পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 16” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ১৬ বিষয়: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি i) প্রাচীন সভ্যতাসমূহ, সাম্রাজ্যসমূহ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী (যুদ্ধ ও বিপ্লব ইত্যাদি), ii) মহাদেশ ও দেশসমূহের সাধারণ তথ্য (দেশের রাজধানী, মুদ্রা, সরকার ব্যবস্থা, সংসদ ইত্যাদি সহ সাধারণ তথ্য)। iii) ভূ-রাজনীতি [নম্বর কাভার - 5]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফিল্ড মার্শাল রোমেল কোন নামে পরিচিত ছিলেন?
  1. ব্ল্যাক প্যান্থার
  2. ডেজার্ট ফক্স
  3. দ্য গ্রেট জেনারেল
  4. আয়রন ম্যান
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফিল্ড মার্শাল এরউইন রোমেল 'ডেজার্ট ফক্স' (Desert Fox) বা "মরু শিয়াল" নামে পরিচিত ছিলেন। 

ফিল্ড মার্শাল রোমেল
:
- ফিল্ড মার্শাল এরউইন রোমেল (Erwin Rommel) ছিলেন নাজি জার্মানির একজন বিখ্যাত সেনা কমান্ডার।

⇒ তার বিশেষ খ্যাতি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আফ্রিকায়, বিশেষত উত্তর আফ্রিকায়, জার্মান আফ্রিকা কর্পসের (German Afrika Korps) নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য।
- রোমেল ১৯১০ সালে জার্মানির সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দ্রুতই তার কৌশলগত দক্ষতা এবং নেতৃত্বের জন্য পরিচিতি লাভ করেন।
- এই কারণেই তিনি 'ডেজার্ট ফক্স' নামে পরিচিত হয়ে উঠেন।

উল্লেখ্য,
- রোমেল যুদ্ধের শেষের দিকে হিটলারের নীতির বিরোধিতা করতে শুরু করেন এবং ১৯৪৪ সালে তাকে সামরিক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আত্মহত্যার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
- তার মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যদিও এটি এক ধরনের চাপ বা ষড়যন্ত্র ছিল।
- ১৪ অক্টোবর, ১৯৪৪-এ বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
- রোমেলকে তার দক্ষতা, সাহসিকতা এবং কৌশলগত চিন্তাভাবনার জন্য স্মরণ করা হয়।

উৎস: Britannica.

.
পেলোপনেসীয় যুদ্ধ কোন দুটি নগর রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. এথেন্স ও থিবস
  2. স্পার্টা ও করিন্থ
  3. এথেন্স ও স্পার্টা
  4. থিবস ও করিন্থ
ব্যাখ্যা

পেলোপনেসীয় যুদ্ধ প্রধানত দুটি গ্রিক নগর-রাষ্ট্র এথেন্স এবং স্পার্টা-এর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।

পেলোপনেসিয়ার যুদ্ধ:

- এথেন্স ও স্পার্টা উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা ইতিহাসে পেলোপনেসিয়ার যুদ্ধ নামে পরিচিত।

⇒ জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য ও রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে বিশ্বসভ্যতায় অবিস্মরণীয় অবদান রাখা নগররাষ্ট্র এথেন্সের পতন হয় সামরিক নগররাষ্ট্র স্পার্টার কাছে।
- ৪৬০ থেকে ৪০৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত মোট তিনবার এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে দুই রাষ্ট্র পরস্পরের মিত্রদের নিয়ে জোট গঠন করে।
- এথেন্সের মিত্র রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জোটের নাম ছিল 'ডেলিয়ান লীগ'।
- অপরদিকে স্পার্টা তার মিত্রদের নিয়ে যে জোট গঠন করে, তার নাম ছিল 'পেলোপনেসীয় লীগ'।
- এই মরণপণ যুদ্ধে এথেন্সের মান-মর্যাদা ও স্বাধীনতা বিলীন হয়ে যায়।
- ৩৬৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এথেন্স চলে যায় স্পার্টার অধীনে।
- ৩৩৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মেসিডোনের (গ্রিস) রাজা ফিলিপ থিরাস দখল করে নিলে এথেন্স মেসিডোনের অধীনে চলে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নেপালের রাজতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে কত সালে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা

নেপাল:
- নেপাল দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ।
- রাজধানী: কাঠমান্ডু।
- মুদ্রা: নেপালি রুপি।
- ভাষা: নেপালি।
- নেপালের আইনসভার নাম পার্লামেন্ট।
- নেপালের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট।

⇒ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নেপালের পার্লামেন্টে ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- তখন দেশটিতে এক দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি শান্তিচুক্তি হয়, যে গৃহযুদ্ধে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
- মূলত সেই শান্তিচুক্তির ধারাবাহিকতায় রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

উৎস: Britannica.

.
বাগরাম বিমানঘাঁটি আফগানিস্তানের কোন প্রদেশে অবস্থিত?
  1. কাবুল
  2. পারওয়ান
  3. হেরাত 
  4. কান্দাহার
ব্যাখ্যা

বাগরাম বিমানঘাঁটি:
- বাগরাম বিমানঘাঁটি আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশে অবস্থিত।

⇒ বাগরাম বিমানঘাঁটির অবস্থান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে।
- গত শতকের পঞ্চাশের দশকে বাগরাম ঘাঁটি প্রথম নির্মাণ করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- আশির দশকে আফগান যুদ্ধের সময় আফগানিস্তানে সোভিয়েত সেনাদের প্রধান ঘাঁটি ছিল বাগরাম।
- ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। এই হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে নামে যুক্তরাষ্ট্র। 
- মার্কিন অভিযানে তালেবানের পতনের পর বাগরাম চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের দখলে।
- মার্কিন বাহিনী ঘাঁটিটি নতুন করে গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- কৌশলগত অবস্থান ও মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার কারণে সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৫) আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনর্দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উৎস: i) U.S. AIR FORCES CENTRAL (.mil).
ii) প্রথম আলো।

.
বুলগেরিয়ার মুদ্রার নাম কী?
  1. লেভ
  2. লেভেন
  3. কেপ
  4. ইউরো
ব্যাখ্যা

বুলগেরিয়া:
- বুলগেরিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ।
- পূর্বে কৃষ্ণসাগর, দক্ষিণে গ্রিস ও তুরস্ক, পশ্চিমে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রো এবং ম্যাসিডোনিয়া ও রোমানিয়া অবস্থিত।
- বুলগেরিয়া পর্বত, নদনদী ও সমভূমির দেশ।
- রাজধানী: সোফিয়া।
- ভাষা: বুলগেরিয়ান।
- মুদ্রা: ইউরো।

উল্লেখ্য,
- বুলগেরিয়ার বর্তমান মুদ্রা ইউরো।
- ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বুলগেরিয়া ইউরো মুদ্রা গ্রহণ করে ইউরোজোনে প্রবেশ করেছে।

উৎস: Britannica.

.
‘The ballot is stronger than bullet’— বিখ্যাত উক্তিটি কে করেছেন?
  1. থমাস জেফারসন
  2. জর্জ ওয়াশিংটন
  3. আব্রাহাম লিংকন
  4. ডোনাল্ড ট্রাম্প
ব্যাখ্যা

বুলেট অপেক্ষা ব্যালট শক্তিশালী:
-​​ 'The ballot is stronger than bullet'- বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন।
- এটি গণতন্ত্রের গভীর শক্তি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অন্তর্ভুক্ত করে।
- বল প্রয়োগের উপর ব্যালট বাক্সের শক্তিতে তার বিশ্বাস শুধু তার সময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটই প্রতিফলিত করে না, গণতান্ত্রিক নীতির স্থায়ী শক্তি সম্পর্কে নিরবধি জ্ঞানও প্রতিফলিত করে।

উল্লেখ্য,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন।
- তার রাজনৈতিক দল ছিল রিপাবলিকান পার্টি।
- তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর লিংকন পেনসালভেনিয়ার গেটিসবার্গের যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে এক হৃদয়স্পর্শী ভাষণে বলেন, ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’
- তিন মিনিটের কম সময়ের সেই ভাষণকে বলা হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ভাষণের একটি। তার বিখ্যাত উক্তি - '‘Government by the people, for the people, of the people’।
- আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছরের দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন। 

উৎস: History Channel.

.
মিশরের তাহরির স্কোয়ারে বিপ্লবের পরে কোন শাসকের পতন ঘটেছিল?
  1. মোহাম্মদ মুরসি 
  2. আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
  3. হোসনি মুবারক
  4. আনোয়ার সাদাত
ব্যাখ্যা

মিশরের তাহরির স্কোয়ারে বিপ্লব:
- মিশরের তাহরির স্কোয়ারে বিপ্লবের পরে হোসনি মুবারক-এর পতন ঘটেছিল।

উল্লেখ্য,
- মিশরে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ক্ষমতাসীন ছিলেন হোসনি মুবারক, যিনি একদিকে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি করলেও, তার শাসনামলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগ বেড়ে যায়।
- ২০১১ সালে, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া ও অন্যান্য আরব দেশগুলিতে ঘটে যাওয়া বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে, মিশরের জনগণও প্রতিবাদে নেমে আসে।
- ২৫ জানুয়ারি, ২০১১, মিশরের পুলিশ দিবসে, বিরোধী আন্দোলনকারীরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। তাদের দাবী ছিল মুবারকের সরকারের পতন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার।
- এই প্রতিবাদ মিশরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে কেন্দ্রীভূত হয়ে ওঠে, যা বিপ্লবের প্রধান স্থান হয়ে ওঠে।
- ১৮ দিনের প্রতিরোধ এবং চাপের পর, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১-এ হোসনি মুবারক পদত্যাগ করেন।

উৎস: BBC.

.
কত সালে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়েছিল?
  1. ১৯৪১ সাল
  2. ১৯৪৯ সাল
  3. ১৯৫৪ সাল
  4. ১৯৬৬ সাল
ব্যাখ্যা

চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব:
- ১৯৬৬ সালে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়েছিল।
- এর নেতৃত্ব দেন কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং।
- এটি ছিল একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন যা ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

⇒ মাও সেতুং-এর তরুণ সমর্থকেরা রেড গার্ডস নামের বাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনীর নেতৃত্বে চলে সাংস্কৃতিক বিপ্লব।
- এই বিপ্লব প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হয় এবং ১৯৭৬ সালে এই বিপ্লব সমাপ্ত হয়।
- সমগ্র চীনকে কমিউনিস্ট শাসনের আওতায় আনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও কমিউনিস্ট বিরোধী ভাবধারা প্রতিহত করার জন্য এই
বিপ্লব শুরু হয়। 
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলে সমগ্র চীন ঐক্যবদ্ধ হয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান দৃঢ় হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে China) বা গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মাও সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।

উৎস: Britannica.

.
নিচের কোনটি সেভেন সিস্টার্স-এর অংশ নয়?
  1. অরুনাচল
  2. সিকিম
  3. মেঘালয় 
  4. নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা

সেভেন সিস্টার্স-এর অংশ নয়- সিকিম।

ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যসমূহ ও রাজধানী:
১. আসাম - দিসপুর,
২. মিজোরাম - আইজল,
৩. অরুনাচল - ইটানগর,
৪. মেঘালয় - শীলং,
৫. ত্রিপুরা - আগরতলা,
৬. মণিপুর - ইম্ফল, 
৭. নাগাল্যান্ড - কোহিমা।

উল্লেখ্য,
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।

উৎস: Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট।

১০.
বেলফোর ঘোষণার চিঠিটি কাকে সম্বোধন করা হয়েছিল?
  1. ডেভিড বেন-গুরিয়ন
  2. ব্যারন লিওনেল ওয়াল্টার রথসচাইল্ড
  3. চাইম ওয়াইজম্যান
  4. আর্থার বেলফোর
ব্যাখ্যা

বেলফোর ঘোষণার চিঠিটি আর্থার জেমস বেলফোর ব্যারন রথসচাইল্ড-কে সম্বোধন করেছিলেন।

বেলফোর ঘোষণা: 

- বেলফোর ঘোষণা (Balfour Declaration) ছিল একটি ঐতিহাসিক চিঠি।
- Balfour Declaration বা বেলফোর ঘোষণার নামকরণ সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোরের নামানুসারে। 
- ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর আর্থার জেমস বেলফোর এই ঐতিহাসিক চিঠিটি একটি সিল করা খামে ব্যারন লিওনেল ওয়াল্টার রথসচাইল্ডের কাছে পাঠিয়েছিলেন। 
- ২ নভেম্বর, ১৯১৭ তারিখে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর ফিলিস্তিনে একটি ইহুদী-আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যারন লিওনেল ওয়াল্টার রথসচাইল্ড (Lord Rothsehild)-কে যে চিঠি লিখেছিলেন তাই ‘Balfour Declaration বা বেলফোর ঘোষণা’ নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে জায়নিস্ট তৎপরতা ও তৎকালীন বিশ্বশক্তিসমূহের সমর্থনে এই চিঠি ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের লীগ অব নেশন্সের দলীলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক ‘স্বীকৃতি’ লাভ করে।
- ঐ চিঠির উদ্দেশ্য ছিল ইহুদীদের জন্য একটি আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা।
- বেলফোর ঘোষণার সাথে আজকের ইহুদী রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা সরাসরিভাবে জড়িত।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের সেনাদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে ব্রিটেন।
- ১৯১৭ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ভূমি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- তখন ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদিদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সহায়তা করবে।
- ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইনে দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা অনুমোদন করে, যার ফলে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠা হয়।
- ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ফিলিস্তিন ছেড়ে যায় ব্রিটেন, আর ইহুদিরা ঘোষণা করে নিজস্ব রাষ্ট্র ইসরায়েলের।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১১.
বার্লিন প্রাচীরের পতন কখন ঘটেছিল?
  1. ৯ নভেম্বর, ১৯৯০
  2. ১০ অক্টোবর, ১৯৮৯
  3. ৯ নভেম্বর, ১৯৮৯
  4. ৩ অক্টোবর, ১৯৯০
ব্যাখ্যা

টানা পাঁচ দিনের বিক্ষোভের পর  বার্লিন প্রাচীরের পতন ঘটেছিল ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর।

বার্লিন প্রাচীরের পতন:

- স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ক্ষণে এই প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়।
- ৯ নভেম্বর, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতন ঘটে।
- ৩ অক্টোবর, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি) একত্রিত হয়ে ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি নাম ধারণ করেছিল৷

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ও স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার ঐতিহাসিক নিদর্শন বার্লিন প্রাচীর।
- এই প্রাচীর জার্মানির বার্লিন শহরকে বিভক্ত করেছিল।
- এর একদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাবে থাকা সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানি এবং অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন পুঁজিবাদী পশ্চিম জার্মানি।

উল্লেখ্য, 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি প্রধানত চারভাগে বিভক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে চলে যায়।
- স্নায়ুযুদ্ধের ফলে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের অধীনের অংশগুলো একত্রিত করে গঠিত হয় ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি) এবং সোভিয়েত ইউনিয়নেরে অধীনের অংশে গঠিত হয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব জার্মানি (পূর্ব জার্মানি)।
- পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার ফলে পশ্চিম জার্মানি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- অপরদিকে সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানি অপেক্ষাকৃত কম উন্নত হওয়ায় এ অংশের জনগণ পশ্চিম জার্মানিতে গমন করা শুরু করে।
- এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম জার্মানির পুঁজিবাদের ধাক্কা যেন পূর্ব জার্মানিতে না লাগে এবং অভিবাসন যেন ঠেকানো যায় সে লক্ষ্যে তৎকালীন সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ ১৯৬১ সালে পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের মাঝখানে একটি প্রাচীর নির্মাণের আদেশ দেন। তাঁর আদেশ অনুযায়ী ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট পূর্ব জার্মানি বার্লিন শহরের মাঝ দিয়ে তৈরি করা হয় বার্লিন প্রাচীর।
- এ প্রাচীরের দৈর্ঘ্য ছিল ১৫৫ কি.মি।

উৎস: Britannica.

১২.
আলমাআতা কোন দেশের রাজধানী ছিল?
  1. কাজাখস্তান
  2. আজারবাইজান
  3. ইরান 
  4. তুর্কমেনিস্তান
ব্যাখ্যা

আলমাআতা:
- আলমাআতা ছিল কাজাখস্তানের রাজধানী।
- ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কাজাখস্তানের রাজধানী ছিল আলমাআতা।
- এরপর নূর-সুলতান (বর্তমানে আস্তানা) নতুন রাজধানী হয়। 
- দেশটির একেবারে দক্ষিণ-পূবের ছোট্ট এই আলমাটি শহর অবস্থিত তিয়েনশান পর্বতের পাদদেশে। এই শহরটি এখনও কাজাখস্তানের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

⇒ কাজাখস্তান:
- কাজাখস্তান মধ্য এশিয়ার একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থলবেষ্টিত দেশ। 
- এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম রাষ্ট্র।
- দেশটির উত্তরে রাশিয়া, পূর্বে চীন, দক্ষিণে কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান এবং পশ্চিমে ক্যাস্পিয়ান সাগর ও রাশিয়া।
- কাজাখস্তান প্রায় সম্পূর্ণভাবে এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত।
- তবে দেশটির কিয়দংশ উরাল নদীর পশ্চিমে ইউরোপ মহাদেশে পড়েছে। 
- রাজধানী: আস্তানা (Astana)। এটি পূর্বে নূর-সুলতান নামে পরিচিত ছিল।
- মুদ্রার নাম: টেঙ্গি।

উৎস: Worldatlas.

১৩.
কোন দেশটি দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. মেক্সিকো
  2. কলম্বিয়া
  3. ভেনিজুয়েলা
  4. বলিভিয়া
ব্যাখ্যা

মেক্সিকো দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

দক্ষিণ আমেরিকা:

- আয়তনে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ দক্ষিণ আমেরিকা।
- এ মহাদেশ দেখতে ত্রিকোণোকৃতির।
- এর আয়তন ১,৭৮,৪০,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ১২টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- দেশগুলো হলো: আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, প্যারাগুয়ে, পেরু, সুরিনাম, উরুগুয়ে এবং ভেনিজুয়েলা।
- এছাড়াও রয়েছে ফ্রেঞ্চ গায়ানা (ফ্রান্সের একটি অঞ্চল) এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (যুক্তরাজ্যের একটি নির্ভরশীল অঞ্চল)। 

উল্লেখ্য,
- এর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিল ও সবচেয়ে ছোড় দেশ সুরিনাম।
- দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী 'আমাজন'। আমাজন নদীর উৎস স্থল আন্দিজ নেভাদা মিসমি পর্বতের চূড়া থেকে।
- এ মহাদেশের অন্তর্গত ইকুয়েডরকে 'চির বসন্তের দেশ' বলা হয়।

উৎস: Worldatlas.

১৪.
মুসলিম শাসনামলে স্পেন কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. ইবেরিয়া
  2. হিস্পানিয়া
  3. আন্দালুসিয়া
  4. কাস্তিল
ব্যাখ্যা

স্পেনে মুসলিম শাসন:
- মুসলিম শাসনামলে স্পেন আন্দালুসিয়া নামে পরিচিত ছিল।
- এটি আইবেরীয় উপদ্বীপের একটি বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। 
- এই শাসনকাল ৭১১ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়ে ১৪৯২ সালে গ্রানাডার পতনের মাধ্যমে শেষ হয় যা প্রায় ৮০০ বছরের দীর্ঘ সময়।
 - মুসলিম স্পেনে একসময় ছিল বিজ্ঞান, সাহিত্য, স্থাপত্য ও ধর্মীয় সহাবস্থানের অনন্য নজির।
- মুসলমান শাসনের অধীনে আন্দালুস একটি সাম্যবাদী সমাজে পরিণত হয়, যেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা একত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করেছিল।
- এটি ‘Convivencia’ নামে পরিচিত যা এই যুগে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সামাজিক সম্প্রীতির ধারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

উল্লেখ্য,
- মধ্যযুগে যেসকল স্থানে আরব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল এর মধ্যে স্পেন অন্যতম।
- শুরুতে স্পেন দামেস্কের উমাইয়া খিলাফতের অধীনে একটি প্রদেশ হিসেবে পরিণত হয়।
- ৭৫৬ সালে আব্দুর রহমান আদ্‌-দাখিল এখানে একটি স্বাধীন উমাইয়া আমীরাত প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৯২৯ সালে তৃতীয় আব্দুর রহমান এই আমীরাতকে খিলাফতে উন্নীত করেন।
- ১০৩১ সালে উমাইয়া খিলাফতের অবসানের পর স্পেনে আরব, বার্বার ও স্লাভরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজবংশের সৃষ্টি করে শাসন করতে থাকে।
- উত্তরের খ্রিস্টানরা ক্রমাগত আক্রমণ করে যখন ক্ষুদ্র রাজ্যগুলি একে একে গ্রাস করছিল।
- সেসময় উত্তর আফ্রিকার মরক্কো হতে মুরাবিতুন (১০৯১-১১৪৬) রাজবংশ স্পেনের রাজক্ষমতা গ্রহণ করে এবং মরক্কো হতেই স্পেন শাসন করতে থাকে।
- এরপর মুরাবিতুনদের হটিয়ে মুয়াহিদুন (১১৪৬-১২৪৮) রাজবংশ মরক্কো হতে স্পেন শাসন করে।
- স্পেনে মুসলিমদের শেষ রাজবংশ ছিল গ্রানাডার নসর বংশ (১২৩২-১৪৯২)।
- ১৪৯২ সালে এই বংশের পতনের মধ্য দিয়ে স্পেনে মুসলিম শাসনের চির অবসান হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী দেশ নয় কোনটি?
  1. সুরিনাম
  2. কলম্বিয়া
  3. ব্রাজিল
  4. গায়ানা
ব্যাখ্যা

ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী দেশ নয়- সুরিনাম।

ভেনিজুয়েলা:

- রাষ্ট্রের নাম: বলিভারিয়ান রিপাবলিক অফ ভেনিজুয়েলা। 
- ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তর উপকূলে অবস্থিত।
- দেশটির উত্তরে ক্যারিবিয়ান সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর, পশ্চিমে কলম্বিয়া, দক্ষিণে ব্রাজিল, পূর্বে গায়ানা।
- উত্তর প্রান্তে রয়েছে আন্দিস পর্বতমালার সুউচ্চ পর্বতাঞ্চল। 
- ভেনিজুয়েলা মোট ২১টি রাজ্য নিয়ে গঠিত। 
- সরকারি ভাষা: স্প্যানিশ। 
- মুদ্রা: ভেনেজুয়েলান বলিভার।
- রাজধানী: কারাকাস।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদের দেশ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: Britannica.

১৬.
মিয়ানমারের বর্তমান জান্তা সরকার কবে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০১৩ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা

মিয়ানমারের জান্তা সরকার:
- মিয়ানমারের জান্তা সরকার বলতে বোঝায় দেশটির সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা।
- ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা সরকার ক্ষমতা দখল করে এবং নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে।
- নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জেনারেল মিন অং হ্লাইং নেতৃত্বে একটি সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় যা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল (SAC) নামে পরিচিত।

⇒ মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান হচ্ছেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
- তিনি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশটির শাসনক্ষমতা গ্রহণ করেন।
- মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর তিনি "স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল" (SAC) এর চেয়ারম্যান হন, যা মিয়ানমারের বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রধান নির্বাহী অঙ্গ।

⇒ ১৯৬২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা দীর্ঘ ৪৭ বছর জান্তা সরকারের শাসনাধীন ছিল দেশটি।
- ২০১১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের হাতে নামমাত্র ক্ষমতা হস্তান্তর করে সামরিক বাহিনী।
- ২০১৫ সালে অং সাং সু চি’র নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল এনএলডি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।
- ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চি ও তার সরকারের পতন হয়।
- এর পর থেকেই দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ চলছে।

উৎস: Britannica.

১৭.
গ্রিনল্যান্ড-এর রাজধানীর নাম কী?
  1. রেকজাভিক
  2. নুউক
  3. ক্যানাক
  4. হাভনা
ব্যাখ্যা

গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ যা ডেনমার্ক রাজ্যের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
- এটি উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্বে আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- রাজধানী: নুউক।
- গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এস্কিমো হিসেবে পরিচিত।
- গ্রীনল্যান্ডের ৮০ শতাংশ এলাকা বরফে ঢাকা।
- এর প্রায় ৮৮% মানুষ ইনুইট বা ডেনিশ-ইনুইট মিশ্র বংশোদ্ভূত।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনল্যান্ড একটি অত্যন্ত সম্পদসমৃদ্ধ দ্বীপ।
- এটি তেল ও গ্যাসের মজুদে সমৃদ্ধ। এখানে সবুজ প্রযুক্তির (গ্রিন টেকনোলজি) জন্য প্রয়োজনীয় বিরল মাটির উপকরণ এবং কাঁচামালের বিশাল সরবরাহ রয়েছে।  

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৮.
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
  3. জওহরলাল নেহেরু
  4. আবুল কালাম
ব্যাখ্যা

জওহরলাল নেহরু:
- স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু।
- তিনি ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ১৯৬৪ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এই পদে ছিলেন এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন প্রধান নেতা।
- ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট, ভারত স্বাধীনতা লাভের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

⇒ জওহরলাল নেহরুর জন্ম ১৮৮৯ সালের ১৪ নভেম্বর, ব্রিটিশ ভারতের এলাহাবাদে এক কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ পরিবারে। কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর সংযোগের কারণে ‘পণ্ডিত নেহরু’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ভারতীয় শিশুরা জওহরলাল নেহরুকে চেনে ‘চাচা নেহরু’ হিসেবে। এ কারণে নেহরুর জন্মদিন ভারতে পালিত হয় শিশু দিবস হিসেবে।
- ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তিনি পরলোক গমন করেন।

উল্লেখ্য,
- মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে জওহরলাল নেহরুর প্রথম পরিচয় ১৯১৬ সালে। গান্ধীজির আদর্শ তাঁকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। ১৯২০ সালে উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড় জেলায় কিষাণ মার্চ সংগঠিত করেন তিনিই। ১৯২০-২২-এর অসহযোগ আন্দোলনের দিনগুলিতে তিনি দু’বার কারাবরণ করেন।
- পণ্ডিত নেহরু নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন ১৯২৩-এর সেপ্টেম্বরে। 

এছাড়াও,
-  পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন, একটি দেশ ভালো হয়, যদি সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) PM India.

১৯.
ইরান-ইরাক যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী প্রধান সংস্থা কোনটি ছিল?
  1. আরব লীগ
  2. ওপেক
  3. জাতিসংঘ
  4. ওআইসি
ব্যাখ্যা

ইরান-ইরাক যুদ্ধ:
- ইরান-ইরাক যুদ্ধ  ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর একটি।
- প্রধান কারণ: সীমান্ত বিরোধ (বিশেষ করে শাত-ইল-আরব জলপথ), ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতা দখলের ভয়, ধর্মীয় (সুন্নি-শিয়া) ও জাতিগত (কুর্দি) সমস্যা, তেল নিয়ন্ত্রণ।
- যুদ্ধে ইরাকের পক্ষ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে।
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ - ২০ আগস্ট, ১৯৮৮ সাল।
- ফলাফল: জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি।

উল্লেখ্য, 
- ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন “শাত-ইল-আরব” জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের তেল সমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী অঞ্চল “কোহেস্তান” দখলের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে ইরান আক্রমণ করেন।
- দীর্ঘ ৮ বছর যুদ্ধ চলার পর ১৯৮৮ সালের ২০ জুলাই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ।

উৎস: Britannica.

২০.
ইন্দোনেশিয়া কোন দেশের উপনিবেশ ছিল?
  1. স্পেন
  2. পর্তুগাল
  3. ফ্রান্স
  4. নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা

ইন্দোনেশিয়ার উপনিবেশবাদ:
- ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে নেদারল্যান্ডস-এর উপনিবেশ ছিল।
- প্রায় ৩৫০ বছর ধরে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ নামে পরিচিত ছিল
- এটিকে ঔপনিবেশিক যুগে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ বা নেদারল্যান্ডস ইস্ট ইন্ডিজ বলা হতো।
- ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০২ সাল থেকে নিয়ন্ত্রণ শুরু করে এবং ১৮০০ সালের পর সরাসরি নেদারল্যান্ডস সরকারের অধীনে চলে।
- ১৯৪৫ সালে ইন্দোনেশিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১৯৪৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়।

উল্লেখ্য,
- ইন্দোনেশিয়ার দেশটি অস্ট্রেলিয়ার ঠিক উত্তরে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি নিরক্ষরেখা জুড়ে অবস্থিত।
- বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া।
- রাষ্ট্রীয় নাম: রিপাবলিক অব ইন্দোনেশিয়া।
- রাজধানী: জাকার্তা।
- মুদ্রা: ইন্দোনেশীয় রুপিয়া।
- প্রধান ভাষা: বাহাসা ইন্দোনেশিয়া।
- সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি শাসিত।

উৎস: Worldatlas.

২১.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কোন দেশটি নিরপেক্ষ ছিল? 
  1. সুইডেন
  2. অস্ট্রিয়া
  3. বুলগেরিয়া
  4. সার্বিয়া
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War-I): 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ১৯১৪ সালে এবং এর পরিমাপ্তি হয় ১৯১৮ সালে। 
- ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
- এই যুদ্ধের কারণ হিসেবে ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য বসনিয়া-হার্জেগোভিনা দখল করা এবং আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

⇒ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা দ্য গ্রেট ওয়ার:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।

উল্লেখ্য,
- সুইডেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিরপেক্ষ দেশ ছিল। সুইডেন তার নিরপেক্ষতার জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুইডেন নিরপেক্ষতা ঘোষণা করে।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

২২.
এসোসিয়েট প্রেস (এপি) কোন দেশের সংবাদ সংস্থা?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ভারত
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন দেশের সংবাদ সংস্থা:
- যুক্তরাষ্ট্র: এসোসিয়েট প্রেস (এপি), ভয়েস অব আমেরিকা (VOA), ক্যাবল নিউজ, নেটওয়ার্ক (CNN)।

এছাড়াও,
- যুক্তরাজ্য: রয়টার্স, ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি)।
- ফ্রান্স: এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি)।
- ভারত: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (PTI), ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া (ইউএনআই)।
- বাংলাদেশ: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), মিডিয়া সিন্ডিকেট, ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (এনা), ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেসন (আইএসপিআর), ইউনাইটেড নিউজ অব, বাংলাদেশ (ইউএনবি), আবাস, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)।
- চীন: সিনহুয়া।
- রাশিয়া: ইতার-তাস (ITAR-TASS), রাশিয়া টুডে (Rossiya Segodnya), ইন্টারফ্যাক্স।
- ইন্দোনেশিয়া: আনতারা।
- ইরান: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (ইরনা), ইরান নিউজ এজেন্সি (আইএনএ)।
- ইরাক: নিউজ এজেন্সি (ইনা)।
- সিরিয়া: সানা।

উৎস: সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।

২৩.
মার্কিন রাজনীতিতে ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি’ নামে পরিচিত কোন দল?
  1. লিবার্টারিয়ান পার্টি
  2. ডেমোক্রেটিক পার্টি
  3. রিপাবলিকান পার্টি
  4. ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি
ব্যাখ্যা

রিপাবলিকান পার্টি:
- মার্কিন রাজনীতিতে রিপাবলিকান পার্টিকে 'গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি' (Grand Old Party) বা সংক্ষেপে GOP নামে ডাকা হয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টি।
- রিপাবলিকান পার্টির লোগো: হাতি।

⇒ উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আব্রাহাম লিংকন এবং দাসপ্রথাবিরোধী হুইগরা মিলে গড়েন নতুন রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টি।
- ১৮৭৪ সালে থমাস ন্যাস্ট হাতিকে রিপাবলিকানদের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি তার কার্টুনে দেখান, সিংহের চামড়া পিঠে চাপিয়ে একটি গাধা বনের সব প্রাণীকে ভয় দেখাচ্ছে।
- সিংহের ছদ্মবেশী সেই গাধাকে দেখে সবাই ভয়ে পালাচ্ছে।
- কেবল স্থির ও অচঞ্চল একটি হাতি ছাড়া।
- হাতির এই নির্ভীক বিষয়টাই তুলে ধরেন কার্টুনশিল্পী।
- থমাস ন্যাস্টের এমন অর্থবহ কার্টুন দারুণ পছন্দ হয় রিপাবলিকানদের।

এছাড়াও,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি ডেমোক্রেটিক পার্টি, অন্যটি রিপাবলিকান পার্টি।
- ডেমোক্রেটিক পার্টির লোগো: গাধা।
- ১৮৫৩ সালের পর থেকে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দল থেকেই প্রতি চার বছর অন্তর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

উৎস: i) CNN.
ii) Britannica.

২৪.
কোন সম্রাট বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সূচনা করেন এবং রাজধানী কনস্টান্টিনোপল স্থাপন করেন?
  1. জুলিয়াস সিজার
  2. কনস্টানটাইন 
  3. থিওডোসিয়াস
  4. জাস্টিনিয়ান
ব্যাখ্যা

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ছিল মূলত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য ৩৩০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর নামকরণ করেন কনস্টান্টিনোপল।
- পূর্ব রাজধানীকে কেন্দ্র করে রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল তথা পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া মাইনরসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল শাসিত হতো।

উল্লেখ্য,
- ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল জয় করেন। আর এর মাধ্যমে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন বা সমাপ্তি সম্পন্ন হয়। 

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ -
  1. কিরিবাতি 
  2. মালদ্বীপ
  3. টুভ্যালু 
  4. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা

মালদ্বীপ:
- বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ হলো মালদ্বীপ।
- এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- এর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতা মাত্র ২.৩ মিটার এবং গড় উচ্চতা ১.৫ মিটার।
- এটি ১২ শতাধিক ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত। 

উল্লেখ্য,
- এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ হল মালদ্বীপ।
- এর আয়তন প্রায় ১১৬ বর্গ মাইল।
- রাজধানী: মালে।
- ভাষা: দিভেহী ও ইংরেজি।
- পার্লামেন্ট: পিপলস মজলিস।
- মুদ্রা: মালদ্বীপীয় রুপাইয়া।
- মালদ্বীপের আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট।

উৎস: i) World Atlas.
ii) Britannica.

২৬.
‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যটি কোন যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত?
  1. ট্রয় যুদ্ধ
  2. মেসোপটেমিয়ার যুদ্ধ
  3. গ্রিক-পার্সিয় যুদ্ধ
  4. পোলোপনেশীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

হোমারের মহাকাব্য:
- গ্রিক সভ্যতার ক্রমবিকাশে আদিকালকে 'হোমারিক যুগ' বলা হয়। গ্রিক কবি হোমারের নাম থেকে এ যুগের নামকরণ করা হয়। 
- ঐতিহাসিকদের মতে হোমার ছিলেন একজন অন্ধ কবি।
- বিখ্যাত কবি হোমার 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' নামে দুটি মহাকাব্য রচনা করেন।

• ইলিয়াড:
- ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যটি মূলত ট্রয় যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।

- এখানে হেলেনের অপহরণ এবং ট্রয় শহরের বিরুদ্ধে গ্রিসের যুদ্ধের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- বিশেষ করে গ্রিক বীর অ্যাকিলিস ও ট্রয়ের রাজপুত্র হেক্টরের দ্বন্দ্ব ও পরিণতি এই মহাকাব্যের মূল বিষয়বস্তু। 
- যুদ্ধের শেষ কয়েক সপ্তাহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মহাকাব্য রচিত।

• ওডিসি: এটি ট্রয়ের যুদ্ধের পর, গ্রিক নায়ক উলিসিসের বাড়ি ফেরার কাহিনী নিয়ে রচিত। এটি এক সাহসী অভিযানের গল্প, যেখানে উলিসিস বিভিন্ন বিপদ ও ভয়ংকর সত্ত্বার মুখোমুখি হয়।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৭.
মনরো ডকট্রিন কোন গোলার্ধকে ইউরোপীয় হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখার জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল? 
  1. উত্তর গোলার্ধ
  2. দক্ষিণ গোলার্ধ
  3. পূর্ব গোলার্ধ
  4. পশ্চিম গোলার্ধ
ব্যাখ্যা

মনরো ডকট্রিন: 
- ১৮২৩ সালের ২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ‘মনরো ডকট্রিন’ ঘোষণা করেন।
- মনরো ডকট্রিন পশ্চিম গোলার্ধকে ইউরোপীয় ইউরোপীয় হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখার জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
- মনরো ডকট্রিন মূলত পশ্চিম গোলার্ধে অর্থাৎ আমেরিকা মহাদেশে প্রযোজ্য।
- এই মতবাদের উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে নতুন করে আমেরিকা মহাদেশে উপনিবেশ স্থাপন বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রাখা। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা তাদের বিদ্যমান উপনিবেশগুলোতে হস্তক্ষেপ করবে না।
- এটি আমেরিকার দেশগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা এবং পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের ভিত্তি স্থাপন করে। 
- এই মতবাদটি বিশ শতকে আমেরিকান গ্র্যান্ড কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
- এই মতবাদ ‘পলিসি অব আইসোলেশন’ নামেও পরিচিত ছিল।

⇒ মনরো ডকট্রিনের মূল বক্তব্য ছিল:
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইউরোপের কোনো দেশ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
- এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো উপনিবেশ স্থাপন করা যাবে না।
- কোনো ইউরোপীয় হস্তক্ষেপকে আমেরিকার নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখা হবে।
- বিনিময়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যমান ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোকে স্বীকৃতি দেবে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবে না।

উৎস: Britannica.