পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়28 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪: বাংলা ব্যাকরণ - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৮০ নম্বর] উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
নিম্নের কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) শঙ্কা
  2. খ) শুভেচ্ছা
  3. গ) পুনর্মিলন
  4. ঘ) একাদশ
ব্যাখ্যা
সন্ধি তিন প্রকার:
স্বরসন্ধি
ব্যঞ্জনসন্ধি
বিসর্গসন্ধি

১. স্বরসন্ধি স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা - স্বরসন্ধির উদাহরণ। 
সূত্র-: অ/আ+ই/ঈ = এ।  

অন্যদিকে, 
শম্+কা = শঙ্কা = ব্যঞ্জনসন্ধি
এক+দশ = একাদশ = নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন = বিসর্গ সন্ধি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন' এখানে পূর্বপদ কোনটি?
  1. ক) সিংহ
  2. খ) আসন
  3. গ) সিংহ চিহ্নিত আসন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা।
ক. সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ : সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য : সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ : সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
'সিংহাসন' শব্দের 'সিংহ' হলাে পূর্বপদ, আর 'আসন' হলাে পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
Interpretation এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অন্তর্বর্তী
  2. খ) মধ্যস্থতা
  3. গ) দোভাষী
  4. ঘ) ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
Interpretation এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ = ব্যাখ্যা 

অন্যদিকে, 
Interpreter = দোভাষী 
Intervention = হস্তক্ষেপ 
Internal = অভ্যন্তরীণ 
Interval = বিরাম, অন্তর
Interim = মধ্যকালীন

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান
.
বাংলা ব্যাকরণের পদ নয় কোনটি?
  1. ক) আবেগ
  2. খ) কারক
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) যােজক
ব্যাখ্যা
পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:

- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ

- 'কারক' পদের অন্তর্ভুক্ত নয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
শব্দ গঠন প্রক্রিয়া নয় কোনটি?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) সমাস
ব্যাখ্যা
 বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
এগুলাে হলাে :
- উপসর্গ যােগে,
- প্রত্যয় যােগে এবং
- যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

• মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়।
- সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়।
- অর্থাৎ, একটি শব্দ গঠনের পর যদি দেখা যায় যে, ওই শব্দে এমন কতগুলাে ধ্বনি পাশাপাশি বসেছে যাদের এক ধ্বনিতে পরিণত করা সম্ভব তাহলে সেখানে সন্ধি ঘটতে পারে।
- কিন্তু এটি যে বাধ্যতামূলক কোনাে বিষয়, তা কিন্তু নয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সাধারণ বাক্যের প্রধান অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) কর্তা
  2. খ) পদ
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।

সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ:
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'মুঘলাই কায়দা' বাগ্‌ধারা টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) মোসাহেবি করা
  2. খ) মুঘলদের রীতি নীতি
  3. গ) বাইরে ঠাট বজায় রেখে চলা
  4. ঘ) উন্নত পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
'মুঘলাই কায়দা' বাগ্‌ধারা টির অর্থ = উন্নত পদ্ধতি 
উদাহরণ: খান সাহেবের বিয়েতে মুঘলাই কায়দায় তৈরি খাবার খেয়ে সবাই তুষ্ট। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
গুরুচণ্ডালী দোষ বিবর্জিত বাক্য কোনটি?
  1. ক) এ কাজে তাহার হাত পাকা
  2. খ) তাহাদের মধ্যে বেশ সখ্য দেখতে পাই
  3. গ) তিনি বাড়ি হইতে বাহির হইয়াছেন
  4. ঘ) স্বজনেরা মরাদাহ করতে শ্মশানে গেছেন
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ বিবর্জিত বাক্য = তিনি বাড়ি হইতে বাহির হইয়াছেন
অন্যান্য বাক্যের শুদ্ধ রূপ - 
- এই কার্যে তাহার হস্ত পাকা
- তাহাদের মধ্যে বেশ সখ্য দেখিতে পাই 
- স্বজনেরা শবদাহ করতে শ্মশানে গেছেন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) বাঘা
  2. খ) শৈশব
  3. গ) ঢাকাই
  4. ঘ) মাননীয়
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার মূল অংশ হলো ধাতু। ধাতু বা শব্দের সাথে বিভক্তিযুক্ত বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি হল প্রত্যয়।
প্রত্যয় ২ প্রকার। যথা: কৃৎ প্রত্যয় ও তদ্ধিত প্রত্যয়।

মাননীয় = মান্‌+অনীয় = কৃৎ প্রত্যয়।

অন্যদিকে, বাকি শব্দগুলো তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ
বাঘা = বাঘ + আ
শৈশব = শিশু + অ 
ঢাকাই = ঢাকা + আই 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
'শশব্যস্ত' এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) শশ এবং ব্যস্ত
  2. খ) ব্যস্ত যে শশ
  3. গ) শশের মতাে ব্যস্ত
  4. ঘ) শশ যে ব্যস্ত
ব্যাখ্যা
'শশব্যস্ত' এর ব্যাসবাক্য = শশের মতাে ব্যস্ত

• যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস
হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন –
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
'একই সময়ে বর্তমান' -
  1. ক) সময়কালীন
  2. খ) যুগপৎ 
  3. গ) সহযাত্রী
  4. ঘ) সমসাময়িক
ব্যাখ্যা
একই সময়ে বর্তমান = সমসাময়িক 

অন্যদিকে,
একই কালে বর্তমান = সময়কালীন  
একই সময়ে = যুগপৎ 
একসঙ্গে যারা যাত্রা করে = সহযাত্রী 
একই মায়ের সন্তান = সহোদর 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
নিম্নের কোনটি অপরগুলো থেকে ভিন্নার্থক?
  1. ক) অগ
  2. খ) নাগ
  3. গ) গিরি
  4. ঘ) অর্দ্রি
ব্যাখ্যা
'অগ', 'গিরি', 'নগ' ও 'অর্দ্রি' = 'পর্বত' এর সমার্থক। 
 'পর্বত' এর সমার্থক শব্দগুলো হলো: নগ, শৈল, পাহাড়, ভূধর, মহীধর, শৃঙ্গধর, ধরাধর, বসুধাধর ইত্যাদি।
'নাগ' = 'সাপ' এর সমার্থক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'ঐশ্বর্য' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) ওই্‌শ্‌শোরজ 
  2. খ) ঐশ্‌শোরজ
  3. গ) ওই্‌শ্‌শরজো 
  4. ঘ) ওই্‌শ্‌শোরজো 
ব্যাখ্যা
'ঐশ্বর্য' এর সঠিক উচ্চারণ = ওই্‌শ্‌শোরজো 

ঐশ্বর্য (ওই্‌শ্‌শোরজো)
- বিশেষ্য পদ 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ঈশ্বর+য 
অর্থ: 
- ধন, সম্পত্তি, 
- ঈশ্বরত্ব, প্রভুত্ব।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৪.
'অত্যন্ত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) অতী + ত
  2. খ) অন্ত + অন্ত
  3. গ) অতি + অন্ত
  4. ঘ) ইতি + অন্ত
ব্যাখ্যা
'অত্যন্ত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = অতি + অন্ত। 
সূত্র: ই + অ = য্‌ + অ 

ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য' বা য-ফলা হয়।
- য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। 
অনুরূপভাবে, 
প্রতি + এক = প্রত্যেক
অতি + উক্তি = অত্যুক্তি
ইতি + আদি = ইত্যাদি ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ যুগল নয় কোনটি?
  1. ক) দুষ্কর - সুকর
  2. খ) তির্যক - ঋজু
  3. গ) দমন - প্রশ্রয়
  4. ঘ) তন্ময় - মৃন্ময়
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ যুগল = তন্ময় - মন্ময়

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ- 
তেজি - মন্দা 
তামসিক - রাজসিক 
তোয়াজ - তাচ্ছিল্য 
জ্বলন্র - নিভন্ত 
ঝানু - আনাড়ি 
জিন্দাবাদ - মুর্দাবাদ 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
'বদমেজাজ' শব্দের 'বদ' কোন ভাষা থেকে আগত উপসর্গ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি - এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গ ও রয়েছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। যেমনঃ
- আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গঃ হর।
- ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
বর্গ কী?
  1. ক) শব্দ গুচ্ছ
  2. খ) বর্ণ গুচ্ছ
  3. গ) পদ গুচ্ছ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
- বর্গ হলাে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
যেমন -
- মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা বাসে উঠে পড়ল। এই বাক্যে মালা ও মায়া’, ‘খুব সকালে', বাড়ির সামনে থাকা’, ‘স্কুল-বাসে', ‘উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৮.
নিম্নের কোন বাক্যে পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে?
  1. ক) তোমার সাথে আমার আর কোনো লেন দেন নেই।
  2. খ) তার ভালো-মন্দ বোধ নেই।
  3. গ) কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে ডাকছে।
  4. ঘ) তুমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলেছ।
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি: দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন: দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগলো।
আবার, দ্বিতীয় পদের আংশিক পরিবর্তনও ঘটে, কিন্তু পদ বিভক্তি অবিকৃত থাকে। যেমন - চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে।
পদের দ্বিরুক্ত শব্দের বিভিন্ন রকম প্রয়োগ রয়েছে। প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যে অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি হয়েছে।

"তুমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলেছ।" পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে।
 
"তার ভালো-মন্দ বোধ নেই।" বাক্যে শব্দের দ্বিরুক্তি ঘটেছে। 
"তোমার সাথে আমার আর কোনো লেন দেন নেই।" বাক্যে শব্দের দ্বিরুক্তি ঘটেছে। 
"কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে ডাকছে।" বাক্যে অনুকার দ্বিরুক্তি ঘটেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
নিম্নের কোন শব্দযুগলদ্বয় সমার্থক?
  1. ক) মৃগ, মৃগেন্দ্র
  2. খ) কুসুম, প্রসূন
  3. গ) শৈবলিনী, নদীকান্ত
  4. ঘ) মেদিনী, মোদিনীধর
ব্যাখ্যা
'কুসুম', 'প্রসূন' = 'ফুল' এর সমার্থক। 

মেদিনী = পৃথীবি 
মোদিনীধর = পর্বত

শৈবলিনী = নদী
নদীকান্ত = সমুদ্র 

মৃগ = হরিণ 
মৃগেন্দ্র = সিংহ

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) ভুল
  2. খ) সত্তা
  3. গ) পূণ্য
  4. ঘ) গৌণ
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান = পূণ্য
শুদ্ধ রূপ - পুণ্য 

পুণ্য  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √পূ + উন্য 
অর্থ: 
- সৎকর্ম
- সৎকর্মের ফল, সওয়াব।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২১.
'প্রকাশ' শব্দের 'প্র' উপসর্গ দ্বারা কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ক) সম্যক অর্থে
  2. খ) আধিক্য অর্থে
  3. গ) গতি অর্থে
  4. ঘ) উৎকর্ষ অর্থে
ব্যাখ্যা
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ সংজ্ঞা:
যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
এগুলাে হলাে- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 

নিচে অর্থসহ সংস্কৃত উপসর্গের ব্যবহার দেখানাে হলাে 
প্র উপসর্গ এর বিভিন্ন অর্থ এবং উদাহরণ- 
- সম্যক/প্রকৃষ্ট অর্থে - প্রভাব, প্রচলন, প্রকাশ।
- উৎকর্ষ অর্থে - প্রজ্ঞা, প্রভাত, প্রদর্শন।
- আধিক্য অর্থে - প্রখর, প্রতাপ, প্রবল, প্রকোপ।
- খ্যাতি অর্থে - প্রভাব, প্রখ্যাত, প্রশংসা, প্রকীর্তি।
- গতি অর্থে - প্রস্থান, প্রবেশ, প্রচার প্রবাহ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) দৈন্যতা
  2. খ) দৈন্য
  3. গ) দিনতা
  4. ঘ) দীণতা
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = দৈন্য/দীনতা 

দৈন্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = দীন + অ 
অর্থ: দারিদ্র, দীনতা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৩.
নিম্নের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ক) টুপি
  2. খ) গঞ্জ
  3. গ) চোঙ্গা
  4. ঘ) খোকা
ব্যাখ্যা
টুপি (বিশেষ্য) 
- দেশি শব্দ 
অর্থ: মাথায় ধারনের আস্তরণ বিশেষ; শিরস্ত্রান। 

অন্যদিকে, 
খোকা = তুর্কি শব্দ। 
গঞ্জ = ফারসি শব্দ।
চোঙ্গা = হিন্দি শব্দ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৪.
'উদাস' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) উদাসীন
  2. খ) ঔদার্য
  3. গ) ঔদাস্য
  4. ঘ) উদ্ধৃত
ব্যাখ্যা
'উদাস' এর বিশেষ্য রূপ 'ঔদাস্য'

• উদাস (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্‌+√আস্‌+অ
অর্থ: 
উদাসীন, আসক্তিহীন।
- অনুরাগশূণ্য, নির্লিপ্ত।
- বিষণ্ণ; উন্মনা।
- আকুল, ব্যাকুল। 
- উদ্দেশ্যহীন

• ঔদাস্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদাস+য
অর্থ: উদাসীনতা। 

• ঔদার্য (বিশেষ্য) 
অর্থ: উদারতা, মহানুভবতা, 

• উদ্ধৃত (বিশেষণ) 
অর্থ: কোনো রচনা বা উক্তি থেকে হুবহু গৃহীত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৫.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ যুগল কোনটি?
  1. ক) ঐহিক - পারত্রিক
  2. খ) নিন্দুক - নিন্দক
  3. গ) প্রাচ্য - প্রতীচী
  4. ঘ) নিজস্ব - স্বকীয়
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ যুগল = ঐহিক - পারত্রিক 

অন্যদিকে, 
নিজস্ব - পরস্ব
নূতন - পুরাতন 
পরকীয় - স্বকীয় 
নিন্দুক - তোশামুদে 
প্রাচী - প্রতীচী 
প্রাচ্য - পাশ্চাত্য 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬.
'মহীন্দ্র' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) মহৎ + ইন্দ্র
  2. খ) মহি + ইন্দ্র
  3. গ) মহৎ + ঈন্দ্র
  4. ঘ) মহী + ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
'মহীন্দ্র' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = মহী + ইন্দ্র
- এটি একটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
- ঈ + ই = ঈ সূত্র যোগে গঠিত সন্ধি। 

অনুরূপভাবে, 
- সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
'কার্তুজ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) ওলান্দাজ
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) গ্রীক
ব্যাখ্যা
কার্তুজ (বিশেষ্য) 
- শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত
অর্থ: বন্দুকের টোটা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৮.
[উ] উচ্চারণের সময়ে জিভের অবস্থান –
  1. ক) সম্মুখ স্বরধ্বনি
  2. খ) মধ্য স্বরধ্বনি
  3. গ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
  4. ঘ) মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত:
- সম্মুখ স্বরধ্বনি [ই], [এ], [অ্যা];
- মধ্য স্বরধ্বনি [আ];
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি [অ], [ও], [উ]

• সম্মুখ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়;
পশ্চাৎ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯.
কোন দুটি বর্ণ দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন?
  1. ক) ত, ন
  2. খ) থ, ধ
  3. গ) র, স
  4. ঘ) ল, শ
ব্যাখ্যা
'র, স' বর্ণ দুটি  দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন। 

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০.
কোন শব্দে 'গুণ' এর সূত্র ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কার্য
  2. খ) পাচক
  3. গ) ক্রেতা
  4. ঘ) শৈশব
ব্যাখ্যা
'ক্রেতা' শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠনের সময় 'গুণ' এর সূত্র ব্যবহৃত হয়। 

• কখনও কখনও লক্ষ করা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি অংশের আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে।
এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়মদ্বয়কেই যথাক্রমে গুণ ও বৃদ্ধি নামে অভিহিত করা হয়।
নিচে গুণ ও বৃদ্ধি ঘটার সূত্র উল্লেখ করা হলাে :

• গুণ
ই/ঈ-স্থলে এ - √চিন্+আ= চেনা, নী+আ= নেওয়া
উ/ঊ-স্থলে ও - √ধু+আ= ধােয়া
ঋ-স্থলে অর্‌ -  √কৃ+তা = কর্‌তা > কর্তা >ক্রেতা   

• বৃদ্ধি
অ-স্থলে আ - √পচ্+ণক(অক) = পাচক 
ই/ঈ-স্থলে ঐ - √শিশু+ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ - √যুব্‌+অন= যৌবন
ঋ-স্থলে আর - √কৃ+ঘ্যণ(য-ফলা)= কার্য। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
'Profile' এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ছবি
  2. খ) গঠন
  3. গ) পার্শ্বচিত্র
  4. ঘ) চলচ্চিত্র
ব্যাখ্যা
'Profile' এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ = পার্শ্বচিত্র, পার্শ্বরূপ।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান
৩২.
"মনের কষ্ট মনে চেপে রেখো না"- বাক্যে চেপে রাখা কোন প্রকার ক্রিয়ার উদাহরণ? 
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) জটিল ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
"মনের কষ্ট মনে চেপে রেখো না"- বাক্যে 'চেপে রাখা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩.
'বিজন' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) সজন
  2. খ) জনশূন্য
  3. গ) জনবহুল
  4. ঘ) বহাল
ব্যাখ্যা
বিজন - জনবহুল 

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ- 
বরখাস্ত - বহাল 
বাদী - বিবাদী 
বাদ - প্রতিবাদ 
ব্যর্থ - সার্থক 
বিরত - নিরত 
বিধি - নিষেধ 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪.
নিম্নের কোনটি ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ?
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) তৃতীয়া
  3. গ) তেহাই
  4. ঘ) তেসরা
ব্যাখ্যা
বাংলা সংখ্যাবাচক শব্দ দুই প্রকার: 
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
১. সাধারণ পূরণবাচক
২. তারিখ পূরণবাচক
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক

ভগ্নাংশ পূরণবাচক: 
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকিটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
তৃতীয়, তৃতীয়া = সাধারণ পূরণবাচক 
তেসরা = তারিখ পূরণবাচক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫.
"জয় একদিন করবো আমরা" বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) আগ্রহ
ব্যাখ্যা
যেকোন সার্থক বাক্যের গুণ তিনটি।
আকাঙ্খা
আসত্তি
যোগ্যতা

- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ জাগে তাকে আকাঙ্খা বলে।
- বাক্যের ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থ সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খল্ভাবে পদবিন্যাসকেই বলা হয় আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদ গুলোর মাঝে অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধন এর নামই যোগ্যতা।

"জয় একদিন করবো আমরা" বাক্যটিতে 'আসত্তি' গুণের অভাব রয়েছে। 
বাক্যটির সঠিক রূপ - 'আমরা করবো জয় একদিন'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
'চিড়িয়াখানা' শব্দটি কোন কোন ভাষার মিশ্রণে গঠিত?
  1. ক) বাংলা + ফারসি
  2. খ) ফারসি + হিন্দি
  3. গ) ফারসি + বাংলা
  4. ঘ) হিন্দি + ফারসি
ব্যাখ্যা
'চিড়িয়াখানা' (বিশেষ্য) শব্দটি একটি মিশ্র শব্দ। 
- হিন্দি 'চিড়িয়া' ও ফারসি 'খানা' শব্দের মিশ্রণে গঠিত শব্দ। 
অর্থ: বন্য জীবজন্তুর প্রদর্শন শালা; যে গৃহে গবেষণা ও প্রজননের জন্য বন্য জীবজন্তু রাখা হয়। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৭.
বিরোধ যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
  2. খ) তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
  3. গ) চা না-হয় কফি খান।
  4. ঘ) যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে। যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ি যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮.
যোগরুঢ় শব্দ কোনটি?
  1. ক) গায়ক
  2. খ) জলধি
  3. গ) গবেষণা
  4. ঘ) গোলাপ
ব্যাখ্যা
• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

গায়ক = যৌগিক শব্দ 
গবেষণা = রূঢ়ি শব্দ
গোলাপ = মৌলিক শব্দ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯.
কম্পিত ব্যঞ্জনের উপস্থিতি আছে কোন শব্দে?
  1. ক) বড়াে
  2. খ) বানর
  3. গ) গাঢ়
  4. ঘ) হঠাৎ
ব্যাখ্যা
'বানর' শব্দে কম্পিত ব্যঞ্জন 'র' এর উপস্থিতি আছে। 

কম্পিত ব্যঞ্জন
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪০.
'উদ্বেল' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) উদ্‌বেল
  2. খ) উদ্‌দেল
  3. গ) উদ্দেল
  4. ঘ) উদ্‌হেল
ব্যাখ্যা
'উদ্বেল' এর সঠিক উচ্চারণ = উদ্‌বেল। 
উদ্বেল (উদ্‌বেল) 
- বিশেষণ পদ
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্‌ + বেলা 
অর্থ:
- বেলাভূমি বা তীর অতিক্রম করেছে এমন। 
- উচ্ছলিত; উথলিত। 
- সীমাতিক্রান্ত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪১.
'দুর্ভাগ্য সর্বত্রগামী' অর্থে কোন প্রবাদটি প্রচলিত?
  1. ক) গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না
  2. খ) ধর্মের কল বাতাসে নড়ে
  3. গ) ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে
  4. ঘ) চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি
ব্যাখ্যা
'ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে' প্রবাদটির অর্থ = 'দুর্ভাগ্য সর্বত্রগামী'

'গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না' প্রবাদটির অর্থ = স্বজন কর্তৃক বা স্বদেশে সম্মান মেলে না 
'ধর্মের কল বাতাসে নড়ে' প্রবাদটির অর্থ = অধর্ম/অপকর্ম প্রকাশিত হয়ে পড়েই 
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি' প্রবাদটির অর্থ = অসাধু লোককে  উপদেশ অর্থহীন

 উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২.
'শয়ান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √শ+আন 
  2. খ) √শে+আন 
  3. গ) √শী+আন 
  4. ঘ) √শীয়+ন 
ব্যাখ্যা
শয়ান (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √শী+আন 
অর্থ: শুয়ে আছে এমন, শায়িত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৩.
বাহুল্য দোষমুক্ত বাক্য কোনটি?
  1. ক) ক্লাসে অনেক ছাত্র ছাত্রীরা এসেছিল।
  2. খ) দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
  3. গ) সব মাছগুলোর দাম কত?
  4. ঘ) নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
ব্যাখ্যা
বাহুল্য দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং বাক্য তার যোগ্যতা গুণ হারায়। 

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ -
- 'দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন' অথবা 'দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন'।
- 'ক্লাসে অনেক ছাত্র ছাত্রী এসেছিল।' অথবা 'ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীরা এসেছিল।'
- 'মাছগুলোর দাম কত?' অথবা 'সব মাছের দাম কত?' 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪.
নিম্নের কোনটি তৎসম শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) আকাশ
  2. খ) আলখাল্লা
  3. গ) কৈফিয়ত
  4. ঘ) জানালা
ব্যাখ্যা
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

আলখাল্লা, কৈফিয়ত= আরবি শব্দ। 
জানালা = পর্তুগিজ শব্দ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৫.
'পরিভাষা' এর ইংরেজি পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) Translation
  2. খ) Foreign language
  3. গ) Linguistics
  4. ঘ) Terminology
ব্যাখ্যা
Terminology এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ = পরিভাষা, পারিভাষিক শব্দ। 

অন্যদিকে, 
Translation = অনুবাদ, ভাষান্তর। 
Foreign language = বিদেশী ভাষা 
Linguistics = ভাষাবিদ্যা 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান।
৪৬.
'প্রমথ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) হত্যা
  3. গ) অগ্রণী
  4. ঘ) শিবানুচর
ব্যাখ্যা
প্রমথ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্র+মথ্‌+অ 
অর্থ: নৃত্যগীতে পারদর্শী শিবের অনুচর। 

'প্রমাথ' শব্দের অর্থ: হত্যা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।