পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১ টপিক: বাংলা ভাষা, বাংলা ব্যাকরণ ও আলোচ্য বিষয়, বাংলা লিপি, উপাদান ও উপকরণ [লাইভ ক্লাস - ১ ও ২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
বাংলা কোন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. অস্ট্রো-এশীয়
  2. আদি আর্য
  3. আফ্রিকীয়
  4. দ্রাবিড়ীয়
সঠিক উত্তর:
আদি আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি আর্য
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ।
- শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে। মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোন আমলে বাংলা লিপির গঠন কাজ শুরু হয়?
  1. গুপ্ত
  2. পাল
  3. মুঘল
  4. সেন
সঠিক উত্তর:
পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপির গঠন কাজ শুরু হয় - পাল আমলে।

বাংলা লিপির ইতিবৃত্ত:
- জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর একটি হস্তলিখিত পুথি আছে যেখানে প্রাচ্যলিপির নমুনা পাওয়া যায়।
- ৭ম শতাব্দীর লিপির প্রমাণ মেলে আদিত্য সেন নামক এক মগধরাজের অনুশাসনকালে।
- পরে এ অঞ্চলের পালরাজাদের সময় লিপি ক্রমবিবর্তিত হয়ে বাংলা লিপির রূপ পরিগ্রহ করে।
- ৯ম শতাব্দীতে বাংলাদেশের পালবংশীয় রাজা নারায়ণ পালের তাম্রশাসনে বাংলা লিপির সুস্পষ্টরূপ পরিলক্ষিত হয়। আজকের বাংলা লিপি সেই ধারার পরবর্তী রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কোন ভাষা থেকে সংস্কৃত ভাষাটি এসেছে?
  1. আর্য
  2. ভারতীয়
  3. প্রাচীন ভারতীয় আর্য
  4. প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য
ব্যাখ্যা
প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য ভাষা থেকে সংস্কৃত ভাষাটি এসেছে।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।

বাংলা ভাষা বিবর্তনের রূপরেখা:



উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
.
ধ্রুপদি ভাষা কোনটি?
  1. অহমিয়া
  2. ওড়িয়া
  3. পালি
  4. মণিপুরি
সঠিক উত্তর:
পালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালি
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ।
- শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে। মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'শুষ্ক' শব্দের চলিত রূপ কোনটি?
  1. শুকনা
  2. শুকনো
  3. শুষ্কো
  4. শুষ্কা
সঠিক উত্তর:
শুকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকনো
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষারীতি:
- বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি, অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
- বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি: একটি চলিত রীতি, অপরটি সাধু রীতি।

সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
সাধুচলিত
মস্তক ⇒ মাথা;
জুতা ⇒ জুতো;
তুলা ⇒ তুলো;
শুষ্ক / শুকনা ⇒ শুকনো;
বন্যবুনো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  4. রেভারেণ্ড জেমস্‌ কিথ
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ:
- ভাষা ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম, যা ওই ভাষাকে অশুদ্ধির সীমানায় প্রবেশ করতে দেয় না, শুদ্ধির পরিকাঠামো তৈরি করে তাকে ব্যাকরণ বলে।

বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:
• পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।
- এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

• এরপর উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।

• ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
- এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে-বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মাতৃভাষী মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলা পৃথিবীর কততম বৃহত্তম ভাষা?
  1. ৫ম
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম
  4. ৮ম
সঠিক উত্তর:
৬ষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ষ্ঠ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- মাতৃভাষী মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলা পৃথিবীর ৬ষ্ঠ বৃহত্তম ভাষা। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা ।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

[বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণী (নতুন বই) অনুসারে, মাতৃভাষার দিক থেকে বিশ্বে বাংলা ভাষার অবস্থান ষষ্ঠ। Ethnologue এর রিপোর্ট অনুসারে, ভাষাভাষীর জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা ভাষার অবস্থান সপ্তম।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), Encyclopedia Britannica (Link).
.
কোথায় সবচেয়ে পুরাতন বাংলা মুদ্রণের নমুনা পাওয়া গেছে?
  1. গোয়ায়
  2. প্যারিসে
  3. পর্তুগালে
  4. রংপুরে
সঠিক উত্তর:
প্যারিসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারিসে
ব্যাখ্যা
মুদ্রণ শিল্প:
- মুদ্রণ শিল্প  প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ।
- প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়।
- এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে।
- ইউরোপীয় মিশনারিদের প্রচেষ্টায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাপাখানা চালু হয়।
- এই সকল ছাপাখানার অধিকাংশই অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে ও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে স্থাপিত হতে থাকে।
- পর্তুগিজ ধর্মপ্রচারকগণ লিসবন থেকে রোমান হরফে বাংলা বই ছাপিয়ে আনেন।
- সবচেয়ে পুরাতন বাংলা মুদ্রণের নমুনা পাওয়া গেছে ১৬৮২ সালে প্যারিসে মুদ্রিত একটি গ্রন্থে।
- এসব বাংলা মুদ্রণ ছিল তামার পাতে, তখনও বাংলা অক্ষর ঢালাইয়ের কোন ব্যবস্থা হয়নি।
- মুদ্রণের জন্য বাংলা অক্ষরের নকশা প্রথম প্রস্তুত করেন চার্লস উইলকিন্স।
- তাঁর ডিজাইনকৃত অক্ষরে ছাপা হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮) গ্রন্থটি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা কী হবে?
  1. ই-কার
  2. ঈ-কার
  3. রেফ
  4. বিসর্গ
সঠিক উত্তর:
ঈ-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈ-কার
ব্যাখ্যা
• বানান-সূত্র:
- দেশ, ভাষা ও জাতির নাম লিখতে ই/ঈ-কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে নিশ্চিন্তে ই-কার (ি) দেয়া যাবে।
যেমন:
- দেশ: গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি। (ব্যতিক্রম: চীন, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ)
- ভাষা: হিন্দি, সাঁওতালি, আরবি, পারসি ইত্যাদি।
- জাতি: বাঙালি, ইত্যাদি। পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।

২. অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে। যেমন:
• অপ্রাণিবাচক শব্দ: বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি।
• ইতরপ্রাণিবাচক শব্দ: পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।

৩. সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার হবে।
যেমন: জননী, স্ত্রী, নারী, সাধ্বী ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে। না।
যেমন: ষ্টেশন হবে না, হবে স্টেশন; ষ্টুডিও হবে না, হবে স্টুডিও; ফটোষ্ট্যাট হবে না, হবে ফটোস্ট্যাট ইত্যাদি।

৫. তৎসম বা সংস্কৃত কতিপয় শব্দ ছাড়া অন্য সব শব্দের বানানে 'ণ' হবে না, হবে 'ন'।
যেমন: কর্ণার হবে না, হবে কর্নার; কর্ণেল হবে না, হবে কর্নেল; বামুণ হবে না, হবে বামুন ইত্যাদি।

৬. বানানে যে বর্ণের উপর রেফ থাকবে, সেই বর্ণে দ্বিত্ব হবে না।
যেমন: কাৰ্য্যালয় হবে না, হবে কার্যালয়; নির্দ্দিষ্ট হবে না, হবে নির্দিষ্ট, পৰ্ব্বত হবে না, হবে পর্বত ইত্যাদি।

৭. বিস্ময়সূচক অব্যয় (যেমন: বাঃ / ছিঃ / উঃ ইত্যাদি) ছাড়া বাংলা কোনো শব্দের শেষে বিসর্গ রাখা যাবে না।
যেমন: প্রায়শঃ / বিশেষতঃ / কার্যতঃ / প্রথমতঃ ইত্যাদি লেখা যাবে না, লিখতে হবে প্রায়শ / বিশেষত / কার্যত / প্রথমত ইত্যাদি।

৮. শব্দে ঊর্ধ্বকমা লেখা যাবে না।
যেমন: আগে লেখা হতো (হ'লো) এখন (হলো); আগে (দু'টি) এখন (দুটি); আগে (তা'র) এখন (তার) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
শব্দে ঊর্ধ্বকমা -
  1. গ্রহণ করতে হবে
  2. বর্জন করতে হবে
  3. পরিবর্তন করতে হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
সঠিক উত্তর:
বর্জন করতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্জন করতে হবে
ব্যাখ্যা
বানান-সূত্র:
- দেশ, ভাষা ও জাতির নাম লিখতে ই/ঈ-কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে নিশ্চিন্তে ই-কার (ি) দেয়া যাবে।
যেমন:
- দেশ: গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি। (ব্যতিক্রম: চীন, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ)
- ভাষা: হিন্দি, সাঁওতালি, আরবি, পারসি ইত্যাদি।
- জাতি: বাঙালি, ইত্যাদি। পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।

২. অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে। যেমন:
অপ্রাণিবাচক শব্দ: বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি।
ইতরপ্রাণিবাচক শব্দ: পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।

৩. সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার হবে।
যেমন: জননী, স্ত্রী, নারী, সাধ্বী ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে। না।
যেমন: ষ্টেশন হবে না, হবে স্টেশন; ষ্টুডিও হবে না, হবে স্টুডিও; ফটোষ্ট্যাট হবে না, হবে ফটোস্ট্যাট ইত্যাদি।

৫. তৎসম বা সংস্কৃত কতিপয় শব্দ ছাড়া অন্য সব শব্দের বানানে 'ণ' হবে না, হবে 'ন'।
যেমন: কর্ণার হবে না, হবে কর্নার; কর্ণেল হবে না, হবে কর্নেল; বামুণ হবে না, হবে বামুন ইত্যাদি।

৬. বানানে যে বর্ণের উপর রেফ থাকবে, সেই বর্ণে দ্বিত্ব হবে না।
যেমন: কাৰ্য্যালয় হবে না, হবে কার্যালয়; নির্দ্দিষ্ট হবে না, হবে নির্দিষ্ট, পৰ্ব্বত হবে না, হবে পর্বত ইত্যাদি।

৭. বিস্ময়সূচক অব্যয় (যেমন: বাঃ / ছিঃ / উঃ ইত্যাদি) ছাড়া বাংলা কোনো শব্দের শেষে বিসর্গ রাখা যাবে না।
যেমন: প্রায়শঃ / বিশেষতঃ / কার্যতঃ / প্রথমতঃ ইত্যাদি লেখা যাবে না, লিখতে হবে প্রায়শ / বিশেষত / কার্যত / প্রথমত ইত্যাদি।

৮. শব্দে ঊর্ধ্বকমা লেখা যাবে না
যেমন: আগে লেখা হতো (হ'লো) এখন (হলো); আগে (দু'টি) এখন (দুটি); আগে (তা'র) এখন (তার) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
কোনটি সঠিক?
  1. সোনালি ও দিঘি
  2. মিতালী ও শাড়ি
  3. বর্ণালি ও তরকারী
  4. রূপালী ও সরকারি
সঠিক উত্তর:
সোনালি ও দিঘি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনালি ও দিঘি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে। তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

- ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্‌ স্থানে অনুস্বার (ং) লেখা যাবে।
যেমন: অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।
• বিকল্পে ঙ্‌ লেখা যাবে।
• ক্ষ-এর পূর্বে সর্বত্র ঙ্‌ হবে।
যেমন: আকাঙ্ক্ষা।

- অতৎসম অর্থাৎ নিজস্ব (অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ইত্যাদি) ও বিদেশি শব্দে সর্বদা ঈ-কার এবং ঊ-কার বর্জিত হবে।
যেমন: তরকারি, মুলা, দিঘি, সরকারি, শাড়ি, পশমি, ইমান, কুরান, নিচু, ভুখা ইত্যাদি।

- '-আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন: সোনালী হবে না, হবে সোনালি; মিতালী হবে না, হবে মিতালি
অনুরূপভাবে, বর্ণালি, খেয়ালি, রূপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

- তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে। অতৎসম শব্দে 'ণ' হবে না, তার বদলে হবে 'ন'।
যেমন: অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান, ধরন, সোনা ইত্যাদি। 

- তৎসম শব্দের বানানে ষ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে। এ-ছাড়া অন্য কোনো শব্দের ক্ষেত্রে সংস্কৃত ষ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু সে-সব ক্ষেত্রে ষ-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ তা নয়।
যেমন: সাল, শহর, হিসাব, শখ, শৌখিন, পোশাক।
কিন্তু বোষ্টমী, খ্রিষ্টান ইত্যাদি।

- ইংরেজি শব্দের প্রতিবর্ণীকরণে S- এর জন্য 'স' এবং Sh, -sion, - ssion, -tion ইত্যাদির জন্য সাধারণত 'শ' ব্যবহার হবে।
যেমন: স্টেশন, কমিশন, শার্ট, ফটোস্ট্যাট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
খ্রিষ্টপূর্ব কোন শতকে এবং কার শাসনামলে উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে, অশোকের শাসনামলে
  2. খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের শাসনামলে
  3. খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে, সমুদ্রগুপ্তের শাসনামলে
  4. খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে, ধর্মপালের শাসনামলে
সঠিক উত্তর:
খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে, অশোকের শাসনামলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে, অশোকের শাসনামলে
ব্যাখ্যা
বাংলা লিপির সৃষ্টি:
- এই উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম যে বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের, অশোকের অনুশাসনের সময়ের।
- বগুড়ার মহাস্থানগড়ে যে লিপি পাওয়া গেছে উভয় প্রাপ্ত লিপির সাদৃশ্য আছে। এই লিপিকে ব্রাহ্মী লিপি বলে।
- ব্রাহ্মী লিপি কুষাণ ও গুপ্ত রাজাদের আমলে পরিবর্তিত হয়ে তিনটি রূপ ধারণ করে। যথা:
১. সারদা (কাশ্মির ও পাঞ্জাবে প্রচলিত রূপ),
২. নাগর (রাজস্থান ও মালব; গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে প্রচলিত রূপ) ও
৩. কুটিল (ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত রূপ)।
- বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপির এই কুটিল রূপ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।