পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৯২: আইন বিষয়াবলী - ৩৬ (সাবজেক্ট ফাইনাল) Topic: Laws related to Family matters
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে মেয়েরা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য কত বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারে?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ধারা ২(৭) অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সের আগে বিবাহিত মেয়েরা ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত বিবাহ প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

.
"হিবা-বিল-ইওয়াজ" (Hiba-bil-Ewaz) কী?
  1. উইল করা সম্পত্তি
  2. ওয়াকফ সম্পত্তি
  3. বিনা প্রতিদানে দান
  4. প্রতিদান সাপেক্ষে দান
ব্যাখ্যা

⇒"হিবা-বিল-ইওয়াজ" (Hiba-bil-Ewaz) হলো ইসলামিক আইনে একটি বিশেষ ধরনের দান (হিবা), যেখানে দানের বিনিময়ে দাতা কিছু প্রতিদান (ইওয়াজ) গ্রহণ করেন। এটি সাধারণ "হিবা" (বিনা প্রতিদানে দান) থেকে আলাদা।

হেবা-বিল-এওয়াজ (Heba-bil-Ewaz):
সংজ্ঞা: প্রতীকী কোনো প্রতিদানের বিনিময়ে কোনো সম্পত্তির দানকে বলা হয় হেবা-বিল-এওয়াজ।
প্রক্রিয়া: দাতা (দানকারী) প্রাপকের কাছ থেকে প্রতীকী কোনো বস্তু (যেমন – ধর্মীয় গ্রন্থ, জায়নামাজ, পানির গ্লাস ইত্যাদি) গ্রহণ করে দলিল সম্পাদন করেন।
দলিলের নাম: এই দলিলকে বলা হয় হেবা-বিল-এওয়াজনামা (Deed of Heba-bil-Ewaz)।

.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. সম্পত্তি হস্তান্তর
  2. অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠা
  3. পিন্ডদান ও বংশ রক্ষা
  4. বিবাহের বৈধতা প্রমাণ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় কর্তব্য (পিণ্ডদান) এবং পারিবারিক বংশধারা রক্ষা করা। 
১) ধর্মীয় কারণ – পিণ্ডদান:
- শাস্ত্রমতে পুত্রহীন ব্যক্তির আত্মার মুক্তি অসম্ভব।
- দত্তক পুত্র মৃত পিতার জন্য পিণ্ডদান করে এবং তিন পুরুষ (পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র) পর্যন্ত এই কর্তব্য পালন করে।
২) পার্থিব কারণ – বংশ রক্ষা:
- পারিবারিক নাম, ঐতিহ্য ও সম্পত্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
- বংশধারা টিকিয়ে রাখা হিন্দু সমাজে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্তব্য।

.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এ “পারিবারিক আদালত” কোন ধারার অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৪
  3. ধারা ৮
  4. ধারা ৫
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(১)(ঘ) অনুসারে, “পারিবারিক আদালত” ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(১)(ঘ) এবং ধারা ৪ অনুসারে, “পারিবারিক আদালত” ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়। ধারা ৪(১) এ উল্লেখ আছে যে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৪ পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।
(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।
(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।

.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীদের প্রধানত ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
১) যাওয়িল ফুরূদ (নির্ধারিত অংশীদার): যাদের অংশ কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত (যেমন: স্ত্রী ১/৮, মা ১/৬, কন্যা ১/২ ইত্যাদি)।
২) আসাবা (অবশিষ্টাংশ ভোগী): যারা যাওয়িল ফুরূদ-এর পর অবশিষ্ট সম্পত্তি পান (যেমন: পুত্র, পিতা, ভাই)।
৩) যাওয়িল আরহাম (দূরবর্তী আত্মীয়): যারা উপরের দুটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত নন, কিন্তু মৃতের রক্তের সম্পর্কিত আত্মীয় (যেমন: মামা, চাচী, নাতনি)।

.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ‘আউল’ নীতির প্রয়োগের প্রধান কারণ কী?
  1. সম্পত্তি সম্পূর্ণ বণ্টন করা
  2. অংশীদারদের সংখ্যা কমানোর জন্য
  3. ঋণ পরিশোধের জন্য সম্পত্তি ব্যবহার
  4. শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধান করা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ‘আউল’ নীতি প্রয়োগ করা হয় শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধানের জন্য, যখন অংশীদারদের অংশাবলীর যোগফল মূল সম্পদের চেয়ে বেশি হয়।
- মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'আউল' নীতির প্রধান প্রয়োগের কারণ হলো শরীয়তের গাণিতিক জটিলতা সমাধান করা। যখন কুরআনে বর্ণিত নির্ধারিত অংশীদারদের (যাবিল ফুরুজ) প্রাপ্য অংশের যোগফল সম্পত্তির মোট অংশ (১ বা ১০০%) ছাড়িয়ে যায়, তখন আউল নীতি প্রয়োগ করে এই অসামঞ্জস্য দূর করা হয়। 
অর্থাৎ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে ঘটতে পারে কারণ অংশীদারদের বিভিন্ন বিন্যাসে এবং সমাবেশে গাণিতিকভাবে অংশের যোগফল ১ এর চেয়ে বেশি হয়।
- আউল নীতি প্রবর্তিত হয় এই গাণিতিক জটিলতা সমাধানের জন্য, যাতে অংশীদারদের নির্ধারিত অংশ সম্পর্কিত অনুপাত অনুসারে সমন্বয় করা যায় এবং সম্পত্তি বণ্টন সঠিকভাবে সম্ভব হয়।

উদাহরণস্বরূপ, 
- যদি স্বামী (১/২), ২ কন্যা (২/৩), এবং মা (১/৬) থাকে, তাহলে মোট অংশ = ১/২ + ২/৩ + ১/৬ = ৮/৬ (১.৩৩)। আউল প্রয়োগে প্রত্যেকের অংশকে ৮/৬ দ্বারা ভাগ করে সমাধান করা হয়।

উল্লেখ্য যে,
- আউল নীতি ইজমা (ইসলামী ঐকমত্য) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
- এটি কুরআন বা হাদীসে সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে ইসলামী ফিকহে গৃহীত হয়েছে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর ঘ।

.
নিচের কোন ব্যক্তি মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারবে না?
  1. বৈধ সন্তান
  2. হত্যাকারী
  3. নাবালক সন্তান
  4. তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো-
কেউ যেন উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য কাউকে হত্যা করতে প্ররোচিত না হয় (ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়)।
এটি একটি নৈতিক ও আইনগত নিষেধাজ্ঞা যা ইসলামি শরিয়া ও বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইনে স্বীকৃত।

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।)
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।

.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইনের অধীনে বিবাহ নিবন্ধনের জন্য যে ব্যক্তিদের লাইসেন্স দেওয়া হয় তাদের কী বলা হয়?
  1. কাজি
  2. বিবাহ অফিসার
  3. নিকাহ রেজিস্ট্রার
  4. নিকাহ অফিসার
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার এই আইনের অধীনে নিকাহ রেজিস্ট্রার (Nikah Registrar) লাইসেন্স প্রদান করে থাকেন।
এদের দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করা।
অর্থাৎ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিকাহ রেজিস্ট্রার বলা হয়।
তাদের মূল দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রমাণ হিসেবে সরকারি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা।
"কাজি" শব্দটি প্রচলিত ও ধর্মীয়ভাবে ব্যবহৃত হলেও, আইনের ভাষায় এবং সরকারি নথিতে তাদের আনুষ্ঠানিক পদবী হলো নিকাহ রেজিস্ট্রার।
---------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 Section 4: Nikah Registrars: 
- For the purpose of registration of marriages under this Act, the Government shall grant licences to such number of persons, to be called Nikah Registrars, as it may deem necessary for such areas as it may specify:
Provided that not more than one Nikah Registrar shall be licensed for any one area.
Provided further that the Government may, whenever it deems fit so to do, extend, curtail or otherwise alter the limits of any area for which a Nikah Registrar has been licensed.

.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, নিচের কোন বিষয়টি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়?
  1. দেনমোহর
  2. বিবাহ বিচ্ছেদ
  3. দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন
  4. শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বিবাহ বিচ্ছেদ (খ)
- দেনমোহর (ক)
- শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান (ঘ)
- দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার
- ভরণপোষণ
যেখানে দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন এই আইনের অধীনে উল্লেখিত নয়, তাই এটি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

১০.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী তালাকের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দেওয়ার পর কত দিন পর তালাক কার্যকর হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭(৩) এ বলা হয়েছে: “তালাক, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয় (স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে), তবে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ প্রদানের তারিখ থেকে নব্বই (৯০) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
অর্থাৎ স্বামী তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীর কাছেও একটি কপি পাঠাতে হবে।
- চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ (Arbitration Council) গঠন করবেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানো।
- তালাকের নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না। এই সময়টিকে এক ধরনের “Cooling-off Period” বা সমঝোতার সুযোগ বলা যায়।
- যদি স্ত্রী নোটিশ দেওয়ার সময় গর্ভবতী থাকেন, তবে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেও গর্ভকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারণ করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনোভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

১১.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত স্বামীর সম্পত্তি বণ্টনে স্ত্রীর অংশ কত হয় যদি তাদের সন্তান থাকে?
  1. ১/৪ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের ধারা অনুযায়ী, স্ত্রীর উত্তরাধিকার নির্ভর করে মৃত স্বামীর সন্তান আছে কি নেই।
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে স্ত্রীর অংশ নিম্নলিখিতভাবে নির্ধারিত হয়:
যদি মৃত স্বামীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) থাকে: স্ত্রী পাবে ১/৮ অংশ (কোরআনের সূরা নিসা ৪:১২ অনুযায়ী)।
যদি মৃত স্বামীর কোনো সন্তান বা নাতি না থাকে: স্ত্রী পাবে ১/৪ অংশ।

অর্থাৎ যদি স্বামীর সন্তান থাকে, স্ত্রীর অংশ ১/৮ এবং যদি কোনো সন্তান না থাকে, স্ত্রীর অংশ ১/৪।
এটি কোরআন অনুযায়ী নির্ধারিত “যাওয়িল ফুরূদ” (Zawil Furud) এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অংশ।
সুতরাং, সন্তান থাকলে স্ত্রীর অংশ হবে ১/৮।

১২.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি বণ্টনের সঠিক ক্রম কোনটি?
  1. ঋণ → ওয়ারিসদের অংশ → অসিয়াত
  2. ঋণ → অসিয়াত → ওয়ারিসদের অংশ
  3. অসিয়াত → ঋণ → ওয়ারিসদের অংশ
  4. ওয়ারিসদের অংশ → ঋণ → অসিয়াত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঋণ → অসিয়াত → ওয়ারিসদের অংশ।
⇒ প্রথমে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, তারপর অসিয়াত (যা সর্বোচ্চ ১/৩ পর্যন্ত) কার্যকর করতে হবে, তারপর অবশিষ্ট সম্পত্তি ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি বণ্টনের সঠিক ক্রম নিম্নরূপ:
১) প্রথমে ঋণ পরিশোধ: মৃত ব্যক্তির সকল ঋণ (দেনা) প্রথমে পরিশোধ করতে হবে। এতে ব্যক্তিগত ঋণ, দেনমোহর ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
২) তারপর অসিয়ত (উইল) কার্যকর: ঋণ পরিশোধের পর অসিয়ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১/৩ সম্পত্তি বণ্টন করা যায় (শর্তসাপেক্ষে)। অসিয়ত শুধুমাত্র অ-ওয়ারিসদের জন্য প্রযোজ্য।
৩) সর্বশেষ ওয়ারিসদের অংশ: অবশিষ্ট সম্পত্তি কোরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টিত হবে।

উল্লেখ্য যে, অসিয়ত ওয়ারিসদের ক্ষতি করে না (অসিয়তের মাধ্যমে ওয়ারিসদের বঞ্চিত করা নিষিদ্ধ)। যদি ঋণ বা অসিয়ত সম্পত্তির সমস্ত অংশ নিয়ে যায়, তবে ওয়ারিসরা কিছুই পাবেন না।

উদাহরণ:
মৃত ব্যক্তির ১ লক্ষ টাকা সম্পত্তি, ২০,০০০ টাকা ঋণ ও ১০,০০০ টাকা অসিয়ত থাকলে:
- প্রথমে ২০,০০০ টাকা ঋণ পরিশোধ → অবশিষ্ট ৮০,০০০ টাকা।
- তারপর ১০,০০০ টাকা অসিয়ত দেওয়া → অবশিষ্ট ৭০,০০০ টাকা।
- শেষে ৭০,০০০ টাকা ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ঋণ → অসিয়াত → ওয়ারিসদের অংশ।

১৩.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২ অনুসারে সালিশি পরিষদ কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২ অনুযায়ী সালিশি পরিষদ ৩ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
১. চেয়ারম্যান: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র।
২. পক্ষগণের প্রতিনিধি: বিবাদী ও বাদী পক্ষের মনোনীত ১ জন করে মোট ২ জন প্রতিনিধি।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে:-
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে:
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।

১৪.
উমরিয়াতান নীতি (Doctrine of Umariyatan) কোন খলিফার সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত?
  1. হজরত আবু বকর (রা.)
  2. হজরত উমর (রা.)
  3. হজরত ওসমান (রা.)
  4. হজরত আলী (রা.)
ব্যাখ্যা

⇒ উমরিয়াতিন নীতি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তিনি এই নীতি প্রণয়ন করেন বিশেষ দুই পরিস্থিতিতে (যাকে "আল-ঘররাওয়ানি" বা "দুই প্রতারক" বলা হয়) মায়ের অংশ পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।
এই নীতি পরবর্তীতে ইজমা (আলেমদের ঐকমত্য) দ্বারা ইসলামী উত্তরাধিকার আইন হিসেবে স্বীকৃত হয়।

Doctrine of Umariyatan (উমরিয়াতান নীতি):
উমরিয়াতান বা উমরিয়াতিন হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান। এটি মূলত দুইটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে আল-ঘররাওয়ানি বা "দুই প্রতারক" বলা হয়।

উমরিয়াতান নীতির উদ্দেশ্য:
১. মায়ের অংশকে ১/৩ থেকে কমিয়ে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্য করা।
২. পিতা যেন মায়ের অংশের দ্বিগুণ পান, তা নিশ্চিত করা।
৩. মায়ের অংশের অসঙ্গতি দূর করা, যাতে তিনি পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমরিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
- এই নিয়ম প্রয়োগ না করলে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেতে পারেন, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

১৫.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে প্রার্থীর বয়সসীমা কত?
  1. ২০ থেকে ৪৫ বছর
  2. ২৫ থেকে ৫০ বছর
  3. ১৮ থেকে ৫৫ বছর
  4. ২১ থেকে ৬০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি- ৫(১) অনুযায়ী, প্রার্থীর HSC পাস হতে হবে, বয়স ২৫–৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হতে হবে, এবং হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী হতে হবে। সবগুলো শর্ত পূরণ না করলে তিনি যোগ্য হবেন না।

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ৪(১) ধারার বিধান অনুসারে,
এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তৎকর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে।
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(৩) ধারার বিধান অনুসারে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি-৫ প্রার্থীদের যোগ্যতা, ইত্যাদি- (১) কোনো ব্যক্তি হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাইবার
যোগ্য হইবেন না, যদি-
- তিনি সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোনো বোর্ড হইতে এইচ, এস, সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হন;
- তাহার বয়স কমপক্ষে পঁচিশ এবং অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ বৎসর না হয়;
- তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা না হন;
- তিনি হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী না হন।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের ক্ষেত্রে কাব্যতীর্থ বা ব্যাকরণতীর্থদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হইবে।

উল্লেখ্য যে, আইনে শুধু একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, সেই সাথে উল্লেখ করেছে যোগ্যতা বিধি অনুসারে নির্ধারিত হবে।তাই বিধিমালা অনুসারে, অপশন 'গ' উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।

১৬.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর কোন ধারায় দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৬
  3. ধারা ৭
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬-এ বর্তমান বিবাহ বহাল থাকাকালীন দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি প্রাপ্তির বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহের জন্য আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হয়; অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে শাস্তি ও দেনমোহর অবিলম্বে পরিশোধের বিধান রয়েছে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ অনুযায়ী:
- কোনো পুরুষ যদি বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করতে চান, তাহলে আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি নিতে বাধ্য।
- আবেদন ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে (ধারা ৬(২))।
- চেয়ারম্যান স্বামী ও বর্তমান স্ত্রী(দের) প্রতিনিধি নিয়ে আর্বিট্রেশন কাউন্সিল গঠন করবেন (ধারা ৬(৩))।
- কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ও ন্যায্যতা যাচাই করে অনুমতি দিতে পারে।
- অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে শাস্তি: ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ৬(৫))।
- দেনমোহর পরিশোধ বাধ্যতামূলক: অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সম্পূর্ণ দেনমোহর (Prompt ও Deferred) অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

১৭.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'যাওয়িল ফুরূদ' বলতে কাদের বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র পুত্রসন্তান
  2. মৃতের দূরবর্তী আত্মীয়
  3. যারা অবশিষ্ট সম্পত্তি পান
  4. যাদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: যাদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে যাওয়িল ফুরূদ (যেমন: মা, স্ত্রী, কন্যা) এর অংশ ইসলামি আইনে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত (যেমন: মা ১/৬, স্ত্রী ১/৮ ইত্যাদি)।

- মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ‘যাওয়িল ফুরূদ’ (Zawil Furud) বলতে বোঝায় সেই সব উত্তরাধিকারী যাদের মৃতের সম্পত্তিতে অংশ কোরআনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 
উদাহরণস্বরূপ: মা, বাবা, স্ত্রী, কন্যা ইত্যাদি।
তাদের অংশ সরাসরি কোরআন অনুযায়ী নির্ধারিত থাকে এবং তারা সবসময় নির্দিষ্ট ভাগ পায়।

বাকি উত্তরাধিকারীরা যেমন:
- আসাবা (Asaba) – অবশিষ্টাংশ ভোগী, যারা যাদের অংশ নির্দিষ্ট নয়, তারা শুধুমাত্র অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পান।
- দূরবর্তী আত্মীয় (Zawil Arham) – যারা নির্দিষ্ট অংশ বা আসাবা নয়, তবে মৃতের আত্মীয়।
তাহলে ‘যাওয়িল ফুরূদ’ বলতে সেই উত্তরাধিকারীদের বোঝায় যাদের অংশ কোরআনে নির্ধারিত।

১৮.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, স্বামী কত বছর পাগল বা অপ্রকৃতিস্থ থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতে আবেদন করতে পারেন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(৬) অনুসারে, যদি স্বামী অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল হয়ে যায় অথবা কুষ্ঠরোগ বা মারাত্মক যৌন রোগে আক্রান্ত হয় এবং এই অবস্থা ২ বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

১৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কোন ধারায় কোর্ট ফি সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২০
  2. ধারা ২৫
  3. ধারা ৩০
  4. ধারা ৩৫
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ এ কোর্ট ফি সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ফি ২০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুসারে, এই আইনের অধীনে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য ২০০ টাকা কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমে মোকদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর-২৫ ধারার বিধান: কোর্ট ফি:
পারিবারিক আদালতে এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার আরজি দাখিল করিতে প্রদেয় কোর্ট ফি হইবে ২০০ (দুইশত) টাকা।

২০.
হিন্দু আইন অনুসারে নিচের কোনটি প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি?
  1. মনুস্মৃতি
  2. নারদ স্মৃতি
  3. পরাশর স্মৃতি
  4. যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি
ব্যাখ্যা

⇒ স্মৃতি হলো হিন্দু আইনের দ্বিতীয় প্রধান উৎস (শ্রুতির পরে), যা মূলত মানবজাতির ঐশ্বরিক নির্দেশাবলীর প্রতিফলন।
- হিন্দু আইন অনুসারে, বিভিন্ন স্মৃতি শাস্ত্র বিদ্যমান, যেমন: মনুস্মৃতি, নারদ স্মৃতি, পরাশর স্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি। 

মনুস্মৃতি:
- প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী স্মৃতি হিসেবে বিবেচিত।
- সমাজ, ধর্ম, আইন ও নৈতিকতার বিভিন্ন নিয়ম এতে সংকলিত।
- এটি হিন্দু সমাজে আইনি, সামাজিক ও পারিবারিক আচরণের মূল নির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- অন্যান্য স্মৃতিগুলোও গুরুত্বপূর্ণ, তবে মানুষের জীবন ও পারিবারিক আইন সম্পর্কিত বিধানগুলোতে মনুস্মৃতি সর্বাধিক প্রভাবশালী।
- অর্থাৎ মনুস্মৃতি হিন্দু আইনের প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি শাস্ত্র।

২১.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য?
  1. পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পায়
  2. নারী-পুরুষ সমান অংশ পায়
  3. শুধু নারীরা উত্তরাধিকার পায়
  4. শুধু পুরুষরা উত্তরাধিকার পায়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) নারী-পুরুষ সমান অংশ পায়।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান অংশ পায়। এটি অন্যান্য ওয়ারিসদের থেকে ভিন্ন।

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বৈপিত্রেয় ভাই-বোন (যাদের একই মা কিন্তু ভিন্ন পিতা) এর উত্তরাধিকার সম্পর্কে বিশেষ বিধান রয়েছে:
সমান অংশ: বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা লিঙ্গ নির্বিশেষে সমান অংশ পায় (পুরুষ = নারী)।

এটি সূরা নিসা ৪:১২-এ উল্লিখিত: "...যদি এক ভাই বা বোন থাকে, তবে তার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ। আর যদি একাধিক হয়, তবে তারা এক-তৃতীয়াংশে সমানভাবে অংশীদার হবে..."

শর্ত: তারা শুধুমাত্র তখনই উত্তরাধিকার পাবে যখন মৃত ব্যক্তি "কালালা" হয় (অর্থাৎ তার পিতা বা পুত্র কেউই জীবিত নেই)।
সহোদর বা বৈমাত্রেয় ভাই-বোন থাকলে তাদের অংশ ভিন্ন।

অংশের পরিমাণ: একজন বৈপিত্রেয় ভাই/বোন → ১/৬,  একাধিক → সকলে মিলে ১/৩ (সমানভাবে ভাগ হবে)।

উদাহরণ:
মৃত ব্যক্তির ১ বৈপিত্রেয় ভাই ও ১ বৈপিত্রেয় বোন থাকলে উভয়ে মিলে ১/৩ পাবে (প্রত্যেকে ১/৬)।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক) পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পায়: এটি সহোদর বা বৈমাত্রেয় ভাই-বোন-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
গ) শুধু নারীরা বা ঘ) শুধু পুরুষরা: ভুল, উভয়েই সমান অধিকার পায়।

⇒ বৈপিত্রেয় ভাই-বোন মায়ের দিক থেকে সম্পর্কিত, তাই তাদের অংশে লিঙ্গভেদ নেই।
এই বিধান ইসলামের ন্যায়বিচার-এর প্রতিফলন (যেখানে মাতৃকুলের আত্মীয়দের সম্মান দেওয়া হয়েছে)।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) নারী-পুরুষ সমান অংশ পায়।

২২.
পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল দায়েরের সময়সীমা কত দিন?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হবে রায় প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে। তবে নকল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় এই সময়সীমার মধ্যে ধরা হবে না।

– পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ১৯(২) কোনো আপিল সংশ্লিষ্ট রায়, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে উহার নকল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে।

২৩.
দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসারে, বিধবা স্ত্রী কী ভিত্তিতে সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন?
  1. দান হিসেবে
  2. জীবনস্বত্ব ভিত্তিতে
  3. অস্থায়ী ভাড়া ভিত্তিতে
  4. স্থায়ী মালিকানা ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

⇒ দায়ভাগ পদ্ধতি অনুযায়ী, বিধবা স্ত্রীর সম্পত্তির অধিকার "জীবনস্বত্ব" (Life Estate) ভিত্তিক।  এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
সীমিত স্বত্ব:
- বিধবা স্ত্রী সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহার করতে পারেন (যেমন: ফসল তোলা, বাস করা)।
- জরুরি প্রয়োজনে বিক্রিও করতে পারেন (যদি আদালত অনুমোদন দেয়)।
স্থায়ী মালিকানা নয়:
- তিনি সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিক নন।
- তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি স্বামীর উত্তরাধিকারীদের (পুত্র, পৌত্র ইত্যাদি) কাছে ফিরে যায়।
১৯৩৭ সালের আইনের প্রভাব:
- হিন্দু উইমেন্স রাইটস টু প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৯৩৭ অনুযায়ী বিধবা পুত্রের সমান অংশ পান, কিন্তু তা শুধু জীবনস্বত্ব হিসেবে।

উদাহরণ:
যদি স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে এক পুত্র ও এক বিধবা স্ত্রী থাকেন, তবে:
- পুত্র পাবে ৫০% (স্থায়ী মালিকানা)।
- বিধবা পাবেন ৫০% (জীবনস্বত্বে), যা তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র বা স্বামীর অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের কাছে ফিরে যাবে।

২৪.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মা কোন শ্রেণির উত্তরাধিকারী?
  1. দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham)
  2. নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud)
  3. অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba)
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মা নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud) হিসেবে বিবেচিত হন এবং সন্তান থাকলে ১/৬ এবং সন্তান না থাকলে ১/৩ অংশ পান।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
১) নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud) – যাদের নির্দিষ্ট অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে।
২) অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) – যারা অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
৩) দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) – যারা অংশীদার বা আসাবা নয়, কিন্তু মৃতের আত্মীয়।

২৫.
ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের উমরিয়াতান (Umariyatan) নীতিকে আরবিতে কী বলা হয়?
  1. আল-হারামাইন
  2. আল-ঘররাওয়ানি
  3. আল-মুবারাকাতিন
  4. আল-মুশকিলাতিন
ব্যাখ্যা

⇒ উমরিয়াতান নীতিকে আরবি ভাষায় "আল-ঘররাওয়ানি" (الغرّاوين) বলা হয়, যার অর্থ "দুই প্রতারক" বা "দুই ধোঁকাবাজ পরিস্থিতি"। এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ এই নীতি দুটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য, যেখানে সাধারণ উত্তরাধিকার বণ্টনের নিয়ম প্রয়োগ করলে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেয়ে যান, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

Doctrine of Umariyatan (উমরিয়াতান নীতি):
উমরিয়াতান বা উমরিয়াতিন হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান। এটি মূলত দুইটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে আল-ঘররাওয়ানি বা "দুই প্রতারক" বলা হয়।

উমরিয়াতান নীতির উদ্দেশ্য:
১. মায়ের অংশকে ১/৩ থেকে কমিয়ে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্য করা।
২. পিতা যেন মায়ের অংশের দ্বিগুণ পান, তা নিশ্চিত করা।
৩. মায়ের অংশের অসঙ্গতি দূর করা, যাতে তিনি পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমরিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
- এই নিয়ম প্রয়োগ না করলে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেতে পারেন, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

২৬.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, বিবাদী লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সময় চাইলে সর্বোচ্চ কত দিন দেওয়া যেতে পারে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী বিবাদী সমন প্রাপ্তির পর লিখিত জবাব দাখিল করবে।
- যদি সে নির্ধারিত দিনে জবাব দাখিল করতে না পারে, তবে সময় প্রার্থনা করতে পারে।
- আদালত যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখলে তাকে অতিরিক্ত সময় দিতে পারে, তবে এই অতিরিক্ত সময় সর্বাধিক ২১ দিন হতে পারবে।
- অর্থাৎ, মূল নির্ধারিত সময়ের বাইরে আদালত সর্বোচ্চ ২১ দিনের বেশি সময় দিতে পারবে না।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

২৭.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর কোন ধারা অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকরি হিসেবে গণ্য হয় না?
  1. ৫ ধারা
  2. ৭ ধারা
  3. ৮ ধারা
  4. ৯ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৮ ধারা-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "ধারা ৪ এর অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তি বা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকরি হিসাবে গণ্য হইবে না।"
- এই বিধান অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকরা সরকারি কর্মচারী নন এবং তারা সরকারি চাকুরীর সুযোগ-সুবিধা (পেনশন, গ্রেড ইত্যাদি) পাবেন না। তাদের ভূমিকা একটি স্বতন্ত্র নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে।
- অর্থাৎ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৮ ধারা অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকরি হিসেবে গণ্য হয় না।

২৮.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি কী?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড বা ২,০০০ টাকা জরিমানা
  2. ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৩,০০০ টাকা জরিমানা
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫,০০০ টাকা জরিমানা
  4. কোনো শাস্তি নেই
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(৪) অনুসারে যদি কোনো ব্যক্তি বিবাহ নিবন্ধন না করেন বা নির্দিষ্ট সময়ে (৩০ দিনের মধ্যে) নিকাহ রেজিস্ট্রারকে জানান না, তাহলে এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
- এর শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অথবা ৩,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ এর বিধান বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট ও নিবন্ধন:
(১) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(২) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার অন্য কোন ব্যক্তি বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে বিবাহের বরকে উক্ত সম্পাদনের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ইহা রিপোর্ট করিতে হইবে।
(৩) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট করা হয়, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(৪) এই ধারার কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
----------------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 5. Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once.
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization.
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once.
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.

২৯.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ধারা ৪ অনুযায়ী কারা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুসারে সম্পত্তি পাবে?
  1. পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানরা
  2. পূর্বে মৃত কন্যার সন্তানরা
  3. পূর্বে মৃত পিতা বা মাতা
  4. 'ক' অথবা 'খ' 
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি (Doctrine of Representation) প্রযোজ্য হবে।
- প্রযোজ্য ব্যক্তি: ক) পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানরা এবং খ) পূর্বে মৃত কন্যার সন্তানরা উভয়েই তাদের মৃত পিতা/মাতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সম্পত্তি পাবে।
- যদি কোনো ব্যক্তির (যেমন: দাদা/নানা) পুত্র বা কন্যা তার (দাদা/নানার) মৃত্যুর আগেই মারা যায়, তবে ওই মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা (নাতি-নাতনিরা) তাদের মৃত পিতা/মাতার প্রাপ্য অংশ পাবে। এটি "প্রতি স্টাইর্পস" (per stirpes) নীতির ভিত্তিতে কাজ করে, অর্থাৎ শাখা অনুসারে বণ্টন।

উদাহরণ:
- মৃত পুত্রের সন্তানদের ক্ষেত্রে: দাদা 'ক'-এর পুত্র 'খ' মারা গেছেন। 'খ'-এর সন্তান 'গ' ও 'ঘ' দাদা 'ক'-এর মৃত্যুর পর 'খ'-এর প্রাপ্য অংশ পাবে।
- মৃত কন্যার সন্তানদের ক্ষেত্রে: নানা 'ক'-এর কন্যা 'খ' মারা গেছেন। 'খ'-এর সন্তান 'গ' ও 'ঘ' নানা 'ক'-এর মৃত্যুর পর 'খ'-এর প্রাপ্য অংশ পাবে।

- এই নীতি শুধুমাত্র সরল রেখার উত্তরাধিকারী (পুত্র/কন্যার সন্তান)দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভাই-বোন, চাচাতো ভাই-বোন ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- সম্পত্তি বণ্টনে পুত্রের সন্তান : কন্যার সন্তান = ২ : ১ অনুপাত প্রযোজ্য।
- মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (ধারা ৪) উত্তরাধিকার খোলার সময় যদি কোনো পুত্র বা কন্যা পূর্বে মারা যায়, তবে ওই পুত্র বা কন্যার সন্তানরা (যদি থাকে) প্রতি স্টাইর্পস (শাখা অনুসারে) সেই অংশ পাবে, যা তাদের পিতা/মাতা পেতেন যদি বেঁচে থাকতেন।
- যেহেতু ধারা ৪ মৃত পুত্র ও মৃত কন্যা উভয়ের সন্তানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, সঠিক উত্তর ঘ) 'ক' অথবা 'খ'।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 Section 4- Succession: In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.

৩০.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী নিচের কোন ক্ষেত্রে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা উত্তরাধিকার পাবে না?
  1. মৃত ব্যক্তির পুত্র থাকলে
  2. মৃত ব্যক্তির পিতা থাকলে
  3. মৃত ব্যক্তির পিতামহ থাকলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা (একই মায়ের কিন্তু ভিন্ন পিতার সন্তান) তখনই উত্তরাধিকার পান যখন মৃত ব্যক্তি ‘কালালা’ হন, অর্থাৎ তার কোনো পিতা, পিতামহ, পুত্র বা পৌত্র না থাকে। যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পিতা বা পিতামহ থাকে, তবে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা উত্তরাধিকার পাবেন না। 
- সুতরাং, উপরের সবগুলো ক্ষেত্রে তারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা তখনই উত্তরাধিকার পায় যখন মৃত ব্যক্তি কালালা হয় (অর্থাৎ কোনো পিতা, মাতা, পুত্র বা পৌত্র না থাকে)। পিতা, পুত্র বা পিতামহ থাকলে তারা পাবে না।

৩১.
পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের সমন ইচ্ছাপূর্বক অমান্য করলে শাস্তি কত?
  1. অনধিক ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড
  2. অনধিক ২০০ টাকা অর্থদণ্ড
  3. অনধিক ১০০ টাকা অর্থদণ্ড
  4. অনধিক ৫০ টাকা অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২২(২) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের সমন অমান্য করেন, তাহলে তাকে অনধিক ১০০ (একশত) টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ২২ সমন জারির ক্ষমতা:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত যেকোনো ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হইতে এবং সাক্ষ্য প্রদানের জন্য অথবা কোনো দলিল দাখিল করিবার বা করানোর জন্য সমন জারি করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে-
(ক) দেওয়ারি কার্যবিধির ধারা ১৩৩ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন যে ব্যক্তিকে স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হইতে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছে তাহাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হইতে বাধ্য করা যাইবে না;
(খ) যদি আদালতের নিকট যুক্তিসংগতভাবে প্রতীয়মান হয় যে, অযৌক্তিক বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা ব্যতীত কোনো সাক্ষীর উপস্থিতি কার্যকর করা সম্ভব হইবে না, তাহা হইলে আদালত উক্ত সাক্ষীকে সমন দিতে বা উক্ত সাক্ষীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জারীকৃত সমন বলবৎ করিতে অস্বীকার করিতে পারিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত সমন ইচ্ছাপূর্বক অমান্য করিলে, উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে, তাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান সাপেক্ষে, অনধিক ১০০ (একশত) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।

৩২.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী সালিসি পরিষদের চেয়ারম্যান কে হতে পারেন?
  1. পৌরসভার চেয়ারম্যান
  2. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
  3. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ২ অনুযায়ী, সালিসি পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেন-
- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,
- পৌরসভার চেয়ারম্যান, অথবা
- সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।
অর্থাৎ, উপরের তিনটির মধ্যে যেকোন একজন সালিসি পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেন।
- তাই সঠিক উত্তর হলো “উপরের সবাই”।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে:-
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে:
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।

৩৩.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, নিচের কোনটি হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত ফিসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিবাহ নিবন্ধন ফিস
  2. নিবন্ধন বহি পরিদর্শন ফিস
  3. প্রতিলিপি সরবরাহ ফিস
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৭ ধারা অনুযায়ী, সরকার সময়ে সময়ে বিধি দ্বারা তিন ধরনের ফিস নির্ধারণ করতে পারে—
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন ফিস – বিবাহ নিবন্ধনের সময় প্রদেয় ফিস।
নিবন্ধন বহি পরিদর্শন ফিস – নিবন্ধন রেকর্ড দেখতে হলে প্রদেয় ফিস।
প্রতিলিপি সরবরাহ ফিস – নিবন্ধনের কপি সংগ্রহ করতে হলে প্রদেয় ফিস।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৭ এ নিবন্ধন ফিস, পরিদর্শন ফিস ও প্রতিলিপি ফিস - তিনটিরই উল্লেখ আছে।
যেহেতু আইন অনুযায়ী এই তিনটি ফিসই নিবন্ধন সংক্রান্ত, তাই সঠিক উত্তর "ঘ) উপরের সবগুলো"।

৩৪.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, স্বামী অন্তত কত সময় ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(২) অনুযায়ী, স্ত্রী নিম্নলিখিত শর্ত সাপেক্ষে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
- স্বামী যদি অন্তত ২ বছর ধরে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় বা উদ্যোগ না নেয়, তাহলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন।
- এই ২ বছর সময়সীমা অবিচ্ছিন্ন হতে হবে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে স্বামী যদি কোনো ভরণপোষণ না দেয় বা দায়িত্ব এড়িয়ে যায়, তাহলেই কেবল এই কারণ দেখিয়ে বিচ্ছেদ চাওয়া যাবে।
– মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ (ধারা ২(২) স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ২ বছর বা তার বেশি সময় ধরে অবহেলা করে বা ব্যর্থ হয়, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৩৫.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, লিখিত জবাবের কত সংখ্যক অবিকল নকল আদালতে লিখিত জবাবের সাথে দাখিল করতে হবে?
  1. বিবাদীর সংখ্যার সমান
  2. বাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ
  3. বাদীর সংখ্যার তিনগুণ
  4. বাদীর সংখ্যার সমান
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৮(৫) অনুযায়ী, লিখিত জবাব দাখিল করার সময় বাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ অবিকল নকল আদালতে জমা দিতে হবে। 
- উদাহরণস্বরূপ, যদি মোকদ্দমায় ১ জন বাদী থাকে, তাহলে ২ কপি নকল জমা দিতে হবে। এই নকলগুলোর সাথে তপশিল, দলিল ও দলিলের তালিকা সংযুক্ত করতে হবে।

– পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ৮(৫) মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৩৬.
The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937 এর ২ নং ধারা অনুযায়ী আইনটি কোন বিষয়ে প্রযোজ্য নয়?
  1. বিবাহ
  2. কৃষিজমি
  3. মোহরানা
  4. উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ নং ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আইনটি মুসলিমদের জন্য বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব, হাদিয়া, ট্রাস্ট, ওয়াকফ ইত্যাদি বিষয়ে প্রযোজ্য হবে। তবে কৃষিজমি সম্পর্কিত প্রশ্ন এই আইনের আওতায় পড়ে না; এগুলো অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের অধীনে নিষ্পত্তি হয়।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ ধারার বিধান মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হওয়া:
কোনো প্রচলিত রীতিনীতি বা প্রথার বিপরীতে, নিম্নলিখিত বিষয়ে (কৃষিজমি সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মুসলিমদের মধ্যে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) হইবে—
- উত্তরাধিকার (ইন্তেকালের পর সম্পত্তির বণ্টন),
- নারীদের বিশেষ সম্পত্তি (যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যা উত্তরাধিকার, চুক্তি, হাদিয়া বা ব্যক্তিগত আইনের অন্য কোনো বিধানের মাধ্যমে অর্জিত),
- বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ (যেমন তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাত),
- ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব,
- হাদিয়া (উপহার), ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট সম্পত্তি,
- ওয়াকফ (তবে দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)।
------------
⇒ The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section 2: Application of Personal Law to Muslims
- Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).

৩৭.
ইসতিহসান প্রধানত কোন মাজহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. হানাফী
  2. মালিকী
  3. শাফেয়ী
  4. হাম্বলী
ব্যাখ্যা

⇒ ইসতিহসান (Juristic Preference) ইসলামী আইনের (ফিকহ) একটি অপ্রধান উৎস, যা প্রধানত হানাফী মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি কিয়াসের (analogical reasoning) কঠোর প্রয়োগের পরিবর্তে শক্তিশালী দলিল (নস, যেমন কোরআন বা হাদিস), ইজমা, প্রয়োজন (দরূরা/হাজা), রেওয়াজ (‘উর্‌ফ), মাসলাহা (জনস্বার্থ), বা গোপন/শক্তিশালী কিয়াসের ভিত্তিতে ব্যতিক্রমী রায় প্রদানের একটি পদ্ধতি।

মূল কারণগুলো হলো হানাফী মাযহাবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তাঁর শিষ্যগণ (ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ) ইসতিহসানকে ইজতিহাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তারা কিয়াস (অ্যানালজি) এর কঠোরতা থেকে সরে ন্যায়সংগত ও বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন।

অন্যান্য মাযহাবের অবস্থান:
মালিকী: মাসলাহা (জনস্বার্থ) কে প্রাধান্য দেয়, ইসতিহসানের সাথে আংশিক মিল আছে।
শাফেয়ী: ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ইসতিহসানকে "من استحسن فقد شرع" (যে ইসতিহসান করে, সে শরীয়াহ তৈরি করে) বলে সমালোচনা করেন। তবে তিনি নস (কোরআন/হাদিস), ইজমা বা প্রয়োজনে কিয়াস থেকে সরে আসাকে স্বীকার করেন।
হাম্বলী: ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) এর মতো আলিমরা সীমিত অর্থে ইসতিহসানের অনুরূপ নীতিমালা মেনেছেন।

হানাফীদের ব্যবহারিক উদাহরণ:
সালাম চুক্তি (অগ্রিম পণ্য কেনা): সাধারণ কিয়াসে নিষিদ্ধ, কিন্তু হাদিসের ভিত্তিতে ইসতিহসানে বৈধ।

উল্লেখ্য, ইসতিহসান "দুর্বল কিয়াস ত্যাগ করে শক্তিশালী দলিলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া" (আল-কারখির সংজ্ঞা)।
- এটি ইসলামী আইনের নমনীয়তা ও সামাজিক প্রয়োজনের প্রতিফলন।

৩৮.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ কোন তারিখে কার্যকর হয়েছে?
  1. ১ জানুয়ারি ২০১২
  2. ২৭ জানুয়ারি ২০১৩
  3. ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২
  4. ১৫ আগস্ট ২০১৩
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর প্রেক্ষাপট:
- আইন পাসের তারিখ: আইনটি প্রণীত হয় ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২ (ধারা ১(৩) অনুযায়ী)।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন (এস.আর.ও নং ৩০-আইন/২০১৩) দ্বারা ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে এটি কার্যকর হয়।

⇒ অর্থাৎ আইনের ধারা ১(৩) এ বলা হয়েছে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করবে।
- প্রকৃতপক্ষে, ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ (১৪ মাঘ ১৪১৯ বঙ্গাব্দ) থেকে এটি কার্যকর হয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ২৭ জানুয়ারি ২০১৩।

৩৯.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতা কোন শ্রেণির উত্তরাধিকারী?
  1. দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham)
  2. নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)
  3. অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba)
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) হিসেবে বিবেচিত হন এবং কোরআনে তার অংশ নির্ধারিত রয়েছে।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা মূলত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত -
- নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) → যাদের অংশ কোরআন-হাদিসে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
- অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) → যারা নির্দিষ্ট অংশের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
- দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) → যারা নির্দিষ্ট অংশীদার বা আসাবা না হয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয় হিসেবে উত্তরাধিকার পায়।

⇒ পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, এবং তার জন্য কোরআনে নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১/৬) বর্ণিত আছে, এজন্য তিনি Zawil Furud শ্রেণিতে পড়েন।
তবে পিতা অনেক ক্ষেত্রে Asaba হিসেবেও সম্পত্তি পান (যেমন সন্তান না থাকলে অবশিষ্টাংশ পাওয়া), কিন্তু তার মূল পরিচয় Zawil Furud হিসেবে।
অতএব, পিতা মূলত নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যদিও কিছু পরিস্থিতিতে তিনি আসাবা হিসেবেও লাভবান হন।

৪০.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, আরজি খারিজ হওয়ার কারণ কোনটি হতে পারে?
  1. আরজির সাথে তপশিল ও দলিলের তালিকা সংযুক্ত না থাকলে
  2. সমন জারির খরচ বা নোটিশের ডাক খরচ পরিশোধ না হলে
  3. ধারা ২৫ অনুযায়ী ফি পরিশোধ না হলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬(৮) অনুযায়ী, আরজি নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে খারিজ হতে পারে-
(ক) আরজির সাথে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকা সংযুক্ত না থাকলে,
(খ) সমন জারির খরচ ও নোটিশের ডাক খরচ পরিশোধ করা না হলে,
(গ) ধারা ২৫ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা না হলে।
- এই তিনটি শর্ত পূরণ না হলে আদালত আরজি গ্রহণ করবে না বা তা খারিজ করে দিতে পারে।
- তাই সঠিক উত্তর “উপরে সকল কারণ” অর্থাৎ ঘ)।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬(৮) নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।

৪১.
ইসলামী শরীয়তের ফারায়েয অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ওসিয়ত বাস্তবায়নের জন্য কত অংশ ব্যবহার করা যায়?
  1. পুরো সম্পত্তি
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. এক-অষ্টমাংশ
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলামী শরীয়তের ফারায়েয অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বৈধ ওসিয়ত করতে পারেন। এই সীমার বেশি ওসিয়ত করলে তা উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া কার্যকর হয় না।
অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ওসিয়ত বাস্তবায়নের জন্য সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, এবং তা উত্তরাধিকারীদের ক্ষতি না করে বৈধ হতে হবে।

⇒ ইসলামী শরীয়তের ফারায়েয বিধান অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ওসিয়ত (উইল) বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি ব্যবহার করা যায়। এটি নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে প্রযোজ্য:
সর্বোচ্চ সীমা: ওসিয়তের মাধ্যমে ১/৩ অংশের বেশি সম্পত্তি বণ্টন করা যাবে না (হাদিস দ্বারা সীমাবদ্ধ)।

⇒ নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশই অনেক। তোমার উত্তরাধিকারীদের ধনী রেখে যাওয়া, দরিদ্র রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।" (সহিহ বুখারি)।

শর্তাবলি:
- ওসিয়ত শুধুমাত্র অ-ওয়ারিসদের জন্য প্রযোজ্য (ওয়ারিসদের জন্য ওসিয়ত করা নিষিদ্ধ)।
- ঋণ পরিশোধের পরেই ওসিয়ত কার্যকর হবে।

ব্যতিক্রম:
- যদি ওয়ারিসরা সম্মতি দেয়, তবে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ওসিয়তও জায়েজ (তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়)।

৪২.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায় কোথায়?
  1. সুপ্রিম কোর্টে
  2. হাইকোর্টে
  3. জেলা জজের কাছে
  4. সহকারী জজের কাছে
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৯ অনুসারে, ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সালিসি পরিষদ (Arbitration Council) যখন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই রিভিশনটি সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ (Assistant Judge) এর কাছে করা হয়। সহকারী জজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তার বিরুদ্ধে কোনো উচ্চ আদালতে রিভিশন বা আপিল করা যায় না।
অর্থাৎ, ভরণপোষণ বিষয়ে সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বা জেলা জজের কাছে রিভিশন করার সুযোগ নেই।
এ কারণে, সঠিক অপশন হলো সহকারী জজের কাছে রিভিশন করা।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৯(২) অনুযায়ী ভরণপোষণ সংক্রান্ত সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশনের সুযোগ রয়েছে। এই ধারা বিশেষভাবে সহকারী জজের আদালতকে এখতিয়ার প্রদান করেছে।
-কোন পক্ষ সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে নির্ধারিত ফি প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের আদালতে রিভিশন করতে পারে। রিভিশন দায়েরের জন্য সাধারণত ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
- সহকারী জজ এখানে মূলত রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তিনি শুধুমাত্র আইনগত ভুল বা পদ্ধতিগত ত্রুটির বিষয়ে বিবেচনা করেন, নতুন করে মামলার মূল্যায়ন করেন না। তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়।

৪৩.
রদ্দ নীতির আভিধানিক অর্থ কী?
  1. বণ্টন করা
  2. বাতিল করা
  3. সংরক্ষণ করা
  4. প্রত্যাবর্তন করা
ব্যাখ্যা

⇒ রদ্দ নীতির আভিধানিক অর্থ হলো "প্রত্যাবর্তন করা" বা "ফিরিয়ে দেওয়া" (আরবি: رَدّ)। এটি ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নিয়ম, যেখানে: শর্তপূরণ সাপেক্ষে (অংশীদারদের অংশের যোগফল ১-এর কম হলে এবং কোনো আসাবা না থাকলে)
অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী/স্ত্রী বাদে অন্যান্য অংশীদারদের কাছে প্রত্যাবর্তন (ফেরত) করা হয়।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে রদ্দ নীতি প্রয়োগ হয় যখন যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশের যোগফল ১ এর চেয়ে কম হয় এবং মৃত ব্যক্তির কোনো আসাবা (যেমন পুত্র, পিতা ইত্যাদি) না থাকে।
- এই ক্ষেত্রে অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী/স্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য অংশীদারদের কাছে পুনরায় বণ্টন করা হয়, অর্থাৎ অংশীদারদের মধ্যে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া বা প্রত্যাবর্তন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, 
রদ্দ নীতি আউল নীতির বিপরীত (আউলে অংশের যোগফল ১-এর বেশি হলে অংশ কমিয়ে বণ্টন করা হয়)।
এটি যাবিল ফুরুজ (নির্দিষ্ট অংশীদার) যেমন কন্যা, মা, দাদি প্রভৃতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

উদাহরণ:
যদি মৃতের স্বামী (১/৪), কন্যা (১/২) ও মা (১/৬) থাকে, তবে অংশের যোগফল = ১১/১২ (<১)।
অবশিষ্ট ১/১২ কন্যা ও মাকে তাদের প্রাপ্ত অংশের অনুপাতে (৬:২) বণ্টন করা হবে।

৪৪.
পারিবারিক আদালত রায় ঘোষণা করার পর পক্ষগণকে কত দিনের মধ্যে নোটিশ প্রদান করতে হবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪(২) অনুযায়ী, আদালত রায় ঘোষণার পর অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীদেরকে নোটিশ প্রদান করতে হবে।
– পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ১৪(২) রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪ বিচারের সমাপ্তি:
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।

৪৫.
ইসলামী শরীয়তে আউল নীতি কোন উৎসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. কুরআন
  2. হাদীস
  3. ইজমা
  4. কিয়াস
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলামী শরীয়তে আউল নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইজমা (ইসলামী আলেমদের ঐকমত্য) এর মাধ্যমে। যদিও কুরআন ও হাদীসে এ নীতির সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে ইসলামী ফিকহশাস্ত্রে গাণিতিক সমাধান হিসেবে এটি চার খলিফার যুগ থেকে ইজমার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে আসছে।

আউল নীতি:
‘আউল’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘বৃদ্ধি হওয়া’। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী, যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি মূল সম্পদ হতে বেড়ে যায় বা ১ এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে যে নিয়মে তা সমাধান করা হয়, সেটাই আউল। কুরআনে অংশীদারদের যে তালিকা রয়েছে, তাদের বিভিন্ন বিন্যাস ও সমাবেশে কখনো কখনো তা ১ এর চেয়ে বেশি হওয়া গাণিতিকভাবে এবং অনুপাতভিত্তিক বন্টনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, এ বিন্যাস খুব সহজলভ্য নয়। তাই হাদীসে এর কোনো উদাহরণ নেই, তবে চার খলিফার আমলে এটি আলোচিত হয় এবং পরবর্তীতে শরীয়তের তৃতীয় উৎস ইজমার মাধ্যমে ইসলামী আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অর্থাৎ, আউল নীতি ইসলামী আইনশাস্ত্রে ইজমার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইজমা হলো ইসলামী ঐকমত্য বা আলেমদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, যা শর্ত পূর্ণ হলে শরীয়তের তৃতীয় উৎস হিসেবে কাজ করে।

৪৬.
দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালককে কী বলা হয়?
  1. ট্রাস্টি
  2. সেবায়েত
  3. পুরোহিত
  4. মন্দির ব্যবস্থাপক
ব্যাখ্যা

⇒ সেবায়েত (Shebait) হলো হিন্দু আইনে দেবোত্তর সম্পত্তি (Debottar Property) বা মন্দিরের আইনি ও ধর্মীয় পরিচালক।
- দেবোত্তর সম্পত্তি হলো যে সম্পত্তি মন্দির বা দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা হয়।
- এই সম্পত্তি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন সেবায়েত, যিনি দেবতার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

সেবায়েতের ভূমিকা ও বৈশিষ্ট্য:
- সেবায়েত মন্দির বা দেবতার সেবক হিসেবে কাজ করেন এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
- তিনি দেবতার আইনি প্রতিনিধি হিসেবেও বিবেচিত হন।

নিয়োগ:
- সাধারণত বংশানুক্রমিক (পরিবার বা সম্প্রদায়ের মাধ্যমে)।
- কিছু ক্ষেত্রে ট্রাস্ট বা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত হতে পারেন।

ক্ষমতা:
- সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও পূজা-অর্চনা পরিচালনা।
- Legal Necessity (আইনসম্মত প্রয়োজন) থাকলে সম্পত্তি বিক্রি বা বন্ধক দিতে পারেন (আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে)।

সীমাবদ্ধতা:
- সেবায়েত স্বেচ্ছায় সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না (যেমন: ব্যক্তিগত লাভের জন্য)।
- দেবোত্তর সম্পত্তির আয় শুধু ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করতে হয়।