পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়18 minutes
মোট প্রশ্ন৩৭
সিলেবাস
Exam - 33 Review: Test-7 Topic: • Exam- 30,31,32
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৭ প্রশ্ন

.
তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুসারে, ঋণের সুদ পরিশোধ করা হলে তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে নতুন করে শুরু হবে?
  1. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  2. ঋণ নেওয়ার দিন থেকে
  3. সুদ পরিশোধের দিন থেকে
  4. ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় অতিক্রমের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২০ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন দায়ের (ঋণের) সুদ বা আংশিক অর্থ প্রদান করা হয়, তবে সেই অর্থ পরিশোধের তারিখ থেকে তামাদি মেয়াদ নতুন করে গণনা শুরু হবে।
- অর্থাৎ সুদের অর্থ পরিশোধের দিন থেকেই তামাদি মেয়াদ পুনরায় শুরু হয় — এইটাই ২০ ধারার মূল কথা। তাই সঠিক উত্তর: গ) সুদ পরিশোধের দিন থেকে।

⇒ তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, ঋণ বা লিগ্যাসির সুদ পরিশোধ করার ফলে তামাদির মেয়াদ নবায়ন হবে।
অর্থাৎ, যখন ঋণগ্রহীতা বা তার প্রতিনিধি সুদ পরিশোধ করেন, তখন তামাদির মেয়াদ পুনরায় শুরু হবে এবং নতুন মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
তবে, এটা শর্তসাপেক্ষ যে, পরিশোধের জন্য লিখিত স্বীকৃতি বা সাক্ষর থাকা উচিত, যাতে পরিশোধের প্রমাণ থাকে।
এটি ঋণগ্রহীতা বা লিগ্যাসির অধিকারী ব্যক্তির জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা পরিশোধের মাধ্যমে নতুন সময় শুরু করতে পারেন।

⇒ The Limitation Act:- Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারার বিধান অনুসারে কে ডিক্রি জারির জন্য অনুরোধপত্র (প্রিসেপ্ট) জারির আবেদন করতে পারেন?
  1. দেনাদার
  2. ডিক্রিদার
  3. স্থানীয় প্রশাসন
  4. আদালতের ক্লার্ক
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৬ অনুযায়ী "ডিক্রি জারির অনুরোধ" (Precept) বলতে বোঝানো হয় যে, ডিক্রিদার অর্থাৎ যিনি আদালতের আদেশ (ডিক্রি) পেয়ে থাকেন, তিনি তার প্রাপ্য আদায়ের জন্য ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে আবেদন করতে পারেন যাতে অন্য একটি উপযুক্ত আদালতকে প্রিসেপ্ট জারি করে দেনাদারের নির্দিষ্ট সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র ডিক্রিদার (decree-holder) আবেদন করতে পারেন। দেনাদার, প্রশাসন বা ক্লার্ক- এদের কেউই এই অনুরোধ করতে পারে না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারার বিধান ডিক্রি জারির অনুরোধ:-
১) ডিক্রিদারের আবেদন অনুযায়ী ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ন্যায়সঙ্গত মনে করলে অন্য কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে ডিক্রি জারি করার অনুরোধ করতে পারেন এবং এরূপ আদালত ডিক্রি জারি করতে এবং অনুরোধপত্রে নির্ধারিত দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন।
২) যে আদালতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সে আদালত ডিক্রি জারির ব্যাপারে সম্পত্তি ক্রোকের নির্ধারিত পদ্ধতি মোতাবেক সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন:
তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রিপ্রদানকারী আদালত ক্রোকের সময় বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত অথবা এরূপ ক্রোক নির্ধারিত হওয়ার পূর্বে যে আদালত কর্তৃক ক্রোক করা হয়েছে, ঐ আদালতের নিকট ডিক্রি হস্তান্তর করা না হলে এবং ডিক্রিদার সম্পত্তি বিক্রয়ের আবেদন না করলে অনুরোধলিপি অনুসারে কোন ক্রোক দুই মাসের অধিককাল কার্যকর থাকবে না।
--------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 46. Precepts:
(1) Upon the application of the decree-holder the Court which passed the decree may, whenever it thinks fit, issue a precept to any other Court which would be competent to execute such decree to attach any property belonging to the judgment-debtor and specified in the precept. 
(2) The Court to which a precept is sent shall proceed to attach the property in the manner prescribed in regard to the attachment of property in execution of a decree: 
Provided that no attachment under a precept shall continue for more than two months unless the period of attachment is extended by an order of the Court which passed the decree or unless before the determination of such attachment the decree has been transferred to the Court by which the attachment has been made and the decree-holder has applied for an order for the sale of such property.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২২ অনুযায়ী ডিক্রি প্রদানের কত দিন পর ডিক্রি জারির আবেদন করলে দেনাদারকে নোটিশ দিতে হয়?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২২ অনুসারে, যদি ডিক্রি প্রদানের ২ বছর পর ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়, তাহলে আদালত নোটিশ জারি করতে বাধ্য—যার মাধ্যমে দেনাদারকে (Judgment Debtor) কারণ দর্শাতে বলা হয় কেন তার বিরুদ্ধে ডিক্রি কার্যকর করা যাবে না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-২২ তে ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে নোটিশ প্রদানের বিধান রয়েছে- সাধারণত নোটিশ ব্যতীত ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়, তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। যথ‍া:
- ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়। 
- পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিগণের বিপক্ষে ডিক্রি জারি করলে। তবে নোটিশ দিতে গিয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব বা ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হলে নোটিশ না দিলেও হবে।
- এছাড়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন করলে নোটিশ দিতে হয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ৫০(১) ধারা অনুযায়ী, দেনাদারের (Judgement debtor) মৃত্যু হলে তার বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করা যাবে। এক্ষেত্রে বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন হলে নোটিশ দিতে হয়। অর্থাৎ দেনাদারের বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জারির আবেদন করতে হলে নোটিশ দিতে হয়।
--------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-22. Notice to show cause against execution in certain cases:
(1) Where an application for execution is made-
(a) more than two years after the date of the decree, or
(b) against the legal representative of a party to the decree,
or where an application is made for execution of a decree filed under the provisions of section 44A, the Court executing the decree shall issue a notice to the person against whom execution is applied for, requiring him to show cause, on a date to be fixed, why the decree should not be executed against him:
Provided that no such notice shall be necessary in consequence of more than two years having elapsed between the date of the decree and the application for execution if the application is made within two years from the date of the last order against the party against whom execution is applied for, made on any previous application for execution, or in consequence of the application being made against the legal representative of the judgment-debtor, if upon a previous application for execution against the same person the Court has ordered execution to issue against him.
.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৫১ অনুযায়ী, নিম্নের কোনটি ডিক্রি কার্যকর করার একটি বৈধ পদ্ধতি নয়?
  1. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে
  2. ফৌজদারি মামলা দায়ের করে
  3. নির্দিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে
  4. সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৫১ অনুযায়ী, আদালত ডিক্রি কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতিতে আদেশ দিতে পারে। এসব পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে:
১. নির্দিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে (Clause a)
২. সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম/বিক্রয়ের মাধ্যমে (Clause b)
৩. দেনাদারকে গ্রেপ্তার ও জেলে আটক করার মাধ্যমে (Clause c)
৪. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে (Clause d)
৫. প্রদত্ত প্রতিকারের প্রকৃতি অনুযায়ী অন্যান্য উপায়ে (Clause e)
- তবে ‘ফৌজদারি মামলা দায়ের করা’ দেওয়ানী ডিক্রি কার্যকরের কোনো বৈধ বা নির্ধারিত উপায় নয়। ফৌজদারি প্রক্রিয়া ভিন্ন আইন দ্বারা পরিচালিত হয় (যেমন দণ্ডবিধি বা ফৌজদারি কার্যবিধি), এবং তা দেওয়ানী ডিক্রির enforcement-এর জন্য প্রযোজ্য নয়।
- অতএব, ফৌজদারি মামলা দায়ের করে ডিক্রি কার্যকর করা ধারা ৫১-এর আওতায় আবশ্যক বা বৈধ পদ্ধতি নয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৫১: ডিক্রিজারি কার্যকর করার জন্যে আদালতের ক্ষমতা:
নির্ধারিত শর্ত এবং নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে আদালত ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে নিম্নবর্ণিত যে কোনো উপায়ে ডিক্রি জারির আদেশ প্রদান করতে পারেন-
ক) ডিক্রিতে আদিষ্ট কোন সম্পত্তি অর্পণের দ্বারা;
খ) কোন সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয় দ্বারা বা ক্রোকবিহীন নিলাম বিক্রয়ের দ্বারা;
গ) দেনাদারকে গ্রেপ্তার ও জেলে আটকের দ্বারা;
ঘ) রিসিভার নিয়োগ দ্বারা; বা
ঙ) প্রদত্ত প্রতিকারের প্রকৃতির প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোন পন্থায় ডিক্রি জারির আদেশ প্রদান পারে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি ডিক্রিটি অর্থ পরিশোধের জন্য হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে দেনাদারকে আটকের আদেশ পূর্বে কেন জেলে সোপর্দ করা হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য উপযুক্ত সুযোগ প্রদান করতে হবে এবং তৎপর আদালত যদি নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হন, লিখিতভাবে তা উল্লেখ করে অনুরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবেন:
ক) দেনাদার ডিক্রি জারিতে বাধা প্রদান বা তা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে-
১. আত্মগোপন করতে পারে কিংবা সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা ত্যাগ করতেপারে; বা
২. ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে এরূপ মোকদ্দমা দায়ের হওয়ার পর তার সম্পত্তির কোন অংশ তার দ্বারা অসদুপায়ে স্থানান্তরিত, বিনষ্ট বা অপসারণ করা হয়েছে, বা তার সম্পত্তি নিয়ে যে কোন অবিশ্বস্ততার কাজ করেছে; বা
খ) ডিক্রির তারিখ থেকে ডিক্রির টাকা অথবা তার সম্পূর্ণ বা আংশিক অংশ পরিশোধের সংগতি রায়সিদ্ধ দেনাদারের আছে বা ছিল, অথচ দেনাদার তা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি বা অবহেলা জ্ঞাপন করেছে বা করেছে; বা
গ) যে টাকার জন্য ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে, তজ্জন্য রায় সিদ্ধ দেনাদারের দায়িত্বও পরোক্ষ ছিল।
ব্যাখ্যা- খ) দফায় বর্ণিত দেনাদারের সাঙাতি নির্ধারণকল্পে, দেনাদারের যে সম্পত্তি বর্তমানে প্রচলিত কোন আইন বা আইনের ন্যায় প্রযোজ্য অন্য কোন রীতি অনুসারে ডিক্রি জারির দরুনক্রোক থেকে অব্যাহতি লাভের জন্য, তা হিসাবে ধরা চলবে না।

⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section -51. Powers of Court to enforce execution.
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may, on the application of the decree-holder, order execution of the decree-
(a) by delivery of any property specifically decreed;
(b) by attachment and sale or by sale without attachment of any property;
(c) by arrest and detention in prison;
(d) by appointing a receiver; or
(e) in such other manner as may be provided hereinafter in the Code or as the nature of the relief granted may require:
Provided that, where the decree is for the payment of money, execution by detention in prison shall not be ordered unless, after giving the judgment-debtor an opportunity of showing cause why he should not be committed to prison, the Court, for reasons recorded in writing, is satisfied-
(a) that the judgment-debtor, with the object or effect of obstructing or delaying the execution of the decree,-
(i) is likely to abscond or leave the local limits of the jurisdiction of the Court, or
(ii) has, after the institution of the suit in which the decree was passed, dishonestly transferred, concealed, or removed any part of his property, or committed any other act of bad faith in relation to his property; or
(b) that the judgment-debtor has, or has had since the date of the decree, the means to pay the amount of the decree or some substantial part thereof and refuses or neglects or has refused or neglected to pay the same, or
(c) that the decree is for a sum for which the judgment-debtor was bound in a fiduciary capacity to account.
Explanation: -In the calculation of the means of the judgment-debtor for the purposes of clause (b), there shall be left out of account any property which, by or under any law or custom having the force of law for the time being in force, is exempt from attachment in execution of the decree.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১ অনুযায়ী ডিক্রির অধীনে অর্থ প্রদান সাধারণত কতটি উপায়ে করা যায়?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১ অধীনে ডিক্রির অর্থপ্রদানের তিনটি প্রাথমিক উপায় নির্ধারিত আছে:
১. আদালতে অর্থ প্রদান: যে আদালত ডিক্রি কার্যকর করার দায়িত্বে আছে, সেখানে অর্থ জমা দেওয়া হয়।
২. আদালতের বাইরে ডিক্রি-হোল্ডারকে অর্থ প্রদান: ডিক্রি-হোল্ডারকে সরাসরি আদালতের বাইরে অর্থ প্রদান করা যেতে পারে।
৩. আদালতের নির্দেশক্রমে অন্য কোন পদ্ধতি: যদি ডিক্রি প্রদানকারী আদালত অন্য কোনো বিশেষ পদ্ধতি নির্দেশ দেয়, সেই অনুযায়ী অর্থ প্রদান করা হয়।
- অর্থাৎ, মোট তিনটি উপায়েই অর্থ প্রদান করা যায়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর আদেশ-২১, বিধি-১: ডিক্রির টাকা পরিশোধ- ২১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে ডিক্রির টাকা ৩ ভাবে পরিশোধ করা যায়। যথা-
ⅰ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
ii) ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে; এবং
iii) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা যায়।
⇒ ডিক্রি জারির সংজ্ঞা (Definition of Execution of Decree)- আদালত প্রদত্ত ডিক্রিকে বলবৎ বা বাস্তবায়ন করাকে ডিক্রি জারি বা executuion of decree বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৬ থেকে ৭৪, ১৩৫ক ধারা এবং ২১ নং আদেশের ১ থেকে ১০৩ বিধিসমূহে ডিক্রি জারিকরণ সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলি আলোচনা করা হয়েছে।
--------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Order-21 Rule-1: Payment under Decree:
- Modes of paying money under decree:
(1) All money payable under a decree shall be paid as follows, namely:−
(a) into the Court whose duty it is to execute the decree; or
(b) out of Court to the decree-holder; or
(c) otherwise as the Court which made the decree directs.
(2) where any payment is made under clause (a) of subrule (1), notice of such payment shall be given to the decreeholder.
.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-১২ অনুসারে, রায়ের পূর্বে কোনটি ক্রোক করা যায় না?
  1. স্থাবর সম্পত্তি
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. কৃষি উৎপাদন
  4. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-১২ অনুযায়ী, রায়ের পূর্বে (অর্থাৎ বিচার শেষ হওয়ার আগেই) কৃষক বা কৃষিজাত মালিকের মালিকানাধীন কৃষি উৎপাদন (agricultural produce) ক্রোক করা যাবে না। এই বিধানটি কৃষকদের অধিকার সুরক্ষার জন্য এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থাবর (immovable) বা অস্থাবর (movable) সম্পত্তি, বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অন্য শর্ত পূরণ করলে রায়ের পূর্বেও ক্রোকের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু কৃষি উৎপাদনকে রায়ের পূর্বে ক্রোক করা নিষিদ্ধ।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি-১২: কৃষিজ দ্রব্য রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য নয়:
এই আদেশের কোন বিধানই বাদীকে কৃষকের দখলে থাকা কোন কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য আবেদন করার ক্ষমতা প্রদান করবে বলে বা আদালতকে ক্রোক বা অনুরূপ কৃষিজ দ্রব্য ক্রোকের জন্য হাজির করার আদেশ দানের ক্ষমতা প্রদান করবে বলে গণ্য করা যাবে না।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-38 Rule-12.Agricultural produce not attachable before judgment:
Nothing in this Order shall be deemed to authorise the plaintiff to apply for the attachment of any agricultural produce in the possession of an agriculturist, or to empower the Court to order the attachment or production of such produce.
.
আদেশ ৩৩, বিধি ৬ অনুসারে, আদালত আবেদনকারীর নিঃসম্বল অবস্থা প্রমাণ ও অপ্রমাণের জন্য সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কত দিনের নোটিশ প্রদান করতে হবে?
  1. কমপক্ষে ১৫ দিন
  2. কমপক্ষে ১০ দিন
  3. কমপক্ষে ৭ দিন
  4. কমপক্ষে ৫ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৩, বিধি ৬ অনুযায়ী, যখন আদালত আবেদনকারীর নিঃসম্বল অবস্থা প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করে, তখন সে দিন সম্পর্কে বিপরীত পক্ষ এবং সরকারী উকিলকে কমপক্ষে ১০ দিনের পরিষ্কার নোটিশ দিতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো দুই পক্ষকেই যথেষ্ট সময় দেওয়া যাতে তারা সাক্ষী হাজির করার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে এবং ন্যায়সঙ্গত শুনানি সম্ভব হয়। তাই নোটিশের সময়সীমা কমপক্ষে ১০ দিন হতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৩, বিধি-৬: আবেদনকারীর নিঃসম্বল অবস্থা সম্পর্কে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখের নোটিশ:
যেক্ষেত্রে ৫ নম্বর বিধিতে বর্ণিত কোনো অজুহাতে আদালত আবেদনপত্র খারিজের কারণ না দেখেন, সেক্ষেত্রে আদালত আবেদনকারী তার নিঃসম্বল অবস্থা প্রমাণের জন্য যে রকম সাক্ষ্য হাজির করবে তা গ্রহণের জন্য এবং তা অপ্রমাণের জন্য যে সাক্ষ্য হাজির করা হয়, তা শুনানির জন্য একটি দিন ধার্য করবেন।
(যার কমপক্ষে ১০ দিনের পরিস্কার নোটিশ বিপরীত পক্ষ এবং সরকারী উকিলকে দিতে হবে)।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-33, Rule-6: Notice of day for receiving evidence of applicant's pauperism:
Where the Court sees no reason to reject the application on any of the grounds stated in rule 5, it shall fix a day (of which at least ten days' clear notice shall be given to the opposite party and the Government pleader) for receiving such evidence as the applicant may adduce in proof of his pauperism, and for hearing any evidence which may be adduced in disproof thereof.
.
তামাদি আইনের ধারা ৯ অনুসারে, তামাদির মেয়াদ গণনা কখন বন্ধ হবে না?
  1. আদালতে বাদীর আবেদনে
  2. পাওনাদারের মৃত্যুর কারণে
  3. দেনাদারের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে
  4. পরবর্তী অক্ষমতা বা অপারগতার কারণে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৯ অনুযায়ী, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি তুলে ধরে যার নাম “সময়সীমার অবিরাম চলন” (Continuous Running of Time)। এই ধারার মূল কথা হল: "Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue shall stop it."
- অর্থাৎ, একবার যদি তামাদির সময় গণনা শুরু হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তীকালে বাদীর ওপর কোনো অপারগতা (disability) বা অক্ষমতা (inability) দেখা দিলেও তামাদির সময় গণনা থামবে না। সময় আগের মতই চলতে থাকবে।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৯ অনুযায়ী, যদি তামাদির সময় গণনা একবার শুরু হয়ে যায়, তাহলে বাদীর ওপর পরবর্তী কোনো অপারগতা বা অক্ষমতা থাকলেও তা তামাদির সময়কে বন্ধ করতে পারবে না।

⇒ তামাদি আইনের ৯ ধারার বিধান হল একবার তামাদির মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়া শুরু করলে মোকদ্দমা দায়েরে পরবর্তী কোন অপারগতা (Disability) বা অক্ষমতা (Inability) দ্বারা তা বন্ধ হবে না। তবে যেক্ষেত্রে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদের উপর অর্পিত হয়েছে সেক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে দেনার টাকা আদায়ে মোকদ্দমা দায়েরের মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।
---------
⇒ The Limitation Act, 1908- Section 9:- Continuous running of time:
- Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮২ ধারা অনুসারে সরকারের নিকট রিপোর্ট প্রদানের পর কতদিনের মধ্যে ডিক্রি কার্যকর করা যাবে না?
  1. ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ২ মাস
  4. ১ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮২(২) অনুযায়ী, যদি সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো ডিক্রি প্রদত্ত হয় এবং তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পালন না হয়, তবে আদালত বিষয়টি সরকারের নিকট রিপোর্ট আকারে প্রেরণ করেন। রিপোর্ট প্রেরণের তারিখ থেকে তিন মাস অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সেই ডিক্রির কার্যকরীকরণ (execution) আদেশ জারি করা যাবে না।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ৮২ ধারার বিধান: ডিক্রি জারি:
১) সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে পূর্বোক্তরূপ কোন কার্যের দায়ে কোন ডিক্রি প্রদত্ত হলে ঐ ডিক্রির নির্দেশ কত দিনের মধ্যে পালন করতে হবে, ডিক্রিতে তা উল্লেখ করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি ডিক্রির নির্দেশ পালন করা না হয়, তবে আদালত বিষয়টি সম্পর্কে যথাযথ আদেশের জন্য সরকারের নিকট রিপোর্ট প্রেরণ করবেন।
২)সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রিটি যদি অনিষ্পন্ন থাকে, তবে উক্ত রিপোর্ট প্রদানের তারিখ হতে তিন মাস অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রিটির কার্যকরীকরণের আদেশ (execution) জারি করা যাবে না।
-----------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section 82. Execution of decree:
(1) Where the decree is against the Government or against a public officer in respect of any such act as aforesaid, a time shall be specified in the decree within which it shall be satisfied; and, if the decree is not satisfied within the time so specified, the Court shall report the case for the orders of the Government.
(2) Execution shall not be issued on any such decree unless it remains unsatisfied for the period of three months computed from the date of such report.
১০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২, বিধি ৪(১) অনুসারে, কে নাবালকের নেক্সট ফ্রেন্ড হতে পারে?
  1. সরকারি কর্মচারী
  2. যেকোনো ব্যক্তি
  3. আদালতের কর্মচারী
  4. প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মনের ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২, বিধি ৪(১) অনুসারে, প্রাপ্তবয়স্ক (adult) ও সুস্থ মনের (sound mind) ব্যক্তি নাবালকের (minor) নেকস্ট ফ্রেন্ড (next friend) বা মামলার অভিভাবক (guardian for the suit) হিসেবে কাজ করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে তার স্বার্থ যেন নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থী না হয়, এবং নেকস্ট ফ্রেন্ড হলে তিনি মামলার বিবাদী হতে পারবেন না, আর মামলার অভিভাবক হলে তিনি বাদী হতে পারবেন না।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র এমন কেউ যিনি পরিপক্ব, সুস্থ মানসিক অবস্থা সম্পন্ন এবং যার স্বার্থে কোনো সংঘাত নেই, তিনি নাবালকের পক্ষে আইনগতভাবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২, বিধি-৪: মামলাকে পরবর্তী হিসাবে কাজ করতে বা নিযুক্ত হতে পারে:
(১) কোন ব্যক্তি সুস্থ মনের অধিকার এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হলে কোন নাবালকের নেকস্ট ফ্রেন্ড হিসাবে অথবা মামলার জন্য তার অভিভাবক হিসাবে কাজ করতে পারে: 
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যক্তির স্বার্থ ঐ নাবালকের স্বার্থের প্রতিকূলে নহে এবং সে নেকস্ট ফ্রেন্ডের ক্ষেত্রে, কোন বিবাদী নহে, এবং মামলার অভিভাবকের ক্ষেত্রে কোন বাদী নহে।
(২) যেক্ষেত্রে কোন নাবালকের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবক আছে, সেক্ষেত্রে উক্ত অভিভাবক ব্যতিত অপর কোন ব্যক্তি নাবালকের পক্ষে নেকস্ট ফ্রেন্ড হিসাবে কাজ করতে বা মামলার জন্য তার অভিভাবক নিযুক্ত হতে পারবে, যদি না আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করে বিবেচনা করেন যে, নাবালকের কল্যাণের জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে কাজ করতে বা অভিভাবক নিযুক্ত হতে অনুমতি দেয়া পয়োজন।
(৩) কোন ব্যক্তিকে তার অনুমতি ব্যতিত মামলার অভিভাবক নিয়োগ করা যাব না।
(৪) যেক্ষেত্রে অন্য কোন ব্যক্তি মামলার অভিভাবক হিসাবে কাজ করার জন্য যোগ্য এবং ইচ্ছুক নাই, সেক্ষেত্রে আদালত তার কোন কর্মচারীকে অনুরূপ অভিভাবক নিযুক্ত করতে পানে এবং নির্দেশ দিতে পারেন যে, উক্ত কর্মচারীকে বা কোন এক বা একাধিক পক্ষ কর্তৃক বহন করতে হবে, অথবা নাবালকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন তহবিল আদালতে থাকলে তা হতে খরচ হবে এবং ন্যায় বিচার ও অবস্থার পয়োজনে অনুরূপ খরচার পরিশোধ বা মেনে নেয়া সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Order-XXXII, Rule-4: Who may act as next friend or be appointed guardian for the suit:
(1) Any person who is of sound mind and has attained majority may act as next friend of a minor or as his guardian for the suit:
Provided that the interest of such person is not adverse to that of the minor and that he is not, in the case of a next friend, a defendant, or, in the case of a guardian for the suit, a plaintiff.
(2) Where a minor has a guardian appointed or declared by competent authority, no person other than such guardian shall act as the next friend of the minor or be appointed his guardian for the suit unless the Court considers for reasons to be recorded, that it is for the minor's welfare that another person be permitted to act or be appointed, as the case may be.
(3) No person shall without his consent be appointed guardian for the suit.
(4) Where there is no other person fit and willing to act as guardian for the suit, the Court may appoint any of its officers to be such guardian, and may direct that the costs to be incurred by such officer in the performance of his duties as such guardian shall be borne either by the parties or by any one or more of the parties to the suit, or out of any fund in Court in which the minor is interested, and may give directions for the repayment or allowance of such costs as justice and the circumstances of the case may require.
১১.
তামাদি আইনের ২১ ধারা অনুসারে, যৌথ বা অবিভক্ত হিন্দু পরিবারের ম্যানেজারের দ্বারা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান কী হিসেবে গণ্য হবে?
  1. অবৈধ স্বীকৃতি হিসেবে
  2. ব্যক্তিগত স্বীকৃতি হিসেবে
  3. পরবর্তী উত্তরাধিকারীর বিরুদ্ধে অকার্যকর হিসেবে
  4. পুরো পরিবারের পক্ষে স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান হিসেবে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২১(৩)(b) ধারা অনুযায়ী “যখন একটি হিন্দু অবিভক্ত (Undivided) পরিবারের পক্ষে কোন দায়ভার সৃষ্টি হয়, তখন বর্তমান ম্যানেজার বা তাঁর যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা করা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান পুরো পরিবারের পক্ষে করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।”
অর্থাৎ যৌথ বা অবিভক্ত হিন্দু পরিবারের ম্যানেজারের স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান পুরো পরিবারের পক্ষে বৈধ ও কার্যকর — এটি তামাদি আইনের ২১ ধারার মূল উদ্দেশ্য। তাই সঠিক উত্তর: ঘ) পুরো পরিবারের পক্ষে স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান হিসেবে।

⇒ তামাদি আইনের ২১ ধারার বিধান: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি:
(১) “তাঁহার পক্ষ থেকে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্ট” শব্দবন্ধটি, ধারাঃ ১৯ ও ২০-এর ক্ষেত্রে, একজন অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে, তাঁর আইনগত অভিভাবক, কমিটি বা ব্যবস্থাপক, অথবা এমন একজন এজেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করবে যিনি এই অভিভাবক, কমিটি বা ব্যবস্থাপকের দ্বারা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান স্বাক্ষরের জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
(২) উল্লিখিত ধারাগুলোর অধীনে একাধিক যৌথ চুক্তিকারক, অংশীদার, নির্বাহী বা বন্ধকী কর্তাকে শুধুমাত্র অন্য একজন বা তাঁদের এজেন্টের দ্বারা স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদানের কারণে দায়বদ্ধ করবে না।
(৩) উল্লিখিত ধারাগুলোর উদ্দেশ্যে-
(a) একজন বিধবা বা অন্য সীমিত মালিকের দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি স্বীকৃতি, অথবা কোনো দায়ের জন্য অর্থ প্রদান, অথবা যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা, যিনি হিন্দু আইন দ্বারা পরিচালিত, তা সংশ্লিষ্ট পুনঃসূত্রের বিরুদ্ধে একটি বৈধ স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান হিসেবে গণ্য হবে;
(b) যখন একটি হিন্দু অখণ্ড পরিবারের পক্ষে কোনো দায়ভার সৃষ্টি করা হয়, তখন বর্তমান ব্যবস্থাপক বা তাঁর যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা করা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান সম্পূর্ণ পরিবারের পক্ষে করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
-------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-21. Agent of persons under disability:
(1) The expression “agent duly authorised in his behalf,” in sections 19 and 20, shall, in the case of a person under disability, include his lawful guardian, committee or manager, or an agent duly authorised by such guardian, committee or manager to sign the acknowledgement or make the payment.
(2) Nothing in the said sections renders one of several joint contractors, partners, executors or mortgagees chargeable by reason only of a written acknowledgment signed or of a payment made by, or by the agent of, any other or others of them.
(3) For the purposes of the said sections-
(a) an acknowledgment signed, or a payment made, in respect of any liability, by, or by the duly authorised agent of, any widow or other limited owner of property who is governed by the Hindu law, shall be a valid acknowledgment or payment, as the case may be, as against a reversioner succeeding to such liability; and
(b) where a liability has been incurred by, or on behalf of, a Hindu undivided family as such, an acknowledgment or payment made by, or by the duly authorised agent of, the manager of the family for the time being shall be deemed to have been made on behalf of the whole family.
১২.
কমিশনার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন ও তার গৃহীত জবানবন্দী মামলার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে—এ বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় বলা হয়েছে?
  1. আদেশ-১৮, বিধি-৫
  2. আদেশ-২০, বিধি-৪
  3. আদেশ-২৫, বিধি-৭
  4. আদেশ-২৬, বিধি-১০
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬, বিধি-১০ এ বলা হয়েছে: কমিশনার যখন কোনো বিষয় তদন্ত করেন (যেমন: সাক্ষ্য গ্রহণ বা স্থানীয় পরিদর্শন), তখন তিনি তার গৃহীত জবানবন্দী লিখিত আকারে আদালতে উপস্থাপন করেন এবং একটি স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন দেন। এই প্রতিবেদন ও জবানবন্দী আদালতে প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় এবং মামলার নথির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-১০: কমিশনারের কার্যপদ্ধতি:
(১) কমিশনার যেরূপ পয়োজন মনে করেন, সেরূপ স্থানীয় পরিদর্শনের পর এব তার গৃহীত প্রমাণাদিকে লিখিত রূপ দেয়ার পর উক্ত প্রমাণাদির সাথে তার স্বাক্ষরিত একটি লিখিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।
(২) প্রতিবেদন এবং জবানবন্দী মামলায় প্রমাণ হিসাবে থাকবে: কমিশনারের প্রতিবেদন এবং তার গৃহীত প্রমাণাদি (কিন্তু প্রতিবেদন ব্যতিত প্রমাণ নহে) মামলার প্রমাণ এবং নথির অংশরূপে গণ্য হবে, কিন্তু আদালত বা আদলতের অনুমতি ক্রমে মামলার কোন পক্ষ কমিশনারকে প্রকাশ্য আদালতে ব্যক্তিগতভাবে তাহার নিকট অর্পণ করা হয়েছিল বা তার প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে, এমন সব বিষয় সম্পর্কে বা তার প্রতিবেদন সম্পর্কে অথবা যে পদ্ধতিতে তিনি তদন্ত করেছেন সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।
(৩) যে ক্ষেত্রে আদলত কমিশনারের কার্যক্রম সম্পর্কে কোন কারণে অসন্তষ্ট হন, সেক্ষেত্রে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরূপ অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ Order 26, Rule 10 – Code of Civil Procedure, 1908.
Procedure of Commissioner:
(1) The Commissioner, after such local inspection as he deems necessary and after reducing to writing the evidence taken by him, shall return such evidence, together with his report in writing signed by him to the Court.
Report and depositions to be evidence in suit:
(2) The report of the Commissioner and the evidence taken by him (but not the evidence without the report) shall be evidence in the suit and shall form part of the record; but the Court or, with the permission of the Court, any of the parties to the suit may examine the Commissioner personally in open Court touching any of the matters referred to him or mentioned in his report, or as to his report, or as to the manner in which he has made the investigation.
Commissioner may be examined in person:
(3) Where the Court is for any reason dissatisfied with the proceedings of the Commissioner, it may direct such further inquiry to be made as it think fit.
১৩.
তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী নিচের কোনটি বৈধ অপারগতা (Legal Disability)?
  1. অলসতা
  2. দারিদ্র্যতা
  3. নাবালকতা
  4. অসাবধানতা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) নাবালকতা। 
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে "বৈধ অপারগতা" (Legal Disability) হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বৈধ অপারগতা থাকলে নির্ধারিত তামাদি সময়সীমা (limitation period) স্থগিত বা সম্প্রসারিত হতে পারে।
- যে অপারগতাগুলো বৈধ বলে বিবেচিত:
১) নাবালকতা (Minority)
২) উন্মাদতা (Insanity)
৩) জড়বুদ্ধিতা বা মানসিক অক্ষমতা (Idiocy or mental infirmity)
এই অবস্থা থাকলে ব্যক্তি যদি সময়মতো মামলা না করতেও পারেন, আইন তাকে সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও অতিরিক্ত সময় দেয়।

⇒ নাবালকতা একটি বৈধ অপারগতা, কারণ এটি একটি আইনগতভাবে স্বীকৃত শারীরিক বা মানসিক অবস্থা যা ব্যক্তিকে সময়মতো মামলা করতে বাধা দিতে পারে।
তবে অলসতা, দারিদ্র্যতা বা অসাবধানতা – এগুলো আইনগতভাবে অপারগতা হিসেবে স্বীকৃত নয়, এবং এগুলোর কারণে তামাদির সময় গণনায় অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় না।
১৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-৫১ অনুযায়ী, হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instrument) ক্রোক (attachment) কীভাবে করা হবে?
  1. আদালতে জমা না দিয়ে
  2. প্রকৃত দখলের মাধ্যমে
  3. লিখিত নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে
  4. শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তার হেফাজতে রেখে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) প্রকৃত দখলের মাধ্যমে।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-৫১ অনুসারে, যেখানে সম্পত্তি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল (negotiable instrument), যা আদালতে জমা দেওয়া হয়নি বা কোনো সরকারি কর্মকর্তার হেফাজতে নেই, সেখানে ওই দলিল ক্রোক বা আটকানোর কার্যক্রম প্রকৃত দখলের (actual seizure) মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ দলিলটি সরাসরি দখলে নিয়ে আদালতে নিয়ে আসতে হবে এবং পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত আদালতের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে।
অতএব, দলিল জমা না দেওয়া বা লিখিত নোটিশ দিয়ে ক্রোক করা হবে না, বরং সরাসরি দলিলটি জব্দ করতে হবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ - আদেশ-২১, বিধি-৫১: হস্তান্তরযোগ্য দলিল (Negotiable Instruments) ক্রোক (Attachment):
যেখানে সম্পত্তি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল (negotiable instrument), যা আদালতে জমা দেওয়া হয়নি বা কোনো সরকারি কর্মকর্তার হেফাজতে নেই, সেখানে উক্ত দলিল ক্রোকের (attachment) কার্যক্রম প্রকৃত দখলের (actual seizure) মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে, এবং দলিলটি আদালতে নিয়ে আসা হবে এবং আদালতের পরবর্তী আদেশের অধীন রাখা হবে।

⇒The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-51. Attachment of negotiable instruments:
-Where the property is a negotiable instrument not deposited in a Court, nor in the custody of a public officer, the attachment shall be made by actual seizure, and the instrument shall be brought into Court and held subject to further orders of the Court.

১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫০(১) অনুযায়ী ডিক্রি-দেনাদারের মৃত্যু হলে ডিক্রিদার কার বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করতে পারেন?
  1. সরকার
  2. মৃত ব্যক্তির ঋণদাতা
  3. মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি
  4. মৃত ব্যক্তির ব্যবসায়িক অংশীদার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৫০(১) স্পষ্টভাবে বলছে যে, "যদি ডিক্রি-দেনাদার (judgment-debtor) সম্পূর্ণ ডিক্রি পরিশোধের পূর্বে মারা যান, তবে ডিক্রিদার (decree-holder) সেই আদালতে আবেদন করতে পারেন যা ডিক্রি জারি করেছিল, এবং এই ডিক্রিটি মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধির (legal representative) বিরুদ্ধে কার্যকর করার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।"
- "আইনগত প্রতিনিধি" বলতে বোঝায় সেই ব্যক্তি যিনি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি, দায় বা অধিকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন এবং তাঁকে আইনত প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫০: আইনগত প্রতিনিধি বা উত্তরাধিকারী:
(১) যদি ডিক্রি-দেনাদার সম্পূর্ণ ডিক্রি পরিশোধের পূর্বে মারা যান, তবে ডিক্রিদার আদালতে আবেদন করতে পারেন যা ডিক্রি জারি করেছিল, মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর (legal representative) বিরুদ্ধে সেই ডিক্রি কার্যকর করার জন্য।
(২) যখন ডিক্রি মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর বিরুদ্ধে কার্যকর করা হয়, তখন তিনি শুধুমাত্র সেই সম্পত্তির পরিমাণে দায়বদ্ধ থাকবেন যা মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে তার হাতে এসেছে এবং যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হয়নি; এবং, এই দায় নির্ধারণের জন্য, ডিক্রি কার্যকরকারী আদালত, নিজ উদ্যোগে বা ডিক্রি ধারকের আবেদনের ভিত্তিতে, ওই উত্তরাধিকারীকে এমন হিসাবপত্র পেশ করার জন্য বাধ্য করতে পারে যা আদালত উপযুক্ত মনে করে।

⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section- 50.Legal representative:
(1) Where a judgment-debtor dies before the decree has been fully satisfied, the holder of the decree may apply to the Court which passed it to execute the same against the legal representative of the deceased.
(2) Where the decree is executed against such legal representative, he shall be liable only to the extent of the property of the deceased which has come to his hands and has not been duly disposed of; and, for the purpose of ascertaining such liability, the Court executing the decree may, of its own motion or on the application of the decree-holder, compel such legal representative to produce such accounts as it thinks fit.
১৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-২২ কোন বিষয়ে বিধান প্রদান করে?
  1. ডিক্রি কার্যকরকরণ
  2. গ্রেফতার ও কারাবাস
  3. সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ
  4. পক্ষের মৃত্যু, বিবাহ এবং দেউলিয়াত্ব
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-২২ (Order XXII) “Death, Marriage and Insolvency of Parties” বিষয়ক বিধানসমূহ নির্ধারণ করে।
অর্থাৎ মৃত্যু: মামলার চলাকালীন বাদী বা বিবাদী মারা গেলে, যদি মামলা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার (right to sue) থাকে, তবে তার আইনগত প্রতিনিধি মামলায় যুক্ত হয়ে মামলা চালাতে পারেন।
বিবাহ: কোনো নারী পক্ষ বিবাহিত হলে মামলার অবস্থা বদলায় না; মামলা চলতে থাকে।
দেউলিয়াত্ব: কোনো পক্ষ দেউলিয়া হলে, তার পক্ষে receiver বা assignee মামলা চালাতে পারে।
- এই আদেশ মামলার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে, যাতে পক্ষের ব্যক্তিগত পরিবর্তনের কারণে মামলা বাতিল না হয়।
- তাই, আদেশ-২২ মূলত মৃত্যু, বিবাহ ও দেউলিয়াত্ব জনিত পরিস্থিতিতে মামলা কিভাবে পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করে।

⇒দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-২২ (Order XXII) এ দেওয়ানি মামলার চলাকালীন সময় কোনো পক্ষ (plaintiff বা defendant) যদি মৃত্যুবরণ করেন, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন (বিশেষত মহিলা পক্ষের ক্ষেত্রে), কিংবা দেউলিয়া (insolvent) হয়ে পড়েন, সে ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, 1908)-এর আদেশ-২২ (Order XXII) এ "Death, Marriage and Insolvency of Parties" সংক্রান্ত বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত আছে।
১৭.
যদি কোনো চুক্তি অবিরাম ভঙ্গ করা হয়, তবে তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে শুরু হবে?
  1. চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে
  2. প্রথম চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
  3. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  4. সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, যদি কোনো চুক্তি অবিরাম বা বারংবার ভঙ্গ করা হয়, তবে: প্রতিবার চুক্তি ভঙ্গের মাধ্যমে নতুন করে cause of action (আইনগত অভিযোগের ভিত্তি) সৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রতিবারই নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
- অর্থাৎ বারংবার চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে, সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের তারিখ থেকেই তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়। তাই সঠিক উত্তর: ঘ) সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে।

⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা:
-যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
- এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-23.Continuing breaches and wrongs:
-In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
১৮.
"The Court may, in its discretion, refuse execution at the same time against the person and property of the judgment-debtor"- এটি দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধির অংশ?
  1. আদেশ-২১, বিধি-১৯
  2. আদেশ-২১, বিধি-২০
  3. আদেশ-২১, বিধি-২১
  4. আদেশ-২১, বিধি-২২
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) আদেশ-২১, বিধি-২১।
⇒The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order 21, Rule 21 এর মূল ভাষ্য: “The Court may, in its discretion, refuse execution at the same time against the person and property of the judgment-debtor.”
- এই বিধানে আদালতের বিবেচনার ক্ষমতা (discretionary power) সম্পর্কে বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে আদালত একই সঙ্গে দায়িকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (যেমন গ্রেফতার) এবং সম্পত্তির বিরুদ্ধে (যেমন ক্রোক বা বিক্রয়) ডিক্রি কার্যকর না করতেও পারে।
- এটি দায়িকের বিরুদ্ধে একযোগে (simultaneous) কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল করে তোলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২১ অনুসারে, আদালত তার নিজস্ব বিবেচনায় (in its discretion) সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, একই সময়ে দায়িকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (গ্রেফতার ও কারাবাস) এবং তার সম্পত্তির বিরুদ্ধে একযোগে (simultaneous) ডিক্রি কার্যকর না করাও যেতে পারে।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-21. Simultaneous execution:
- The Court may, in its discretion, refuse execution at the same time against the person and property of the judgment-debtor.
১৯.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৫ কী বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. দণ্ডবিধি
  2. বিলম্ব মওকুফ
  3. সম্পত্তির মালিকানা
  4. আদালতের এখতিয়ার
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) বিলম্ব মওকুফ।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act, 1908) হলো একটি প্রক্রিয়াগত আইন, যা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলা, আপিল, বা দরখাস্ত দায়ের করার নিয়ম নির্ধারণ করে।
⇒ তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী যদি নির্ধারিত সময়সীমার পর একটি আপিল, রিভিউ, রিভিশন, বা অন্য কোনো আবেদন দায়ের করা হয়, তবে সেই বিলম্বের জন্য আবেদনকারী যদি পর্যাপ্ত কারণ (Sufficient Cause) দেখাতে পারে এবং আদালত যদি তাতে সন্তুষ্ট হয়, তবে আদালত বিলম্ব মওকুফ করে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য করতে পারে।
- ধারা ৫ এই আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা “বিলম্ব মওকুফ” বা Condonation of Delay এর বিধান প্রদান করে।

 ধারা ৫ যে ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
১) আপিল (Appeal)।
২) আপিলের অনুমতির দরখাস্ত (Leave to appeal)।
৩) রায় পুনর্বিবেচনার দরখাস্ত (Revision)।
৪) রায় পুনঃনিরীক্ষণের দরখাস্ত (Review)।
৫) অন্য কোনো দরখাস্ত (Any other application)।

যেসব ক্ষেত্রে ধারা ৫ প্রযোজ্য নয়:
- মূল মোকদ্দমার ক্ষেত্রে (যেমন: স্বত্ব ঘোষণা, নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয় মামলা)।
- কোনো বিশেষ আইনের অধীন মামলা, যেখানে নিজস্ব সময়সীমা নির্ধারিত আছে।
২০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৪ অনুযায়ী সর্বোচ্চ কতদিন দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৪ অনুসারে, যদি বিবাদী জামানত দিতে ব্যর্থ হয় বা নতুন জামানত দিতে ব্যর্থ হয়, আদালত তাকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারে যতদিন পর্যন্ত মামলার রায় না আসে অথবা মামলা সম্পর্কিত ডিক্রি না মিটানো হয়। তবে এই আটকের সর্বোচ্চ সময় ৬ মাস।
তাছাড়া, যদি মামলার বিষয়বস্তু বা দাবির মূল্য পঞ্চাশ টাকার নিচে হয়, তখন আটকের সর্বোচ্চ সময় ৬ সপ্তাহ। এছাড়া, যদি বিবাদী পরবর্তীতে জামানত দেয় বা আদেশ মেনে চলে, তাহলে তাকে জেলে আটকে রাখা যাবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি ৪: যেক্ষেত্রে বিবাদী জামানত দিতে বা নতুন জামানত দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে কার্যপদ্ধতি:
যেক্ষেত্রে বিবাদী ২ বা ৩ বিধির অধীনে কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমায় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বা যেক্ষেত্রে বিবাদির বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে,সেক্ষেত্রে ডিক্রি না মিটানো অবধি তাকে দেওয়ানি জেলে সোপর্দ করতে পারে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীনে কোন ব্যক্তিকে ছয় মাসের অধিক মেয়াদের জন্য জেলে আটক রাখা চলবে না, অথবা মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য পঞ্চাশ টাকার অনূর্ধ্ব হলে সেক্ষেত্রে ছয় সপ্তাহের অধিক মেয়াদের জন্য:
তবে আরো শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি অনুরূপ আদেশ পালন করার পর তাকে এই বিধির অধীনে জেলে আটক রাখা যাবে না।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order 38 Rule 4: Procedure where defendant fails to furnish security or find fresh security:
Where the defendant fails to comply with any order under rule 2 or rule 3, the Court may commit him to the civil prison until the decision of the suit or, where a decree is passed against the defendant, until the decree has been satisfied:
Provided that no person shall be detained in prison under this rule in any case for a longer period than six months nor for period a longer than six weeks when the amount or value of the subject-matter of the suit does not exceed fifty Taka:
Provided also that no person shall be detained in prison under this rule after he has complied with such order.
২১.
তামাদি আইনের কোন ধারা অনুযায়ী আপিল বা রিভিউ আবেদন করার সময়সীমা গণনার ক্ষেত্রে রায়ের কপি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দেওয়া হবে?
  1. ১২(১) ধারা
  2. ১২(২) ধারা
  3. ১২(৩) ধারা
  4. ১২(৪) ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী: “কোনো ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের ক্ষেত্রে, সেই সময় বাদ যাবে যা উক্ত ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের অনুলিপি (certified copy) সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হয়।”
- অর্থাৎ, যেহেতু আপীল করার জন্য প্রয়োজনীয় নকল সংগ্রহ করা না গেলে আপীল দায়ের সম্ভব নয়, তাই নকল সংগ্রহের সময় তামাদির মেয়াদ গণনার বাইরে রাখা হয়। ফলে তামাদির মেয়াদ শুরু হয় তখন যখন রায়ের নকল পাওয়া যায়, কারণ সেটিই আপীল দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত।
⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা (২)উপধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, আপিল বা পুনঃবিবেচনার ক্ষেত্রে রায় ঘোষণার দিন এবং আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় ডিক্রি, আদেশ বা দণ্ডাদেশের নকল সংগ্রহে লেগে যাওয়া সময় বাদ দেওয়া হবে।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা আইনগত কার্যধারায় সময় বাদ দেওয়া:
(১) কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত সীমাবদ্ধতার সময় গণনার ক্ষেত্রে যেদিন থেকে সময় গণনা শুরু হওয়ার কথা, সেই দিনটি বাদ দেওয়া হবে।
(২) কোনো আপিল, আপিল করার অনুমতির জন্য আবেদন, কিংবা রায়ের পুনর্বিবেচনার (review) আবেদনের জন্য নির্ধারিত সময় গণনার ক্ষেত্রে রায় ঘোষণার দিন এবং ডিক্রি, দণ্ডাদেশ বা আদেশ (যার বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ চাওয়া হয়েছে) এর কপি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ যাবে।
(৩) যদি কোনো ডিক্রি আপিলযোগ্য হয় বা রিভিউয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ করা হয়, তবে যে রায়ের উপর ভিত্তি করে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে, সেই রায়ের কপি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও বাদ যাবে।
(৪) কোনো পুরস্কার (award) বাতিল করার জন্য আবেদনের সময় গণনার ক্ষেত্রে, পুরস্কারের কপি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দেওয়া হবে।

⇒ The Limitation Act: Section 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
২২.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-২১, বিধি-৩৭ অনুযায়ী, অর্থ আদায়ের ডিক্রি কার্যকর করতে গ্রেফতারের জন্য আবেদন করা হলে আদালত প্রথমে কী করে?
  1. ডিক্রি বাতিল করে
  2. জরিমানা আরোপ করে
  3. রায়সিদ্ধ দেনাদারকে নোটিশ পাঠায়
  4. সরাসরি গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) রায়সিদ্ধ দেনাদারকে নোটিশ পাঠায়।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-২১, বিধি-৩৭ অনুযায়ী: যখন অর্থ আদায়ের ডিক্রি (decree for payment of money) জারির জন্য ডিক্রিদার (decree-holder) আদালতে আবেদন করেন যে, রায়সিদ্ধ দেনাদার (judgment-debtor)-কে গ্রেপ্তার করে দেওয়ানি জেলে (civil prison) আটক রাখা হোক, তখন আদালত সাধারণত সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন না।
বরং, আদালত প্রথমে একটি নোটিশ জারি করেন, যাতে রায়সিদ্ধ দেনাদার নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত হয়ে “কারণ দেখাতে পারেন যে কেন তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হবে না”।
- এটি একটি ন্যায়বিচারমূলক সুযোগ (principle of natural justice), যাতে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে যদি আদালত সন্তুষ্ট হন যে judgment-debtor পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে (যেমন: শপথনামা বা অন্য প্রমাণ উপস্থাপিত হয়), তাহলে সরাসরি পরোয়ানা জারি করাও সম্ভব, কিন্তু সাধারণ নিয়ম হিসেবে আগে নোটিশ পাঠানোই বাধ্যতামূলক।
 - অতএব, প্রশ্ন অনুযায়ী:“আদালত প্রথমে কী করে?” এর সঠিক ও আইনসম্মত উত্তর হলো “রায়সিদ্ধ দেনাদারকে নোটিশ পাঠায়”

Arrest and Detention in the Civil Prison:
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-37. Discretionary power to permit judgment-debtor to show cause against detention in prison.
(1) Notwithstanding anything in these rules, where an application is for the execution of a decree for the payment of money by arrest and detention in the civil prison of a judgment-debtor who is liable to be arrested in pursuance of the application, the Court shall, instead of issuing a warrant for his arrest, issue a notice calling upon him to appear before the Court on a day to be specified in the notice and show cause why he should not be committed to the civil prison:
Provided that such notice shall not be necessary if the Court is satisfied, by affidavit, or otherwise, that, with the object or effect of delaying the execution of the decree, the judgment-debtor is likely to abscond or leave the local limits of the jurisdiction of the Court.
(2) Where appearance is not made in obedience to the notice, the Court shall, if the decree-holder so requires, issue a warrant for the arrest of the judgment-debtor.
২৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৩৩ বিধি-৫ অনুযায়ী নিচের কোন কারণে নিঃসম্বল হিসাবে মামলা করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যাবে না?
  1. আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে ধনী হলে
  2. আবেদন সঠিকভাবে দাখিল না হলে
  3. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে পূর্বে মামলা থাকলে
  4. আবেদনকারী সম্পত্তি প্রতারণামূলকভাবে হস্তান্তর করলে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৩৩, বিধি ৫ (Order XXXIII, Rule 5) অনুযায়ী, নিঃসম্বল ব্যক্তি (pauper) হিসাবে মামলা করার অনুমতি চাওয়া হলে আদালত কিছু নির্দিষ্ট কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এই কারণগুলো হলো:
১. আবেদনটি বিধি ২ ও ৩ অনুযায়ী গঠিত ও দাখিল না হলে।
২. আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে নিঃসম্বল না হলে।
৩. আবেদনকারী আবেদন দাখিলের পূর্ববর্তী ২ মাসের মধ্যে প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে।
৪. অভিযোগে কোনো কার্যকারণ (cause of action) না থাকলে।
৫. মামলার বিষয়ে আবেদনকারী এমন কোনো চুক্তিতে উপনীত হলে যার ফলে অন্য কেউ স্বার্থবান হয়।
 কিন্তু, “আবেদনকারীর বিরুদ্ধে পূর্বে মামলা থাকলে” — এটি আদেশ ৩৩ বিধি ৫ অনুযায়ী আবেদন প্রত্যাখ্যান করার বৈধ কারণ নয়, তাই এটি সঠিক উত্তর।


⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ ৩৩, বিধি ৫ অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণগুলোর যেকোন একটি বিদ্যমান থাকলে আদালত নিঃসম্বল ব্যক্তি হিসাবে মামলা করার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করতে পারে:
১. আবেদনটি বিধি অনুযায়ী গঠিত না হলে বা সঠিকভাবে দাখিল না হলে।
২. আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে নিঃসম্বল ব্যক্তি না হলে।
৩. আবেদনকারী প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করে থাকলে।
৪. আবেদনকারীর অভিযোগ কোনো নালিশের কারণ না দর্শালে।
৫. আবেদনকারী মামলার বিষয়বস্তুর উপর এমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছে থাকলে, যার ফলে অন্য কোনো ব্যক্তি সেই বিষয়ে স্বার্থবান হয়।
- এই সবগুলো ক্ষেত্রই আদালতের পক্ষ থেকে আবেদন প্রত্যাখ্যান করার যথাযথ ভিত্তি।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-33 Rule-5.Rejection of application:
The Court shall reject an application for permission to sue as a pauper-
(a) where it is not framed and presented in the manner prescribed by rules 2 and 3, or
(b) where the applicant is not a pauper, or
(c) where he has, within two months next before the presentation of the application, disposed of any property fraudulently or in order to be able to apply for permission to sue as a pauper, or
(d) where his allegations do not show a cause of action, or
(e) where he has entered into any agreement with reference to the subject-matter of the proposed suit under which any other person has obtained an interest in such subject-matter.
২৪.
সরকারি মামলায় 'বাংলাদেশ' নামে মামলা দায়ের করার বিধান দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় আছে?
  1. ধারা ৮১
  2. ধারা ৮০
  3. ধারা ৭৯
  4. ধারা ৭৮
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৭৯ অনুযায়ী, যখন কোনো মামলা সরকারের পক্ষে বা সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, তখন মামলায় বাদী বা বিবাদী হিসাবে 'বাংলাদেশ' নাম ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য 'বাংলাদেশ' নামেই মামলা রুজু হয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৯ ধারা- সরকার কর্তৃক বা তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা: সরকার কর্তৃক বা সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মোকদ্দমায় বাদি বা বিবাদি হিসাবে যে কর্তৃত্বের নাম উল্লেখ করতে হবে, তা হচ্ছে 'বাংলাদেশ'।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 79- Suits by or against the Government:
- In a suit by or against the Government the authority to 79. In a suit by or against the Government the authority to be named as plaintiff or defendant, as the case may be, shall be Bangladesh.

২৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-৯৭ অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির দখলে বাধা বা প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে কী করা যেতে পারে?
  1. পুলিশে অভিযোগ করা
  2. আদালতে আবেদন করা
  3. স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা
  4. কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ৯৭ অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে স্থাবর সম্পত্তির দখল পেতে গিয়ে বাধা বা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, তখন তার করণীয় হচ্ছে, আদালতে একটি আবেদন দাখিল করা, যাতে তিনি ঐ বাধা বা প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে অভিযোগ করতে পারেন।
- অতএব, এক্ষেত্রে পুলিশে অভিযোগ বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে যাওয়া, কিংবা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া- এগুলো যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতি নয়। আইন অনুসারে আদালতেই আবেদন করতে হয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ৯৭ – স্থাবর সম্পত্তির দখলে বাধা বা প্রতিবন্ধকতা:
(১) যিনি স্থাবর সম্পত্তি দখলের জন্য একটি ডিক্রির অধিকারী, অথবা যিনি কোনো ডিক্রি কার্যকরির মাধ্যমে বিক্রিত ঐ সম্পত্তি ক্রয় করেছেন, তিনি যদি দখল পাওয়ার সময় কোনো ব্যক্তির দ্বারা বাধা বা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, তাহলে তিনি উক্ত বাধা বা প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে অভিযোগ করে আদালতে একটি আবেদন করতে পারবেন।
(২) আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করবেন এবং যার বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে, তাকে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের জবাব দিতে সমন প্রদান করবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 21, Rule 97 – Resistance or Obstruction to Possession of Immovable Property:
(1) Where the holder of a decree for the possession of immovable property, or the purchaser of such property sold in execution of a decree, is resisted or obstructed by any person in obtaining possession of the property, he may make an application to the Court complaining of such resistance or obstruction.
(2) The Court shall fix a day for investigating the matter and shall summon the party against whom the application is made to appear and answer the same.

২৬.
তামাদি আইনের ২৪ ধারা অনুসারে, ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে শুরু হবে?
  1. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  2. ক্ষতি প্রতিরোধের চেষ্টা শুরুর দিন থেকে
  3. ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার দিন থেকে
  4. বাস্তবিক ক্ষতি সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী: যখন এমন কোনো কার্য বা অবহেলা ঘটে যার কারণে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবিক ক্ষতি তখনও ঘটে না, তখন তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেদিন থেকে যেদিন বাস্তবিক ক্ষতি ঘটে।
→ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী, তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে তখনই, যখন ক্ষতি বাস্তবে ঘটে। সঠিক উত্তর: ঘ) বাস্তবিক ক্ষতি সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে।

→ তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান মতে, যে কাজের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত নাহলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, সে কাজের দরুন ক্ষতিপূরণ মামলার জন্য যখন ক্ষতি সাধিত হয় তখন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
⇒ তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান: যে কার্যের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হইলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, তদ্রূপ কার্যের দরুন ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয়, তখন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
উদাহরণ: 'ক' একটি জমি
র উপরিভাগের মালিক। 'খ' ঐ জমির ভূগর্ভের মালিক। উপরিভাগের তাৎক্ষণিক স্পষ্ট কোন ক্ষতি না করিয়া ভূ-গর্ভ হইতে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। কিন্তু অবশেষে জমিটির উপরিভাগ ধসে পড়ে। এইক্ষেত্রে 'ক' কর্তৃক 'খ' এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের তামাদির মেয়াদ ধসিয়া পড়ার সময় হইতে শুরু হইবে।

⇒ The Limitation Act:- Section- 24. Suit for compensation for act not actionable without special damage:
-In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results therefrom, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results. 
Illustration: A owns the surface of a field. B owns the subsoil. B digs coal thereout without causing any immediate apparent injury to the surface, but at last the surface subsides. The period of limitation in the case of a suit by A against B runs from the time of the subsidence.
২৭.
তামাদি আইনের ধারা ২৯(১) অনুযায়ী কোন আইনের কোন ধারা অক্ষুণ্ন থাকে?
  1. দণ্ডবিধির ২৫ ধারা
  2. চুক্তি আইনের ২৫ ধারা
  3. সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারা
  4. সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ২৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ২৯: সংরক্ষন (Savings)
(১) এই আইনের কোনো কিছুই ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ধারা ২৫-কে প্রভাবিত করবে না।
(২) যদি কোনো বিশেষ আইন কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির একটি ভিন্ন মেয়াদ নির্ধারণ করে, যা প্রথম তফসিলে উল্লিখিত মেয়াদ থেকে আলাদা, তাহলে ধারা ৩-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, যেন সেই মেয়াদ প্রথম তফসিলে উল্লিখিত হয়েছে। এবং কোনো বিশেষ আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ নির্ধারণের জন্য:
(ক) ধারা ৪, ধারা ৯ থেকে ১৮ এবং ধারা ২২-এর বিধানগুলো কেবলমাত্র সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যতটুকু সেই বিশেষ আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে বাতিল করা হয়নি; এবং
(খ) এই আইনের অন্যান্য বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোনো কিছুই ডিভোর্স আইন (Divorce Act) এর অধীনে দায়েরকৃত মোকদ্দমাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) ধারা ২৬ এবং ২৭, এবং ধারা ২-এ উল্লিখিত "সুবিধা" (easement)-এর সংজ্ঞা, ১৮৮২ সালের সুবিধা আইন (Easements Act, 1882) যে অঞ্চলে প্রযোজ্য, সেই অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908 Section-29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872.
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law-
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply.
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act.
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
২৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন আদেশে নিঃস্ব ব্যক্তির মামলা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-৩২
  2. আদেশ-৩৩
  3. আদেশ-৩৪
  4. আদেশ-৩৫
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, 1908)-এর আদেশ ৩৩ (Order XXXIII) নিঃস্ব ব্যক্তির (pauper) পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার সংক্রান্ত বিধান প্রদান করে।
আদেশ ৩৩, বিধি ১ অনুযায়ী “কোন ব্যক্তি যদি মামলার জন্য নির্ধারিত কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হন, অথবা কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত না থাকলে তার পরিধেয় বস্ত্র ও মামলার বিষয়বস্তু ব্যতীত অন্য কোন সম্পত্তি যদি ৫০০০ টাকার বেশি না থাকে, তবে সেই ব্যক্তি 'নিঃস্ব' (pauper) হিসেবে গণ্য হবেন এবং আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মামলা করতে পারবেন।”

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতে, নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।
- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
-------------
⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-33 Rule-1. Suits may be instituted in forma pauperis:
Subject to the following provisions, any suit may be instituted by a pauper.
Explanation−A person is a "pauper" when he is not possessed of sufficient means to enable him to pay the fee prescribed by law for the plaint in such suit, or, where no such fee is prescribed, when he is not entitled to property worth five thousand Taka other than his necessary wearing-apparel and the subject-matter of the suit.
২৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৯ অনুসারে, কখন রায়ের পূর্বে ক্রোক বাতিল করা হয়?
  1. বাদী সম্মতি দিলে
  2. মামলা খারিজের পর
  3. বিবাদী জামিন দিলে
  4. 'খ' বা 'গ'
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৯ অনুযায়ী, রায়ের পূর্বে ক্রোক বাতিল করার জন্য দুটি প্রধান শর্ত আছে,
১. বিবাদী যখন আদেশিত নিরাপত্তা (জামিন) প্রদান করে।
২. মামলা যদি খারিজ হয়ে যায়।
-এই দুই শর্তের যে কোনও একটির পূরণে আদালত ক্রোক প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে। তাই সঠিক উত্তর হলো ‘খ’ বা ‘গ’ উভয়ই। বাদীর সম্মতি বা অনুমতি এখানে বাধ্যতামূলক নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩৮ বিধি-৯: জামানত প্রদান করা হলে কিংবা মোকদ্দমা খারিজ করা হলে ক্রোক অপসারণ:
যেক্ষেত্রে রায়ের পূর্বে ক্রোকের জন্য কোন আদেশ প্রদান করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে বিবাদি ক্রোকের খরচাদির জামানতসহ আবশ্যকীয় জামানত প্রদান করে বা মোকদ্দমাটি খারিজ হলে আদালত ক্রোক প্রত্যাহার করে আদেশ দিবে।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order 38 Rule-9: Removal of attachment when security furnished or suit dismissed:
Where an order is made for attachment before judgment, the Court shall order the attachment to be withdrawn when the defendant furnishes the security required, together with security for the costs of the attachment, or when the suit is dismissed.
৩০.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫৯ অনুযায়ী, কোন পরিস্থিতিতে রায়সিদ্ধ দেনাদারের গ্রেফতারের পরোয়ানা বাতিল করা যায়?
  1. দেনাদারের আবেদনের ভিত্তিতে
  2. আদালতের স্বাভাবিক বিবেচনায়
  3. দেনাদারের গুরুতর অসুস্থতার কারণে
  4. দেনাদারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির কারণে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫৯ অনুযায়ী "At any time after a warrant for the arrest of a judgment-debtor has been issued, the Court may cancel it on the ground of his serious illness."
অর্থাৎ, যদি কোনো রায়সিদ্ধ দেনাদার গুরুতর অসুস্থ হন, তাহলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারের পরোয়ানা বাতিল করতে পারেন। এটি একটি মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত বিধান, যা অসুস্থ রায়সিদ্ধ ব্যক্তিকে অযথা হয়রানি থেকে রক্ষা করে।
- অতএব, সঠিক উত্তর হলো: গ) দেনাদারের গুরুতর অসুস্থতার কারণে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী দেনাদারকে গ্রেফতার করার পর কোন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হইলে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিধান আছে। 
দেওয়ানী কার্যবিধি ৫৯ ধারার বিধান অসুস্থতার দরুন মুক্তি:
১) কোন রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতার করার জন্য পরোয়ানা জারির পর যে কোন সময় তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালত তা নাকচ করতে পারেন।
২) রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতারের পর আদালত যদি মনে করেন যে, স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় ঐ ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখা চলে না, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারবেন।
৩) দেওয়ানি জেলে আটক রায়সিদ্ধ দেনাদার নিম্নলিখিত উপায়ে মুক্তি পেতে পারে-
ক) কোন সংক্রামক বা ক্ষতিকারক রোগের দরুন সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারেন; বা
খ) উক্ত ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতার দরুন সোপর্দকারী আদালত বা তা যে আদালতের অধীনস্ত তদ্রূপ কোন আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারেন।
৪) এই ধারার অধীনে মুক্তিপ্রাপ্ত রায়সিদ্ধ দেনাদারকে পুনরায় গ্রেফতার করা যেতে পারে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখার মোট মেয়াদ গড়ে ৫৮ ধারায় উল্লেখিত মেয়াদের অধিক হবে না।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 59. Release on ground of illness.
(1) At any time after a warrant for the arrest of a judgment-debtor has been issued the Court may cancel it on the ground of his serious illness. 
(2) Where a judgment-debtor has been arrested, the Court may release him if, in its opinion, he is not in a fit state of health to be detained in the civil prison. 
(3) Where a judgment-debtor has been committed to the civil prison, he may be released therefrom- 
(a) by the Government, on the ground of the existence of any infectious or contagious disease, or 
(b) by the committing Court, or any Court to which that Court is subordinate, on the ground of his suffering from any serious illness. 
(4) A judgment-debtor released under this section may be re-arrested, but the period of his detention in the civil prison shall not in the aggregate exceed that prescribed by section 58.
৩১.
তামাদি আইনের ধারা ২৮ অনুসারে, যদি কেউ নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে দখল প্রাপ্তির মামলা না করে, তবে-
  1. জরিমানা দিতে হয়
  2. সে আপিল করতে পারে
  3. নতুন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়
  4. সম্পত্তিতে তার অধিকার বিলুপ্ত হয়
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৮ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা না করলে সম্পত্তির ওপর আইনি অধিকার চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৮ বলছে, "যে কোন ব্যক্তি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা দায়ের না করে, তাহলে নির্ধারিত সময় উত্তীর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই তার সে সম্পত্তিতে অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।"
- অর্থাৎ এই ধারা একটি দমনাত্মক বিধান (extinguishing provision)। এটি শুধু মামলা গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন নয়, বরং আইনি অধিকারই বাতিল করে দেয়।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.

৩২.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৫৬ অনুযায়ী, অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক করা যায় না?
  1. শিশু
  2. পুরুষ
  3. মহিলা
  4. সরকারি কর্মচারী
ব্যাখ্যা
⇒দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী: "The Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money."
অর্থাৎ, যদি কারও বিরুদ্ধে অর্থ পরিশোধের জন্য ডিক্রি জারি হয়, তবে আদালত কোনো মহিলাকে গ্রেফতার বা দেওয়ানি জেলে আটক করতে পারবে না। এই বিধান নারীদের প্রতি একটি বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করে, যাতে অর্থবিষয়ক মামলায় তাদের গ্রেফতার বা আটক না করা হয়।

⇒দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৫৬ হল- অর্থের ডিক্রি জারিতে মহিলাকে গ্রেফতারের বা আটকের বাধা-নিষেধ:
- আদালত অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেফতার বা আটক রাখার কোন আদেশ প্রদান করবেন না।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section 56. Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money:
 Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money.
৩৩.
তামাদি আইনের ধারা ২২ অনুসারে মামলা চলমান অবস্থায় নতুন বাদী বা বিবাদী পক্ষভুক্ত হলে তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে কী বিবেচিত হবে?
  1. মামলা শেষ হওয়ার তারিখ
  2. মামলা দায়েরের মূল তারিখ
  3. নতুন পক্ষভুক্তির দিনটি মামলা দায়েরের তারিখ হিসেবে
  4. কোনো তামাদি মেয়াদ প্রযোজ্য হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ অনুসারে: “যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।”
- অর্থাৎ, নতুন করে যিনি মামলায় যুক্ত হয়েছেন (বাদী বা বিবাদী হিসেবে), তার বিরুদ্ধে বা পক্ষে তামাদির মেয়াদ গণনার শুরু হবে তার পক্ষভুক্তির দিন থেকে, না যে দিন মূল মামলা দায়ের হয়েছিল।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এর বিধান নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

⇒ The Limitation Act:- Section-22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:-
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
৩৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির ____________ অনুযায়ী যৌথ ডিক্রিদার কর্তৃক ডিক্রি জারির আবেদনের বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-২০, বিধি-১৫
  2. আদেশ-২১, বিধি-১৪
  3. আদেশ-২১, বিধি-১৫
  4. আদেশ-২২, বিধি-১৫
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১৫ অনুযায়ী, যদি একাধিক ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে একটি ডিক্রি প্রদান করা হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যেকেউ এক বা একাধিক ব্যক্তি ডিক্রি জারির আবেদন করতে পারেন, যদি ডিক্রিতে ভিন্ন কোনো শর্ত না থাকে। এছাড়া, যদি যৌথ ডিক্রিদারদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে, তাহলে বাকি জীবিত ডিক্রিদার ও মৃত ব্যক্তির আইনগত উত্তরাধিকারীগণ একত্রে এই আবেদন করতে পারেন।
অতএব, যৌথ ডিক্রিদার কর্তৃক ডিক্রি জারির আবেদন সম্পর্কিত বিধান আদেশ-২১, বিধি-১৫ তে নির্ধারিত আছে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ১৫ (Order XXI, Rule 15) অনুযায়ী, যদি একাধিক ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে একটি ডিক্রি প্রদান করা হয় (যেমন: দুই বা ততোধিক ডিক্রিদার), তাহলে তাদের মধ্যে যে কোনো একজন বা একাধিক ব্যক্তি ডিক্রি জারির আবেদন করতে পারেন, যদি না ডিক্রিতে ভিন্ন কোনো শর্ত থাকে।
এছাড়া, যদি যৌথ ডিক্রিদারদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে, তবে বাকি জীবিত ডিক্রিদার এবং মৃত ব্যক্তির আইনগত উত্তরাধিকারীগণ একত্রে এই আবেদন করতে পারেন।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-15. Application for execution by joint decree-holder:
(1) Where a decree has been passed jointly in favour of more persons than one, any one or more of such persons may, unless the decree imposes any condition to the contrary, apply for the execution of the whole decree for the benefit of them all, or, where any of them has died, for the benefit of the survivors and the legal representatives of the deceased.
(2) Where the Court sees sufficient cause for allowing the decree to be executed on an application made under this rule, it shall make such order as it deems necessary for protecting the interests of the persons who have not joined in the application.
৩৫.
বাংলাদেশে বসবাসকারী কোন বিদেশি ব্যক্তি আদালতের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে মামলা করতে পারেন – এটি দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ৮৪
  2. ধারা ৮৩
  3. ধারা ৮২
  4. ধারা ৮১
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ৮৩ অনুযায়ী: "বিদেশি শত্রু" (Alien Enemy) বা "বিদেশি বন্ধু" (Alien Friend) যারা সরকারের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে বসবাস করছেন, তারা বাংলাদেশের নাগরিকের মতই আদালতে মামলা করতে পারবেন।
অর্থাৎ, সরকারের অনুমতি থাকলে, তারা বাংলাদেশের নাগরিকের ন্যায় আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।
কিন্তু যদি সরকারের অনুমতি না থাকে, তাহলে বিদেশি শত্রু ব্যক্তি কোনো আদালতে মামলা করতে পারবেন না, এমনকি তিনি বাংলাদেশে বসবাস করলেও।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৩ - কখন বিদেশি ব্যক্তি মামলা করতে পারে:
(১) সরকারের অনুমতিক্রমে বিদেশি শক্রগণ এবং বিদেশি বন্ধুগণ বাংলাদেশে বসবাস করতে থাকলে তারা বাংলাদেশের নাগরিকের মতই বাংলাদেশের আদালতে মামলা করতে পারবেন।
(২) এরূপ অনুমতি ব্যতীত বিদেশি শত্রু বাংলাদেশে বসবাস করতে থাকলে বা বিদেশি রাষ্ট্রে বসবাস করলে অনুরূপ কোন আদালতে মামলা করতে পারবে না।
ব্যাখ্যা: যে সকল বিদেশি রাষ্ট্রের সরকার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বা সামরিক অভিমানে জড়িত, সেই সকল দেশে বসবাসরত এবং বাংলাদেশ সরকারের একন সচিবের সহিযুক্ত অনুমতি ব্যতীত ঐ সকল দেশে ব্যবসা চালাইতে থাকলে (২) উপধারার উদ্দেশ্যে উক্তরূপ বিদেশি রাষ্ট্রে বসবাসরত প্রত্যেক ব্যক্তি বিদেশি শত্রু বলে গণ্য হবে।

⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section- 83. When aliens may sue:
(1) Alien enemies residing in Bangladesh with the permission of the Government, and alien friends, may sue in the Courts in Bangladesh, as if they were citizens of Bangladesh.
(2) No alien enemy residing in Bangladesh without such permission, or residing in a foreign country, shall sue in any of such Courts. 
Explanation.-Every person residing in a foreign country the Government of which is at war with, or engaged in military operations against, Bangladesh, and carrying on business in that country without a license in that behalf under the hand of a Secretary to the Government shall, for the purpose of sub-section (2), be deemed to be an alien enemy residing in a foreign country.
৩৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-৫ অনুসারে, ডিক্রিদানকারী আদালত এবং ডিক্রি জারির জন্য প্রেরিত আদালত যদি একই জেলায় অবস্থিত হয়, তবে ডিক্রি কীভাবে প্রেরণ করা হবে?
  1. সরাসরি শেষোক্ত আদালতে
  2. জেলা আদালতের মাধ্যমে
  3. সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে
  4. ডিক্রি প্রেরণের প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-৫ অনুযায়ী, যখন ডিক্রি নিষ্পত্তির জন্য যে আদালতে প্রেরণ করতে হবে সেটি ডিক্রি জারি করা আদালতের একই জেলার মধ্যে অবস্থিত হয়, তখন ডিক্রি সরাসরি সেই শেষোক্ত আদালতে প্রেরণ করা হবে। অর্থাৎ, মধ্যবর্তী কোনো আদালত বা অন্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রেরণের প্রয়োজন নেই।
- তবে, যদি ডিক্রি প্রেরিত আদালত ভিন্ন জেলার মধ্যে থাকে, তখন ডিক্রি প্রথমে সেই জেলার জেলা আদালতে পাঠানো হবে। এই নিয়ম ডিক্রি প্রেরণ প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল এবং দ্রুততর করে তোলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-৫: স্থানান্তরের পদ্ধতি (Mode of transfer): ডিক্রিদানকারী আদালত এবং ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরিত হবে সে আদালত যদি একই জেলায় অবস্থিত হয় তবে ডিক্রি সরাসরি শেষোক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন কিন্তু ভিন্ন জেলায় অবস্থিত হলে, ডিক্রিদানকারী আদালত তা সেই জেলার জেলা আদালতে প্রেরণ করবেন।
-----------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908 Order-21 Rule-5.(Mode of transfer):  Where the Court to which a decree is to be sent for execution is situate within the same district as the Court which passed such decree, such Court shall send the same directly to the former Court. But, where the Court to which the decree is to be sent for execution is situate in a different district, the Court which passed it shall send it to the District Court of the district in which the decree is to be executed.

৩৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারা অনুযায়ী ডিক্রি কার্যকর করার জন্য নিম্নের কোনটি আদালতের একটি ক্ষমতা নয়?
  1. রিসিভার নিয়োগ
  2. ডিক্রি-হোল্ডারকে গ্রেপ্তার
  3. নির্দিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তরের আদেশ
  4. সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামের মাধ্যমে আদায়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারা অনুযায়ী, আদালত "ডিক্রি কার্যকর করার জন্য" নিম্নলিখিত উপায়ে আদেশ দিতে পারে:
১) নির্দিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তর করা (Clause a)
২) সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম/নিলাম বিক্রয়ের মাধ্যমে (Clause b)
৩) ডিক্রি-দেনাদারকে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা (Clause c)
৪) রিসিভার নিয়োগ করা (Clause d)
৫) প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য পন্থা অবলম্বন করা (Clause e)
- এখানে লক্ষ্যণীয় যে, গ্রেপ্তারের ক্ষমতা আদালতের থাকে "ডিক্রি-দেনাদার" এর বিরুদ্ধে, ডিক্রি-হোল্ডার (যিনি মামলা জিতেছেন) এর বিরুদ্ধে নয়।
অতএব, ডিক্রি-হোল্ডারকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা আদালতের নেই, কারণ তিনি আদালতের আদেশ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ৫১: ডিক্রিজারি কার্যকর করার জন্যে আদালতের ক্ষমতা:
নির্ধারিত শর্ত এবং নিয়ন্ত্রণসাপেক্ষে আদালত ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে নিম্নবর্ণিত যে কোন উপায়ে ডিক্রি জারির আদেশ প্রদান করতে পারেন-
ক) ডিক্রিতে আদিষ্ট কোন সম্পত্তি অপর্ণের দ্বারা;
খ) কোন সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয় দ্বারা বা ক্রোকবিহীন নিলাম বিক্রয়ের দ্বারা;
গ) দেনাদারকে গ্রেপ্তার ও জেলে আটকের দ্বারা;
ঘ) রিসিভার নিয়োগ দ্বারা; বা
ঙ) প্রদত্ত প্রতিকারের প্রকৃতির প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোন পন্থায় ডিক্রি জারির আদেশ প্রদান পারে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি ডিক্রিটি অর্থ পরিশোধের জন্য হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে দেনাদারকে আটকের আদেশ পূর্বে কেন জেলে সোপর্দ করা হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য উপযুক্ত সুযোগ প্রদান করতে হবে এবং তৎপর আদালত যদি নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হন, লিখিতভাবে তা উল্লেখ করে অনুরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবেন:
ক) দেনাদার ডিক্রি জারিতে বাধা প্রদান বা তা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে-
১. আত্মগোপন করতে পারে কিংবা সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা ত্যাগ করতেপারে; বা
২. ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে এরূপ মোকদ্দমা দায়ের হওয়ার পর তার সম্পত্তির কোন অংশ তার দ্বারা অসদুপায়ে স্থানান্তরিত, বিনষ্ট বা অপসারণ করা হয়েছে, বা তার সম্পত্তি নিয়ে যে কোন অবিশ্বস্ততার কাজ করেছে; বা
খ) ডিক্রির তারিখ থেকে ডিক্রির টাকা অথবা তার সম্পূর্ণ বা আংশিক অংশ পরিশোধের সংগতি রায়সিদ্ধ দেনাদারের আছে বা ছিল, অথচ দেনাদার তা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি বা অবহেলা জ্ঞাপন করেছে বা করেছে; বা
গ) যে টাকার জন্য ডিক্রি প্রদত্ত হয়েছে, তজ্জন্য রায়সিদ্ধ দেনাদারের দায়িত্বও পরোক্ষ ছিল।
ব্যাখ্যা- খ) দফায় বর্ণিত দেনাদারের সংগতি নির্ধারণকল্পে, দেনাদারের যে সম্পত্তি বর্তমানে প্রচলিত কোন আইন বা আইনের ন্যায় প্রযোজ্য অন্য কোন রীতি অনুসারে ডিক্রি জারির দরুনক্রোক থেকে অব্যাহতি লাভের জন্য, তা হিসাবে ধরা চলবে না।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, 51. Powers of Court to enforce execution:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may, on the application of the decree-holder, order execution of the decree-
(a) by delivery of any property specifically decreed;
(b) by attachment and sale or by sale without attachment of any property;
(c) by arrest and detention in prison;
(d) by appointing a receiver; or
(e) in such other manner 36[as may be provided hereinafter in the Code or] as the nature of the relief granted may require:
Provided that, where the decree is for the payment of money, execution by detention in prison shall not be ordered unless, after giving the judgment-debtor an opportunity of showing cause why he should not be committed to prison, the Court, for reasons recorded in writing, is satisfied-
(a) that the judgment-debtor, with the object or effect of obstructing or delaying the execution of the decree,-
(i) is likely to abscond or leave the local limits of the jurisdiction of the Court, or
(ii) has, after the institution of the suit in which the decree was passed, dishonestly transferred, concealed, or removed any part of his property, or committed any other act of bad faith in relation to his property; or
(b) that the judgment-debtor has, or has had since the date of the decree, the means to pay the amount of the decree or some substantial part thereof and refuses or neglects or has refused or neglected to pay the same, or
(c) that the decree is for a sum for which the judgment-debtor was bound in a fiduciary capacity to account.
Explanation.-In the calculation of the means of the judgment-debtor for the purposes of clause (b), there shall be left out of account any property which, by or under any law or custom having the force of law for the time being in force, is exempt from attachment in execution of the decree.