উত্তর
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন:
সমাধান:
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১০১ প্রশ্ন
প্রশ্ন:
সমাধান:
প্রশ্ন: প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?
সমাধান:
(২য় কলাম × ৩য় কলাম) - ১ম কলাম = ৪র্থ কলাম
(6 × 10) - 2 = 60 - 2 = 58
(7 × 11) - 3 = 77 - 3 = 74
(8 × 12) - 4 = 96 - 4 = 92
সুতরাং, প্রশ্নবোধক স্থানে 92 সংখ্যাটি বসবে।
“পিছনে পড়ে থাকা বেদুঈনরা তোমাকে অচিরেই বলবে, ‘আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল; অতএব আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ তারা মুখে তা বলে যা তাদের অন্তরে নেই।” (সুরা ফাতহ, আয়াত ১১)।
এ আয়াতে ٱلۡمُخَلَّفُونَ শব্দ দ্বারা বেদুইন উদ্দেশ্য।
“বেদুঈনরা বলল, ‘আমরা ঈমান আনলাম’। বল, ‘তোমরা ঈমান আননি’। বরং তোমরা বল, ‘আমরা আত্মসমর্পণ করলাম’। আর এখন পর্যন্ত তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি।” (সুরা হুজরাত, আয়াত ১৪)
এ আয়াতে বেদুঈনরা তাদের ইসলামকে নিয়ে লৌকিকতার আশ্রয় নিয়েছে। সাধারণত ইমান ও তাকওয়ার তুলনায় ইসলামকে নিয়ে বেশি লৌকিকতার আশ্রয় নেওয়া যায়।
আবু বকর (রা) যখন দেখলেন, মিসতাহ বিন আসাসাহ (খালাত ভাই) তার কন্যা আয়িশাহ (রা)-এর নামে মিথ্যা অপবাদ রটনায় জড়িত, তখন তিনি শপথ করলেন, আমি তার জন্য আর কোন কিছুই খরচ করব না। তখন সুরা নুর এর ২২ নং আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
এ আয়াতে আবু বকর (রা) কে মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
সুরা হুজরাতের,
১১ নং আয়াতে মুমিনদের উপহাস, নিন্দা ও মন্দ নামে ডাকা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
১২ নং আয়াতে অনুমান, গোয়েন্দাগিরি ও গিবত থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
৬ নং আয়াতে সংবাদের সতত্য যাচাই করতে বলা হয়েছে এবং গুজব থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী শরিয়তের তাযির বা শাসকের নির্ধারিত শাস্তি-এর ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নিয়ম হলো যে, হুদুদ (আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত) অপরাধ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০টি বেত্রাঘাত করা যায়, যা মূলত হাদিস এর নির্দেশনা থেকে প্রাপ্ত। যদিও মাযহাবের ইমামগণের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ আছে।
“মুমিন কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর সন্দেহ পোষণ করেনি। আর নিজেদের সম্পদ ও নিজেদের জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে।” (সুরা হুজরাত, আয়াত ১৫)
“নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।” (সুরা হুজরাত, আয়াত ১০)
সুতরাং, ‘অপর মুমিনের দোষ গোপন রাখা’ সুরা হুজরাতে বর্ণিত মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়।
“বরং তোমরা মনে করেছিলে রাসুল (সা) ও মুমিনরা তাদের পরিবারের কাছে কখনো ফিরে আসবে না; আর এটি তোমাদের অন্তরে শোভিত করে দেয়া হয়েছিল; আর তোমরা মন্দ ধারণা করেছিলে এবং তোমরা ছিলে ধংসোন্মুখ সম্প্রদায়।”
সুরা ফাতহের ১২ নং আয়াতে ধ্বংসমুখী সম্প্রদায় বলতে বেদুইন বা মুনাফিকরা উদ্দেশ্য।
হিজরতের মোট ৫টি স্তর রয়েছে—
(১) মক্কা থেকে আবিসিনিয়া হিজরত
(২) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত
(৩) রাসুল (সা) এর দিকে বিভিন্ন গোত্রসমূহের হিজরত
(৪) মক্কার ইসলাম গ্রহণকারীদের হিজরত
(৫) আল্লাহর সকল নিষেধাজ্ঞা পরিহার করার হিজরত।
হযরত উসমান (রা) কুরায়েশদের নিকট বন্দী থাকা অবস্থাতেই কুরাইশরা সাহল ইবনে আমর, হুওয়াইতির ইবনে আবদিল উযযা এবং মুকরি ইবনে হাফসকে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর নিকট প্রেরণ করেন সন্ধি স্থাপন করার জন্য। পরবর্তীতে হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
আবু মুসা আল আশআরি (রা) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন লোকের জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে—
প্রথমত, যে আহলে কিতাব নিজের নবির প্রতি ঈমান এনেছে আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিও ঈমান এনেছে।
দ্বিতীয়ত, যে ক্রীতদাস যথানিয়মে আল্লাহর হক আদায় করেছে পুনরায় নিজের মুনীবের হকও আদায় করেছে।
তৃতীয়ত, যার তত্ত্বাবধানে ক্রীতদাসী ছিল, সে তার সঙ্গে সহবাস করেছে, তাকে উত্তমরূপে আদব-কায়দাও শিক্ষা দিয়েছে, অতঃপর তাকে মুক্ত করে দিয়ে স্বীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছে, তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)
হযরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে ১,১৬০/১১৭০টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী মুকছিরিন সাহাবীদের অন্যতম ছিলেন।
“তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহে উদ্যোগী হবে তখন পিছনে যারা পড়েছিল অচিরেই তারা বলবে, আমাদেরকে তোমাদের অনুসরণ করতে দাও। তারা আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করতে চায়। বল, তোমরা কখনো আমাদের অনুসরণ করবে না; আল্লাহ আগেই এমনটি বলেছেন।”
সুরা ফাতহের ১৫ নং আয়াতের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বেদুইনরা।
ইফকের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ৩জন সাহাবি- হযরত মিসতাহ (রা), হযরত হাসসান (রা) এবং হযরত হিমনাহ (রা)। এছাড়া মুনাফিকদের সর্দার আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ছিল এ ঘটনার মূল হোতা।
“আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন যে, যদি তোমরা মুমিন হও, তাহলে আর কখনো এর পুনরাবৃত্তি করবে না।” (সুরা নুর, আয়াত ১৭)
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থের কিতাবুল ইলম অধ্যায়ের হাদিসে রয়েছে, যে ব্যক্তি ইলম জেনেও গোপন রেখেছে, তাকে কিয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরানো হবে।
الدُّبَّاء (দুব্বা) শব্দের অর্থ কদুর খোল দ্বারা প্রস্তুতকৃত পাত্রবিশেষ।
الْمُزَفَّتِ (মুযাফফাত) শব্দের অর্থ আলকাতরা দ্বারা মালিশকৃত পাত্র।
الْحَنْتَمِ (হানতাম) শব্দের অর্থ কী মাটির তৈরি সবুজ কলসি।
النَّقِيرِ (নাকির) শব্দের অর্থ (খেজুর) গাছের বা কাঠের পাত্রবিশেষ।
কিতাবুল ইমানের হাদিস অনুসারে ইমানের স্বাদ পাওয়ার শর্ত ৩টি:
(১) আল্লাহ ও তার রাসুলকে সর্বাধিক ভালোবাসা
(২) মানুষকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা
(৩) ইমান আনয়নের পরে কুফরিতে পুনরায় ফিরে যাওয়াকে অপছন্দ করা।
মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে মারফু (নবী (সা)-এর সাথে সম্পর্কিত), মাওকুফ (সাহাবিদের সাথে সম্পর্কিত) এবং মাকতু (তাবেঈদের সাথে সম্পর্কিত) হাদিস সংকলিত হয়েছে। মিশকাতুল মাসাবিহ মূলত একটি সংকলিত হাদিস গ্রন্থ।
“আর তোমরা যখন এটা শুনলে, তখন তোমরা কেন বললে না যে, ‘এ নিয়ে কথা বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি অতি পবিত্র মহান, এটা এক গুরুতর অপবাদ’।”
সুরা নুরের ১৬ নং আয়াতে ‘বুহতানুন আজিম’ শব্দের অর্থ- গুরুতর অপবাদ।
আবদুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি ছিলেন। তিনি মোট ২৬৩০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা অনেক তাবেয়ীগণ তাঁর থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন।
মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়েছিল ৮ম হিজরির ২০ রমজান তারিখে, যা খ্রিস্টীয় ৬৩০ সালের জানুয়ারি মাস ছিল। এই বিজয় ইসলামের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যার মাধ্যমে মক্কা শহর মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে।
“(যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলে) অন্ধের কোন অপরাধ নেই, লেংড়ার কোন অপরাধ নেই, অসুস্থের কোন অপরাধ নেই।”
সুতরাং, সুরা ফাতহের আলোকে বধিরকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়নি।
“হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয় কোন কোন অনুমান তো পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না।”
সুতরাং, ১২ নং আয়াতে প্রশ্নে উল্লেখিত ৩টি বিষয়টিই আলোচিত হয়েছে।
“হে ঈমানদারগণ, যদি কোন ফাসিক তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে নাও। এ আশঙ্কায় যে, তোমরা অজ্ঞতাবশত কোন কওমকে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।”
সুরা হুজরাতের ৬ নং আয়াতে সংবাদের সত্যতা যাচাই করার নির্দেশনা রয়েছে।
“অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করে দিয়েছেন। তোমরা ইনশাআল্লাহ নিরাপদে তোমাদের মাথা মুন্ডন করে এবং চুল ছেঁটে নির্ভয়ে আল-মাসজিদুল হারামে অবশ্যই প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ জেনেছেন যা তোমরা জানতে না। সুতরাং এ ছাড়াও তিনি দিলেন এক নিকটবর্তী বিজয়।”
সুরা ফাতহের ২৭ নং আয়াতে ‘আর-রু’ইয়া বিল-হাক’ দ্বারা মক্কা বিজয় উদ্দেশ্য।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করেও নবি মুহাম্মদ (সা)-কে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিলেন তাঁর চাচা আবু তালিব।
ইবন ইসহাক বলেন, বদর যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা) আবুল বুখতারিকে হত্যা করতে নিষেধ করেন। কেননা, মক্কায় রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে নির্যাতন করা থেকে তিনি কুয়ায়শদেরকে নিবৃত্ত করতেন। তিনি নিজে কখনও রাসূলুল্লাহকে কষ্ট দেননি এবং এমন কোন আচরণও করেননি যাতে তাঁর মন ব্যথিত হয়।
মুতইম বিন আদি আরও চারজনের সঙ্গে মিলে এমন একটি উদ্যোগ নেন, যার ফলে মুসলিমদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া শিয়াবে আবি তালিবের অবরোধের অবসান ঘটে।
উতায়বা ছিল আবু লাহাবের পুত্র যে আল্লাহর রাসুলকে অপমান ও নির্যাতন করত এবং সে রাসুলের দোয়ার কারণে এক সফরে গেলে তাকে সিংহ খেয়ে ফেলে।
হযরত উমর (রা)-এর বোনের নাম ফাতিমা বিনতে খাত্তাব। তিনি ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম সারির একজন ছিলেন।
হুদায়বিয়ার সন্ধির সময়ে রাসুলে কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সফরসঙ্গী স্ত্রী ছিলেন উম্মে সালামাহ (রা)।
তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ছিলেন এবং হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন।
যুন্নুরাইন উপাধিটি ছিল হযরত উসমান (রা.)-এর, কারণ তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দুই কন্যা রুকাইয়া (রা.) ও উম্মে কুলসুম (রা.)-কে বিবাহ করেছিলেন।
‘যুন্নুরাইন’ শব্দের অর্থ হলো ‘দুই জ্যোতির অধিকারী’ বা ‘দুই নুরের অধিকারী’।
আবু তালিবের মূল নাম ছিল ইমরান/আবদ মানাফ।
যদিও তিনি ‘আবু তালিব’ নামেই পরিচিত ছিলেন, যা একটি কুনিয়াত বা উপনাম।
তিনি নবী মুহাম্মদ (সা)-এর চাচা এবং রাসুল (সা)-এর পিতা আবদুল্লাহ-এর ভাই ছিলেন।
রাসুল (সা.) তায়েফে গিয়েছিলেন নবুওয়াতের দশম বছর, শাওয়াল মাসে।
তিনি তায়েফে প্রায় দশ দিন অবস্থান করেন।
এই সময়ে তিনি সেখানকার বিভিন্ন গোত্রের সর্দারদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেন।
হিজরতের সময় কুরাইশরা রাসুল (সা)-কে ধরার জন্য ১০০টি উটের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, এবং সেই পুরস্কারের লোভে সুরাকা ইবনে মালিক রাসুল (সা.) ও তাঁর সঙ্গী আবু বকরের পিছু ধাওয়া করেছিলেন।
হুদায়বিয়ার সন্ধির পরে আবু বাসির ও আবু জান্দাল মুসলিম হয়ে মদিনায় চলে এলে, চুক্তি অনুযায়ী তাদের মক্কার কুরাইশদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়।
ফজিলত ও মর্যাদার দিক থেকে মসজিদে কুবার অবস্থান হলো মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদে নববী এবং জেরুজালেমের মসজিদে আকসা-এর পরেই চতুর্থ স্থানে।
বাইয়াতে রিদওয়ানের সময় হযরত উমর (রা) তার হাত উত্তোলিত অবস্থায় রেখেছিলেন।
যদিও হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তাবলি তিনি মন থেকে মানতে পারছিলেন না।
হিজরতের সময় নবী মুহাম্মদ (সা) কুবায় ১০ দিন অবস্থান করেছিলেন।
সেখানে তিনি ইসলামের প্রথম মসজিদ, মসজিদে কুবা নির্মাণ করেন এবং এর ভিত্তি স্থাপন করেন।
অন্য একটি বর্ণনা মতে কুবাতে তাঁর অবস্থানকালীন সময় ছিল ১৪ দিন।
খন্দকের যুদ্ধে মুসলিম শহীদের সংখ্যা ছিল ৮ জন।
এই যুদ্ধে মদিনাকে ঘিরে থাকা সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে মুসলিমরা একটি পরিখা খনন করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং এই সংঘাতে ৮ জন মুসলিম শহীদ হন।
অন্য একটি বর্ণনা মতে এই সংখ্যা ৬/৭ জন।
ইবনুল কাইয়িম বলেছেন: রাসুল (সা) কুবাতে পৌঁছালে ‘আমর বিন আউফ গোত্রের (কুবার বাসিন্দা) লোকজনদের শোরগোল উঁচু হয়ে উঠল এবং তাকবীর ধ্বনি শোনা গেল।
মুসলিমগণ নবী কারীম (সা)-এর আগমনে তাঁকে খুশআমদেদ জানানোর উদ্দেশ্যে হর্ষোৎফুল্ল কণ্ঠে তাকবীর ধ্বনি দিতে দিতে সমবেত হতে থাকল।
তিনি তাঁদের মাঝে এসে উপস্থিত হলে সকলে সম্মিলিতভাবে তাঁকে মুবারকবাদ জ্ঞাপন করলেন এবং চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে দাঁড়ালেন।
এ সময় রাসুলুল্লাহ (সা) শান্তির আবরণে আচ্ছাদিত ছিলেন এবং আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হচ্ছিল, (فَإِنَّ اللهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيْلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذٰلِكَ ظَهِيْرٌ) [التحريم:4] ‘‘তবে (জেনে রেখ) আল্লাহ তার মালিক-মনিব-রক্ষক। আর এ ছাড়াও জিবরীল, নেক্কার মু’মিনগণ আর ফেরেশতাগণও তার সাহায্যকারী।’
উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের পাহাড়ি তীরন্দাজ বাহিনীতে ৫০ জন সদস্য ছিল, যাদেরকে নবীজি (সা.) উহুদ পর্বতে স্থাপন করেছিলেন এবং তাদেরকে তাদের অবস্থান ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
হুনাইন যুদ্ধের ঘটনা পবিত্র কুরআনের সুরা আত-তাওবাহ-এ বর্ণিত হয়েছে।
এই ঘটনাটি সুরা আত-তাওবার ২৫ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাহায্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং হুনাইন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মুসলমানদের বিজয়ের কথা বলা হয়েছে।
রাসুল (সা) যেসব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাকে গাযওয়া বলে; গাযওয়ার সংখ্যা ২৭টি।
সারিয়া হলো সেসকল যুদ্ধ, যেগুলোতে তিনি নিজে অংশ গ্রহণ করেননি। সারিয়ার সংখ্যা নিয়ে মতভেদ বিদ্যমান।
ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকেই কাবাঘরের চাবির দায়িত্বে ছিল শাইবা গোত্র।
মহানবী (সা.) মক্কা বিজয়ের পর এই দায়িত্ব উসমান ইবন তালহার গোত্র বনু শাইবার হাতে চিরস্থায়ীভাবে অর্পণ করেন।
বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) ১০০টি উট কুরবানি করেছিলেন এবং এর মধ্যে ৬৩টি উট তিনি নিজে জবাই করেছিলেন।
বদর যুদ্ধে মুহাজির বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন হযরত আলী (রা)।
বদরের যুদ্ধে তাঁর অসামান্য বীরত্বের জন্য মুহাম্মদ (সা.) তাঁকে জুলফিকার নামক ঐতিহাসিক তরবারি উপহার দেন।
বদরের যুদ্ধে যে দুটি কালো রংয়ের পতাকা মুসলমানদের ছিলো তার একটি ছিলো মহানবী (সা)-এর হাতে অপরটি হযরত আলী (রা) এর হাতে।
হিজরতের পর রাসুল (সা) মদিনায় পৌঁছে সর্বপ্রথম হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) এর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন এবং কিছুদিন সেখানে অবস্থান করেছিলেন, যতক্ষণ না তাঁর নিজের বাড়ি ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়।
আত্মীয়তা ৩ প্রকার:
- বংশ সম্পর্কিত,
- বিবাহ সম্পর্কিত ও
- দুগ্ধ সম্পর্কিত।
‘জন্ম সম্পর্কিত’ কোন আত্মীয়তার প্রকারভেদ নয়।
“তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দুটি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তবে একটি।” (সুরা নিসা, আয়াত ৩)
এ আয়াতে مَا طَابَ لَكُم শব্দগুচ্ছের অর্থ- যে নারীকে তোমাদের ভালো লাগে।
অস্থায়ী মুহাররামাত হলো যাদের সাথে অস্থায়ী সময়ের জন্য বিবাহ হারাম হয়।
আপন চাচি যখন তালাকপ্রাপ্তা/বিধবা বা বিবাহহীন অবস্থায় থাকেন, তখন তাকে শরিয়াহ অনুসারে বিবাহ করা যায়।
স্ত্রীকে যৌনসম্ভোগহীন তিন তুহুরে তিন তালাক প্রদান করা হলে তা তালাক-ই হাসান এর অন্তর্ভূক্ত হবে।
আর তালাক-ই আহসান হলো তিন তুহুরে এক তালাক প্রদান করা।
মুসলিম আইন অনুসারে, মৃত ব্যক্তির যদি সন্তান থাকে এবং মা জীবিত থাকেন, তাহলে মা এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) অংশ পাবেন।
ইসলামি অর্থনীতি অনুসারে সমুদ্র থেকে আহরিত সম্পদের ১/৫ অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্ব হিসাবে জমা দিতে হবে।
ইসলামী রাষ্ট্রের একটি প্রধান ও অপরিহার্য উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর আইন বা শরিয়াহ বাস্তবায়ন করা, যা কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে রচিত।
এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় শরিয়াহ-ই সরকারের মূল ভিত্তি এবং এর লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ্র বিধানকে প্রতিষ্ঠা করা।
রাসুলে কারিম (সা) স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশনা দিয়ে তিনি নিজেকে উত্তম আচরণের মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
“নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপোষ- মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে।”
এ আয়াতে কারিমা থেকে বোঝা যায়, ইমানদারদের মধ্যে গড়ে ওঠা ভ্রাতৃত্বের মূলে রয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহ।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ৩ ধরণের করের কথা উল্লেখ করেছেন:
১. মুসলামানদের উপর ধার্যকৃত কর। যেমন যাকাত, উশর (মুসলিম ভূমি কর) ইত্যাদি;
২. অমুসলমানদের উপর ধার্যকৃত কর। যেমন জিজিয়া (অমুসলিমদের উপর নিরাপত্তা কর), গনিমতের মাল, ফাই (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) ইত্যাদি;
৩. ইনফাক (ব্যয়) ও সাদাকাহ।
যে মুসলিম নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তার ওপর সাধারণত যাকাত ফরজ।
এক্ষেত্রে যদি কোন ঋণগ্রস্ত তার সকল ঋণ পরিশোধের পরেও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকে, তাহলে তার ওপর যাকাত আবশ্যক।
পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা (পুরুষরা) নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। (সুরা নিসা, আয়াত ৩৪)
“নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ।”
এ আয়াতে কারিমা পবিত্র কুরআনের সুরা আল ইসরা এর ২৭ নং আয়াত।
ইসলামী আইনশাস্ত্রে এটি একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ফিকহবিদ বা আইনজ্ঞরা কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে বিদ্যমান পাঠ্য বা নিয়মের একাধিক সম্ভাব্য সমাধানের মধ্যে থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত বা ‘হাসান’ সমাধানটি বেছে নেন।
বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে আদল বা ন্যায়বিচার অপরিহার্য, কারণ এটি সামাজিক শৃঙ্খলা, সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার মূল ভিত্তি।
মদিনা সনদকে ইসলামের রাষ্ট্রনীতির প্রথম দলিল হিসেবে গণ্য করা হয়।
এটি ৬২২ খ্রিস্টাব্দে (১ম হিজরিতে) নবী মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর প্রণীত হয়েছিল, যা ছিল একটি বহু-ধর্মীয় এবং বৈষম্যহীন শাসনতন্ত্র।
এই সনদের মাধ্যমে মুসলমান, ইহুদি এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা, ও সমতা বজায় রেখে একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।
সৎকাজের আদেশ (আমর বিল মারুফ) এবং অসৎকাজের নিষেধ (নাহি আনিল মুনকার) করা ফরজে কিফায়া।
এর অর্থ হলো, যদি কোনো সমাজ বা গোষ্ঠীর কিছু সংখ্যক লোক এই দায়িত্ব পালন করে, তাহলে সমাজের অন্য সকলে দায়মুক্ত হয়ে যায়, কিন্তু যদি কেউ এই দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে সমাজের সকলকেই এর জন্য দায়ী হতে হয়।
আধুনিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার হলো যুক্তরাজ্য। কারণ, যুক্তরাজ্যে বিশ্বের প্রথম সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রচলন ঘটে এবং সংসদীয় ব্যবস্থার বিকাশ ও প্রবর্তন হয়, যা পরবর্তী অন্যান্য দেশেও অনুকরণীয় হয়ে ওঠে।
গণতন্ত্রের প্রাচীনতম রূপ প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স নগর-রাষ্ট্রে বিকশিত হলেও, আধুনিক গণতন্ত্রের ধারণার উৎপত্তি ও বিস্তারের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অবদান অনস্বীকার্য।
কুরআনে সামাজিক সম্পর্কের নীতিকে সবচেয়ে বেশি ‘মাআরুফ’ (مَعْرُوف – সুপরিচিত বা সুসংগত কাজ/ভাল আচরণ) শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে।
মাআরুফ হলো ইসলামের মূল নৈতিক ও সামাজিক আদর্শ, যার মধ্যে ভাল আচরণ, সদাচরণ, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানুষের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত। এটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক সকল সম্পর্কের জন্য নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মান অনুসারে ১ তোলা= ১১.৬৬৪ গ্রাম, সে হিসেবে ৫২.৫ তোলা সমান হয় ৬১২.৩৬ গ্রাম বা ৬১৩ গ্রাম।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয় স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন।”
উল্লিখিত আয়াতে কারিমা সুরা নাহল এর ৯০ নং আয়াতের অংশ বিশেষ।
ইসলামে দরিদ্রের বা অভাবী মানুষের অধিকার বা হক সরাসরি আল্লাহর নির্দেশনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে।
এই নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে যাকাত ও সদকাহ আদায় করা, সম্পদ সঠিকভাবে বন্টন করা এবং একে অপরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব রাখা, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইসলামী প্রেক্ষাপটে, মোহর হলো একজন নারীর প্রধান অধিকারগুলির মধ্যে অন্যতম, যা তার সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক এবং স্বামী কর্তৃক তাকে প্রদত্ত একটি সম্মানী।
এটি কোনো নারীর নিজেকে স্বামীর কাছে বিক্রি করার বিষয় নয়, বরং এটি এক আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ও ফরজ বিধান যা স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর প্রতি একটি বাধ্যবাধকতা।
মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশির হক- ৩টি,
মুসলিম অনাত্মীয় প্রতিবেশির হক- ২টি এবং
অমুসলিম অনাত্মীয় প্রতিবেশির হক ১টি।
ইসলামী দাওয়াতের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো শিক্ষা ব্যবস্থা, কারণ: দাওয়াতের মূল লক্ষ্য জ্ঞান এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
মানুষকে কেবল শব্দের মাধ্যমে নয়, বরং শিক্ষার মাধ্যমে বোঝানো সহজ হয়।
শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি ইসলামের নীতি, মূল্যবোধ ও আচরণ শিখে তা জীবনে প্রয়োগ করতে পারে।
শিক্ষা মানুষকে চিন্তা করার ক্ষমতা দেয়, ফলে তারা ইসলামের মূল্যবোধ নিজেই গ্রহণ করে।
শুধুমাত্র প্রচারণা বা বক্তৃতা সীমিত সময়ের জন্য প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু শিক্ষার মাধ্যমে স্থায়ী পরিবর্তন আসে।
রাসুলুল্লাহ (সা) এর যুগে ঘোড়ার উপর যাকাত ফরজ করা হয়নি।
তবে খলিফা হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) তাঁর খিলাফতের সময়ে ঘোড়ার উপর যাকাত ধার্য করেছিলেন — কারণ তখন যুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে ঘোড়ার গুরুত্ব বেড়ে গিয়েছিল।
প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করা ‘হাক্কুল ইবাদ’ অর্থাৎ বান্দার হক বা মানবাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইসলাম ধর্মে প্রতিবেশীর অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিবেশীর প্রতি ভালোভাবে আচরণ করা একজন প্রকৃত মুসলমানের পরিচয় এবং এটা ঈমানের পূর্ণতারও লক্ষণ।
নবি (সা.) মিথ্যাকে সকল পাপের জননী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
একটি মিথ্যা থেকে অনেক পাপের জন্ম হয় এবং মিথ্যা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। তাই মিথ্যাকে পরিত্যাগ করা এবং সত্য ও ইনসাফের পথে দৃঢ় থাকা উচিত।
বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে প্রথম যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আইনটিকে আরও শক্তিশালী করে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ নামে একটি নতুন আইন প্রণীত হয়।
সাদাকাহ বা দানের ক্ষেত্রে প্রথম হকদার বা অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা হলেন নিকটাত্মীয়।
ইসলামে দান করার সময় আত্মীয়দেরকে প্রথমে সাহায্য করা উচিত, বিশেষ করে যারা অভাবী বা বিপন্ন, কারণ এতে একদিকে যেমন তাদের প্রয়োজন মেটে, তেমনই অন্যদিকে আত্মীয়তার বন্ধন আরও দৃঢ় হয় এবং এর সওয়াবও অনেক বেশি।
সুরা হুজরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের বাংলা অনুবাদ হলো: “হে মানব! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী হতে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পার। নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সে ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন।”
এ আয়াতে কারিমায় মানবজাতির বৈচিত্র্যের মধ্যেও যে একতা আছে, সেটি বর্ণনা করা হয়েছে।
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের (UDHR) খসড়া প্রণয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেন এলিনর রুজভেল্ট।
তার সভাপতিত্বে জাতিসংঘের কমিটি এই ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরি করেছিল।
মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ধারা ৪-এ দাসত্ব, ক্রীতদাস প্রথা এবং দাসব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই ধারায় বলা হয়েছে যে, কাউকে অধীনতা বা দাসত্বে আবদ্ধ করা যাবে না এবং সকল প্রকার ক্রীতদাস প্রথা ও দাসব্যবসা নিষিদ্ধ হবে।
ইসলামে বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করা একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অধিকার।
ইসলাম ব্যক্তি মালিকানা স্বীকার করে এবং এই অধিকারকে সম্মান করে, তবে তা অবশ্যই শরীয়তের সীমারেখা ও নীতিমালা মেনে হতে হবে, যা থেকে অন্যায়ভাবে সম্পদ আহরণ করা যায় না।
ইসলামে নারীদের শিক্ষা, সম্পদ, মর্যাদা এবং উত্তরাধিকারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
তারা দেনমোহর ও উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ অর্জন করতে পারে এবং এই সম্পদের ওপর তাদের একচ্ছত্র মালিকানা থাকে।
শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রেও তাদের সমান সুযোগ রয়েছে এবং তাদের মর্যাদা পুরুষদের সমান, যদিও ইসলামে কিছু ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের দায়িত্ব ভিন্ন হতে পারে।
ইসলামে বৈষম্যহীনতা মানবাধিকারের একটি মূল বৈশিষ্ট্য, যেখানে মানুষকে বংশ, গোত্র, বা আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে সমান মর্যাদা ও অধিকার দেওয়া হয়েছে।
কুরআন ও সুন্নাহ-এর শিক্ষা অনুযায়ী, সব মানুষ একই আদম-হাওয়ার সন্তান এবং আল্লাহ সবার জন্য ন্যায়বিচার ও সমানাধিকার নিশ্চিত করেছেন।
ইসলামি রাষ্ট্রে জিজিয়া প্রদানকারী অমুসলিম নাগরিকরা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা লাভ করেন।
এই করের বিনিময়ে তারা রাষ্ট্রের সুরক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, এবং আইনগত সুরক্ষা পান।
ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপে গণিতের পাঠ্যপুস্তক হিসেবে মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-খারেজমির লেখা ‘আল-জাবর’ গ্রন্থটি ব্যবহৃত হতো।
এটি আল-খারেজমিকে ‘বীজগণিতের জনক’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে এবং ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এটি একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ ছিল।
‘কিতাব আল কুলিয়াত ফি আল তিব্ব’ গ্রন্থের লেখক হলেন ইবনে রুশদ।
এটি ইউরোপ ও আরব বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যবই ছিল, যা পশ্চিমা বিশ্বে ‘কোলিজেট’ (The Colliget) নামে পরিচিত।
মানচিত্র প্রণেতা আল-ইদ্রিসি সিসিলির নর্মান রাজা দ্বিতীয় রজারের উপদেষ্টা ছিলেন এবং তাঁর জন্য তিনি বিশ্বের একটি মানচিত্র তৈরি করেছিলেন।
এই মানচিত্রটি, যা তাবুলা রোজেরিয়ানা নামে পরিচিত, মধ্যযুগীয় বিশ্বের অন্যতম উন্নত একটি মানচিত্র ছিল।
‘আল-জিজ আল-সাবি’ একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ত্রিকোণমিতি বিষয়ক গ্রন্থ।
এটি মূলত জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত সারণী বা টেবিল বোঝায়, যা মহাকাশীয় গণনায় ব্যবহৃত হয়।
আল-জাহরাভির ‘আল-তাসরিফ’ গ্রন্থটি ৩০ খণ্ডে বিভক্ত একটি চিকিৎসা বিশ্বকোষ, যা মূলত আধুনিক অস্ত্রোপচারের (সার্জারি) বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও যন্ত্রপাতির বিশদ বিবরণ প্রদান করে।
এটি ইতিহাসিক প্রথম সার্জিকাল এনসাইক্লোপিডিয়া হিসেবে পরিচিত এবং এতে জাহরাবির প্রায় ৫০ বছরের চিকিৎসা অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ ও শল্যচিকিৎসার বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতির বর্ণনা রয়েছে, যা মধ্যযুগীয় ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবুল ওয়াফা বিশেষ করে সেক্যান্ট (secant) ও কোসেক্যান্ট (cosecant) ফাংশনগুলি প্রবর্তন করে ত্রিকোণমিতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এবং সাইন টেবিল গণনার পদ্ধতি তৈরি করেন।
আধুনিক ভূগোলের জনক হিসেবে সাধারণত মুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যে আল-ইদ্রিসিকে ধরা হয়, কারণ তিনি ছিলেন এক অসাধারণ মানচিত্রাঙ্কনকার ও ভূগোলবিদ, যিনি মধ্যযুগে আবুল আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ আল-ইদ্রিসি আল-কুরতুবী নামে পরিচিত ছিলেন।
তিনি মধ্যযুগীয় বিশ্বের মানচিত্রসহ একটি প্ল্যানস্ফিয়ার এবং এর বর্ণনাসহ একটি ভৌগলিক পাঠ্য সম্পন্ন করেন।
মহাভারতের মূল রচয়িতা হিসেবে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসকে বিবেচনা করা হয়।
এই মহাকাব্যে কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যেকার কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ঘটনা এবং ধর্মীয় ও দার্শনিক নানা বিষয় বর্ণিত আছে।
হিন্দুধর্মে বিষ্ণুর দশটি অবতার (দশাবতার) বিশেষভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যারা মহাজাগতিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য যুগে যুগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন।
এই দশাবতারের মধ্যে মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, কল্কি এবং বুদ্ধের মতো অবতারগুলো অন্যতম।
বৌদ্ধধর্মে নির্বাণ লাভের জন্য ১০টি অকুশল (পাপমূলক) বা নিষেধ কর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে।
এগুলি সাধারণত দেহ, বাক ও মন – এই তিনটি মাধ্যমে করা কুশলবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ড হিসেবে ভাগ করা হয়।
খ্রিস্টধর্মে ঈশ্বর হলেন একক ও শাশ্বত সত্তা, যিনি বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর ত্রিত্ববাদী ধারণার মাধ্যমে পিতা, পুত্র, ও পবিত্র আত্মারূপে প্রকাশিত হন।
খ্রিস্টানরা ঈশ্বরের এই তিন রূপকে একই ঈশ্বরের তিনটি ভিন্ন সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করে, যা একেশ্বরবাদের একটি বিশেষ রূপ, যেখানে ঈশ্বর মানুষের কাছে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য এই তিনটি রূপ ধারণ করেন।
মুসলিম উম্মাহর বার্ষিক মহাসম্মেলন ঘটে হজ ইবাদতের মাধ্যমে।
এই ইবাদতটি প্রতি বছর জিলহজ মাসে মক্কায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমরা একত্রিত হন।
ইসলামে চুরির শাস্তি হিসেবে কুরআনে বর্ণিত আছে, “চোর নারী হোক বা পুরুষ, তার ডান হাত কেটে দাও।”
এই বিধানকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে বলা হয়েছে, তবে আয়াতে কোথাও উল্লেখ নেই যে কতটুকু বা কোন পরিস্থিতিতে এই শাস্তি প্রযোজ্য হবে-সেটি নির্ধারিত হয় হাদিসের ভিত্তিতে।
নুমান ইবনে বাশির (রা) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন: মুমিনদের দৃষ্টান্ত তাদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, দয়াদ্রতা ও সহমর্মিতার দিক দিয়ে একটি মানব দেহের মত। যখন তার একটি অঙ্গ অসুস্থ হয় তখন তার সমগ্র দেহ তাপ ও অনিদ্রা ডেকে আনে।”
সুতরাং, মুমিনগণ হলেন একটি দেহের সদৃশ।
ইসলামে পারস্পরিক আচরণের ক্ষেত্রে ৬টি কাজ নিষিদ্ধ:
- উপহাস করা,
- ভিত্তিহীন অনুমান,
- মন্দ নামে ডাকা,
- দোষারোপ করা,
- দোষান্বেষণ করা ও
- পরচর্চা করা।
তবে ‘মুখের উপর সত্য বলা’ কোন নিষিদ্ধ কর্ম নয়।
হাদিসে কুদসি হলো ওহি-গাইরে মাতলু, যার অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং শব্দ রাসুল (সা) এর পক্ষ থেকে অপ্রকাশ্য ওহির মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়।
‘ইবনু আমাতিহি’ শব্দগুচ্ছ হযরত ইসা (আ) এর শানে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া তাঁর শানে আল্লাহ তায়ালা ‘রুহুম মিনহু’ শব্দগুচ্ছও উল্লেখ করেছেন।