পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৫০
সিলেবাস
পরীক্ষা- ১৫ শব্দের বানান ও উচ্চারণ, অনুচ্ছেদ রচনা, সাধু-চলিত-আঞ্চলিক ভাষারীতি, চলিত ভাষার নিয়মাবলি (লেকচার ১২)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন

.
বরেন্দ্রী উপভাষা অঞ্চল কোনটি? 
  1. পাবনা
  2. ত্রিপুরা
  3. ঝাড়খণ্ড
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : উপভাষা হল কোন একটি ভাষার আঞ্চলিক রূপ। বাংলা ভাষার উপভাষা প্রধানত পাঁচটি- রাঢ়ী, বঙ্গালী, বরেন্দ্রী, ঝাড়খণ্ডী, কামরূপী বা রাজবংশী। এর মধ্যে বঙ্গালী উপভাষা ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, যশোর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামে প্রচলিত। বরেন্দ্রী উপভাষা পশ্চিমবঙ্গের মালদহ এবং বাংলাদেশের রাজশাহী, পাবনায় প্রচলিত।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
বাংলা শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে কোন গ্রন্থে উল্লেখ আছে?
  1. আকবরনামা
  2. তুজুক-ই-আকবরী
  3. আইন-ই-আকবরী
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাংলা শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি সম্রাট আকবরের সভাসদ আবুল ফজল রচিত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
বাংলা চলিত ভাষার জন্ম কোন অঞ্চলকে ভিত্তি করে?
  1.  নদীয়া
  2. কলকাতা
  3. ঢাকা
  4. বিহার
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : প্রমথ চৌধুরী নদীয়া-শান্তিপুরের উপভাষাকে চলিত বাংলার আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি ঢাকা কিংবা কলকাতার উচ্চারণকে প্রমিত বলে গ্রহণ করেন নি। তাঁর মতে দুয়েরই উচ্চারণ অনেকটা বিকৃত। বর্তমানে প্রচলিত চলিত ভাষা প্রমথ চৌধুরীর আদর্শ অনুসরণ করেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
কোন সম্রাট তার শাসনামল ব্রাহ্মী লিপিতে উৎকীর্ণ করান? 
  1. ধর্মপাল
  2. চন্দ্রগুপ্ত
  3. অশোক
  4. ২য় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ভারতীয় উপমহাদেশে আর্য ভাষার যে প্রাচীনতম বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে সম্রাট অশোকের অনুশাসনের সময়। উল্লেখ্য, সম্রাট অশোক তার অধিকাংশ কর্ম ব্রাহ্মী লিপিতে লেখান। সম্রাটের এই লিপি উত্তর-মধ্য ভারতে স্থাপিত হয় ২৫০-২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। সম্রাট অশোকের খোদাই করা ব্রাহ্মী লিপিটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভাষাবিদ জেমস প্রিন্সেপ ১৮৩৭ সালে আবিষ্কার করেন।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
'অদ্য' শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ?
  1. চলিত 
  2.  সাধু
  3. প্ৰাকৃত
  4. কোল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা: ‘অদ্য' শব্দটি সাধু ভাষারীতির উদাহরণ। অদ্য-এর চলিত ভাষা ‘আজ' ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
বাংলাদেশ ছাড়া নিচের কোন অঞ্চলের মানুষের ভাষা বাংলা?
  1.  উড়িষ্যা
  2. মিজোরাম
  3. উত্তরাখণ্ড
  4. নাগপুর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের অধিবাসীদের মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণ এবং ত্রিপুরা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ও ঝাড়খণ্ডের কয়েকটি অঞ্চলের মানুষের ভাষা বাংলা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে বাংলা ভাষাভাষী জনগণ রয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ত্রিশ কোটি লোকের মুখের ভাষা বাংলা।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
বাংলা ভাষার মূল উৎস- 
  1. বৈদিক ভাষা
  2. অনার্য ভাষা
  3.  কানাড়ি ভাষা
  4. হিন্দি ভাষা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস অনার্য ভাষা। আর্যদের আগমনের পর অনার্য ভাষা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। আর্যদের ভাষার নাম প্রাচীন 'বৈদিক ভাষা । আর্য ভাষা তিনটি স্তরে বিভাজিত- ১. প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা। এর নিদর্শন: বৈদিক, সংস্কৃত ২. মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা। এর নিদর্শন: প্রাচীন- পালি, মধ্য- প্রাকৃত ও নব্য- অপভ্রংশ, ৩. নব্য ভারতীয় আর্যভাষা : বাংলা, ওড়িয়া, হিন্দি, মারাঠি ইত্যাদি। অর্থাৎ, এই তিনটি স্তরের ‘নব্য ভারতীয় আর্যভাষা স্তরের ভাষা বাংলা।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

.
প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্য ভাষার পরবর্তী স্তরের ভাষা কোনটি?
  1. কেন্তুম
  2. সতম
  3. প্রাচীন ভারতীয় আর্য
  4. প্রাচীন প্রাচ্য
ব্যাখ্যা

প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্য ভাষার পরবর্তী স্তরের ভাষা হলো প্রাচীন প্রাচ্য। 
প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্য ভাষার পূর্ববর্তী স্তরের ভাষা হলো কেন্তুম, সতম, প্রাচীন ভারতীয় আর্য।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
সাধু ভাষা কত খ্রিস্টাব্দের দিকে জন্ম হয়েছে? 
  1. ১৯১৪
  2. ১৮৬০
  3. ১৮৬১
  4. ১৮০০
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে- 'সাধারণ গদ্য সাহিত্যে ব্যবহৃত বাংলা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে। ১৮০০ সালের দিকে সাধু ভাষার প্রচলন শুরু হয়। সংস্কৃত ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধু ভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন রাজা রামমোহন রায়। 

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১০.
বাংলা লিপির গঠনকার্য কোন আমলে শুরু হয়?
  1. গুপ্ত আমলে 
  2. পাল আমলে 
  3. সেন আমলে
  4. পাঠান আমলে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : সেন আমলে বাংলা লিপি অক্ষর গঠনের কাজ শুরু হয়। পাঠান আমলে (পনের শতকে) তা স্থায়ী রূপ লাভ করে। ১৮০০ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস স্থাপিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময়ে হাতে লেখা হয়েছে বলে বাংলা লিপি নানা পরিবর্তনের অগ্রসর হয়েছে।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১১.
আলালী ও হুতোমী ভাষা বলা হয় কোন ভাষাকে?
  1. সাধু
  2. চলিত
  3. সংস্কৃত
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : আলালী ও হুতোমী ভাষা চলিত ভাষা। মানুষের সহজবোধ্য ভাষায় সাহিত্য রচনা করতে প্যারীচাঁদ মিত্র 'আলালী ভাষা' ও কালীপ্রসন্ন সিংহ ‘হুতোমী ভাষার প্রচলন করেন। আলালী ভাষায় লেখা প্যারীচাঁদ মিত্রের উপন্যাস 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। আর হুতোমী ভাষায় লেখা কালীপ্রসন্ন সিংহের 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২)।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১২.
চলিত ভাষায় নিম্নের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?
  1. অনুসর্গ
  2.  বিশেষ্য
  3. অব্যয়
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : চলিত ভাষায় অনুসর্গের রূপ সংক্ষিপ্ত হয়। যেমন- থেকে (থাকিয়া), হতে (হইতে) ইত্যাদি।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৩.
উপমহাদেশের প্রথম ছাপাখানা স্থাপিত হয়- 
  1. ১২৯৮
  2. ১৩৯৮
  3. ১৫৯৮
  4. ১৪৯৮
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : উপমহাদেশের প্রথম ছাপাখানা স্থাপিত হয় ১৪৯৮ সালে ভারতের গোয়ায়। কাজটি করেন পর্তুগিজরা। এই প্রেস থেকে প্রথম মুদ্রিত বই পর্তুগিজ ভাষার 'কনুকসোজ । বাংলায় প্রথম ছাপাখানা স্থাপিত হয় ১৭৭৮ সালে হুগলিতে। বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা 'বার্তাবহ যন্ত্র' ১৮৪৭ সালে রংপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৪.
‘জেন্দা' কি?
  1. ভাষা
  2. জাতি
  3. গ্ৰন্থ
  4. গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ‘জেন্দা' একটি ভাষা। পারস্যের অগ্নি উপাসকদের একটি ধর্মগ্রন্থ হলো 'আবেস্তা' । যার ভাষা হলো জেন্দা।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

১৫.
বাংলা ব্যাকরণ প্রথম যে ভাষায় লেখা হয়- 
  1. ইংরেজি
  2. ফরাসি
  3. সংস্কৃত
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : পর্তুগিজ ধর্মযাজক মনোএল দা আসসম্পাসাঁউ 'Vocabolario em idioma Bengalla e Portuguez divididoem duas partes' (১৭৪৩) নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এর প্রথম অংশ বাংলা ব্যাকরণের সংক্ষিপ্তসার। দ্বিতীয় অংশ বাংলা- পর্তুগিজ ও পর্তুগিজ-বাংলা শব্দাভিধান। এটি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ নয় ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,  শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৬.
বাংলাদেশ সরকার 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' পাস করে-
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাংলাদেশ সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদের বিধানকে পূর্ণরূপে কার্যকর করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয় 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭'। এটি ১৯৮৭ সালের ২নং আইন।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৭.
‘উপর' এবং ‘ওপর' শব্দের পার্থক্য-
  1.  অর্থগত
  2. ভাষারীতির
  3. ধ্বনিগত ও অর্থগত
  4. কোন পার্থক্য নেই
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : ‘উপর' ও 'ওপর উভয় শব্দের অর্থ এক। কিন্তু ব্যবহারে পার্থক্য রয়েছে। সাধু ভাষায় ‘উপর' এবং চলিত ভাষায় 'ওপর ব্যবহৃত হয়। সাধুরীতির ‘উপর' বানানটি ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বরসঙ্গতির নিয়ম অনুসারে চলিত রীতিতে 'ওপর' হয়েছে।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

১৮.
'বঙ্গ-কামরূপী' থেকে সৃষ্ট  ভাষা  কোনটি?
  1. অসমিয়া
  2. উড়িয়া
  3. হিন্দি
  4.  ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : আর্যদের ব্যবহৃত ‘ভারতীয় আর্য ভাষা পরবর্তীতে কথা বলা এবং লেখা দুই ভাগে আলাদা হয়ে যায়। অঞ্চল ভিত্তিতে কথ্য ভাষাকে বলা হত তাকে 'প্রাকৃত' ভাষা। প্রাকৃত ভাষা একসময় বিকৃত হয়ে যায়। তখন সেটাকে বলা হয় 'অপভ্রংশ। অপভ্রংশের একটি রূপ হলো বঙ্গকামরূপী। বঙ্গকামরূপী থেকে সৃষ্টি হয়- বাংলা ও অসমীয়া ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৯.
বাংলা ভাষায় প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. ম্যানুয়েল দ্যা আসসুম্পসাও
  2. নাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  3. রামমোহন রায়
  4. জামিল চৌধুরী
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : বাংলা ভাষায় বাঙালি রচিত প্রথম ব্যাকরণ 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮৩৩)। রচয়িতা রাজা রামমোহন রায়। এর আগে তিনি Bengali Grammar in the English Language নামে একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২০.
A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি রচনা করেন কে? 
  1. মনোএল দ্য আসসুম্পাসাঁও
  2. এন বি হ্যালহেড
  3. রামমোহন রায় 
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

 ব্যাখ্যা : নাথানিয়াল ব্রাসি হ্যালহেড A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি রচনা করেন। ১৭৭৮ সালে হুগলী থেকে প্রকাশিত হয় । গ্রন্থটি ইংরেজিতে রচিত হলেও এর কিছু উদাহরণে বাংলা অক্ষর ব্যবহার করা হয়। এ গ্রন্থেই প্রথম বাংলা অক্ষর মুদ্রিত হয়। নিয়মতান্ত্রিকভাবে এটিই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম কি?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. ব্যাকরণ মঞ্জরী
  4. মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা' (১৮৫১), ‘ব্যাকরণ কৌমুদী' (১৮৫৩), সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩)। 'ব্যাকরণ মঞ্জরী' গ্রন্থের রচয়িতা ড. মুহম্মদ এনামুল হক, 'মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ এর রচয়িতা বোপদেব গোস্বামী, ‘অষ্টাধ্যায়ী' নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন পাণিনি।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২২.
‘ভাষা প্রকাশ বাঙলা ব্যাকরণ' কে রচনা করেছেন? 
  1.  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4.  ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : 'The Origin and Development of Bengali Language (ODBL)' (১৯২৬), ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ (১৯৩৯) গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৩.
উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ কে ছিলেন?
  1. ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. পাণিনি
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ পাণিনি। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দের দিকে ‘অষ্টাধ্যায়ী' নামক একটি সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৪.
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ প্রথম কখন প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৪৩
  2. ১৮৩৪
  3. ১৮৪৩
  4. ১৭৩৪
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : পর্তুগিজ ধর্মযাজক মনোএল দা আসসম্পাসাঁউ বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ 'Vocabolario em idioma Bengalla e Portuguez dividido em duas Partes' রচনা করেন। গ্রন্থটি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে ১৭৪৩ সালে রোমান হরফে মুদ্রিত হয়। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ নয় । 

উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 

২৫.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ধূলি
  2. ধুলি
  3. ধূলো
  4. মুলি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা : শুদ্ধ বানান-  ধূলি। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২৬.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. প্রাণি
  2. প্রাণী
  3. যন্ত্রণাকর
  4. ভুবন
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ  প্রাণী, যন্ত্রণাকর, ভুবন। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২৭.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. মুহূর্ত
  2. ধরণি
  3. শূণ্য
  4. পুণ্য
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ শূন্য, মুহূর্ত, ধরণি, পুণ্য। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২৮.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. বিষণ্ণ
  2. বিষণ্ন
  3. বিসন্ন
  4. বিসণ্ন
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ বিষণ্ন। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২৯.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. অনূর্ধ্ব
  2. অনূর্বর
  3. ভূরিভূরি
  4. ভূরি
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ অনুর্বর। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩০.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. রানি
  2. সূচ্যগ্রমোদিনী
  3. নাড়িভুড়ি
  4. মাতৃষ্বসা
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ নাড়িভুঁড়ি। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঈন্দ্ৰীয়
  2. ঈন্দ্ৰিয়
  3. ইন্দ্ৰিয়
  4. ইন্দ্ৰীয়
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ ইন্দ্ৰিয়। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩২.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. জন্মবার্ষিক
  2. ভৌগোলিক
  3. শুশ্রূষাকারিণী
  4. মুহুরি
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ জন্মবার্ষিকী। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৩.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. অসৌজন্য
  2. আশীর্বাদক
  3. ঊষা
  4. কারিগরি
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ উষা। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৪.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. মুহুর্মুহু
  2. শুচিস্মিত
  3. পূর্বমুহুর্ত
  4. শুশ্রুষা
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ শুশ্রূষা। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৫.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ধস্ত
  2. নূপুর
  3. বিজীগীষা
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ বিজিগীষা । 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৬.
কোনটি শুদ্ধ?
  1.  দুর্বিনীত
  2. দুর্বীনিত 
  3.  দূর্বিনীত
  4. দূৰ্বিনিত
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ দুর্বিনীত। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৭.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. গতানুগতিক
  2. গতানূগতিকতা
  3. গতানুগতীক
  4.  গতানুগতীকতা
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ গতানুগতিক। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৮.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. দ্রবিভূত
  2. দ্রবিভুত
  3. দ্রবীভূত
  4. দ্রবীভুত
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ দ্রবীভূত। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৯.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. তচরুপ
  2. তছরুপ
  3. তছরূপ
  4. তচরূপ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ তছরুপ । 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪০.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. এতদ্‌ব্যতিত
  2. তদ্‌ব্যতীত
  3. ব্যাতীত 
  4. ব্যাথিত
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ ব্যথিত ,ব্যতীত , তদ্‌ব্যতীত, এতদ্‌ব্যতীত । 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪১.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. দূর্বীষহ
  2. দূর্বিষহ
  3. দুর্বিষহ
  4. দুর্বীষহ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ দুর্বিষহ। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪২.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. ভষ্মস্তুপ
  2. ভস্মস্তূপ
  3. ভশ্মস্তূপ
  4. ভস্মস্তুপ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ ভস্মস্তূপ। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪৩.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. অনসূয়া
  2. অনুসূয়া
  3. অনূসূয়া
  4. অনসুয়া
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ অনসূয়া। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪৪.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. ধূলিধূসর
  2. ধুলিধূসর
  3. ধূলীধূসর
  4. ধূলিধুসর
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ ধূলিধূসর। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪৫.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. আনুষঙ্গিক
  2. আনুসাঙ্গিক
  3. আনুসঙ্গিক
  4. আনুষাঙ্গিক
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ আনুষঙ্গিক। 

প্রতিপাদিতঃ জামিল চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪৬.
শব্দের আদ্য 'অ' এর পরে 'য' ফলা যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে সেক্ষেত্রে 'অ'-এর উচ্চারণ কীসের মতো হয়? 
  1. য় এর মতো
  2. অ এর মতোই
  3. ও এর মতো
  4.  য এর মতো
ব্যাখ্যা

 শব্দের আদ্য 'অ' এর পরে 'য' ফলা যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে সেক্ষেত্রে 'অ'-এর উচ্চারণ 'ও' কারের মতো হয়। যেমন—অদ্য (ওদ্ দো), কন্যা (কোন্ না) ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৭.
শব্দের প্রথমে যদি 'এ'-কার থাকে এবং তারপরে 'ই' (f), ঈ (ী), উ ( ू ), উ (ূ ), এ ( ে ), ও (ে া) . র, ল, শ এবং হ থাকলে এ এর উচ্চারণ কেমন হয়? 
  1. এ হয়
  2. অ্যা হয় 
  3.  অ হয় 
  4. ইয়ে হয়
ব্যাখ্যা

শব্দের প্রথমে যদি 'এ'-কার থাকে এবং তারপরে 'ই' (f), ঈ (ী), উ ( ू ), উ (ূ ), এ ( ে ), ও (ে া) . র, ল, শ এবং হ থাকলে সাধারণত 'এ' অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হয়। যথা : একি (একি), দেখি (দেখি), মেকি (মেকি), ঢেঁকি (ঢেঁকি), বেশি (বেশি) ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৮.
একাক্ষর (monosyllable) সর্বনাম পদের 'এ' সাধারণত কীভাবে উচ্চারিত হয়? 
  1. এ হয়
  2. অ্যা হয় 
  3.  ও হয় 
  4. ইয়ে হয়
ব্যাখ্যা

একাক্ষর (monosyllable) সর্বনাম পদের 'এ' সাধারণত স্বাভাবিকভাবে অর্থাৎ অবিকৃত 'এ'-কার রূপে উচ্চারিত হয়। যথা : কে, সে, এ, যে ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৯.
এ-কারযুক্ত একাক্ষর (monosyllable) ধাতুর সঙ্গে আ-প্রত্যয়যুক্ত হলে, সাধারণত সেই 'এ' কারের উচ্চারণ কেমন হয়? 
  1. এ হয়
  2. অ্যা হয় 
  3.  ও হয় 
  4. ইয়ে হয়
ব্যাখ্যা

এ-কারযুক্ত একাক্ষর (monosyllable) ধাতুর সঙ্গে আ-প্রত্যয়যুক্ত হলে, সাধারণত সেই 'এ' কারের উচ্চারণ 'অ্যা'-কার হয়ে থাকে। যথা : খেদা (খেদ + আ -= খ্যাদা) , ক্ষেপা (ক্ষেপ্ + আ = খ্যাপা), ঠেলা (ঠেল্ + আ =ঠ্যালা)ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫০.
কোনটি ভুল?
  1. শব্দের অন্তে 'এ' সংবৃত হয়
  2. একাক্ষর সর্বনাম পদের 'এ' সংবৃত হয়।
  3. ‘ই’ বা উ-কার পরে থাকলে 'এ' বিবৃত হয়।
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা

 এ-ধ্বনির সংবৃত (এ) উচ্চারণ :
ক.শব্দের অন্তে 'এ' সংবৃত হয়। যেমন— পথে ঘাটে ইত্যাদি।
খ. একাক্ষর সর্বনাম পদের 'এ' সংবৃত হয়। যেমন- কে, সে, যে
গ. ‘ই’ বা উ-কার পরে থাকলে 'এ' সংবৃত হয়। যেমন- দেখি, রেণু ইত্যাদি। 

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।