পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়34 minutes
মোট প্রশ্ন৪১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৭: বিষয়ের নাম: বাংলাদেশ বিষয়াবলী - [১০০ নাম্বার] পরীক্ষার টপিক: i) বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৪৭ - মুক্তিযুদ্ধ + সমসাময়িক) ii) বাংলাদেশের সংবিধান iii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার ব্যবস্থা iv) বাংলাদেশের জনসংখ্যা, আদমশুমারি, জাতি, গোষ্ঠী ও উপজাতি সংক্রান্ত বিষয়াদি। v) বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহ, জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলাসহ চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। উৎস: - ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির সংশ্লিষ্ট বোর্ড বই, - উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন বোর্ড বই, - বাংলাপিডিয়া, - সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট ও - যেকোনো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪১ প্রশ্ন

.
কিসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
  1. সামাজিক চেতনা
  2. সাম্প্রদায়িকতা
  3. বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  4. দ্বি-জাতি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এর ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে নিজস্ব জাতীয়তাবোধ তথা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তাই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।

এছাড়াও,
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আলোচনার সূত্রপাত হয়।
- পাকিস্তান সরকার বাংলাভাষাকে উপেক্ষা করার নীতি অবলম্বন করলে ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।
- রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ছাত্র সমাজের উত্থান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জাতীয়তাবাদ
  2. সমাজতন্ত্র
  3. গণতন্ত্র
  4. প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• প্রজাতন্ত্র - বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অন্তর্ভূক্ত নয়। 

• বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
- ৮ নং অনুচ্ছেদে ১ নং দফানুসারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হলো চারটি।

• এগুলো হলো:
- জাতীয়তাবাদ, 
- সমাজতন্ত্র, 
- গণতন্ত্র ও
- ধর্মনিরপেক্ষতা। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
.
বাংলাদেশের কোন নৃগোষ্ঠী যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য 'পাঞ্চেস’ গঠন করে?
  1. ওরাঁও
  2. রাখাইন
  3. সাঁওতাল
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
• ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে। 
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়। 
- ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে। এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। ওরাঁও জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুঁড়ুখ ব্যতীত সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।
- যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন আছে যাকে বলা হয় পাঞ্চেস।
- প্রতিটি গ্রামে একজন হেডম্যান বা মহাতোষ থাকে এবং একজন পুরোহিত বা নাইগাস থাকে।
-যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন আছে যাকে বলা হয় পাঞ্চেস। গ্রামের বয়স্ক সাত-আটজন ব্যক্তি দ্বারা পাঞ্চেস গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]
.
বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এর সংগীত পরিচালক কে ছিলেন?
  1. সঞ্জয় দাস
  2. আবদুল জব্বার খান
  3. সমর দাস
  4. হীরালাল সেন
ব্যাখ্যা
প্রথম সবাক চলচ্চিত্র:
 -  পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র হলো ‘মুখ ও মুখোশ’।
-  ছবিটি পরিচালনা করেন আবদুল জব্বার খান।
-  বাংলাদেশের প্রথম এই সবাক চলচ্চিত্র 'মুখ ও মুখোশ' এর সংগীত পরিচালক ছিলেন সমর দাস।
-  ১৯৫৫ সালের ৩০ অক্টোবর শেষ হয় 'মুখ ও মুখোশ 'চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হয় । 
-  মুক্তি পায় ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট।

এছাড়াও,
-  হীরালাল সেন পরিচালিত ‘আলী বাবা ও চল্লিশ চোর’ হলো উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।
.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৪(৩)
  2. ৪(২)
  3. ৪(১)
  4. ৪(ক)
ব্যাখ্যা
•সংবিধান:
-  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন সম্পর্কে বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। 

অন্যদিকে,
৪৷ (১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ৷
৪। (২) (২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত৷
৪। (৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা৷

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
.
'মাহালী' উপজাতিদের ধর্ম - 
  1. বৌদ্ধ
  2. খ্রিস্টান
  3. বৈষ্ণব
  4. ইসলাম
ব্যাখ্যা
• উপজাতির ধর্ম:
- বাংলাদেশে লুসাই, খাসিয়া ও মাহালী, গারো উপজাতির ধর্ম খ্রিস্টান।

অন্যদিকে,
- ডালু ও মণিপুরীদের ধর্ম বৈষ্ণব।
- ত্রিপুরা, হাজংদের ধর্ম সনাতন।
- রাখাইন, চাকমা, মারমা, চাক, খুমি, খিয়াং ইত্যাদি উপজাতির ধর্ম বৌদ্ধ।
- পাঙন উপজাতির ধর্ম ইসলাম।

উৎস: বান্দরবান জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া এবং চ্যানেল আই পত্রিকা রিপোর্ট।
.
কোন শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' সংঘটিত হয়?
  1. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  2. আতাউর রহমান শিক্ষা কমিশন
  3. খান শিক্ষা কমিশন
  4. আকরাম খাঁ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
১৯৬২'র শিক্ষা আন্দোলন: 
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ  কমিশনের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।
- এ প্রতিবেদনের সুপারিশে ছাত্রদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
- ফলে কঠোর আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলন 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন’ নামে পরিচিত ।

- ১৫ই আগস্ট থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৭ই সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত এবং কয়েকশ’ আহত হয়।
- এ আন্দোলনের ফলে শরীফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়।
- এই আন্দোলনের ফলে ছাত্ররা আইয়ুববিরােধী আন্দোলনের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী,  জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় উপজাতি -
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
 -জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- ২০২২ সালে জনশুমারিতে উপজাতির সংখ্যা উল্লেখ করা হয় - ৫০ টি। উপজাতির মানুষের সংখ্যা - ১৬,৫০,১৫৯ জন।
- নারী উপজাতির সংখ্যা - ৮,২৫,৪০৮ জন। পুরুষ উপজাতির সংখ্যা - ৮,২৪,৭৫১ জন।

এছাড়াও,
- জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় উপজাতি - চাকমা।
- চাকমা উপজাতির সংখ্যা - ৪,৮৩,২৯৯ জন।
- চাকমা বসবাস করে - রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার।
- জনসংখ্যা দিক দিয়ে দ্বিতীয়- মারমা।
- মারমা উপজাতি জনসংখ্যা - ২, ২৪, ২৬২ জন।
- জনসংখ্যা দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে - ত্রিপুরা।
- ত্রিপুরা উপজাতি সংখ্যা - ১,৫৬,৫৭৮ জন।
- চতুর্থ স্থানে - সাঁওতাল।
- সাঁওতাল উপজাতি সংখ্যা - ১২৯,৪৯ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ রিপোর্ট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করা হয় -
  1. ১৯৫৪ সালের ৪ মে
  2. ১৯৫৪ সালের ৪ এপ্রিল
  3. ১৯৫৪ সালের ৩০ মে
  4. ১৯৫৪ সালের ৩০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।

• যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের মূল লক্ষ্য ছিল - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি। 
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।ত

উৎস:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড।
১০.
কোনটি হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র?
  1. মাটির ময়না
  2. চিত্রা নদীর পাড়ে
  3. আবার তোরা মানুষ হ
  4. আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
• চলচ্চিত্র:
- হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র- 'আগুনের পরশমণি '
- আগুনের পরশমণি উপন্যাস নিয়ে ১৯৯৪ সালে নির্মাণ হয়।

এছাড়া, 
- 'আবার তোরা মানুষ হ' চলচ্চিত্রের পরিচালক- খান আতাউর রহমান।
- 'মাটির ময়না'  চলচ্চিত্রের পরিচালক- তারেক মাসুদ।
- 'চিত্রা নদীর পাড়ে' চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত। এটি পরিচালনা করেন তানভীর মোকাম্মেল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১১.
''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।'' উক্তিটি করেছেন-
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

উৎস: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৭ম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১২.
মুজিবনগর সরকারকে শপথ বাক্য কে পাঠ করান?
  1. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. এম হোসেন আলী
  3. অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
-পরবর্তীকালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

উৎস: ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
কত সালে 'Bangladesh Academy for Rural Development' প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৫৯ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
ব্যাখ্যা
BARD:
- BARD (Bangladesh Academy for Rural Development) বা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ১৯৫৯ সালের ২৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান।
- এটি কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ীতে অবস্থিত।।
- বার্ড বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।

উৎস: বার্ড ওয়েবসাইট।
১৪.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ভোটার তালিকার বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ১২১ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১২০ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১১৯ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১১৮ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগ - নির্বাচন অংশে ১২১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার তালিকার বিধান বর্ণনা করা হয়।
- অনুচ্ছেদ ১২১ নং অনুযায়ী সংসদের নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার একটি করে ভোটার-তালিকা থাকবে এবং ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদের ভিত্তিতে ভোটারদের বিন্যস্ত করে কোন বিশেষ ভোটার-তালিকা প্রণয়ন করা যাবে না।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদে ১১৮ - নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদে ১১৯ - নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- অনুচ্ছেদে ১২০ - নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫.
মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. বীর বিক্রম
  2. বীর উত্তম
  3. বীর প্রতীক
  4. বীর শ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।

• ১ম উপাধি: বীরশ্রেষ্ঠ, ৭ জন,
• ২য় উপাধি: বীর উত্তম, ৬৮ জন,
• ৩য় উপাধি: বীর বিক্রম, ১৭৫ জন এবং
• ৪র্থ উপাধি: বীর প্রতীক, ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
      
১৬.
নিচের কোন পত্রিকা পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ে ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ডেইলি টেলিগ্রাফ
  2. নিউইয়র্ক টাইমস
  3. ডেইলি নিউজ
  4. উইকস ট্রিবিউন
ব্যাখ্যা
পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র সময় ব্রিটেনের ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গোপনে অবস্থান করে পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরবর্তীতে ৩০শে মার্চ ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় তিনি ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সর্বপ্রথম পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করেন।
- এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বহির্বিশ্ব প্রথম পূর্ব পাকিস্তানে পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে জানতে পারে।
- সায়মন ড্রিং গত ১৬ জুলাই ২০২১ রোমানিয়ার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
১৭.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
  2. এলান পটার
  3. অধ্যাপক মাইরন উহনার
  4. ফাইনার
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে,
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি হিসেবে অভিহিত করেন।
- এলান পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক  শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বলতে নিচের কোনটিকে নির্দেশ করে?
  1. জনসংখ্যার ঋণাত্মক বৃদ্ধির হার
  2. নির্ভরশীল অপেক্ষা কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা অধিক
  3. নির্ভরশীল জনসংখ্যার আধিক্য
  4. স্থিতিশীল জনসংখ্যা
ব্যাখ্যা
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড:
- ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ধারণাটি মূলত জনসংখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট।
- যখন একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা অর্থাৎ ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের অধিক হয় তখন তাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থায় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী (১৫ বছরের কম ও ৬০+) সংখ্যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অপেক্ষা কম হয়।
- বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ অবস্থা অতিবাহিত করছে। বর্তমানে দেশে ১৫-৫৯ বছর বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ শতকরা ৬৩.৩ শতাংশ।
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের তথ্যানুসারে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা ভোগ করবে।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হলে একটি দেশ দ্রুত উন্নয়ন সাধন করতে পারে।

উৎস: বিবিএস ও জাতিসংঘ ওয়েসাইট এবং ডেইলি স্টার।
১৯.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠিত হয় -
  1. ২৭ নভেম্বর, ১৯৭১
  2. ২৫ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ২১ শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করেছিল।
- পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ভারতীয় বাহিনী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যােগ দেয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
২৬ মার্চ কে স্বাধীনতা দিবস ঘোষনা করা হয় -
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা দিবস:
- ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।
- ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেজন্যে একে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২১.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধান সংশোধন করা হয়?
  1. ১৪৮ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১৪২ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানে:
- বাংলাদেশের সংবিধানের দশম ভাগের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও-
(ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে,

(অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;
(খ) উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।]

এছাড়াও -
- ১৪৬ নং অনুচ্ছেদে - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- ১৪৪ নং অনুচ্ছেদে সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব সম্পর্কে উল্লেখ আছে।
- ১৪৮ নং অনুচ্ছেদ: পদের শপথ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
২২.
মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়া কত নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ৮ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৬ নং সেক্টর
  4. ৫ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
সেক্টর:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। 
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- ৮ নং সেক্টর  এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
- সেক্টরের সৈন্যদের মধ্যে ৩০০০ ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং ২৫০০০ গেরিলা সৈন্য।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর সমাধি রয়েছে -
  1. নড়াইলে
  2. সিলেটে
  3. যশোরে
  4. চট্রগ্রামে
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ:
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, যশোর জেলার অর্ন্তঃগত নড়াইল মহকুমার মহিষখোলা গ্রামে।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯, তদানিন্তন ইপিআর-এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর গঠন হলে তাঁর উপর ন্যস্ত হয় ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব।
- তিনি নিয়োগ পান বয়রা সাব-সেক্টরে।
- এই সাব-সেক্টরের অধীনে গোয়ালহাটি, ছুটিপুর ঘাট, ছুটিপুর সেনাক্যাম্প, বরনী আক্রমণে অংশ নেন এবং বীরত্ব প্রদর্শন করেন।
- বরনীতে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার জীবন রক্ষা করেন।
- ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সুতিপুর প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে ষ্ট্যান্ডিং পেট্রোলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন প্রায় একাই।
- আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র যশোরের কাশীপুরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় কবে ?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট:
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকায় অবস্থিত।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট -এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০০১ সালের ১৫ মার্চ।
- উদ্বোধন করা হয় ২০১০ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারী।
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রধানের পদবী পরিচালক।

উৎস: আইন মন্ত্রণালয় ও প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
 
২৫.
নিচের কোন উপজাতীয় ভাষাদ্বয়ের নিজস্ব বর্ণমালা আছে?
  1. চাকমা ও মগ
  2. হাজং ও সাওতালী
  3. চাকমা ও মণিপুরী
  4. হাজং ও চাকমা
ব্যাখ্যা
উপজাতি:
- বাংলাদেশে ৫০ টি উপজাতি বসবাস করলেও এদের সকলের নিজস্ব ভাষা নেই।
- কোচ, রাজবংশী, হাড়ি, পাতোর, বেদে সহ অনেকগুলো উপজাতীরই নিজস্ব ভাষা নেই।
- এরা বাংলা ভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশে উপজাতী ভাষার সংখ্যা ত্রিশটির অধিক।
- এদের মধ্যে একমাত্র চাকমা এবং মগ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট ১১ টি উপজাতি বসবাস করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
২৬.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের আলোকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হয়?
  1. অনুচ্ছেদ ২৫
  2. অনুচ্ছেদ ২৪
  3. অনুচ্ছেদ ২৩
  4. অনুচ্ছেদ ২২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ২৫:
- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র
(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
২৭.
কোন আইন সংস্কার করে 'র‍্যাব' (Rapid Action Battalion) গঠন করা হয়?
  1. আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অ্যাক্ট, ১৯৭৯
  2. ডিএমপি অ্যাক্ট, ১৯৭৯
  3. ডিবি পুলিশ অ্যাক্ট, ১৯৮৩
  4. র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন অ্যাক্ট, ২০০২
ব্যাখ্যা
• Rapid Action Battalion:
- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ,১৯৭৯-এ সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০৩ সালে  ‘র‌্যাব’ (Rapid Action Battalion) গঠন করা হয়।
- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ,১৯৭৯-র ২০০৪-এ সংশোধন করা কতিপয়  বিধানের আওতায় গঠিত ও পরিচালিত হয়  ‘র‌্যাব’ (Rapid Action Battalion)।
- র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)  সরকার ২০০১ সাল পরবর্তী সময় থেকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্র্মবর্ধমান অবনতি রোধকল্পে গুরুতর অপরাধীসহ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের চিন্তাভাবনা করছিল। এ সংক্রা্ন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ২০০৩ সালে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। 

উৎস: প্রথম আলো ও যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
কোন জেলায় পাঙন উপজাতির বসবাস করে?
  1. রাঙামাটি
  2. নেত্রকোনা
  3. খাগড়াছড়ি
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
পাঙন উপজাতি:
- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।

উৎস:- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং জস্তীয় তথ্য বাতায়ন।
২৯.
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয় -
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
আইন:
-  বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয় ১৯৮০ সালে। 
- ১৯৮০ সালের Dowry Prohibition Act অনুসারে যৌতুক বলতে “বিবাহে এক পক্ষ কতৃর্ক অপর পক্ষকে অথবা বিবাহের কোনো এক পক্ষের পিতামাতা কতৃর্ক বা অন্য যে কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক অপর পক্ষকে বা অপর কোনো ব্যক্তিকে, বিবাহকালে বা বিবাহের পূর্বে বা পরে যে কোনো কালে উক্ত পক্ষগণের বিবাহের পণ হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদান করতে সম্মত যে কোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে বুঝায়।”    

উৎস:- Ministry of Law এবং সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি সিআরপিসি’র কোন ধারায় রেকর্ড করা হয়?
  1. ১৬৪ ধারা
  2. ৬৪ ধারা
  3. ১৫৪ ধারা
  4. ৫৪ ধারা
ব্যাখ্যা
- ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি সিআরপিসি’র  ১৬৪ ধারা জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন ধারা:
- ৫৪ ধারা বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করার ক্ষমতা।
- ১৪৪ ধারা মানুষের চলাচল, আচরণ অর্থাৎ মৌলিক কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা।
- ১৫৪ ধারা ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা।
- ১৭৩ ধারা এই ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়।
- ৪২০ ধারা বাংলাদেশ পেনাল কোডের একটি ধারা যেখানে প্রতারণার জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩১.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৭ জন
  2. ৬ জন
  3. ৫ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার:
- বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দনি আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১০ এপ্রিল একটি অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নতুন সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয় ।

অস্থায়ী সরকারের  ৬ সদস্য বিশিষ্ট:
১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: রাষ্ট্রপতি,
২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি, 
৩. তাজউদ্দিন আহমদ: প্রধানমন্ত্ৰী,  
8. খন্দকার মোশতাক আহমদ: পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্ৰী,  
৫. এম. মনসুর আলী: অর্থমন্ত্রী,
৬. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী, 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
'ফাগুয়া' কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব?
  1. সাঁওতাল
  2. মারমা
  3. ওরাওঁ
  4. গারো
ব্যাখ্যা
বর্ষবরণ উৎসব:
- 'ফাগুয়া' ওরাওঁ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বসন্তে ওরাওঁ উপজাতি বর্ষবরণ উৎসব করে ।
- ফাগুয়া অর্থাৎ ফাল্গুন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়।
- ওরাওঁ যুবক-যুবতীরা অগ্নিখেলার মধ্য দিয়ে বছরের প্রথম রাতটি উৎযাপন করে।
- এসব উৎসবে  বাদ্যযন্ত্র হিসেবে থাকে ঢোল, মাদল, করতাল ও বাঁশি।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।

অন্যদিকে, 
চাকমা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব- বিজু।
মারমা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব- সাংগ্রাই।
সাঁওতালদের প্রধান উৎসব -  সোহরাই।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
'দ্য রেবেল ক্রো’ চিত্রকর্মটির শিল্পী কে?
  1. জয়নুল আবেদীন
  2. এস এম সুলতান
  3. কাইয়ুম চৌধুরী
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
চিত্রকর্মের শিল্পী:
- দ্য রেবেল ক্রো’ চিত্রকর্মের শিল্পী হলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।

অন্যান্য চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- ম্যাডোনা-৪৩,
- নবান্ন, 
- মনপুরা-৭০,
- মইটানা, 
- পাইন্যার মা প্রভৃতি।
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে বিভিন্ন ছবি এঁকে খ্যাতি অর্জন করেন। দুর্ভিক্ষের উপর তার বিখ্যাত চিত্রকর্ম হলো ম্যাডোনা-৪৩।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
'হাতির ঝিল‘- এর নকশার পরিকল্পনা করেন কে?
  1. হামিদুজ্জামান খান
  2. নিতুন কুণ্ডু
  3. শামীম শিকদার
  4. এহসান খান
ব্যাখ্যা
হাতির ঝিল:
- 'হাতির ঝিল‘- এর নকশার পরিকল্পনা করেন স্থপতি এহসান খান
- তিনি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে গ্র্যাজুয়েশন করেন।
- তিনি ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।  

অন্যদিকে,
- হামিদুজ্জামান খান 'সংশপ্তক' এর ভাস্কর।
- 'সাবাস বাংলাদেশ' এর ভাস্কর নিতুন কুণ্ডু।
- স্বােপার্জিত স্বাধীনতার স্থপতি শামীম শিকদার।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট  এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৫.
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয় -
  1. ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
  2. ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
  3. ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৮
  4. ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯৮
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি:
- ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি।
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চটগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
- চুক্তিতে বালাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য শান্তি স্থাপনের পথ সুগম হয়।
- ২ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
বাংলাদেশ সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশ হয়েছে?
  1. ১১৪ নং অনুচ্ছেদে
  2. ১১৫ নং অনুচ্ছেদে
  3. ১১৬ নং অনুচ্ছেদে
  4. ১১৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান:
 - সংবিধানের ১১৭ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধান অনুসারে জাতীয় সংসদ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে থাকে।
ট্রাইব্যুনাল হলো কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে স্থাপিত আদালত যা সাধারণত জনকল্যাণমূলক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেমনঃ শ্রম আদালত, ভাড়া নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৭.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন -
  1. ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে
  2. ১১ মার্চ ১৯৭২ সালে
  3. ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে
  4. ১২ মার্চ ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধানে তফসিল রয়েছে - ৭ টি।
- সংবিধানে অনুচ্ছেদ রয়েছে - ১৫৩ টি।
- মূলনীতি রয়েছে - ৪ টি।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয় - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান - ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল - ৩৪ জন।

- হস্তা লিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করে - শেখ মুজিবুর রহমান।
- হস্ত লিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি - সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করা হয় - ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন - শেখ ‍মুজিবুর রহমান।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৮.
বাংলাদেশের কোথায় কমনওয়েলথ সমাধি রয়েছে?
  1. যশোরে
  2. সিলেটে
  3. কুমিল্লায়
  4. খুলনায়
ব্যাখ্যা
কমনওয়েলথ সমাধি:
- ২য় বিশ্বযুদ্ধে মিয়ানমারে (তৎকালীন বার্মা) সংঘটিত যুদ্ধে যে ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সৈন্য নিহত হন তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মিয়ানমার, আসাম এবং বাংলাদেশে মােট ৯টি সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।
- এর মধ্যে বাংলাদেশে ২টি কমনওয়েলথ সমাধিক্ষেত্র রয়েছে।
- যার একটি কুমিল্লার ময়নামতিতে এবং অন্যটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
জুমিয়া পরিবার বলতে কী বুঝায়?
  1. পাট ও জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল পরিবারকে
  2. জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল পরিবারকে
  3. গম ও জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল পরিবারকে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জুমচাষ:
- জুম হলো এক প্রকার স্থানান্তর চাষাবাদ পদ্ধতি যা পাহাড়ী এলাকায় প্রচলিত। এই পদ্ধতিতে পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল কেটে বা পুড়িয়ে কৃষি জমি প্রস্তুত করে চাষ করা হয়। কয়েক বছর চাষাবাদ করার পর তা ছেড়ে অন্যত্র চাষ করা হয়।
- জুমচাষের উৎপত্তি সুইডেন থেকে।
- তাই একে সুইডেন অ্যাগ্রিকালচারও বলা হয়।
- বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ভূমিতে জুমচাষ হয়।
- জুমিয়া পরিবার বলতে জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল পরিবারকে বোঝায়।
- বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মাঝে জুমচাষ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং  কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট। [লিঙ্ক]
৪০.
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগে কতটি অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান ছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
 - ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
- ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন।
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
- তাই বলা যায় যে, বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগে দুইটি অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান ছিল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১.
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ কার নিকট জবাবদিহি করে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. কেন্দ্রীয় প্রশাসন
  3. বিচার বিভাগ
  4. আইন বিভাগ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের বিভাগ সমূহ: 
১. আইন বিভাগ,
২. বিচার বিভাগ,
৩. নির্বাহী বা শাসন বিভাগ।
- সাধারণত কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ বা নির্বাহী বিভাগ জবাবদিহি করে আইন বিভাগের নিকট।
- উল্লেখ্য যে,  রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
- তিনি আইন পরিষদের নিকট দায়ী নন।

অন্যদিকে,
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হল নামমাত্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হলেন শাসন বিভাগ তথা নির্বাহী বিভাগের প্রধান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।