পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়08 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১০ টপিক: প্রকৃতি ও প্রত্যয় [লাইভ ক্লাস – ২০, ২১ ও ২২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
কোনটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. খ্যাত
  2. গত
  3. জিত
  4. জ্ঞাত
ব্যাখ্যা
• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জিত (√জিত্ + অ)

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন - ওপরের উদাহরণে 'চলন' ও 'চলন্ত' কৃদন্ত পদ।
- তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়।
যেমন -
→ √গম্ + অন = গমন,
→ √কৃ + তব্য = কর্তব্য।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
অ-প্রত্যয়:
- কেবল ভাববাচ্যে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়।
যেমন -
→ √ধর্ + অ = ধর,
→ √মার + অ = মার।
- আধুনিক বাংলায় অ-প্রত্যয় সর্বত্র উচ্চারিত হয় না।
যেমন -
→ √হার্ + অ = হার,
→ √জিত্ + অ = জিত

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ: √খ্যা + ক্ত (খ্যা + ত) = খ্যাত, √গম্‌ + ক্ত (গম্‌ + ত) = গত, √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা + ত) = জ্ঞাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. চালানো
  2. বিবিয়ানা
  3. বেতানো
  4. মুনশিয়ানা
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চালানো (√চাল্‌ + আনো)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বিবিয়ানা (বিবি + আনা)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বেতানো (বেত + আনো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মুনশিয়ানা (মুনশি + আনা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'পড়ো' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পড় + ও
  2. √পড় + উয়া > ও
  3. √পড়া + ও
  4. √পড়া + উয়া > ও
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
- 'উয়া' বিকল্পে 'ও' - প্রত্যয়:
বিশেষ্য বিশেষণ গঠনে 'উয়া' এবং 'ও' প্রত্যয় হয়।
যথা -
পড় + উয়া > ও = পড়ুয়া > পড়ো,
→ উড় + উয়া = উড়ুয়া > উড়ো, উড় + ও = উড়ো (চিঠি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √হণ্‌ + অল্‌ = হয়
  2. √হন্‌ + অল = হয়
  3. √হণ্‌ + অল্‌ = বধ
  4. √হন্‌ + অল = বধ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
- অল্-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে):
→ জি + অল্ = জয়,
→ ক্ষি + অল্ = ক্ষয়।
এরূপ - ভয়, নিচয়, বিনয়, ভেদ, বিলয়।

• ব্যতিক্রম: √হণ্ + অল্ = বধ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি কোনটি?
  1. কারক
  2. ধাতু
  3. বিভক্তি
  4. প্রাতিপদিক
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ঘাটাল
  2. জমকালো
  3. মাতাল
  4. রসালো
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মাতাল (মাত্‌ + আল)।
- এটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঘাটাল (ঘাট+ আল)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জমকালো (জমক + আলো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - রসালো (রস + আলো)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
ধাতুর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে যে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাকে কী বলে?
  1. কৃদন্ত শব্দ
  2. তদ্ধিতান্ত শব্দ
  3. প্রাতিপদিক শব্দ
  4. শব্দ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
- বাঘ + আ = বাঘা,
- দিন + ইক = দৈনিক,
- দুল্ + অনা = দোলনা,
- কৃ + তব্য = কর্তব্য।
• প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

কৃৎ-প্রত্যয়: 
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
.
কোন শব্দের প্রত্যয় বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. চোরামি
  2. ঠকামো
  3. পাগলামি
  4. ফাজলামো
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- আমি / আম / আমো / মি-প্রত্যয়:
(ক) ভাব অর্থে:
→ ইতর + আমি = ইতরামি,
→ পাগল + আমি = পাগলামি,
→ চোর + আমি = চোরামি,
→ বাঁদর + আমি = বাঁদরামি,
→ ফাজিল + আমো = ফাজলামো।
(খ) বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে:
→ ঠক + আমো = ঠকামো (ঠকের বৃত্তি বা ভাব),
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
(গ) নিন্দা জ্ঞাপন:
→ জেঠা + আমি = জেঠামি,
→ ছেলে + আমি = ছেলেমি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।