পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ১০ টপিক: রিভিশন (পরীক্ষা ৮ ও ৯) [Class Lecture – 12 to 15]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশে কোন মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শীতকাল শুষ্ক এবং ঠান্ডা হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  3. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  4. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
মৌসুমি বায়ু:
- মৌসুমি বায়ু এমন এক প্রকার বায়ু যা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে দিক পরিবর্তন করে।
- এর নামটি আরবি "মত্তসুম" শব্দ থেকে এসেছে, যার মানে ঋতু।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয়।
- ঋতু ভেদে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক এবং ঠান্ডা হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু (শীতকালীন) প্রভাবে শীতকাল শুষ্ক এবং ঠান্ডা হয়।

উল্লেখ্য, 
- বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসে বলে একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলে। কিন্তু শীতকালে এর বিপরীত অবস্থা ঘটে।
- শীতকালে এ বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম সমূদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে, যার ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- পক্ষান্তরে শীতকালীন মৌসুমী বায়ু সাধারণত স্থল ভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে এবং সামান্য বৃষ্টি পাত হয়।

এছাড়াও, মৌসুমি বায়ুর বৈশ্বিক প্রভাব:
- বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা কৃষি উৎপাদনে সহায়ক।
- শীতকালে শুষ্ক বায়ুর প্রভাব কৃষি ও পরিবেশে পরিবর্তন আনে।
- দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি ও জীবনযাত্রার উপর মৌসুমি বায়ুর বিশাল প্রভাব রয়েছে।
- এটি বৃষ্টি সরবরাহ করায় ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে সহায়ক।
- দক্ষিণ এশিয়া ছাড়াও আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়া মৌসুমি বায়ু প্রবাহ দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি) প্রোগ্রাম।
.
বাংলাদেশে বর্ষাকালের সময়সীমা ধরা হয়-
  1. মার্চ থেকে মে
  2. এপ্রিল থেকে জুন
  3. জুন থেকে অক্টোবর
  4. নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
জুন থেকে অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুন থেকে অক্টোবর
ব্যাখ্যা
⇒ বর্ষাকাল:
- বর্ষাকাল জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে বর্ষাকালের সময়সীমা ধরা হয়- জুন থেকে অক্টোবর।

- জুন মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে বর্ষাকাল শুরু হয়।
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আকাশে ৮০-৯০ শতাংশ আর্দ্রতা থাকে।
- এই সময় বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়।
- গড় বৃষ্টিপাত ১১৯ সেন্টিমিটার থেকে ৩৪০ সেন্টিমিটার হতে পারে।

⇒ শীতকাল:
- শীতকালে বাংলাদেশের আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত থাকে এবং সুন্দর আবহাওয়া থাকে।
- সাধারণত নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- শীতকালে উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, যা বার্ষিক বৃষ্টিপাতের দুই শতাংশের বেশি নয় এবং ১০০ মিলিমিটার এর বেশি হয় না।
- শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে, প্রায় ৩৬ শতাংশ।

⇒ গ্রীষ্মকাল:
- গ্রীষ্মকাল মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত হয়।
- মার্চে আকাশে মেঘের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ থাকে, যা মে মাসে বেড়ে ৫০-৬০ শতাংশে পৌঁছায়।
- গ্রীষ্মকালীন কালবৈশাখী ঝড় বজ্র বিদ্যুৎসহ প্রবল বেগে চলে।
- এর গতি প্রতি ঘণ্টায় ৪০-৮০ কিলোমিটার, কখনও কখনও ১২৮ কিলোমিটারও হতে পারে।
- এই সময়ে গড় বৃষ্টিপাত ৫১০ মিলিমিটার হয়।

তথ্যসূত্র: - অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোন জেলাগুচ্ছ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঢাকা, রাজবাড়ী, মাদারীপুর
  2. বরিশাল, পটুয়াখালী, চাঁদপুর
  3. কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান
  4. রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এই অঞ্চলে খরার কারণগুলো নিম্নরূপ:
- স্বল্প বৃষ্টিপাত: এই অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কম। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায় এবং কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- তীব্র গ্রীষ্মকাল: উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হ্রাস পায় এবং খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
- জলবায়ুর পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরণে পরিবর্তন আসছে, যা খরার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে।
- নদীপ্রবাহের হ্রাস: এই অঞ্চলে নদীপ্রবাহের পরিমাণ কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যায়, যার ফলে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংকট দেখা দেয়।
- আবহাওয়ার চক্র: এই অঞ্চলের আবহাওয়ার চক্রের কারণে খরার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে রবি ফসলের সময় মাটির আর্দ্রতা কম থাকে, যার ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান: নবম-দশম শ্রেণী ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোন নদী 'কীর্তিনাশা' নামে পরিচিত?
  1. পদ্মা নদী
  2. যমুনা নদী
  3. মেঘনা নদী
  4. ব্রহ্মপুত্র নদী
সঠিক উত্তর:
পদ্মা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মা নদী
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- পদ্মা নদী 'কীর্তিনাশা' নামে পরিচিত। 
- ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি।
- রাজশাহীর কাছে কুষ্টিয়ার উত্তর প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- তারপর গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- অতঃপর তিন নদীর মিলিত স্রোত বঙ্গোপসাগরে ঢুকেছে।
- শাখা নদী: মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসা, পশুর (বা পসুর) বড়াল প্রধান।
- উপনদী: মহানন্দা, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, নগর, কুলিক।

উল্লেখ্য,
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
              ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চাঁদপুর
  3. বরিশাল
  4. ফরিদপুর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং মেঘনা নদীর পলিতে গঠিত বাংলাদেশ।
- ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণ রোডে “হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরি” প্রতিষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতার পরে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার “নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট” প্রতিষ্ঠা করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুরে ৮৬ একর জমিতে এই প্রতিষ্ঠানটি নির্মিত হয়।
- অর্থাৎ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত।

- ১৯৯০ সালের ৫৩ নং আইনের মাধ্যমে এটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আলাদা হয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফরিদপুর জেলা ওয়েবসাইট।
.
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি সাধারণত কোথায় পাওয়া যায়?
  1. সুন্দরবনের দক্ষিণাঞ্চলে
  2. রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে
  3. চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে
  4. ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ: 
বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।

মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন 

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
.
নিচের কোন নদী মেঘনার শাখানদী?
  1. গোমতী
  2. ডাকাতিয়া
  3. তিতাস
  4. কাসনি
সঠিক উত্তর:
ডাকাতিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকাতিয়া
ব্যাখ্যা
মেঘনা (Meghna):
- ভারতের আসামের নাগা-মনিপুর পাহাড়ে বরাক নদী উৎপন্ন হয়ে সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- সুরমা, কুশিয়ারা ও কালনী নদী একত্র হয়ে কালনী নামে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নামে পরিচিত হয়।
- মেঘনা নদী ভৈরববাজারের কাছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।
- চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিশে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- মেঘনার প্রধান উপনদী হলো মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী ও কাসনি।
- মেঘনার শাখানদী জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।
- মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'তল্লাশি ও উদ্ধার' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোনটির আওতাভুক্ত?
  1. প্রতিরোধ
  2. পুনরুদ্ধার
  3. উন্নয়ন
  4. সাড়া দান
সঠিক উত্তর:
সাড়া দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়া দান
ব্যাখ্যা
⇒ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

⇒ সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।



তথ্যসূত্র:  ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম -১০ম শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে কোন ধরনের বন্যা সৃষ্টি হয়?
  1. মৌসুমী বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. উপকূলীয় বন্যা
  4. নগর বন্যা
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
দেশের মোট ভূমির কত শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ১৭
  2. ২৫
  3. ২৭
  4. ৩৫
সঠিক উত্তর:
২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু ২০১৩-২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
নিচের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়?
  1. বন্যা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. ভূমিকম্প
  4. অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- অর্থাৎ ভূমিকম্প ভূ-পৃষ্ঠে সংঘটিত আকস্মিক ও অস্থায়ী কম্পন।
- ভূমিকম্প একটি এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।
- ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্ট অনুযায়ী, সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।
- ভূমিকম্পের মূল কারণ হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের শক্তি,
- যা শিলাস্তরগুলির মধ্যে চাপ সৃষ্টি করে এবং একসময় এই চাপ মুক্ত হয়।

অন্যদিকে,
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এসবের জন্য কিছু পূর্ব সতর্কতার ব্যবস্থা থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
১২.
ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা আন্তঃসীমান্ত নদী কয়টি?
  1. ৪৮টি
  2. ৫২টি
  3. ৫৪টি
  4. ৫৭টি
সঠিক উত্তর:
৫৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী:
- আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৭ টি। 
- ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৫৪ টি।
-  বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী ৩টি, (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)। 
- আন্তর্জাতিক নদী ১ টি। (পদ্মা)
- বাংলাদেশের প্রায় সব নদীর প্রবাহের দিক উত্তর থেকে দক্ষিণে (সর্পিল গতি)।
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত নদী মাতামুহুরী, ডাকাতিয়া, গোমতী।
- দুবার ভারতে ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদী। 
- সর্বাধিক নাব্য নদী মেঘনা। 
- বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে ভারতে যাওয়া নদী ১ টি (কুলিখ)।
- বাংলাদেশে উৎপত্তি ও সমাপ্তি হওয়া নদী ১টি (হালদা)।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও যৌথ নদী কমিশনের ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]

১৩.
নিচের কোনটি স্রোতজ বনভূমি অঞ্চলের গাছ?
  1. শাল
  2. ময়না
  3. সুন্দরি
  4. চাপালিশ
সঠিক উত্তর:
সুন্দরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুন্দরি
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'সুন্দরি' স্রোতজ বনভূমি অঞ্চলের গাছ।

⇒ বাংলাদেশের বনজ সম্পদ: 
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।

⇒ ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- চাপালিশ, ময়না, তেলসুর প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।                                     
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না।

⇒ ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- শাল, কড়ই, হিজল প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।           
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায়।
   
⇒ স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- সুন্দরি, গরান, গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।    
- স্রোতময় মিঠা ও নোনা পানির সংযোগস্থলে জন্মে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।