ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।
-----------------
উল্লেখ্য,
বাংলাপিডিয়া অনুসারে,
জ্ঞানদাস নিত্যানন্দের ভাবশিষ্য এবং তাঁর পত্নী বৈষ্ণব সমাজের নেত্রীস্থানীয় জাহ্নবীদেবীর মন্ত্রশিষ্য ছিলেন।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম অনুসারে,
তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করেন বলে- চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।
তিনি বিদ্যাপতির আলঙ্কারিক রীতি পরিত্যাগ করে চণ্ডীদাস ও নরহরি সরকারের সহজ, সরল ও মরমী রীতিতে পদ রচনা করেছেন।
------------------
জ্ঞানদাস আধ্যাত্মিকভাবে নিত্যানন্দ ও জাহ্নবীদেবীর শিষ্য হলেও কাব্যরচনায় তিনি চণ্ডীদাসের ভাবধারা অনুসরণ করেন। তাঁর কবিতায় বিদ্যাপতির জটিল অলঙ্কারের পরিবর্তে চণ্ডীদাস ও নরহরি সরকারের মতো সহজ, মার্জিত ও মরমীয় ভাষা দেখা যায়। তাই ধর্মীয় দীক্ষায় তিনি নিত্যানন্দের শিষ্য হলেও সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণে তিনি চণ্ডীদাসের ‘ভাবশিষ্য’।পরীক্ষায় অপশন বিবেচনায় উত্তর করতে হবে।
অর্থ্যাৎ,
ধর্মীয় দীক্ষা পেয়েছেন নিত্যানন্দ–জাহ্নবীর কাছ থেকে — (আধ্যাত্মিক/বৈষ্ণবধর্মীয় গুরু)
কাব্যিক অনুপ্রেরণা নিয়েছেন চণ্ডীদাসের কাছ থেকে — (সাহিত্যিক গুরু/ভাবশিষ্যতা)
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।