পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৬ [প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ৩য় ধাপের জন্য] বিষয়ভিত্তিক ফাইনাল পরীক্ষা: বাংলা
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
বাক্‌প্রত্যঙ্গের সবচেয়ে বাইরের অংশের নাম কী?
  1. ওষ্ঠ
  2. তালু
  3. দন্ত
  4. মূর্ধা
ব্যাখ্যা
বাগ্‌যন্ত্র:
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

বাগযন্ত্রের অংশের মধ্যে রয়েছে:
- ফুসফুস,
- শ্বাসনালি,
- স্বরযন্ত্র,
- জিভ,
- আলজিভ,
- তালু,
- মূর্ধা,
- দন্তমূল ও দন্ত,
- ওষ্ঠ,
- নাসিকা।

ওষ্ঠ:
- বাক্‌প্রত্যঙ্গের সবচেয়ে বাইরের অংশের নাম ওষ্ঠ বা ঠোঁট।
- ওষ্ঠের মধ্যকার ফাঁকের কম-বেশির ভিত্তিতে স্বরধ্বনিকে সংবৃত ও বিবৃত এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণ করতে ওষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
ভেঙে আলাদা করা যায় না কোন শব্দকে?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. সাধিত শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• ভেঙে আলাদা করা যায় না - মৌলিক শব্দ

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন এর কোন জাতীয় রচনা?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গাথাকাব্য
  3. উপন্যাস
  4. রূপককাব্য
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'প্রবণতা' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. অনিশ্চয়তা
  2. অনৈতিকতা
  3. উদাসীনতা
  4. বাধাহীনতা
ব্যাখ্যা
• 'প্রবণতা' এর বিপরীত শব্দ - উদাসীনতা

অন্যদিকে,
• 'অনিশ্চয়তা' এর বিপরীত শব্দ - নিশ্চয়তা
• 'অনৈতিকতা' এর বিপরীত শব্দ - নৈতিকতা।
• 'বাধাহীনতা' এর বিপরীত শব্দ - বাধা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের রচয়িতা -
  1. কায়কোবাদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রফিক আজাদ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মহাশ্মশান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ মহাশ্মশান (১৯০৫) (মহাকাব্য)।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের খণ্ড তিনটি।

কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'নদ্যম্বু' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নদ + অম্বু
  2. নদ্য + অম্বু
  3. নদ্যা + অম্বু
  4. নদী + অম্বু
ব্যাখ্যা
• 'নদ্যম্বু' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নদী + অম্বু

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য(্য) ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
- ই + অ = য্ + অ; অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
- ই + আ = য্ + আ; ইতি + আদি = ইত্যাদি। 
- ই + উ = য্‌ + উ; অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
- ই + উ = য্‌ + উ; প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
- ঈ + আ = য্ + আ; মসী + আধার = মস্যাধার।
- ই + এ = য্ + এ; প্রতি + এক = প্রত্যেক।
- ঈ + অ = য্ + অ; নদী + অম্বু = নদ্যম্বু

এরূপ - প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, আদ্যন্ত, যদ্যপি, অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. অনন্ত
  2. অন্তরীপ
  3. অনুক্ষণ
  4. অনুতাপ
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস - অনুক্ষণ

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ বহুব্রীহি - অনন্ত।
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি - অন্তরীপ।
• প্রাদি সমাস - অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  3. ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
  4. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়

অন্যান্য অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
- বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।
- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
তদ্ভব শব্দ কোনটি?
  1. কুলা
  2. ভবন
  3. মহাপরিচালক
  4. মাছ
ব্যাখ্যা
• তদ্ভব শব্দ - মাছ

বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. তৎসম,
২. তদ্ভব,
৩. দেশি ও
৪. বিদেশি।
- এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তদ্ভব শব্দ: 
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। 
যথা: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, মাছ, কুমির ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দেশি শব্দ - কুলা।
• তৎসম শব্দ - ভবন, মহাপরিচালক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
বাংলা লিপির আধুনিকতার রূপকার -
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. চার্লস উইলকিন্স
  3. পঞ্চানন কর্মকার
  4. রেভারেণ্ড জেমস্‌ কিথ
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপির আধুনিকতার রূপকার - পঞ্চানন কর্মকার

বাংলা লিপি:
- বাংলা অক্ষর বা লিপি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাল যুগে লিপির কাজ শুরু হলেও সেন যুগে লিপির সুসংগঠন হয়।
- চার্লস উইলকিন্স বাংলা লিপির প্রথম নকশা করেন, কিন্তু আধুনিক রূপ দেন পঞ্চানন কর্মকার।
- তাই বাংলা লিপির জনক বা প্রথম নকশাকারক চার্লস উইলকিন্স হলেও আধুনিকতার রূপকার পঞ্চানন কর্মকার

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
'অনুর্বর' এর বিপরীত শব্দ -
  1. মরুময়
  2. ধূসর
  3. উর্বর
  4. ঊষর
ব্যাখ্যা
• 'অনুর্বর' এর বিপরীত শব্দ - উর্বর

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
→ ঊষা - সন্ধ্যা।
→ ঐহিক - পারত্রিক।
→ গ্রহীতা - দাতা।
→ শবল - একবর্ণা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
সারমর্মের অপর নাম কোনটি?
  1. ভাব সম্প্রসারণ
  2. মর্মার্থ
  3. সারাংশ
  4. সারসংক্ষেপ
ব্যাখ্যা
• সারমর্মের অপর নাম - মর্মার্থ

সারাংশ ও সারমর্ম:
- সাধারণত গদ্যরচনার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারাংশ, আর কাব্যভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাবকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারমর্ম।
- সারাংশকে সারসংক্ষেপ এবং সারমর্মকে মর্মার্থও বলা হয়ে থাকে।
- একটি বিষয় সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা পেতে সারাংশ ও সারমর্ম বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম:
ক. প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
খ. অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
গ. প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
ঘ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
ত. সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
চ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।
ছ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
‘মা গো ভাবনা কেন/ আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে' গানটির গীতিকার কে?
  1. গোবিন্দ হালদার
  2. গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
  3. নজরুল ইসলাম বাবু
  4. নয়ীম গহর
ব্যাখ্যা
• ‘মা গো ভাবনা কেন/ আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে' গানটির গীতিকার - গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার

‘মা গো ভাবনা কেন/ আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে' গান:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান।
- গানটির সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তিনিই এই গানে কণ্ঠ দেন।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাঁর রচিত আরেকটি জনপ্রিয় গান -

‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে/ লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি/ আকাশে-বাতাসে ওঠে রণি:/ বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা,
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৮।
১৪.
'প্রান্তর' শব্দের অক্ষর বিন্যাস কোনটি?
  1. প্র + আন + তর্‌
  2. প্রা + ন + ত + র
  3. প্রান্‌ + তর্‌
  4. প্রান্ত + অর্‌
ব্যাখ্যা
প্রান্তর:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অক্ষর বিন্যাস: প্রান্‌ + তর্‌
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: প্র + অন্তর।
- অর্থ: মাঠ; জনবসতিহীন বিস্তৃত ভূমি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫.
'ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. বিস্ময়সূচক বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা -
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)

তদ্রুপ - তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।' - বাক্যে 'সোনা' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• 'এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।' - বাক্যে 'সোনা' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

• 'এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'এত কী মোর ছড়াইয়া দিল কারা?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সোনা'। তাই, 'সোনা' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!' - এ গানে কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. আনন্দ
  2. নিরুৎসাহ
  3. মুক্তি
  4. রসবোধ
ব্যাখ্যা
• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - এ গানে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।

• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - এটি অতুলপ্রসাদ সেন রচিত জনপ্রিয় দেশাত্ববোধক গান।
- তাঁর এই গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- অনেক আন্দোলন, ত্যাগ, তিতিক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত আমাদের মাতৃভাষা 'বাংলা', যার মাধ্যমে আমরা আবেগ, ভালোবাসা ইত্যাদি প্রকাশ করে আনন্দ পাই, এই ভাবই এই গানে প্রকাশ পেয়েছে।

বাংলা ভাষা,
---- অতুলপ্রসাদ সেন
মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে,
তোমার বোলে,
কতই শান্তি ভালোবাসা!

কি যাদু বাংলা গানে!
গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,
গেয়ে গান নাচে বাউল,
গান গেয়ে ধান কাটে চাষা!

বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন্‌,
হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন-
ঐ ফুলেরই মধুর রসে,
বাঁধলো সুখে মধুর বাসা!

বাজিয়ে রবি তোমার বীণে,
আনলো মালা জগৎ জিনে!
তোমার চরণ-তীর্থে আজি,
জগৎ করে যাওয়া-আসা!

ঐ ভাষাতেই নিতাই গোরা,
আনল দেশে ভক্তি-ধারা,
আছে কৈ এমন ভাষা,
এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা?

ঐ ভাষাতেই প্রথম বোলে,
ডাকনু মায়ে ‘মা, মা’ বলে;
ঐ ভাষাতেই বলবো হরি,
সাঙ্গ হলে কাঁদা হাসা!

মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. কর্তায় ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' - নিম্নরেখ শব্দটি করণে ৭মী বিভক্তি।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

সপ্তমী বিভক্তি:
• 'এ' বিভক্তি:
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

• 'তে' বিভক্তি:
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল।
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

• 'য়' বিভক্তি:
চেষ্টায় সব হয়।
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

• 'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসে গিয়েছে ভরি?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ধানে'। তাই, 'ধানে' করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
'অংস' শব্দের অর্থ কী?
  1. কাঁধ
  2. কাসা
  3. ভাগ
  4. সূর্য
ব্যাখ্যা
অংস:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: স্কন্ধ, কাঁধ

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. একাত্তরের নয়মাস
  3. একাত্তরের ডায়েরী
  4. একাত্তরের ঢাকা
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ - একাত্তরের দিনগুলি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।
- এটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি

অন্যদিকে,
• রাবেয়া খাতুন রচিত প্রবন্ধ - একাত্তরের নয়মাস।
• সুফিয়া কামাল রচিত স্মৃতিকথা - একাত্তরের ডায়েরী।
• সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - একাত্তরের ঢাকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'একাত্তরের নয়মাস', রাবেয়া খাতুন।
২১.
'অহংকারী' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. গর্বিত
  2. দর্পযুক্ত
  3. নিরহংকার
  4. নিরহঙ্কারী
ব্যাখ্যা
• 'অহংকারী' এর বিপরীত শব্দ - নিরহংকার

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
→ প্রাচী - প্রতীচী।
→ ধারালো - ভোঁতা।
→ হরণ - পূরণ।
→ হৃদ্যতা - কপটতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২.
'যে আকৃষ্ট হচ্ছে' এর এককথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. কৃষ্যমাণ
  2. ক্ষীয়মাণ
  3. নীয়মান
  4. বক্ষ্যমাণ
ব্যাখ্যা
• 'যে আকৃষ্ট হচ্ছে' এর এককথায় প্রকাশ - কৃষ্যমাণ

অন্যদিকে,
• 'যা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে' এর এককথায় প্রকাশ - ক্ষীয়মাণ।
• 'যা বহন করা হচ্ছে' এর এককথায় প্রকাশ - নীয়মান।
• 'যা বলা হচ্ছে' এর এককথায় প্রকাশ - বক্ষ্যমাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. আনন্দময়ী
  2. কিরণময়ী
  3. কুমুদিনী
  4. বিনোদিনী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় - কিরণময়ী
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' (১৯১৭) উপন্যাসের চরিত্র।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' উপন্যাসের চরিত্র - আনন্দময়ী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র - কুমুদিনী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. প্রণয়ণ
  2. প্রণয়ন
  3. প্রনয়ণ
  4. প্রনয়ন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - প্রণয়ন
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: রচনা, গ্রন্থন; নির্মাণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. মহাপৃথিবী (কাব্যগ্রন্থ)
  2. মাল্যবান (নাটক)
  3. শেষ লেখা (উপন্যাস)
  4. সুড়ঙ্গ (গল্প)
ব্যাখ্যা
মহাপৃথিবী:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
মাল্যবান:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস
- এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

শেষ লেখা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ
- এটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়।

সুড়ঙ্গ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক
- এটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬.
‘Nebula’ এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. উল্কা
  2. কক্ষ
  3. ছায়াপথ
  4. নীহারিকা
ব্যাখ্যা
• ‘Nebula’ এর বাংলা পরিভাষা - নীহারিকা

অন্যদিকে, 
• ‘Meteor’ এর বাংলা পরিভাষা - উল্কা।
• ‘Orbit’ এর বাংলা পরিভাষা - কক্ষ।
• ‘Galaxy’ এর বাংলা পরিভাষা - ছায়াপথ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
২৭.
'নারি' শব্দটির অর্থ -
  1. না পারি
  2. পানি
  3. শিরা
  4. স্ত্রীলোক
ব্যাখ্যা
নারি:
- শব্দটি ক্রিয়া।
- এটি বাংলা শব্দ।
- অর্থ: (কাব্যে) না পারি (যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।