পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪ সিরাতুন নবি: ইসলাম-পূর্ব আরবের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থা, রাসুল সাঃ এর হিজরত-পূর্ব জীবন, নবুওয়াত-পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়। [উৎস: লেকচার-৩ ও সংশ্লিষ্ট বই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
হিজরতের আগে কোন সাহাবি সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে কাবার সামনে কুরআন তিলাওয়াত করেন? 
  1. উমর ইবনুল খাত্তাব
  2. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ
  3. সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস
  4. যায়েদ বিন সাবিত
ব্যাখ্যা

⇒ হিজরতের আগে মক্কায় প্রথম প্রকাশ্যে কুরআন তিলাওয়াত করেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)।
​- তিনি কাবা প্রাঙ্গণে গিয়ে সাহসিকতার সাথে কুরআন তিলাওয়াত করেন, যা ছিল মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 
​- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর এই সাহসী পদক্ষেপের পর কাফেররা তার উপর নির্যাতন শুরু করে, তবে তিনি এতে ভীত হননি। 
​- উমরের ইসলাম গ্রহণের পর মুসলিমরা প্রকাশ্যে নামাজ আদায় করতে পারলেও, কাবার সামনে প্রথম কুরআন তিলাওয়াত করেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)।

.
বায়তুল্লাহ শরীফ প্রথম নির্মাণ করেন কে? 
  1. হযরত ইব্রাহিম (আ)
  2. হযরত আদম (আ)
  3. জিন সম্প্রদায়
  4. ফেরেশতাগণ
ব্যাখ্যা

⇒ আল্লাহর আদেশে প্রথম কাবা ঘর নির্মাণ করেন ফেরেশতারা। এরপর বায়তুল্লাহ শরীফ নির্মাণ করেন হযরত আদম (আ.)।
​- এরপর আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.) এটি পুনঃর্গঠন করেন। কাবা ঘরের বর্তমান কাঠামোটি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আমলের। 
​- বর্ণনা অনুযায়ী, কাবা ঘরটি ১০ বার নির্মিত হয়েছে, যার মধ্যে ফেরেশতাদের নির্মাণ, হযরত আদম (আ.)-এর নির্মাণ, হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।

.
আবরাহা কোথাকার শাসক ছিলেন?
  1. দামেস্ক
  2. মিশর
  3. ইয়েমেন
  4. পারস্য
ব্যাখ্যা

⇒ আবরাহার আসল নাম আল আশরাম (الأشرم) একজন আকসুমাইট সেনা জেনারেল ছিলেন, তখন আকসুম রাজ্যের দক্ষিণ আরবের ভাইসরয় এবং পরে নিজেকে হিময়ারের একজন স্বাধীন রাজা ঘোষণা করেন। 
​- আবরাহা বর্তমান ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশ শাসন করেছেন। 
​- আমুল ফিল (হাতির বছরে-৫৭০ খৃষ্টাব্দ) ইয়েমেনের শাসক আবরাহা কাবা ধ্বংস করতে হাতি বাহিনী নিয়ে মক্কায় আক্রমণ করেছিল। 

.
হিলফুল ফুজুল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবক কে ছিলেন? 
  1. আনাস ইবনে মালিক
  2. হামজা ইবনে আবু জাফর
  3. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস
  4. যুবায়ের ইবনে আব্দুল মুত্তালিব
ব্যাখ্যা

⇒ হিলফুল ফুজুল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবক ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর চাচা যুবায়ের ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। 
​- তবে, এই সংগঠনের প্রস্তাবনা তৈরিতে মুহাম্মাদ (সা.)-এরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। 
​- এছাড়া মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।

.
মা আমেনা কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ৫৭৩ সালে
  2. ৫৭৬ সালে
  3. ৫৭৪ সালে
  4. ৫৭৯ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ মা আমেনা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাতা) ৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
​-  তিনি মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী "আবওয়া" নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। 
​- তখন তাঁর পুত্র মুহাম্মদের বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। 
​- তার মৃত্যুর সময়কাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। 
​- কেউ কেউ তার মৃত্যুসাল ৫৭৭ বলেছেন।

.
ফিহরের অন্য নাম কী ছিল? 
  1. আল যারিয়াহ
  2. তাছম
  3. জাদিম
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ ফিহরের অপর নাম ছিল কুরাইশ। ফিহর ছিলেন কুরাইশ বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং তাঁকে গালিব ইবনে ফিহর নামেও অভিহিত করা হতো। 
​- তাঁকে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ এর পূর্বপুরুষদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়।
​- তিনি ফিহর ইবনে মালিকের পুত্র ছিলেন, যিনি মক্কায় বসবাস করতেন।
​- গালিব ইবনে ফিহর মক্কাতেই জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় ও তাঁকে সমাহিত করা হয়।

.
কাসিদা কী?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গীতি কবিতা
  3. গল্পসমগ্র
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

⇒ কাসিদা একটি ফার্সি/আরবি শব্দ, যার অর্থ কবিতার ছন্দে কোন প্রিয়জনের প্রশংসা করা। 
​- আরবি শব্দ ক্বাসাদ বিবর্তিত হয়ে ফার্সি 'কাসিদা' হয়েছে। এটি দ্বারা গীতি কবিতা উদ্দেশ্য।
​-  এটি একটি দীর্ঘ কবিতা যা সাধারণত প্রশংসামূলক বা বর্ণনামূলক হয় এবং প্রায়শই ধর্মীয় বা মহৎ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয়।
​- প্রাচীন আরবে কাসিদা একটি জনপ্রিয় কবিতা রূপ ছিল এবং পরবর্তীতে অ-আরবি সংস্কৃতিতেও এর প্রচলন ঘটে। 

.
হানিফ কাদেরকে বলা হয়? 
  1. সুদী ব্যবসায়ী সম্প্রদায়
  2. প্রাচীন আরবের বিখ্যাত সম্প্রদায়
  3. প্রাচীন আরবের একটি সম্ভ্রান্ত বংশ
  4. প্রাচীন আরবের একেশ্বরবাদী সম্প্রদায়
ব্যাখ্যা

⇒ "হানিফ" শব্দটি দ্বারা মূলত ইসলাম-পূর্ব আরবে প্রচলিত একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বোঝানো হয়। 
​- যারা মূর্তিপূজা পরিহার করে এক আল্লাহর উপাসনা করতেন, তাদের হানিফ বলা হতো। 
​- বিশেষ করে, হযরত ইব্রাহিমের (আ.) ধর্মের অনুসারী এবং একেশ্বরবাদে বিশ্বাসীদের হানিফ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

.
বক্ষ বিদারণ (شق الصدر) নবীজির জীবনে কতবার হয়েছিল?
  1. ২ বার
  2. ৩ বার
  3. ৪ বার
  4. ৫ বার
ব্যাখ্যা

⇒ নবীজির জীবনে বক্ষ বিদারণ (শাক্কে সদর) ঘটনাটি চারবার ঘটেছিল। প্রথমবার ৪ বা ৫ বছর বয়সে, দ্বিতীয়বার ১০ বা ২০ বছর বয়সে, তৃতীয়বার নবুওয়াত লাভের সময় এবং চতুর্থ বার মেরাজের রাতে।

- আনাস (রাঃ) হতে সহীহুল মুসলিমে ১ম বক্ষ বিদারণের ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ বর্ণিত হয়েছে। 
​- ব্যাপারটি হচ্ছে একদিন বালক নাবী (ﷺ) যখন সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে খেলাধূলা করছিলেন এমন সময় জিবরাঈল (আঃ) সেখানে এসে উপস্থিত হন। তারপর তাঁকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে চিৎ করে শুইয়ে দিলেন এবং তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করে হৃৎপিন্ডটি বের করে আনলেন। তারপর তার মধ্য থেকে কিছুটা জমাট রক্ত বের করে নিয়ে বললেন, ‘এটা হচ্ছে শয়তানের অংশ যা তোমার মধ্যে ছিল।’ তারপর হৃৎপিন্ডটিকে একটি সোনার তস্তুরিতে রেখে যমযমের পানি দ্বারা তা ধুয়ে তা যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করে কাটা অংশ জোড়া লাগিয়ে দিলেন। 

১০.
নবুয়তপ্রাপ্তির পর নবীজি প্রথম কাকে ইসলামের দাওয়াত দেন?
  1. আবু বকর (রা)
  2. আলী (রা)
  3. খাদিজা (রা)
  4. হামজা (রা)
ব্যাখ্যা

⇒ নবুয়ত প্রাপ্তির পর হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রথমে তার স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা.) কে ইসলামের দাওয়াত দেন। এরপর হযরত আবু বকর (রা.), হযরত আলী (রা.) এবং যায়েদ ইবনে হারেস (রা.) প্রমুখ ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করেন। নবুয়ত লাভের পর প্রথম তিন বছর হযরত মুহাম্মদ (সা.) গোপনে ইসলামের দাওয়াত দেন। প্রথমে তিনি তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করেন। হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি নবুয়তের সাক্ষ্য দেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন।

১১.
ওমর (রা.) কোন সুরা শুনে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন? 
  1. সুরা তওবা
  2. সুরা মুদ্দাসসির
  3. সুরা নাস
  4. সুরা ত্বাহা
ব্যাখ্যা

⇒ হযরত ওমর (রা.) "সুরা ত্বাহা" পাঠ শুনে ইসলাম গ্রহণ করেন, যা তার হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। 
- হযরত ওমর (রা.) ৬১৬ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ইসলামের ঘোর বিরোধী ছিলেন। 
​- কিন্তু সূরা ত্বাহার কিছু আয়াত শ্রবণ করার পর তার হৃদয়ে পরিবর্তন আসে এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। 

১২.
ইসলামের ইতিহাসে 'আমুল হুজন' বলতে কোন বছরকে বোঝায়? 
  1. ৬১০ খ্রি.
  2. ৬১৯ খ্রি.
  3. ৬১৬ খ্রি.
  4. ৬২২ খ্রি.
ব্যাখ্যা

⇒ "আমুল হুজুন" (আরবি: عام الحزن) শব্দটি দ্বারা "শোকের বছর" বোঝানো হয়। 
​- এটি ইসলামের ইতিহাসে ৬১৯ খ্রিস্টাব্দকে নির্দেশ করে, যখন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনে দুইটি বড় শোকের ঘটনা ঘটেছিল। 
​- তার স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা.) এবং চাচা ও আশ্রয়দাতা আবু তালিব একই বছরে মারা যান। 
- এই বছরটি "শোকের বছর" বা "আমুল হুজুন" নামে পরিচিত, যা নবীজির জন্য একটি কঠিন সময় ছিল। অন্য একটি বর্ণনায় এটি ৬২০ খ্রি. বর্ণিত হয়েছে।

১৩.
প্রাক ইসলামী যুগের আরবি কবিতার সেরা সংকলনকে কী বলা হতো? 
  1. সাবআ মুয়াল্লাকা
  2. শাহনামা
  3. মাসনবী
  4. কাসিদা
ব্যাখ্যা

⇒ প্রাক-ইসলামী আরবের সেরা কবিতা সংকলনগুলোকে বলা হতো সাবআ মুয়াল্লাকা। 
​- এগুলি সাতটি বিখ্যাত দীর্ঘ কবিতার সংকলন, যা প্রাক-ইসলামী যুগের শ্রেষ্ঠ কবিদের রচনা হিসেবে বিবেচিত। 
​- এই কবিতাগুলিকে "ঝুলন্ত" বা "সাসপেন্ডেড" কবিতা বলা হতো, কারণ প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এগুলি মক্কার কাবা (Kaaba) দেয়ালে স্বর্ণাক্ষরে লিখে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
​- কিছু পণ্ডিতের মতে, "ঝুলন্ত" শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বোঝায় যে কবিতাগুলি পাঠকের মনে গেঁথে থাকে।

১৪.
আরব উপদ্বীপটি কোথায় অবস্থিত? 
  1. এশিয়ার দক্ষিণ পূর্ব কোণে
  2. এশিয়ার উত্তর পশ্চিম কোণে
  3. এশিয়ার দক্ষিণ পশ্চিম কোণে
  4. আফ্রিকার পশ্চিম কোণে
ব্যাখ্যা

⇒ আরব উপদ্বীপ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত। এটি একটি বিশাল এলাকা যা আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকেও ছড়িয়ে আছে।
​-  এর পূর্বে রয়েছে আরব উপসাগর, দক্ষিণে আরব সাগর এবং পশ্চিমে লোহিত সাগর। 

১৫.
কুরাইশরা নবী (সা) ও তার পরিবারকে কোন সময় অবরুদ্ধ করে রাখে? 
  1. ৬১৭-৬২১ খ্রি.
  2. ৬১৭-৬১৯ খ্রি.
  3. ৬১৫-৬১৭ খ্রি.
  4. ৬১০-৬১৩ খ্রি.
ব্যাখ্যা

⇒ কুরাইশরা মক্কার "আবু তালিবের উপত্যকা"-তে নবী (সাঃ) এবং তার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ৬১৭-৬১৯ মোট ৩ বছর। 
​- এই অবরোধ ছিল এক প্রকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বয়কট, যেখানে কুরাইশরা বনু হাশিম গোত্রের সাথে সকল প্রকার বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধ করে দেয় এবং তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কও ছিন্ন করে। شِعْب أَبُو طَالِب ছিল মক্কার একটি গিরিপথ, যেখানে বনু হাশিম গোত্র বাস করত। 

১৬.
মেরাজে ষষ্ঠ আসমানে রাসুলে কারিম (সা) এর সাথে কার সাক্ষাৎ হয়?
  1. হযরত আদম (আ.)
  2. হযরত মুসা (আ.)
  3. হযরত ইব্রাহিম (আ.)
  4. হযরত নুহ (আ.)
ব্যাখ্যা

⇒ মেরাজে ষষ্ঠ আসমানে রাসুলে কারিম (সা) এর সাথে হজরত মুসা (আ.)-এর সাক্ষাৎ হয়েছিল।
প্রথম আসমানে দেখা হয় হযরত আদম আ. এর সাথে।
২য় আসমানের দেখা হয় হযরত ঈসা আ. এর সাথে।
৩য় আসমানে দেখা হয় হযরত ইউসুফ আ. এর সাথে।
৪র্থ আসমানে দেখা হয় হযরত ইদ্রিস আ. এর সাথে।
৫ম আসমানে দেখা হয় হযরত হারুন আ. এর সাথে।
৭ম আসমানে দেখা হয় হযরত ইব্রাহিম আ. এর সাথে।

১৭.
ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবদের নিচের কোন ভালো গুণটি ছিল না?
  1. অতিথি আপ্যায়ন উদারতা
  2. প্রতিশ্রুতি রক্ষা
  3. নারীর প্রতি সম্মান
  4. সত্যবাদিতা
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলাম-পূর্ব  আইয়ামে জাহেলিয়া যুগেও আরবদের বেশকিছু ভালো গুণ ছিল। যেমন—অতিথি আপ্যায়নে উদারতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, বীরত্ব, সততা ইত্যাদি। 
​- নারীর প্রতি সম্মান বিষয়টি অনুপস্থিত ছিল। নারীর সম্পত্তিতে কোন অধিকার ছিল না। নারী শিশুদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।

১৮.
আবু লাহাব এর মূল নাম কী ছিল?
  1. আবুল হিকাম
  2. আবদ আল-উজ্জা
  3. আমর বিন হিশাম
  4. ওয়াহশি
ব্যাখ্যা

⇒ আবু লাহাব এর নাম ছিল 'আবদ আল-উজ্জা', যার অর্থ দেবী আল-উজ্জা-র দাস বা ভক্ত। তবে তার বাবা তাকে ‘আবু লাহাব’ অর্থাৎ “অগ্নিশিখার পিতা” নামে ডাকতেন, কারণ তার মুখমণ্ডল লালাভ আভাযুক্ত ছিল এবং সে ছিল সৌন্দর্য ও আকর্ষণের অধিকারী। তিনি রাসুল (সা) এর সৎ চাচা ছিলেন।

১৯.
নিচের কোন সুরায় মিরাজ সম্পর্কে বর্ণনা আছে?
  1. সুরা আনফাল
  2. সুরা নাজম
  3. সুরা কাহাফ
  4. সুরা মুলক
ব্যাখ্যা

⇒ সুরা নাজমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর অবশ্যই তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন; সিদরাতুল মুনতাহা তথা প্রান্তবর্তী কুলগাছের কাছে; যার কাছে জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত; যখন কুলগাছটিকে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল; তার দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি; অবশ্যই তিনি তার রবের মহান নিদর্শনাবলির কিছু দেখেছিলেন।’ ( সুরা নাজম: ১৩-১৮)
- এছাড়া সুরা ইসরাতে মিরাজ সম্পর্কিত বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

২০.
ফাতরাতুল ওহি শেষ হয় কোন সুরা অবতীর্ণের মাধ্যমে? 
  1. সুরা মুযযাম্মিল
  2. সুরা মুদ্দাসসির
  3. সুরা কদর
  4. সুরা ফাতিহা
ব্যাখ্যা

⇒ ফাতরাতুল  ওহি ( ওহির বিরতি) শেষ হয়েছিল সুরা মুদ্দাসসির (المدثر) এর প্রথম ৫ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে। 
- এই বিরতির পর যখন জিবরাঈল (আঃ) পুনরায়  ওহি নিয়ে আসেন, তখন তিনি এই সুরাটির প্রথম অংশ নিয়ে আসেন। 

২১.
হযরত আলী (রা)-এর উপাধি কী?
  1. আসাদুল্লাহ
  2. সাইফুল্লাহ
  3. হুজ্জাতুল্লাহ
  4. আতিক
ব্যাখ্যা

⇒ হযরত আলী (রা.)-এর প্রধান উপাধি হলো "আসাদুল্লাহ", যার অর্থ "আল্লাহর সিংহ"। এছাড়াও, তাকে "হায়দার" নামেও ডাকা হতো, যার অর্থও সিংহ। 
​- হযরত আলী (রা.)-কে "আসাদুল্লাহ" উপাধি দেওয়া হয় খায়বারের যুদ্ধে তাঁর বীরত্বের জন্য।

২২.
মেরাজে ২য় আসমানে রাসুলে কারিম (সা) এর সাথে কার সাক্ষাৎ হয়?
  1. হযরত ইসা (আ.)
  2. হযরত আদম (আ.)
  3. হযরত মুসা (আ.)
  4. হযরত ইব্রাহিম (আ.)
ব্যাখ্যা

⇒ মেরাজে রাসুলে কারিম (সা) এর সাথে ২য় আসমানে দেখা হয় হযরত ঈসা আ. এর সাথে।
১ম আসমানে দেখা হয় হযরত আদম আ. এর সাথে।
৩য় আসমানে দেখা হয় হযরত ইউসুফ আ. এর সাথে।
৪র্থ আসমানে দেখা হয় হযরত ইদ্রিস আ. এর সাথে।
৫ম আসমানে দেখা হয় হযরত হারুন আ. এর সাথে।
৬ষ্ঠ আসমানে দেখা হয় হযরত মুসা (আ.) এর সাথে।
৭ম আসমানে দেখা হয় হযরত ইব্রাহিম আ. এর সাথে।

২৩.
ফিজার যুদ্ধকে কেন অপবিত্র যুদ্ধ বলা হয়?
  1. এটি আরবের পবিত্র ভূমিতে সংঘটিত হয়েছিল
  2. এটি নিষিদ্ধ মাসগুলিতে সংঘটিত হয়েছিল 
  3. এটি সুদীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত হয়েছিল
  4. এটি জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল
ব্যাখ্যা

⇒ আরবে চারটি মাসকে সম্মানিত ও নিষিদ্ধ মাস হিসেবে ধরা হতো, যেখানে যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ ছিল। এ মাসগুলো হলো- যিলকদ, যিলহজ, মুহাররম ও রযব। ফিজার যুদ্ধ এই নিষিদ্ধ মাসগুলোর একটিতে সংঘটিত হয়েছিল, যা একে অপবিত্র করে তোলে। জুয়াকে কেন্দ্র করে যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল একটি জুয়ার আসর থেকে, যা ছিল অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য কাজ। এই অনৈতিকতা যুদ্ধের পবিত্রতাকে নষ্ট করে দেয়।

২৪.
মহানবির মায়ের গোত্রের নাম কী?
  1. বনু সাদ
  2. বনু তামিম
  3. বনু যোহরা
  4. আবদে মানাফ
ব্যাখ্যা

⇒ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মায়ের নাম আমিনা বিনতে ওহাব। তিনি বনু যোহরা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বংশ পরম্পরা অনুযায়ী, আমিনা বিনতে ওহাব, ওহাব ইবনে আবদে মানাফের কন্যা ছিলেন। তাঁর বংশধারা কিলাব ইবনে মুররা পর্যন্ত।

২৫.
হযরত আলী (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের সময় বয়স কত ছিল? 
  1. ১০ বছর
  2. ১৫ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ০৬ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ আলী (রা.) ছিলেন রাসুল (সা.)–এর আপন চাচাতো ভাই, রাসুল (সা.)–এর চাচা আবু তালিবের ছেলে। রাসুল (সা.)–এর নবুয়ত প্রাপ্তির সময় তাঁর বয়স ছিল ১০ বছর। সে সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। কিশোরদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম মুসলিম। 

২৬.
কাতেবে ওহিদের প্রধান কে ছিলেন?
  1. হযরত আনাস বিন মালিক (রা)
  2. হযরত আবু সুফিয়ান (রা)
  3. হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা)
  4. হযরত যায়েদ বিন সাবেত (রা)
ব্যাখ্যা

⇒ কাতেবে ওহী (ওহীর লেখক) সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, সাধারণভাবে ৪২ জন সাহাবীর কথা বলা হয় যারা ওহী লেখার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এদের মধ্যে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) ছিলেন প্রধান। এসব মতপার্থক্যের কারণ হলো, ওহীর লেখক হিসেবে অনেকের নাম পাওয়া গেলেও, নিয়মিতভাবে কে কে লিখতেন, তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। 

২৭.
আবু জাহলের উপাধি কী?
  1. আবুল হিকাম
  2. আব্দুল ওজ্জা
  3. আমর বিন হিশাম
  4. আমর বিন হিকাম
ব্যাখ্যা

⇒ আবু জাহেলের প্রকৃত নাম ছিল আমর ইবনে হিশাম। তিনি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার জন্য "আবুল হিকাম" বা "জ্ঞানের পিতা" উপাধিতে পরিচিত ছিলেন। 
​- আমর ইবনে হিশাম (আবু জাহেল) বদরের যুদ্ধে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ কর্তৃক নিহত হন।

২৮.
নিচের কোনটি একটি আরব্য প্রাচীন বংশ?
  1. ফিহর
  2. কাহতান
  3. কুরাইশ
  4. বনু সাদ
ব্যাখ্যা

⇒ কাহতানি আরব (আরবি: قَحْطَانِي) প্রাচীন আরবের একটি প্রাচীন বংশগত সম্প্রদায়। ঐতিহাসিকভাবে কাহতানিদেরকে বিশুদ্ধ আরব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে আদনানি আরবদের বলা হয় “আরবায়িত আরব” যারা আদনানের বংশধর। কাহতানিরা দুইটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। এগুলো হল হিমিয়ার ও কাহলান। হিমিয়ার শাখা হিমিয়ারি ও কাহলান শাখা কাহলানি বলে পরিচিত। কাহতানিদের পূর্বপুরুষ হলেন কাহতান। তার ছেলে ইয়ারেবের নামানুসারে “আরব” নামটি এসেছে।