পরীক্ষা আর্কাইভ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

পরীক্ষাসহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
[ATEO - নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ১৬] বাংলা পরীক্ষা - ৪ (সাহিত্য) পরীক্ষার টপিক: আধুনিক যুগের লেখকগণ: ১. মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ৩. কাজী নজরুল ইসলাম। ৪. আহসান হাবীব, ৫. ডি. এল. রায়, ৬. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ৮. মীর মোশাররফ হোসেন, ৯. ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্য। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. হেক্টরবধ কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- কাব্যটি মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৮৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• 'হেক্টরবধ' হোমারের 'ইলিয়াড' এর বঙ্গানুবাদ মূলক কাব্য (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আহসান হাবীব
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
মীর মোশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মোশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) কথাসাহিত্যিক। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

• আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫) কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. নরকের লাল গোলাপ
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. যে অরণ্যে আলো নেই
  4. কি চাহ শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• লেখক সৈয়দ শামসুল হক এর একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'।

• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য|
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি। 


অন্যদিকে,
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক-
• নরকের লাল গোলাপ- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত নাটক। 
• যে অরণ্যে আলো নেই- নীলিমা ইব্রাহীম রচিত নাটক। 
• বর্ণচোর- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত নাটক। 
• কি চাহ শঙ্খচিল- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য?
  1. পুনর্জন্ম
  2. ত্রিবেণী
  3. আলেখ্য
  4. আর্যগাথা
সঠিক উত্তর:
আর্যগাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্যগাথা
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য 'আর্যগাথা'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে।
- লেখকের ছাত্রজীবনে কাব্যটি লিখিত ও প্রকাশিত হয়।

-----------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- এ্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প কোনটি?
  1. খোয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. রেইনকোট
  4. নিষিদ্ধ লোবান
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
ব্যাখ্যা
• 'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

অন্যদিকে, 
• 'চিলেকোঠার সেপাই'  ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত এটি একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস। 

• 'খোয়াবনামা' থাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস। 

• 'নিষিদ্ধ লোবান' মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'রবিবার' ছোটগল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তিনসঙ্গী
  2. সে
  3. গল্পগুচ্ছ
  4. লিপিকা
সঠিক উত্তর:
তিনসঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনসঙ্গী
ব্যাখ্যা
• 'রবিবার' ছোটগল্পটি 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। 

--------------
• 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলন:

- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন। এটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।

- গল্প তিনটি হলো:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• "রবিবার" গল্পের সার-সংক্ষেপ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "রবিবার" গল্পটি একটি জটিল মানব সম্পর্কের গল্প, যার কেন্দ্রে রয়েছে অভীককুমার নামে এক তরুণ নাস্তিক এবং বিভা নামে এক ধর্মপ্রাণ তরুণীর মধ্যে গভীর আবেগপ্রবণ সম্পর্ক। অভীক একজন প্রতিবাদী, স্বাধীনচেতা, শিল্পীসত্তার মানুষ, যিনি তার পারিবারিক শাক্ত ব্রাহ্মণ ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের নাম অভয়াচরণ থেকে অভীককুমারে পরিবর্তন করেন। তিনি ধর্মাচার ও সমাজের প্রথাগত নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী, এবং তার এই মনোভাব তাকে তার পিতা অম্বিকাচরণের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। অভীকের জীবনের দুটি প্রধান শখ-যন্ত্রের সঙ্গে কাজ করা এবং ছবি আঁকা তাঁর শিল্পীসত্তার প্রকাশ। তবে তার আধুনিক শিল্পকর্ম সমাজের বেশিরভাগ মানুষের কাছে অপ্রচলিত ও বিতর্কিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং "রবিবার" গল্প রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আরোগ্য নিকেতন
  2. কালিন্দী
  3. ডাক-হরকরা
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
ডাক-হরকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক-হরকরা
ব্যাখ্যা
• 'ডাক-হরকরা' গল্প:
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত ল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। ঐ বছর বৈশাখে তাঁর 'ছলনাময়ী' গল্পগ্রন্থ বেরোয়।
- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। এর আগেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় (যেমন, পূর্ণিমা, কল্লোল, উপাসনা, কালি-কলম, উত্তরা নবশক্তি, ভারতবর্ষ, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি দেশ, প্রবাসী প্রভৃতি) তাঁর ৫৩টি গল্প বেরিয়েছে।

-----------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. আহসান হাবীব
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
- আহসান হাবীবের কাব্যগ্রন্থ 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ'। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থের গদ্যভাষ্যে লেখক বলেছেন- 'দারিদ্র্য, দুর্ভাবনা, উৎসাহ, পুরস্কার, ভালোবাসা আর স্বপ্ন এইসব নিয়ে আমার যে পিরোজপুর তাকে ছেড়ে এসেছি প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে। বেরিয়ে এসে সেই যে পা রাখলাম মহানগরী কোলকাতায় তারই নাম জীবনসংগ্রাম।' এই সংগ্রাম তাঁর এবং তাঁর কালের, তাঁর সমাজের।

-------------
আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'রাত্রিশেষ' কাব্যগ্রন্থ।
১০.
"প্রায়শ্চিত্ত" প্রহসনটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• "প্রায়শ্চিত্ত" দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন। এটি ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয় এবং "বহুত আচ্ছা" নামে ক্লাসিক থিয়েটারে অভিনীত হয়েছিল। এই প্রহসনে বিলাতফেরত সমাজের অর্থলোলুপতা, কৃত্রিমতা ও বিলাসিতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ধনঞ্জয় বৈরাগী, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

উৎস: "প্রায়শ্চিত্ত" প্রহসন; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
'সহরতলী' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আহসান হাবীব
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'সহরতলী' উপন্যাস:
- 'সহরতলী' (১৯৪১ সালে) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষের জীবনের কাহিনি ও সেইসঙ্গে প্রবৃত্তির নিরাবরণ প্রকাশের উপন্যাস, মানুষের আচরণের বলিষ্ঠতা ও
কপটতা, ঈর্ষা ও ইন্দ্রিয়ালুতার রূপায়ণ এখানে আছে।
- 'যশোদা' চরিত্রটির বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্ভ্রম বাংলাসাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী নারীচরিত্র হিসেবে স্বীকৃত।

--------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস হলো-
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- সহরবাসের ইতিকথা,
- সহরতলী,
- সার্বজনীন,
- অহিংসা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. অন্ধ কথামালা
  3. জীবন আমার বোন
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে-কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
• 'ওঙ্কার' এটি '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফার উপন্যাস।
• রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- খাঁচায়, অন্ধ কথামালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'উদাসীন পথিক' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন সেগুলো হলো-
গৌড়তটবাসী মশা
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে, 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম হলো হাবু শর্মা। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো-
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

• সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪.
'মহেন্দ্র ও মোহিনী' কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. নৌকাডুবি
  3. রাজর্ষি
  4. করুণা
সঠিক উত্তর:
করুণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করুণা
ব্যাখ্যা
• 'করুণা' উপন্যাস:
- 'করুণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয় (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বউ ঠাকুরানীর হাট')।
- মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) 'করুণা' উপন্যাসটি ছাপা হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'জীবনস্মৃতি'তেও এই রচনার কোনো উল্লেখ করেন নি।
- পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত 'রবীন্দ্র রচনাবলি'তে (১৯৬১) 'করুণা' প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসটি।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

অন্যদিকে, 
• 'চোখের বালি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।
• 'রাজর্ষি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোবিন্দমাণিক্য, পুরোহিত রঘুপতি, হাসি ও তাতা, জয়সিংহ, নক্ষত্ররায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
'দ্বীপান্তর' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'দ্বীপান্তর' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি নাটক।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
'হাসির গানের রাজা' নামে বাংলা সাহিত্যে খ্যাতি লাভ করেন-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. আহসান হাবীব
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের (১৮৬৩-১৯১৩) জন্ম কৃষ্ণনগরে। এম. এ. পাশ করে । বিলাত থেকে কষিবিদ্যা শিক্ষার জন্য সরকারি বৃত্তি নিয়ে তিনি বিলাত গমন করেন। ফিরে প্রথমে সেটেলমেন্ট অফিসার এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ করেন।

- নাট্যকার হিসেবে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রতিষ্ঠা অধিক হলেও হালকা ছাঁদে রচিত কবিতা ও গানে তাঁর প্রতিভা বিকশিত হয়েছে। ব্যঙ্গরসাত্মক কবিতা নিয়েই সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আগমন। 'আর্যগাথা', 'মন্ত্র', 'আলেখ্য', 'ত্রিবেণী', 'হাসির গান' ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ তাঁর রচিত। এই সব রচনায় কৌতুকরসের প্রাধান্য এবং ভাষা ও ছন্দের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম সমসাময়িক কবিগোষ্ঠীর চেয়ে তাঁকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছিল।

- স্বদেশী গানের রচয়িতা হিসেবেও তাঁর বিশেষ পরিচয় উল্লেখযোগ্য। 'হাসির গানের রাজা' হিসেবে তাঁর খ্যাতি নাটক রচনাকারীর চেয়েও বেশি। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় জীবনের বহু বিচিত্র বিষয়কে তীব্র ব্যঙ্গবিদ্রূপের উপজীব্য করেছিলেন।

- তাঁর প্রতিভা ছিল প্রধানত গীতিকবির। ব্যঙ্গকবিতা ও হাসির গানের আকারে তাঁর এ ধরনের প্রতিভার সার্থক বিকাশ ঘটেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম।
১৭.
'ছুটির দিন দুপুরে' শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই।
- সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

• এ ছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: জ্যোৎস্না রাতের গল্প, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭), ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
'ডাক্তার পরাশর' বিখ্যাত চরিত্রটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সরীসৃপ
  2. প্রাগৈতিহাসিক
  3. হলুদ পোড়া
  4. তৈলচিত্রের ভূত
সঠিক উত্তর:
তৈলচিত্রের ভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৈলচিত্রের ভূত
ব্যাখ্যা
• 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্প:
- 'তৈলচিত্রের ভূত' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কিশোর-উপযোগী ছোটগল্প। 
- গল্পটি মাসিক 'মৌচাক' পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিাষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ভূতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরাজমান কুসংস্কার যে ভিত্তিহীন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ গল্পে তা তুলে ধরেছেন। এ গল্পে তিনি দেখিয়েছেন বিজ্ঞানবুদ্ধির জয়।
- ডাক্তার পরাশর এই গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

-----------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক-
  1. বর্ণচোরা
  2. কবর
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কেউ কিছু বলতে পারে না
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা
• 'কবর' নাটক:
- একাঙ্ক বিশিষ্ট 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead অবলম্বনে রচিত।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- প্রকাশ্যে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৫৬ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে উদযাপন উপলক্ষে।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. রত্নবতী
  3. মায়া-কানন
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। 
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'শর্মিষ্ঠা' মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত ও সার্থক বাংলা নাটক।
• 'রত্নবতী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস/গদ্যরচনা।
• মায়া-কানন (১৮৭৪  নাটকটি তিনি শেষ করতে পারেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
'টালা অভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. প্রহসন
  4. আত্মজীবনীমূলক রচনা
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
ব্যাখ্যা
• 'টালা অভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- এটি ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২.
নদীর বুকে উৎপন্ন চরকে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
  1. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  2. নিকেতন
  3. আরোগ্য নিকেতন
  4. কালিন্দী
সঠিক উত্তর:
কালিন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিন্দী
ব্যাখ্যা
• 'কালিন্দী' নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩.
বিখ্যাত 'অমল' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মীর মোশাররফ হোসেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের নায়ক।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

--------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৪.
শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস-
  1. আর্তনাদ
  2. অলাতচক্র
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।

অন্যদিকে,
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
- 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের আগের ও পরের সাহিত্য চর্চা, রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দিয়ে কাহিনি শুরু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'আর্তনাদ' উপন্যাস, শওকত ওসমান।
২৫.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক কোনটি?
  1. সীতা
  2. পাষাণী
  3. চন্দ্রগুপ্ত
  4. ভীষ্ম
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'চন্দ্রগুপ্ত' নাটক:
'চন্দ্রগুপ্ত' (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক। গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে। এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে 'চন্দ্রগুপ্ত' বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

----------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো- 
- 'তারাবাঈ' (১৯০৩),
- 'প্রতাপ-সিংহ' (১৯০৫),
- 'দুর্গাদাস' (১৯০৬),
- 'নূরজাহান' (১৯০৮),
- 'মেবার পতন' (১৯০৮),
- 'সাজাহান' (১৯০৯),
- 'চন্দ্রগুপ্ত' (১৯১১),
- 'সিংহলবিজয়' (১৯১৫) ইত্যাদি।

['চন্দ্রগুপ্ত' ব্যতীত সকল নাটকের কাহিনি মোগল আমলের ইতিহাস থেকে সংগৃহীত। ইতিহাসের কাহিনি অনুসরণে নাট্যকার অত্যন্ত সাবধানতা ও সত্যনিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। এই সব নাটকে ইতিহাসের পাতা থেকে সংগৃহীত চরিত্রগুলো যেন জীবন্ত করে স্থান দেওয়া হয়েছে।]

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পৌরাণিক উপাদানজাত নাটকগুলো হলো-
- 'পাষাণী' (১৯০০),
- 'সীতা' (১৯০৮),
- 'ভীষ্ম' (১৯১৪)। 

[এইসব নাটকে পৌরাণিক চরিত্রগুলো আধুনিক বাস্তবের পরিদৃশ্যমান পটভূমিকায় সন্নিবেশিত হয়েছে। এগুলোতে অলৌকিকতা ও আধ্যাত্মিকতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার নিদর্শন মিলে। প্রকৃতপক্ষে দ্বিজেন্দ্রলালের বস্তুবাদী, ইহসর্বস্ব মন পৌরাণিক ধর্মাদর্শ এবং দেবদেবীর চরিত্রের অলৌকিক মহিমা সম্পর্কে শ্রদ্ধাবান হতে পারে নি। তাই তাঁর নাটক এ ধরনের আধ্যাত্মিক ভাবে মহিমান্বিত না হয়ে মানবীয় ভাবাত্মক হয়ে পড়েছে।]

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কতকগুলো প্রহসন রচনা করেছিলেন, প্রহসনের নাম হচ্ছে:
- 'কল্কি অবতার' (১৮৯৫),
- 'বিরহ' (১৮৯৭),
- 'এ্যহস্পর্শ' (১৯০০),
- 'প্রায়শ্চিত্ত', (১৯০২)
- 'পুনর্জন্ম' ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।