৪,০০০ (চবিবশ হাজার) চরণ বিশিষ্ট একটি জীবনী গ্রন্থ ও ধর্মতাত্ত্বিক পুথি।
লোচনদাস
- লোচনদাসের কাব্যে চৈতন্যের মাতৃমমতামন্ডিত বাল্যলীলা এবং অতিরঞ্জনমুক্ত মানবীয় রূপটি প্রধানভাবে ফুটে উঠেছে। এখানেই এর বিশেষত্ব, কাব্যটিতে মুরারি গুপ্ত এবং বৃন্দাবন দাসের প্রভাব আছে। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।