পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
বিষয়: বাংলা টপিক: (সাহিত্য) পরীক্ষার টপিক: ১. বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ, ২. মধ্যযুগের সাহিত্যধারা ও গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সাহিত্য কর্ম। -------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নিচের কোনটি? 
  1. গুলে বকাওলী
  2. কলিমা জালাল
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ: 
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন- 
- প্রাকৃতপৈঙ্গল, 
- কলিমা জালাল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা', 
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 

• হলায়ূধ মিশ্র রচিত পির মহাত্ম্যক-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’। 
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’। 

অন্যদিকে, 
• বিদ্যাসুন্দর মধ্যযুগের (‘মঙ্গলকাব্য’ ধারার) সাহিত্যকর্ম। 
• সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল ও গুলে বকাওলী মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
গদ্য-পদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য কোনটি? 
  1. রামায়ণ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. শূন্যপুরাণ
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
শূন্যপুরাণ: 
- রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ 'শূন্যপুরাণ'। 
- রামাই পণ্ডিতের কাল তের শতক বলে অনুমিত হয়। 
- 'শূন্যপুরাণ' ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ গদ্য-পদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য। 
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় হিন্দুধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 
- এ গ্রন্থের অন্তর্গত 'নিরঞ্জনের রুষ্মা' কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা'। 
- এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সদ্ধর্মীদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার কাহিনি বর্ণনার সঙ্গে মুসলমানদের জাজপুর প্রবেশ এবং ব্রাহ্মণ্য দেবদেবীর রাতারাতি ধর্মান্তর গ্রহণের কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
কে বাংলা ভাষার কবি নন? 
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
- জয়দেব সংস্কৃত ভাষার বাঙ্গালি কবি। 
- তিনি বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভা কবি ছিলেন। 
- তাঁর লিখিত গীতিকাব্য 'গীতগোবিন্দ'। 

অন্যদিকে, 
- চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও মুকুন্দরাম তিনজনই মধ্যযুগের বাংলা ভাষার কবি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. চণ্ডীদাস
  2. দীন চণ্ডীদাস
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. দ্বীজ চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য: 
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। 
- মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান। 
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে এই পুথি আবিষ্কার করেন। 
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'বেহুলা' বাংলা সাহিত্যের কোন কাব্যধারার চরিত্র? 
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
- 'বেহুলা' বাংলা সাহিত্যের 'মনসামঙ্গল' কাব্যধারার চরিত্র। 

মনসামঙ্গল: 

- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম। 
- এই মনসামঙ্গল কাব্যটি সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত। 
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কানা হরিদত্ত। 
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 
- মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
• চাঁদ সওদাগর, 
• সনকা, 
বেহুলা
• লখিন্দর প্রমুখ। 

উল্লেখ্য, 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র - কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারিশীল। 
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্র -কর্পূর সেন, মহামদ পাত্র। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র - ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. দৌলত কাজী
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস: 
- গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। 
- তিনি ছিলেন চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন। 
- গোবিন্দদাস 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত একজন কবি। 
- তার কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ৷ 
- তার রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'। 
- তিনি পূর্বরাগ, অভিসার, মান, কলহস্তরিতা, বাসকসজ্জা, মাথুর প্রভৃতি পর্যায়ের পদকর্তা। 
- অভিসার পদ পর্যায়ে গােবিন্দদাস শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। 
- সমালােচকের মতে অভিসার পর্যায়ে তিনি রাজাধিরাজ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
.
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভা কবি ছিলেন- 
  1. বিদ্যাপতি
  2. ভারতচন্দ্র
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র জন্মে ছিলেন আঠারো শতকের প্রথম দিকে। 
- তিনি বর্ধমানের (বর্তমান হাওড়া জেলা) পেঁড়োবসন্তপুর বা পাণ্ডুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভা কবি ছিলেন। 
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দিয়েছেন। 
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'কে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
.
আবদুল হাকিম কোন শতাব্দীর কবি? 
  1. পঞ্চদশ শতাব্দী
  2. ষোড়শ শতাব্দী
  3. সপ্তদশ শতাব্দী
  4. অষ্টাদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম: 
- আবদুল হাকিম ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবদুল হাকিম সতেরো শতেকের একজন কবি। 
- তিনি ৮ টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। 
যথা: 
• লালমতি সয়ফুল মুলুক, 
• নূরনামা, 
• কারবালা, 
• ইউসুফ জোলেখা, 
• নসীহৎনামা, 
• শহরনামা, 
• শিহাবউদ্দিননামা এবং 
• চারি মোকামভেদ। 

- আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যের বিখ্যাত উক্তি: 
"যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি"। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল আলম), বাংলা সাহিত্যের কথা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) এবং লাল নীল দীপাবলি।
.
রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি কে ছিলেন? 
  1. বিজয় পণ্ডিত
  2. হলায়ূদ মিশ্র
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া: 
- রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া' সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য। 
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারেই গোড়ার দিককার রচনা'। 
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মণ সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজির অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 
- 'শেখের শুভোদয় অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য'। 
- এতে নানা ঘটনার মাধ্যমে মুসলমান দরবেশের চরিত্র ও অধ্যাত্মশক্তির পরিচয় দেওয়া হয়েছে। 
- এ গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার যে সব নিদর্শন আছে তা হল পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা ছড়া বা আর্যা, খনার বচন ও ভাটিয়ালি রাগের একটি প্রেমসঙ্গীত। 
-আর্যার সংখ্যা তিনটি এবং এগুলো বাংলা ভাষায় প্রাপ্ত পীর মাহাত্ম্য-জ্ঞাপক কাব্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০.
বড়ু চণ্ডীদাসের আবির্ভাব হয় কোন শাসকের আমলে? 
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. সেকান্দার শাহ
  4. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ: 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত সময় মধ্যযুগ বলে চিহ্নিত। 
- এর মধ্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- বাংলাদেশে তুর্কি বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমান শাসনামলের সূত্রপাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হয়নি অনুমান করে এ রকম সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলার সেন বংশের শাসক অশীতিপর বৃদ্ধ লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া বিনা বাধায় জয় করে এদেশে মুসলমান শাসনের সূত্রপাত করেন। 
- ১৩৪২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ গৌড়ের সিংহাসন দখল করে দিল্লির শাসনমুক্ত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 
- তাঁর পুত্র সেকান্দর শাহের আমলে বড়ু চণ্ডীদাসের আবির্ভাব হয়। 
- বড়ু চণ্ডীদাসের কাব্য ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১.
বিদ্যাপতি কোথাকার কবি ছিলেন? 
  1. মিথিলার
  2. নবদ্বীপের
  3. বর্ধমানের
  4. বৃন্দাবনের
ব্যাখ্যা
- বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি। 
- মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়। 
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। 
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
'গুণরাজ খান' কোন সাহিত্যিকের উপাধি? 
  1. বিদ্যাপতি
  2. মালাধর বসু
  3. ভারতচন্দ্র
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেছিলেন
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। 
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। 
- মালাধর বসুর একমাত্র কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'য়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ বঙ্গাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল হক) এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
রামপ্রাসাদের গান শুনে কে অভিভূত হয়েছিলেন? 
  1. নবাব মীরকাশিম
  2. নবাব আলিবর্দি খাঁ
  3. নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
  4. নবাব সিরাজউদৌলা
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন: 
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। 
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত। 
- তাঁর রচিত শ্যামা সঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিন'শ। 
- শাক্ত সঙ্গীত/শ্যামা সঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন- রামপ্রসাদ সেন। 
- বিখ্যাত গান "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা"। 
- রামপ্রসাদ সেনের গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন। 
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৪.
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. শ্রীচৈতন্য-বন্দনা
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. চৈতন্য-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়। 
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'। 
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷ 
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৫.
'মহুয়া' পালার চরিত্র কোনটি? 
  1. মদিনা
  2. সাধু
  3. সোনার
  4. আলাল
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা: 
- 'মহুয়া' পালার রচয়িতা- দ্বিজ কানাই। 
- মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাই পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসী। 
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তি জীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়। 
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: 
• মহুয়া, 
• নদের চাঁদ, 
• হুমরা বেদে, 
সাধু প্রমুখ। 

অন্যদিকে, 
- 'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: 
• আলাল, 
• দুলাল, 
• মদিনা, 
• সোনার প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
সৈয়দ সুলতান রচিত 'নবীবংশ' গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি? 
  1. রসুল চরিত
  2. জ্ঞানপ্রদীপ
  3. সত্যপীরের পুথি
  4. জ্ঞানচৌতিশা
ব্যাখ্যা
- 'নবীবংশে'র দ্বিতীয় খণ্ডের নাম- রসুল চরিত। 

সৈয়দ সুলতান: 
- সৈয়দ সুলতান ১৫৫০ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি। 
- তিনি পীর সৈয়দ হাসানের ভক্ত ছিলেন। 
- 'নবীবংশ' গ্রন্থটি রচনার জন্য বিখ্যাত হয়েছেন। 
- 'নবীবংশ' কাব্যটি পারসি কাব্য কাসাসুল আম্বিয়া কাব্যের অনুসরণে রচিত হয়। 
- এটি ১৫৮৪ সালে রচনা করেন যা হযরত মুহম্মদের জীবনীকাব্য নিয়ে রচিত। 
- মধ্যযুগে রচিত হযরত মুহম্মদের পূর্ণাঙ্গ জীবনী হিসেবে 'রসুল চরিত'ই শ্রেষ্ঠ কাব্য। 
- জ্ঞানপ্রদীপ ও জ্ঞানচৌতিশা তার রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৭.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে? 
  1. মানিক দত্ত
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রামপ্রাসাদ সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। 
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)। 
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। 
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন করেন এবং হিন্দুস্তানে টপ্পার শিক্ষা গ্রহণ করেন। 
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন। 
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)। 

তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: 
"নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা"। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।