পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১১ টপিক: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-অসহযোগ আন্দোলন ১৯৭১,৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-মুজিবনগর সরকারের গঠন ও কার্যাবলী, মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল, মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা, পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পন এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয় [Live Class – 15 & 16]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা সর্বপ্রথম কে পাঠ করেন?
  1. জহুর আহমেদ চৌধুরী
  2. এম. এ. হান্নান
  3. জিয়াউর রহমান
  4. ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা
- ২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে পাকবাহিনীর নৃশংসতম আক্রমণের পরে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে রাত দেড়টার কিছু পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইংরেজিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।
- এই ঘোষণা তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দেন।
- সেই রাতেই চট্টগ্রাম ওয়্যারলেস জহুর আহমেদ চৌধুরীকে এটি পাঠিয়ে দেন।
- জহুর আহমেদ চৌধুরী এবং তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হান্নান এই ঘোষণার বঙ্গানুবাদ করেন।
- ২৬ মার্চ দুপুর আড়াইটায় এম. এ. হান্নান চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
- ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর নামে ইংরেজিতে এই ঘোষণা পাঠ করেন।
- এই ঘোষণার প্রথম দুটি লাইন ছিল, 'This may be my last message. From today Bangladesh is independent.'

তথ্য- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হোক।
.
মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কোথায় ছিল?
  1. মেহেরপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. কলকাতা
  4. আগরতলা
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- বাংলাদেশের প্রথম সরকার "মুজিবনগর সরকার"।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন -- আব্দুল মান্নান।
- সেই অনুষ্ঠানে নবগঠিত মন্ত্রীসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন -- মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল। 
- এই সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় সহ মোট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল।
- রাষ্ট্রপতি -- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি -- সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, তথ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী -- এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান।
- অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী -- মোহাম্মদ মনসুর আলী।

তথ্য- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হোক।
.
কিসের প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলন এর ডাক দেয়া হয়?
  1. পাক সরকারের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য
  2. তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসন
  3. জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ
  4. পাক বাহিনীর বর্বর অত্যাচার
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন 
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। 
- অসহযোগ আন্দোলন ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অসহযোগ মানে সহযোগিতা না করা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পূর্ব বাংলার জনগণ তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকারের সব রকম সরকারি নির্দেশ অমান্য করে।
- এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।
- ২ মার্চ, ১৯৭১ ঢাবির বটতলায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম এই জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেন শিব নারায়ণ দাস।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।
- ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা এদেশের মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা নামে পরিচিত ছিল -
  1. অনিয়মিত বাহিনী
  2. মুক্তিবাহিনী
  3. নিয়মিত বাহিনী
  4. যৌথ বাহিনী
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ ও বাহিনীসমূহ
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী।

- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী বা গেরিলাবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
- অনিয়মিত বাহিনীকে সরকারিভাবে বলা হত মুক্তিযোদ্ধা।

- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।
- নিয়মিত বাহিনীর সংগঠনিক নাম ছিল মুক্তিফৌজ।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে প্রথমে ৪ টি যুদ্ধাঞ্চলে ভাগ করে। পরে আরো ৩টি ভাগ করা হয়। ফলে মোট যুদ্ধাঞ্চল ছিল ৭টি।
- S ফোর্স, K ফোর্স ও Z ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
-এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সমগ্র বাংলাদেশ ১১ টি সেক্টর ছিল , যেখানে মোট ১৬ জন সেক্টর-কমান্ডার ছিলেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র, দশম খন্ড।
.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল?
  1. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  2. ভুটান
  3. সেনেগাল
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি

- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯ টি জেলার মধ্যে যশোর প্রথম স্বাধীন হয়।
- এই দিনই (৬ ডিসেম্বর) ভুটান প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- একই দিনে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ভুটান এবং ভারত; মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই দুই দেশই শুধুমাত্র বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু বহির্বিশ্বের স্বীকৃতি ও দেশ গঠনে তাদের সহযোগিতা লাভের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।
- ৩য় ও ৪র্থ দেশ হিসেবে যথাক্রমে পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়া ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম মুসলিম দেশ হিসাবে সেনেগাল বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা।
.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এ কোন সঙ্গীতজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন নি?
  1. জন লেনন
  2. বব ডিলান
  3. পণ্ডিত রবিশঙ্কর
  4. ওস্তাদ আল্লা রাখা খান
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
- মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট, নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজন করা হয় বিশ্বের প্রথম সেবামূলক কনসার্ট ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। 
- মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার অবস্থান বাংলাদেশের পক্ষে ছিলো না। কিন্তু এই কনসার্ট আয়োজন আমেরিকান নাগরিকদের ভেতর বাংলাদেশ সম্পর্কে সহানুভূতি সৃষ্টি করে। 
- “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” এর মহানায়ক হলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর। তিনিই ভেবেছেন, তিনিই সমস্ত চিন্তা করেছেন এবং তিনি তাঁর বন্ধু জর্জ হ্যারিসনকে উদ্বুদ্ধ করে আয়োজন করেছেন। 
-  রবিশঙ্কর, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, রিঙ্গো স্টার, আলী আকবর খাঁ, আল্লাহ রাখা-র মতো সঙ্গীতজ্ঞরা ছিলেন। 
- সেতারবাদক রবিশঙ্কর ও বিখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ আলি আকবর খান যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। তাদের সাথে তবলায় ছিলেন ওস্তাদ আল্লা রাখা খান। 
- জর্জ হ্যারিসনের সেই অবিস্মরণীয় বাংলাদেশ গান দিয়েই সমাপ্তি টানা হয়েছিলো এই কনসার্টের।
- কনসার্টের টিকেট বিক্রি থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার উঠে এসেছিলো। এই টাকার পুরোটাই শরণার্থী শিশুদের জন্য ইউনিসেফের মাধ্যমে তুলে দেন মুজিবনগর সরকারের হাতে। 

তথ্য - দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সর্বপ্রথম কোন দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়?
  1. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  2. আর্জেন্টিনা
  3. চীন
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিসংঘে যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যখন বাঙালির বিজয় আসন্ন , তখন তিন বার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়।
- পাকিস্তানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ৪ ডিসেম্বর প্রথমবার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে নিরাপত্তা পরিষদের আট দেশ এবং ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- তিনবারই সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো (আমি মানি না) দেয়ার কারণে প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। 

এছাড়াও, 
- আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নির্দেশে ৭টি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজকে বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
- কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎপরতায় মার্কিন রণতরি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে। 

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ বাংলা।
.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন -
  1. আব্দুল মান্নান
  2. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ
  3. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. হোসেন তৌফিক ইমাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার 
- বাংলাদেশের প্রথম সরকার "মুজিবনগর সরকার"।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় সহ মোট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল।
- রাষ্ট্রপতি -- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি -- সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন - হোসেন তৌফিক ইমাম।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন -- আব্দুল মান্নান।
- সেই অনুষ্ঠানে নবগঠিত মন্ত্রীসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন -- মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল। 

তথ্য- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হোক।
.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এর ভাষণ কে ইউনেস্কো কোন নথিতে অন্তর্ভুক্ত করে?
  1. মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার
  2. মেমরি অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার
  3. মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রার
  4. দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা
৭ মার্চ : ঐতিহাসিক দলিল
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণে সকল বাঙ্গালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করে।
- ২০২১ সাল থেকে ৭ মার্চ 'ঐতিহাসিক দিবস' হিসাবে পালিত হচ্ছে।
- এই ভাষণের জন্যই ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে 'পোয়েট অব পলিটিক্স' বা রাজনীতির কবি হিসাবে অভিহিত করে।

- এই ভাষণের ৪ টি মূল বিষয় ছিল। যথা--
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
৩. পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তথ্য - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১০.
বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে কয়টি দাবি উত্থাপন করেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণ
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণে সকল বাঙ্গালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
- এই ভাষণের জন্যই ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে 'পোয়েট অব পলিটিক্স' বা রাজনীতির কবি হিসাবে অভিহিত করে।

- এই ভাষণের ৪ টি মূল বিষয় ছিল। যথা--
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
৩. পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করা হয়।
- ২০২১ সাল থেকে ৭ মার্চ 'ঐতিহাসিক দিবস' হিসাবে পালিত হচ্ছে।

তথ্য - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১১.
অপারেশন সার্চলাইট এর বর্বরতা বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরেন কে?
  1. সাইমন ড্রিং
  2. ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
  3. এরিক ক্ল্যাপটন
  4. লিওন রাসেল
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট ও সাইমন ড্রিং
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালায়।
- ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ গোপনে অবস্থান করে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরে ৩০ মার্চ, ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকবাহিনীর এর বর্বরতা বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- ২০২১ সালের ১৬ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

অন্যদিকে,
অপারেশন জ্যাকপট
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট ১০ নং সেক্টরে নৌবাহিনী পরিচালিত প্রথম অভিযান 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- এই রাতে নৌ-কমান্ডোরা পাকবাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র- দৈনিক প্রথম আলো। বাংলাপিডিয়া।
১২.
বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় পতাকার ডিজাইনার -
  1. শিব নারায়ণ দাশ
  2. এস এম সুলতান
  3. কামরুল হাসান
  4. আব্দুর রব
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা
-১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল।
- লাল-সবুজের ভেতরে হলুদ রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত ছিল সেই পতাকা।
- প্রথম জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা শিব নারায়ণ দাশ।
- শিব নারায়ণ দাশের তৈরি করা বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত এই পতাকা ধরেই হয়েছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সরকার শিল্পী কামরুল হাসানকে পতাকার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলে।
- কামরুল হাসান ওই পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দিয়ে যে পতাকাটি ডিজাইন করেন সেটিই এখন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
- ২ মার্চ পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়।

তথ্য - দৈনিক ইত্তেফাক।
১৩.
মুজিবনগর সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন -
  1. এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. মোহাম্মদ মনসুর আলী
  4. মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- বাংলাদেশের প্রথম সরকার "মুজিবনগর সরকার"।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে।
- মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় সহ মোট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল।
- রাষ্ট্রপতি -- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি -- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, তথ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী -- এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান।
- অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী -- মোহাম্মদ মনসুর আলী।

তথ্যসূত্র - উৎস : ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
১৯৭১ সালের কত তারিখে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়?
  1. ১৬ ডিসেম্বর
  2. ১০ এপ্রিল
  3. ১৭ এপ্রিল
  4. ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা 
- ২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে পাকবাহিনীর নৃশংসতম আক্রমণের পরে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে রাত দেড়টার কিছু পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইংরেজিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।
- এই ঘোষণার মাধ্যমেই ২৬ মার্চ, ১৯৭১ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
- এই ঘোষণা তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দেন।
- সেই রাতেই চট্টগ্রাম ওয়্যারলেস জহুর আহমেদ চৌধুরীকে এটি পাঠিয়ে দেন।
- জহুর আহমেদ চৌধুরী এবং তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হান্নান এই ঘোষণার বঙ্গানুবাদ করেন।
- ২৬ মার্চ দুপুর আড়াইটায় এম. এ. হান্নান চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
- ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর নামে ইংরেজিতে এই ঘোষণা পাঠ করেন।
- এই ঘোষণার প্রথম দুটি লাইন ছিল, 'This may be my last message. From today Bangladesh is independent.'
- ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস।

তথ্য- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হোক।
১৫.
কোন আন্দোলন চলাকালীন শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. অসহযোগ আন্দোলন
  3. ছয় দফা আন্দোলন
  4. শিক্ষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অসহযোগ আন্দোলন
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ জাতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, যা ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অসহযোগ মানে সহযোগিতা না করা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পূর্ব বাংলার জনগণ তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকারের সব রকম সরকারি নির্দেশ অমান্য করে।
- এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।